অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশে ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুসারে বাংলাদেশে ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ১৯ কোটি ৩২ লাখ ৫১ হাজার ২৩২টি। এর মধ্যে সঞ্চয়ী হিসাব ১৭ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৫টি এবং ঋণ হিসাবের সংখ্যা এক কোটি ৫৩ লাখ ৭৬৭টি।
বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে চাঁদপুর-৩ আসনের শেখ ফরিদ আহম্মেদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হলে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।
ওই সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের মধ্যে শতভাগ প্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিকের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির উদ্দেশ্য সরকার জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশল (এনএফআইএস) প্রণয়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমান আর্থিক অন্তর্ভুক্তির হার ৬৪ দশমিক ৫০ শতাংশ।
কুড়িগ্রাম-১ আসনের আনোয়ারুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ব্যাংকিং সেক্টরে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সৃষ্ট খেলাপি ঋণের টাকা অবৈধভাবে বিদেশে পাচারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩০টি ব্যাংক তাদের ঋণের অর্থ উদ্ধারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারের জন্য ব্যাংকগুলো ৯টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানের সাথে নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর করে ‘নো উইন নো ফি’ শর্তে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, এ সকল আইনি প্রতিষ্ঠান অভিযুক্ত ঋণ খেলাপিদের নামে বিদেশে থাকা অর্থ-সম্পদ চিহ্নিতকরণ এবং তা ফেরত আনার বিষয়ে ব্যাংকসমূহকে আইনি সহায়তা প্রদান করবে। প্রথম পর্যায়ে ৬টি কেইস (সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস. আলম, বেক্সিমকো, সিকদার, নাসা ও ওরিয়ন গ্রুপ) নিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পরবর্তীকালে আরও সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
জামালপুর-৩ আসনের মুস্তফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গত মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ছিল ৭৮ হাজার ২৩৩ দশমিক ৪৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে কনসেশনাল এবং নন-কনসেশনাল ঋণের অনুপাত যথাক্রমে ৬১ দশমিক ৯৭ শতাংশ ও ৩৮ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।
ময়মনসিংহ-৮ আসনের লুৎফুল্লাহেল মাজেদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে রাজস্ব প্রদানকারী নিবন্ধিত ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এক কোটি ৩৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৬। আগের অর্থ বছরের তুলনায় এই সংখ্যা ১১ দশমিক ৮৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
গাইবান্ধা-৪ আসনের মোহাম্মদ শামীম কায়সারের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের আওতায় চলতি অর্থ বছরে এক হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে দেশের ১৪ লাখ ১৪ হাজার ৪৩১ জন কৃষক উপকৃত হয়েছেন।
সংরক্ষিত আসনের মোসাম্মৎ শাম্মী আক্তারের প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যেসব ব্যাংক অর্থ সংকটের কারণে গ্রাহকের সঞ্চিত অর্থ ফেরত দিতে পারছে না, তাদের গ্রাহকদের অর্থ প্রদানের লক্ষে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জরুরী তারল্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। জরুরি তারল্য সহায়তা হিসেবে গত ১৫ জুন পর্যন্ত ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি ১১ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের আমিরুল ইসলাম খানের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের ৬৩টি ব্যাংক তাদের ১১ হাজার ৩২৬টি শাখা এবং চার হাজার ৯২৯টি উপশাখার মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সংরক্ষিত আসনের সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ৭১ হাজার ৪৯৫টি কোটি টাকা। এর বিপরীতে এক লাখ ২৯ হাজার ৯০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা (৭৫.৩০ শতাংশ)।
সরকারি ও বিরোধী দলের বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য একীভূত ৫ ইসলামী ব্যাংক নিয়ে পৃথক প্রশ্ন করেন। এসব প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ পিএলসি বা এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি এবং ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসিকে ব্যাংক রেজোল্যুশন স্কিম, ২০২৫ এর আওতায় নেওয়া হয়েছে। রেজোল্যুশনের আওতায় থাকা এই পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে। আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬ অনুযায়ী ওই পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা করে পরিশোধ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আরও যেসব ব্যাংক তারল্য সংকটে রয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগ কাজ করছে। প্রয়োজন হলে ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন, ২০২৬ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেছেন, আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬ এর আওতায় সুরক্ষিত আমানতের সীমা ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চলতি হিসাবে আমানত সুরক্ষা তহবিল থেকে ইতোমধ্যে ১২ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, গ্রাহকের অর্থ দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক জরুরি তারল্য সহায়তা দিয়েছে। ২০২৬ সালের ১৫ জুন পর্যন্ত জরুরি তারল্য সহায়তা হিসেবে ব্যাংকগুলোকে ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি ১১ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।
মুদির দোকানও আসবে ভ্যাটের আওতায়
সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, মুদির দোকান ও বিউটি পার্লারসহ বেশ কয়েক ধরনের ব্যবসায়িক খাতকে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী মুদির দোকান ও বিউটি পার্লারসহ যেসব ব্যবসায়ী খাতকে ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে- তা হলো তৈরি পোশাক বা কাপড়ের বিক্রেতা, কনফেকশনারী, কসমেটিক্সের দোকান, প্লাস্টিকের ও সিরামিকের গৃহস্থালি পণ্য, জুতার দোকান, হার্ডওয়্যার পণ্যের বিক্রেতা, ডেকোরেটরস, মোবাইল ফোন, এসি, ফ্রিজ, ওভেন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বিক্রেতা, পেইন্ট ও হার্ডওয়্যার এবং সেনিটারি ও ফিটিংস, টাইলসের দোকান, ঢেউটিনের দোকান, রড ও সিমেন্ট, ফার্নিচার, মিষ্টান্ন ভাণ্ডার ও রেস্টুরেন্ট। বিগত ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ভ্যাট বাবদ এক লাখ ৪১ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।

নিখোঁজ মাদক ব্যবসায়ীর সন্ধান চেয়ে মানববন্ধন, বন্ধ রেল চলাচল
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ০৫:৫৯:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
হবিগঞ্জের মাধবপুরে নিখোঁজ এক মাদক ব্যবসায়ীকে জীবিত উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন ও রেলপথ অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৪ জুন) সকালে উপজেলার হরষপুর রেলস্টেশন এলাকায় শত শত গ্রামবাসী এ কর্মসূচি পালন করেন। এসময় উত্তেজিত জনতা সিলেটগামী কালনী এক্সপ্রেস ট্রেন প্রায় ৭ মিনিট আটকে রাখেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
নিখোঁজ ফুয়াদ হাসান সাকিব উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের সোয়াবই গ্রামের বাসিন্দা সিরাজ আলীর ছেলে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত সাকিবকে জীবিত উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। বক্তারা বলেন, নিখোঁজের কয়েকদিন পার হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো তাকে উদ্ধার করতে পারেনি। এতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে।
সাকিবের বাবা সিরাজ আলী ও স্বজনদের অভিযোগ, গত ২১ জুন গন্ধবপুর এলাকায় সাকিবের মাছের খামারে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি হামলা চালিয়ে ফুয়াদকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তারা এ ঘটনার জন্য রাজেন্দ্রপুর গ্রামের মাহফুজ মিয়া ও তার সহযোগীদের দায়ী করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিখোঁজ সাকিব দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে এলাকায় অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তিনি মাছের খামার পরিচালনা করতেন। আসন্ন ধর্মঘর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ লক্ষ্যে তিনি এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড, দান-অনুদান এবং রাস্তাঘাট সংস্কারে অর্থ ব্যয় করতেন বলেও স্থানীয়দের দাবি।
গ্রামবাসী ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সাকিব ও রাজেন্দ্রপুর গ্রামের মাহফুজ মিয়ার পরিবারের সদস্যরা একসময় একই চক্রে চলাফেরা ও ব্যবসা করতেন। তবে প্রায় এক মাস আগে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।
নিখোঁজের ঘটনায় সাকিবের বাবা সিরাজ আলী বাদী হয়ে মাধবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে ধর্মঘর এলাকার মনির, রুবেল, জুয়েল এবং সোয়াবই গ্রামের মাহফুজ মিয়ার ছেলে মামুন, শিমুলসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে সাকিবের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার জেরে সোমবার সকালে রাজেন্দ্রপুর গ্রামে মাহফুজ মিয়ার পাকা বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সাকিবের স্বজন ও সমর্থকদের একটি অংশ এ হামলা চালায়। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।
মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা বলেন, সাকিব নিখোঁজের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। তাকে উদ্ধারে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে মাহফুজ মিয়ার বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

ইরানের যুদ্ধ থামানোর পাশাপাশি লেবাননেও শান্তি চান গালিবাফ
- আন্তর্জাতিক ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৫:২৭:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরানের কাছে তার নিজ দেশের যুদ্ধ বন্ধের মতোই গুরুত্বপূর্ণ লেবাননের যুদ্ধের অবসান ঘটানো। বুধবার (২৪ জুন) আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে একটি সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ইরানিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের নিউজ নেটওয়ার্কে সরাসরি সম্প্রচারিত এই ভাষণে তিনি বলেন, আমাদের জন্য লেবাননের যুদ্ধবিরতি ইরানের যুদ্ধবিরতির মতোই গুরুত্বপূর্ণ এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, লেবাননের যুদ্ধের অবসান ইরানের যুদ্ধের অবসানের মতোই জরুরি।
গত ১৪ই জুন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শেষ করা নিয়ে যে সমঝোতায় পৌঁছেছে তাতে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অংশগ্রহণকারী ইরানি প্রতিনিধিদলের প্রধান গালিবাফ বলেন, ইসলামাবাদ চুক্তিটি আমেরিকার পরাজয়ের ঘোষণায় পরিণত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই যুদ্ধ কোনো সামরিক সংঘাত নয়, বরং অঞ্চলের কৌশলগত ভারসাম্য পরিবর্তন করে একটি স্বাধীন জাতির ওপর নিজেদের ইচ্ছাকে চাপিয়ে দেওয়ার একটি সংগঠিত প্রচেষ্টা।
গালিবাফ ঘোষণা করেন, ইরান পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং পরস্পরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির ভিত্তিতে সকল ইসলামী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে প্রস্তুত।

ভাইয়ের মৃত্যুতে শোকাহত শোয়েব আখতার
- ক্রীড়া ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৫:২০:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
সাবেক পাকিস্তানি গতিদানব শোয়েব আখতারের পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। পাকিস্তানের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ক্রিকেটারের বড় ভাই শহীদ আখতার মারা গেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোয়েব আখতার নিজেই তার বড় ভাইয়ের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তবে ঠিক কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে পারিবারিক সূত্র থেকে এখনো সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি।
বড় ভাইয়ের মৃত্যুর খবর জানিয়ে শোয়েব আখতার তার পোস্টে লিখেছেন, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমার প্রিয় বড় ভাই শহীদ আখতার আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে চলে গেছেন।
সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক রশিদ লতিফও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শহীদ আখতারের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং জানাজার সময় ও স্থান নিয়ে তথ্য শেয়ার করেছেন।
পাকিস্তানের হয়ে ক্রিকেট ইতিহাসের দ্রুততম ডেলিভারির রেকর্ড গড়া এই পেসারের পরিবারে এটিই প্রথম বড় আঘাত নয়। এর আগে প্রায় পাঁচ বছর আগে শোয়েব আখতার তার মাকে হয়েছিলেন। মায়ের পর এবার বড় ভাইকে হারিয়ে শোয়েব ও তার পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। এই মর্মান্তিক খবরের পর ক্রিকেট বিশ্বে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোয়েব ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের পর শোয়েব আখতার একজন বিশ্লেষক হিসেবে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও পাকিস্তানি গণমাধ্যমে ক্রিকেট পণ্ডিত হিসেবে নিয়মিত উপস্থিত থেকে ম্যাচ বিশ্লেষণ করেছেন তিনি। মাঠের ক্রিকেট ও ক্রিকেট প্রশাসনের নানা অসংগতি নিয়ে সব সময় অকপট এই কিংবদন্তি এখন জীবনের এক কঠিন শোকের মুহূর্ত পার করছেন।

বিএনপি সভাপতির বিরুদ্ধে সহ সভাপতির সংবাদ সম্মেলন
- হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৫:১৮:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

ঢাকার কাছে একের পর এক ভূমিকম্প, সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৫:১৩:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একের পর এক ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কয়েকটি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল রাজধানীর খুব কাছাকাছি হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে— এগুলো কি কেবল স্বাভাবিক ভূ-তাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার অংশ, নাকি ভবিষ্যতের বড় কোনো ভূমিকম্পের পূর্বাভাস?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাৎক্ষণিক আতঙ্কের কারণ না থাকলেও বাংলাদেশের ভূমিকম্প ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক থাকার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
উৎপত্তিস্থল ঘুরেফিরে ঢাকার আশপাশেই
সর্বশেষ ভূমিকম্পটি গত ২২ জুন রাত ৮টা ২৮ মিনিটে অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪ এবং উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার দূরে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক গবেষণা সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল নরসিংদী থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ এবং উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১৬ কিলোমিটার গভীরে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে, যা ঢাকা থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার পূর্বে।
উৎপত্তিস্থল নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার তথ্যের মধ্যে কিছু পার্থক্য থাকলেও আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবায়েত কবীর বলেন, নরসিংদী থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে গেলে সেটি রূপগঞ্জ এলাকার মধ্যেই পড়ে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের ২২শে জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ ও সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘটিত বেশ কয়েকটি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার কাছাকাছি।
চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ৩ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়। এর কেন্দ্র ছিল ঢাকা থেকে প্রায় ৪২ কিলোমিটার দূরে।
এর আগে ২০২৫ সালের ২১শে নভেম্বর রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ঢাকাসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদী শহর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিমে মাধবদী এলাকায়, ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। ঢাকা থেকে এর দূরত্ব ছিল মাত্র ১৩ কিলোমিটার।
গত কয়েক দশকে দেশের অভ্যন্তরে উৎপত্তি হওয়া অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত ওই ঘটনায় ঢাকায় চারজন, নরসিংদীতে পাঁচজন এবং নারায়ণগঞ্জে একজন নিহত হন। আহত হন সাড়ে চার শতাধিক মানুষ, যার মধ্যে গাজীপুরেই ছিলেন ২৫২ জন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ওই ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আরও তিনটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। চারটি ভূমিকম্পের মধ্যে তিনটির উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় এবং একটি ছিল ঢাকার বাড্ডায়।
পরদিন ২২ নভেম্বর নরসিংদীর পলাশে ৩ দশমিক ৩ মাত্রার, ঢাকার বাড্ডায় ৩ দশমিক ৭ মাত্রার এবং পরে নরসিংদীতে ৪ দশমিক ৩ মাত্রার আরও দুটি ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়। এর কয়েকদিন পর ২৭ নভেম্বর ঘোড়াশালে ৩ দশমিক ৬ মাত্রার এবং ৪ ডিসেম্বর শিবপুরে ৪ দশমিক ১ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. বদরুদ্দোজা মিয়া বলেন, সাম্প্রতিক এসব ভূমিকম্প টেকটোনিক কার্যকলাপের ফল হতে পারে, আবার কোনো সক্রিয় ফল্টের সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে।
তার ভাষায়, অনেক সময় নতুন ফল্ট সৃষ্টি হয়, আবার দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা কোনো পুরোনো ফল্টও পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশের অবস্থান ইউরেশিয়ান, ইন্ডিয়ান এবং বার্মিজ— এই তিনটি টেকটোনিক প্লেটের প্রভাব বলয়ের মধ্যে হওয়ায় দেশে ঘন ঘন ভূমিকম্প হচ্ছে বলে জানান রুবায়েত কবীর।
এগুলো কি বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস?
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পূরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও ভূমিকম্প গবেষক মেহেদি আহমেদ আনসারীর মতে, সম্প্রতি ঢাকার আশপাশে হওয়া ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পগুলো থেকে বড় ধরনের ভবনধস বা ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা নেই।
যদিও তিনি মনে করেন, এসব ঘটনা মানুষকে ভূমিকম্প সম্পর্কে সচেতন হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।
তার মতে, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো এমন ফল্টগুলো, যেগুলো অতীতে ৭ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টি করেছে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি রয়েছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং ঢাকার কাছাকাছি শ্রীমঙ্গল ও বগুড়ার শেরপুর এলাকায়। কারণ ইতিহাসে এসব অঞ্চলে ৭-এর বেশি মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের রেকর্ড রয়েছে।
১৯১৮ সালে শ্রীমঙ্গলে ৭ দশমিক ৬ মাত্রার এবং ১৮৮৫ সালে শেরপুরে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল।
মেহেদি আহমেদ আনসারী বলেন, এগুলো ঢাকা থেকে দেড়শো থেকে দু’শো কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে। বাকি বড় ভূমিকম্পগুলো ঢাকা থেকে আরও দূরে হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, প্রত্যেকটি ভূমিকম্পের একটি রিটার্ন পিরিয়ড বা পুনরাবৃত্তির চক্র থাকে। সাত মাত্রার ভূমিকম্প হয়তো আরও হয়েছে, কিন্তু আমাদের কাছে তথ্য নেই। সে কারণেই আমরা বলি, ঢাকার জন্য সাত মাত্রার একটি ভূমিকম্প ভবিষ্যতে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেটি কবে হবে, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। ২০ বছরও লেগে যেতে পারে।
নরসিংদীতে সাম্প্রতিক সময়ে ঘন ঘন ভূমিকম্পকে বড় কোনো ঘটনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যেতে পারে বলে উল্লেখ করলেও তিনি বলেন, ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী নরসিংদীতে অতীতে বড় কোনো ভূমিকম্পের রেকর্ড নেই।
নরসিংদী বা ঢাকার আশপাশের সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের হিসেবে ঢাকা ঝুঁকিপূর্ণ না, কিন্তু অতীতের বড় ভূমিকম্পগুলোর বিচারে ঢাকা খুবই ঝুঁকির মধ্যে আছে। বড় কোনো ভূমিকম্প হলে কয়েক বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে, বলেন তিনি।
রুবায়েত কবীরও বলেন, ঢাকাকেন্দ্রিক বড় ভূমিকম্পের ইতিহাস নেই। কিন্তু সীমান্ত অঞ্চলে বড় ভূমিকম্পের ইতিহাস আছে। আর গত এক-দুই বছর ধরে আমাদের এই অঞ্চলে ভূমিকম্পপ্রবণতা কিছুটা বেড়েছে বলে মনে হচ্ছে।
ভূমিকম্পে ঢাকার কোন এলাকা তুলনামূলক নিরাপদ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো এলাকা কতটা নিরাপদ তা নির্ভর করে মূলত দুই বিষয়ের ওপর—ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং অবকাঠামোর মান।
ভূতত্ত্ববিদ সৈয়দ হুমায়ুন আখতারের মতে, ঢাকা ও আশপাশের অধিকাংশ এলাকার ভূতাত্ত্বিক গঠন প্রায় একই হলেও উত্তরাংশে মধুপুরের শক্ত লাল মাটি রয়েছে, যা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল।
তার মতে, শুধু ভূতাত্ত্বিক গঠন বিবেচনায় রমনা, মগবাজার, নিউমার্কেট, লালমাটিয়া, খিলগাঁও, মতিঝিল, ধানমন্ডি, লালবাগ, মিরপুর, গুলশান ও তেজগাঁওয়ের মতো এলাকা তুলনামূলক নিরাপদ।
যদিও বুয়েটের অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী মনে করেন, কেবল মাটির গঠন দেখে কোনো এলাকা নিরাপদ বা ঝুঁকিপূর্ণ বলা সম্ভব নয়।
যতক্ষণ না ভবনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে, ততক্ষণ বলা যাবে না কোনটা ঝুঁকিপূর্ণ বা ঝুঁকিমুক্ত- বলেন তিনি।
তার মতে, পুরান ঢাকাকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলেও মূল সমস্যা ভবনের চেয়ে সরু রাস্তা। দুর্যোগের সময় দ্রুত মানুষ সরিয়ে নেওয়া সেখানে কঠিন হতে পারে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শত বছরের বেশি পুরোনো অনেক ভবন এখনো টিকে আছে এবং বিভিন্ন ভূমিকম্পেও ধসে পড়েনি। তাই কাঠামোগত মানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ঢাকার জন্য বাড়তি শঙ্কা ‘ব্লাইন্ড ফল্ট’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার ভেতরে কোনো পরিচিত ফল্ট লাইন নেই। তবে বাংলাদেশের ভূমিকম্প ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি প্রধান ফল্ট বা চ্যুতি রেখা রয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে মিয়ানমার থেকে নোয়াখালী পর্যন্ত প্লেট বাউন্ডারি, নরসিংদীর ওপর দিয়ে যাওয়া আরেকটি প্লেট বাউন্ডারি, সিলেট হয়ে ভারতের দিকে বিস্তৃত ফল্ট অঞ্চল, ডাউকি ফল্ট এবং মধুপুর ফল্ট।
অতীতে এসব অঞ্চলে ৭ থেকে ৮ দশমিক ৫ মাত্রা পর্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছে।
গবেষকদের মতে, এসব ফল্টে কয়েকশ বছর পরপর বড় ভূমিকম্পের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।
তবে আরও উদ্বেগের বিষয় হলো ‘ব্লাইন্ড ফল্ট’ বা অদৃশ্য ফল্ট। এ ধরনের ফল্ট ভূ-পৃষ্ঠ পর্যন্ত পৌঁছায় না, ফলে সাধারণ ভূতাত্ত্বিক মানচিত্রে সহজে শনাক্ত করা যায় না।
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ময়মনসিংহ ও রংপুর অঞ্চলে দুটি ব্লাইন্ড ফল্ট শনাক্ত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ফল্ট শনাক্ত করা কঠিন হওয়ায় আগে থেকে সতর্কবার্তা পাওয়াও প্রায় অসম্ভব। তাই ভবিষ্যতের ভূমিকম্প ঝুঁকি মূল্যায়নে ব্লাইন্ড ফল্টগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার আশপাশে ঘন ঘন ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল বিশেষজ্ঞদের নজর কাড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ভূমিকম্পের নিশ্চিত পূর্বাভাস হিসেবে এগুলোকে দেখা হচ্ছে না।
তবে বাংলাদেশের ভূ-তাত্ত্বিক অবস্থান, অতীতের শক্তিশালী ভূমিকম্পের ইতিহাস এবং বিভিন্ন সক্রিয় ও অদৃশ্য ফল্টের উপস্থিতি রাজধানীসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকাকে দীর্ঘমেয়াদে ভূমিকম্প ঝুঁকির মধ্যে রেখেছে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি, ভবনের মান নিশ্চিত করা এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদার করার ওপরই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

শূন্যরেখার সংকট কাটিয়ে ফিরলেন ৬ জন, আটকে আছেন আরও ৩ জন
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ০৫:০৪:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশইনের শিকার হওয়া ছয় বাংলাদেশি নাগরিকের সবাই অবশেষে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরেছেন।
তবে একই ঘটনায় সীমান্তের আরেক পয়েন্টে পুশইনের শিকার হওয়া আরও তিন বাংলাদেশি এখনো আন্তর্জাতিক শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।
বিজিবি ও বিএসএফের কড়া নজরদারির মধ্যে দীর্ঘ ১০ দিন সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থানের পর বুধবার (২৪ জুন) ভোরে সেখান থেকে সরে যান দুই যুবক। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পারিবারিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া যায়, তারা নিরাপদে নিজ বাড়িতে পৌঁছেছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৪ জুন ভোরে রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের গয়টাপাড়া সীমান্ত এলাকায় আন্তর্জাতিক ১০৬০ মেইন পিলারের ১ এস সাব-পিলার দিয়ে ভারতের আসাম রাজ্যের দক্ষিণ সালমারা-মানকারচর জেলার ঝালোরচর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা ছয় বাংলাদেশিকে পুশইনের চেষ্টা করে। কিন্তু বিজিবি ও স্থানীয় জনতার বাধার মুখে তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে না পেরে সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে পড়েন।
খোলা আকাশের নিচে টানা কয়েকদিন ঝড়-বৃষ্টি ও প্রতিকূল পরিবেশে অবস্থানের কারণে একই পরিবারের দুই শিশুসহ চারজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিজিবি ও বিএসএফের যৌথ মেডিকেল টিম তাদের চিকিৎসাসেবা দেয়।
পরে মানবিক কারণে বিজিবি ওই দুই শিশু ও তাদের বাবা-মাকে শূন্যরেখা থেকে উদ্ধার করে রৌমারী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পুলিশ যাচাই-বাছাই শেষে তাদের পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়।
উদ্ধার হওয়া চারজন হলেন ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কংশেরকুল গ্রামের মো. বেলাল হোসেন (২৮), তার স্ত্রী সুমি আক্তার (২৬) এবং তাদের দুই সন্তান ফাইমা (৫ মাস) ও ফাতেমা আক্তার (৪)।
পরিবারের চার সদস্য বাড়ি ফিরে গেলেও বাকি দুই যুবক সীমান্তের শূন্যরেখায় দীর্ঘ ১০ দিন অবস্থান করছিলেন। তারা হলেন, একই গ্রামের লিটন মিয়ার ছেলে মো. সজিব হোসেন (২৫) ও মৃত শামসুল হকের ছেলে মো. হিমেল (১৮)।
বুধবার ভোর থেকে তাদের আর সীমান্তে দেখা না যাওয়ায় নানা গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেন, তারাও এখন নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন।
শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. সোনা মিয়া বলেন, ‘গত রাত পর্যন্ত দুই যুবক শূন্যরেখায় ছিল। সকালে গিয়ে আর তাদের দেখা যায়নি। পরে জানতে পেরেছি, তারা পরিবারের কাছে ফিরে গেছে।’
এ বিষয়ে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছামছুল হোসাইন বলেন, ‘পুশইনের শিকার হওয়া ছয়জনই এখন বাড়িতে রয়েছে। আগে চারজন ফিরেছিল, পরে বাকি দুই যুবকও নিরাপদে বাড়ি ফিরে এসেছে।’
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, কাজের সন্ধানে প্রায় সাত মাস আগে তারা সীমান্তপথে ভারতে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে ভারতের আসাম রাজ্যের গুয়াহাটিতে পুলিশ তাদের আটক করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে। পরে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে ঠেলে দিলে তারা এই বিপর্যয়ের মুখে পড়েন।
তবে একদিকে ছয়জনের বাড়ি ফেরা স্বস্তি এনে দিলেও সীমান্তে এখনো অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে আরও তিন বাংলাদেশির।
স্থানীয় সূত্র জানায়, একই দিন গভীর রাতে রৌমারী সদর ইউনিয়নের ভন্দুরচর সীমান্তে আন্তর্জাতিক ১০৬৬ মেইন পিলার এলাকা দিয়ে আরও তিন বাংলাদেশিকে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিজিবির বাধার মুখে তারাও শূন্যরেখায় আটকে পড়েন।
গত ১১ দিন ধরে তারা বিজিবি ও বিএসএফের কড়া পাহারার মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
আটকে থাকা তিনজন হলেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার জহিরুল ইসলাম (২৬), নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার পারভেজ (২১) এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার নাঈম মিয়া (২২)।
এদিকে, সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে দুই যুবকের সরে যাওয়া এবং তাদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানতে জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমানের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

লাল কার্ডের নিয়ম থাকলেও বেলিংহ্যামের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কেন?
- ক্রীড়া ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৫:০৫:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
ফিফা বিশ্বকাপে ঘানার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ম্যাচে ড্রয়ের চেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছেন জুড বেলিংহ্যাম। ম্যাচ চলাকালে মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষের একজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় এই ইংলিশ মিডফিল্ডারকে। চলতি বিশ্বকাপে ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী এমন আচরণের জন্য সরাসরি লাল কার্ড পাওয়ার বিধান থাকলেও শেষ পর্যন্ত কোনো শাস্তি পাননি তিনি।
ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষে মাঠ ছাড়ার সময় ঘানার ডাগআউটের সদস্যদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন বেলিংহ্যাম। পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসতে হয় সতীর্থ মর্গান রজার্সকে। এমনকি ঘানার কোচ কার্লোস কুইরোজের সঙ্গেও তাকে তর্ক করতে দেখা যায়।
তবে ম্যাচের পর সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দেয় ঘানার ফরোয়ার্ড জর্ডান আইউর সঙ্গে বেলিংহ্যামের একটি মুহূর্ত। কথোপকথনের সময় তিনি নিজের মুখ হাত দিয়ে ঢেকে রেখেছিলেন। আর এটিই নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।
চলতি বিশ্বকাপ থেকে ফিফা একটি নতুন নিয়ম চালু করেছে। কোনো উত্তপ্ত বা বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতিতে খেলোয়াড় যদি মুখ আড়াল করে কথা বলেন, তাহলে রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখাতে পারবেন। এর পেছনের যুক্তি হলো, মুখ ঢেকে কথা বললে কী বলা হচ্ছে তা বোঝা কঠিন হয়ে যায় এবং অনেক সময় আপত্তিকর মন্তব্যও আড়ালে থেকে যেতে পারে।
ইতোমধ্যে এই নিয়মের প্রয়োগও দেখা গেছে। তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে মুখ ঢেকে কথা বলার কারণে প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার মিগুয়েল আলমিরনকে ভিএআরের সহায়তায় সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। ফলে বেলিংহ্যামের ঘটনাটি নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
তবে ম্যাচ কর্মকর্তারা মনে করেন, জর্ডান আইউর সঙ্গে বেলিংহ্যামের কথোপকথন কোনোভাবেই উত্তপ্ত বা মারমুখী ছিল না। সেটি ছিল সাধারণ আলাপচারিতা। ফলে ঘটনাটি নতুন নিয়মের আওতায় পড়েনি এবং তাকে কোনো কার্ড দেখানো হয়নি।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফিফার রেফারি কমিটির চেয়ারম্যান পিয়েরলুইজি কোলিনা জানিয়েছিলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ বা স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে মুখ ঢেকে কথা বললে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এমন আচরণ করলে সেটি সরাসরি লাল কার্ডযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
এদিকে ম্যাচে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেও ঘানার রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি ইংল্যান্ড। ফলে গোলশূন্য ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে থ্রি লায়ন্সরা। দুই ম্যাচ শেষে এক জয় ও এক ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এল’র শীর্ষে রয়েছে ইংল্যান্ড। সমান পয়েন্ট থাকলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে ঘানা।
গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে পানামার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। সেই ম্যাচে জয় পেলেই নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্রুপ সেরা হওয়ার সুযোগও থাকবে বেলিংহ্যামদের সামনে।

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ০৪:৫৬:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
চীনের রাজধানী বেইজিং পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৪ জুন) চীনের স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় ডালিয়ান থেকে হাই-স্পিড (বুলেট) ট্রেনে করে বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে বেইজিং পৌঁছান। সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় ডালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’-এর বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেন। চীনের ডালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
১৭তম অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়নসের এই আয়োজনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদু উরি বাহ, কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলঝাস বেকতেনভ, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন সেওক, মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিয়াম ওসর উচরাল এবং মন্টিনিগ্রোর প্রধানমন্ত্রী মিলোইকো স্পাইজিচ অংশ নেন। সম্মেলনটিতে ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চল থেকে রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যম অঙ্গনের ১ হাজার ৭০০ জনেরও অধিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।
‘গ্রীষ্মকালীন দাভোসে’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্য একদিকে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, অন্যদিকে বিভিন্ন দেশের সেরা অনুশীলন ও অভিজ্ঞতা গ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় সক্ষমতাকে আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করবে।
উল্লেখ্য, মালয়েশিয়া সফর শেষে গত সোমবার (২২ জুন) চীনের ডালিয়ানে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ.কম। 

































































2 thoughts on “বাংলাদেশে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ১৯ কোটি ৩২ লাখ: অর্থমন্ত্রী”