সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

নকআউট পর্বে উঠবে কোন ৩২ দল, দেখে নিন

ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি। ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের গ্রুপ পর্বের লড়াই জমে উঠেছে। টুর্নামেন্টের পরিধি বেড়ে ৪৮ দলের হওয়ায় এবারই প্রথম দেখা যাবে ৩২ দলের নকআউট পর্ব। ইতোমধ্যেই দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলেছে বেশ কয়েকটি পরাশক্তি, অন্যদিকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে পাঁচ দল। নতুন নিয়ম অনুযায়ী এবার গোল ব্যবধানের চেয়ে দলগুলোর পারস্পরিক লড়াইয়ের (হেড-টু-হেড) ফলাফলকে টাইব্রেকার হিসেবে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে ফিফা।

 

 

 

গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচ শেষেই নকআউটের টিকিট কেটেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। সোমবার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে জোড়া গোল করেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। এই কীর্তির মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোল সংখ্যা ১৮-তে নিয়ে গিয়ে বিশ্বমঞ্চের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নিলেন তিনি। এর আগে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিলেন এই মহাতারকা। গ্রুপ ‘জে’ থেকে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেই পরের রাউন্ডে যাচ্ছে আলবিসেলেস্তেরা।

 

 

 

আর্জেন্টিনা ছাড়াও দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করেছে দুই সহ-আয়োজক মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে গ্রুপ ‘এ’ থেকে সবার আগে নকআউট নিশ্চিত করে মেক্সিকানরা। আর অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে গ্রুপ ‘ডি’ থেকে শেষ বত্রিশে জায়গা করে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে টানা দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার ধাক্কা সামলে এবার দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে জার্মানি। কুরাসাও এবং আইভরি কোস্টকে হারিয়ে নকআউটে পা রেখেছে তারা। এছাড়া গ্রুপ ‘আই’ থেকে কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোলে ইরাককে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে ফেভারিট ফ্রান্স এবং সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে চমক দেখানো নরওয়ে শেষ বত্রিশের টিকিট নিশ্চিত করেছে।

অন্যদিকে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে পাঁচ দলের। গ্রুপ পর্বের দুটি করে ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট থেকে সবার আগে বিদায় নিয়েছে হাইতি, তুরস্ক, তিউনিসিয়া, জর্ডান এবং পানামা। নতুন নিয়মে পারস্পরিক লড়াইয়ে পিছিয়ে থাকায় শেষ ম্যাচে অলৌকিক কিছু ঘটলেও আর তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলোকে ছোঁয়া সম্ভব নয় এই দলগুলোর পক্ষে। আগামী ২৭ জুন পর্যন্ত চলবে গ্রুপ পর্বের খেলা, আর ২৮ জুন থেকে শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত নকআউট পর্বের মহালড়াই।

 

তিথির হাতের মেহেদীতে ‘আলভী’ লেখা ছবিটি এআই জেনারেটেড: আলভী

অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথির হাতের মেহেদী দেওয়া ছবিতে আলভী লেখা এআই জেনারেটেড বলে দাবি করেছেন অভিনেতা জাহের আলভী ওরফে মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া।

 

 

বুধবার (২৪ জুন) আদালতকে এ তথ্য জানান আলভী।

 

 

তিনি বলেন, আমি এমন একটা পরিস্থিতিতে আছি। শোক পালন করব, নাকি কি করব বুঝতে পারছি না। আমরা দুজনে ম্যাচিউর। প্রেম করে বিয়ে করেছি। আমাদের বিয়ের পর খুনসুটি ছিল, অভিমান ছিল, ঝগড়া ছিল। আমাদের সম্পর্ক ইস্মুথ ছিল। এমন কিছু ঘটেনি যে ইকরা আত্মহত্যা করবে।

আলভী আরও বলেন, আমি যেহেতু মিডিয়ায় কাজ করি। আমার শুভাকাঙ্ক্ষী ছাড়াও হেটার্স আছে। তারাই ইকরার মৃত্যুর পর আমাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রপাগান্ডা ছড়িয়েছে। তিথির হাতের মেহেদী দেওয়া ছবিতে আলভী লেখা এআই জেনারেটেড। এখনো সেই ছবি আছে। আসল ছবিতে আলভী লেখা নেই।

তিনি আরও বলেন, আমি নাকি নেপালে গেছি ৬টা নাটক করতে। আমার সঙ্গে অনেক মানুষ ছিল। এমন না যে আমি বার্থডে সেলিব্রেট করতে গেছি। আমার একটা সন্তান আছে সে তার মাকে হারিয়েছে। সে যতোই নানা নানী দাদা দাদীর কাছে থাক। তার বাবা প্রয়োজন আমাকে জামিন দিন।

এদিন আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির মিরপুর বিভাগের পরিদর্শক মো. আব্দুল মালেক।

 

 

পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুণী মীরের আদালত আলভীর ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

 

রিমান্ডের বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন সিএমএম কোর্টের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট হারুনুর রশিদ।

 

 

এর আগে গত ১৮ জুন দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে আইনজীবীদের মাধ্যমে জামিন আবেদন করেন আলভী। শুনানি শেষে দুপুর আড়াইটার দিকে আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

 

 

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিরপুরের ডিওএইচএসে বাসা থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ইকরাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা। পরে বাসার মালিকসহ স্বজনরা মিলে তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওইদিন রাতেই মামলা করেন ইকরার বাবা কবির হায়াত খান।

 

 

দীর্ঘদিনের ‘পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণেই’ ইকরা আত্মহত্যা করতে ‘বাধ্য হয়েছেন’ বলে মামলায় অভিযোগ করেন তিনি। এই মামলায় গত ৪ জুন জাহের আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি আত্মসমর্পণ করে জামিন পান।

 

 

২০২৭ থেকে জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে এসএসসি পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

২০২৭ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

 

 

 

বুধবার (২৪ জুন) ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রীয় সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ তথ্য জানান।

 

 

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারিতে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ২০২৮ সাল থেকে দেশের শিক্ষা কারিকুলামে পরিবর্তন আনা হবে।

সভায় বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। নতুন কারিকুলামের কাঠামো ও এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।

 

বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে কঙ্কাল উদ্ধার, পাশে কাঁধের ব্যাগ

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে অজ্ঞাত ব্যক্তির কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। কঙ্কালটির পরিচয় এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বের করতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

 

সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় সাতজন শ্রমিক উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা বাইশারী ইউনিয়নের হাতির ডেরা নামক স্থানে এ কঙ্কাল দেখতে পেয়ে পুলিশকে জানান।

 

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাইশারী বাজার থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার উত্তরে ২৮০ নং আলীক্ষ্যং মৌজার হাতির ডেরা এলাকায় ডিভাইন রাবার গার্ডেনের গয়াল দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা রাখাল আনোয়ারসহ সাতজন শ্রমিক সোমবার সন্ধ্যায় গয়াল আনতে গিয়ে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় মৃত বশির উল্লাহ খতিয়ানের পাহাড়ি জায়গায় একটি মানব কঙ্কাল দেখতে পান। পরে তারা বিষয়টি নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় অবহিত করেন।

খবর পেয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হকের নির্দেশে মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে আলীক্ষ্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বলাট্য চাকমার নেতৃত্বে একদল পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে যান। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে গহীন পাহাড়ি এলাকা থেকে কঙ্কালটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয় এবং এ ঘটনায় প্রাথমিক তদন্ত শুরু করা হয়।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে কঙ্কালটির বিভিন্ন হাড়গোড় ও মাথার খুলি ছাড়াও একটি ব্যাগ, কিছু ওষুধ, তারকাটা, একটি লুঙ্গি এবং একটি চাদর উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এসব আলামত পর্যালোচনা করে কঙ্কালটির পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটির পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কঙ্কালটি কতদিন আগের, তা নিশ্চিত হতে বিশেষজ্ঞ মতামতের প্রয়োজন হতে পারে।’

 

 

এ বিষয়ে বাইশারী ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম উদ্দিন বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি কার, তা দ্রুত শনাক্ত করা জরুরি। এতে কোনো নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটতে পারে।’

 

 

বাইশারী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কঙ্কালটি অনেক দিনের পুরোনো। তবে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।’

 

 

স্থানীয়দের ধারণা, দুর্গম ও জনবিচ্ছিন্ন পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে থাকার কারণেই মরদেহটি কঙ্কালে পরিণত হয়েছে। তবে এটি স্বাভাবিক দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট—তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

দীর্ঘ বিরতির পর তিন কিংবদন্তি একই নাটকে

বাংলা নাট্যাঙ্গনের তিন গুণী শিল্পী আবুল হায়াত, দিলারা জামান ও ডলি জহুরকে দীর্ঘদিন পর আবারও দেখা যাবে একই নাটকে। রাহাত কবিরের রচনা ও পরিচালনায় নির্মিত একক নাটক ‘দাদি ভয়ংকর’-এ অভিনয় করেছেন এই তিন বরেণ্য শিল্পী। সম্প্রতি নাটকটির শুটিং সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে আবুল হায়াতের রচনা ও নির্দেশনায় নির্মিত ‘শেষ পত্র’ নাটকে একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন দিলারা জামান, ডলি জহুর, শর্মিলী আহমেদ ও চিত্রলেখা গুহ। সেই স্মৃতি উসকে দিয়েই আবারও এক ফ্রেমে ফিরলেন আবুল হায়াত, দিলারা জামান ও ডলি জহুর। তবে এবার আবুল হায়াত নির্দেশকের ভূমিকায় নন, রয়েছেন অভিনয়ে।

 

 

 

নাটকটির গল্প সম্পর্কে পরিচালক রাহাত কবির বলেন, ‘ইন্টারনেট এবং আমাদের যাপিত জীবন এই নাটকের মূল বিষয়। ইন্টারনেটের ভালো দিক যেমন আছে, খারাপ দিকও আছে। এই নাটকে ভালো-খারাপ দুটি দিকই দেখানো হয়েছে। কিন্তু ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহার যে আমাদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, সেটাই বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। নাটকে তিনজন কিংবদন্তি গুণী শিল্পীর শিডিউল মেলাতে আমার কষ্ট হয়েছে, কিন্তু তারা ভীষণ আন্তরিকতার সঙ্গে কষ্ট করে সব দিক ম্যানেজ করে সময় দিয়েছেন, অভিনয় করেছেন। এই নাটক আমার জীবনের মাইলফলক হয়ে থাকবে।’

 

 

 

নাটকটিতে কাজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে আবুল হায়াত বলেন, ‘ভীষণ ভালো লেগেছে নাটকটিতে কাজ করে। কারণ, কয়েকজন সিনিয়র শিল্পীকে এক করে একক নাটক নির্মাণ করা কঠিন একটি কাজ। রাহাত কবিরকে ধন্যবাদ এমন একটি গল্পে আমাদের নিয়ে নাটক নির্মাণের জন্য।’

দিলারা জামান বলেন, ‘প্রযুক্তি আমাদের যতটা স্বাচ্ছন্দ্য দিচ্ছে, ঠিক ততটা বিপদও ডেকে আনছে। সেই ব্যাপারেই মূলত নাটকের মধ্য দিয়ে সবাইকে সাবধান করে দেওয়া। খুব ভালো লেগেছে কাজটি করে। আমার তো বারবার সেই শেষ পত্রের দিনগুলোর কথা মনে পড়ছিল।’

ডলি জহুর বলেন, ‘অনেক বছর আগে হায়াত ভাইয়ের পরিচালনায় আমরা চারজন একসঙ্গে অভিনয় করেছিলাম, তার মধ্যে শর্মিলী আপা আমাদের মাঝে নেই। এত দিন পরে দিলারা আপা, হায়াত ভাইয়ের সঙ্গে এক নাটকে কাজ করে কী যে ভালো লেগেছে ভাষায় প্রকাশের নয়।’

‘দাদি ভয়ংকর’ নাটকে দিলারা জামান অভিনয় করেছেন দাদির চরিত্রে। আবুল হায়াতকে দেখা যাবে রাইসুল চরিত্রে এবং ডলি জহুর অভিনয় করেছেন মর্জিনা চরিত্রে। এছাড়া নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাদের চৌধুরী, করভী মিজান, আরশ খান ও উর্বী।

 

 

 

নির্মাতা জানিয়েছেন, শিগগিরই একটি ইউটিউব চ্যানেলে নাটকটি দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

রাতে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, স্থানীয়দের হাতে ধরা ৪

দিনাজপুর সদর উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের বনতারা সীমান্ত দিয়ে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় চারজনকে আটক করেছে এলাকাবাসী। আটকদের মধ্যে তিন পুরুষ ও এক নারী রয়েছেন।

 

 

বুধবার (২৪ জুন) ভোর ৬টার দিকে শংকরপুর ইউনিয়নের শালকি মৈজাকুড়ি গ্রাম থেকে স্থানীয়রা তাদের আটক করে। পরে তাদের ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায়।

 

 

আটক চারজনের মধ্যে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন— নড়াইল জেলার কালিয়া পৌরসভার মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা আকুব্বর মোল্যা ও তার স্ত্রী জাহানারা বেগম।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে বনতারা গিলাবাড়ি সীমান্ত এলাকা দিয়ে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ভোরে শালকি মৈজাকুড়ি গ্রামের বিভিন্ন স্থানে তাদের ঘোরাফেরা করতে দেখে সন্দেহ হলে এলাকাবাসী তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তাদের ইউনিয়ন পরিষদে হস্তান্তর করা হয়।

শংকরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য পংকজ বসাক বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা কাজের সন্ধানে ভারতে যাতায়াত করতেন। তবে কীভাবে তারা সীমান্ত পারাপার করতেন সে বিষয়ে পরিবার কিছুই জানে না।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

 

 

ফুলবাড়ী ২৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুজ্জামান বলেন, এটি কোনো পুশইনের ঘটনা নয়, বরং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশের ঘটনা। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

 

 

তিনি আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার কণ্ঠশিল্পী মমতাজ

জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র রাজধানীর মিরপুর মডেল থানাধীন এলাকায় মো. মুক্তার হোসেনকে হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমকে ফের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

 

 

বুধবার (২৪ জুন) পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন৷

 

 

এর আগে, মমতাজকে আদালতে হাজির করে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. আজিজুল হক।

এদিন আদালতে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। অপরদিকে তার আইনজীবীরা গ্রেপ্তারের বিরোধিতা করেন।

গ্রেপ্তারের আবেদনে বলা হয়, আসামির এই মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এজন্য আসামিকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন। মামলার তদন্ত চলমান। আসামিকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলে তাকে মামলার ঘটনার বিষয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পরবর্তীতে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হতে পারে।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট জুলাই আন্দোলনের সময়ে বাদী ও ভিকটিম মো. মুক্তার হোসেন মিরপুরের সুইমিং ও ফায়ার সার্ভিসের রাস্তায় আন্দোলনে যোগ দেন। আন্দোলন দমাতে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের লোকজন তাদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণ করে। পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেট মুক্তার হোসেনের শরীর ও বুকে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে পরে যায়। পরবর্তীতে কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এ ঘটনায় মুক্তার একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। এই মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার দেখানো হলো।

 

 

২০২৫ সালের ১২ মে রাত পৌনে ১২টায় ধানমন্ডির স্টার কাবাবের পেছনের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরদিন তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার সিএমএম আদালত। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

 

 

লোকসংগীতের জনপ্রিয় শিল্পী মমতাজ নবম সংসদ নির্বাচনের পর ২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য হন। পরে ২০১৪ সালে তাকে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেয়।

 

 

২০১৮ সালেও নৌকা নিয়ে জয় পাওয়া মমতাজ ২০২৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনে দলের নেতা এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে হেরে যান।

নাতি হওয়ার নানার ব্যতিক্রম উল্লাস: ঘোড়ার গাড়িতে গ্রামভ্রমণ, ৩ হাজার মিষ্টি বিতরণ

নিজের কোনো পুত্রসন্তান নেই, তাই একমাত্র মেয়ের ঘরে দীর্ঘ এক যুগ পর ছেলেসন্তানের জন্ম হওয়ায় আনন্দের কোনো সীমা রইল না নানার। আর এই বিশেষ আনন্দকে স্মরণীয় করে রাখতে এক রাজকীয় ও ব্যতিক্রমী উৎসবের আয়োজন করলেন তিনি। ৭ মাস বয়সী নাতিকে সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে, ব্যান্ডপার্টির নাচ-গানের তালে তালে পুরো গ্রাম ঘুরিয়ে বিতরণ করলেন ৩ হাজার পিস মিষ্টি!

​ব্যতিক্রমী ও জমকালো এই ঘটনাটি ঘটেছে নাটোরের সিংড়া উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের জোরমল্লিকা গ্রামে। জোড় মল্লিকা গ্রামের ওই নানার নাম মো. হান্নান।

বুধবার (২৪ জুন)  সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত পুরো এলাকাজুড়ে চলে এই আনন্দ উৎসব।

সরেজমিনে গিয়ে আয়োজকদের সাথে কথা বলে জানাযায়, জোরমল্লিকা গ্রামের বাসিন্দা মো. হান্নানের নিজের কোনো পুত্রসন্তান নেই। তার একমাত্র মেয়ে পান্না খাতুনকে বিয়ে দিয়েছেন একই ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী শাহবাজপুর গ্রামে মনির হোসেনের সাথে। বিয়ের পর এই দম্পতির ঘরে প্রথমে একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। এরপর কেটে যায় দীর্ঘ ১২টি বছর। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই দম্পতির ঘর আলো করে আসে এক পুত্রসন্তান।

​একমাত্র মেয়ের ঘরে দীর্ঘ এক যুগ পর নাতি আসায় আনন্দের জোয়ার বয়ে যায় নানা মো. হান্নানের মনে। বর্তমানে নাতি আব্দুর রহমান বিন মুসালিনের বয়স ৭ মাস। নাতির এই আগমনকে স্মরণীয় করে রাখতেই তিনি এই অভিনব উৎসবের উদ্যোগ নেন।

​বুধবার সকালে নানা হান্নান তার ৭ মাস বয়সী নাতি মুসালিনকে একটি সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে চড়ান। এরপর ব্যান্ডপার্টির ধুমধাম নাচ-গানের তালে তালে নিজ গ্রাম জোরমল্লিকা থেকে শুরু করে জামাতার গ্রাম শাহবাজপুর পর্যন্ত পুরো এলাকা প্রদক্ষিণ করেন।

শিশুর মা পান্না খাতুন বলেন,​”আমার প্রথম কন্যাসন্তান জন্ম নেওয়ার দীর্ঘ ১২ বছর পর আল্লাহ আমাকে পুত্রসন্তান দিয়েছেন। আমার ছেলে হওয়ার আনন্দে আমার বাবা ঘোড়ার গাড়িতে করে পুরো গ্রাম ঘুরিয়ে এবং মিষ্টি বিতরণ করে উৎসব করছেন। বাবার এই আনন্দ দেখে আমাদেরও খুব ভালো লাগছে। আপনারা সবাই আমার ছেলে-মেয়ে এবং আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন।”

​নাতিকে নিয়ে উল্লাসিত নানা মো. হান্নান তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন,
“আমার নিজের কোনো ছেলে নেই। মহান আল্লাহ তায়ালা আমার মেয়ের ঘরে একটি নাতি উপহার দিয়ে আমার মনের দীর্ঘদিনের আশা পূরণ করেছেন। আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করতেই আমি আমার আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামবাসীদের নিয়ে এই আনন্দ ভাগাভাগি করেছি।”

পিকআপের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ গেল দুই মোটরসাইকেল আরোহীর

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় পিকআপ ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পিকআপচালক ও তার সহকারীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কবিরহাট-সোনাপুর সড়কের উপজেলার সুন্দলপুর এলাকার বারীপুকুরপাড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর কাকড়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাশেম বেপারী বাড়ির মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ তারেক রহমান শিবলু (১৬) এবং বসুরহাট পৌরসভার হাজীপাড়া এলাকার রহমতউল্লাহর ছেলে জিহাদ হোসেন (২০)।
আটকরা হলেন- পিকআপচালক মহি উদ্দিন মাহমুদ ও তার সহকারী সালাউদ্দিন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কবিরহাট-সোনাপুর সড়কের বারীপুকুরপাড় এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দুই আরোহী নিহত হন।
খবর পেয়ে কবিরহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কৃষক কার্ড ইস্যুতে আলোচনায় আসা কবির হোসেনের মৃত্যু

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড নিয়ে আলোচনায় আসা টাঙ্গাইলের সেই ভাইরাল কবির হোসেন মারা গেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

 

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি।

 

 

 

কবির হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

শোকবার্তায় প্রতিমন্ত্রী মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি শোকাহত পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দানের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।

 

গত ১৪ এপ্রিল কবির হোসেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন মহলে তাকে নিয়ে নানা ধরনের প্রচারণা চালায়, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তদন্ত করে। তদন্তে কবির হোসেনকে একজন প্রকৃত কৃষক হিসেবে শনাক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং নিজ জমিসহ বিভিন্ন কৃষি কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতেন। তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে তার কৃষক পরিচয়ের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে ঘিরে বিতর্কের অবসান ঘটে।

 

 

 

 

তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

 

 

 

বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন। কবির হোসেনের জানাজা ও দাফনের বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে পরে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

 

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর বেশ কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করেছে দলটির নেতাকর্মীরা।

 

 

 

মঙ্গলবার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা, সংসদ ভবনের পূর্বপাশের সড়ক, ডেমরা, মিরপুরের রূপনগর ও কাফরুল এলাকায় মিছিল করেন তারা।

 

 

 

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ছাড়াও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও এসব মিছিলে অংশ নেন। আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তির দাবি জানানো হয় বিক্ষোভ মিছিল থেকে।

ডেমরায় আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মী বিক্ষোভ করেন। সংসদ ভবনের পূর্বপাশের সড়কে বিক্ষোভ করেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মিরপুরের রূপনগর ও কাফরুল এলাকায় মিছিল করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

 

 

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সিদ্ধেশ্বরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মালিবাগ চৌধুরীপাড়া এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে পুলিশের কড়া নিরাপত্তা ছাড়াও ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। সেনাবাহিনীকে দেওয়া হয় ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা।

 

 

 

এদিন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপির সহযোগী সংগঠন যুব দল ও ছাত্রদল ছাড়াও জামায়াতে ইসলামের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে রাজধানীতে। বিজয়নগরে সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।

 

 

 

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর ও দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যাওয়া কয়েকজনকে মারধর করে পুলিশে দিয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামের নেতাকর্মীরা।

সুত্র: বিডিনিউজ২৪.কম

ফাইনালে ওঠার সমীকরণে এগিয়ে আর্জেন্টিনা

স্পেনের কাছে উরুগুয়ে হারলে, সমীকরণ কেপ ভার্দে কিংবা সৌদি আরবকে নকআউটের শেষ-৩২ রাউন্ডে পাবে আর্জেন্টিনা! সমীকরণ তো কথার মতো মিলে যাওয়ার বিষয় নয়, বললেই মিলে গেল! তবে মিলেও তো যেতে পারে। 

গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ইতোমধ্যেই নকআউট পর্ব (রাউন্ড অব ৩২) নিশ্চিত করেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে লিওনেল স্কালোনির দলের শেষ ৩২-এর প্রতিপক্ষ কে হচ্ছে, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ‘এইচ’ গ্রুপের জটিল সমীকরণের ওপর নির্ভর করছে আলবিসেলেস্তেদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ।

 

 

 

এই মুহূর্তে ‘এইচ’ গ্রুপে রয়েছে স্পেন, উরুগুয়ে, কেপ ভার্দে ও সৌদি আরব। নিয়ম অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে এই গ্রুপের রানার্সআপ দলের। বর্তমানে টেবিলের যা অবস্থা, তাতে সমীকরণটা বেশ রোমাঞ্চকর এক মোড় নিয়েছে।

 

 

 

‘এইচ’ গ্রুপের বর্তমান চিত্র- দুই ম্যাচ শেষে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে স্পেন। সমান ২ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে যথাক্রমে উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দে। ১ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে সৌদি আরব। ফলে শেষ ম্যাচের ওপরই নির্ভর করছে আর্জেন্টিনার ভাগ্য। 

কার মুখোমুখি হতে পারে আর্জেন্টিনা? স্পেনের বিপক্ষে যদি উরুগুয়ে তাদের শেষ ম্যাচে জেতে, সৌদি আরবের বিপক্ষে কেপ ভার্দে ড্র করে বা হেরে যায়, তবে স্পেন রানার্সআপ হতে পারে (যদি তারা শেষ ম্যাচে হেরে যায়)। আবার কেপ ভার্দে যদি ৪ বা তার বেশি গোলের ব্যবধানে জিতে যায় এবং উরুগুয়ে ড্র করে, সেক্ষেত্রেও স্পেনের রানার্সআপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

 

 

 

যদি উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দে—উভয় দলই তাদের শেষ ম্যাচে জয় পায়, তবে গোল ব্যবধান, ফেয়ার প্লে বা মুখোমুখি লড়াইয়ের জটিল সমীকরণে যে দল দ্বিতীয় হবে, তারাই খেলবে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। আবার দুটি ম্যাচই যদি ড্র হয়, তবে উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দের মধ্যেই দ্বিতীয় স্থান নির্ধারণী লড়াই হবে।

 

 

 

উরুগুয়ে যদি নিজেদের শেষ ম্যাচে জিততে না পারে এবং সৌদি আরব তাদের ম্যাচে জয় তুলে নেয়, তবে আর্জেন্টাইনদের প্রতিপক্ষ হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি।

 

 

 

কোয়ার্টার ও সেমিফাইনালের সম্ভাব্য রোডম্যাপ।
রাউন্ড অব ৩২-এর বাধা পার হতে পারলে স্কালোনির দল শেষ ১৬-তে মুখোমুখি হতে পারে প্যারাগুয়ে, অস্ট্রেলিয়া, ইরান বা বেলজিয়ামের মতো দলের।

 

 

কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার সামনে পড়তে পারে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল (যদি তারা কলম্বিয়াকে টপকে গ্রুপ সেরা হয়) অথবা সুইজারল্যান্ড ও কানাডার মধ্যকার যেকোনো এক দল। 

আসল রোমাঞ্চ লুকিয়ে আছে সেমিফাইনালে। আর্জেন্টিনা যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে এগিয়ে যায়, তবে শেষ চারে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল কিংবা শক্তিশালী ইংল্যান্ড।

 

 

 

ফাইনালের আগে দেখা হবে না ফ্রান্স-জার্মানির সঙ্গে। ব্র্যাকেটের বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা যদি টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রেখে ফাইনালে ওঠে, তবে মেগা ফাইনালের আগে ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস কিংবা স্পেনের (যদি তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়) মুখোমুখি হতে হবে না মেসি-মার্তিনেজদের। এই দলগুলোর সঙ্গে আর্জেন্টিনার দেখা হওয়ার একমাত্র সম্ভাবনা কেবল স্বপ্নের ফাইনালে।

 

 

 

এখন দেখার বিষয়, শেষ ষোলোর টিকিট কাটার লড়াইয়ে কোন দল আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার চ্যালেঞ্জটি লুফে নেয়।

 

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী রবীন্দ্র ও নজরুল জয়ন্তী উৎসব

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে অবস্থিত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতায় ভরপুর পরিবেশে দুই দিনব্যাপী ‘রবীন্দ্র ও নজরুল জয়ন্তী উৎসব ১৪৩৩’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২২ ও ২৩ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবে সেমিনার, সংগীত পরিবেশনা, রবীন্দ্র মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং পুরস্কার বিতরণীসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও কর্মকে স্মরণ করা হয়।
সোমবার (২২ জুন) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী একাডেমিক ভবন-৩ এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপাচার্য (ভাইস-চ্যান্সেলর) প্রফেসর ড. তাহমিনা আক্তার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর  ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া।
উদ্বোধনী পর্ব শেষে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে রবীন্দ্র মেলার উদ্বোধন করা হয়। মেলায় রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, দর্শন, সংস্কৃতি ও জীবনবোধভিত্তিক বিভিন্ন প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। পরে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে একাডেমিক ভবন-১ এর ‘গীতাঞ্জলি স্টুডিও থিয়েটার’-এ অনুষ্ঠিত হয় রবীন্দ্রসংগীত প্রতিযোগিতা। এতে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও  বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে নিজেদের সাংস্কৃতিক দক্ষতা তুলে ধরেন।
প্রথম দিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনার। বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. অনিরুদ্ধ কাহালি। তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, মানবতাবাদী দর্শন, শিক্ষা-চিন্তা এবং সমকালীন সমাজে তাঁর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত নজরুল ও রবীন্দ্রসংগীত দর্শক-শ্রোতাদের ব্যাপকভাবে মুগ্ধ করে।
উৎসবের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ১০টায় পুনরায় রবীন্দ্র মেলার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে নজরুলের সাহিত্য, সংগীত, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সাম্যবাদী দর্শন এবং বিদ্রোহী মননের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
দিনের শেষ পর্বে অনুষ্ঠিত সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী প্রফেসর ডা. এম. এ. মুহিত। বক্তব্যে তিনি বলেন, “একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাস ছাড়া পরিপূর্ণভাবে পরিচালিত হতে পারে না।” তিনি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নজরুল গবেষক ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আব্দুল হাই সিকদার। তিনি তাঁর বক্তব্যে নতুন প্রজন্মের মধ্যে নজরুলচর্চা বিস্তারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং জাতীয় কবির সাহিত্য ও দর্শনের বহুমাত্রিক গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের শিল্পীদের বর্ণাঢ্য নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী উৎসবের পর্দা নামে। অনুষ্ঠানজুড়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংস্কৃতিপ্রেমী দর্শনার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ উৎসবকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

মেসিকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া কে এই শতবর্ষী নারী?

লিওনেল মেসির খেলা ঘিরে বিশ্বজুড়ে আলোচনার মাঝেই এবার গ্যালারি থেকে নজর কাড়লেন ১০০ বছর বয়সী এক নারী দর্শক, যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগেই পরিচিত ‘গ্র্যানি স্মিথ’ নামে। বিশ্বকাপের ম্যাচে আর্জেন্টিনার জার্সি পরে তার উপস্থিতি ও হাতে ধরা একটি প্ল্যাকার্ড মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়, যেখানে লেখা ছিল—‘আমি ১০০ বছর বয়সী এবং আমি মেসির ভক্ত।’

 

 

 

ডালাসে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-০ গোলের জয়ের ম্যাচে এই দৃশ্য সম্প্রচারে আসার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে শুরু হয় কৌতূহল—কে এই শতবর্ষী নারী, যিনি মেসিকে ঘিরে এমন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এলেন।

 

 

এই নারী দর্শকের প্রকৃত নাম পউলিনে কানা। তবে অনলাইন দুনিয়ায় তিনি বেশি পরিচিত ‘গ্র্যানি স্মিথ’ বা ‘গ্যাংস্টার গ্র্যানি’ নামে। যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর তার নাতি রস স্মিথের সঙ্গে তৈরি করা কমেডি ভিডিও, স্টান্ট ও ভাইরাল কনটেন্টের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।

 

টিকটকে তার অনুসারীর সংখ্যা কোটি ছাড়িয়েছে, পাশাপাশি ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবেও রয়েছে বিশাল ভক্তগোষ্ঠী। বয়সকে অতিক্রম করে সাহসী ও হাস্যরসাত্মক কনটেন্ট তৈরির কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছেন এবং গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসেও তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

 

 

মেসির প্রতি ভালোবাসার পুরোনো গল্প

মেসির প্রতি তার ভালোবাসা নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন ফুটবল ইভেন্টে তাকে দেখা গেছে আর্জেন্টাইন তারকার প্রতি আবেগ প্রকাশ করতে। ২০২৫ সালের ক্লাব বিশ্বকাপে ইন্টার মায়ামির ম্যাচে উপস্থিত হয়ে তিনি বেশ কয়েকটি প্ল্যাকার্ড দেখান, যা তখনও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

 

 

 

পোর্তোর বিপক্ষে ম্যাচে তিনি একবার লিখে আনেন, ‘মেসি, তুমি কি আমাকে বিয়ে করবে?’ আবার পিএসজির বিপক্ষে ম্যাচে তার প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘মেসি, আমি তোমাকে ভালোবাসি। বয়স শুধু একটি সংখ্যা।’

 

 

 

সেই সময় ওয়ার্ম-আপ চলাকালে মেসি দূর থেকে তার দিকে তাকিয়ে হাসেন এবং হাত নাড়েন—যা পরবর্তীতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

 

 

 

বিশ্বকাপের রাতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপ ম্যাচে মেসি দুটি গোল করে দলকে জেতানোর পাশাপাশি নিজের রেকর্ডও উন্নত করেন। একই ম্যাচে গ্যালারিতে থাকা পউলিনে কানার উপস্থিতি আলাদা মাত্রা যোগ করে।

 

 

 

হাতে ‘১০০ বছর বয়সী মেসি ভক্ত’ লেখা প্ল্যাকার্ড এবং আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার উপস্থিতি সম্প্রচার ক্যামেরায় ধরা পড়তেই মুহূর্তে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে দৃশ্যটি। অনেকেই মেসির রেকর্ড গড়া রাতের পাশাপাশি এই শতবর্ষী ভক্তকেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখেন।

 

 

 

ভাইরাল দাদির জনপ্রিয়তার পেছনের গল্প

পউলিনে কানা শুধুমাত্র একজন ফুটবল ভক্ত নন, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একজন সুপরিচিত ইনফ্লুয়েন্সার। নাতি রস স্মিথের সঙ্গে তার ভিডিওগুলো প্রথম ভাইনে ভাইরাল হয়, পরে টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে তাদের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী হয়।

 

 

 

তাদের কনটেন্টের মূল আকর্ষণ হলো বয়সকে অতিক্রম করে একজন বৃদ্ধ নারীর সাহসী অংশগ্রহণ, যেখানে তিনি হাস্যরস, চ্যালেঞ্জ এবং কখনও শারীরিক স্টান্টেও অংশ নেন।

 

 

 

একটি আলোচিত ঘটনায় তিনি ৯৯ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে একটি কনসার্টে ক্রাউড সার্ফিং করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েন, যা তাকে বিশ্বব্যাপী আরও পরিচিত করে তোলে।

 

 

 

১০০ বছর বয়সে বিশ্বকাপের গ্যালারিতে উপস্থিত হয়ে পউলিনে কানা আবারও প্রমাণ করেছেন, ফুটবল কেবল তরুণদের খেলা নয়—এটি আবেগের খেলা, যেখানে বয়স কোনো বাধা নয়।

 

 

 

মেসির রেকর্ড গড়া মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি এই শতবর্ষী ভক্তের উপস্থিতিও ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে তুলেছে। ফলে একদিকে যেমন মাঠে ইতিহাস লিখেছেন মেসি, অন্যদিকে গ্যালারিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছেন তার এক ব্যতিক্রমী ভক্ত—পউলিনে কানা।

 

 

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-০ ব্যবধানের জয়ের ম্যাচে রেফারি লিওনেল মেসিকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কিংবদন্তি গোলরক্ষক পিটার স্মাইকেল।

 

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি টেলিভিশন চ্যানেলে ম্যাচ বিশ্লেষণ করার সময় তিনি এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন।

 

 

স্মাইকেলের মতে, ম্যাচের একটি গোল বিল্ড-আপের সময় আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার অস্ট্রিয়ার জাভার শ্লাগারকে ফাউল করেছিলেন।

রেফারি সেই ফাউলটি এড়িয়ে যান এবং ভিএআর প্রযুক্তিও এতে হস্তক্ষেপ করেনি, যার ফলে মেসি বিশ্বকাপে তার রেকর্ড-ব্রেকিং ১৭তম গোলটি করার সুযোগ পান।

সাবেক এই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা স্পষ্ট জানান, তিনি মেসির খেলার ভক্ত হলেও এই সিদ্ধান্তটি ছিল রেফারির একটি ‘স্পষ্ট এবং দৃশ্যমান ভুল’। তিনি মনে করেন, ফিফার অফিশিয়ালরা এখানে পক্ষপাতিত্ব বা বড় ধরনের ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

শ্রীলঙ্কায় ডেঙ্গু মোকাবিলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন

মশাবাহিত প্রাণঘাতী ডেঙ্গু জ্বরের দ্রুত বিস্তার ঠেকাতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, প্রতিদিন ১ হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের কার্যালয় জানায়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করা হবে। ইউনিটটি মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসে কাজ করবে।

 

 

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে দেশটিতে প্রায় ৫০ হাজার ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং মারা গেছেন ২৯ জন। তবে এই সংখ্যা এখনো ২০১৭ সালের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের তুলনায় কম। ওই বছর শ্রীলঙ্কায় ১ লাখ ৮৬ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন এবং ৪৪০ জনের মৃত্যু হয়।

প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাদের স্থাপনায় মশার প্রজননের সুযোগ করে দেবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বুধবার থেকে সারা দেশে মশার প্রজননস্থল পরিষ্কার করার বিশেষ অভিযান শুরু হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) আগেই সতর্ক করেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগ দ্রুত বিস্তার লাভ করছে।

জুনের শুরু থেকে শ্রীলঙ্কায় ডেঙ্গু সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সরকারি হিসাবে, চলতি সপ্তাহে একদিনেই এক হাজারের বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে।

 

 

দেশটির জাতীয় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের প্রধান কাপিলা কান্নাঙ্গারা বলেন, সংক্রমণ আরও বাড়লে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলো পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে পারে।

 

 

তিনি বলেন, হাসপাতালগুলো ইতোমধ্যেই চাপের মধ্যে রয়েছে। ২০১৭ সালের মতো পরিস্থিতি আমরা আবার দেখতে চাই না।

 

 

 

টাঙ্গাইলে দূষিত পানি পান করে অসুস্থ ৩২ শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মাহমুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের নলকূপের পানিতে বিষাক্ত পদার্থ মেশানোর অভিযোগ উঠেছে। সেই পানি পান করে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৩২ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে উপজেলার মাহমুদনগর ইউনিয়নের মাহমুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কাদীর।

 

 

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, সকালে বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি পান করার পর একে একে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে আরও শিক্ষার্থীর মধ্যে বমি, মাথা ঘোরা ও শারীরিক অস্বস্তির লক্ষণ দেখা দিলে তাদের দ্রুত নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কে বা কারা বিদ্যালয়ের নলকূপে কৃষিকাজে ব্যবহৃত তরল কীটনাশক বা অন্য কোনো বিষাক্ত পদার্থ মিশিয়ে দেয়। বিষয়টি টের পাওয়ার আগেই শিক্ষার্থীরা সেই পানি পান করে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মোট ৩২ জন শিক্ষার্থী চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসে। তাদের মধ্যে ২৯ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে বিশ্রামের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মাহমুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সকালে শিক্ষার্থীরা টিউবওয়েলের পানি পান করার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমরা দ্রুত তাদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ও সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দিতেই ব্যস্ত আছি।’

 

 

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিক্ষার্থী জানায়, বিরতির সময় ঝালমুড়ি খাওয়ার পর কয়েকজন সহপাঠী বিদ্যালয়ের পাশের টিউবওয়েলের পানি পান করে। এরপরই তারা বমি করতে শুরু করে এবং অসুস্থ হয়ে পড়ে। তবে সবাই ঝালমুড়ি খায়নি, অনেকেই শুধু পানি পান করার পর অসুস্থ হয়েছে।

 

 

মাহমুদনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ জজ কামাল বলেন, ‘বিদ্যালয়ের নলকূপে বিষ বা কীটনাশক মেশানোর কারণেই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি পরিকল্পিত কোনো নাশকতা কি না, তা তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করা প্রয়োজন।’

 

 

 

নাগরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাদীর আহামেদ জানান, ‘নলকূপের পাশ থেকে পলিথিনে মোড়ানো সাদা পেস্টজাতীয় একটি পদার্থ উদ্ধার করা হয়েছে। সেটি পানির সঙ্গে মিশে বিষক্রিয়ার কারণ হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’

 

 

নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এরফান উদ্দিন জানান, নলকূপের পানির নমুনা পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

নাগরপুর থানার ওসি মো. জহুরুল ইসলাম জানান, ‘পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগই এখন অনেকটা সুস্থ রয়েছে।’

 

 

 

হোয়াইট হাউস টার্গেট করে ষড়যন্ত্র, এফবিআই গ্রেপ্তার করল আরও ২ জন

হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত ইউএফসি ইভেন্টে হামলার কথিত ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল তদন্ত সংস্থা এফবিআই এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

 

 

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা একটি বহু-রাজ্যভিত্তিক ষড়যন্ত্রের অংশ ছিলেন, যার লক্ষ্য ছিল বিস্ফোরক বহনকারী ড্রোন ব্যবহার করে অনুষ্ঠানে হামলা চালানো এবং পরবর্তীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা।

 

 

 

মার্কিন বিচার বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

তদন্তে জানা গেছে, পরিকল্পনাটি ছিল ১৪ জুন অনুষ্ঠিত ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ ইভেন্টকে লক্ষ্য করে। ওই অনুষ্ঠানে দক্ষিণ লনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীদের পরিকল্পনা ছিল ড্রোনে বিস্ফোরক ব্যবহার করে ভিড়কে আতঙ্কিত করা এবং পরে গুলি চালানোর মাধ্যমে আরও বড় ক্ষতি করা।

এফবিআই-এর তথ্য অনুযায়ী, একজন সন্দেহভাজন ড্রোন অপারেটর ছিলেন এবং তিনি ড্রোনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ক্ষতি করার কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। অন্য একজন অভিযুক্ত অর্থ জোগান, ভ্রমণ ব্যবস্থা এবং সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বাড়িতে থ্রিডি প্রিন্টারসহ কিছু উপকরণ পাওয়া গেছে, যা ড্রোনের যন্ত্রাংশ তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

 

তদন্তকারীরা জানান, এই ষড়যন্ত্র প্রথম ধরা পড়ে ওহাইওর এক সহ-অভিযুক্তের বাবা-মা পুলিশকে তাদের সন্তানের সন্দেহজনক অনলাইন কার্যকলাপ ও অস্ত্র কেনার বিষয়ে জানালে।

 

 

 

এফবিআই বলেছে, দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সম্ভাব্য বড় ধরনের হামলা ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।

 

 

 

এ ঘটনায় মোট ২৩ জনের একটি নেটওয়ার্ক জড়িত থাকতে পারে বলে তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

বিশ্ববাজারে তেলের দামের নিয়ন্ত্রণ কি চীনের হাতে?

স্থায়ীভাবে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেলের প্রবাহ আবার স্বাভাবিক করার বিষয়ে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে; তখন বাজারের পরবর্তী গতিপথ এমন একটি দেশের ওপর নির্ভর করতে পারে, যে দেশটি এই আলোচনায় সরাসরি উপস্থিত নেই। আর সেটি হলো চীন।

 

 

 

ইরানে চলমান যুদ্ধের কারণে প্রতিদিন ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল ভোক্তা চীন নিজেদের জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আমদানি কমিয়ে, বিশাল তেল মজুতের ওপর নির্ভর করে এবং আরও বেশি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহার করে চীন দেশে উচ্চ তেলের দামের প্রভাবকে কিছুটা হলেও সামাল দিতে সক্ষম হয়েছে, যদিও পুরোপুরি তা দূর করতে পারেনি। চীনের এই পদক্ষেপগুলোর প্রভাব বৈশ্বিক বাজারেও অনুভূত হয়েছে।

 

 

 

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তিন মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এ সময় কিছু বিশ্লেষক পূর্বাভাস দিয়েছিলেন যে চলতি বছরে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। কিন্তু মোট সরবরাহ ঘাটতি প্রায় ১ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি হওয়া সত্ত্বেও অপরিশোধিত তেলের দাম তুলনামূলকভাবে সীমিত পর্যায়েই রয়েছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, এর প্রধান কারণ চীন।

জ্বালানি-বিষয়ক থিঙ্ক ট্যাংক এম্বারের প্রধান কর্মকর্তা ড্যান ওয়াল্টার বলেন, এশিয়ার বাকি অংশের জন্য এই পরিস্থিতিকে সামাল দিতে চীন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, আর এর মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতিকেও সুরক্ষা দিয়েছে।

সোমবার বৈশ্বিক মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৮ ডলারের নিচে নেমে আসে। কারণ বাজারে আশা তৈরি হয়েছে যে, বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়, সেখানে খুব শিগগিরই স্বাভাবিক বাণিজ্য আবার শুরু হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর আগের সপ্তাহগুলোতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭০ ডলারের নিচে ছিল। পরে মে মাসের শুরুতে তা চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে ব্যারেলপ্রতি ১১৪ ডলারে স্থিত হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চীনের প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে। তাই হরমুজ প্রণালি কত দ্রুত পুনরায় পুরোপুরি চালু হয়, তা নির্বিশেষে ভবিষ্যতে তেলের বাজারের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে চীনের নীতি, জ্বালানি ব্যবহার এবং ভোগের ধরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

 

 

চীনের ‘অদৃশ্য হাত’

এই মাসের শুরুর দিকে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে সোসিয়েট জেনারেলের বিশ্লেষকেরা লিখেছেন, ১৯৭৩ সালের ১৯৭৩ আরব অয়েল এম্বারগোর সময় বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল সরবরাহে ৭ শতাংশ ঘাটতি দেখা দিয়েছিল, যার ফলে তেলের দাম ১৩৪ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু ইরানে চলমান যুদ্ধের সময় দাম সেই তুলনায় প্রায় বাড়েনি, যদিও এই সংঘাত বৈশ্বিক তেল সরবরাহের ১৪ শতাংশকে প্রভাবিত করেছে।

 

 

তাদের মতে, এই আপাতবিরোধী পরিস্থিতির প্রধান কারণ চীন, যা বাজারকে পুনরায় ভারসাম্যে ফিরিয়ে আনতে একটি ‘অদৃশ্য হাত’ হিসেবে কাজ করছে। কারণ চীন প্রতিদিন প্রায় ৩০ লাখ ব্যারেল তেল আমদানি কমাতে সক্ষম হয়েছে, যা প্রায় জাপানের মোট অপরিশোধিত তেল চাহিদার সমান।

 

 

চীন কয়েকটি কারণে তেলের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পেরেছে। রিস্তাদ এনার্জির তেলবাজার বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জনিভ শাহ বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগে চীন ব্যাকআপ হিসেবে অপরিশোধিত তেলের মজুত গড়ে তুলছিল। এতে সহায়তা করেছে রাশিয়া ও ইরান থেকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা সস্তা তেলের সরবরাহ।

 

 

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে চীনের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত মজুতে ১০০ কোটিরও বেশি ব্যারেল তেল রয়েছে, এবং দেশটি মে মাস থেকে সেই মজুত ব্যবহার শুরু করেছে।

 

 

শাহ বলেন, ‘চীন এতদিন তেলের দামের জন্য একটি ন্যূনতম ভিত্তি তৈরি করে রেখেছিল। কিন্তু এ বছর সেই ধারা উল্টে গেছে।’

 

 

দেশটির সরকার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ডিজেল ও পেট্রলের মতো পরিশোধিত তেলজাত পণ্যের রপ্তানিও সীমিত করেছে। এর ফলে চীনের তেল শোধনাগারগুলো, যারা একদিকে কম মুনাফার মুখোমুখি এবং অন্যদিকে বিদেশি বাজারে প্রবেশাধিকার হারিয়েছে, তারা বৈশ্বিক বাজার থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত হয়েছে।

 

 

এদিকে চীনে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাপক প্রসার দেশটির জীবাশ্ম জ্বালানির চাহিদা কমিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে চীনে বিক্রি হওয়া প্রতি দুইটি নতুন যাত্রীবাহী গাড়ির মধ্যে প্রায় একটি হলো নতুন জ্বালানি প্রযুক্তিনির্ভর যানবাহন (নিউ এনার্জি ভেহিকল)।

 

 

আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, গত বছর চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ির বহর প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দিয়েছে।

 

 

চীনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত বিশেষজ্ঞ ডেভিড ফিশম্যান বলেন, এটি বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেলের বাজারের জন্য এক অসাধারণ চাপমুক্তির ভালভ হিসেবে কাজ করেছে।

 

 

তবে তিনি বলেন, উচ্চ তেলের দাম ভোক্তা ও শোধনাগারগুলোর চাহিদা কমিয়ে রাখতে পারে বটে, কিন্তু বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় চীনের সক্ষমতা নির্ভর করবে তারা কতদিন জ্বালানি মজুত ধরে রাখতে পারে তার ওপর।

 

 

ফিশম্যানের ভাষায়, ‘যে বিষয়টি অনির্দিষ্টকাল ধরে টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়, তা হলো অপরিশোধিত তেলের মজুত। যদি তেলের দাম কমতে শুরু করে, তাহলে আপনি আশা করতে পারেন যে তারা প্রথমেই আবার নতুন করে তেল মজুত করা শুরু করবে।’

 

 

ঘাটতি থেকে কি এবার অতিরিক্ত সরবরাহের যুগে?

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল সংকটের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে মাসের পর মাস উদ্বেগের পর আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা এখন সতর্ক করছে যে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে যাওয়ায় আগামী বছর বৈশ্বিক বাজারে তেলের অতিরিক্ত সরবরাহ সৃষ্টি হতে পারে।

 

 

 

বুধবার প্রকাশিত সংস্থাটির মাসিক তেলবাজার প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলে আগামী বছর সরবরাহ বৃদ্ধির হার চাহিদা বৃদ্ধির হারকে প্রতিদিন ৪৭ লাখ ব্যারেল দ্বারা ছাড়িয়ে যাবে।

 

 

প্রতিবেদনে সংস্থাটি লিখেছে, এটি বাজারের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক সুযোগ এনে দিতে পারে এবং ক্ষয়প্রাপ্ত মজুত পুনরায় পূরণ করার কিংবা নতুন কৌশলগত মজুত গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। কারণ সংকটের প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন দেশ তাদের জ্বালানি কৌশল ও নীতিমালা পুনর্মূল্যায়ন করছে।

 

 

যদিও আগামী বছর বৈশ্বিক তেলের চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে, সাম্প্রতিক অস্থিতিশীলতা নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রতি আগ্রহও বাড়িয়ে দিয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অপরিশোধিত তেলের ব্যবহার আরও কমিয়ে দিতে পারে। বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি ও সৌরশক্তি প্রযুক্তিতে বিশ্বের শীর্ষ দেশ চীন ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মার্চ মাসে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তি পণ্যের রপ্তানিতে রেকর্ড গড়ে।

 

 

চীনের জ্বালানি ও অটোমোবাইল খাত নিয়ে কাজ করা ট্রিভিয়াম চীনের বিশ্লেষক কসিমো রাইস বলেন, বিদ্যুতায়নের এই গতি ক্রমেই বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অগ্রগতি কীভাবে হয়, তা আমাদের দেখতে হবে। তবে সামগ্রিকভাবে এটি বৈশ্বিক কার্বন নির্গমন হ্রাসের জন্য একটি অসাধারণ সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।

 

 

পণ্যবাজারভিত্তিক তথ্য ও বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম কেপলারের জ্যেষ্ঠ তেল গবেষণা বিশ্লেষক মুয়ু জু বলেন, অতিরিক্ত সরবরাহের পরিস্থিতি আগামী মাসেই শুরু হতে পারে। তার মতে, হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে যাওয়ার পর বর্তমানে আটকে থাকা ১০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আবার বাজারে প্রবেশ করবে।

 

 

একই সময়ে ইরানও সম্ভবত দ্রুতগতিতে নিজেদের তেল উৎপাদন বাড়াবে। তবে এর ফলে ইরানি তেল চীনের কাছে তুলনামূলকভাবে কম আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। কারণ, এতদিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের বিক্রির সুযোগ সীমিত ছিল এবং সে কারণে চীন ছাড়মূল্যে ইরানি তেল কিনতে পেরেছে।

 

 

তবে শু আরও বলেন, অনেক দেশ ইতোমধ্যে গ্রীষ্মকালীন সময়ের জন্য তাদের তেলের চাহিদা পূরণ করে ফেলেছে। ফলে বাজারে পুনরায় ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে চীন আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

 

 

 

শুর ভাষায়, ‘মাত্র দুই মাস আগের তুলনায় এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বর্তমানে অতিরিক্ত সরবরাহ শোষণ করার সক্ষমতা যে দেশের আছে, সেটি হলো চীন। কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো—চীন কি আর তেল কিনতে চায়?’

বেলারুশের পাশে রাশিয়া, নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতির ঘোষণা

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন, বেলারুশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে মস্কো সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তিনি মঙ্গলবার মস্কোতে বলেন, রাশিয়া-বেলারুশ নিরাপত্তা চুক্তির আওতায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

 

 

লাভরভের দাবি, ইউক্রেন বেলারুশকে সংঘাতে টেনে আনার চেষ্টা করছে এবং সীমান্তের কাছে সামরিক পরিস্থিতি তৈরি করে হুমকি দিচ্ছে।

 

 

তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও উল্লেখ করেন। জেলেনস্কি বলেছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সামরিক সরঞ্জাম সরানো না হলে বেলারুশে হামলার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। বেলারুশে হামলার সক্ষমতা রয়েছে বলেও জেলেনস্কি হুঁশিয়ারি দেন।

লাভরভ জানান, যে সামরিক সরঞ্জামের কথা বলা হচ্ছে, তা বেলারুশের ভূখণ্ডে ইউক্রেন সীমান্তের কাছে অবস্থান করছে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে রাশিয়া-বেলারুশের মধ্যে একটি নিরাপত্তা চুক্তি কার্যকর আছে এবং প্রয়োজন হলে সেই চুক্তির সব ধারা অনুযায়ী মস্কো পদক্ষেপ নেবে।

এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিশ্বকাপের নকআউট নিশ্চিত দলগুলো, বিদায়ঘণ্টা বাজল যাদের

ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার আগেই নকআউট পর্বের চিত্র ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে আয়োজিত এই বিশ্বকাপে নতুন সংযোজন ‘রাউন্ড অব ৩২’। আগামী ২৮ জুন থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে এই পর্ব, যেখানে জায়গা করে নেবে ৩২টি দল।

 

 

নকআউটে ওঠার নিয়ম কী?

নতুন নিয়ম অনুযায়ী ১২টি গ্রুপের প্রতিটি থেকে শীর্ষ দুই দল সরাসরি রাউন্ড অব ৩২-এ উঠবে। পাশাপাশি ১২টি গ্রুপের তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলোর মধ্যে সেরা আট দলও নকআউট পর্বে খেলার সুযোগ পাবে।

রাউন্ড অব ৩২ শেষে শুরু হবে রাউন্ড অব ১৬। এরপর পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ এবং ফাইনাল। আগামী ১৯ জুলাই হবে বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী লড়াই।

টুর্নামেন্টের সূচি অনুযায়ী গ্রুপ পর্ব চলবে ২৭ জুন পর্যন্ত। রাউন্ড অব ১৬ অনুষ্ঠিত হবে ৪ থেকে ৭ জুলাই, কোয়ার্টার ফাইনাল ৯ থেকে ১১ জুলাই, সেমিফাইনাল ১৪ ও ১৫ জুলাই এবং তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ হবে ১৮ জুলাই।

টাইব্রেকারে নতুন নিয়ম

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম সমান পয়েন্ট পাওয়া দলগুলোর মধ্যে অবস্থান নির্ধারণে গোল ব্যবধানের আগে হেড-টু-হেড ফলাফলকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফিফার এই নতুন নিয়মের প্রভাব ইতোমধ্যেই দেখা গেছে।

 

 

এই নিয়মের কারণে হাইতি, তুরস্ক, তিউনিসিয়া ও জর্ডানের বিদায় নিশ্চিত হয়েছে। কারণ নিজেদের গ্রুপের তৃতীয় স্থানে থাকা প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে তারা হেরে যাওয়ায় আর সেরা তৃতীয় দল হওয়ার দৌড়ে টিকে থাকার সুযোগ নেই।

 

 

 

সমান পয়েন্ট হলে যেভাবে নির্ধারণ

একই গ্রুপে দুই বা ততোধিক দলের পয়েন্ট সমান হলে প্রথমে বিবেচনা করা হবে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর পারস্পরিক ম্যাচে অর্জিত পয়েন্ট। এরপর দেখা হবে সেই ম্যাচগুলোর গোল ব্যবধান এবং করা গোলসংখ্যা।

 

 

 

এতেও সমাধান না হলে বিবেচনায় আসবে গ্রুপের সব ম্যাচ মিলিয়ে গোল ব্যবধান, মোট গোলসংখ্যা এবং হলুদ-লাল কার্ডের ভিত্তিতে ফেয়ার প্লে রেকর্ড। সবশেষে প্রয়োজন হলে ফিফা বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের অবস্থান ব্যবহার করা হবে।

 

 

অন্যদিকে সেরা আট তৃতীয় স্থানধারী দল নির্ধারণে বিবেচনা করা হবে অর্জিত পয়েন্ট, গোল ব্যবধান, গোলসংখ্যা, ফেয়ার প্লে রেকর্ড এবং প্রয়োজনে ফিফা র‌্যাঙ্কিং।

 

 

নকআউট নিশ্চিত করেছে যেসব দল

সহ-আয়োজক মেক্সিকোই প্রথম দল হিসেবে রাউন্ড অব ৩২ নিশ্চিত করেছে। গ্রুপ ‘এ’-তে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় জয় তুলে নেয় তারা। এর আগে উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল মেক্সিকানরা।

 

 

 

গ্রুপ ‘ডি’-তে টানা দুই জয়ে নকআউট নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রথম ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারানোর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় পায় স্বাগতিকরা।

 

 

 

জার্মানি গ্রুপ ‘ই’ থেকে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে। প্রথম ম্যাচে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। রাশিয়া ২০১৮ ও কাতার ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার পর এবার দারুণ প্রত্যাবর্তন হয়েছে তাদের।

 

 

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাও নকআউট নিশ্চিত করেছে দাপটের সঙ্গে। গ্রুপ ‘জে’-তে অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ৩২-এ ওঠার পাশাপাশি শীর্ষস্থানও নিশ্চিত করেছে আলবিসেলেস্তেরা। ম্যাচে জোড়া গোল করেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। এর আগে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকও করেছিলেন তিনি।

 

 

 

গ্রুপ ‘আই’-তে নকআউট নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স ও নরওয়ে। ফ্রান্স ইরাককে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেয়। ম্যাচে জোড়া গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। অন্যদিকে সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করে নরওয়ে। ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে টানা দুই জয়ে দারুণ সূচনা করেছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দলটি।

 

 

বিদায় নিশ্চিত যাদের

গ্রুপ ‘সি’-তে ব্রাজিলের কাছে ৩-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে হাইতির। ১৯৭৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলা দলটি প্রথম ম্যাচেও স্কটল্যান্ডের কাছে পরাজিত হয়েছিল।

 

 

 

গ্রুপ ‘ডি’-তে প্যারাগুয়ের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নিশ্চিত হয় তুরস্কের। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও হার দেখেছিল তারা। ২৪ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে হতাশাজনক সমাপ্তি ঘটল ইউরোপের দলটির।

 

 

তিউনিসিয়ার বিশ্বকাপ অভিযানও শেষ হয়েছে গ্রুপ পর্বেই। গ্রুপ ‘এফ’-এ জাপানের কাছে ৪-০ গোলে হারার আগে প্রথম ম্যাচে সুইডেনের কাছে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল উত্তর আফ্রিকার দেশটি।

 

 

 

অন্যদিকে বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নেওয়া জর্ডানের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে গ্রুপ ‘জে’-তে। আলজেরিয়ার কাছে ২-১ গোলে হেরে তাদের বিদায় নিশ্চিত হয়। প্রথম ম্যাচেও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে হারতে হয়েছিল দলটিকে। ফলে অভিষেক বিশ্বকাপেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হলো মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিনিধিদের।

ঝড়-বজ্রবৃষ্টিতে আক্রান্ত হতে পারে দেশের ১৩ জেলা

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৩ জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া এক পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়।

 

 

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, রংপুর, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টিও হতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এদিকে, আরেকটি বিজ্ঞপ্তিতে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের সব বিভাগেই অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়ার সঙ্গে বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একইসঙ্গে দেশের কিছু কিছু স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণেরও আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া ঝড়বৃষ্টি ও ভারি বর্ষণের প্রবণতা আগামী কয়েক দিনে আরও বাড়তে পারে বলেও জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ইরানের শীর্ষ নেতাদের পাকিস্তান সফর

সরকারি সফরে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তার এই রাষ্ট্রীয় সফরের মধ্যেই সফরসঙ্গী হিসেবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও যোগ দিবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

 

 

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, ওমানের রাজধানী মাস্কাট সফর শেষ করে আরাঘচি ইসলামাবাদে পৌঁছালে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তাকে বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

 

 

তার এই সফরটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান পরোক্ষ আলোচনায় পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। দুই দেশের মধ্যে ১৪ দফার একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির রূপরেখা বা ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ এই কূটনৈতিক তৎপরতার অন্যতম বড় প্রমাণ।

সফরকালে আরাঘচির নেতৃত্বে ইরানের শীর্ষ এই প্রতিনিধি দলটি দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় ছাড়াও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সাথে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সিংড়ায় ১৫২ টি নৃগোষ্ঠী পরিবারের মাঝে শিক্ষা উপবৃত্তি, সেলাই মেশিন ও বাইসাইকেল বিতরণ

 প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্তৃক ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়নের জন্য বিশেষ এলাকার উন্নয়ন সহায়তা শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের নাটোরের সিংড়ায়  নৃগোষ্ঠী ছাত্র ছাত্রী ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের মোট  ১৫২ টি পরিবারের মাঝে শিক্ষা উপবৃত্তি, সেলাই মেশিন ও  বাইসাইকেল বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার বিকাল ৪টায় উপজেলা চত্বরে নৃগোষ্ঠীর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫৯ জন শিক্ষার্থী, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৩৫ জন ও  কলেজের ২৪জন  শিক্ষার্থীর মাঝে উপবৃত্তি, ১৮টি বাইসাইকেল ও ১২ টি পরিবারের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)  আব্দুল্লাহ আল রিফাত।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশাত আনজুম, উপজেলা বিএনপির  সদস্য সচীব অধ্যাপক শারফুল ইসলাম, ডায়াবেটিস সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মিলন হোসেন মাস্টার, সাবেক ছাত্র নেতা রফিকুল ইসলাম বুলেট সহ উপকারভোগী নৃগোষ্ঠী পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী।

অভিনয়ের পর এবার নির্মাণে নওশাবা, আসছে ‘সোমেশ্বরী’

অভিনয়ের পাশাপাশি এবার চলচ্চিত্র নির্মাণেও নাম লিখিয়েছেন অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ। তার পরিচালনায় নির্মিত হয়েছে নতুন সিনেমা ‘সোমেশ্বরী’। এতে পরিচালনার পাশাপাশি অভিনয়ও করেছেন তিনি। সুনামগঞ্জের মধ্যনগর ও সোমেশ্বরী নদীকে ঘিরে নির্মিত এই সিনেমায় স্থানীয় মানুষদের নিয়ে তুলে ধরা হয়েছে প্রকৃতি, পরিবেশ ও মানুষের জীবনের গল্প।

 

 

 

মঞ্চ ও পর্দা, দুই মাধ্যমেই সমানভাবে সক্রিয় নওশাবা। রেজা আরিফের নির্দেশনায় ‘সিদ্ধার্থ’ নাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি পরিচালনা করছেন নিজের নাট্যদল ‘টুগেদার উই ক্যান’-এর বিভিন্ন প্রযোজনা। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে কাজ করা এই দলের ব্যানারে ইতোমধ্যে চারটি নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার চলচ্চিত্র নির্মাণে হাত দিলেন নওশাবা। তার পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘সোমেশ্বরী’র প্রযোজক বিবেশ রায়।

 

 

 

প্রযোজকের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি একটি সম্মিলিত প্রয়াস। কাজী নওশাবা, আপন, লতা, জাহিদসহ কয়েকজন মিলে সিনেমাটির গল্প ও চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন এবং নির্মাণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছেন।

সিনেমাটি নিয়ে নওশাবা বলেন, ‘শুরুতে গল্প বা চরিত্র সম্পর্কে কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল না। পুরো টিম মধ্যনগরে গিয়ে স্থানীয় বাস্তবতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে গল্প নির্মাণ করেছে। মূল চরিত্রে অভিনয়েরও পরিকল্পনা ছিল না আমার, তবে উপযুক্ত কাউকে না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত নিজেই চরিত্রটি করি।’

নওশাবার ভাষ্য, গ্রামীণ জীবন সম্পর্কে তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থাকায় চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি। স্থানীয় মানুষের সহযোগিতাও পেয়েছেন তিনি।

সিনেমার গল্প প্রসঙ্গে নওশাবা জানান, আধুনিকতার নামে প্রকৃতির ওপর মানুষের নেতিবাচক প্রভাব, পরিবেশ দূষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কেমন পৃথিবী রেখে যাওয়া হচ্ছে— এসব বিষয় ‘সোমেশ্বরী’র মূল উপজীব্য। পাশাপাশি এতে থাকছে একটি বিশেষ মানবিক গল্পও।

 

 

 

‘সোমেশ্বরী’ নির্মিত হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি অব ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া-এর আওতাধীন গ্রিন ফিল্মসের ব্যানারে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন, দায়িত্বে প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

ডেঙ্গু মোকাবিলায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নেতৃত্বে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে সরকার।

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ‘ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ বিষয়ক জাতীয় কমিটি’র প্রথম সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে উচ্চপর্যায়ের এ ‘টাস্কফোর্স’ গঠন করা হয়।

 

 

জানা গেছে, ডেঙ্গু মোকাবিলায় গঠিত এ ‘টাস্কফোর্স’-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

 

 

টাস্কফোর্সের কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে জাতীয় কমিটির গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রদান। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে জাতীয় কমিটিকে অবহিত করা এবং বাস্তবায়নে কোনো সীমাবদ্ধতা থাকলে তা নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখা।

১৯ সদস্যের এই কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের নগর উন্নয়ন অনুবিভাগের প্রতিনিধি, দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী, স্বাস্থ্য ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় (স্বাস্থ্য, শিক্ষা, গৃহায়ন ও গণপূর্ত), ডিএমপি, রাজউক, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি এবং ‘ইম্প্রুভমেন্ট অব আরবান পাবলিক হেলথ প্রিভেন্টিভ সার্ভিসেস প্রজেক্ট’-এর প্রকল্প পরিচালক। সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্থানীয় সরকার বিভাগের নগর উন্নয়ন-২ শাখার উপসচিব।

সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ মাঠ পর্যায়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর ও সমন্বিত নজরদারি নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

একযোগে পদত্যাগ করলেন ১৭ ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল

জুলাই চার্টার বাস্তবায়ন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের অবস্থানের সঙ্গে মতপার্থক্যের কথা উল্লেখ করে পদত্যাগ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ১৭ জন আইন কর্মকর্তা। এদের মধ্যে ১০ জন ডেপুটি ও ৭ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল।

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো পৃথক পদত্যাগপত্রে তারা দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তারা সবাই জামায়াতপন্থি হিসেবে পরিচিত।

 

 

পদত্যাগকারী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলরা হলেন- অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী, শফিকুর রহমান, আবদুল করিম, ফরিদ উদ্দিন খান, গোলাম রহমান ভূঁইয়া, আসাদ উদ্দিন এবং মুহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

এ ছাড়া পদত্যাগকারী সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলরা হলেন- ইমরুল কায়েছ রানা, হুমায়ুন কবির তানিম, আবদুল কাইয়ুম ভূঁইয়া, আবদুল্লাহিল মারুফ ফাহিম, জোয়াদুর রহমান, শামসিল আরেফিন, মাহাবুবা আক্তার রলি, নূর নবী উজ্জ্বল, আল রেজা আমির এবং রেজাউল ইসলাম।

পদত্যাগপত্রে তারা বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী জুলাই চার্টার বাস্তবায়ন না হওয়া, বিচার বিভাগের জন্য স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা এবং সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিলের মতো বিষয়গুলো নিয়ে তাদের গভীর উদ্বেগ রয়েছে। এসব কারণে সাংবিধানিক শাসন, আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

তারা আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থেকে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই তারা অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার শর্তে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

১৮ বছরের দুর্নীতির জালে বন্দী উন্নয়ন, ১১ বছরের ভোগান্তি

চট্টগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়ক আজ দীর্ঘ সময় ধরে নগরবাসীর দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ শিক্ষার্থী, রোগী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিক এই সড়কে চলাচল করতে গিয়ে সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। খানাখন্দে ভরা সড়কে যানবাহনের গতি কমে যায়, বাড়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, নষ্ট হয় মূল্যবান সময়। সড়কটির দায়িত্ব সিডিএ নাকি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের, এ নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের টানাপোড়েন আবারও আলোচনায় এসেছে।

 

 

তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই সংকটের শিকড় কেবল বর্তমান প্রশাসনিক জটিলতায় সীমাবদ্ধ নয়। এর পেছনে রয়েছে প্রায় দুই দশকজুড়ে অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তের বিতর্ক এবং জবাবদিহিহীনতার দীর্ঘ ইতিহাস।

 

 

 

এই ইতিহাসের সূত্রপাত ২০০৭ সালে। ওই বছরের ১ জুলাই চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নির্বাহী প্রকৌশলী এ.জি.এম. সেলিম এবং সহকারী প্রকৌশলী রাজীব দাস অক্সিজেন জংশন থেকে কাপ্তাই রোড পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজ পরিদর্শন করে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে একটি তদন্ত প্রতিবেদন তৎকালীন চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেন। পরবর্তীতে এই প্রতিবেদনই দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

এরপর ২০০৮ সালে দুদক সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) প্রকৌশলীদের দিয়ে প্রকল্পটির পুনঃপরিমাপ করায়। সেই প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাস্তবে সম্পন্ন হওয়া কাজের মূল্য ছিল মাত্র ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪৬০ টাকা, অথচ ঠিকাদার উত্তোলন করেছেন ৫ লাখ ৯১ হাজার ৯৭ টাকা। অর্থাৎ অতিরিক্ত বিল উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ লাখ ৩৫ হাজার ৬৩৭ টাকা। এই তথ্যের ভিত্তিতে ২০০৮ সালের ৯ অক্টোবর কাজী হাসান বিন শামসসহ পাঁচজন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মোট ১৫টি দুর্নীতির মামলা দায়ের করে দুদক। অভিযোগ ছিল, প্রকৃত কাজের তুলনায় অতিরিক্ত বিল তুলে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এর কিছুদিন পর, ২০০৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অভিযুক্ত কাজী হাসান বিন শামস ট্রুথ কমিশনে হাজির হয়ে তিন লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেন এবং দায় স্বীকারের ভিত্তিতে মার্জনা গ্রহণ করেন। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে। যদি অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন হয়ে থাকে, তাহলে তিনি কেন ট্রুথ কমিশনের কাছে দায় স্বীকার করে অর্থ জমা দিলেন? যদিও পরে ট্রুথ কমিশনকে আদালত অবৈধ ঘোষণা করেন, তবুও দায় স্বীকার এবং অর্থ জমা দেওয়ার ঘটনাটি ইতিহাসের অংশ হয়ে রয়েছে।

পরবর্তীতে ২০০৮ সালের ১৩ নভেম্বর হাইকোর্ট ট্রুথ কমিশনকে অবৈধ ঘোষণা করেন এবং ২০১১ সালে আপিল বিভাগও সেই রায় বহাল রাখেন। এর ফলে ট্রুথ কমিশনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া দুর্নীতির মামলাগুলো পুনরায় সচল হয়ে যায় এবং মামলাগুলোর তদন্ত আবার নতুন করে শুরু হয়।

 

 

এই ধারাবাহিকতায় দুদকের তৎকালীন উপ-সহকারী পরিচালক মো. হুমায়ুন কবির দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ২১ মে কমিশনে একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। কিন্তু বিস্ময়করভাবে সর্বশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. এমরান হোসেনের প্রতিবেদনে ২০১২ সালের তদন্তে কী পাওয়া গিয়েছিল, তার উপসংহার কী ছিল, কিংবা আগের তদন্তের সঙ্গে পরবর্তী তদন্তের পার্থক্য কোথায় এসব বিষয়ে কার্যত কোনো বিশ্লেষণই পাওয়া যায় না। ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত প্রতিবেদন রহস্যজনকভাবে আড়ালে থেকে গেছে বলে প্রশ্ন উঠেছে।

 

 

আরও বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে পুনঃপরিমাপের প্রক্রিয়া নিয়ে। ২০০৮ সালে যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) প্রকৌশলীরা পুনঃপরিমাপ করে দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা পেয়েছিলেন, ২০২৪ সালের পুনঃতদন্তে সেই সংস্থাকেই আর দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এর পরিবর্তে পুনঃপরিমাপের দায়িত্ব দেওয়া হয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে (ডিপিএইচই)। বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়ক নির্মাণের কারিগরি পরিমাপের ক্ষেত্রে সওজই সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান। তাহলে কেন সেই সংস্থাকে বাদ দেওয়া হলো এ প্রশ্নের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা তদন্ত প্রতিবেদনে পাওয়া যায় না।

 

 

এদিকে তদন্ত প্রক্রিয়া ঘিরে দুদকের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। আসামি কাজী হাসান বিন শামস ২০২২ সালের ১৭ নভেম্বর দুদক চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করে দাবি করেন, আগের পরিমাপে অসঙ্গতি রয়েছে এবং প্রকল্পের আওতায় নির্মিত কালভার্টগুলো অন্য কোনো প্রকৌশল বিভাগ দিয়ে পুনরায় পরিমাপ করা হোক। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ অতীতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব থাকাকালে কাজী হাসান বিন শামসের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন এবং সেই সম্পর্কের প্রভাবেই আবেদনটি বিশেষভাবে বিবেচিত হয়।

 

 

পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ২২ অক্টোবর দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয় যে, পূর্ববর্তী পরিমাপ প্রকৌশল গাইডলাইন অনুসরণ না করে হয়ে থাকলে এবং তাতে ন্যায়বিচার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে পুনঃপরিমাপ গ্রহণ করা যেতে পারে। একই সময়ে, দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর তৎকালীন পরিচালক ও উপপরিচালক নাজমুস সাদাতের কাছে কাজী হাসান বিন শামসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য থাকলেও তদন্তে সেগুলো যথাযথ গুরুত্ব পায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

 

 

সবশেষে প্রায় ১৮ বছর পর এলজিইডি ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মতামতের ভিত্তিতে তদন্তে বলা হয়, বিলের পরিমাণ এবং বাস্তব কাজ প্রায় সমান, পার্থক্য খুবই নগণ্য এবং দীর্ঘ ব্যবহারে কিছু অপচয় হয়েছে। এরপর মামলাটি ঘটনাগত ভুল হিসেবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন'(এফআর অ্যাজ মিস্টেক অব ফ্যাক্ট) আকারে নিষ্পত্তির সুপারিশ করা হয়।

 

 

কিন্তু এখানেই নতুন করে একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। ২০০৫-২০০৬ সালে নির্মিত একটি কালভার্ট ২০২৪ সালে পরিমাপ করে মূল নির্মাণকাজের পরিমাণ কতটা নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব? তদন্তে কোথাও কোর টেস্ট, নন-ডেস্ট্রাকটিভ টেস্ট, ফটোগ্রাফিক এভিডেন্স, অ্যাজ-বিল্ট ড্রয়িংয়ের সত্যতা যাচাই কিংবা বিস্তারিত ফিল্ড ভেরিফিকেশনের তথ্য পাওয়া যায় না। ফলে পুনঃপরিমাপের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে।

 

 

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গত ১৮ বছরে এই সড়কে কতবার সংস্কার হয়েছে, কত টাকা ব্যয় হয়েছে, কোন অংশ পুনর্নির্মাণ হয়েছে এসব মৌলিক তথ্যও তদন্তে বিশ্লেষণ করা হয়নি। অথচ ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়ক পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল। অর্থাৎ যে করিডোরকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, পরবর্তীতে সেই একই করিডোরে বিপুল অর্থ ব্যয় করে নতুন সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। তাহলে পূর্ববর্তী নির্মাণকাজের গুণগত মান কী ছিল, কেন পুনর্নির্মাণের প্রয়োজন হলো এবং পুরোনো কাজের দায় কার এসব প্রশ্নেরও কোনো উত্তর তদন্তে নেই।

 

 

এদিকে বর্তমানে সড়কটির দায়িত্ব নিয়ে সিডিএ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন একে অপরের দিকে দায় ঠেলে দিচ্ছে। কিন্তু এই টানাপোড়েনের মাঝেই বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যানবাহন, সময় নষ্ট হচ্ছে শিক্ষার্থী, রোগী ও কর্মজীবী মানুষের। ফলে প্রশ্ন উঠছে আজকের এই জনদুর্ভোগ কি শুধুই বর্তমান প্রশাসনিক সংকটের ফল, নাকি অতীতের অনিয়ম, দুর্বল তদারকি এবং জবাবদিহিহীনতার ধারাবাহিক পরিণতি?

 

 

অক্সিজেন কুয়াইশ সড়কের বর্তমান পুনঃনির্মাণ কাজের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ সড়কটির মূল ফাউন্ডেশনই দুর্বল, ফলে শুধু ওপরের অংশ সংস্কার করলেও তা দীর্ঘমেয়াদে টিকবে না। অল্প সময়ের মধ্যেই আবার ভাঙন ও ক্ষয়ের ঝুঁকি থেকে যায়, এবং ভবিষ্যতে পুনরায় সংস্কার ও অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রয়োজন হতে পারে।

 

 

এ বিষয়ে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা ইমরান হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি একটি মিটিংয়ে আছেন বলে কল কেটে দেন। পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

 

 

দুদকের ভূমিকাও তাই নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ২০০৮ সালে যে অভিযোগের ভিত্তিতে ১৫টি মামলা হয়েছিল,সেই অভিযোগ কি সম্পূর্ণ ভুল ছিল? যদি ভুল হয়ে থাকে, তাহলে মামলাগুলোর ভিত্তি কী ছিল? অভিযুক্ত ব্যক্তি ট্রুথ কমিশনে অর্থ জমা দিলেন কেন? ২০১২ সালের তদন্ত প্রতিবেদন কেন গুরুত্ব পেল না? সওজকে বাদ দিয়ে অন্য সংস্থাকে দিয়ে পুনঃপরিমাপ কেন করানো হলো? আর ১৮ বছর পর সংগৃহীত পরিমাপ কি ২০০৫ সালের বাস্তবতা নির্ধারণের জন্য যথেষ্ট?

 

 

এদিকে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম দফায় সরেজমিনে অক্সিজেন -কুয়াইশ সড়কের সংস্কারকাজ পরিদর্শনে যান চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. বেলায়েত হোসেন। এ সময় তিনি প্রকল্প এলাকার চলমান কাজের অগ্রগতি, গুণগত মান এবং বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো ঘুরে দেখেন।

 

 

সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, পরিদর্শনকালে আমি দেখেছি অবৈধভাবে নালা দখল করা হয়েছে, ফুটপাতে ঢালাই দেওয়া হয়েছে এবং ময়লা আবর্জনা ফেলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এতে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং বৃষ্টির পানি দীর্ঘ সময় জমে থেকে সড়কের ক্ষতি করছে। এ ধরনের অবস্থা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

 

 

অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কের বর্তমান দুর্দশা তাই কেবল একটি ভাঙাচোরা রাস্তার গল্প নয়। এটি রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি, উন্নয়ন প্রকল্পের সুশাসন, তদন্তের স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে এক গভীর প্রশ্নের নাম। অতীতের অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত, বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর স্বচ্ছ ব্যাখ্যা এবং দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে শত শত কোটি টাকা ব্যয় করে নতুন সড়ক নির্মাণ করলেও সমস্যার মূল কারণ অমীমাংসিতই থেকে যাবে।

 

 

নোয়াখালীতে মাদক ব্যবসার অভিযোগে গাঁজাসহ এক বৃদ্ধ আটক

নোয়াখালী পৌরসভার কালিতারা জালিয়াল এলাকায় সোমবার (২২ জুন) গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে গাঁজাসহ মো. শহীদ উল্লা (৫২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, সুধারাম মডেল থানাধীন কালিতারা জালিয়াল এলাকার আব্দুল হক বেপারী বাড়ির বাসিন্দা মো. শহীদ উল্লার (৫২) নিজ দখলীয় বসতঘরে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ২ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা, নগদ ১৭ হাজার টাকা, একটি ওজন পরিমাপক যন্ত্র ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মো. শহীদ উল্লা (৫২) মৃত সেকান্দর মিয়ার ছেলে। তিনি নোয়াখালী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কালিতারা জালিয়াল এলাকার বাসিন্দা।
প্রাথমিকভাবে জানা যায়, শহীদ উল্লা কালিতারা এলাকায় গাঁজার খুচরা ব্যবসা করে আসছিলেন। বিভিন্ন মাদক স্পটে ফেরি করে গাঁজা বিক্রির অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আলামতসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(১) এর সারনির ক্রমিক নং-১৯(ক) এবং ২৬(১) ধারায় সুধারাম মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেন পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আগামী ১৫ বছরে মিসরের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াবে ইসরায়েল

ইসরায়েলের একজন প্রভাবশালী জায়নবাদী অধিকারকর্মী দাবি করেছেন, আগামী ১৫ বছরের মধ্যে মিসরের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধ হবে। তার মতে, ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের দুর্বল করার পর ভবিষ্যতে ইসরায়েলের প্রধান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে সুন্নি মুসলিম শক্তিগুলো।

 

 

জেরুজালেমে অনুষ্ঠিত জিউইশ নিউজ সিন্ডিকেট (জেএনএস) ইন্টারন্যাশনাল পলিসি সামিটে বক্তব্য দিতে গিয়ে হেরুত সেন্টারের প্রধান নির্বাহী এবং ইসরায়েলের জাতীয়তাবাদী শিবিরের অন্যতম মুখ আমিয়াদ কোহেন বলেন, মিসর ও তুরস্ক দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েল এবং পশ্চিমাদের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

 

 

তিনি বলেন, ১৫ বছর পর ইসরায়েলের সঙ্গে মিসরের যুদ্ধ হবে। মুসলিম ব্রাদারহুড একসময় মিসরের নিয়ন্ত্রণ নেবে।

ইরান ও অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্সের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আলোচনায় কোহেন বলেন, এখন শিয়া গোষ্ঠীগুলোর পরিবর্তে সুন্নি রাজনৈতিক আন্দোলনের দিকে নজর দেওয়া উচিত।

মুসলিম ব্রাদারহুডকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক নম্বর হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। তার দাবি, সংগঠনটি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। এমনকি নিউইয়র্কের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গেও তিনি মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রভাবের ইঙ্গিত দেন।

কোহেন তুরস্ককেও ভবিষ্যতের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আঙ্কারার ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক প্রভাবকে ইসরায়েলের জন্য কৌশলগত হুমকি হিসেবে দেখা উচিত।

 

 

বিশ্লেষকদের মতে, কোহেনের এই বক্তব্য ইসরায়েলের কিছু রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে ক্রমবর্ধমান সেই প্রবণতার প্রতিফলন, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রতিপক্ষ হিসেবে তুরস্ক ও মিসরকে বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

 

গত মাসে দণ্ডপ্রাপ্ত ইসরায়েলি গুপ্তচর জনাথন পোলার্ডও দাবি করেছিলেন, ইরান দুর্বল হওয়ার পর তুরস্ক ও মিসর ইসরায়েলের পরবর্তী নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জে পরিণত হতে পারে। তার তথ্য অনুযায়ী, আঙ্কারা ধীরে ধীরে তেহরানের জায়গা নিচ্ছে।

 

 

উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে মিসর ও ইসরায়েলের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা বজায় রয়েছে। অন্যদিকে, গাজা, জেরুজালেমসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যুতে তুরস্ক-ইসরায়েল সম্পর্ক বারবার উত্তেজনার মুখে পড়েছে।

 

 

কোহেন বলেন,ইসরায়েলকে এমন এক ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, যেখানে প্রধান চ্যালেঞ্জ আসবে শিয়া গোষ্ঠী নয়, বরং সুন্নি রাজনৈতিক শক্তি ও আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে।

 

 

তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলকে শক্তিশালী হতে হবে, আমেরিকাকেও শক্তিশালী হতে হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমেরিকা দুর্বল।

 

 

হামের প্রকোপে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি পৌঁছাল ৬৮৬

দেশজুড়ে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১৩৫ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে।

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৫৯৩টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৩টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৬৮৬টি শিশু মারা গেছে।

এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ১২৬টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১,০০৯ জন। এসময়ে ৯৭৩টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৯৮৬টি শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৪ হাজার ৭৬৪, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ২৯৭। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৭৮ হাজার ৭১৬ রোগী, যাদের মধ্যে ৭৪ হাজার ৯৭১ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

 

 

 

নিরাপত্তা জোরদারে রাজধানীজুড়ে বিজিবি মোতায়েন

রাজধানীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে নাশকতা রুখতে বিভিন্ন স্থানে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

 

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিজিবির জনসংযোগ বিভাগ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

 

এতে বলা হয়, রাজধানীর ধানমন্ডি, শাহবাগ, আবরার ফাহাদ এভিনিউ, বাংলামোটর, কাওরান বাজার, শেরেবাংলা নগর ও মহাখালীসহ বিভিন্ন পয়েন্টে বিজিবি মোতায়েন করা হলো।

এর আগে দেশের ৫ জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়। জেলাগুলো হলো: কক্সবাজার, মাদারীপুর, শেরপুর, গাজীপুর ও মৌলভীবাজার। সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় বিজিবি সদর দফতর থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছিল।

এ ছাড়া, দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতেও প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে মোতায়েনের লক্ষ্যে বিজিবি সদস্যরা স্ট্যান্ডবাই রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে, দিবসটিতে যেকোনো নাশকতা রোধে নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী। মধ্য রাত থেকেই টহলে নামে সেনাবাহিনী। নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ, র‍্যাব।

 

 

সকাল থেকে গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সতর্ক অবস্থানে দেখা যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী। তবে সেখানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

 

 

 

অন্যদিকে, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন দলটির নেতাকর্মীরা। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিলও হয়। পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে রুহুল কবির রিজভী বলেন, পাচার করা টাকায় পতিত শক্তি দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

 

 

 

পূর্বাচলের তিনশ ফিট এলাকায় রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। এছাড়া, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের চোরাগুপ্তা মিছিল এবং জনমনে ভীতি সৃষ্টিতে চেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ভোলা, রাঙামাটিসহ বিভিন্ন জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

 

 

 

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। কেউ সরকারকে বিব্রত করতে চাইলে তাদের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।

‘আওয়ামী লীগ এমন প্রবলভাবে আছে যা আগে কখনো ছিল না’, অভিনেত্রী শাওন

কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন অভিনেত্রী ও নির্মাতা মেহের আফরোজা শাওন।

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি দাবি করেন, ‘আওয়ামী লীগ আরও প্রবলভাবে আছে।’ তার এই মন্তব্য ঘিরে নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া। রাজনৈতিক বাস্তবতা, দলের বর্তমান অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে শাওনের এমন বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। পোস্টটি প্রকাশের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

 

 

মেহের আফরোজা শাওন তার পোস্টে বলেন, “মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় বলেছিলেন ‘আওয়ামী লীগ নামে কোনো সংগঠন নেই’, কিন্তু আমি তো দেখছি আওয়ামী লীগ এমন প্রবলভাবে আছে যা আগে কখনো ছিল না! আওয়ামী লীগের ৭৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী খোদ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের চেয়ে আরো বেশি আলোচিত ও সফল করে তুলবার জন‍্য বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ।”

সালমান শাহর দেহাবশেষ উত্তোলনের নির্দেশ বহাল রাখল আদালত

চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র মৃত্যুর প্রায় ৩০ বছর পর কবর থেকে তার দেহাবশেষ উত্তোলনের আদেশ বাতিল ঘোষণা করা হলেও, পরে তা নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে দেহাবশেষ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করেন মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম।

 

 

শুনানি শেষে সকালে বিচারকের উপস্থিতিতে এক পুলিশ কর্মকর্তা আদেশ পড়ে শুনিয়ে জানান, বাদীর পক্ষের আবেদন মঞ্জুর হয়েছে। লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল করা হলো।

এই আদেশের পর গণমাধ্যমে ‘লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল হয়েছে’ শিরোনামে সংবাদ প্রচার হয়। পরবর্তীতে আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক শাহ আলম জানান, লাশ উত্তোলন আদেশ বাতিল হয়নি, বাদীপক্ষের আবেদনটি নথিভুক্ত রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবিদ হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সকালে প্রকাশ্যে আদালত সালমান শাহ’র দেহাবশেষ উত্তোলনের আদেশ বাতিল করেন। কিন্তু দুপুরে শুনছি আদেশ নাকি নথিভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি আমার বোধগম্য হচ্ছে না। বিচার বিভাগের সকল কাজ আরও স্বচ্ছতা থাকা উচিত।

তিনি আরও বলেন, প্রকাশ্য আদালতে বিচারকের সামনে আদেশ ঘোষণা করা হয়েছে। বিচারকের সামনে এমন ভুল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কীভাবে হয়েছে আমার বোধগম্য হচ্ছে না।

 

 

এদিকে, সালমান শাহার মামা ও মামলার বাদী আলমগীর কুমকুম বলেন, ‘আমি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যখন আবেদন করি তখন আদালত বলেন এক্সেপটেড (গ্রহণ)। আমি নিজের কানে শুনেছি। কিন্তু হঠাৎ করে শুনছি নথিভুক্ত হয়েছে। এটা কীভাবে সম্ভব!

 

 

এ বিষয়ে প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক শাহ আলম বলেন, ‘প্রকাশ্য আদালতে আমাদের এক পুলিশ কর্মকর্তা ভুল আদেশ ঘোষণা করেছিলেন। আসলে আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করেছেন।’

 

 

ওই আবেদনে বলা হয়, সালমান শাহকে ঢাকার শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়েছে এবং সেখানেই তার কবর রয়েছে। এ অবস্থায় দেহাবশেষ উত্তোলন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। বাদী ও নিহতের মা নীলা চৌধুরীর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়।

 

 

এর আগে, চলতি বছরের ২০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক মো. জিয়াউল মোর্শেদ আদালতে দেহাবশেষ উত্তোলন, সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের অনুমতি এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের আবেদন করেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ মে আদালত কবর থেকে দেহাবশেষ উত্তোলনের অনুমতি দেন।

 

 

গত বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। আদালত পরে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

 

 

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বাদীর বোন ও বোন জামাই গ্রিন রোডের বাসায় পৃথকভাবে বসবাস করতেন। তারা সালমানের ইস্কাটনের বাসায় যাওয়ার পর স্ত্রী সামিরা এবং কর্মচারী আবুল জানান, সালমান ঘুমাচ্ছেন। ওই সময় চলচ্চিত্র প্রযোজক সিদ্দিকও সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সালমান ঘুমাচ্ছেন শুনে তার বাবা-মা স্ত্রী সামিরাকে বলে আসেন যে, তারা সিলেটে যাওয়ার পথে সালমানের সঙ্গে দেখা করে যাবেন। এরপর তারা এবং প্রযোজক সিদ্দিক ইস্কাটনের বাসা ত্যাগ করেন।

 

 

ঘটনার দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমান শাহর বাবাকে জানান, সালমানের ‘যেন কী হয়েছে’। খবর পেয়েই তারা দ্রুত বাসায় ছুটে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান, সালমান তার শোবার ঘরে পড়ে আছেন।

 

 

অভিযোগে আরও বলা হয়, সে সময় দুই-একজন বহিরাগত নারী সালমানের হাতে-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন এবং রুবী নামে একটি মেয়ে সেখানে বসে ছিলেন।

 

 

তখন সামিরা সালমানের মাকে বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। পরে সালমানের বাবা-মা তাকে নিয়ে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে যাওয়ার পথে তার গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পা নীলবর্ণ ধারণ করতে দেখেন।

 

 

অবস্থার গুরুত্ব বুঝে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, বেশ কিছুক্ষণ আগেই সালমান শাহ মারা গেছেন।

দীর্ঘদিন কোলন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই শেষে না ফেরার দেশে জাকির হোসেন

দীর্ঘদিন কোলন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই শেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন অভিনেতা ও নৃত্য পরিচালক জাকির হোসেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫০ বছর। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে রাজধানীর মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যুতে চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। রেখে গেছেন স্ত্রী ও পাঁচ বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান।

 

 

 

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। চিকিৎসার অংশ হিসেবে তিনি ভারতের ব্যাঙ্গালুরু থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত শনিবার (২০ জুন) মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

 

 

 

দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্রে নৃত্য পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন জাকির হোসেন। তিনি এক সময় বহু চলচ্চিত্রে নৃত্য নির্দেশনা দিয়ে দর্শকদের নজর কাড়েন; পাশাপাশি অভিনয়েও তার উপস্থিতি ছিল। এছাড়া চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিতে তিনি ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন।

ক্যালকুলেটরে ঘুষের হিসাব: অভিযুক্ত কর্মকর্তা প্রত্যাহার

ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে ভিডিও ভাইরাল এবং দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে পঞ্চগড়ের বাবুল চন্দ্র রায়কে বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ত্রাণ প্রশাসন শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে দেবীগঞ্জ উপজেলা থেকে প্রত্যাহার করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

 

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ২৪ জুনের মধ্যে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে ওইদিন অপরাহ্ণ থেকে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজড) হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কারণ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়নি।

এর আগে, সোমবার বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে বাবুল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দের বিপরীতে ১৫ শতাংশ কমিশন বা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ সংবলিত সংবাদ প্রকাশিত হয়।

অভিযোগের সূত্রে পাওয়া প্রায় ৪ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে বাবুল চন্দ্র রায়কে বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দের বিপরীতে কমিশনের পরিমাণ নির্ধারণ করতে দেখা যায়। ভিডিওতে তিনি ক্যালকুলেটরের মাধ্যমে হিসাব করে একাধিক প্রকল্পের বিপরীতে কমিশনের অঙ্ক নির্ধারণ করছেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথোপকথন করছেন বলে দেখা গেছে।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। স্থানীয় জনসাধারণ, রাজনৈতিক মহল এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি ওঠে।

 

 

এদিকে, পিআইও বাবুল চন্দ্র রায়ের প্রত্যাহারের আদেশকে ঘিরে এলাকায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

সুইস রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে জামায়াত আমিরের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত মি. রেতো রেংগলি।

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এসব তথ্য জানানো হয়।

 

 

বৈঠকে বাংলাদেশে নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই বাংলাদেশে সুইস বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং ভবিষ্যতেও সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে মত দেন।

আলোচনায় রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট, মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার, বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের গঠনমূলক ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও মতবিনিময় হয়।

বৈঠকে ডা. শফিকুর রহমান রাষ্ট্রদূতকে তার সক্রিয় ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তিনি গ্রীন এনার্জি, বিনিয়োগ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুইজারল্যান্ডকে আরও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

এ সময় বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন।

 

 

রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের হেড অব পলিটিক্যাল ইকোনমিক এবং কমিউনিকেশন অ্যাফেয়ার্স মি. আলবের্তো জিওভানেত্তি এবং সিনিয়র পলিটিক্যাল, ইকোনমিক এবং প্রেস অফিসার মি. খালেদ চৌধুরী।

রায়গঞ্জে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি ও সেলাই মেশিন বিতরণ

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বাস্তবায়নাধীন “বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা” কর্মসূচির আওতায় সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি, বাইসাইকেল এবং উপকারভোগীদের মাঝে সেলাই মেশিন ও বসতঘর বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল খালেক পাটোয়ারী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষা সম্প্রসারণ ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তিনি শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রদত্ত সহায়তা সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেদের স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার অসহায় ও হতদরিদ্র ৮টি পরিবারের মাঝে বসতঘর প্রদান করা হয়। পাশাপাশি তরুণী ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ২৮টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। এছাড়া ২৭৪ জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত শিক্ষার্থীর মাঝে এককালীন শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়। শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সুবিধার জন্য বাইসাইকেলও বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে নির্বাচিত উপকারভোগীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষাবৃত্তির চেক, সেলাই মেশিন ও অন্যান্য সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে হত্যা, মৃত্যুর পরও মুক্তিপণ দাবি

সাইপ্রাসে লেখাপড়া করতে গিয়ে হত্যার শিকার হন রায়পুরার যুবক শাহরিয়ার আহমেদ ওরফে ইমন। তাকে হত্যার পর লাশ গুম করার চেষ্টা করে অপহরণকারী। দীর্ঘ দশ দিন পর এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে শাহীন বাবু (২২) নামে এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে সাইপ্রাস পুলিশ।

 

 

তার দেওয়া তথ্যেই ওখানকার একটি জঙ্গলের ভেতর পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা শাহরিয়ারের লাশ ও হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

 

 

নিহত শাহরিয়ার আহমেদ (২২) নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার উত্তরবাখরনগর ইউনিয়নের লোচনপুর গ্রামের গ্রিসপ্রবাসী নাসির মিয়ার ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে শাহরিয়ার সবার বড়। তিন মাস আগে শিক্ষার্থী ভিসায় ভূমধ্যসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসে যান তিনি। সাইপ্রাসের লারনাকার ওরোক্লিনি এলাকায় তিনি বসবাস করতেন। সেখানে তার রুমমেট ছিল তার গ্রামের প্রতিবেশী রায়হান।

শাহরিয়ারের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গত ঈদুল ফিতরের কয়েক দিন পূর্বে শাহরিয়ার শিক্ষার্থী ভিসায় সাইপ্রাসে যান। বিদেশে যাওয়ার আগেই অনলাইনে সেখানকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখানে যাওয়ার পর তার খরচ হিসেবে প্রতি মাসে ৫০/৬০ হাজার টাকা পাঠাতে হতো। পরিবারের ওপর চাপ কমাতেই শাহরিয়ার কাজের সন্ধান করতে থাকে। একপর্যায়ে কাজের সন্ধান পান।

গত ১১ জুন বিকেলে তার মায়ের সঙ্গে কথা বলে শাহরিয়ার জানান, কাজের ব্যবস্থা হয়েছে। আজ রাত থেকে ডিউটি শুরু। দোয়া কইরো। কাজ পাওয়ার কথাটি প্রবাসী বাবা ও তার রুমমেট রায়হান মিয়াকে জানান।

রায়হান তাকে বলেছিলেন, ‘সেখানে গিয়ে লোকেশন পাঠাস।’ কোনো প্রয়োজন হলে যেন যোগাযোগ করা যায় সহজে। পরে স্থানীয় সময় রাত ৯টায় কাজের স্থানে পৌঁছে রায়হানের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে লোকেশন পাঠান শাহরিয়ার। কিছুক্ষণ পর রায়হান ফিরতি মেসেজে ‘ওকে’ লিখলেও তা আর সিন করেনি শাহরিয়ার। কিন্তু রাত ১০টার দিকে শাহরিয়ারের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকেই বাবা নাসির মিয়ার কাছে একটি ম্যাসেজ পাঠানো হয়। তাতে লেখা ছিল, ‘আপনার ছেলেকে কিডন্যাপ করেছি। ছেলেকে ফিরে পেতে চাইলে ৩৫ হাজার ইউরো দিতে হবে (যা বাংলা টাকায় ৫০ লাখ)। যদি দেন ছেলেকে ফিরে পাবেন, না দিলে তার চোখ ও কিডনি খুলে বিক্রি করে দেব।’

 

 

রাতেই বাবা পরিবারের সদস্যদের ঘটনাটি জানান। তবে সবাই ভেবে ছিল, হয়তো শাহরিয়ারের হোয়াটসঅ্যাপ আইডিটি ‘হ্যাকড’ হয়েছে। পরদিন ১২ জুন সকালে কাজ থেকে আর ফিরে আসেননি শাহরিয়ার। এরপরই রায়হান ওখানকার স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে গিয়ে রিপোর্ট করেন। পরে পুলিশের সাথে ওই লোকেশনে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ২৪ ঘণ্টা অনলাইনে সচল ছিল শাহরিয়ারের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর। প্রতিদিনই পরিবারের কাছে মুক্তিপণের টাকা চাওয়া হচ্ছিল।

 

 

শাহরিয়ারের ভাই নয়ন আহমেদ জানান, শাহরিয়ারের কোনো খোঁজ না পেয়ে একপর্যায়ে আমরা মুক্তিপণের টাকা পাঠাতে রাজি হই এবং অপহরণকারীদের সঙ্গে দর-কষাকষির মাধ্যমে বাংলাদেশি টাকায় পাঁচ লাখে চুক্তি হয়। পরে রোববার (২১ জুন) দুপুরে চুক্তি অনুযায়ী টাকা পাঠাতে ব্যাংকে যাই। ওখানে গিয়ে ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে টাকা পাঠাবার সিদ্ধান্ত নেই এবং অপহরণকারীর কাছে থাকা আমার ভাইয়ের মোবাইল ফোন দিয়ে ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলতে চাই।

 

 

কিন্তু অপহরণকারীদের কথাবার্তায় সন্দেহ হলে টাকা না দিয়ে বাড়ি ফিরি। একপর্যায়ে দেখি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরটি অফলাইনে চলে যায়। ওই দিন রাতেই জানতে পারি সাইপ্রাস পুলিশ শাহীন বাবু নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওখানকার একটি জঙ্গল থেকে পাতা দিয়ে ঢাকা আমার ভাইয়ের লাশ উদ্ধার করে। তবে গ্রেপ্তার ওই তরুণ শাহীন বাবুর বাড়ি বাংলাদেশের কোন এলাকায়, তা নিশ্চিত করেনি পুলিশ।

 

 

রায়পুরার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা বলেন, সাইপ্রাসে এক শিক্ষার্থী অপহরণের পর হত্যার শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় এক বাংলাদেশিকে ওখানকার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে শুনেছি। তবে বিষয়টি সাইপ্রাসের দূতাবাস থেকে এ পর্যন্ত আমাদের অফিশিয়ালি জানানো হয়নি। নিহত তরুণের পরিবারের পক্ষ থেকেও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। তারা যদি সহযোগিতা চায়, মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

আলোচিত ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ এখন সাভারে

মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানা থেকে অবশেষে সাভারে ঠাঁই হয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজর কাড়া সেই আলোচিত মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। তবে কোনো প্রদর্শনী নয়, এবার তাকে আনা হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন উদ্দেশে, উন্নত গবেষণার জন্য।

 

 

 

বর্তমানে সাভারের বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) কড়া নজরদারিতে বিশেষ কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে বিরল ‘অ্যালবিনো’ জাতের এই মহিষটিকে।

 

 

 

বিএলআরআই সূত্রে জানা গেছে, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশনায় রোববার জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে মহিষটিকে তাদের কাছে হস্তান্তর করে। ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-এর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও ভবিষ্যতের জিনগত গবেষণার জন্য ইতোমধ্যে বিএলআরআই কর্তৃপক্ষ একটি উচ্চপর্যায়ের দল গঠন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মহিষ উৎপাদন গবেষণা বিভাগের প্রধান ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. গৌতম কুমার দেবকে প্রধান করে ১৩ সদস্যের এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মহিষ উৎপাদন গবেষণা বিভাগের প্রধান ড. গৌতম কুমার দেব জানান, যেহেতু মহিষটি দীর্ঘদিন চিড়িয়াখানার মতো জনাকীর্ণ পরিবেশে ছিল, তাই সুরক্ষার স্বার্থে তাকে আগামী ১৪ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত সম্পূর্ণ কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। এই সময়ে মহিষটি কোনো ধরনের সংক্রামক রোগে আক্রান্ত কি না, তা নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হবে এবং তাকে রোগমুক্ত রাখার বিষয়টিতেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোয়ারেন্টাইন পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর এর শারীরিক সক্ষমতা বিবেচনা করে গবেষণার মূল কাজ শুরু হবে।

বিচিত্র এই মহিষটির আলোচনায় আসার গল্পটা বেশ চমকপ্রদ। গত কোরবানির ঈদের আগে নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ার ‘রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে’ লালন-পালন করা হচ্ছিল মহিষটিকে। খামারের মালিক জিয়া উদ্দিন মৃধার ভাই মহিষটির মাথার ‘অসাধারণ ও অদ্ভুত স্টাইলের চুল’ দেখে রসিকতা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে এর নামকরণ করেন।

সাদাটে অবয়ব আর ট্রাম্পের মতো চুলের সেই ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাতারাতি তা ভাইরাল হয়ে যায়। দেশীয় গণমাধ্যম ছাড়িয়ে বিবিসি, সিএনএনের মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও স্থান করে নেয় নারায়ণগঞ্জের এই ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।

 

 

 

ঈদের ঠিক আগে নারায়ণগঞ্জ থেকে মহিষটিকে কিনে নেন কেরানীগঞ্জের জিনজিরার বাসিন্দা মনিরুজ্জামান। গত ২৫ মে বিকেলে মহিষটিকে কেরানীগঞ্জে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। কিন্তু এই সেলিব্রেটি মহিষকে দেখতে মনিরুজ্জামানের বাড়িতে উৎসুক মানুষের উপচে পড়া ভিড় তৈরি হয়।

 

 

পরে ঈদের আগের দিন (বুধবার) বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ হস্তক্ষেপে পুলিশ প্রশাসন মহিষটিকে উদ্ধার করে প্রথমে কেরানীগঞ্জ থানায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে সাধারণের প্রদর্শন ও নিরাপত্তার স্বার্থে সেটিকে পাঠানো হয়েছিল মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায়। এবার চিড়িয়াখানার পাঠ চুকিয়ে বিজ্ঞানের নতুন গবেষণার অংশ হতে সাভারের বিএলআরআই-এ ঠাঁই হলো আলোচিত এই মহিষের।

এখনই সাংবাদিক পেটাচ্ছে, ক্ষমতায় গেলে খুন করবে : শান্তা ফারজানা

নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা বলেছেন, জামায়াত-এনসিপি ১১ দলীয় স্বাধীনতা বিরোধী জোট কেবল বিরোধী দল হতেই এখনই সাংবাদিক পেটাচ্ছে, ক্ষমতায় গেলে খুন করবে-গুম করবে; কথা বলার অধিকার কেড়ে নেবে। এদেরকে এখনই থামান; তা না হলে ধর্মের দোহাই দিয়ে ইসলামের ক্ষতি, দেশের ক্ষতি, শিক্ষার ক্ষতি, সমাজের ক্ষতি, সভ্যতার ক্ষতি তারা করবেই। কারণ, তাদের রাজনীতির লক্ষ্য ক্ষমতা, ধর্ম-মানবতা-শিক্ষা-সমাজ বা সভ্যতা নয়।
রাজধানীতে সাংবাদিককে হত্যার উদ্যেশ্যে হামলার প্রতিবাদে ২৩ জুন নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির কার্যলয়ে এক তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সভায় তিনি উপরোক্ত কথা বলেন। এসময় তিনি আরো বলেন,  এ সরকারের চোখে কাঠের চশমা পরিয়ে এনসিপি-জামায়াতসহ ১১ দলীয় স্বাধীনতা বিরোধী জোট দ্রব্যমূল্য বাড়াতে সিন্ডিকেটকে সহায়তা করছে, দুর্নীতিকে ধর্মের আড়ালে পৃষ্টপোষকতা করছে, ক্ষমতায় আসতে এয়ানতের নামে মানুষের রক্ত পানি করা টাকা উঠিয়ে নিচ্ছে, ছাত্র-যুবদেরকে ব্যবহার করে মব-হানাহানি-খুনাখুনি-ধর্ষণকে উসকে দিচ্ছে। যে কারণে বৈষম্য দূর করার কথা বলে বিরোধী দল হয়ে এখন বৈষম্য দূর করার খবর নাই, দ্রব্যমূল্য কমানোর খবর নাই, দুর্নীতি থামানোর খবর নাই, খুন-ধর্ষণ থামানোর খবর নাই, তাদের কেবল জুলাই চাই, সুরক্ষা চাই; এই সব হয়েনাদেরকে দেশের মানুষ সহিংসতা বন্ধ না করলে কঠোরভাবে প্রতিহত করতে তৈরি হচ্ছে।

সভায় প্রেসিডিয়াম মেম্বার বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাড. হামিদুজ্জামান, জাতীয় শ্রমিকধারার আহবায়ক বাবুল মিয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। নেতৃবৃন্দ এসময় আরো বলেন, জনগণ আওয়ামী লীগ বোঝে না, বিএনপি বোঝে না, নতুনধারা বোঝে না। বোঝে কেবল লোভ মোহহীন-দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে এমপি হওয়ার পর প্রতারণার মধ্য দিয়ে জনগণকে বোকা বানানোর খেসারত দিতে হবে। আর এ কারণেই সারাদেশে সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য। সভাপতিত্ব করেন নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির চেয়ারম্যান কলামিস্ট মোমিন মেহেদী।

ভাত না খেয়েই ১৩ বছর!  সিংড়ার স্কুল শিক্ষার্থী পারভেজের বিষ্ময়কর জীবন

​সাধারণ বাঙালি পরিবারের প্রধান খাদ্য ভাত ও মাছ। মাছ-ভাতে বাঙালি হিসেবে পরিচিত এই সমাজে ভাত ছাড়া একদিন চলাই যেখানে দুষ্কর, সেখানে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে ভাতের একটি দানাও মুখে তোলেনি নাটোরের সিংড়া উপজেলার পারভেজ নামের ৯ম শ্রেণির এক স্কুল শিক্ষার্থী।

পারভেজ উপজেলার ২নং ডাহিয়া ইউনিয়নের বেড়াবাড়ি গ্রামের কৃষক বুদ্দু মোল্লার ছেলে এবং বিয়াশ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্র।
ভাত না খেলেও পুরোপুরি সুস্থ-সবল ও চঞ্চল স্বভাবের পারভেজ প্রতিদিন নিয়ম করে স্কুলে যাচ্ছে, বাবার সাথে সংসারের কাজে সহযোগিতা করছে  স্বাভাবিক অন্য ছেলের মতোই।

​পারভেজের  পরিবার সূত্রে জানা যায়,  জন্মের পর মায়ের বুকের দুধ ছাড়া অন্য কোনো খাবারে তার তেমন রুচি ছিল না। সাধারণত শিশুরা ৬-৭ মাস বয়স থেকে ভাত বা খিচুড়িতে অভ্যস্ত হয়ে উঠলেও পারভেজ তা করেনি।  বয়স যখন ১ বছর, তখন থেকেই ভাতের প্রতি তার তীব্র অনীহা তৈরি হয়। জোর করে মুখে ভাত দিলে সে বমি করে দিত।  বিষয়টি বেশি পরিস্কার হয় তার ‘ভাত খাওয়ার’ অনুষ্ঠানে।

​পারভেজের মা পারুল বেগম জানান, ​”শুরুর দিকে আমরা খুব চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। জোর করে খাওয়াতে গেলে ও কেঁদে বুক ভাসাতো, বমি করতো। ডাক্তার, কবিরাজ দেখিয়েছি কোনো লাভ হয়নি। এক পর্যায়ে আমরাও হাল ছেড়ে দিয়েছি । এখন সে ভাতের গন্ধ কোন ভাবেই  সহ্য করতে পারে না।”  আমাদের আরো দুটো সন্তান আছে তারা স্বাভাবিক খাবার খায়।

বাবা বুদ্দু মোল্লা জানান, আমরা যখন ভাত খাই তখন সে মুড়ি,  কখনো সবজি, সুজি,  আবার কখনো ফলমুল ,ও দুধ খেয়ে ক্ষুদা নিবারন করে । আমাদের সাথে ভাত খেতে বসে না।  সকালে মুড়ি, দুপুরে সবজি দিয়ে রুটি খায়। রাতের বেলায়  মুড়ি খেয়ে থাকে।  এসব খাবার না থাকলে না খেয়ে থাকে। বিয়ে বাড়ি বা কোন দাওয়াতি অনুষ্ঠানে  গেলে ভাত না খেয়ে শুধু  মাছ মাংস ও সবজি খায়।  ছেলেটাকে নিয়ে খুব বিপদে আছি।

বিয়াশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জামাল উদ্দিন জানান,  পারভেজ পড়া লেখা ও খেলাধুলায় সব দিক দিয়েই ভালো। ভাত না খাওয়ার বিষয়টি আমরা জানতাম না। নিয়মিত স্কুল করে এবং  শিক্ষক ও সহপাঠীদের সাথে তার সম্পর্কও  ভালো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মুজাহিদুল ইসলাম খোকন জানান, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে এক ধরনের  ‘ফুড ফোবিয়া (Food phobia) বা কোনো নির্দিষ্ট খাবারের প্রতি তীব্র মানসিক অনীহা বলা যেতে পারে। তিনি আরো জানান, ‘​মানুষের বেঁচে থাকার জন্য কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ভিটামিনের প্রয়োজন। বাঁধন যেহেতু দুধ, সুজি এবং ফলমূল নিয়মিত খাচ্ছে, তাই সেটির মাধ্যমেই তার শরীর প্রয়োজনীয় ক্যালোরি ও পুষ্টি পেয়ে যাচ্ছে।

​তবে দীর্ঘ মেয়াদে শরীরে কোনো জটিলতা তৈরি হচ্ছে কিনা, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত বলে তিনি জানান।

সালমান শাহর মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশনা বাতিল করল আদালত

মৃত্যুর প্রায় ৩০ বছর পর ‘খুনের রহস্য’ উদঘাটনে চিত্রনায়ক সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের আদেশ বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

 

 

বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত এ আদেশ দেন।

 

 

 

আবেদনে বলা হয়, সালমান শাহকে ঢাকার শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়েছে এবং সেখানেই তার কবর রয়েছে। এ অবস্থায় দেহাবশেষ উত্তোলন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। বাদী ও নিহতের মা নীলা চৌধুরীর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়।

এর আগে চলতি বছরের ২০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক মো. জিয়াউল মোর্শেদ আদালতে দেহাবশেষ উত্তোলন, সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের অনুমতি এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের আবেদন করেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ মে আদালত কবর থেকে দেহাবশেষ উত্তোলনের অনুমতি দেন। তবে বিষয়টি জানাজানি হয় ১০ জুন।

 

গত বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। আদালত পরে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

 

৬৭৬ শিক্ষকের মধ্যে ৬৬২ জনই অবৈধ, চাঞ্চল্যকর তথ্য

রাজধানীর মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে পূর্বের এডহক কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি গঠন প্রবিধানমালা অনুযায়ী আট সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটি গঠন করা হয়।

 

 

 

একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন মেনে শিগগিরই এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঁচ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আজকালের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হবে বলে জানা গেছে।

 

 

 

কমিটিতে সভাপতি হিসেবে রয়েছেন ম. হামিদুল হক মানিক। তিনি এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন— শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক ৩), মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমিক শাখার পরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকার বিদ্যালয় শাখার পরিদর্শক, শিক্ষক প্রতিনিধি শামীমা আহমেদ, অভিভাবক প্রতিনিধি শাকিল মোল্লা এবং প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম।

জানা গেছে, মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে শিগগিরই শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাকে অধ্যক্ষ হিসেবে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হবে। এছাড়া শাখা প্রধান হিসেবে আর চার শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা প্রেষণে নিয়োগ পাবেন। এ সংক্রান্ত ফাইল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ভয়াবহ অনিয়ম ও দূর্নীতির খবর উঠে আসে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বলা হয়, শিক্ষার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে এ প্রতিষ্ঠানটি। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, লুটপাট, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সীমাহীন অর্থবাণিজ্য চলেছে এখানে। প্রতিষ্ঠানটিতে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির ক্ষেত্রেও কোন সীমা ছিল না, ছিল শিক্ষার্থী বাণিজ্য। গত ১৫ বছরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে নামে-বেনামে ৬০০ কোটি টাকার বেশি লোপাট করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যে ৬৭৬ শিক্ষকের মধ্যে ৬৬২ জনই অবৈধ।

সুত্র: দৈনিক কালবেলা

 

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে বরিশালে নিরাপত্তা জোরদার

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে নাশকতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে বরিশালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল থেকে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন এলাকাজুড়ে এ চিত্র দেখা গেছে।

 

 

 

পুলিশ জানিয়েছে, কোতোয়ালি থানাধীন পাঁচটি স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে, ২০টির মতো মোবাইল টিম কাজ করছে। সিভিল ও সাদা পোশাকে ডিবি পুলিশ সদস্যরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। কোনো দুষ্কৃতিকারী বরিশাল শহরকে যেন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে সে লক্ষ্যে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

 

 

কোতোয়ালি মডেল থানার কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, কেউ যদি সুযোগ নিতে চায় তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে পুলিশের নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তাদের আটক করা হচ্ছে একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

 

 

এদিকে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন সড়কে মহড়া দিয়েছে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

 

 

সকাল থেকে নগরী সদর রোডে বিএনপির দলীয় কার্যালয়সহ বিভিন্ন সড়কে মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া দেন দলের নেতাকর্মীরা। নিষিদ্ধ সংগঠনের সব ধরনের অপতৎপরতা প্রতিরোধে বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার।

 

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে টুঙ্গিপাড়ায় কড়া নিরাপত্তা

কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী। শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি এলাকা, পাটগাতী বাসস্ট্যান্ডসহ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুর পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসহ আশপাশের এলাকায় সাঁজোয়া যানসহ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একইসঙ্গে সেনাবাহিনী ও আনসার সদস্যদের টহল জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সরকারি স্থাপনা ও জনসমাগমস্থলেও নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা।

 

 

 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা যেকোনো কর্মসূচির মাধ্যমে এলাকায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। এমন সম্ভাবনা এড়াতে গতকাল সোমবার (২২ জুন) রাত থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গত রাতে জেলার কাশিয়ানী ও মুকসুদপুর উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর আশঙ্কার অভিযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আইয়ুব আলী এসব তথ্য জানানোর পাশাপাশি বলেন, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত উপজেলার সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে অন্যান্য দিনের তুলনায় রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতি কিছুটা কম দেখা গেছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবাইকে আইন মেনে চলার পাশাপাশি গুজব ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে বলেও ওসি উল্লেখ করেন।

 

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে কি না, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের

কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

 

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

 

 

বিস্তারিত আসছে…

 

রায়গঞ্জে ছাত্রলীগ নেতা জুবায়ের গ্রেপ্তার, আদালতে প্রেরণ

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মো. জুবায়ের আহমেদ নয়ন (২৭)কে গ্রেপ্তার করেছে রায়গঞ্জ থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (২৩ জুন) নিয়মিত একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া জুবায়ের আহমেদ নয়ন উপজেলার জয়েনপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মো. নাজিম উদ্দিনের ছেলে এবং রায়গঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচিত।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রায়গঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে নিয়মিত মামলার চালান অনুযায়ী তাকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান বলেন, “নিয়মিত মামলার আসামি হিসেবে মো. জুবায়ের আহমেদ নয়নকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
পুলিশ জানায়, মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

মাদ্রাসা সংস্কারের টাকা আত্মসাতের গুজব ছড়িয়ে ইউএনও অফিস কর্মকর্তাকে ফাঁসানোর অভিযোগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে পিআইসি কমিটির সভাপতির বরাত দিয়ে মাদ্রাসার সংস্কারের টাকা আত্মসাতের মিথ্যা গুজব প্রচার করে ইউএনও অফিসের উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তা কে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে একটি চিহ্নিত সিন্ডিকেট।
তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, উপজেলার ফতেপুর ইউপির আলীশাপুর দাখিল মাদ্রাসার ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত টিনের চালা মেরামতের জন্য উপজেলা পরিষদের রাজস্ব খাত থেকে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ২লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। পিআইসি কমিটির মাধ্যমে বরাদ্দের ওই প্রকল্পটি নাচোল এলজিইডি অফিসের উপসহকারি প্রকৌশলী ফাহাদ আলী কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করেন। পিআইসি কমিটির সভাপতি ফতেহপুর ইউপির ১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য ইসমোতারার তত্বাবধানে বরাদ্দের ২ লাখ টাকার ১৫% ভ্যাট ও আইটি কর্তনের পর ১লাখ ৭০হাজার টাকা খরচ করে টিনের চালা পূণঃনির্মান কাজ সম্পন্ন হয়। কাজ সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হয়েছে মর্মে ওই মাদ্রাসার সুপার মাওলানা রবিউল ইসলাম যথারীতি প্রত্যায়ন প্রদান করেন। কিন্তু হঠাৎ করে প্রকল্পের সভাপতি ইসমোতারা, মাদ্রাসার সুপার মাওলানা রবিউল ইসলাম ও উপসহকারী প্রকৌশলীর মধ্যে একে অপরকে দোষারোপ করতে শুরু করেন। ওই ইউপি সদস্য(প্রকল্প সভাপতি) ইসমোতারা প্রকল্পের কাজ সুষ্ঠভাবে হয়নি বলে এবং তিনি এ বিষয়ে অবহিত না বলে তাকে না জানিয়ে সভাপতি করা হয়েছে বলে প্রচার মাধ্যমে স্বাক্ষাতকার প্রদান করেছেন। ওই স্বাক্ষাতকারে উপজেলা নির্বাহী অফিসের কোন কর্মকর্তাকে দোষারোপ করেননি। কিন্তু জনৈক সাংবাদিক দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে উদ্যেশ্য মূলকভাবে ইউএনও অফিসের উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তা রবিউল ইসলামকে দোষারোপ করে তাঁর নাম প্রচার করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী(এলজিইডি) সাদেকুল ইসলাম জানান, বরাদ্দের ২লাখ টাকার ১৫% ভ্যাট ও আইটি বাদে বাকি ১ লাখ ৭০  টাকায় প্রকল্পের কাজ সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রকল্প সভাপতির অস্বিকার করার কোন অপশন নেই। তিনি প্রকল্পের বিল-ভাউচার, এগ্রিমেন্টসহ সমস্ত কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। এমনকি ওই মাদ্রাসার সুপার রবিউল ইসলাম টিনের চালার কাজ সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হয়েছে মর্মে লিখিত প্রত্যায়ন দিয়েছেন। এলজিইডি দপ্তরের দায়িত্বপ্ত উপসহকারি প্রকৌশলী জানান, সুষ্ঠভাবে কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রকল্প সভাপতি মোসাঃ ইসমোতারা প্রকল্পের ফাইলে স্বাক্ষর ও মাদ্রাসার সুপার মাওলানা রবিউল ইসলাম প্রত্যয়ন প্রদান করেছেন। এদিকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কোন অভিযোগ না থাকলেও পিআইসি কমিটির সভাপতির মিথ্যা অভিযোগ পুঁজি করে একটি মহল উপজেলা নির্বাহী অফিসের উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তাকে দোষারোপ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। ইউএনও অফিসের উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, তিনি শুধু প্রকল্পের চেকটি রেজিস্টারে এন্ট্রি করে ফাইলনোট লিখে ইউএন’র নিকট উপস্থাপন করেছিলেন। টাকা-পয়সা লেনদেনের অভিযোগটি মিথ্যা ও বানোয়াট। এদিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা জাহিদ হাসান গত ২৭ এপ্রিল অভিযোগটি তদন্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের দপ্তরে জমা দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোঃ মুসা জঙ্গি বলেন, তদন্ত প্রতিনেদন পেয়েছি। পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে নাচোল উপজেলায় সাংবাদিকতার আড়ালে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মনগড়া ও মিথ্যা অভিযোগ প্রচার করায় নাচোল উপজেলা প্রশাসনে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে জোরদার সেনা টহল

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের ছয়টি জেলায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সেনাবাহিনীর টহল কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।

 

 

 

সোমবার (২২ জুন) সোমবার মুঠোফোনে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রায়হান কবির জানান, নারায়ণগঞ্জে দায়িত্ব পালনকারী সেনাবাহিনীর টিম ঢাকার পোস্তগোলা ক্যান্টনমেন্ট থেকে পরিচালিত হবে।

 

 

 

তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। পোস্তগোলা ক্যান্টনমেন্ট থেকেই নারায়ণগঞ্জে টহল ও পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, সেনাবাহিনী নারায়ণগঞ্জে কখন এবং কোন এলাকায় টহল কার্যক্রম পরিচালনা করবে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানবেন। পরবর্তীতে বিষয়টি গণমাধ্যমকেও অবহিত করা হবে।

 

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

 

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে হামলার শিকার সাংবাদিকরা

রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে দৈনিক কালবেলার মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

 

 

 

ভুক্তভোগীরা জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ধানমন্ডি জোনের উদ্যোগে আওয়ামী লীগ বিরোধী একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল পরবর্তী ব্রিফিংয়ের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালান জামায়াতের নেতাকর্মীরা। তাদের হামলায় দৈনিক সকালের মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান শিশির গুরুতর আহত হন।

 

 

 

এছাড়া কালবেলার সংবাদকর্মী আব্দুর রহমান ইশান ও যমুনা টিভির রিপোর্টার রাব্বী সিদ্দিকীও হামলার শিকার হন।

ভুক্তভোগীরা জানান, জামায়াতের নেতাকর্মীরা অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে অন্তত ২০-২৫ জনকে রাস্তায় ফেলে মারধর করেছে। তাদের হামলায় মাহফুজুর রহমান শিশির রক্তাক্ত জখম হয়েছেন। আব্দুর রহমান ইশানকে কিল-ঘুষি মারা হয়েছে। সাংবাদিকদের মারধরের সময় পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে শিশিরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

তারা অভিযোগ করেন, সাংবাদিকদের মারধর করা হলেও পুলিশ সদস্যরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঘটনা দেখছিলেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে মবকারীদের নিবৃত্ত করার অনুরোধ করা হলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়া ঘটনাস্থলে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।

 

 

এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও পুলিশ সদস্যরা কথা বলতে চাননি।

 

 

 

জানা গেছে, মিছিল শেষে জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিফ্রিং চলাকালীন সাংবাদিকদের সঙ্গে ‘কথা কাটাকাটি’ হয়। কয়েকজন সাংবাদিককে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ ও ‘ভারতীয় দালাল’ আখ্যা দিলে তারা প্রতিবাদ করেন। এ সময় মিছিলকারীরা উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেন।

 

 

 

জামায়াতের এ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান, মুজাহিদুল ইসলাম শাহিনসহ বহু নেতাকর্মী-সমর্থক।

 

 

 

এ বিষয়ে ধানমন্ডি থানা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য মুজিবুর রহমান খানের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, বহিরাগত কেউ তাদের কর্মসূচিতে ঢুকে এমন কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে।

 

আজ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরোনো ঢাকার কে এম দাস লেনের ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেনে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রথম প্রধান বিরোধী দল হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

 

 

 

প্রথম কাউন্সিলে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং শামসুল হককে দলের যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। তখন তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন কারাগারে বন্দি। বন্দি অবস্থায় তাকে সর্বসম্মতিক্রমে প্রথম কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।

 

 

১৯৫৩ সালে ময়মনসিংহে দলের দ্বিতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ সম্পাদক হন। ১৯৫৫ সালের ২১-২৩ অক্টোবর ঢাকার সদরঘাটের রূপমহল সিনেমা হলে দলের তৃতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে দলের নতুন নামকরণ হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ। স্বাধীনতার পর নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

 

 

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ১ মার্চ ঐতিহাসিক ‘ছয় দফা’ ঘোষণার প্রাক্কালে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮১ সালের কাউন্সিলে শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। এরপর থেকে তিনি দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

 

 

বর্তমানে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে।

 

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম প্রতিহতের ঘোষণা দিল বিএনপি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পোস্ট দেওয়া নিয়ে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাছির উদ্দীন তালুকদার। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নৈরাজ্য ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে নেছারাবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেছে বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

 

 

 

সোমবার (২২ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা স্বরূপকাঠি পৌর শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পৌর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আয়োজিত পথসভায় গিয়ে শেষ হয়।

 

 

 

পথসভায় বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. নাছির উদ্দীন তালুকদার বলেন, মঙ্গলবার (২৩ জুন) থেকে আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেবে, তাদের যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই প্রতিহত করা হবে।

 

তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারা কী ধরনের পোস্ট দিচ্ছে, সে বিষয়ে প্রশাসন অবগত রয়েছে। এসব ব্যক্তিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা উচিত।

এ সময় আওয়ামী লীগের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের মা আর ফিরে আসবেন না। তাই বাঁকা পথ ছেড়ে স্বাভাবিক সামাজিক জীবনযাপন করুন, অন্যথায় পরিণতি ভয়াবহ হবে।

 

 

সভায় স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. শফিকুল ইসলাম ফরিদ বলেন, আমরা চেয়েছিলাম আওয়ামী লীগ অতীতে আমাদের সঙ্গে যা করেছে, তার প্রতিশোধ না নিতে। তারা শান্তিতেই ছিল। কিন্তু আমাদের মানবিকতাকে দুর্বলতা ভেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত উসকানিমূলক পোস্ট দিচ্ছে। তাই এখন থেকে সংঘবদ্ধভাবে তাদের প্রতিহত করা হবে।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, ২৩ জুন থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

 

 

পথসভায় আরও বক্তব্য দেন স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হাসান, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ওয়াহিদুজ্জামান মানিক, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হাফিজ সিকদারসহ অন্য নেতৃবৃন্দ।

 

জর্ডানকে হারিয়ে নকআউট স্বপ্ন জিইয়ে রাখল আলজেরিয়া

বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জে’-এর ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও দারুণ প্রত্যাবর্তন করে জর্ডানকে ২-১ গোলে হারিয়েছে আলজেরিয়া। সোমবার (২৩ জুন) সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে নকআউট পর্বে ওঠার আশা জিইয়ে রাখল উত্তর আফ্রিকার দলটি।

 

 

 

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি আলজেরিয়া। উল্টো ৩৬ মিনিটে মুসা আল-তামারির অ্যাসিস্ট থেকে নিযার আল-রাশদান গোল করে জর্ডানকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।

 

 

 

বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে একাধিক পরিবর্তন আনেন আলজেরিয়া কোচ। তার ফলও আসে দ্রুত। ৬৮ মিনিটে অধিনায়ক রিয়াদ মাহরেজের কর্নার থেকে নাধির বেনবুয়ালি হেডে সমতা ফেরান।

 

গোল শোধ করার পর আরও আক্রমণ বাড়ায় আলজেরিয়া। শেষ পর্যন্ত ৮২ মিনিটে কর্নার থেকে সৃষ্ট জটলার সুযোগ কাজে লাগিয়ে কাছ থেকে বল জালে জড়িয়ে দেন আমিন গুইরি। তার গোলেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আলজেরিয়া।

 

শেষ মুহূর্তে জর্ডান সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও আলজেরিয়ার রক্ষণভাগে আটকে যায় তাদের আক্রমণ। ফলে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াদ মাহরেজদের দল।

 

 

এই জয়ে দুই ম্যাচে তিন পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে নিজেদের সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখল আলজেরিয়া। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় পরাজয়ে নকআউট স্বপ্ন আরও কঠিন হয়ে গেল জর্ডানের।

 

গোল্ডেন বুট দৌড়ে মেসির প্রতিদ্বন্দ্বী যে তারকারা

২০২৬ বিশ্বকাপে দুই ম্যাচ শেষ হতেই জমে উঠেছে গোল্ডেন বুটের লড়াই। শীর্ষে রয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। তবে তার পেছনে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন বিশ্বের আরও কয়েকজন সেরা গোলদাতা। ফলে এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিততে মেসিকে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হবে।

 

 

 

এখন পর্যন্ত দুই ম্যাচে ৫ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে আছেন মেসি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন। ৩৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড এখনো আর্জেন্টিনার মূল ভরসা।

 

 

 

তবে খুব কাছেই রয়েছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি নিজের গোলসংখ্যা বাড়িয়ে ৪-এ নিয়েছেন। বিশ্বকাপে মাত্র ১৬ ম্যাচে ১৬ গোল করে তিনি ইতোমধ্যে মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। ফ্রান্স যত দূর এগোবে, এমবাপ্পের গোলসংখ্যাও তত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গোল্ডেন বুটের আরেক শক্তিশালী দাবিদার নরওয়ের স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোলসহ দুই ম্যাচে তার গোলসংখ্যাও ৪। বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলেই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন এই তারকা। জাতীয় দলের হয়ে ৫২ ম্যাচে ৫৯ গোল করা হালান্ড এখন প্রতিটি ম্যাচেই প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি। তিনটি করে গোল করেছেন জার্মানির দেনিজ উনদাভ ও কানাডার জোনাথন ডেভিড।

এ ছাড়া ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন ও ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ২ গোল করে এই দৌড়ে আছেন। প্রথম ম্যাচে জোড়া গোল করা কেইন পরবর্তী ম্যাচগুলোতে গোল করলে শীর্ষ লড়াইয়ে যোগ দিতে পারেন।

 

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট লড়াই মূলত মেসি, এমবাপ্পে ও হালান্ডকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে। তিন তারকার দুর্দান্ত ফর্মের কারণে টুর্নামেন্ট যত এগোবে, এই প্রতিযোগিতা ততই রোমাঞ্চকর হয়ে উঠবে।

 

 

বর্তমান অবস্থান :

মেসি (আর্জেন্টিনা) – ৫ গোল এমবাপ্পে (ফ্রান্স) – ৪ গোল হালান্ড (নরওয়ে) – ৪ গোল কেইন (ইংল্যান্ড) – ২ গোল।

বিশ্বকাপের মঞ্চে রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ছেন এই তারকারা। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত গোল্ডেন বুট কার হাতে ওঠে— মেসি কি এগিয়ে থাকবেন, নাকি এমবাপ্পে কিংবা হালান্ড তাকে ছাড়িয়ে যাবেন।

 

গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতার মুক্তির জন্য ছাত্রদলের সুপারিশের অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের উপজেলা সভাপতি পদপ্রার্থী হামিদুর রহমান তায়েফ সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২২ জুন) রাত ১০টার দিকে উপজেলার কনিকাড়া ব্রিজসংলগ্ন পৌর মেয়র মার্কেট এলাকার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

 

গ্রেপ্তার তায়েফ নবীনগর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজপাড়া এলাকার কাতারপ্রবাসী তোফায়েল সরকারের ছেলে।

 

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তায়েফ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পোস্টার ও ব্যানার বিভিন্ন স্থানে লাগানোর একটি ভিডিও ভাইরাল হলে তিনি এলাকায় আলোচনায় আসেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, গ্রেপ্তারের পর তায়েফকে থানা হাজত থেকে মুক্ত করার জন্য উপজেলা ছাত্রদলের একটি অংশ তদবির চালিয়েছে। তবে এ বিষয়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম বলেন, ‘মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।’

 

 

তবে কোন মামলায় তায়েফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

 

 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের অস্থিতিশীলতা প্রতিরোধে সিরাজগঞ্জে ছাত্রদল-যুবদলের বিক্ষোভ ও মহড়া

২৩ জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা ও তৎপরতা রুখে দিতে রাজপথে নেমেছে সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রদল ও যুবদল।

 

 

 

এরই ধারাবাহিকতায় আজ সোমবার (২২ জুন) বিকাল ৬টায় সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রদলের উদ্যোগে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও অলিগলি প্রদক্ষিণ করে।

 

 

 

মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের যেকোনো ধরনের অপচেষ্টা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বা ছাত্রলীগকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জের মাটিতে কোনো ধরনের কর্মসূচি পালন করার ন্যূনতম সুযোগ দেওয়া হবে না।

 

 

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিচ্ছিন্নভাবে ঝটিকা মিছিল করার চেষ্টা করলে, ছাত্রদল ও যুবদল তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা প্রতিরোধ মিছিল নিয়ে মাঠে নামে। ইতিমধ্যে গত তিন দিন ধরে সিরাজগঞ্জ জেলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের প্রতিবাদে রাজপথে লাগাতার পাল্টা মিছিল ও সমাবেশ করে আসছে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা।

 

 

 

আজকের এই বিক্ষোভ মিছিল ও মহড়ার নেতৃত্ব দেন সিরাজগঞ্জ জেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল বারী।

 

 

 

বিক্ষোভ মিছিলে আরও উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রদল সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রোমান আলীফ, যুগ্ম আহ্বায়ক
মনির, ছাত্রনেতা বিপ্লব, সিরাজগঞ্জ পৌর ছাত্রদল যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদ হাসান সাগর, মীর আকাশ, রাসেল, সিরাজগঞ্জ সদর থানা ছাত্রদলের মিনুল ইসলাম হৃদয়।

 

 

 

এছাড়াও বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রদল ও যুবদলের বিভিন্ন স্তরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। রাজপথে নেতাকর্মীদের এমন কঠোর অবস্থানের কারণে জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

 

দৃষ্টি হারানো মহিলাদল নেত্রী মেরি ও অসুস্থ নেতা হাসুর পাশে হাজী আব্দুস সাত্তার

পুলিশের গুলিতে দৃষ্টিশক্তি হারানো মহিলাদল নেত্রী মেরি ও অসুস্থ দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ালেন সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ও ‘আব্দুস সাত্তার ফাউন্ডেশন’-এর চেয়ারম্যান হাজী মোঃ আব্দুস সাত্তার।

 

 

 

সোমবার (২২ জুন) সকালে তিনি সিরাজগঞ্জ পৌরসভার মিরপুর এলাকায় রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার, দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানো সিরাজগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি মিরিনা সুলতানা মেরির বাসভবনে যান। সেখানে তিনি মেরির চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর আবেগঘন ও হৃদয়বিদারক জীবন সংগ্রামের গল্প শোনেন।

 

 

 

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় হামলার ঘটনায় পুলিশের গুলিতে দুটি চোখ হারান মেরী।
হাজী আব্দুস সাত্তারকে পাশে পেয়ে আবেগাপ্লুত মেরি বলেন, “আজ মনে হচ্ছে কোনো এক ভাই তার অসহায় বোনকে দেখতে এসেছে। অসুস্থতার এই কঠিন সময়ে এমন সহমর্মিতা তাঁকে বেঁচে থাকার নতুন মানসিক শক্তি ও সাহস জুগিয়েছে বলে তিনি জানান।

 

 

 

এরপর মিরপুর এমদাদিয়া হাফিজিয়া নূরানী মাদ্রাসায় যান হাজী আব্দুস সাত্তার। সেখানে তিনি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কিছু সময় কাটান। পরে শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় বিদ্যুৎ, খনিজ ও জ্বালানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি রুমানা মাহমুদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

 

 

 

 

মিরপুর থেকে বের হয়ে হাজী আব্দুস সাত্তার মাছিমপুর মহল্লায় যান। সেখানে তিনি সিরাজগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক হাসিনুর রহমান হাসুর সাথে সাক্ষাৎ করেন। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এই নেতার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
অসুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে নিজের পবিত্র মানবিক দায়িত্ব উল্লেখ করে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক হাজী মোঃ আব্দুস সাত্তার বলেন, মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী। এই পৃথিবী তৈরি হয়েছে একে অপরের উপকার করার জন্য। একজন মানুষ যখন অসুস্থ হয়ে কষ্টে থাকেন, তখন তাঁর পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় মানবিক কাজ। জীবিত অবস্থায় মানুষের প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়াতে পারাটাই প্রকৃত মানবতা।

 

 

 

তিনি সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আরও বলেন, “আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অসুস্থ, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। মানুষের জন্য করা ভালো কাজই আখিরাতের সবচেয়ে বড় সম্পদ। সমাজে যদি সবাই একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়, তাহলে অনেক মানুষের কষ্ট লাঘব হবে।

 

 

 

স্থানীয়রা জানান, হাজী আব্দুস সাত্তার দীর্ঘদিন ধরে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। অসহায় মানুষের চিকিৎসা সহায়তা, দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি এলাকায় ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। দুঃসময়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

 

 

 

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পৌর ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহরিয়ার হোসেন শিপুসহ অত্র এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় সাধারণ জনগণ।

 

রবীন্দ্রনাথ শিখিয়েছেন বিশ্বপ্রেম ও আত্মার মুক্তি নজরুল দিয়েছেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার শক্তি: ভিসি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার বলেছেন, রবীন্দ্রনাথ আমাদের শিখিয়েছেন বিশ্বপ্রেম এবং আত্মার মুক্তি। অন্যদিকে, নজরুল আমাদের দিয়েছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দ্রোহ, সাম্য এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার শক্তি। এই দুই মহান মানসের মেলবন্ধনই বাঙালি সংস্কৃতির মূল ভিত্তি। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কেবল শিক্ষার আলো ছড়ায় না, বরং বাঙালির এই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধারণ ও লালন করার এক পবিত্র দায়িত্ব পালন করে চলেছে।

 

 

 

সোমবার (২২জুন) রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে দুইদিনব্যাপী রবীন্দ্র ও নজরুল জয়ন্তী উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

 

সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবন-৩ এ আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া।

 

 

 

উপাচার্য আরও বলেন, আজকের এই দিনটি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আমরা আজ এক মঞ্চে দাঁড়িয়েছি যা বাংলা সাহিত্যের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতির প্রতি উৎসর্গকৃত।

 

 

 

তিনি বলেন, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আত্মাকে মুক্ত করা। যে শিক্ষা বিশ্বে বাজারে চলবে না সেটা শিক্ষা হতে পারে না। বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে হলে সেই ধরনের মানসম্মত শিক্ষা আমাদের দিতে হবে, নিতে হবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কাজী নজরুল ইসলামকে সাহিত্যিকের বাইরে সমাজ সংষ্কারক, মানবিকতা এবং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম আদর্শ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

 

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবন-৩ এ রবীন্দ্র মেলার উদ্বোধন করা হয়। এরপর রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবন-১-এর গীতাঞ্জলি স্টুডিও থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হয় রবীন্দ্রসংগীত প্রতিযোগিতা। এতে শাহজাদপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।

 

 

 

সংগীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের অধ্যাপক ড. আকলিমা ইসলাম কুহেলী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আলমগীর পারভেজ সুমন এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আশিক সরকার।

 

 

 

বিকাল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে “রবীন্দ্রনাথের কৃষি ও সময়চিন্তা” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে আলোচক হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. অনিরুদ্ধ কাহালি। সেমিনারে প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জাবেদ ইকবাল। সভাপতিত্ব করেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার।

 

 

 

বিকেলে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা রবীন্দ্র ও নজরুলের সৃষ্টিকে তুলে ধরেন।

 

 

 

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের গণসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ শাহ আলী জানান, উৎসবের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার ( ২৩ জুন) সকাল থেকে রবীন্দ্র মেলা পুনরায় শুরু হবে। এদিন দুপুর ২.০০টায় “নজরুলের দেশপ্রেম ও বিশ্বমানব-দর্শন: আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট” শীর্ষক সেমিনারে আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক ও নজরুল গবেষক আবদুল হাই শিকদার। বিকাল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক ও নজরুল গবেষক আবদুল হাই শিকদার। পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করবেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার।

 

আওয়ামী লীগের দেশ বিরোধী তৎপরতার প্রতিবাদে সিরাজগঞ্জে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের দেশব্যাপী নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রদল।

 

 

 

সোমবার বিকেলে শহরের মিলনমোড় থেকে মিছিল শুরু হয়ে শহরেরর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। এসময় তারা ‘লীগ ধর; জেলে ভর’, ‘ছাত্রলীগের ঠিকানা সিরাজগঞ্জে হবেনা’‘শেখ হাসিনার দালালেরা; হুশিয়ার সাবধান’, ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও; শেখ হাসিনার আস্তানা’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

 

 

 

এসময় সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জুনায়েদ হোসেন সবুজ বলেন, “নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকেরা দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্টের চেষ্টা করছে এবং বিভিন্ন উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছে। আমরা লক্ষ্য করছি, বিভিন্ন সময় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দল, সরকার ও দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টের উদ্দেশ্যে উসকানিমূলক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ছাত্রদল সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”

 

 

 

তিনি আরও বলেন, “সিরাজগঞ্জে কোনো ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে তা শক্ত হাতে প্রতিহত করা হবে।”

 

 

 

মিছিলে সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

গাজীপুরে আ.লীগের ৩০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

গাজীপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৩০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ।

 

 

 

সোমবার (২২ জুন) গ্রেপ্তারের বিষয় নিশ্চিত করেছেন জিএমপি ওসি মিডিয়া জালাল উদ্দিন মাহমুদ। মঙ্গলবার (২১ জুন) থেকে সোমবার (২২ জুন) সকাল ৮টা পর্যন্ত মহানগরের বিভিন্ন থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

 

জানা যায়, অভিযানে সদর থেকে আটজন, বাসন থানা থেকে ছয়জন, কোনাবাড়ি থেকে দুজন, কাশিমপুর থেকে তিনজন, গাছা থেকে পাঁচজন, পূবাইল থেকে দুজন, টঙ্গী পূর্ব থেকে দুজন এবং টঙ্গী পশ্চিম থানা থেকে ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

সোমবার বিকেলে জিএমপি প্রেস রিলিজে জানিয়েছে, বাসন থানাধীন মোগরখাল সাকিনস্থ কলম্বিয়া গার্মেন্টসের সামনে ময়মনসিংহ-ঢাকাগামী পাকা রাস্তার ওপর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং সরকারি কাজে বাধা ও হুমকি প্রদানের অপরাধে ৩০ জন আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ‎জিএমপি ওসি (মিডিয়া) জালাল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মহানগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত আছে।

 

 

নিরাপত্তা জোরদারে পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েন

দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

 

 

 

সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যা থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে।

 

 

 

 

বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কক্সবাজার, মাদারীপুর, শেরপুর, গাজীপুর ও মৌলভীবাজার জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

 

 

এছাড়া দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক মোতায়েনের লক্ষ্যে বিজিবি সদস্যরা স্ট্যান্ডবাই থাকবে।

 

উল্লেখ্য, বিজিবি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

হত্যার পর নদীতে ফেলে দেওয়া লাশ ৬ দিন পর ভেসে উঠলো

নরসিংদীর রায়পুরার নিলক্ষা ইউনিয়নে দুপক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে হত্যার পর নদীতে ফেলে দেওয়া বুলবুল (৩০) নামে আরেক যুবকের লাশ ছয়দিন পর ভেসে উঠেছে। রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার খাককান্দা এলাকায় মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করে নৌ পুলিশ ফাঁড়ি। এ নিয়ে নিলক্ষায় সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ জনে। নিহত বুলবুল নিলক্ষা ইউনিয়নের সোনাকান্দী গ্রামের হরমুজ মিয়ার ছেলে।

 

 

 

এর আগে নিহত চারজন হলেন নিলক্ষা ইউনিয়নের দড়িগাঁও গ্রামের পূর্বপাড়ার অনিক মিয়া (২২), বীরগাঁও গ্রামের পূর্বপাড়ার কাউসার আহমেদ (৩৭), কান্দাপাড়ার মালয়েশিয়াপ্রবাসী লতিফ মোল্লা (৩৫) এবং হরিপুর গ্রামের অহিদ মিয়ার ছেলে মোস্তফা মিয়া (৩৬)।

 

 

 

গত ১৬ জুন ভোরে রায়পুরার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁও গ্রামের নাজিম উদ্দিন (মিষ্টার) ও আলাল মুন্সির (জবা মেম্বার) গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। টেঁটা, দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে টানা কয়েক ঘণ্টা দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় কয়েকটি বাড়িঘরে। ঘটনার দিন অনিক মিয়া নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। পরদিন বুধবার (১৭ জুন) বেলা ৩টার দিকে নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানার চরদীঘলদী ইউনিয়নে জিৎরামপুর এলাকায় মেঘনা নদী থেকে টেটাবিদ্ধ অবস্থায় কাউসার আহমেদের লাশ ভেসে আঠে। এর পরদিন বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) নিলক্ষার হরিপুরে মেঘনা নদীতে ভেসে উঠে লতিফ মোল্লার লাশ।

 

এদিকে সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ মোস্তফা মিয়া দীর্ঘ পাঁচ দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকালে মৃত্যুর কুলে ঢলে পড়ে। একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানাধিন খাককান্দা এলাকায় মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় একটি লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ ফাঁড়ি। খবর পেয়ে নিখোঁজ বুলবুলের পরিবারের লোকজন খাককান্দা নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে নিহতের লাশ শনাক্ত করে। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ জনে।

 

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান বলেন, খাককান্দা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা লাশটি নিখোঁজ বুলবুলের বলে তার পরিবারের লোকজন শনাক্ত করে। নিলক্ষায় দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

 

 

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত রায়পুরা থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে গত বুধবার (১৭ জুন) রাতে নিহত অনিকের মা নাসিমা খাতুন বাদী হয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। অপর দিকে নিহত কাউসারের স্ত্রী মুন্নি আক্তার রবিবার (২১ জুন) বাদী হয়ে ১৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ১৬-১৭ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

জামায়াত-এনসিপির ডাকে জনগণ আর সাড়া দেবে না : মোমিন মেহেদী

নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী বলেছেন, জামায়াত-এনসিপির ডাকে জনগণ আর সাড়া দেবে না। নতুন করে আর কোনো জুলাই ঘটাতে চাইলে তাদের শেষ পরিণতি হবে গণধোলাইতে। তারা প্রায় দুই বছরে রাজনৈতিক-সামাজিক-প্রশাসনিক-অর্থনৈতিক-ধর্ম-মানবিক বা ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতা আনতে না পারলেও নিজেদের সাথে জনতার বৈষম্য তৈরি করে এমপি হয়েছে, উপদেষ্টা হয়েছে এমনকি রাজনৈতিক দল গঠন করে সমাজকে শত ভাবে বিভক্ত করেছে।
২২ জুন পুরানা পল্টনে নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির পক্ষ থেকে দ্রব্যমূল্য কমানোর দাবিতে অনুষ্ঠিত পথসভায় তিনি উপরোক্ত কথা বলেন। এসময় তিনি আরো বলেন, বৈষম্য দূর করবার খবর নাই, দ্রব্যমূল্য কমানোর খবর নাই, দুর্নীতি থামানোর খবর নাই, খুন-ধর্ষণ থামানোর খবর নাই, তাদের কেবল জুলাই চাই, সুরক্ষা চাই; এই সব হয়েনাদেরকে দেশের মানুষ সহিংসতা বন্ধ না করলে কঠোরভাবে প্রতিহত করতে তৈরি হচ্ছে। তারা আওয়ামী লীগ বোঝে না, বিএনপি বোঝে না, নতুনধারা বোঝে না। বোঝে কেবল লোভ মোহহীন-দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে এমপি হওয়ার পর প্রতারণার মধ্য দিয়ে জনগণকে বোকা বানানোর খেসারত দিতে হবে। আর এ কারণেই সারাদেশে সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য।
সভায় প্রেসিডিয়াম মেম্বার বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাড. হামিদুজ্জামান, চন্দন সেনগুপ্ত প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এসময় নেতৃবৃন্দ বলেন, যে লক্ষ্য থেকে নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবি ২০১২ সালের ৩০ ডিসেম্বর রেডর‌্যালীর মধ্য দিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে আত্মপ্রকাশ করেছিলো, সেই লক্ষ্য পুরণ করতে ২০১৭, ২০২২ এবং ২০২৪ সালে সকল শর্ত মেনে নিবন্ধনের আবেদন করলেও নিবন্ধন থেকে বঞ্চিত করে শেখ হাসিনা সরকার ও ইউনুস সরকার প্রমাণ করেছে যে, জাতির জন্য নিবেদিত থাকা রাজনৈতিক প্লাটফর্মকে রাজপথে দেখতে ভয় পায়। যে কারণে নিবন্ধন থেকে বঞ্চিত করে প্যাড সর্বস্ব প্লাটফর্মকে নিবন্ধন দিয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম বন্দর, বিকল কোটি টাকার আরটিজি ক্রেন

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে একটি রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি (আরটিজি) ক্রেন পুড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের অগ্নিনির্বাপণ দল। তবে আগুনে ক্রেনটি অচল হয়ে পড়ায় সংশ্লিষ্ট ইয়ার্ডটিতে আপাতত কন্টেইনার ডেলিভারি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।

 

 

সোমবার (২২ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে এনসিটির ৩ নম্বর জেটিতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার পরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ইয়ার্ডে কন্টেইনার ওঠানামা ও ডেলিভারি কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত করা হয়। পাশাপাশি শ্রমিক ও কর্মরতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

 

 

বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, একটি আরটিজি ক্রেনে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে আগুনের তাপের কারণে পাশে থাকা একটি রেফ্রিজারেটেড (রিফার) কন্টেইনারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে দ্রুত অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম শুরু হওয়ায় আগুন আশপাশের অন্যান্য কন্টেইনার কিংবা যন্ত্রপাতিতে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি।

তবে অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত আরটিজি ক্রেনটি বর্তমানে সম্পূর্ণ অচল হয়ে গেছে। ফলে ওই ক্রেন ব্যবহার করে আপাতত কোনো কন্টেইনার ডেলিভারি কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে সংশ্লিষ্ট ইয়ার্ডে ডেলিভারি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হলেও বন্দরের অন্যান্য সব ইয়ার্ডে পণ্য খালাস ও ডেলিভারি কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। সাধারণত একেকটি গেন্ট্রি ক্রেনের দাম পড়ে ১৫ থেকে ২৩ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত সচিব নাসির উদ্দিন অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এনসিটির একটি আরটিজি ক্রেনে আগুন লেগেছিল। ফায়ার সার্ভিস ও বন্দরের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ক্রেনটি পুনরায় সচল করা সম্ভব হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব নয়। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুত ৭.৬৩ টিসিএফ: সরকারি হিসাব

দেশে বর্তমানে উত্তোলনযোগ্য (রিকভারেবল) সাত দশমিক ৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত রয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তবে, প্রতিদিন গ্যাস সরবরাহে প্রায় ১ হাজার ১৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

 

 

সোমবার (২২ জুন) জাতীয় সংসদে মেহেরপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দীন খানের তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

 

 

 

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আটটি গ্রাহক শ্রেণির অনুমোদিত গ্যাস লোডের ভিত্তিতে বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় তিন হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত গড়ে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ছিল প্রায় দুই হাজার ৬৫৪ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার ১৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়ে গেছে। আর মজুত রয়েছে সাত দশমিক ৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)।

সরকার ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলেও তিনি সংসদকে জানান।

 

দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির কর্মসূচির আওতায় ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এর মধ্যে ইতোমধ্যে ২৮টি কূপে খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।’

 

 

তিনি জানান, অবশিষ্ট কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রণালয়, পেট্রোবাংলা এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

 

 

 

নতুন সম্ভাব্য গ্যাসক্ষেত্র চিহ্নিত করতে চলমান সিসমিক জরিপ কার্যক্রমের বিষয়েও তিনি আলোকপাত করেন।

 

 

 

মন্ত্রী বলেন, ‘ব্লক-৭ ও ব্লক-৯ এলাকায় প্রায় চার হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার দ্বিমাত্রিক (২ডি) সিসমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বর্তমানে এসব তথ্য প্রক্রিয়াকরণের কাজ চলছে।’

 

 

এছাড়া হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ ও মেঘনা গ্যাসক্ষেত্রের আশপাশে এক হাজার ৪৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে ত্রিমাত্রিক (৩ডি) সিসমিক জরিপ শিগগিরই শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

 

 

ইকবাল হাসান মাহমুদ আরো জানান, ভোলার চরফ্যাশন এলাকায় ৬৬০ বর্গকিলোমিটার, জামালপুরে ৬৫০ বর্গকিলোমিটার, তিতাস, হবিগঞ্জ ও নরসিংদী গ্যাসক্ষেত্র সংলগ্ন এলাকায় ৬৩২ বর্গকিলোমিটার এবং লামিগাঁও, লালাবাজার, গোয়াইনঘাট, কৈলাশটিলা দক্ষিণ ও ফেঞ্চুগঞ্জ পশ্চিম গ্যাসক্ষেত্র সংলগ্ন কাঠামোতে ৮৮২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় আরও থ্রিডি সিসমিক জরিপের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

 

 

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অনুসন্ধান প্রতিষ্ঠান বাপেক্স-কে শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে দুই হাজার এবং এক হাজার ৫০০ হর্স পাওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন দু’টি নতুন ড্রিলিং রিগ ক্রয়ের কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

 

 

 

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ভোলায় আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রগুলোকে জাতীয় গ্যাস গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে ভোলা-বরিশাল-জাজিরা-মাওয়া-আমিনবাজার গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত সরকার গ্রহণ করেছে এবং এ লক্ষ্যে বাস্তবায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

রাণীনগরে ভূমিসেবা সহজ করতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গণশুনানি অনুষ্ঠিত

নওগাঁর রাণীনগরে ভূমিসেবাকে সহজ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে আবাদপুকুর বাজারে কালীগ্রাম-একডালা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে একটি গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেল তিনটায় উপজেলা রাজস্ব প্রশাসনের আয়োজনে এই গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
গণশুনানিতে নামজারি, খারিজ, ভূমি উন্নয়ন কর, নাগরিক নিবন্ধন, DLRMS সংক্রান্ত আবেদন, খাস জমি বন্দোবস্ত এবং ভূমিসেবা গ্রহণে বিভিন্ন জটিলতা ও জনভোগান্তির বিষয় তুলে ধরেন স্থানীয় সেবাগ্রহীতারা। তারা সরাসরি তাদের মতামত, অভিযোগ ও সমস্যার কথা উপস্থিত কর্মকর্তাদের কাছে উপস্থাপন করেন। কর্মকর্তারা মনোযোগ দিয়ে তাদের বক্তব্য শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
গণশুনানিতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিলা ইয়াসমিন এবং রাজস্ব বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা। তারা ভূমিসেবা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, জবাবদিহিমূলক ও হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। এ ছাড়া নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, অনলাইনে আবেদন এবং ভূমি সংক্রান্ত সঠিক তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেন তারা।
উপজেলা রাজস্ব প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনগণের দোরগোড়ায় ভূমিসেবা পৌঁছে দেওয়া, সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ শোনা এবং তা দ্রুত সমাধানের পথ তৈরি করার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের গণশুনানির আয়োজন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে একদিকে জনসাধারণের ভোগান্তি কমবে, অন্যদিকে ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

চাকরির সুযোগ: রেশম উন্নয়ন বোর্ডে ১৬৭ পদে নিয়োগ

চাকরি দিচ্ছে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড। প্রতিষ্ঠানটি তাদের রাজস্ব খাতভুক্ত ১৪ থেকে ২০ গ্রেডের পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। মোট পদসংখ্যা ১৬৭। আবেদনের শেষ তারিখ ২১ জুলাই ২০২৬।

 

 

চলুন, একনজরে দেখে নিই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি-

১. পদের নাম: সহকারী হিসাবরক্ষক

পদসংখ্যা: ৫

গ্রেড ও বেতন স্কেল: ১০,২০০-২৪,৬৮০ টাকা (গ্রেড-১৪)।

২. পদের নাম: টেকনিক্যাল সুপারভাইজার

পদসংখ্যা: ৯৬

গ্রেড ও বেতন স্কেল: ৯,৭০০-২৩,৪৯০ টাকা (গ্রেড-১৫)।

৩. পদের নাম: ড্রাফটসম্যান

পদসংখ্যা: ১

গ্রেড ও বেতন স্কেল: ৯,৭০০-২৩,৪৯০ টাকা (গ্রেড-১৫)।

৪. পদের নাম: অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর

পদসংখ্যা: ১৮

গ্রেড ও বেতন স্কেল: ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা (গ্রেড-১৬)।

৫. পদের নাম: এক্সপার্ট উইভার

পদসংখ্যা: ৪

গ্রেড ও বেতন স্কেল: ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা (গ্রেড-১৬)।

৬. পদের নাম: অফিস সহায়ক

পদসংখ্যা: ৪৩

গ্রেড ও বেতন স্কেল: ৮,২৫০-২০,০১০ টাকা (গ্রেড-২০)।

বয়সসীমা: ১ জুন ২০২৬ তারিখে ১৮-৩২ বছর হতে হবে।

আবেদনের নিয়ম: পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক ব্যক্তি ওয়েবসাইটে আবেদনপত্র পূরণ করবেন।

আবেদন ফি: ১ থেকে ৫ নম্বর পদ: ১১২ টাকা (ভ্যাট ও সার্ভিস চার্জসহ); ৬ নম্বর পদ: ৫৬ টাকা (ভ্যাট ও সার্ভিস চার্জসহ)।

আবেদনের সময়সীমা: আবেদনপত্র পূরণ ও পরীক্ষার ফি জমাদান শুরু ২২ জুন ২০২৬

আবেদনপত্র জমাদানের শেষ তারিখ: ২১ জুলাই ২০২৬

*বিস্তারিত দেখতে ক্লিক করুন এখানে

শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে ১৭ লাখ টাকা, স্বর্ণ ও বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স খুলে গণনা শেষে নগদ টাকার পাশাপাশি স্বর্ণালঙ্কার ও বিদেশি মুদ্রাও পাওয়া গেছে। মাজারের দানবাক্স থেকে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৯ টাকা, প্রায় ৭ আনা স্বর্ণ এবং বিভিন্ন দেশের মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে।

 

 

সোমবার (২২ জুন) মাজার প্রাঙ্গণে প্রশাসনের উপস্থিতিতে দানবাক্সের টাকা গণনা করা হয়। গণনা শেষে জেলা প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।

 

 

গণনায় দেখা যায়, দানবাক্সে জমা হওয়া নগদ টাকার পরিমাণ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৯ টাকা। এছাড়া পাওয়া গেছে প্রায় ৭ আনা স্বর্ণ, দুটি সৌদি রিয়াল, ডলার ও পাউন্ডসহ বিভিন্ন বিদেশি মুদ্রা।

মাজারে দেশ-বিদেশ থেকে আগত ভক্ত ও দর্শনার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে দানবাক্সে নগদ অর্থের পাশাপাশি স্বর্ণালঙ্কার ও বিদেশি মুদ্রা দান করে আসছেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে প্রকাশ্যে দানবাক্সের টাকা গণনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। ৭শ শত বছরের প্রচলিত প্রথার বাইরে গিয়ে প্রশাসনের উপস্থিতিতে উন্মুক্তভাবে অর্থ গণনার এ উদ্যোগকে ঘিরে মাজারসংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রতিক্রিয়াও দেখা দেয়।

পাঁচ ব্যাংকের চাকরিচ্যুতদের চাকরি ফেরত চেয়ে আন্দোলন

চাকরি পুনর্বহাল, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনসহ ১০ দফা দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে দেশের পাঁচটি বেসরকারি ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

 

 

সোমবার (২২ জুন) সকালে নগরের কোতোয়ালি এলাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

পরে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধিদল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর প্রভাবে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে ব্যাপক হারে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

পাশাপাশি প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হয়েছেন অনেক কর্মী। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতে অস্বাভাবিক হারে ছাঁটাইয়ের ফলে অসংখ্য পরিবার আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া অবস্থান কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীরা প্ল্যাকার্ড হাতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেন। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে নগরের নিউমার্কেট মোড়ে জড়ো হয়ে তাঁরা কর্মসূচির প্রস্তুতি নেন।

 

আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে চাকরিচ্যুত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পূর্বের পদ, বেতন-ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধাসহ অবিলম্বে পুনর্বহাল করা, দক্ষ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন এবং ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা।

 

 

এ ছাড়া ব্যাংকের সব পর্যায়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ, প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ, গ্রাহকদের মধ্যে কৃত্রিম সংকট ও আতঙ্ক সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা এবং ৫ আগস্টের পর ব্যাংকিং খাতে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তারা।

 

 

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই আমাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আমরা আমাদের চাকরি, বেতন-ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধাসহ দ্রুত পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছি। এ দাবিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আমরা ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে আসছি।”

 

 

আরেক চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা আদনান মালেক বলেন, ৫ আগস্টের পর আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অনেক কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হারানো চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানাচ্ছি।

 

 

এদিকে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের একটি দল মোতায়েন ছিল।

 

 

কোতোয়ালি থানার ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর বলেন, আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন শেষে স্থান ত্যাগ করেছেন। মানববন্ধনের কারণে নগরীর যান চলাচলেও উল্লেখযোগ্য কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।

অগ্নিকাণ্ডে বিধ্বস্ত ভারতীয় কোচিং সেন্টার, প্রাণ গেল ১৩ জনের

ভারতের উত্তর প্রদেশের লখনৌ শহরের আলিগঞ্জ এলাকায় একটি কোচিং সেন্টার সংবলিত ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার (২২ জুন) এ দুর্ঘটনায় ভবনের ভেতরে আটকা পড়ে বহু মানুষ। প্রাণ বাঁচাতে কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রথম তলা থেকে লাফ দেন।

 

 

স্থানীয় সময় দুপুরে আগুন লাগার পর তা দ্রুত ভবনজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। পরে ধ্বংসস্তূপ থেকে অন্তত ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাণিজ্যিক এলাকার তিনতলা ভবনটিতে একটি কোচিং সেন্টারের পাশাপাশি পোষা প্রাণীর দোকানসহ আরও কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছিল। আগুন লাগার পর অনেকেই ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি ভাঙা জানালা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে নিচে পড়ে যান। তিনি একটি বেড়ার ওপর আছড়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।

ঘটনার পর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। উত্তর প্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠকও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

 

এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, এটি তিনতলা ভবন। ওপরের তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ধারকাজের জন্য কয়েকটি জানালা ভেঙে ফেলা হয়।

 

 

স্থানীয়দের দাবি, ভবনের ভেতরে শিক্ষার্থীসহ অনেক মানুষ আটকা পড়েছিলেন। তবে কতজন আটকা ছিলেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

 

 

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, পাঁচ থেকে সাতজন শিক্ষার্থী লাফ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের হাড় ভেঙে গেছে।

 

 

 

এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি নিহতদের পরিবারের জন্য দুই লাখ রুপি এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন। অন্যদিকে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

 

 

 

বিদেশি পর্যটককে হয়রানি, কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে আটক করেছে পুলিশ

ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার এলাকায় এক বিদেশি পর্যটককে নিয়ে বিতর্কিত ভিডিও ধারণের ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে টুরিস্ট পুলিশ। অভিযোগের ভিত্তিতে টুরিস্ট পুলিশ জয়পুরহাট সদর থানার ছোট মাঝিপাড়ার কনটেন্ট ক্রিয়েটর মো. আব্দুল মাবুত ওরফে ‘হিরো নানা’কে আটক করে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

 

সোমবার (২২ জুন) দুপুরে সদর উপজেলার নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।

 

 

জানা গেছে, গত ১৯ জুন পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে ঘুরতে আসা এক চীনা পর্যটককে কেন্দ্র করে আব্দুল মাবুত এবং সঙ্গে থাকা নারী একটি ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওর একপর্যায়ে আব্দুল মাবুত ওরফে হিরো নানা অশ্লীল কথাবার্তা বলতে থাকেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। নেটিজেনরা ঘটনাটিকে বিদেশি পর্যটকের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

বিষয়টি নজরে এলে পাহাড়পুর টুরিস্ট পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করে। যাচাইবাছাই শেষে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করা হয় এবং পরবর্তী আইনিব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।

ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের কাস্টডিয়ান মুহাম্মদ ফজলুল করিম জানান, পাহাড়পুর ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী প্রত্নস্থল। এখানে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক ব্যবস্থা রয়েছে। বিদেশি পর্যটককে হেনস্তার ভিডিওটি নজরে আসার পর টুরিস্ট পুলিশের সহযোগিতায় অভিযুক্তকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

অন্যদিকে নওগাঁ জেলা টুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ মাহবুব আলম বলেন, বিষয়টি সোস্যাল মিডিয়াতে দৃষ্টিগোচর হয়েছে, যাতে হিরো নানা নামে একজন ব্যক্তি বিদেশি পর্যটকের সঙ্গে হাত ধরে কথা বলছে। এক পর্যায়ে সে কিছু অশ্লীল কথাবার্তা বলেছে। সোস্যাল মিডিয়াতেও এ নিয়ে বিরুপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে কাস্টোডিয়ান এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে হিরো নানাকে আমরা আটক করি। আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বদলগাছী থানাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

 

 

বদলগাছী থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) নজরুল ইসলাম বলেন, একটি ঐতিহ্যবাহী স্থানের মান-সম্মান ক্ষুন্ন করেছেন অভিযুক্ত। এ ঘটনায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া ম্যাচের সময় ও মোবাইলে দেখার উপায়

আলজেরিয়ার বিপক্ষে দারুণ জয়ের পর এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা দাঁড়িয়ে আছে অস্ট্রিয়া ম্যাচের দোরগোড়ায়।

 

 

আজ সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় মাঠে নামবে আলবিসেলেস্তেরা। উত্তেজনাপূর্ণ এই ম্যাচ ঘিরে ভক্ত-দর্শকদের আগ্রহের শেষ নেই।

 

 

লিওনেল মেসির এই ম্যাচ ঘরে বসেই টিভিতে দেশীয় তিনটি চ্যানেলে দেখা যাবে। রাষ্ট্রায়ত্ত টিভি চ্যানেল বিটিভির পাশাপাশি টি-স্পোর্টস ও সময় টিভিতে সরাসরি দেখানো হবে আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়ার ম্যাচ।

 

 

 

এছাড়া মোবাইল ফোন কিংবা ল্যাপটপ থেকেও ম্যাচগুলো উপভোগ করতে পারবেন দর্শকরা। তবে সেক্ষেত্রে সাবস্ক্রিপশন ফি দিতে হবে।

নির্দিষ্ট সাবস্ক্রিপশন ফি দিয়ে মোবাইল ফোন ও স্মার্ট ডিভাইসে মাই রবি অ্যাপ, বাংলালিংকের টফি ও গ্রামীণফোনের বায়োস্কোপে ঘরে বসেই ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ উপভোগ করতে পারবেন দেশের ফুটবলপ্রেমীরা।

৬ জেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য তৎপরতা প্রতিরোধে ছয় জেলায় সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কমিশনড কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দিয়েছে সরকার।

 

 

সোমবার (২২ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

 

 

ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা, নারায়ণগঞ্জ জেলা, গোপালগঞ্জ জেলা এবং ফরিদপুর জেলায় ২২ জুন থেকে ৩০ জুন তারিখ পর্যন্ত এই আদেশ কার্যকর থাকবে।

মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১২(১) ও ১৭ ধারা অনুযায়ী এসব এলাকা ও এ সময়ের জন্য এই কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা অর্পণ করা হলো। কোস্টগার্ড ও বিজিবিতে প্রেষণে নিয়োজিত সমপদমর্যাদার কর্মকর্তারাও এ ক্ষমতার আওতাভুক্ত হবেন।

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫(২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ এবং ১৪২ অনুযায়ী অপরাধগুলোর ক্ষেত্রে তারা এই ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।

জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব সদস্য হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার আরও একজন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে আলোচিত সন্ত্রাসী গ্রুপের হামলায় র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৭।

 

 

গ্রেপ্তারকৃত আসামি আইয়ুব আলী ওরফে বাবুল সওদাগর (৫৩) মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে। তার বাড়ি সীতাকুণ্ড উপজেলার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সমাজ এলাকায়।

 

 

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‍্যাব জানিয়েছে, সীতাকুণ্ড থানায় দায়ের করা র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলায় তদন্তে প্রাপ্ত আসামি আইয়ুব আলী চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানার লয়েল রোড এলাকার নবী মার্কেটের সামনে অবস্থান করছেন- এমন তথ্যের ভিত্তিতে রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সীতাকুণ্ড থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর আগে গত দুইদিনে এ মামলার আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন- আলী আকবর (২৬) ও মো. ইমরান (২৫)।

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ

দুর্দান্তভাবে এবারের বিশ্বকাপ শুরু করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নিজেদের প্রথম ম্যাচে লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। সোমবার (২২ জুন) নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। ডালাসে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হবে ম্যাচটি।

 

 

প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরও একাদশে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছেন আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়ায় গঞ্জালো মন্টিয়েলকে বিশ্রাম দেওয়া হচ্ছে আজ। তার জায়গায় শুরু থেকেই খেলবেন নাহুয়েল মোলিনা।

 

 

এ ছাড়া আলজেরিয়ার বিপক্ষে জয় পাওয়া মূল একাদশই প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা বেশি। গোড়ালির চোট কাটিয়ে আলজেরিয়ার বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমেছিলেন হুলিয়ান আলভারেজ। লাউতারো মার্টিনেজের জায়গায় শুরুর একাদশে সুযোগ পেতে পারেন বলে আলোচনা থাকলেও ম্যাচ ফিটনেসে কিছুটা পিছিয়ে থাকায় আপাতত লাউতারোর ওপরই আস্থা রাখছেন স্কালোনি।

আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ: এমিলিয়ানো মার্টিনেজ (গোলরক্ষক), নাহুয়েল মলিনা, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, ফাকুন্দো মেদিনা, রদ্রিগো ডি পল, এঞ্জো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, থিয়াগো আলমাদা/নিকোলাস গঞ্জালেস, লিওনেল মেসি ও লাউতারো মার্টিনেজ।

হিলিতে পৃথক মাদক অভিযানে ৪ জন গ্রেফতার, আদালতে প্রেরণ

দিনাজপুরের হাকিমপুরে পৃথক তিনটি মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে ৪ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে হাকিমপুর থানা পুলিশ।
আজ সোমবার ২২ শে জুন বৈকাল ৫টায় গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাকিমপুর থানা পুলিশের পৃথক চৌকস দল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। এ সময় আসামিদের কাছ থেকে অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।
​গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন উপজেলার বোয়ালদার (খানপাড়া) গ্রামের মৃত তোজাম্মেল হক খানের ছেলে মোঃ মাজেদ আলী খান (৪৬)। উত্তর বাসুদেবপুর গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মোঃ আব্দুর রহিম (৪০)। একই গ্রামের মোঃ বাচ্চু মিয়ার ছেলে মোঃ রাজা মিয়া (৩০)। চকচকা গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে মোঃ মমিন প্রধান (৫০)।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ অনুযায়ী পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের আজ বিকেলে যথাযথ পুলিশ স্কটের মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন জানান, মাদক ও অপরাধ দমনে থানা পুলিশের এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে।

বেলজিয়াম ম্যাচে আলোচনায় আসা আলিরেজার জীবনের ৫ অবাক করা তথ্য

বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র ম্যাচে ইরানের হয়ে সবচেয়ে বড় নায়ক হিসেবে উঠে এসেছেন গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দ। একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভে তিনি থামিয়ে দেন বেলজিয়ামের তারকা আক্রমণভাগ যেখানে ছিলেন কেভিন ডি ব্রুইনা, লিয়ান্দ্রো ত্রোসার্দ।

 

 

২৩টি শটের মধ্যে ৭টি অন টার্গেট সবকটিই রুখে দেন বেইরানভান্দ। বিশেষ করে ম্যাক্সিম ডি কুইপারের পরপর দুটি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে তিনি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন বলে ম্যাচ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পুরো ম্যাচ শেষে তিনি পান সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার।

 

 

ইরানের জাতীয় দলের এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক বর্তমানে ক্লাব ফুটবলে খেলছেন ট্র্যাক্টর দলে। এর আগে তিনি পার্সেপোলিস, বোয়াভিস্তা এবং রয়্যাল অ্যান্টওয়ার্পের মতো ক্লাবেও খেলেছেন। জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত ৮০টির বেশি ম্যাচ খেলেছেন তিনি।

বিশ্বকাপ মঞ্চে ২০১৮ ও ২০২২ আসরেও ইরানের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক ছিলেন ১৯৫ সেন্টিমিটার উচ্চতার এই তারকা। তবে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তগুলোর একটি আসে ২০১৮ বিশ্বকাপে পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচে, যেখানে তিনি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পেনাল্টি সেভ করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসেন।

চলুন জেনে নেওয়া যাক আলিরেজা বেইরানভান্দের জীবনের ৫টি চমকপ্রদ তথ্য-

১. যাযাবর কুর্দি পরিবার থেকে উঠে আসা ইরানের লোরেস্তান প্রদেশের খোররামাবাদে জন্ম বেইরানভান্দের। কুর্দি লাক যাযাবর পরিবারে বড় হয়ে ওঠা এই গোলরক্ষক ছোটবেলায় পাহাড়ি এলাকায় পশুপালনের কাজও করেছেন। রাখাল জীবন থেকে বিশ্বমঞ্চে উঠে আসার গল্প তাকে অনন্য করে তুলেছে।

 

 

 

২. গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডধারী

দূরপাল্লার থ্রোয়ের জন্য বিখ্যাত বেইরানভান্দ। ফুটবলে সবচেয়ে দূরে বল ছোড়ার রেকর্ড (২০০.১৪ ফুট) এবং দীর্ঘতম ড্রপ-কিক (২৫৫.৯৫ ফুট) দুটি রেকর্ডই তার দখলে, যা গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান পেয়েছে।

 

 

৩. বেলজিয়ামের বিপক্ষে অসাধারণ পরিসংখ্যান

এই ম্যাচে তিনি ৭টি সেভ করেন। পাশাপাশি ৩৪টি পাসের মধ্যে ২০টি সফলভাবে সম্পন্ন করেন এবং ২৪টি লং বলের মধ্যে ১১টি সতীর্থদের কাছে পৌঁছে দেন যা তার গোলরক্ষার পাশাপাশি বিল্ড-আপ দক্ষতাও তুলে ধরে।

 

 

৪. ইরানি ফুটবলের শীর্ষ তারকা

গত এক দশকে ইরানি ঘরোয়া ফুটবলে ধারাবাহিকভাবে সাফল্য পেয়েছেন বেইরানভান্দ। তিনি টানা চার মৌসুম লিগের সেরা গোলরক্ষক নির্বাচিত হন এবং ২০১৯ সালে ইরানের বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার জেতেন। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছেন তিনি।

 

 

৫. রোনালদোর পেনাল্টি সেভে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি

২০১৮ বিশ্বকাপে পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচে রোনালদোর পেনাল্টি ঠেকিয়ে রাতারাতি বিশ্ব ফুটবলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন বেইরানভান্দ। সেই ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল, আর তার সেই সেভ আজও ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত।

 

ইরানের এই গোলরক্ষক তাই শুধু একজন খেলোয়াড় নন তিনি এক অনুপ্রেরণার গল্প, যেখানে পাহাড়ি যাযাবর জীবন থেকে উঠে এসে বিশ্বকাপের মঞ্চে নায়ক হওয়ার কাহিনি লেখা হয়েছে নতুন করে।

 

পারিবারিক কলহের জেরে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছেলের হাতে নিহত বাবা

রাজশাহী মহানগরীতে পারিবারিক কলহের জেরে ছেলের হামলায় রেজাউল করিম নামের এক স্কুলশিক্ষক নিহত হয়েছেন।

 

 

সোমবার (২২ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেহেরচণ্ডী বেড়ার মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

 

নিহত রেজাউল করিম (৬০) দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অভিযুক্ত তার ছেলে রাকিবুল করিম (২৭)। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) পর্যায়ের শিক্ষার্থী।

 

 

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, সোমবার সকালে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মা-বাবা ও ছেলে রাকিবুলের মধ্যে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রাকিবুল ঘরে থাকা একটি কাঠ দিয়ে তার বাবার মাথায় আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত রেজাউল করিম ঘটনাস্থলেই মারা যান।

ঘটনার পর অভিযুক্ত রাকিবুল দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানালে চন্দ্রিমা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

চন্দ্রিমা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ছেলে পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে এবং বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

 

 

 

মনিরুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

নোয়াখালীতে ডিবির অভিযানে ৩৪৭ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর হাতিয়ায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ৩৪৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় অপর এক সহযোগী পালিয়ে যায়।
জেলা পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় এবং ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সার্বিক তত্ত্বাবধানে সোমবার (২২ জুন ২০২৬) ভোররাতে হাতিয়া উপজেলার ১ নম্বর হরণী ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ডিবি পুলিশের এসআই মো. মিনহাজুল আবেদিন সঙ্গীয় ফোর্সসহ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ইসলামপুর এলাকার আবু তাহেরের বসতঘর থেকে মাদক ব্যবসায়ী মো. শাখাওয়াত (২২) কে ৩৪৭ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেন।
গ্রেপ্তার শাখাওয়াত হাতিয়া উপজেলার ১ নম্বর হরণী ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকার আবু তাহেরের ছেলে। অভিযানের সময় তার সহযোগী মো. সাঈদ উদ্দিন (৩০) পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আসামি ও পলাতক সহযোগীর বিরুদ্ধে হাতিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

জলঢাকায় পার্টনার কংগ্রেস ২০২৬ অনুষ্ঠিত

নীলফামারীর জলঢাকায় প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল এন্ড রুলার ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ এন্ড রিসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রোগ্রাম এর আওতায় পার্টনার কংগ্রেস ২০২৬ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে সুন্দর ও মনোরম পরিবেশের মধ্য দিয়ে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে ।
সোমবার ২২ শে জুন  সকালে উক্ত অনুষ্ঠানে শুরুতে ফিতা কেটে অনুষ্ঠানটির শুভসূচনা করেন নীলফামারী -৩  আসনের সাংসদ সদস্য মাওলানা  ওবায়দুল্লাহ সালাফি । পরে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিভিন্ন কৃষি বুথ ও কর্ণার পরিদর্শন শেষে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি। অনুষ্ঠানে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উপজেলা কৃষি অফিসার মিজানুর রহমান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জলঢাকা থানা অফিসার ইনচার্জ নাজমুল আলম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জলঢাকা উপজেলা আমির মোখলেছুর রহমান মাস্টার, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মোয়াম্মর আল হাসান , প্রেসক্লাব জলঢাকার সভাপতি কামারুজ্জামান, নীলফামারী জেলা জামায়াত ইসলামী প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি প্রভাষক সাদের  হোসেন , প্রেসক্লাব জলঢাকা সেক্রেটারি শাহজাহান কবির লেলিন,নীলফামারী জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য রশিদুল ইসলাম বাঙ্গালী,
জলঢাকা উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আমজাদ হোসেন, জলঢাকা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা, উপজেলা তথ্য অফিসার আয়েশা খাতুন, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আসাদুজ্জামান আসাদ ,উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারী সহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ । অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন  উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি অফিসার খোরশেদ আলম।

সিরাজগঞ্জে জব ফেয়ার-২০২৬ অনুষ্ঠিত

সিরাজগঞ্জে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং বেকার যুবকদের চাকরির সুযোগ তৈরীর লক্ষ্যে ‘জব ফেয়ার-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

সোমবার, (২২ জুন) জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এ মেলায় জেলার বিভিন্ন বেসরকারি চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা, প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং চাকরিপ্রত্যাশী যুবক-যুবতীরা অংশগ্রহণ করেন।

 

 

 

পিকেএসএফ এর অর্থায়নে রিকভারি অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অব ইনফরমাল সেক্টর এমপ্লয়মেন্ট (রেইজ) প্রকল্পের সহযোগীতায় ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এনডিপি), মডার্ন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এমডিও) এবং মানব মুক্তি সংস্থা (এমএমএস) এর যৌথ আয়োজনে দিনব্যাপী এই ‘জব ফেয়ার-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জব ফেয়ার এর উদ্বোধন করেন সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম। মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এনডিপি)-এর নির্বাহী পরিচালক মো. আলাউদ্দিন খান এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় তিনি বলেন, যুব সমাজকে দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের আয়োজন চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান ও চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

 

 

এসময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সময়ে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। যুগোপযোগী দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে যুবসমাজকে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে হবে। সরকার ও বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার যৌথ উদ্যোগে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির যে প্রচেষ্টা চলছে, তা বেকারত্ব নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিকেএসএফ এর রেইজ প্রকল্পের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. ফারুক হোসাইন, বিসিক জেলা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. মাহবুবুল ইসলাম, মানব মুক্তি সংস্থা (এমএমএস) এর নির্বাহী পরিচালক মো. হাবিব উল্লাহ বাহার এবং মডার্ন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এমডিও) এর নির্বাহী পরিচালক মাছউদ আহমেদ রোকনী।

 

 

অনুষ্ঠানে প্রকল্প বিষয়ে সার্বিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এনডিপি)-এর ঋণ সহায়তা কর্মসূচির পরিচালক মোসলেম উদ্দিন আহমেদ। এছাড়াও এসময় ৩০টির বেশি চাকুরিদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

 

বক্তারা বলেন, শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়, তথ্যপ্রযুক্তি, কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। কর্মসংস্থানের বাজারে টিকে থাকতে হলে যুবকদের আধুনিক প্রযুক্তি ও চাহিদাভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

 

 

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। মেলায় অংশগ্রহণকারী চাকরিপ্রত্যাশীরা সরাসরি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় ও জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়ার সুযোগ পান।

 

 

আয়োজকরা জানান, যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে। মেলায় জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রত্যাশী যুবক-যুবতী, উন্নয়নকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

দীর্ঘ অপেক্ষার পর মুক্তির তারিখ পেল আলোচিত সিনেমাটি

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মুক্তির তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে দক্ষিণ ভারতীয় সুপারস্টার যশ অভিনীত বহুল আলোচিত সিনেমা ‘টক্সিক: আ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপস’-এর। নির্মাতারা জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাপী সিনেমাটি মুক্তি পাবে আগামী ২৬ আগস্ট।

 

 

ব্যতিক্রম একটি বিষয় হলো, সিনেমাটি মুক্তি পাচ্ছে বুধবার। সাধারণত বড় বাজেটের ভারতীয় সিনেমাগুলো শুক্রবার মুক্তি পেলেও ‘টক্সিক’-এর ক্ষেত্রে ভিন্ন কৌশল নিয়েছেন নির্মাতারা। কারণ, মুক্তির সময়টিকে ঘিরে রয়েছে বরমহালক্ষ্মী পূজা, ওনাম ও রাখি বন্ধন-এর মতো একাধিক উৎসব ও ছুটির আবহ। ফলে টানা কয়েক দিনের ছুটির সুবিধা পেয়ে সিনেমাটি বক্স অফিসে বাড়তি দর্শক টানতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

 

 

মুক্তির তারিখ ঘোষণার পাশাপাশি প্রকাশ করা হয়েছে সিনেমাটির নতুন পোস্টারও। পোস্টারে যশকে দেখা গেছে দুটি ভিন্ন রূপে। জানা গেছে, সিনেমাতে তার চরিত্রের নাম ‘রায়া’ এবং ‘টিকিট’। পোস্টার প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

এর আগে এক সাক্ষাৎকারে যশ জানিয়েছিলেন, বাইরে থেকে এটি গ্যাংস্টার ঘরানার বাণিজ্যিক সিনেমা মনে হলেও এর ভেতরে রয়েছে আরও গভীর গল্প। তার ভাষায়, ‘এটি শুধু অপরাধজগতের গল্প নয়; বরং নৈতিক দ্বন্দ্ব, মানবমনের অন্ধকার দিক এবং আবেগের জটিলতাকে অনুসন্ধান করার একটি প্রচেষ্টা।‘

ইতোমধ্যে ‘টক্সিক’কে ভারতীয় সিনেমার অন্যতম উচ্চাভিলাষী প্রকল্প হিসেবে বলা হচ্ছে। সিনেমাটি একসঙ্গে কন্নড় ও ইংরেজি ভাষায় ধারণ করা হয়েছে। পরে এটি ছয়টি ভারতীয় ভাষার পাশাপাশি ইংরেজিতেও মুক্তি পাবে। আন্তর্জাতিক বাজারে বড় পরিসরে দর্শক টানার লক্ষ্যেই এমন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা গীতু মোহনদাস। এটি তার সঙ্গে যশের প্রথম কাজ। যশের পাশাপাশি সিনেমাতে অভিনয় করেছেন দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নয়নতারা, বলিউড তারকা কিয়ারা আদভানি, হুমা কুরেশি, রুক্ষ্মিনী বসন্ত ও তারা সুতারিয়া। ‘কেজিএফ’-এর পর যশের সবচেয়ে বড় বাজির সিনেমা হিসেবেই দেখা হচ্ছে ‘টক্সিক’-কে।

 

 

তবে মুক্তির আগেই একাধিকবার পিছিয়েছে সিনেমাটির মুক্তির তারিখ। প্রথমে ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল এটি মুক্তির পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু শুটিং ও প্রযোজনার কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ না হওয়ায় সেই পরিকল্পনা বাতিল করা হয়। পরে নতুন তারিখ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০২৬ সালের ১৯ মার্চ। শেষ পর্যন্ত সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আগামী ২৬ আগস্ট বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত এই সিনেমা।

 

 

দীর্ঘ অপেক্ষার পর যশকে নতুন রূপে বড় পর্দায় দেখতে মুখিয়ে আছেন তার ভক্তরা। তাই মুক্তির দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ‘টক্সিক’ ঘিরে দর্শকদের প্রত্যাশাও ততই বাড়ছে।

চরিত্রের গভীরে সুনেরাহ, ‘ঝরা বকুল’-এ পেলেন দর্শকের ভালোবাসা

নির্মাতা রাফাত মজুমদার রিংকুর নাটক মানেই নতুন কিছু। প্রেম ভালোবাসার পাশাপাশি বরাবরই পরিবারের গল্প তুলে ধরেন তিনি। এরমধ্যে তার নির্মিত ‘ঝরা বকুল’ নাটকটি দর্শকের মনে দাগ কেটেছে। বিশেষ করে এই নাটকের সুনেরাহ বিনতে কামাল অভিনীত মনিরা চরিত্রটি বেশ প্রশংসা পাচ্ছে।

 

 

গল্পে দেখা গেছে, মনিরা একটি গরীব পরিবারের বড় মেয়ে। সবার দায়িত্ব নিতে গিয়ে নিজের বিয়েও করা হয়ে ওঠেনি তার। এমনকি মনিরা অন্য পরিবারে চলে গেলে কে সংসার দেখবে এই ভয়ে তার মা নিজেও তাকে বিয়ের জন্য বলে না। কিন্তু কবির (ইয়াশ রোহান) মনিরাকে চায়। এভাবেই গল্প এগিয়ে যায়।

 

 

নাটকটির কমেন্টবক্সে একজন লেখেন, ‘জানিনা মানুষ সুনেরাহকে নিয়ে এত খারাপ মন্তব্য কেনো করে। ওর কণ্ঠ, ওর চেহারা সবই অন্য রকম। আর কেন জানি সব ধরনের অভিনয়ে মানিয়ে যায়। বড় লোকের মেয়ে, গরীবের বাড়ির মেয়ে, অহংকারী নিরহংকারী, সব চরিত্রে। ‘

রঙ্গন এন্টারটেইনমেন্টের ইউটিউব চ্যানেলে ‘ঝরা বকুল’ নাটকটি দেখা যাচ্ছে। এটি প্রযোজনা করেছেন জামাল হোসেন। নাটকটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রম্য, রোমান্টিক, অতি আর্ট দেখতে দেখতে দর্শক হয়রান। এসবে গল্প আর বাস্তবতার অভাব থাকে। হাপিয়ে উঠা দর্শক এখন একটা পরিবারের সুখ দুঃখ স্ট্রাগল ও সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে বাস্তবতা খুঁজে পান।’

নির্মাতা রিংকু বলেন, ‘আমি সব সময় পারিবারিক গল্পকে প্রধান্য দিয়ে আসছি। এই নাটকেও দর্শক সেটি দেখছেন। মানুষ নাটকে যখন নিজেদের খুঁজে পান তখন সেটি সহজে গ্রহণ করেন। এই কারণে হয়তো ঝরা বকুল সবার ভালো লাগছে।’

এই নাটকে বিভিন্ন চরিত্রে আরও অভিনয় করেছেন গুনী অভিনেত্রী ডলি জহুর, রোজী সিদ্দিকী ও গোলাম ফরিদা ছন্দাসহ আরও অনেকে।

স্কুলশিক্ষার্থী হত্যার অভিযোগে শিক্ষক-ছাত্র আটক

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান হত্যা মামলায় এক শিক্ষক ও এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২২ জুন) তাদের আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।

 

 

পুলিশ সূত্র জানায়, গত ১৮ জুন দায়ের হওয়া রামগঞ্জ থানার হত্যা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযান চালিয়ে ফরিদ আহম্মেদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক হল সুপার ও সহকারী অধ্যাপক এবং এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

 

এর আগে ১৬ জুন বিকেলে উপজেলার ফরিদ আহম্মেদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক হল থেকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মেহেদী হাসানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বিক্ষুব্ধ জনতা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটকসহ কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুর চালায়।

নিহত মেহেদী উপজেলার সোনাপুর বাজার এলাকার ব্যবসায়ী জিয়া উদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় ১৮ জুন তার বাবা বাদী হয়ে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ১০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, একটি আইফোন চুরিকে কেন্দ্র করে মারধরের ঘটনায় মেহেদীর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষকে অপসারণ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন শিক্ষক ও একজন শিক্ষার্থী রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সিংড়ায় ২০ লাখ টাকার চায়না জাল জব্দ, দুই ব্যক্তিকে জরিমানা ও একজনের কারাদণ্ড

​নাটোরের সিংড়ায় মৎস্য সম্পদ রক্ষায় অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ।
অভিযানে প্রায় ২০ লাখ টাকার  নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ এবং এ জাল ব্যবহারের দায়ে দুই ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড ও  একজনকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
​সোমবার  দুপুরে সিংড়া পৌর শহরের সরকার পাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
​অভিযানে মৎস্য সুরক্ষা আইন অমান্য করে চায়না দুয়ারি জাল বাড়িতে মজুদ ও জাল  দিয়ে মাছ ধরার অপরাধে শহিদুল ইসলাম (৩৫) ও একাক্বর (৩৭) নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে শহিদুল ইসলামকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা সহ ২ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।  অপরপক্ষে অভিযুক্ত একাক্বর কে ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন ভাম্যমান আদালত। এছাড়া  জব্দকৃত প্রায় ২০ লাখ টাকার  অবৈধ চায়না দুয়ারি  জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
অভিযান ও ভাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্মতা (ইউএনও)  ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্যাট আব্দুল্লাহ আল রিফাত।
এসময় উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ শাহাদত হোসেন, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রফিকুল ইসলাম সহ প্রশাসনিক কর্মকর্তা, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী  উপস্থিত ছিলেন।
ইউএনও আব্দুল্লাহ আল রিফাত জানান, চায়না দুয়ারি জাল বিলের ছোট বড় সব ধরনের মাছ ও জলজ প্রাণি ধবংস করে ফেলছে যা চলনবিলের জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কোন ছাড় নয়। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রেমিকের সঙ্গে পালানো নববধূর মরদেহ মিলল কামারখন্দ হাইওয়ের পাশে

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের পাশ থেকে এক নববধূর থেঁতলানো মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তিনি উল্লাপাড়া উপজেলার পূর্ণিমাগাতী ইউনিয়নের ফলিয়া গ্রামের আলতাফ হোসেনের মেয়ে মোছাঃ মুক্তা খাতুন (১৭)।
সোমবার (২২ জুন) সকালে উপজেলার কোনাবাড়ী মফিজ মোড় এলাকায় ঢাকাগামী লেনের পাশে স্থানীয়রা এক নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে যমুনা সেতু পশ্চিম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, নিহতের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থলের পাশে একটি লাল রঙের শাড়িও পাওয়া গেছে। এটি সড়ক দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিকভাবে প্রায় ১৫ দিন আগে মুক্তা খাতুনের বিয়ে হয়েছিল। তবে রোববার রাতে তিনি বাবার বাড়ি থেকে সিরাজগঞ্জের কড্ডা মোড় এলাকার এক প্রেমিকের সঙ্গে চলে যান। এর একদিন পর সোমবার সকালে কামারখন্দের কোনাবাড়ী মফিজ মোড় এলাকায় তার মাথা থেঁতলানো মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
বঙ্গবন্ধু পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাহের জানান, মরদেহটি মহাসড়কের পাশে পড়ে ছিল। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নিতে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে।

ধুনটে এলাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি পদে নাজমুল হকের মনোনয়ন পত্র দাখিল

বগুড়ার ধুনট  উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের এলাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের  এডহক কমিটির সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন নাজমুল হক সরকার (২২ জুন) সোমবার দুপুরে এলাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ে মিলনায়তনে।
উক্ত মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন  এলাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রউফ , সহকারী শিক্ষক ফজলুল হক,গোলাম  মোস্তফা, আব্দুল হামিদ, বিউটি রাণী ঘোষ।
এলাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন পিষ্টন, এলাঙ্গী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জি এম সম্রাট,  এলাঙ্গী ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক জিয়াউর রহমান জিয়া তালুকদার, ছাত্রদল নেতা রবিউল ইসলাম রতনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
৪০ বগুড়া -০৫ আসনের (শেরপুর – ধুনট নির্বাচনী এলাকার) মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের মনোনিত এডহক কমিটির সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র দিয়েছেন ।
এলাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের জমি দাতা সদস্য মরহুম মোজাম্মেল হকের ছেলে নাজমুল হক সরকারকে।

নীলফামারীতে চীনা নাগরিকের সঙ্গে তরুণীর বিয়ে, খতিয়ে দেখছে পুলিশ

নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে কর্মরত এক তরুণীর সঙ্গে এক চীনা নাগরিকের বিয়েকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিয়েটি নিয়ে নানা ধরনের তথ্য ও দাবি ছড়িয়ে পড়লেও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এসবের সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নীলফামারী সদর উপজেলার সংগলশী এলাকার বাসিন্দা জুয়েল হোসেনের মেয়ে মোছা. মাইশা আক্তার জুঁইয়ের সঙ্গে চীনা নাগরিক লিয়াউ জিচুনের পরিচয় হয় উত্তরা ইপিজেডে কর্মসূত্রে। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে গত ১০ জুন কোর্ট অ্যাফিডেভিটের (হলফনামা) মাধ্যমে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের আগে লিয়াউ জিচুন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নুর মোহাম্মদ নাম ধারণ করেন বলে জানা গেছে।

 

 

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১৮ জুন পারিবারিকভাবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। বিয়েতে তিন লাখ ২৫১ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় এবং নগদ পাঁচ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়।

 

 

জানা গেছে, মাইশা আক্তার জুঁই উত্তরা ইপিজেডের মেইগো বিডি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এক ব্যক্তির মাধ্যমে চীনা নাগরিকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে পারিবারিক সম্মতিতেই তাদের বিয়ে হয় বলে দাবি পরিবারের।

 

 

এদিকে, বিয়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে কনেকে মাইক্রোবাসে ওঠার সময় কান্নারত অবস্থায় দেখা যায়। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ দাবি করেন, এটি স্বাভাবিক বিয়ে নয়; বরং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অর্থের বিনিময়ে করা একটি চুক্তিভিত্তিক বিয়ে। তবে এ ধরনের দাবির পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

 

স্থানীয় বাসিন্দা লিটন ইসলাম বলেন, ‘আমার জানা মতে, তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পরিচয় ছিল। পরে তারা পারিবারিকভাবে বিয়ে করেছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের কথা শোনা যাচ্ছে।’

 

 

বিষয়টি জানতে জুঁইয়ের বাবা জুয়েল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এছাড়া নবদম্পতির বর্তমান অবস্থান সম্পর্কেও তিনি কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি।

 

 

নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, তারা কোর্ট অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে করেছেন। অর্থের বিনিময়ে চুক্তিভিত্তিক বিয়ের যে অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার হচ্ছে, সে বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

 

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবির সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

 

 

 

কামারখন্দে অজ্ঞাত এক নারীর থেঁতলানো লাশ উদ্ধার

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক নারীর থেঁতলানো মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২২ জুন) সকালে উপজেলার কোনাবাড়ী মফিজ মোড় এলাকায় ঢাকাগামী লেনের পাশে স্থানীয়রা ওই নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে বঙ্গবন্ধু পশ্চিম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, নিহত নারীর বয়স আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৫ বছর। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থলের পাশে একটি লাল রঙের শাড়ি পাওয়া গেছে।
বঙ্গবন্ধু পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাহের জানান, মহাসড়কের পাশে মাথা থেঁতলানো অবস্থায় মরদেহটি পড়ে ছিল। এটি সড়ক দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি আরও জানান, নিহতের পরিচয় শনাক্তের জন্য পিবিআইকে খবর দেওয়া হয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানালেন নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, দক্ষিণ লেবাননের বাফার জোন থেকে ইসরায়েলি সেনা আপাতত প্রত্যাহার করা হবে না। যত দিন প্রয়োজন, তত দিন সেখানে সেনা মোতায়েন থাকবে।

 

 

 

রোববার (২১ জুন) এক স্মরণসভায় তিনি এ কথা বলেন। নেতানিয়াহুর দাবি, ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করা গোষ্ঠীগুলোর ওপর চাপ অব্যাহত রাখা হবে।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, চলমান কূটনৈতিক আলোচনা যাই হোক না কেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। গত এক বছরে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে তিনি দেশের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেন।

এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজও জানান, সীমান্তবর্তী বাফার জোন থেকে ইসরায়েল সেনা সরাবে না। সীমান্ত এলাকায় সম্ভাব্য হুমকির বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানও অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে। তারা লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

সূত্র: শাফাক নিউজ

 

কুয়ালালামপুরে আনোয়ার ইব্রাহিম–তারেক রহমান বৈঠক শুরু

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষ্যে মালয়েশিয়ার পুত্রাজায়াতে অবস্থিত দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পেরদানা পুত্রা’ ভবনের চারপাশে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার পতাকা দিয়ে বর্ণাঢ্যভাবে সাজানো হয়েছে।

 

 

 

সোমবার (২২ জুন) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে নয়টার সময় পুত্রাজায়ায় সরজমিনে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

 

 

 

এদিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উচ্চ পর্যায়ের সীমিত বৈঠক শুরু হয়েছে।

এর আগে সকাল সাড়ে আটটার দিকে তারেক রহমান পুত্রাজায়ায় পৌঁছানোর পর তাকে লালা গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত ও অভিবাদন জানান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী।

 

 

পেরাদানা পুত্রা ভবনের সামনে মালয়েশিয়া মাদানী স্কয়ার যেন বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনের প্রতীক্ষায়। পরে এখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে একান্ত বৈঠক এবং দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কথা বলবেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী।

 

 

দেখা গেছে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর প্রশাসনিক কার্যালয়ে দীর্ঘ লম্বা সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার পতাকা দিয়ে।

 

 

 

মালয়েশিয়ার রাজধানী পুত্রাজায়াতে অবস্থিত। রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই ভবনটি মালয়, ইসলামিক-মুঘল এবং ইউরোপীয় স্থাপত্যের এক চমৎকার সংমিশ্রণ গঠিত, যার কেন্দ্রে রয়েছে আইকনিক সবুজ গম্বুজ।

 

 

 

পুত্রাজায়া স্কয়ারের চারপাশে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকা উড়ছে। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ভবনে যা নাম ‘পেরাদানা পুত্রা’ সেই ভবনের মালয়েশিয়ার পতাকার পাশে বাংলাদেশের পতাকা উড়ছে।

 

 

 

স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

নেত্রকোণায় স্ত্রী পারভীন আক্তারকে নির্যাতন করে হত্যার দায়ে শফিকুল ইসলাম (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

 

 

 

বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে নেত্রকোণা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ.কে.এম. এমদাদুল হক এ রায় ঘোষণা করেন।

 

 

 

এ সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মামলার অপর দুই আসামি তোরাব আলী ও সখিনা খাতুনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে বারহাট্টা উপজেলার রত্নপুর গ্রামের পারভীন আক্তারের সঙ্গে কলমাকান্দা উপজেলার ক্ষুদ্র সিধলী গ্রামের শফিকুল ইসলামের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই শফিকুল ইসলাম যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

ঘটনার এক মাস আগে শফিকুল ইসলাম পারভীনের কাছে এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয়। পরে পারভীন বাবার বাড়িতে চলে গেলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করে তাকে আবার স্বামীর বাড়িতে পাঠানো হয়।

 

 

এরপর ২০১৯ সালের ২৬ এপ্রিল গভীর রাতে পারভীনের মৃত্যুর খবর তার পরিবার জানতে পারে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে ঘরের বারান্দায় তার মরদেহ দেখতে পান। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোণা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আবু ইউসুফ বাদী হয়ে কলমাকান্দা থানায় স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও শুনানি শেষে আদালত শফিকুল ইসলামকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

 

 

 

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মো. নুরুল কবির রুবেল বলেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা। আদালত স্ত্রীকে নির্যাতন করে হত্যার দায়ে শফিকুল ইসলামকে সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছেন। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।

 

কক্সবাজারে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ, অধিকাংশ রোগী রোহিঙ্গা

কক্সবাজারে দিন দিন এইচআইভি রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবাধ যৌন সম্পর্ক, একাধিক বিয়ে, স্বাস্থ্যশিক্ষার অভাব, সচেতনতার ঘাটতি এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে অনীহার কারণে এইচআইভি সংক্রমণের হার বাড়ছে।

 

 

 

সূত্র জানায়, জেলার মোট এইচআইভি আক্রান্তদের প্রায় ৯৩ শতাংশই রোহিঙ্গা শরণার্থী, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তারা আরো জানান, রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক, সামাজিক ও পরিবেশগত চাপের পাশাপাশি কক্সবাজার এখন আরেকটি নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখোমুখি।

 

 

 

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন। এরমধ্যে কক্সবাজারেই রয়েছে প্রায় আড়াই হাজার। আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এদের মধ্যে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সংখ্যা মাত্র ১৭০ জন। বাকি অধিকাংশই উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে বসবাসরত রোহিঙ্গা।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের এআরটি (অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি) সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের বড় ঢলের পর থেকেই আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। শুধু ২০২৫ সালেই নতুন করে ২১৭ জন এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন, যাদের সবাই রোহিঙ্গা। এর আগের বছর ২০২৪ সালে শনাক্ত হয়েছিল ২১৫ জন।

 

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের বলেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর তুলনায় রোহিঙ্গাদের মধ্যে এইচআইভি আক্রান্তের হার অনেক বেশি। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়মিত কাজ করছে।

 

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যা শুধু আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আক্রান্ত মায়েদের মাধ্যমে নবজাতকদের শরীরেও ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে নতুন প্রজন্মের মধ্যেও ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

 

 

 

এইচআইভি ও এইডস বিষয়ক গবেষক অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বাস্থ্যশিক্ষার ঘাটতি রয়েছে। অনেকেই জানেন না কীভাবে এই ভাইরাস ছড়ায় বা প্রতিরোধ করা যায়। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি অসচেতন থাকলে তার মাধ্যমে আরও অনেকের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে যেতে পারে।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, আক্রান্ত মায়েদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সতর্কতা নিশ্চিত না করা হলে গর্ভাবস্থায় কিংবা জন্মের সময় শিশুর শরীরেও এইচআইভি সংক্রমিত হতে পারে।

 

 

 

কক্সবাজার এআরটি সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. মেজবাহ জানান, বর্তমানে কয়েকজন শিশু এইচআইভি পজিটিভ হিসেবে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তারা জন্মগতভাবে মায়ের কাছ থেকে ভাইরাসটি পেয়েছে। এ ধরনের সংক্রমণ রোধে ‘প্রিভেনশন অব মাদার টু চাইল্ড ট্রান্সমিশন (পিএমটিসিটি)’ কর্মসূচির আওতায় আক্রান্ত মায়েদের বিশেষ পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

 

 

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে এইচআইভি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে শুধু চিকিৎসা নয়, প্রয়োজন ব্যাপক স্বাস্থ্যশিক্ষা, সচেতনতা কার্যক্রম, নিয়মিত পরীক্ষা এবং ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ কমাতে সমন্বিত উদ্যোগ। অন্যথায় ভবিষ্যতে এটি আরও বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে রূপ নিতে পারে।

 

প্রত্যাহার হওয়া ডিসি সারওয়ারকে বহাল রাখার দাবি সিলেটে

সিলেটে মাজার ব্যবস্থাপনা ও সাম্প্রতিক একাধিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্কের পর শেষ পর্যন্ত জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে সিলেটের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।

 

 

 

এদিকে সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারের আদেশ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সিলেটের সর্বস্থরের যুব সমাজ। বিকাল ৬টায় সিলেট কোর্ট পয়েন্টে ও ডিসি অফিসের সামনে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

বক্তারা বলেন, সিলেটের স্বার্থে, সিলেটবাসীর দাবির প্রতি সম্মান দেখিয়ে ডিসি সরওয়ার আলমকে বহাল রাখতে হবে। জনমতের বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত সিলেটবাসী মেনে নেবে না।

 

গত বছরের ১৮ আগস্ট সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান মো. সারওয়ার আলম। এর আগে তিনি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের একান্ত সচিবের দায়িত্বে ছিলেন। সিলেটের সাদাপাথর লুট ও চুরির ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে তখন জেলা প্রশাসক হিসেবে তাকে পদায়ন করা হয়।

 

 

প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, দায়িত্ব পালনকালে একাধিক আলোচিত সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ ঘিরে সারওয়ার আলমের কর্মকাণ্ড নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা চলছিল। সর্বশেষ মাজার ইস্যুতে নেওয়া পদক্ষেপই জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, যার ফলে শেষ পর্যন্ত তাকে প্রত্যাহার করতে সরকার বাধ্য হয়েছে বলে ধারণা তাদের।

 

 

মাজার-ভক্ত-অনুসারীরা জানান, প্রায় ৭০০ বছর ধরে যে প্রক্রিয়ায় মাজার পরিচালিত হয়ে আসছে, সে ঐতিহ্যকে বিনষ্ট করতেই এই কাজ করা হয়েছে। যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দানবাক্সে সিলগালা করা হয়েছে, এটা মোটেও সঠিক পদ্ধতি নয়। এটা মাজার ও অলি-আউলিয়াবিরোধী কর্মকাণ্ড। হিসাব চাইতেই পারেন কেউ। কিন্তু জোরজবরদস্তি করে যেভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, সেটা ঠিক নয়।

 

 

 

সিলেট সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সভাপতি শামসুল বাসিত শেরো বলেন, কবি নজরুল অডিটোরিয়ামের মেরামতের মত সামান্য কাজ দুবছরে করতে পারেননি জেলা প্রশাসক। দুই বছরের বিদ্যুৎ বিল বাকী, নাইটগার্ডের ১৮ মাসের বেতন বাকি।

 

 

 

জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম বদলির বিষয়ে সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলনের সিলেট শাখার সমন্বয়ক আব্দুল করিম কিম কালবেলাকে বলেন, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাদাপাথর লুটের সময় তিনি লুটকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও পাথর পুনঃস্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এছাড়া র‌্যাবে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় থেকেই তিনি জনমনে পরিচিত ছিলেন।

 

 

 

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছু পদক্ষেপ বিশেষ করে দানবাক্স ও ঐতিহাসিক দানের ‘ডেগ সিলগালা’ এবং সেখানে পুলিশ ও আনসার মোতায়েন অনেকের কাছে বিতর্কিত ও অশোভন মনে হয়েছে।

 

 

 

এতে মাজার সংশ্লিষ্টদের সামাজিকভাবে হেয় করা হয়েছে এবং ঐতিহ্য ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

 

আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অবদানে জলঢাকা থানার ওসিকে  বিশেষ সম্মাননা প্রদান

জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব নাজমুল আলমকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করেছে নীলফামারী জেলা প্রশাসন। আজ রবিবার দুপুরে নীলফামারী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক জনাব নায়িরুজ্জামান তাঁর হাতে এই সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। নীলফামারী জেলার সকল থানার মধ্যে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক নিয়ন্ত্রন, চোর সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম দমন সহ সার্বিক তৎপরতায় গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রাখায় জনাব নাজমুল আলম কৃতিত্বপূর্ণ এই সম্মান অর্জন করেন।
সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার নীলফামারী, জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপী সহ নীলফামারী জেলাধীন সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জ সহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।
জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব নাজমুল আলম মর্যাদাপুর্ন এই সম্মান অর্জন জলঢাকার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশ বাহিনীকে আরও কর্মতৎপর ও উৎসাহী করে তুলবে বলে মনে করছেন জলঢাকার শান্তিপ্রিয় জনগণ।

এক স্ত্রী নিয়ে দুই স্বামীর টানাটানি! অতঃপর…

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ফুলজোড় ডিগ্রি কলেজের এক শিক্ষার্থীকে বিয়ে ঘিরে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একই নারীকে নিয়ে এক কলেজ শিক্ষকের সঙ্গে বিয়ের পর নিজেকে তার পূর্বের বৈধ স্বামী দাবি করে হাজির হয়েছেন আরেক ব্যক্তি। ঘটনাটি ঘিরে কলেজ ক্যাম্পাস, স্থানীয় এলাকা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ফুলজোড় ডিগ্রি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মনোয়ারুল ইসলাম গত ১৯ জুন একই কলেজের বিএ (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও উল্লাপাড়া উপজেলার আমডাঙ্গা গ্রামের শামছুল হক ভূঁইয়ার মেয়ে স্বর্ণা খাতুনকে বিয়ে করেন। অভিযোগ রয়েছে, কলেজে পড়াশোনার সময় তাদের মধ্যে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়, যা পরে বিয়েতে রূপ নেয়।
তবে বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর নতুন মোড় নেয় ঘটনাটি। উল্লাপাড়া উপজেলার বড়হর তেঁতুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য মো. মুরাদ হোসেন দাবি করেন, প্রায় দুই বছর আগে স্বর্ণা খাতুনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল এবং তিনি এখনও তার বৈধ স্বামী। তার অভিযোগ, স্বর্ণাকে কৌশলে অন্যত্র বিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মুরাদ হোসেন বলেন,
“স্বর্ণা আমার স্ত্রী। প্রায় দুই বছর আগে আমাদের বিয়ে হয়। এখন তাকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমি মেনে নিতে পারছি না। এতে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।”
রোববার কলেজের অফিস কক্ষে এসে কান্নাকাটি করলে শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি দ্রুত ক্যাম্পাসজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভাইরাল হয়ে যায়।
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক মো. মনোয়ারুল ইসলাম সরাসরি মন্তব্য না করে বলেন, “এসব বিষয়ে সামনাসামনি কথা বললে ভালো হয়। পরে কথা বলছি। আমার বড় ভাই আপনার সঙ্গে কথা বলবেন।”
অধ্যাপকের বড় ভাই মো. লিটন দাবি করেন, “স্বর্ণার আগে কোনো বিয়ে হয়নি। নিজেকে স্বামী দাবি করা ব্যক্তি প্রতারণার চেষ্টা করছেন। পারিবারিকভাবেই এই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। তার দাবির কোনো ভিত্তি নেই।”
ফুলজোড় ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শাহেদ আলী বলেন, “মেয়েটি অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং প্রাপ্তবয়স্ক। প্রেম করতেই পারে। বিয়ে করেছে কি না, সে বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।”
রায়গঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এলিজা সুলতানা বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বা আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়।”
এদিকে, ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা স্বর্ণা খাতুনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, মুরাদ হোসেনের দাবিকৃত পূর্ববর্তী বিয়ের কোনো নথিপত্রও তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ফলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর বৈবাহিক সম্পর্ক এবং পূর্ববর্তী বৈবাহিক দাবিকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

লেবাননে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী সক্রিয় হলে ফের হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, লেবাননে তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে অবিলম্বে ঝামেলা সৃষ্টি বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র আবারও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেবে এবং ইরানে হামলা চালাবে।

 

 

 

রোববার (২১ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ হুঁশিয়ারি দেন।

 

 

 

তিনি লেখেন, ইরানকে অবশ্যই লেবাননে তাদের উচ্চ বেতনভুক্ত প্রক্সিদের ঝামেলা সৃষ্টি করা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তারা যদি তা না করে, তাহলে আমরা ইরানকে আবারও খুব কঠোরভাবে আঘাত করবো; গত সপ্তাহের চেয়েও বেশি শক্তি দিয়ে।

লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার নতুন পর্ব শুরু হওয়ার মধ্যে ট্রাম্প এই মন্তব্য করলেন।

 

এর আগে ইরান অভিযোগ করেছিল, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের প্রথম শর্ত, সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ বাস্তবায়িত হয়নি। তেহরানের দাবি, ওয়াশিংটন ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি মানতে বাধ্য করতে ব্যর্থ হয়েছে।

 

 

বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন ইস্যু এখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অন্যতম স্পর্শকাতর বিষয়ে পরিণত হয়েছে এবং এ নিয়ে উত্তেজনা বাড়লে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অগ্রগতিও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

সূত্র : আল জাজিরা

 

মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় লালগালিচা সংবর্ধনা

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় রোববার (২১ জুন) রাত পৌনে ৯টায় প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইট কুয়ালামপুরের বুঙ্গা রায়া কমপ্লেক্সে (Bunga Raya Complex) এক্সক্লুসিভ ভিভিআইপি টার্মিনালে অবতরণ করে।

 

 

 

টার্মিনালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান এবং তার সহধর্মিণী। ছোট শিশু মাইসা নুর আইশা জুবাইদা রহমানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

 

 

 

এ সময়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী ও ডেপুটি হাই কমিশনার মিস সাহানারা মনিকা উপস্থিত ছিলেন।

 

সুসজ্জিত বাহিনীর দেওয়া গার্ড অব অনারের সময়ে ২ দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। এরপর বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রা সহকারে কুয়ালালামপুরের ‘শাংগ্রি লা’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সফরে প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিনীসহ সফরসঙ্গীরা এ হোটেলে থাকবেন।

 

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও শাংগ্রি লা হোটেল পর্যন্ত ৫০ মিনিটে সড়ক পথে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকায় সজ্জিত করা হয়।

 

 

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর মালয়েশিয়ায় প্রথম সফরে রয়েছেন তারেক রহমান।

 

 

 

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে আছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা একেএম শামসুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রমুখ।

 

 

 

তারেক রহমান সরকার গঠনের পরপরই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানান। সেই আমন্ত্রণেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক এই সফর। দক্ষিণ এশিয়ায় চীন ও ভারতের পর মালয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্য সহযোগী দেশ বাংলাদেশ। তবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে মালয়েশিয়া এগিয়ে আছে অনেক দূর। সেই মালয়েশিয়াকে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

 

 

সোমবার (২২ জুন) সকালে পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা জানাবেন।

 

 

 

সেখানে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে প্রথম একান্ত বৈঠক এবং এর পরপরই উভয় দেশের সরকারপ্রধানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেবেন দুই প্রধানমন্ত্রী। এই সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে পর্যটন ও সংস্কৃতিবিষয়ক সহযোগিতা নিয়েও দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে।

 

চাঁদাবাজির অভিযোগে এমপির ছেলেকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে

চাঁদাবাজির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে খাইরুল ইসলাম সজীবকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। সজীব নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

 

 

রোববার (২১ জুন) দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহায়তায় হেফাজতে নেওয়া হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী।

 

 

 

পুলিশ সূত্র জানায়, বিকেল ৫টার দিকে সজীবকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আনা হয়। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ পাওয়ার পর এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে সেখানে নেওয়া হয়।

 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী গণমাধ্যমকে বলেন, সজীবের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনি পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করেছেন এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বেচ্ছায় এসপি কার্যালয়ে আসেন।

 

 

পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

 

তবে অভিযোগের প্রকৃতি কিংবা মামলার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানায়নি পুলিশ। এ বিষয়ে তারেক আল মেহেদী বলেন, বিষয়টি নিয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু জানানো সম্ভব নয়।

 

 

 

এদিকে সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বার্তায় গণমাধ্যমকে জানানো হয়, খাইরুল ইসলাম সজীবকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।

 

 

 

ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হলেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সজীব বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

শাহজাদপুরে বিপুল পরিমাণ অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ‘চায়না দুয়ারি’ জাল জব্দ করা হয়েছে। পরে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের উপস্থিতিতে জব্দকৃত জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
শনিবার (২১ জুন) সকালে শাহজাদপুর থানা চত্বরে এসব জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইলোরা পারভিন, শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাইফুল ইসলাম, উপ-পরিদর্শক (এসআই) মন্তাজ উদ্দিনসহ থানার অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহজাদপুর থানার এসআই মন্তাজ উদ্দিনের নেতৃত্বে টহল পুলিশের একটি দল বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কের টেটিয়ারকান্দা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় একটি পিকআপ ভ্যান থেকে ১৬ বস্তা অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। পরে গাড়িটি থানায় নিয়ে আসা হয়।
আটক পিকআপের চালকের কাছ থেকে জানা যায়, জালগুলো পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা এলাকা থেকে বগুড়ায় নেওয়া হচ্ছিল।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, জব্দকৃত ১৬টি বস্তার মধ্যে মোট ৯৩ পিস অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল পাওয়া গেছে, যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে জালগুলো পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পিকআপের চালক ও তার সহকারীকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে পিকআপটি মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইলোরা পারভিন বলেন, চায়না দুয়ারি জাল উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ধরনের জাল ব্যবহারের ফলে দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুলিশের তৎপরতায় জালগুলো জব্দ করা সম্ভব হয়েছে এবং আমার উপস্থিতিতে সেগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। কোথাও অবৈধ চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার বা পরিবহন দেখতে পেলে দ্রুত প্রশাসন বা মৎস্য বিভাগকে জানাতে হবে।
মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সিরাজগঞ্জে একাত্তর টেলিভিশনের ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

সিরাজগঞ্জে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো দেশের জনপ্রিয় স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তর টিভির ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

 

 

রোববার (২৯ জুন) বেলা ১১টায় সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাব হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালায় সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

 

 

সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হারুন অর রশীদ খান হাসানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম ইন্নার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু।

 

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাজরান রউফ, সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মহীদুল হাসান, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. আব্দুল কাদের সেখ, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান, দৈনিক কলম সৈনিকের সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ, সিরাজগঞ্জ টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস হাসান, সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হেলাল আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টু, ফজল-এ-খোদা লিটন, সাবেক সহ-সভাপতি এস এম তফিজ উদ্দিন, বর্তমান সহ-সভাপতি হীরক গুণ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও যমুনা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার গোলাম মোস্তফা রুবেল, অর্থ সম্পাদক নয়াদিগন্তের রিপোর্টার নূরুল ইসলাম রইসী, বর্ণিক বার্তার রিপোর্টার অশোক ব্যানার্জী, সময় টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার রিংকু কুণ্ডু প্রমুখ।

 

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন একাত্তর টিভির সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ও সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ দেওয়ান রাজু।

 

 

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, একাত্তর টেলিভিশন প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বস্তুনিষ্ঠ, সাহসী ও জনমুখী সাংবাদিকতার মাধ্যমে দেশের গণমাধ্যমে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে চ্যানেলটি দর্শকদের আস্থা অর্জন করেছে এবং দেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। পাশাপাশি বস্তুনিষ্ঠ ও মানবিক সংবাদ পরিবেশনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

 

 

প্রধান অতিথি সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, একাত্তর টেলিভিশন দেশের মানুষের কথা তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় করতে একাত্তর টেলিভিশন ভবিষ্যতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

 

 

আলোচনা শেষে অতিথিরা একাত্তর টিভির প্রতিনিধিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান পুলিশ প্রশসান, রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা ও শিক্ষাবিদগণ এবং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘায়ু ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। পরে ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ১৪ পাউন্ডের কেক কর্তনের মধ্যদিয়ে আয়োজনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

 

 

 

“প্রাণের খোঁজে বিশ্বময়” এর উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ, আবৃত্তি-চিত্রাঙ্কন রচনা প্রতিযোগিতা

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সিরাজগঞ্জে গাছের চারা বিতরণ, পরিবেশের ওপরে কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, রচনা প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

রোববার (২১জুন) সকালে শহরের শিল্পকলা একাডেমী অডিটোরিয়ামে পরিবেশবাদী সংগঠন “প্রানের খোঁজে বিশ্বময়” এর আয়োজনে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু।

 

প্রানের খোঁজে বিশ্বময়’র সভাপতি ও রবীন্দ্র বিশ্ব বিদ্যালয় বাংলাদেশ এর বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক লায়লা ফেরদৌস হিমেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল হামিদ সরকার, সিরাজগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তুহিন আলম, অ্যাডভোকেট মাহবুব-এ-খোদা টুটল, জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত বৃক্ষপ্রেমী মাহবুব পলাশ প্রমূখ।

 

 

অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সবশেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

পেটানোর পর বৈদ্যুতিক শক দিয়ে যুবককে হত্যা, প্রতিবাদে পুলিশের গাড়ি ঘেরাও

চুরির অভিযোগে এক যুবককে পেটানোর পর বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

 

 

রোববার (২১ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠ সংলগ্ন রেলওয়ে পাবলিক হাইস্কুলের গেটের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করতে গেলে পুলিশের গাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ জনতা।

 

 

নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

 

ঘটনার খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধারে গেলে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের গাড়ি অবরোধ করে রাখে। এ সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

কোতোয়ালি থানার ওসি জায়েদ নূর বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি উদঘাটনে তদন্ত চলছে।পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

জাতীয় কবির ভাবনা-দর্শন ছড়িয়ে দিতে ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের উদ্যোগ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টি, সাহিত্যকর্ম ও মানবিক দর্শন নতুন প্রজন্মের মাঝে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে এক বছরের জন্য ‘নজরুল বর্ষ’ পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

 

 

রোববার (২১ জুন) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ২৫ মে থেকে আগামী বছরের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে পালন করা হবে।

 

 

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টি ও দর্শন নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা ২৫ মে ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। এ সময়জুড়ে কবির জীবন, কর্ম ও দর্শনভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সরকারের এ উদ্যোগের মাধ্যমে জাতীয় কবির সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অবদান নতুনভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে তার মানবতাবাদী ও বিদ্রোহী চেতনার সঙ্গে পরিচিত করার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জলঢাকায় টেন্ডার ছাড়াই সরকারি গাছ কর্তনের অভিযোগ

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় সামাজিক বনায়নের গাছ নিয়মবহির্ভূতভাবে কর্তন ও আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. জোবায়ের আলমের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি প্রদীপ কুমার রায়কে ব্যবহার করে উপজেলার বিভিন্ন স্থানের সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে উপজেলার কৈমারী-দোলাপাড়া এলাকায় ২ হাজার ১০০ মিটার সড়ক উন্নয়ন কাজে প্রায় ২ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ৭৩৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল গত ১২ মে ২০২৬। তবে সড়কের পাশে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় রোপণ করা বেশ কয়েকটি বৃহদাকৃতির ইউক্যালিপটাস গাছ থাকায় সেগুলো অপসারণের প্রয়োজন দেখা দেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি বিধি অনুযায়ী গাছগুলো নিলাম ও টেন্ডারের মাধ্যমে অপসারণের কথা থাকলেও সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বন বিভাগ কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রদীপ কুমার রায়ের মাধ্যমে  গাছগুলো কর্তন করে। পরে গাছগুলো অন্যত্র সরিয়ে বিক্রির পাঁয়তারা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির সদস্য ধীরেন্দ্র অধিকারী বলেন, “আমরা এই বাগানের সদস্য। কিন্তু গাছ নিলাম বা কর্তনের বিষয়ে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি। প্রদীপ যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন,সেভাবেই গাছ কর্তন হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক সদস্য বলেন, “এ বিষয়ে কিছু বলতে গেলে ভয়ভীতি ও মারধরের আশঙ্কা থাকে। তাই কেউ মুখ খুলতে চায় না।”
এদিকে গাছ অপসারণে ব্যবহৃত স্কেভেটর মেশিনের পরিচালক জানান, প্রদীপ কুমার রায়ের নির্দেশেই তারা গাছগুলো কেটেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে প্রদীপ কুমার রায় বলেন, “আমার কোনো দোষ নেই।  জলঢাকা বন বিভাগ কর্মকর্তা  আমাকে যে নির্দেশনা দিয়েছে, আমি সে অনুযায়ী কাজ করেছি।”
উপজেলা প্রকৌশলী মো. তারিকুজ্জামান বলেন, “আমরা অনেক আগেই বন বিভাগকে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে আমাদের করার কিছু নেই।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. জোবায়ের আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে স্থান ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা শাহিকুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সামাজিক বনায়নের গাছ কর্তন ও বিক্রির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

নকআউট পর্বে উঠবে কোন ৩২ দল, দেখে নিন

আপডেট টাইম : ০৪:৪৪:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের গ্রুপ পর্বের লড়াই জমে উঠেছে। টুর্নামেন্টের পরিধি বেড়ে ৪৮ দলের হওয়ায় এবারই প্রথম দেখা যাবে ৩২ দলের নকআউট পর্ব। ইতোমধ্যেই দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলেছে বেশ কয়েকটি পরাশক্তি, অন্যদিকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে পাঁচ দল। নতুন নিয়ম অনুযায়ী এবার গোল ব্যবধানের চেয়ে দলগুলোর পারস্পরিক লড়াইয়ের (হেড-টু-হেড) ফলাফলকে টাইব্রেকার হিসেবে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে ফিফা।

 

 

 

গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচ শেষেই নকআউটের টিকিট কেটেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। সোমবার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে জোড়া গোল করেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। এই কীর্তির মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোল সংখ্যা ১৮-তে নিয়ে গিয়ে বিশ্বমঞ্চের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নিলেন তিনি। এর আগে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিলেন এই মহাতারকা। গ্রুপ ‘জে’ থেকে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেই পরের রাউন্ডে যাচ্ছে আলবিসেলেস্তেরা।

 

 

 

আর্জেন্টিনা ছাড়াও দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করেছে দুই সহ-আয়োজক মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে গ্রুপ ‘এ’ থেকে সবার আগে নকআউট নিশ্চিত করে মেক্সিকানরা। আর অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে গ্রুপ ‘ডি’ থেকে শেষ বত্রিশে জায়গা করে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে টানা দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার ধাক্কা সামলে এবার দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে জার্মানি। কুরাসাও এবং আইভরি কোস্টকে হারিয়ে নকআউটে পা রেখেছে তারা। এছাড়া গ্রুপ ‘আই’ থেকে কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোলে ইরাককে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে ফেভারিট ফ্রান্স এবং সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে চমক দেখানো নরওয়ে শেষ বত্রিশের টিকিট নিশ্চিত করেছে।

অন্যদিকে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে পাঁচ দলের। গ্রুপ পর্বের দুটি করে ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট থেকে সবার আগে বিদায় নিয়েছে হাইতি, তুরস্ক, তিউনিসিয়া, জর্ডান এবং পানামা। নতুন নিয়মে পারস্পরিক লড়াইয়ে পিছিয়ে থাকায় শেষ ম্যাচে অলৌকিক কিছু ঘটলেও আর তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলোকে ছোঁয়া সম্ভব নয় এই দলগুলোর পক্ষে। আগামী ২৭ জুন পর্যন্ত চলবে গ্রুপ পর্বের খেলা, আর ২৮ জুন থেকে শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত নকআউট পর্বের মহালড়াই।

 

তিথির হাতের মেহেদীতে ‘আলভী’ লেখা ছবিটি এআই জেনারেটেড: আলভী

অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথির হাতের মেহেদী দেওয়া ছবিতে আলভী লেখা এআই জেনারেটেড বলে দাবি করেছেন অভিনেতা জাহের আলভী ওরফে মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া।

 

 

বুধবার (২৪ জুন) আদালতকে এ তথ্য জানান আলভী।

 

 

তিনি বলেন, আমি এমন একটা পরিস্থিতিতে আছি। শোক পালন করব, নাকি কি করব বুঝতে পারছি না। আমরা দুজনে ম্যাচিউর। প্রেম করে বিয়ে করেছি। আমাদের বিয়ের পর খুনসুটি ছিল, অভিমান ছিল, ঝগড়া ছিল। আমাদের সম্পর্ক ইস্মুথ ছিল। এমন কিছু ঘটেনি যে ইকরা আত্মহত্যা করবে।

আলভী আরও বলেন, আমি যেহেতু মিডিয়ায় কাজ করি। আমার শুভাকাঙ্ক্ষী ছাড়াও হেটার্স আছে। তারাই ইকরার মৃত্যুর পর আমাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রপাগান্ডা ছড়িয়েছে। তিথির হাতের মেহেদী দেওয়া ছবিতে আলভী লেখা এআই জেনারেটেড। এখনো সেই ছবি আছে। আসল ছবিতে আলভী লেখা নেই।

তিনি আরও বলেন, আমি নাকি নেপালে গেছি ৬টা নাটক করতে। আমার সঙ্গে অনেক মানুষ ছিল। এমন না যে আমি বার্থডে সেলিব্রেট করতে গেছি। আমার একটা সন্তান আছে সে তার মাকে হারিয়েছে। সে যতোই নানা নানী দাদা দাদীর কাছে থাক। তার বাবা প্রয়োজন আমাকে জামিন দিন।

এদিন আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির মিরপুর বিভাগের পরিদর্শক মো. আব্দুল মালেক।

 

 

পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুণী মীরের আদালত আলভীর ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

 

রিমান্ডের বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন সিএমএম কোর্টের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট হারুনুর রশিদ।

 

 

এর আগে গত ১৮ জুন দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে আইনজীবীদের মাধ্যমে জামিন আবেদন করেন আলভী। শুনানি শেষে দুপুর আড়াইটার দিকে আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

 

 

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিরপুরের ডিওএইচএসে বাসা থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ইকরাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা। পরে বাসার মালিকসহ স্বজনরা মিলে তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওইদিন রাতেই মামলা করেন ইকরার বাবা কবির হায়াত খান।

 

 

দীর্ঘদিনের ‘পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণেই’ ইকরা আত্মহত্যা করতে ‘বাধ্য হয়েছেন’ বলে মামলায় অভিযোগ করেন তিনি। এই মামলায় গত ৪ জুন জাহের আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি আত্মসমর্পণ করে জামিন পান।

 

 

২০২৭ থেকে জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে এসএসসি পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

২০২৭ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

 

 

 

বুধবার (২৪ জুন) ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রীয় সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ তথ্য জানান।

 

 

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারিতে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ২০২৮ সাল থেকে দেশের শিক্ষা কারিকুলামে পরিবর্তন আনা হবে।

সভায় বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। নতুন কারিকুলামের কাঠামো ও এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।

 

বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে কঙ্কাল উদ্ধার, পাশে কাঁধের ব্যাগ

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে অজ্ঞাত ব্যক্তির কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। কঙ্কালটির পরিচয় এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বের করতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

 

সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় সাতজন শ্রমিক উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা বাইশারী ইউনিয়নের হাতির ডেরা নামক স্থানে এ কঙ্কাল দেখতে পেয়ে পুলিশকে জানান।

 

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাইশারী বাজার থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার উত্তরে ২৮০ নং আলীক্ষ্যং মৌজার হাতির ডেরা এলাকায় ডিভাইন রাবার গার্ডেনের গয়াল দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা রাখাল আনোয়ারসহ সাতজন শ্রমিক সোমবার সন্ধ্যায় গয়াল আনতে গিয়ে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় মৃত বশির উল্লাহ খতিয়ানের পাহাড়ি জায়গায় একটি মানব কঙ্কাল দেখতে পান। পরে তারা বিষয়টি নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় অবহিত করেন।

খবর পেয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হকের নির্দেশে মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে আলীক্ষ্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বলাট্য চাকমার নেতৃত্বে একদল পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে যান। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে গহীন পাহাড়ি এলাকা থেকে কঙ্কালটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয় এবং এ ঘটনায় প্রাথমিক তদন্ত শুরু করা হয়।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে কঙ্কালটির বিভিন্ন হাড়গোড় ও মাথার খুলি ছাড়াও একটি ব্যাগ, কিছু ওষুধ, তারকাটা, একটি লুঙ্গি এবং একটি চাদর উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এসব আলামত পর্যালোচনা করে কঙ্কালটির পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটির পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কঙ্কালটি কতদিন আগের, তা নিশ্চিত হতে বিশেষজ্ঞ মতামতের প্রয়োজন হতে পারে।’

 

 

এ বিষয়ে বাইশারী ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম উদ্দিন বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি কার, তা দ্রুত শনাক্ত করা জরুরি। এতে কোনো নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটতে পারে।’

 

 

বাইশারী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কঙ্কালটি অনেক দিনের পুরোনো। তবে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।’

 

 

স্থানীয়দের ধারণা, দুর্গম ও জনবিচ্ছিন্ন পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে থাকার কারণেই মরদেহটি কঙ্কালে পরিণত হয়েছে। তবে এটি স্বাভাবিক দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট—তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

দীর্ঘ বিরতির পর তিন কিংবদন্তি একই নাটকে

বাংলা নাট্যাঙ্গনের তিন গুণী শিল্পী আবুল হায়াত, দিলারা জামান ও ডলি জহুরকে দীর্ঘদিন পর আবারও দেখা যাবে একই নাটকে। রাহাত কবিরের রচনা ও পরিচালনায় নির্মিত একক নাটক ‘দাদি ভয়ংকর’-এ অভিনয় করেছেন এই তিন বরেণ্য শিল্পী। সম্প্রতি নাটকটির শুটিং সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে আবুল হায়াতের রচনা ও নির্দেশনায় নির্মিত ‘শেষ পত্র’ নাটকে একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন দিলারা জামান, ডলি জহুর, শর্মিলী আহমেদ ও চিত্রলেখা গুহ। সেই স্মৃতি উসকে দিয়েই আবারও এক ফ্রেমে ফিরলেন আবুল হায়াত, দিলারা জামান ও ডলি জহুর। তবে এবার আবুল হায়াত নির্দেশকের ভূমিকায় নন, রয়েছেন অভিনয়ে।

 

 

 

নাটকটির গল্প সম্পর্কে পরিচালক রাহাত কবির বলেন, ‘ইন্টারনেট এবং আমাদের যাপিত জীবন এই নাটকের মূল বিষয়। ইন্টারনেটের ভালো দিক যেমন আছে, খারাপ দিকও আছে। এই নাটকে ভালো-খারাপ দুটি দিকই দেখানো হয়েছে। কিন্তু ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহার যে আমাদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, সেটাই বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। নাটকে তিনজন কিংবদন্তি গুণী শিল্পীর শিডিউল মেলাতে আমার কষ্ট হয়েছে, কিন্তু তারা ভীষণ আন্তরিকতার সঙ্গে কষ্ট করে সব দিক ম্যানেজ করে সময় দিয়েছেন, অভিনয় করেছেন। এই নাটক আমার জীবনের মাইলফলক হয়ে থাকবে।’

 

 

 

নাটকটিতে কাজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে আবুল হায়াত বলেন, ‘ভীষণ ভালো লেগেছে নাটকটিতে কাজ করে। কারণ, কয়েকজন সিনিয়র শিল্পীকে এক করে একক নাটক নির্মাণ করা কঠিন একটি কাজ। রাহাত কবিরকে ধন্যবাদ এমন একটি গল্পে আমাদের নিয়ে নাটক নির্মাণের জন্য।’

দিলারা জামান বলেন, ‘প্রযুক্তি আমাদের যতটা স্বাচ্ছন্দ্য দিচ্ছে, ঠিক ততটা বিপদও ডেকে আনছে। সেই ব্যাপারেই মূলত নাটকের মধ্য দিয়ে সবাইকে সাবধান করে দেওয়া। খুব ভালো লেগেছে কাজটি করে। আমার তো বারবার সেই শেষ পত্রের দিনগুলোর কথা মনে পড়ছিল।’

ডলি জহুর বলেন, ‘অনেক বছর আগে হায়াত ভাইয়ের পরিচালনায় আমরা চারজন একসঙ্গে অভিনয় করেছিলাম, তার মধ্যে শর্মিলী আপা আমাদের মাঝে নেই। এত দিন পরে দিলারা আপা, হায়াত ভাইয়ের সঙ্গে এক নাটকে কাজ করে কী যে ভালো লেগেছে ভাষায় প্রকাশের নয়।’

‘দাদি ভয়ংকর’ নাটকে দিলারা জামান অভিনয় করেছেন দাদির চরিত্রে। আবুল হায়াতকে দেখা যাবে রাইসুল চরিত্রে এবং ডলি জহুর অভিনয় করেছেন মর্জিনা চরিত্রে। এছাড়া নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাদের চৌধুরী, করভী মিজান, আরশ খান ও উর্বী।

 

 

 

নির্মাতা জানিয়েছেন, শিগগিরই একটি ইউটিউব চ্যানেলে নাটকটি দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

রাতে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, স্থানীয়দের হাতে ধরা ৪

দিনাজপুর সদর উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের বনতারা সীমান্ত দিয়ে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় চারজনকে আটক করেছে এলাকাবাসী। আটকদের মধ্যে তিন পুরুষ ও এক নারী রয়েছেন।

 

 

বুধবার (২৪ জুন) ভোর ৬টার দিকে শংকরপুর ইউনিয়নের শালকি মৈজাকুড়ি গ্রাম থেকে স্থানীয়রা তাদের আটক করে। পরে তাদের ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায়।

 

 

আটক চারজনের মধ্যে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন— নড়াইল জেলার কালিয়া পৌরসভার মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা আকুব্বর মোল্যা ও তার স্ত্রী জাহানারা বেগম।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে বনতারা গিলাবাড়ি সীমান্ত এলাকা দিয়ে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ভোরে শালকি মৈজাকুড়ি গ্রামের বিভিন্ন স্থানে তাদের ঘোরাফেরা করতে দেখে সন্দেহ হলে এলাকাবাসী তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তাদের ইউনিয়ন পরিষদে হস্তান্তর করা হয়।

শংকরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য পংকজ বসাক বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা কাজের সন্ধানে ভারতে যাতায়াত করতেন। তবে কীভাবে তারা সীমান্ত পারাপার করতেন সে বিষয়ে পরিবার কিছুই জানে না।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

 

 

ফুলবাড়ী ২৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুজ্জামান বলেন, এটি কোনো পুশইনের ঘটনা নয়, বরং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশের ঘটনা। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

 

 

তিনি আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার কণ্ঠশিল্পী মমতাজ

জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র রাজধানীর মিরপুর মডেল থানাধীন এলাকায় মো. মুক্তার হোসেনকে হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমকে ফের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

 

 

বুধবার (২৪ জুন) পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন৷

 

 

এর আগে, মমতাজকে আদালতে হাজির করে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. আজিজুল হক।

এদিন আদালতে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। অপরদিকে তার আইনজীবীরা গ্রেপ্তারের বিরোধিতা করেন।

গ্রেপ্তারের আবেদনে বলা হয়, আসামির এই মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এজন্য আসামিকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন। মামলার তদন্ত চলমান। আসামিকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলে তাকে মামলার ঘটনার বিষয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পরবর্তীতে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হতে পারে।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট জুলাই আন্দোলনের সময়ে বাদী ও ভিকটিম মো. মুক্তার হোসেন মিরপুরের সুইমিং ও ফায়ার সার্ভিসের রাস্তায় আন্দোলনে যোগ দেন। আন্দোলন দমাতে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের লোকজন তাদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণ করে। পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেট মুক্তার হোসেনের শরীর ও বুকে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে পরে যায়। পরবর্তীতে কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এ ঘটনায় মুক্তার একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। এই মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার দেখানো হলো।

 

 

২০২৫ সালের ১২ মে রাত পৌনে ১২টায় ধানমন্ডির স্টার কাবাবের পেছনের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরদিন তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার সিএমএম আদালত। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

 

 

লোকসংগীতের জনপ্রিয় শিল্পী মমতাজ নবম সংসদ নির্বাচনের পর ২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য হন। পরে ২০১৪ সালে তাকে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেয়।

 

 

২০১৮ সালেও নৌকা নিয়ে জয় পাওয়া মমতাজ ২০২৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনে দলের নেতা এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে হেরে যান।

নাতি হওয়ার নানার ব্যতিক্রম উল্লাস: ঘোড়ার গাড়িতে গ্রামভ্রমণ, ৩ হাজার মিষ্টি বিতরণ

নিজের কোনো পুত্রসন্তান নেই, তাই একমাত্র মেয়ের ঘরে দীর্ঘ এক যুগ পর ছেলেসন্তানের জন্ম হওয়ায় আনন্দের কোনো সীমা রইল না নানার। আর এই বিশেষ আনন্দকে স্মরণীয় করে রাখতে এক রাজকীয় ও ব্যতিক্রমী উৎসবের আয়োজন করলেন তিনি। ৭ মাস বয়সী নাতিকে সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে, ব্যান্ডপার্টির নাচ-গানের তালে তালে পুরো গ্রাম ঘুরিয়ে বিতরণ করলেন ৩ হাজার পিস মিষ্টি!

​ব্যতিক্রমী ও জমকালো এই ঘটনাটি ঘটেছে নাটোরের সিংড়া উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের জোরমল্লিকা গ্রামে। জোড় মল্লিকা গ্রামের ওই নানার নাম মো. হান্নান।

বুধবার (২৪ জুন)  সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত পুরো এলাকাজুড়ে চলে এই আনন্দ উৎসব।

সরেজমিনে গিয়ে আয়োজকদের সাথে কথা বলে জানাযায়, জোরমল্লিকা গ্রামের বাসিন্দা মো. হান্নানের নিজের কোনো পুত্রসন্তান নেই। তার একমাত্র মেয়ে পান্না খাতুনকে বিয়ে দিয়েছেন একই ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী শাহবাজপুর গ্রামে মনির হোসেনের সাথে। বিয়ের পর এই দম্পতির ঘরে প্রথমে একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। এরপর কেটে যায় দীর্ঘ ১২টি বছর। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই দম্পতির ঘর আলো করে আসে এক পুত্রসন্তান।

​একমাত্র মেয়ের ঘরে দীর্ঘ এক যুগ পর নাতি আসায় আনন্দের জোয়ার বয়ে যায় নানা মো. হান্নানের মনে। বর্তমানে নাতি আব্দুর রহমান বিন মুসালিনের বয়স ৭ মাস। নাতির এই আগমনকে স্মরণীয় করে রাখতেই তিনি এই অভিনব উৎসবের উদ্যোগ নেন।

​বুধবার সকালে নানা হান্নান তার ৭ মাস বয়সী নাতি মুসালিনকে একটি সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে চড়ান। এরপর ব্যান্ডপার্টির ধুমধাম নাচ-গানের তালে তালে নিজ গ্রাম জোরমল্লিকা থেকে শুরু করে জামাতার গ্রাম শাহবাজপুর পর্যন্ত পুরো এলাকা প্রদক্ষিণ করেন।

শিশুর মা পান্না খাতুন বলেন,​”আমার প্রথম কন্যাসন্তান জন্ম নেওয়ার দীর্ঘ ১২ বছর পর আল্লাহ আমাকে পুত্রসন্তান দিয়েছেন। আমার ছেলে হওয়ার আনন্দে আমার বাবা ঘোড়ার গাড়িতে করে পুরো গ্রাম ঘুরিয়ে এবং মিষ্টি বিতরণ করে উৎসব করছেন। বাবার এই আনন্দ দেখে আমাদেরও খুব ভালো লাগছে। আপনারা সবাই আমার ছেলে-মেয়ে এবং আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন।”

​নাতিকে নিয়ে উল্লাসিত নানা মো. হান্নান তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন,
“আমার নিজের কোনো ছেলে নেই। মহান আল্লাহ তায়ালা আমার মেয়ের ঘরে একটি নাতি উপহার দিয়ে আমার মনের দীর্ঘদিনের আশা পূরণ করেছেন। আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করতেই আমি আমার আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামবাসীদের নিয়ে এই আনন্দ ভাগাভাগি করেছি।”

পিকআপের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ গেল দুই মোটরসাইকেল আরোহীর

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় পিকআপ ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পিকআপচালক ও তার সহকারীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কবিরহাট-সোনাপুর সড়কের উপজেলার সুন্দলপুর এলাকার বারীপুকুরপাড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর কাকড়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাশেম বেপারী বাড়ির মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ তারেক রহমান শিবলু (১৬) এবং বসুরহাট পৌরসভার হাজীপাড়া এলাকার রহমতউল্লাহর ছেলে জিহাদ হোসেন (২০)।
আটকরা হলেন- পিকআপচালক মহি উদ্দিন মাহমুদ ও তার সহকারী সালাউদ্দিন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কবিরহাট-সোনাপুর সড়কের বারীপুকুরপাড় এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দুই আরোহী নিহত হন।
খবর পেয়ে কবিরহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কৃষক কার্ড ইস্যুতে আলোচনায় আসা কবির হোসেনের মৃত্যু

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড নিয়ে আলোচনায় আসা টাঙ্গাইলের সেই ভাইরাল কবির হোসেন মারা গেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

 

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি।

 

 

 

কবির হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

শোকবার্তায় প্রতিমন্ত্রী মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি শোকাহত পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দানের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।

 

গত ১৪ এপ্রিল কবির হোসেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন মহলে তাকে নিয়ে নানা ধরনের প্রচারণা চালায়, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তদন্ত করে। তদন্তে কবির হোসেনকে একজন প্রকৃত কৃষক হিসেবে শনাক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং নিজ জমিসহ বিভিন্ন কৃষি কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতেন। তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে তার কৃষক পরিচয়ের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে ঘিরে বিতর্কের অবসান ঘটে।

 

 

 

 

তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

 

 

 

বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন। কবির হোসেনের জানাজা ও দাফনের বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে পরে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

 

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর বেশ কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করেছে দলটির নেতাকর্মীরা।

 

 

 

মঙ্গলবার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা, সংসদ ভবনের পূর্বপাশের সড়ক, ডেমরা, মিরপুরের রূপনগর ও কাফরুল এলাকায় মিছিল করেন তারা।

 

 

 

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ছাড়াও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও এসব মিছিলে অংশ নেন। আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তির দাবি জানানো হয় বিক্ষোভ মিছিল থেকে।

ডেমরায় আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মী বিক্ষোভ করেন। সংসদ ভবনের পূর্বপাশের সড়কে বিক্ষোভ করেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মিরপুরের রূপনগর ও কাফরুল এলাকায় মিছিল করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

 

 

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সিদ্ধেশ্বরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মালিবাগ চৌধুরীপাড়া এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে পুলিশের কড়া নিরাপত্তা ছাড়াও ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। সেনাবাহিনীকে দেওয়া হয় ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা।

 

 

 

এদিন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপির সহযোগী সংগঠন যুব দল ও ছাত্রদল ছাড়াও জামায়াতে ইসলামের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে রাজধানীতে। বিজয়নগরে সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।

 

 

 

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর ও দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যাওয়া কয়েকজনকে মারধর করে পুলিশে দিয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামের নেতাকর্মীরা।

সুত্র: বিডিনিউজ২৪.কম

ফাইনালে ওঠার সমীকরণে এগিয়ে আর্জেন্টিনা

স্পেনের কাছে উরুগুয়ে হারলে, সমীকরণ কেপ ভার্দে কিংবা সৌদি আরবকে নকআউটের শেষ-৩২ রাউন্ডে পাবে আর্জেন্টিনা! সমীকরণ তো কথার মতো মিলে যাওয়ার বিষয় নয়, বললেই মিলে গেল! তবে মিলেও তো যেতে পারে। 

গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ইতোমধ্যেই নকআউট পর্ব (রাউন্ড অব ৩২) নিশ্চিত করেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে লিওনেল স্কালোনির দলের শেষ ৩২-এর প্রতিপক্ষ কে হচ্ছে, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ‘এইচ’ গ্রুপের জটিল সমীকরণের ওপর নির্ভর করছে আলবিসেলেস্তেদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ।

 

 

 

এই মুহূর্তে ‘এইচ’ গ্রুপে রয়েছে স্পেন, উরুগুয়ে, কেপ ভার্দে ও সৌদি আরব। নিয়ম অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে এই গ্রুপের রানার্সআপ দলের। বর্তমানে টেবিলের যা অবস্থা, তাতে সমীকরণটা বেশ রোমাঞ্চকর এক মোড় নিয়েছে।

 

 

 

‘এইচ’ গ্রুপের বর্তমান চিত্র- দুই ম্যাচ শেষে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে স্পেন। সমান ২ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে যথাক্রমে উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দে। ১ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে সৌদি আরব। ফলে শেষ ম্যাচের ওপরই নির্ভর করছে আর্জেন্টিনার ভাগ্য। 

কার মুখোমুখি হতে পারে আর্জেন্টিনা? স্পেনের বিপক্ষে যদি উরুগুয়ে তাদের শেষ ম্যাচে জেতে, সৌদি আরবের বিপক্ষে কেপ ভার্দে ড্র করে বা হেরে যায়, তবে স্পেন রানার্সআপ হতে পারে (যদি তারা শেষ ম্যাচে হেরে যায়)। আবার কেপ ভার্দে যদি ৪ বা তার বেশি গোলের ব্যবধানে জিতে যায় এবং উরুগুয়ে ড্র করে, সেক্ষেত্রেও স্পেনের রানার্সআপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

 

 

 

যদি উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দে—উভয় দলই তাদের শেষ ম্যাচে জয় পায়, তবে গোল ব্যবধান, ফেয়ার প্লে বা মুখোমুখি লড়াইয়ের জটিল সমীকরণে যে দল দ্বিতীয় হবে, তারাই খেলবে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। আবার দুটি ম্যাচই যদি ড্র হয়, তবে উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দের মধ্যেই দ্বিতীয় স্থান নির্ধারণী লড়াই হবে।

 

 

 

উরুগুয়ে যদি নিজেদের শেষ ম্যাচে জিততে না পারে এবং সৌদি আরব তাদের ম্যাচে জয় তুলে নেয়, তবে আর্জেন্টাইনদের প্রতিপক্ষ হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি।

 

 

 

কোয়ার্টার ও সেমিফাইনালের সম্ভাব্য রোডম্যাপ।
রাউন্ড অব ৩২-এর বাধা পার হতে পারলে স্কালোনির দল শেষ ১৬-তে মুখোমুখি হতে পারে প্যারাগুয়ে, অস্ট্রেলিয়া, ইরান বা বেলজিয়ামের মতো দলের।

 

 

কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার সামনে পড়তে পারে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল (যদি তারা কলম্বিয়াকে টপকে গ্রুপ সেরা হয়) অথবা সুইজারল্যান্ড ও কানাডার মধ্যকার যেকোনো এক দল। 

আসল রোমাঞ্চ লুকিয়ে আছে সেমিফাইনালে। আর্জেন্টিনা যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে এগিয়ে যায়, তবে শেষ চারে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল কিংবা শক্তিশালী ইংল্যান্ড।

 

 

 

ফাইনালের আগে দেখা হবে না ফ্রান্স-জার্মানির সঙ্গে। ব্র্যাকেটের বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা যদি টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রেখে ফাইনালে ওঠে, তবে মেগা ফাইনালের আগে ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস কিংবা স্পেনের (যদি তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়) মুখোমুখি হতে হবে না মেসি-মার্তিনেজদের। এই দলগুলোর সঙ্গে আর্জেন্টিনার দেখা হওয়ার একমাত্র সম্ভাবনা কেবল স্বপ্নের ফাইনালে।

 

 

 

এখন দেখার বিষয়, শেষ ষোলোর টিকিট কাটার লড়াইয়ে কোন দল আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার চ্যালেঞ্জটি লুফে নেয়।

 

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী রবীন্দ্র ও নজরুল জয়ন্তী উৎসব

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে অবস্থিত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতায় ভরপুর পরিবেশে দুই দিনব্যাপী ‘রবীন্দ্র ও নজরুল জয়ন্তী উৎসব ১৪৩৩’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২২ ও ২৩ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবে সেমিনার, সংগীত পরিবেশনা, রবীন্দ্র মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং পুরস্কার বিতরণীসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও কর্মকে স্মরণ করা হয়।
সোমবার (২২ জুন) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী একাডেমিক ভবন-৩ এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপাচার্য (ভাইস-চ্যান্সেলর) প্রফেসর ড. তাহমিনা আক্তার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর  ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া।
উদ্বোধনী পর্ব শেষে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে রবীন্দ্র মেলার উদ্বোধন করা হয়। মেলায় রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, দর্শন, সংস্কৃতি ও জীবনবোধভিত্তিক বিভিন্ন প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। পরে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে একাডেমিক ভবন-১ এর ‘গীতাঞ্জলি স্টুডিও থিয়েটার’-এ অনুষ্ঠিত হয় রবীন্দ্রসংগীত প্রতিযোগিতা। এতে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও  বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে নিজেদের সাংস্কৃতিক দক্ষতা তুলে ধরেন।
প্রথম দিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনার। বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. অনিরুদ্ধ কাহালি। তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, মানবতাবাদী দর্শন, শিক্ষা-চিন্তা এবং সমকালীন সমাজে তাঁর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত নজরুল ও রবীন্দ্রসংগীত দর্শক-শ্রোতাদের ব্যাপকভাবে মুগ্ধ করে।
উৎসবের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ১০টায় পুনরায় রবীন্দ্র মেলার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে নজরুলের সাহিত্য, সংগীত, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সাম্যবাদী দর্শন এবং বিদ্রোহী মননের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
দিনের শেষ পর্বে অনুষ্ঠিত সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী প্রফেসর ডা. এম. এ. মুহিত। বক্তব্যে তিনি বলেন, “একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাস ছাড়া পরিপূর্ণভাবে পরিচালিত হতে পারে না।” তিনি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নজরুল গবেষক ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আব্দুল হাই সিকদার। তিনি তাঁর বক্তব্যে নতুন প্রজন্মের মধ্যে নজরুলচর্চা বিস্তারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং জাতীয় কবির সাহিত্য ও দর্শনের বহুমাত্রিক গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের শিল্পীদের বর্ণাঢ্য নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী উৎসবের পর্দা নামে। অনুষ্ঠানজুড়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংস্কৃতিপ্রেমী দর্শনার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ উৎসবকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

মেসিকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া কে এই শতবর্ষী নারী?

লিওনেল মেসির খেলা ঘিরে বিশ্বজুড়ে আলোচনার মাঝেই এবার গ্যালারি থেকে নজর কাড়লেন ১০০ বছর বয়সী এক নারী দর্শক, যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগেই পরিচিত ‘গ্র্যানি স্মিথ’ নামে। বিশ্বকাপের ম্যাচে আর্জেন্টিনার জার্সি পরে তার উপস্থিতি ও হাতে ধরা একটি প্ল্যাকার্ড মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়, যেখানে লেখা ছিল—‘আমি ১০০ বছর বয়সী এবং আমি মেসির ভক্ত।’

 

 

 

ডালাসে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-০ গোলের জয়ের ম্যাচে এই দৃশ্য সম্প্রচারে আসার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে শুরু হয় কৌতূহল—কে এই শতবর্ষী নারী, যিনি মেসিকে ঘিরে এমন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এলেন।

 

 

এই নারী দর্শকের প্রকৃত নাম পউলিনে কানা। তবে অনলাইন দুনিয়ায় তিনি বেশি পরিচিত ‘গ্র্যানি স্মিথ’ বা ‘গ্যাংস্টার গ্র্যানি’ নামে। যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর তার নাতি রস স্মিথের সঙ্গে তৈরি করা কমেডি ভিডিও, স্টান্ট ও ভাইরাল কনটেন্টের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।

 

টিকটকে তার অনুসারীর সংখ্যা কোটি ছাড়িয়েছে, পাশাপাশি ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবেও রয়েছে বিশাল ভক্তগোষ্ঠী। বয়সকে অতিক্রম করে সাহসী ও হাস্যরসাত্মক কনটেন্ট তৈরির কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছেন এবং গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসেও তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

 

 

মেসির প্রতি ভালোবাসার পুরোনো গল্প

মেসির প্রতি তার ভালোবাসা নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন ফুটবল ইভেন্টে তাকে দেখা গেছে আর্জেন্টাইন তারকার প্রতি আবেগ প্রকাশ করতে। ২০২৫ সালের ক্লাব বিশ্বকাপে ইন্টার মায়ামির ম্যাচে উপস্থিত হয়ে তিনি বেশ কয়েকটি প্ল্যাকার্ড দেখান, যা তখনও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

 

 

 

পোর্তোর বিপক্ষে ম্যাচে তিনি একবার লিখে আনেন, ‘মেসি, তুমি কি আমাকে বিয়ে করবে?’ আবার পিএসজির বিপক্ষে ম্যাচে তার প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘মেসি, আমি তোমাকে ভালোবাসি। বয়স শুধু একটি সংখ্যা।’

 

 

 

সেই সময় ওয়ার্ম-আপ চলাকালে মেসি দূর থেকে তার দিকে তাকিয়ে হাসেন এবং হাত নাড়েন—যা পরবর্তীতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

 

 

 

বিশ্বকাপের রাতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপ ম্যাচে মেসি দুটি গোল করে দলকে জেতানোর পাশাপাশি নিজের রেকর্ডও উন্নত করেন। একই ম্যাচে গ্যালারিতে থাকা পউলিনে কানার উপস্থিতি আলাদা মাত্রা যোগ করে।

 

 

 

হাতে ‘১০০ বছর বয়সী মেসি ভক্ত’ লেখা প্ল্যাকার্ড এবং আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার উপস্থিতি সম্প্রচার ক্যামেরায় ধরা পড়তেই মুহূর্তে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে দৃশ্যটি। অনেকেই মেসির রেকর্ড গড়া রাতের পাশাপাশি এই শতবর্ষী ভক্তকেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখেন।

 

 

 

ভাইরাল দাদির জনপ্রিয়তার পেছনের গল্প

পউলিনে কানা শুধুমাত্র একজন ফুটবল ভক্ত নন, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একজন সুপরিচিত ইনফ্লুয়েন্সার। নাতি রস স্মিথের সঙ্গে তার ভিডিওগুলো প্রথম ভাইনে ভাইরাল হয়, পরে টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে তাদের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী হয়।

 

 

 

তাদের কনটেন্টের মূল আকর্ষণ হলো বয়সকে অতিক্রম করে একজন বৃদ্ধ নারীর সাহসী অংশগ্রহণ, যেখানে তিনি হাস্যরস, চ্যালেঞ্জ এবং কখনও শারীরিক স্টান্টেও অংশ নেন।

 

 

 

একটি আলোচিত ঘটনায় তিনি ৯৯ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে একটি কনসার্টে ক্রাউড সার্ফিং করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েন, যা তাকে বিশ্বব্যাপী আরও পরিচিত করে তোলে।

 

 

 

১০০ বছর বয়সে বিশ্বকাপের গ্যালারিতে উপস্থিত হয়ে পউলিনে কানা আবারও প্রমাণ করেছেন, ফুটবল কেবল তরুণদের খেলা নয়—এটি আবেগের খেলা, যেখানে বয়স কোনো বাধা নয়।

 

 

 

মেসির রেকর্ড গড়া মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি এই শতবর্ষী ভক্তের উপস্থিতিও ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে তুলেছে। ফলে একদিকে যেমন মাঠে ইতিহাস লিখেছেন মেসি, অন্যদিকে গ্যালারিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছেন তার এক ব্যতিক্রমী ভক্ত—পউলিনে কানা।

 

 

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-০ ব্যবধানের জয়ের ম্যাচে রেফারি লিওনেল মেসিকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কিংবদন্তি গোলরক্ষক পিটার স্মাইকেল।

 

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি টেলিভিশন চ্যানেলে ম্যাচ বিশ্লেষণ করার সময় তিনি এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন।

 

 

স্মাইকেলের মতে, ম্যাচের একটি গোল বিল্ড-আপের সময় আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার অস্ট্রিয়ার জাভার শ্লাগারকে ফাউল করেছিলেন।

রেফারি সেই ফাউলটি এড়িয়ে যান এবং ভিএআর প্রযুক্তিও এতে হস্তক্ষেপ করেনি, যার ফলে মেসি বিশ্বকাপে তার রেকর্ড-ব্রেকিং ১৭তম গোলটি করার সুযোগ পান।

সাবেক এই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা স্পষ্ট জানান, তিনি মেসির খেলার ভক্ত হলেও এই সিদ্ধান্তটি ছিল রেফারির একটি ‘স্পষ্ট এবং দৃশ্যমান ভুল’। তিনি মনে করেন, ফিফার অফিশিয়ালরা এখানে পক্ষপাতিত্ব বা বড় ধরনের ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

শ্রীলঙ্কায় ডেঙ্গু মোকাবিলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন

মশাবাহিত প্রাণঘাতী ডেঙ্গু জ্বরের দ্রুত বিস্তার ঠেকাতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, প্রতিদিন ১ হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের কার্যালয় জানায়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করা হবে। ইউনিটটি মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসে কাজ করবে।

 

 

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে দেশটিতে প্রায় ৫০ হাজার ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং মারা গেছেন ২৯ জন। তবে এই সংখ্যা এখনো ২০১৭ সালের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের তুলনায় কম। ওই বছর শ্রীলঙ্কায় ১ লাখ ৮৬ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন এবং ৪৪০ জনের মৃত্যু হয়।

প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাদের স্থাপনায় মশার প্রজননের সুযোগ করে দেবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বুধবার থেকে সারা দেশে মশার প্রজননস্থল পরিষ্কার করার বিশেষ অভিযান শুরু হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) আগেই সতর্ক করেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগ দ্রুত বিস্তার লাভ করছে।

জুনের শুরু থেকে শ্রীলঙ্কায় ডেঙ্গু সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সরকারি হিসাবে, চলতি সপ্তাহে একদিনেই এক হাজারের বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে।

 

 

দেশটির জাতীয় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের প্রধান কাপিলা কান্নাঙ্গারা বলেন, সংক্রমণ আরও বাড়লে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলো পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে পারে।

 

 

তিনি বলেন, হাসপাতালগুলো ইতোমধ্যেই চাপের মধ্যে রয়েছে। ২০১৭ সালের মতো পরিস্থিতি আমরা আবার দেখতে চাই না।

 

 

 

টাঙ্গাইলে দূষিত পানি পান করে অসুস্থ ৩২ শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মাহমুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের নলকূপের পানিতে বিষাক্ত পদার্থ মেশানোর অভিযোগ উঠেছে। সেই পানি পান করে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৩২ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে উপজেলার মাহমুদনগর ইউনিয়নের মাহমুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কাদীর।

 

 

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, সকালে বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি পান করার পর একে একে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে আরও শিক্ষার্থীর মধ্যে বমি, মাথা ঘোরা ও শারীরিক অস্বস্তির লক্ষণ দেখা দিলে তাদের দ্রুত নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কে বা কারা বিদ্যালয়ের নলকূপে কৃষিকাজে ব্যবহৃত তরল কীটনাশক বা অন্য কোনো বিষাক্ত পদার্থ মিশিয়ে দেয়। বিষয়টি টের পাওয়ার আগেই শিক্ষার্থীরা সেই পানি পান করে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মোট ৩২ জন শিক্ষার্থী চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসে। তাদের মধ্যে ২৯ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে বিশ্রামের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মাহমুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সকালে শিক্ষার্থীরা টিউবওয়েলের পানি পান করার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমরা দ্রুত তাদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ও সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দিতেই ব্যস্ত আছি।’

 

 

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিক্ষার্থী জানায়, বিরতির সময় ঝালমুড়ি খাওয়ার পর কয়েকজন সহপাঠী বিদ্যালয়ের পাশের টিউবওয়েলের পানি পান করে। এরপরই তারা বমি করতে শুরু করে এবং অসুস্থ হয়ে পড়ে। তবে সবাই ঝালমুড়ি খায়নি, অনেকেই শুধু পানি পান করার পর অসুস্থ হয়েছে।

 

 

মাহমুদনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ জজ কামাল বলেন, ‘বিদ্যালয়ের নলকূপে বিষ বা কীটনাশক মেশানোর কারণেই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি পরিকল্পিত কোনো নাশকতা কি না, তা তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করা প্রয়োজন।’

 

 

 

নাগরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাদীর আহামেদ জানান, ‘নলকূপের পাশ থেকে পলিথিনে মোড়ানো সাদা পেস্টজাতীয় একটি পদার্থ উদ্ধার করা হয়েছে। সেটি পানির সঙ্গে মিশে বিষক্রিয়ার কারণ হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’

 

 

নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এরফান উদ্দিন জানান, নলকূপের পানির নমুনা পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

নাগরপুর থানার ওসি মো. জহুরুল ইসলাম জানান, ‘পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগই এখন অনেকটা সুস্থ রয়েছে।’

 

 

 

হোয়াইট হাউস টার্গেট করে ষড়যন্ত্র, এফবিআই গ্রেপ্তার করল আরও ২ জন

হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত ইউএফসি ইভেন্টে হামলার কথিত ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল তদন্ত সংস্থা এফবিআই এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

 

 

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা একটি বহু-রাজ্যভিত্তিক ষড়যন্ত্রের অংশ ছিলেন, যার লক্ষ্য ছিল বিস্ফোরক বহনকারী ড্রোন ব্যবহার করে অনুষ্ঠানে হামলা চালানো এবং পরবর্তীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা।

 

 

 

মার্কিন বিচার বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

তদন্তে জানা গেছে, পরিকল্পনাটি ছিল ১৪ জুন অনুষ্ঠিত ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ ইভেন্টকে লক্ষ্য করে। ওই অনুষ্ঠানে দক্ষিণ লনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীদের পরিকল্পনা ছিল ড্রোনে বিস্ফোরক ব্যবহার করে ভিড়কে আতঙ্কিত করা এবং পরে গুলি চালানোর মাধ্যমে আরও বড় ক্ষতি করা।

এফবিআই-এর তথ্য অনুযায়ী, একজন সন্দেহভাজন ড্রোন অপারেটর ছিলেন এবং তিনি ড্রোনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ক্ষতি করার কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। অন্য একজন অভিযুক্ত অর্থ জোগান, ভ্রমণ ব্যবস্থা এবং সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বাড়িতে থ্রিডি প্রিন্টারসহ কিছু উপকরণ পাওয়া গেছে, যা ড্রোনের যন্ত্রাংশ তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

 

তদন্তকারীরা জানান, এই ষড়যন্ত্র প্রথম ধরা পড়ে ওহাইওর এক সহ-অভিযুক্তের বাবা-মা পুলিশকে তাদের সন্তানের সন্দেহজনক অনলাইন কার্যকলাপ ও অস্ত্র কেনার বিষয়ে জানালে।

 

 

 

এফবিআই বলেছে, দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সম্ভাব্য বড় ধরনের হামলা ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।

 

 

 

এ ঘটনায় মোট ২৩ জনের একটি নেটওয়ার্ক জড়িত থাকতে পারে বলে তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

বিশ্ববাজারে তেলের দামের নিয়ন্ত্রণ কি চীনের হাতে?

স্থায়ীভাবে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেলের প্রবাহ আবার স্বাভাবিক করার বিষয়ে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে; তখন বাজারের পরবর্তী গতিপথ এমন একটি দেশের ওপর নির্ভর করতে পারে, যে দেশটি এই আলোচনায় সরাসরি উপস্থিত নেই। আর সেটি হলো চীন।

 

 

 

ইরানে চলমান যুদ্ধের কারণে প্রতিদিন ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল ভোক্তা চীন নিজেদের জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আমদানি কমিয়ে, বিশাল তেল মজুতের ওপর নির্ভর করে এবং আরও বেশি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহার করে চীন দেশে উচ্চ তেলের দামের প্রভাবকে কিছুটা হলেও সামাল দিতে সক্ষম হয়েছে, যদিও পুরোপুরি তা দূর করতে পারেনি। চীনের এই পদক্ষেপগুলোর প্রভাব বৈশ্বিক বাজারেও অনুভূত হয়েছে।

 

 

 

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তিন মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এ সময় কিছু বিশ্লেষক পূর্বাভাস দিয়েছিলেন যে চলতি বছরে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। কিন্তু মোট সরবরাহ ঘাটতি প্রায় ১ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি হওয়া সত্ত্বেও অপরিশোধিত তেলের দাম তুলনামূলকভাবে সীমিত পর্যায়েই রয়েছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, এর প্রধান কারণ চীন।

জ্বালানি-বিষয়ক থিঙ্ক ট্যাংক এম্বারের প্রধান কর্মকর্তা ড্যান ওয়াল্টার বলেন, এশিয়ার বাকি অংশের জন্য এই পরিস্থিতিকে সামাল দিতে চীন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, আর এর মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতিকেও সুরক্ষা দিয়েছে।

সোমবার বৈশ্বিক মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৮ ডলারের নিচে নেমে আসে। কারণ বাজারে আশা তৈরি হয়েছে যে, বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়, সেখানে খুব শিগগিরই স্বাভাবিক বাণিজ্য আবার শুরু হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর আগের সপ্তাহগুলোতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭০ ডলারের নিচে ছিল। পরে মে মাসের শুরুতে তা চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে ব্যারেলপ্রতি ১১৪ ডলারে স্থিত হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চীনের প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে। তাই হরমুজ প্রণালি কত দ্রুত পুনরায় পুরোপুরি চালু হয়, তা নির্বিশেষে ভবিষ্যতে তেলের বাজারের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে চীনের নীতি, জ্বালানি ব্যবহার এবং ভোগের ধরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

 

 

চীনের ‘অদৃশ্য হাত’

এই মাসের শুরুর দিকে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে সোসিয়েট জেনারেলের বিশ্লেষকেরা লিখেছেন, ১৯৭৩ সালের ১৯৭৩ আরব অয়েল এম্বারগোর সময় বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল সরবরাহে ৭ শতাংশ ঘাটতি দেখা দিয়েছিল, যার ফলে তেলের দাম ১৩৪ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু ইরানে চলমান যুদ্ধের সময় দাম সেই তুলনায় প্রায় বাড়েনি, যদিও এই সংঘাত বৈশ্বিক তেল সরবরাহের ১৪ শতাংশকে প্রভাবিত করেছে।

 

 

তাদের মতে, এই আপাতবিরোধী পরিস্থিতির প্রধান কারণ চীন, যা বাজারকে পুনরায় ভারসাম্যে ফিরিয়ে আনতে একটি ‘অদৃশ্য হাত’ হিসেবে কাজ করছে। কারণ চীন প্রতিদিন প্রায় ৩০ লাখ ব্যারেল তেল আমদানি কমাতে সক্ষম হয়েছে, যা প্রায় জাপানের মোট অপরিশোধিত তেল চাহিদার সমান।

 

 

চীন কয়েকটি কারণে তেলের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পেরেছে। রিস্তাদ এনার্জির তেলবাজার বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জনিভ শাহ বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগে চীন ব্যাকআপ হিসেবে অপরিশোধিত তেলের মজুত গড়ে তুলছিল। এতে সহায়তা করেছে রাশিয়া ও ইরান থেকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা সস্তা তেলের সরবরাহ।

 

 

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে চীনের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত মজুতে ১০০ কোটিরও বেশি ব্যারেল তেল রয়েছে, এবং দেশটি মে মাস থেকে সেই মজুত ব্যবহার শুরু করেছে।

 

 

শাহ বলেন, ‘চীন এতদিন তেলের দামের জন্য একটি ন্যূনতম ভিত্তি তৈরি করে রেখেছিল। কিন্তু এ বছর সেই ধারা উল্টে গেছে।’

 

 

দেশটির সরকার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ডিজেল ও পেট্রলের মতো পরিশোধিত তেলজাত পণ্যের রপ্তানিও সীমিত করেছে। এর ফলে চীনের তেল শোধনাগারগুলো, যারা একদিকে কম মুনাফার মুখোমুখি এবং অন্যদিকে বিদেশি বাজারে প্রবেশাধিকার হারিয়েছে, তারা বৈশ্বিক বাজার থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত হয়েছে।

 

 

এদিকে চীনে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাপক প্রসার দেশটির জীবাশ্ম জ্বালানির চাহিদা কমিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে চীনে বিক্রি হওয়া প্রতি দুইটি নতুন যাত্রীবাহী গাড়ির মধ্যে প্রায় একটি হলো নতুন জ্বালানি প্রযুক্তিনির্ভর যানবাহন (নিউ এনার্জি ভেহিকল)।

 

 

আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, গত বছর চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ির বহর প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দিয়েছে।

 

 

চীনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত বিশেষজ্ঞ ডেভিড ফিশম্যান বলেন, এটি বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেলের বাজারের জন্য এক অসাধারণ চাপমুক্তির ভালভ হিসেবে কাজ করেছে।

 

 

তবে তিনি বলেন, উচ্চ তেলের দাম ভোক্তা ও শোধনাগারগুলোর চাহিদা কমিয়ে রাখতে পারে বটে, কিন্তু বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় চীনের সক্ষমতা নির্ভর করবে তারা কতদিন জ্বালানি মজুত ধরে রাখতে পারে তার ওপর।

 

 

ফিশম্যানের ভাষায়, ‘যে বিষয়টি অনির্দিষ্টকাল ধরে টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়, তা হলো অপরিশোধিত তেলের মজুত। যদি তেলের দাম কমতে শুরু করে, তাহলে আপনি আশা করতে পারেন যে তারা প্রথমেই আবার নতুন করে তেল মজুত করা শুরু করবে।’

 

 

ঘাটতি থেকে কি এবার অতিরিক্ত সরবরাহের যুগে?

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল সংকটের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে মাসের পর মাস উদ্বেগের পর আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা এখন সতর্ক করছে যে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে যাওয়ায় আগামী বছর বৈশ্বিক বাজারে তেলের অতিরিক্ত সরবরাহ সৃষ্টি হতে পারে।

 

 

 

বুধবার প্রকাশিত সংস্থাটির মাসিক তেলবাজার প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলে আগামী বছর সরবরাহ বৃদ্ধির হার চাহিদা বৃদ্ধির হারকে প্রতিদিন ৪৭ লাখ ব্যারেল দ্বারা ছাড়িয়ে যাবে।

 

 

প্রতিবেদনে সংস্থাটি লিখেছে, এটি বাজারের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক সুযোগ এনে দিতে পারে এবং ক্ষয়প্রাপ্ত মজুত পুনরায় পূরণ করার কিংবা নতুন কৌশলগত মজুত গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। কারণ সংকটের প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন দেশ তাদের জ্বালানি কৌশল ও নীতিমালা পুনর্মূল্যায়ন করছে।

 

 

যদিও আগামী বছর বৈশ্বিক তেলের চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে, সাম্প্রতিক অস্থিতিশীলতা নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রতি আগ্রহও বাড়িয়ে দিয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অপরিশোধিত তেলের ব্যবহার আরও কমিয়ে দিতে পারে। বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি ও সৌরশক্তি প্রযুক্তিতে বিশ্বের শীর্ষ দেশ চীন ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মার্চ মাসে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তি পণ্যের রপ্তানিতে রেকর্ড গড়ে।

 

 

চীনের জ্বালানি ও অটোমোবাইল খাত নিয়ে কাজ করা ট্রিভিয়াম চীনের বিশ্লেষক কসিমো রাইস বলেন, বিদ্যুতায়নের এই গতি ক্রমেই বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অগ্রগতি কীভাবে হয়, তা আমাদের দেখতে হবে। তবে সামগ্রিকভাবে এটি বৈশ্বিক কার্বন নির্গমন হ্রাসের জন্য একটি অসাধারণ সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।

 

 

পণ্যবাজারভিত্তিক তথ্য ও বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম কেপলারের জ্যেষ্ঠ তেল গবেষণা বিশ্লেষক মুয়ু জু বলেন, অতিরিক্ত সরবরাহের পরিস্থিতি আগামী মাসেই শুরু হতে পারে। তার মতে, হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে যাওয়ার পর বর্তমানে আটকে থাকা ১০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আবার বাজারে প্রবেশ করবে।

 

 

একই সময়ে ইরানও সম্ভবত দ্রুতগতিতে নিজেদের তেল উৎপাদন বাড়াবে। তবে এর ফলে ইরানি তেল চীনের কাছে তুলনামূলকভাবে কম আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। কারণ, এতদিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের বিক্রির সুযোগ সীমিত ছিল এবং সে কারণে চীন ছাড়মূল্যে ইরানি তেল কিনতে পেরেছে।

 

 

তবে শু আরও বলেন, অনেক দেশ ইতোমধ্যে গ্রীষ্মকালীন সময়ের জন্য তাদের তেলের চাহিদা পূরণ করে ফেলেছে। ফলে বাজারে পুনরায় ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে চীন আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

 

 

 

শুর ভাষায়, ‘মাত্র দুই মাস আগের তুলনায় এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বর্তমানে অতিরিক্ত সরবরাহ শোষণ করার সক্ষমতা যে দেশের আছে, সেটি হলো চীন। কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো—চীন কি আর তেল কিনতে চায়?’

বেলারুশের পাশে রাশিয়া, নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতির ঘোষণা

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন, বেলারুশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে মস্কো সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তিনি মঙ্গলবার মস্কোতে বলেন, রাশিয়া-বেলারুশ নিরাপত্তা চুক্তির আওতায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

 

 

লাভরভের দাবি, ইউক্রেন বেলারুশকে সংঘাতে টেনে আনার চেষ্টা করছে এবং সীমান্তের কাছে সামরিক পরিস্থিতি তৈরি করে হুমকি দিচ্ছে।

 

 

তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও উল্লেখ করেন। জেলেনস্কি বলেছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সামরিক সরঞ্জাম সরানো না হলে বেলারুশে হামলার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। বেলারুশে হামলার সক্ষমতা রয়েছে বলেও জেলেনস্কি হুঁশিয়ারি দেন।

লাভরভ জানান, যে সামরিক সরঞ্জামের কথা বলা হচ্ছে, তা বেলারুশের ভূখণ্ডে ইউক্রেন সীমান্তের কাছে অবস্থান করছে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে রাশিয়া-বেলারুশের মধ্যে একটি নিরাপত্তা চুক্তি কার্যকর আছে এবং প্রয়োজন হলে সেই চুক্তির সব ধারা অনুযায়ী মস্কো পদক্ষেপ নেবে।

এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিশ্বকাপের নকআউট নিশ্চিত দলগুলো, বিদায়ঘণ্টা বাজল যাদের

ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার আগেই নকআউট পর্বের চিত্র ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে আয়োজিত এই বিশ্বকাপে নতুন সংযোজন ‘রাউন্ড অব ৩২’। আগামী ২৮ জুন থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে এই পর্ব, যেখানে জায়গা করে নেবে ৩২টি দল।

 

 

নকআউটে ওঠার নিয়ম কী?

নতুন নিয়ম অনুযায়ী ১২টি গ্রুপের প্রতিটি থেকে শীর্ষ দুই দল সরাসরি রাউন্ড অব ৩২-এ উঠবে। পাশাপাশি ১২টি গ্রুপের তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলোর মধ্যে সেরা আট দলও নকআউট পর্বে খেলার সুযোগ পাবে।

রাউন্ড অব ৩২ শেষে শুরু হবে রাউন্ড অব ১৬। এরপর পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ এবং ফাইনাল। আগামী ১৯ জুলাই হবে বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী লড়াই।

টুর্নামেন্টের সূচি অনুযায়ী গ্রুপ পর্ব চলবে ২৭ জুন পর্যন্ত। রাউন্ড অব ১৬ অনুষ্ঠিত হবে ৪ থেকে ৭ জুলাই, কোয়ার্টার ফাইনাল ৯ থেকে ১১ জুলাই, সেমিফাইনাল ১৪ ও ১৫ জুলাই এবং তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ হবে ১৮ জুলাই।

টাইব্রেকারে নতুন নিয়ম

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম সমান পয়েন্ট পাওয়া দলগুলোর মধ্যে অবস্থান নির্ধারণে গোল ব্যবধানের আগে হেড-টু-হেড ফলাফলকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফিফার এই নতুন নিয়মের প্রভাব ইতোমধ্যেই দেখা গেছে।

 

 

এই নিয়মের কারণে হাইতি, তুরস্ক, তিউনিসিয়া ও জর্ডানের বিদায় নিশ্চিত হয়েছে। কারণ নিজেদের গ্রুপের তৃতীয় স্থানে থাকা প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে তারা হেরে যাওয়ায় আর সেরা তৃতীয় দল হওয়ার দৌড়ে টিকে থাকার সুযোগ নেই।

 

 

 

সমান পয়েন্ট হলে যেভাবে নির্ধারণ

একই গ্রুপে দুই বা ততোধিক দলের পয়েন্ট সমান হলে প্রথমে বিবেচনা করা হবে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর পারস্পরিক ম্যাচে অর্জিত পয়েন্ট। এরপর দেখা হবে সেই ম্যাচগুলোর গোল ব্যবধান এবং করা গোলসংখ্যা।

 

 

 

এতেও সমাধান না হলে বিবেচনায় আসবে গ্রুপের সব ম্যাচ মিলিয়ে গোল ব্যবধান, মোট গোলসংখ্যা এবং হলুদ-লাল কার্ডের ভিত্তিতে ফেয়ার প্লে রেকর্ড। সবশেষে প্রয়োজন হলে ফিফা বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের অবস্থান ব্যবহার করা হবে।

 

 

অন্যদিকে সেরা আট তৃতীয় স্থানধারী দল নির্ধারণে বিবেচনা করা হবে অর্জিত পয়েন্ট, গোল ব্যবধান, গোলসংখ্যা, ফেয়ার প্লে রেকর্ড এবং প্রয়োজনে ফিফা র‌্যাঙ্কিং।

 

 

নকআউট নিশ্চিত করেছে যেসব দল

সহ-আয়োজক মেক্সিকোই প্রথম দল হিসেবে রাউন্ড অব ৩২ নিশ্চিত করেছে। গ্রুপ ‘এ’-তে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় জয় তুলে নেয় তারা। এর আগে উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল মেক্সিকানরা।

 

 

 

গ্রুপ ‘ডি’-তে টানা দুই জয়ে নকআউট নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রথম ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারানোর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় পায় স্বাগতিকরা।

 

 

 

জার্মানি গ্রুপ ‘ই’ থেকে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে। প্রথম ম্যাচে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। রাশিয়া ২০১৮ ও কাতার ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার পর এবার দারুণ প্রত্যাবর্তন হয়েছে তাদের।

 

 

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাও নকআউট নিশ্চিত করেছে দাপটের সঙ্গে। গ্রুপ ‘জে’-তে অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ৩২-এ ওঠার পাশাপাশি শীর্ষস্থানও নিশ্চিত করেছে আলবিসেলেস্তেরা। ম্যাচে জোড়া গোল করেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। এর আগে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকও করেছিলেন তিনি।

 

 

 

গ্রুপ ‘আই’-তে নকআউট নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স ও নরওয়ে। ফ্রান্স ইরাককে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেয়। ম্যাচে জোড়া গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। অন্যদিকে সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করে নরওয়ে। ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে টানা দুই জয়ে দারুণ সূচনা করেছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দলটি।

 

 

বিদায় নিশ্চিত যাদের

গ্রুপ ‘সি’-তে ব্রাজিলের কাছে ৩-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে হাইতির। ১৯৭৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলা দলটি প্রথম ম্যাচেও স্কটল্যান্ডের কাছে পরাজিত হয়েছিল।

 

 

 

গ্রুপ ‘ডি’-তে প্যারাগুয়ের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নিশ্চিত হয় তুরস্কের। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও হার দেখেছিল তারা। ২৪ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে হতাশাজনক সমাপ্তি ঘটল ইউরোপের দলটির।

 

 

তিউনিসিয়ার বিশ্বকাপ অভিযানও শেষ হয়েছে গ্রুপ পর্বেই। গ্রুপ ‘এফ’-এ জাপানের কাছে ৪-০ গোলে হারার আগে প্রথম ম্যাচে সুইডেনের কাছে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল উত্তর আফ্রিকার দেশটি।

 

 

 

অন্যদিকে বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নেওয়া জর্ডানের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে গ্রুপ ‘জে’-তে। আলজেরিয়ার কাছে ২-১ গোলে হেরে তাদের বিদায় নিশ্চিত হয়। প্রথম ম্যাচেও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে হারতে হয়েছিল দলটিকে। ফলে অভিষেক বিশ্বকাপেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হলো মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিনিধিদের।

ঝড়-বজ্রবৃষ্টিতে আক্রান্ত হতে পারে দেশের ১৩ জেলা

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৩ জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া এক পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়।

 

 

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, রংপুর, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টিও হতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এদিকে, আরেকটি বিজ্ঞপ্তিতে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের সব বিভাগেই অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়ার সঙ্গে বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একইসঙ্গে দেশের কিছু কিছু স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণেরও আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া ঝড়বৃষ্টি ও ভারি বর্ষণের প্রবণতা আগামী কয়েক দিনে আরও বাড়তে পারে বলেও জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ইরানের শীর্ষ নেতাদের পাকিস্তান সফর

সরকারি সফরে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তার এই রাষ্ট্রীয় সফরের মধ্যেই সফরসঙ্গী হিসেবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও যোগ দিবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

 

 

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, ওমানের রাজধানী মাস্কাট সফর শেষ করে আরাঘচি ইসলামাবাদে পৌঁছালে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তাকে বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

 

 

তার এই সফরটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান পরোক্ষ আলোচনায় পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। দুই দেশের মধ্যে ১৪ দফার একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির রূপরেখা বা ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ এই কূটনৈতিক তৎপরতার অন্যতম বড় প্রমাণ।

সফরকালে আরাঘচির নেতৃত্বে ইরানের শীর্ষ এই প্রতিনিধি দলটি দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় ছাড়াও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সাথে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সিংড়ায় ১৫২ টি নৃগোষ্ঠী পরিবারের মাঝে শিক্ষা উপবৃত্তি, সেলাই মেশিন ও বাইসাইকেল বিতরণ

 প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্তৃক ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়নের জন্য বিশেষ এলাকার উন্নয়ন সহায়তা শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের নাটোরের সিংড়ায়  নৃগোষ্ঠী ছাত্র ছাত্রী ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের মোট  ১৫২ টি পরিবারের মাঝে শিক্ষা উপবৃত্তি, সেলাই মেশিন ও  বাইসাইকেল বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার বিকাল ৪টায় উপজেলা চত্বরে নৃগোষ্ঠীর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫৯ জন শিক্ষার্থী, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৩৫ জন ও  কলেজের ২৪জন  শিক্ষার্থীর মাঝে উপবৃত্তি, ১৮টি বাইসাইকেল ও ১২ টি পরিবারের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)  আব্দুল্লাহ আল রিফাত।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশাত আনজুম, উপজেলা বিএনপির  সদস্য সচীব অধ্যাপক শারফুল ইসলাম, ডায়াবেটিস সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মিলন হোসেন মাস্টার, সাবেক ছাত্র নেতা রফিকুল ইসলাম বুলেট সহ উপকারভোগী নৃগোষ্ঠী পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী।

অভিনয়ের পর এবার নির্মাণে নওশাবা, আসছে ‘সোমেশ্বরী’

অভিনয়ের পাশাপাশি এবার চলচ্চিত্র নির্মাণেও নাম লিখিয়েছেন অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ। তার পরিচালনায় নির্মিত হয়েছে নতুন সিনেমা ‘সোমেশ্বরী’। এতে পরিচালনার পাশাপাশি অভিনয়ও করেছেন তিনি। সুনামগঞ্জের মধ্যনগর ও সোমেশ্বরী নদীকে ঘিরে নির্মিত এই সিনেমায় স্থানীয় মানুষদের নিয়ে তুলে ধরা হয়েছে প্রকৃতি, পরিবেশ ও মানুষের জীবনের গল্প।

 

 

 

মঞ্চ ও পর্দা, দুই মাধ্যমেই সমানভাবে সক্রিয় নওশাবা। রেজা আরিফের নির্দেশনায় ‘সিদ্ধার্থ’ নাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি পরিচালনা করছেন নিজের নাট্যদল ‘টুগেদার উই ক্যান’-এর বিভিন্ন প্রযোজনা। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে কাজ করা এই দলের ব্যানারে ইতোমধ্যে চারটি নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার চলচ্চিত্র নির্মাণে হাত দিলেন নওশাবা। তার পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘সোমেশ্বরী’র প্রযোজক বিবেশ রায়।

 

 

 

প্রযোজকের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি একটি সম্মিলিত প্রয়াস। কাজী নওশাবা, আপন, লতা, জাহিদসহ কয়েকজন মিলে সিনেমাটির গল্প ও চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন এবং নির্মাণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছেন।

সিনেমাটি নিয়ে নওশাবা বলেন, ‘শুরুতে গল্প বা চরিত্র সম্পর্কে কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল না। পুরো টিম মধ্যনগরে গিয়ে স্থানীয় বাস্তবতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে গল্প নির্মাণ করেছে। মূল চরিত্রে অভিনয়েরও পরিকল্পনা ছিল না আমার, তবে উপযুক্ত কাউকে না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত নিজেই চরিত্রটি করি।’

নওশাবার ভাষ্য, গ্রামীণ জীবন সম্পর্কে তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থাকায় চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি। স্থানীয় মানুষের সহযোগিতাও পেয়েছেন তিনি।

সিনেমার গল্প প্রসঙ্গে নওশাবা জানান, আধুনিকতার নামে প্রকৃতির ওপর মানুষের নেতিবাচক প্রভাব, পরিবেশ দূষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কেমন পৃথিবী রেখে যাওয়া হচ্ছে— এসব বিষয় ‘সোমেশ্বরী’র মূল উপজীব্য। পাশাপাশি এতে থাকছে একটি বিশেষ মানবিক গল্পও।

 

 

 

‘সোমেশ্বরী’ নির্মিত হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি অব ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া-এর আওতাধীন গ্রিন ফিল্মসের ব্যানারে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন, দায়িত্বে প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

ডেঙ্গু মোকাবিলায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নেতৃত্বে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে সরকার।

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ‘ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ বিষয়ক জাতীয় কমিটি’র প্রথম সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে উচ্চপর্যায়ের এ ‘টাস্কফোর্স’ গঠন করা হয়।

 

 

জানা গেছে, ডেঙ্গু মোকাবিলায় গঠিত এ ‘টাস্কফোর্স’-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

 

 

টাস্কফোর্সের কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে জাতীয় কমিটির গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রদান। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে জাতীয় কমিটিকে অবহিত করা এবং বাস্তবায়নে কোনো সীমাবদ্ধতা থাকলে তা নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখা।

১৯ সদস্যের এই কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের নগর উন্নয়ন অনুবিভাগের প্রতিনিধি, দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী, স্বাস্থ্য ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় (স্বাস্থ্য, শিক্ষা, গৃহায়ন ও গণপূর্ত), ডিএমপি, রাজউক, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি এবং ‘ইম্প্রুভমেন্ট অব আরবান পাবলিক হেলথ প্রিভেন্টিভ সার্ভিসেস প্রজেক্ট’-এর প্রকল্প পরিচালক। সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্থানীয় সরকার বিভাগের নগর উন্নয়ন-২ শাখার উপসচিব।

সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ মাঠ পর্যায়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর ও সমন্বিত নজরদারি নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

একযোগে পদত্যাগ করলেন ১৭ ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল

জুলাই চার্টার বাস্তবায়ন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের অবস্থানের সঙ্গে মতপার্থক্যের কথা উল্লেখ করে পদত্যাগ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ১৭ জন আইন কর্মকর্তা। এদের মধ্যে ১০ জন ডেপুটি ও ৭ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল।

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো পৃথক পদত্যাগপত্রে তারা দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তারা সবাই জামায়াতপন্থি হিসেবে পরিচিত।

 

 

পদত্যাগকারী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলরা হলেন- অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী, শফিকুর রহমান, আবদুল করিম, ফরিদ উদ্দিন খান, গোলাম রহমান ভূঁইয়া, আসাদ উদ্দিন এবং মুহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

এ ছাড়া পদত্যাগকারী সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলরা হলেন- ইমরুল কায়েছ রানা, হুমায়ুন কবির তানিম, আবদুল কাইয়ুম ভূঁইয়া, আবদুল্লাহিল মারুফ ফাহিম, জোয়াদুর রহমান, শামসিল আরেফিন, মাহাবুবা আক্তার রলি, নূর নবী উজ্জ্বল, আল রেজা আমির এবং রেজাউল ইসলাম।

পদত্যাগপত্রে তারা বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী জুলাই চার্টার বাস্তবায়ন না হওয়া, বিচার বিভাগের জন্য স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা এবং সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিলের মতো বিষয়গুলো নিয়ে তাদের গভীর উদ্বেগ রয়েছে। এসব কারণে সাংবিধানিক শাসন, আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

তারা আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থেকে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই তারা অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার শর্তে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

১৮ বছরের দুর্নীতির জালে বন্দী উন্নয়ন, ১১ বছরের ভোগান্তি

চট্টগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়ক আজ দীর্ঘ সময় ধরে নগরবাসীর দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ শিক্ষার্থী, রোগী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিক এই সড়কে চলাচল করতে গিয়ে সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। খানাখন্দে ভরা সড়কে যানবাহনের গতি কমে যায়, বাড়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, নষ্ট হয় মূল্যবান সময়। সড়কটির দায়িত্ব সিডিএ নাকি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের, এ নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের টানাপোড়েন আবারও আলোচনায় এসেছে।

 

 

তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই সংকটের শিকড় কেবল বর্তমান প্রশাসনিক জটিলতায় সীমাবদ্ধ নয়। এর পেছনে রয়েছে প্রায় দুই দশকজুড়ে অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তের বিতর্ক এবং জবাবদিহিহীনতার দীর্ঘ ইতিহাস।

 

 

 

এই ইতিহাসের সূত্রপাত ২০০৭ সালে। ওই বছরের ১ জুলাই চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নির্বাহী প্রকৌশলী এ.জি.এম. সেলিম এবং সহকারী প্রকৌশলী রাজীব দাস অক্সিজেন জংশন থেকে কাপ্তাই রোড পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজ পরিদর্শন করে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে একটি তদন্ত প্রতিবেদন তৎকালীন চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেন। পরবর্তীতে এই প্রতিবেদনই দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

এরপর ২০০৮ সালে দুদক সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) প্রকৌশলীদের দিয়ে প্রকল্পটির পুনঃপরিমাপ করায়। সেই প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাস্তবে সম্পন্ন হওয়া কাজের মূল্য ছিল মাত্র ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪৬০ টাকা, অথচ ঠিকাদার উত্তোলন করেছেন ৫ লাখ ৯১ হাজার ৯৭ টাকা। অর্থাৎ অতিরিক্ত বিল উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ লাখ ৩৫ হাজার ৬৩৭ টাকা। এই তথ্যের ভিত্তিতে ২০০৮ সালের ৯ অক্টোবর কাজী হাসান বিন শামসসহ পাঁচজন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মোট ১৫টি দুর্নীতির মামলা দায়ের করে দুদক। অভিযোগ ছিল, প্রকৃত কাজের তুলনায় অতিরিক্ত বিল তুলে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এর কিছুদিন পর, ২০০৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অভিযুক্ত কাজী হাসান বিন শামস ট্রুথ কমিশনে হাজির হয়ে তিন লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেন এবং দায় স্বীকারের ভিত্তিতে মার্জনা গ্রহণ করেন। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে। যদি অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন হয়ে থাকে, তাহলে তিনি কেন ট্রুথ কমিশনের কাছে দায় স্বীকার করে অর্থ জমা দিলেন? যদিও পরে ট্রুথ কমিশনকে আদালত অবৈধ ঘোষণা করেন, তবুও দায় স্বীকার এবং অর্থ জমা দেওয়ার ঘটনাটি ইতিহাসের অংশ হয়ে রয়েছে।

পরবর্তীতে ২০০৮ সালের ১৩ নভেম্বর হাইকোর্ট ট্রুথ কমিশনকে অবৈধ ঘোষণা করেন এবং ২০১১ সালে আপিল বিভাগও সেই রায় বহাল রাখেন। এর ফলে ট্রুথ কমিশনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া দুর্নীতির মামলাগুলো পুনরায় সচল হয়ে যায় এবং মামলাগুলোর তদন্ত আবার নতুন করে শুরু হয়।

 

 

এই ধারাবাহিকতায় দুদকের তৎকালীন উপ-সহকারী পরিচালক মো. হুমায়ুন কবির দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ২১ মে কমিশনে একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। কিন্তু বিস্ময়করভাবে সর্বশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. এমরান হোসেনের প্রতিবেদনে ২০১২ সালের তদন্তে কী পাওয়া গিয়েছিল, তার উপসংহার কী ছিল, কিংবা আগের তদন্তের সঙ্গে পরবর্তী তদন্তের পার্থক্য কোথায় এসব বিষয়ে কার্যত কোনো বিশ্লেষণই পাওয়া যায় না। ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত প্রতিবেদন রহস্যজনকভাবে আড়ালে থেকে গেছে বলে প্রশ্ন উঠেছে।

 

 

আরও বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে পুনঃপরিমাপের প্রক্রিয়া নিয়ে। ২০০৮ সালে যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) প্রকৌশলীরা পুনঃপরিমাপ করে দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা পেয়েছিলেন, ২০২৪ সালের পুনঃতদন্তে সেই সংস্থাকেই আর দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এর পরিবর্তে পুনঃপরিমাপের দায়িত্ব দেওয়া হয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে (ডিপিএইচই)। বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়ক নির্মাণের কারিগরি পরিমাপের ক্ষেত্রে সওজই সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান। তাহলে কেন সেই সংস্থাকে বাদ দেওয়া হলো এ প্রশ্নের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা তদন্ত প্রতিবেদনে পাওয়া যায় না।

 

 

এদিকে তদন্ত প্রক্রিয়া ঘিরে দুদকের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। আসামি কাজী হাসান বিন শামস ২০২২ সালের ১৭ নভেম্বর দুদক চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করে দাবি করেন, আগের পরিমাপে অসঙ্গতি রয়েছে এবং প্রকল্পের আওতায় নির্মিত কালভার্টগুলো অন্য কোনো প্রকৌশল বিভাগ দিয়ে পুনরায় পরিমাপ করা হোক। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ অতীতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব থাকাকালে কাজী হাসান বিন শামসের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন এবং সেই সম্পর্কের প্রভাবেই আবেদনটি বিশেষভাবে বিবেচিত হয়।

 

 

পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ২২ অক্টোবর দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয় যে, পূর্ববর্তী পরিমাপ প্রকৌশল গাইডলাইন অনুসরণ না করে হয়ে থাকলে এবং তাতে ন্যায়বিচার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে পুনঃপরিমাপ গ্রহণ করা যেতে পারে। একই সময়ে, দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর তৎকালীন পরিচালক ও উপপরিচালক নাজমুস সাদাতের কাছে কাজী হাসান বিন শামসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য থাকলেও তদন্তে সেগুলো যথাযথ গুরুত্ব পায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

 

 

সবশেষে প্রায় ১৮ বছর পর এলজিইডি ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মতামতের ভিত্তিতে তদন্তে বলা হয়, বিলের পরিমাণ এবং বাস্তব কাজ প্রায় সমান, পার্থক্য খুবই নগণ্য এবং দীর্ঘ ব্যবহারে কিছু অপচয় হয়েছে। এরপর মামলাটি ঘটনাগত ভুল হিসেবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন'(এফআর অ্যাজ মিস্টেক অব ফ্যাক্ট) আকারে নিষ্পত্তির সুপারিশ করা হয়।

 

 

কিন্তু এখানেই নতুন করে একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। ২০০৫-২০০৬ সালে নির্মিত একটি কালভার্ট ২০২৪ সালে পরিমাপ করে মূল নির্মাণকাজের পরিমাণ কতটা নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব? তদন্তে কোথাও কোর টেস্ট, নন-ডেস্ট্রাকটিভ টেস্ট, ফটোগ্রাফিক এভিডেন্স, অ্যাজ-বিল্ট ড্রয়িংয়ের সত্যতা যাচাই কিংবা বিস্তারিত ফিল্ড ভেরিফিকেশনের তথ্য পাওয়া যায় না। ফলে পুনঃপরিমাপের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে।

 

 

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গত ১৮ বছরে এই সড়কে কতবার সংস্কার হয়েছে, কত টাকা ব্যয় হয়েছে, কোন অংশ পুনর্নির্মাণ হয়েছে এসব মৌলিক তথ্যও তদন্তে বিশ্লেষণ করা হয়নি। অথচ ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়ক পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল। অর্থাৎ যে করিডোরকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, পরবর্তীতে সেই একই করিডোরে বিপুল অর্থ ব্যয় করে নতুন সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। তাহলে পূর্ববর্তী নির্মাণকাজের গুণগত মান কী ছিল, কেন পুনর্নির্মাণের প্রয়োজন হলো এবং পুরোনো কাজের দায় কার এসব প্রশ্নেরও কোনো উত্তর তদন্তে নেই।

 

 

এদিকে বর্তমানে সড়কটির দায়িত্ব নিয়ে সিডিএ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন একে অপরের দিকে দায় ঠেলে দিচ্ছে। কিন্তু এই টানাপোড়েনের মাঝেই বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যানবাহন, সময় নষ্ট হচ্ছে শিক্ষার্থী, রোগী ও কর্মজীবী মানুষের। ফলে প্রশ্ন উঠছে আজকের এই জনদুর্ভোগ কি শুধুই বর্তমান প্রশাসনিক সংকটের ফল, নাকি অতীতের অনিয়ম, দুর্বল তদারকি এবং জবাবদিহিহীনতার ধারাবাহিক পরিণতি?

 

 

অক্সিজেন কুয়াইশ সড়কের বর্তমান পুনঃনির্মাণ কাজের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ সড়কটির মূল ফাউন্ডেশনই দুর্বল, ফলে শুধু ওপরের অংশ সংস্কার করলেও তা দীর্ঘমেয়াদে টিকবে না। অল্প সময়ের মধ্যেই আবার ভাঙন ও ক্ষয়ের ঝুঁকি থেকে যায়, এবং ভবিষ্যতে পুনরায় সংস্কার ও অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রয়োজন হতে পারে।

 

 

এ বিষয়ে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা ইমরান হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি একটি মিটিংয়ে আছেন বলে কল কেটে দেন। পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

 

 

দুদকের ভূমিকাও তাই নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ২০০৮ সালে যে অভিযোগের ভিত্তিতে ১৫টি মামলা হয়েছিল,সেই অভিযোগ কি সম্পূর্ণ ভুল ছিল? যদি ভুল হয়ে থাকে, তাহলে মামলাগুলোর ভিত্তি কী ছিল? অভিযুক্ত ব্যক্তি ট্রুথ কমিশনে অর্থ জমা দিলেন কেন? ২০১২ সালের তদন্ত প্রতিবেদন কেন গুরুত্ব পেল না? সওজকে বাদ দিয়ে অন্য সংস্থাকে দিয়ে পুনঃপরিমাপ কেন করানো হলো? আর ১৮ বছর পর সংগৃহীত পরিমাপ কি ২০০৫ সালের বাস্তবতা নির্ধারণের জন্য যথেষ্ট?

 

 

এদিকে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম দফায় সরেজমিনে অক্সিজেন -কুয়াইশ সড়কের সংস্কারকাজ পরিদর্শনে যান চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. বেলায়েত হোসেন। এ সময় তিনি প্রকল্প এলাকার চলমান কাজের অগ্রগতি, গুণগত মান এবং বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো ঘুরে দেখেন।

 

 

সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, পরিদর্শনকালে আমি দেখেছি অবৈধভাবে নালা দখল করা হয়েছে, ফুটপাতে ঢালাই দেওয়া হয়েছে এবং ময়লা আবর্জনা ফেলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এতে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং বৃষ্টির পানি দীর্ঘ সময় জমে থেকে সড়কের ক্ষতি করছে। এ ধরনের অবস্থা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

 

 

অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কের বর্তমান দুর্দশা তাই কেবল একটি ভাঙাচোরা রাস্তার গল্প নয়। এটি রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি, উন্নয়ন প্রকল্পের সুশাসন, তদন্তের স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে এক গভীর প্রশ্নের নাম। অতীতের অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত, বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর স্বচ্ছ ব্যাখ্যা এবং দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে শত শত কোটি টাকা ব্যয় করে নতুন সড়ক নির্মাণ করলেও সমস্যার মূল কারণ অমীমাংসিতই থেকে যাবে।

 

 

নোয়াখালীতে মাদক ব্যবসার অভিযোগে গাঁজাসহ এক বৃদ্ধ আটক

নোয়াখালী পৌরসভার কালিতারা জালিয়াল এলাকায় সোমবার (২২ জুন) গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে গাঁজাসহ মো. শহীদ উল্লা (৫২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, সুধারাম মডেল থানাধীন কালিতারা জালিয়াল এলাকার আব্দুল হক বেপারী বাড়ির বাসিন্দা মো. শহীদ উল্লার (৫২) নিজ দখলীয় বসতঘরে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ২ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা, নগদ ১৭ হাজার টাকা, একটি ওজন পরিমাপক যন্ত্র ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মো. শহীদ উল্লা (৫২) মৃত সেকান্দর মিয়ার ছেলে। তিনি নোয়াখালী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কালিতারা জালিয়াল এলাকার বাসিন্দা।
প্রাথমিকভাবে জানা যায়, শহীদ উল্লা কালিতারা এলাকায় গাঁজার খুচরা ব্যবসা করে আসছিলেন। বিভিন্ন মাদক স্পটে ফেরি করে গাঁজা বিক্রির অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আলামতসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(১) এর সারনির ক্রমিক নং-১৯(ক) এবং ২৬(১) ধারায় সুধারাম মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেন পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আগামী ১৫ বছরে মিসরের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াবে ইসরায়েল

ইসরায়েলের একজন প্রভাবশালী জায়নবাদী অধিকারকর্মী দাবি করেছেন, আগামী ১৫ বছরের মধ্যে মিসরের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধ হবে। তার মতে, ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের দুর্বল করার পর ভবিষ্যতে ইসরায়েলের প্রধান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে সুন্নি মুসলিম শক্তিগুলো।

 

 

জেরুজালেমে অনুষ্ঠিত জিউইশ নিউজ সিন্ডিকেট (জেএনএস) ইন্টারন্যাশনাল পলিসি সামিটে বক্তব্য দিতে গিয়ে হেরুত সেন্টারের প্রধান নির্বাহী এবং ইসরায়েলের জাতীয়তাবাদী শিবিরের অন্যতম মুখ আমিয়াদ কোহেন বলেন, মিসর ও তুরস্ক দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েল এবং পশ্চিমাদের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

 

 

তিনি বলেন, ১৫ বছর পর ইসরায়েলের সঙ্গে মিসরের যুদ্ধ হবে। মুসলিম ব্রাদারহুড একসময় মিসরের নিয়ন্ত্রণ নেবে।

ইরান ও অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্সের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আলোচনায় কোহেন বলেন, এখন শিয়া গোষ্ঠীগুলোর পরিবর্তে সুন্নি রাজনৈতিক আন্দোলনের দিকে নজর দেওয়া উচিত।

মুসলিম ব্রাদারহুডকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক নম্বর হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। তার দাবি, সংগঠনটি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। এমনকি নিউইয়র্কের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গেও তিনি মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রভাবের ইঙ্গিত দেন।

কোহেন তুরস্ককেও ভবিষ্যতের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আঙ্কারার ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক প্রভাবকে ইসরায়েলের জন্য কৌশলগত হুমকি হিসেবে দেখা উচিত।

 

 

বিশ্লেষকদের মতে, কোহেনের এই বক্তব্য ইসরায়েলের কিছু রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে ক্রমবর্ধমান সেই প্রবণতার প্রতিফলন, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রতিপক্ষ হিসেবে তুরস্ক ও মিসরকে বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

 

গত মাসে দণ্ডপ্রাপ্ত ইসরায়েলি গুপ্তচর জনাথন পোলার্ডও দাবি করেছিলেন, ইরান দুর্বল হওয়ার পর তুরস্ক ও মিসর ইসরায়েলের পরবর্তী নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জে পরিণত হতে পারে। তার তথ্য অনুযায়ী, আঙ্কারা ধীরে ধীরে তেহরানের জায়গা নিচ্ছে।

 

 

উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে মিসর ও ইসরায়েলের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা বজায় রয়েছে। অন্যদিকে, গাজা, জেরুজালেমসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যুতে তুরস্ক-ইসরায়েল সম্পর্ক বারবার উত্তেজনার মুখে পড়েছে।

 

 

কোহেন বলেন,ইসরায়েলকে এমন এক ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, যেখানে প্রধান চ্যালেঞ্জ আসবে শিয়া গোষ্ঠী নয়, বরং সুন্নি রাজনৈতিক শক্তি ও আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে।

 

 

তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলকে শক্তিশালী হতে হবে, আমেরিকাকেও শক্তিশালী হতে হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমেরিকা দুর্বল।

 

 

হামের প্রকোপে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি পৌঁছাল ৬৮৬

দেশজুড়ে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১৩৫ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে।

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৫৯৩টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৩টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৬৮৬টি শিশু মারা গেছে।

এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ১২৬টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১,০০৯ জন। এসময়ে ৯৭৩টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৯৮৬টি শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৪ হাজার ৭৬৪, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ২৯৭। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৭৮ হাজার ৭১৬ রোগী, যাদের মধ্যে ৭৪ হাজার ৯৭১ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

 

 

 

নিরাপত্তা জোরদারে রাজধানীজুড়ে বিজিবি মোতায়েন

রাজধানীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে নাশকতা রুখতে বিভিন্ন স্থানে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

 

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিজিবির জনসংযোগ বিভাগ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

 

এতে বলা হয়, রাজধানীর ধানমন্ডি, শাহবাগ, আবরার ফাহাদ এভিনিউ, বাংলামোটর, কাওরান বাজার, শেরেবাংলা নগর ও মহাখালীসহ বিভিন্ন পয়েন্টে বিজিবি মোতায়েন করা হলো।

এর আগে দেশের ৫ জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়। জেলাগুলো হলো: কক্সবাজার, মাদারীপুর, শেরপুর, গাজীপুর ও মৌলভীবাজার। সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় বিজিবি সদর দফতর থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছিল।

এ ছাড়া, দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতেও প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে মোতায়েনের লক্ষ্যে বিজিবি সদস্যরা স্ট্যান্ডবাই রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে, দিবসটিতে যেকোনো নাশকতা রোধে নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী। মধ্য রাত থেকেই টহলে নামে সেনাবাহিনী। নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ, র‍্যাব।

 

 

সকাল থেকে গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সতর্ক অবস্থানে দেখা যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী। তবে সেখানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

 

 

 

অন্যদিকে, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন দলটির নেতাকর্মীরা। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিলও হয়। পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে রুহুল কবির রিজভী বলেন, পাচার করা টাকায় পতিত শক্তি দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

 

 

 

পূর্বাচলের তিনশ ফিট এলাকায় রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। এছাড়া, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের চোরাগুপ্তা মিছিল এবং জনমনে ভীতি সৃষ্টিতে চেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ভোলা, রাঙামাটিসহ বিভিন্ন জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

 

 

 

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। কেউ সরকারকে বিব্রত করতে চাইলে তাদের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।

‘আওয়ামী লীগ এমন প্রবলভাবে আছে যা আগে কখনো ছিল না’, অভিনেত্রী শাওন

কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন অভিনেত্রী ও নির্মাতা মেহের আফরোজা শাওন।

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি দাবি করেন, ‘আওয়ামী লীগ আরও প্রবলভাবে আছে।’ তার এই মন্তব্য ঘিরে নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া। রাজনৈতিক বাস্তবতা, দলের বর্তমান অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে শাওনের এমন বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। পোস্টটি প্রকাশের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

 

 

মেহের আফরোজা শাওন তার পোস্টে বলেন, “মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় বলেছিলেন ‘আওয়ামী লীগ নামে কোনো সংগঠন নেই’, কিন্তু আমি তো দেখছি আওয়ামী লীগ এমন প্রবলভাবে আছে যা আগে কখনো ছিল না! আওয়ামী লীগের ৭৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী খোদ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের চেয়ে আরো বেশি আলোচিত ও সফল করে তুলবার জন‍্য বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ।”

সালমান শাহর দেহাবশেষ উত্তোলনের নির্দেশ বহাল রাখল আদালত

চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র মৃত্যুর প্রায় ৩০ বছর পর কবর থেকে তার দেহাবশেষ উত্তোলনের আদেশ বাতিল ঘোষণা করা হলেও, পরে তা নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে দেহাবশেষ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করেন মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম।

 

 

শুনানি শেষে সকালে বিচারকের উপস্থিতিতে এক পুলিশ কর্মকর্তা আদেশ পড়ে শুনিয়ে জানান, বাদীর পক্ষের আবেদন মঞ্জুর হয়েছে। লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল করা হলো।

এই আদেশের পর গণমাধ্যমে ‘লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল হয়েছে’ শিরোনামে সংবাদ প্রচার হয়। পরবর্তীতে আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক শাহ আলম জানান, লাশ উত্তোলন আদেশ বাতিল হয়নি, বাদীপক্ষের আবেদনটি নথিভুক্ত রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবিদ হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সকালে প্রকাশ্যে আদালত সালমান শাহ’র দেহাবশেষ উত্তোলনের আদেশ বাতিল করেন। কিন্তু দুপুরে শুনছি আদেশ নাকি নথিভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি আমার বোধগম্য হচ্ছে না। বিচার বিভাগের সকল কাজ আরও স্বচ্ছতা থাকা উচিত।

তিনি আরও বলেন, প্রকাশ্য আদালতে বিচারকের সামনে আদেশ ঘোষণা করা হয়েছে। বিচারকের সামনে এমন ভুল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কীভাবে হয়েছে আমার বোধগম্য হচ্ছে না।

 

 

এদিকে, সালমান শাহার মামা ও মামলার বাদী আলমগীর কুমকুম বলেন, ‘আমি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যখন আবেদন করি তখন আদালত বলেন এক্সেপটেড (গ্রহণ)। আমি নিজের কানে শুনেছি। কিন্তু হঠাৎ করে শুনছি নথিভুক্ত হয়েছে। এটা কীভাবে সম্ভব!

 

 

এ বিষয়ে প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক শাহ আলম বলেন, ‘প্রকাশ্য আদালতে আমাদের এক পুলিশ কর্মকর্তা ভুল আদেশ ঘোষণা করেছিলেন। আসলে আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করেছেন।’

 

 

ওই আবেদনে বলা হয়, সালমান শাহকে ঢাকার শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়েছে এবং সেখানেই তার কবর রয়েছে। এ অবস্থায় দেহাবশেষ উত্তোলন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। বাদী ও নিহতের মা নীলা চৌধুরীর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়।

 

 

এর আগে, চলতি বছরের ২০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক মো. জিয়াউল মোর্শেদ আদালতে দেহাবশেষ উত্তোলন, সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের অনুমতি এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের আবেদন করেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ মে আদালত কবর থেকে দেহাবশেষ উত্তোলনের অনুমতি দেন।

 

 

গত বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। আদালত পরে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

 

 

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বাদীর বোন ও বোন জামাই গ্রিন রোডের বাসায় পৃথকভাবে বসবাস করতেন। তারা সালমানের ইস্কাটনের বাসায় যাওয়ার পর স্ত্রী সামিরা এবং কর্মচারী আবুল জানান, সালমান ঘুমাচ্ছেন। ওই সময় চলচ্চিত্র প্রযোজক সিদ্দিকও সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সালমান ঘুমাচ্ছেন শুনে তার বাবা-মা স্ত্রী সামিরাকে বলে আসেন যে, তারা সিলেটে যাওয়ার পথে সালমানের সঙ্গে দেখা করে যাবেন। এরপর তারা এবং প্রযোজক সিদ্দিক ইস্কাটনের বাসা ত্যাগ করেন।

 

 

ঘটনার দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমান শাহর বাবাকে জানান, সালমানের ‘যেন কী হয়েছে’। খবর পেয়েই তারা দ্রুত বাসায় ছুটে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান, সালমান তার শোবার ঘরে পড়ে আছেন।

 

 

অভিযোগে আরও বলা হয়, সে সময় দুই-একজন বহিরাগত নারী সালমানের হাতে-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন এবং রুবী নামে একটি মেয়ে সেখানে বসে ছিলেন।

 

 

তখন সামিরা সালমানের মাকে বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। পরে সালমানের বাবা-মা তাকে নিয়ে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে যাওয়ার পথে তার গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পা নীলবর্ণ ধারণ করতে দেখেন।

 

 

অবস্থার গুরুত্ব বুঝে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, বেশ কিছুক্ষণ আগেই সালমান শাহ মারা গেছেন।

দীর্ঘদিন কোলন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই শেষে না ফেরার দেশে জাকির হোসেন

দীর্ঘদিন কোলন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই শেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন অভিনেতা ও নৃত্য পরিচালক জাকির হোসেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫০ বছর। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে রাজধানীর মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যুতে চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। রেখে গেছেন স্ত্রী ও পাঁচ বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান।

 

 

 

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। চিকিৎসার অংশ হিসেবে তিনি ভারতের ব্যাঙ্গালুরু থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত শনিবার (২০ জুন) মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

 

 

 

দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্রে নৃত্য পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন জাকির হোসেন। তিনি এক সময় বহু চলচ্চিত্রে নৃত্য নির্দেশনা দিয়ে দর্শকদের নজর কাড়েন; পাশাপাশি অভিনয়েও তার উপস্থিতি ছিল। এছাড়া চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিতে তিনি ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন।

ক্যালকুলেটরে ঘুষের হিসাব: অভিযুক্ত কর্মকর্তা প্রত্যাহার

ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে ভিডিও ভাইরাল এবং দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে পঞ্চগড়ের বাবুল চন্দ্র রায়কে বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ত্রাণ প্রশাসন শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে দেবীগঞ্জ উপজেলা থেকে প্রত্যাহার করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

 

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ২৪ জুনের মধ্যে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে ওইদিন অপরাহ্ণ থেকে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজড) হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কারণ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়নি।

এর আগে, সোমবার বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে বাবুল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দের বিপরীতে ১৫ শতাংশ কমিশন বা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ সংবলিত সংবাদ প্রকাশিত হয়।

অভিযোগের সূত্রে পাওয়া প্রায় ৪ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে বাবুল চন্দ্র রায়কে বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দের বিপরীতে কমিশনের পরিমাণ নির্ধারণ করতে দেখা যায়। ভিডিওতে তিনি ক্যালকুলেটরের মাধ্যমে হিসাব করে একাধিক প্রকল্পের বিপরীতে কমিশনের অঙ্ক নির্ধারণ করছেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথোপকথন করছেন বলে দেখা গেছে।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। স্থানীয় জনসাধারণ, রাজনৈতিক মহল এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি ওঠে।

 

 

এদিকে, পিআইও বাবুল চন্দ্র রায়ের প্রত্যাহারের আদেশকে ঘিরে এলাকায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

সুইস রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে জামায়াত আমিরের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত মি. রেতো রেংগলি।

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এসব তথ্য জানানো হয়।

 

 

বৈঠকে বাংলাদেশে নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই বাংলাদেশে সুইস বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং ভবিষ্যতেও সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে মত দেন।

আলোচনায় রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট, মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার, বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের গঠনমূলক ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও মতবিনিময় হয়।

বৈঠকে ডা. শফিকুর রহমান রাষ্ট্রদূতকে তার সক্রিয় ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তিনি গ্রীন এনার্জি, বিনিয়োগ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুইজারল্যান্ডকে আরও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

এ সময় বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন।

 

 

রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের হেড অব পলিটিক্যাল ইকোনমিক এবং কমিউনিকেশন অ্যাফেয়ার্স মি. আলবের্তো জিওভানেত্তি এবং সিনিয়র পলিটিক্যাল, ইকোনমিক এবং প্রেস অফিসার মি. খালেদ চৌধুরী।

রায়গঞ্জে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি ও সেলাই মেশিন বিতরণ

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বাস্তবায়নাধীন “বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা” কর্মসূচির আওতায় সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি, বাইসাইকেল এবং উপকারভোগীদের মাঝে সেলাই মেশিন ও বসতঘর বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল খালেক পাটোয়ারী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষা সম্প্রসারণ ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তিনি শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রদত্ত সহায়তা সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেদের স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার অসহায় ও হতদরিদ্র ৮টি পরিবারের মাঝে বসতঘর প্রদান করা হয়। পাশাপাশি তরুণী ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ২৮টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। এছাড়া ২৭৪ জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত শিক্ষার্থীর মাঝে এককালীন শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়। শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সুবিধার জন্য বাইসাইকেলও বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে নির্বাচিত উপকারভোগীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষাবৃত্তির চেক, সেলাই মেশিন ও অন্যান্য সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে হত্যা, মৃত্যুর পরও মুক্তিপণ দাবি

সাইপ্রাসে লেখাপড়া করতে গিয়ে হত্যার শিকার হন রায়পুরার যুবক শাহরিয়ার আহমেদ ওরফে ইমন। তাকে হত্যার পর লাশ গুম করার চেষ্টা করে অপহরণকারী। দীর্ঘ দশ দিন পর এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে শাহীন বাবু (২২) নামে এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে সাইপ্রাস পুলিশ।

 

 

তার দেওয়া তথ্যেই ওখানকার একটি জঙ্গলের ভেতর পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা শাহরিয়ারের লাশ ও হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

 

 

নিহত শাহরিয়ার আহমেদ (২২) নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার উত্তরবাখরনগর ইউনিয়নের লোচনপুর গ্রামের গ্রিসপ্রবাসী নাসির মিয়ার ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে শাহরিয়ার সবার বড়। তিন মাস আগে শিক্ষার্থী ভিসায় ভূমধ্যসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসে যান তিনি। সাইপ্রাসের লারনাকার ওরোক্লিনি এলাকায় তিনি বসবাস করতেন। সেখানে তার রুমমেট ছিল তার গ্রামের প্রতিবেশী রায়হান।

শাহরিয়ারের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গত ঈদুল ফিতরের কয়েক দিন পূর্বে শাহরিয়ার শিক্ষার্থী ভিসায় সাইপ্রাসে যান। বিদেশে যাওয়ার আগেই অনলাইনে সেখানকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখানে যাওয়ার পর তার খরচ হিসেবে প্রতি মাসে ৫০/৬০ হাজার টাকা পাঠাতে হতো। পরিবারের ওপর চাপ কমাতেই শাহরিয়ার কাজের সন্ধান করতে থাকে। একপর্যায়ে কাজের সন্ধান পান।

গত ১১ জুন বিকেলে তার মায়ের সঙ্গে কথা বলে শাহরিয়ার জানান, কাজের ব্যবস্থা হয়েছে। আজ রাত থেকে ডিউটি শুরু। দোয়া কইরো। কাজ পাওয়ার কথাটি প্রবাসী বাবা ও তার রুমমেট রায়হান মিয়াকে জানান।

রায়হান তাকে বলেছিলেন, ‘সেখানে গিয়ে লোকেশন পাঠাস।’ কোনো প্রয়োজন হলে যেন যোগাযোগ করা যায় সহজে। পরে স্থানীয় সময় রাত ৯টায় কাজের স্থানে পৌঁছে রায়হানের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে লোকেশন পাঠান শাহরিয়ার। কিছুক্ষণ পর রায়হান ফিরতি মেসেজে ‘ওকে’ লিখলেও তা আর সিন করেনি শাহরিয়ার। কিন্তু রাত ১০টার দিকে শাহরিয়ারের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকেই বাবা নাসির মিয়ার কাছে একটি ম্যাসেজ পাঠানো হয়। তাতে লেখা ছিল, ‘আপনার ছেলেকে কিডন্যাপ করেছি। ছেলেকে ফিরে পেতে চাইলে ৩৫ হাজার ইউরো দিতে হবে (যা বাংলা টাকায় ৫০ লাখ)। যদি দেন ছেলেকে ফিরে পাবেন, না দিলে তার চোখ ও কিডনি খুলে বিক্রি করে দেব।’

 

 

রাতেই বাবা পরিবারের সদস্যদের ঘটনাটি জানান। তবে সবাই ভেবে ছিল, হয়তো শাহরিয়ারের হোয়াটসঅ্যাপ আইডিটি ‘হ্যাকড’ হয়েছে। পরদিন ১২ জুন সকালে কাজ থেকে আর ফিরে আসেননি শাহরিয়ার। এরপরই রায়হান ওখানকার স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে গিয়ে রিপোর্ট করেন। পরে পুলিশের সাথে ওই লোকেশনে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ২৪ ঘণ্টা অনলাইনে সচল ছিল শাহরিয়ারের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর। প্রতিদিনই পরিবারের কাছে মুক্তিপণের টাকা চাওয়া হচ্ছিল।

 

 

শাহরিয়ারের ভাই নয়ন আহমেদ জানান, শাহরিয়ারের কোনো খোঁজ না পেয়ে একপর্যায়ে আমরা মুক্তিপণের টাকা পাঠাতে রাজি হই এবং অপহরণকারীদের সঙ্গে দর-কষাকষির মাধ্যমে বাংলাদেশি টাকায় পাঁচ লাখে চুক্তি হয়। পরে রোববার (২১ জুন) দুপুরে চুক্তি অনুযায়ী টাকা পাঠাতে ব্যাংকে যাই। ওখানে গিয়ে ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে টাকা পাঠাবার সিদ্ধান্ত নেই এবং অপহরণকারীর কাছে থাকা আমার ভাইয়ের মোবাইল ফোন দিয়ে ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলতে চাই।

 

 

কিন্তু অপহরণকারীদের কথাবার্তায় সন্দেহ হলে টাকা না দিয়ে বাড়ি ফিরি। একপর্যায়ে দেখি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরটি অফলাইনে চলে যায়। ওই দিন রাতেই জানতে পারি সাইপ্রাস পুলিশ শাহীন বাবু নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওখানকার একটি জঙ্গল থেকে পাতা দিয়ে ঢাকা আমার ভাইয়ের লাশ উদ্ধার করে। তবে গ্রেপ্তার ওই তরুণ শাহীন বাবুর বাড়ি বাংলাদেশের কোন এলাকায়, তা নিশ্চিত করেনি পুলিশ।

 

 

রায়পুরার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা বলেন, সাইপ্রাসে এক শিক্ষার্থী অপহরণের পর হত্যার শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় এক বাংলাদেশিকে ওখানকার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে শুনেছি। তবে বিষয়টি সাইপ্রাসের দূতাবাস থেকে এ পর্যন্ত আমাদের অফিশিয়ালি জানানো হয়নি। নিহত তরুণের পরিবারের পক্ষ থেকেও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। তারা যদি সহযোগিতা চায়, মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

আলোচিত ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ এখন সাভারে

মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানা থেকে অবশেষে সাভারে ঠাঁই হয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজর কাড়া সেই আলোচিত মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। তবে কোনো প্রদর্শনী নয়, এবার তাকে আনা হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন উদ্দেশে, উন্নত গবেষণার জন্য।

 

 

 

বর্তমানে সাভারের বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) কড়া নজরদারিতে বিশেষ কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে বিরল ‘অ্যালবিনো’ জাতের এই মহিষটিকে।

 

 

 

বিএলআরআই সূত্রে জানা গেছে, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশনায় রোববার জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে মহিষটিকে তাদের কাছে হস্তান্তর করে। ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-এর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও ভবিষ্যতের জিনগত গবেষণার জন্য ইতোমধ্যে বিএলআরআই কর্তৃপক্ষ একটি উচ্চপর্যায়ের দল গঠন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মহিষ উৎপাদন গবেষণা বিভাগের প্রধান ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. গৌতম কুমার দেবকে প্রধান করে ১৩ সদস্যের এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মহিষ উৎপাদন গবেষণা বিভাগের প্রধান ড. গৌতম কুমার দেব জানান, যেহেতু মহিষটি দীর্ঘদিন চিড়িয়াখানার মতো জনাকীর্ণ পরিবেশে ছিল, তাই সুরক্ষার স্বার্থে তাকে আগামী ১৪ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত সম্পূর্ণ কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। এই সময়ে মহিষটি কোনো ধরনের সংক্রামক রোগে আক্রান্ত কি না, তা নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হবে এবং তাকে রোগমুক্ত রাখার বিষয়টিতেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোয়ারেন্টাইন পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর এর শারীরিক সক্ষমতা বিবেচনা করে গবেষণার মূল কাজ শুরু হবে।

বিচিত্র এই মহিষটির আলোচনায় আসার গল্পটা বেশ চমকপ্রদ। গত কোরবানির ঈদের আগে নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ার ‘রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে’ লালন-পালন করা হচ্ছিল মহিষটিকে। খামারের মালিক জিয়া উদ্দিন মৃধার ভাই মহিষটির মাথার ‘অসাধারণ ও অদ্ভুত স্টাইলের চুল’ দেখে রসিকতা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে এর নামকরণ করেন।

সাদাটে অবয়ব আর ট্রাম্পের মতো চুলের সেই ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাতারাতি তা ভাইরাল হয়ে যায়। দেশীয় গণমাধ্যম ছাড়িয়ে বিবিসি, সিএনএনের মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও স্থান করে নেয় নারায়ণগঞ্জের এই ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।

 

 

 

ঈদের ঠিক আগে নারায়ণগঞ্জ থেকে মহিষটিকে কিনে নেন কেরানীগঞ্জের জিনজিরার বাসিন্দা মনিরুজ্জামান। গত ২৫ মে বিকেলে মহিষটিকে কেরানীগঞ্জে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। কিন্তু এই সেলিব্রেটি মহিষকে দেখতে মনিরুজ্জামানের বাড়িতে উৎসুক মানুষের উপচে পড়া ভিড় তৈরি হয়।

 

 

পরে ঈদের আগের দিন (বুধবার) বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ হস্তক্ষেপে পুলিশ প্রশাসন মহিষটিকে উদ্ধার করে প্রথমে কেরানীগঞ্জ থানায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে সাধারণের প্রদর্শন ও নিরাপত্তার স্বার্থে সেটিকে পাঠানো হয়েছিল মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায়। এবার চিড়িয়াখানার পাঠ চুকিয়ে বিজ্ঞানের নতুন গবেষণার অংশ হতে সাভারের বিএলআরআই-এ ঠাঁই হলো আলোচিত এই মহিষের।

এখনই সাংবাদিক পেটাচ্ছে, ক্ষমতায় গেলে খুন করবে : শান্তা ফারজানা

নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা বলেছেন, জামায়াত-এনসিপি ১১ দলীয় স্বাধীনতা বিরোধী জোট কেবল বিরোধী দল হতেই এখনই সাংবাদিক পেটাচ্ছে, ক্ষমতায় গেলে খুন করবে-গুম করবে; কথা বলার অধিকার কেড়ে নেবে। এদেরকে এখনই থামান; তা না হলে ধর্মের দোহাই দিয়ে ইসলামের ক্ষতি, দেশের ক্ষতি, শিক্ষার ক্ষতি, সমাজের ক্ষতি, সভ্যতার ক্ষতি তারা করবেই। কারণ, তাদের রাজনীতির লক্ষ্য ক্ষমতা, ধর্ম-মানবতা-শিক্ষা-সমাজ বা সভ্যতা নয়।
রাজধানীতে সাংবাদিককে হত্যার উদ্যেশ্যে হামলার প্রতিবাদে ২৩ জুন নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির কার্যলয়ে এক তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সভায় তিনি উপরোক্ত কথা বলেন। এসময় তিনি আরো বলেন,  এ সরকারের চোখে কাঠের চশমা পরিয়ে এনসিপি-জামায়াতসহ ১১ দলীয় স্বাধীনতা বিরোধী জোট দ্রব্যমূল্য বাড়াতে সিন্ডিকেটকে সহায়তা করছে, দুর্নীতিকে ধর্মের আড়ালে পৃষ্টপোষকতা করছে, ক্ষমতায় আসতে এয়ানতের নামে মানুষের রক্ত পানি করা টাকা উঠিয়ে নিচ্ছে, ছাত্র-যুবদেরকে ব্যবহার করে মব-হানাহানি-খুনাখুনি-ধর্ষণকে উসকে দিচ্ছে। যে কারণে বৈষম্য দূর করার কথা বলে বিরোধী দল হয়ে এখন বৈষম্য দূর করার খবর নাই, দ্রব্যমূল্য কমানোর খবর নাই, দুর্নীতি থামানোর খবর নাই, খুন-ধর্ষণ থামানোর খবর নাই, তাদের কেবল জুলাই চাই, সুরক্ষা চাই; এই সব হয়েনাদেরকে দেশের মানুষ সহিংসতা বন্ধ না করলে কঠোরভাবে প্রতিহত করতে তৈরি হচ্ছে।

সভায় প্রেসিডিয়াম মেম্বার বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাড. হামিদুজ্জামান, জাতীয় শ্রমিকধারার আহবায়ক বাবুল মিয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। নেতৃবৃন্দ এসময় আরো বলেন, জনগণ আওয়ামী লীগ বোঝে না, বিএনপি বোঝে না, নতুনধারা বোঝে না। বোঝে কেবল লোভ মোহহীন-দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে এমপি হওয়ার পর প্রতারণার মধ্য দিয়ে জনগণকে বোকা বানানোর খেসারত দিতে হবে। আর এ কারণেই সারাদেশে সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য। সভাপতিত্ব করেন নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির চেয়ারম্যান কলামিস্ট মোমিন মেহেদী।

ভাত না খেয়েই ১৩ বছর!  সিংড়ার স্কুল শিক্ষার্থী পারভেজের বিষ্ময়কর জীবন

​সাধারণ বাঙালি পরিবারের প্রধান খাদ্য ভাত ও মাছ। মাছ-ভাতে বাঙালি হিসেবে পরিচিত এই সমাজে ভাত ছাড়া একদিন চলাই যেখানে দুষ্কর, সেখানে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে ভাতের একটি দানাও মুখে তোলেনি নাটোরের সিংড়া উপজেলার পারভেজ নামের ৯ম শ্রেণির এক স্কুল শিক্ষার্থী।

পারভেজ উপজেলার ২নং ডাহিয়া ইউনিয়নের বেড়াবাড়ি গ্রামের কৃষক বুদ্দু মোল্লার ছেলে এবং বিয়াশ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্র।
ভাত না খেলেও পুরোপুরি সুস্থ-সবল ও চঞ্চল স্বভাবের পারভেজ প্রতিদিন নিয়ম করে স্কুলে যাচ্ছে, বাবার সাথে সংসারের কাজে সহযোগিতা করছে  স্বাভাবিক অন্য ছেলের মতোই।

​পারভেজের  পরিবার সূত্রে জানা যায়,  জন্মের পর মায়ের বুকের দুধ ছাড়া অন্য কোনো খাবারে তার তেমন রুচি ছিল না। সাধারণত শিশুরা ৬-৭ মাস বয়স থেকে ভাত বা খিচুড়িতে অভ্যস্ত হয়ে উঠলেও পারভেজ তা করেনি।  বয়স যখন ১ বছর, তখন থেকেই ভাতের প্রতি তার তীব্র অনীহা তৈরি হয়। জোর করে মুখে ভাত দিলে সে বমি করে দিত।  বিষয়টি বেশি পরিস্কার হয় তার ‘ভাত খাওয়ার’ অনুষ্ঠানে।

​পারভেজের মা পারুল বেগম জানান, ​”শুরুর দিকে আমরা খুব চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। জোর করে খাওয়াতে গেলে ও কেঁদে বুক ভাসাতো, বমি করতো। ডাক্তার, কবিরাজ দেখিয়েছি কোনো লাভ হয়নি। এক পর্যায়ে আমরাও হাল ছেড়ে দিয়েছি । এখন সে ভাতের গন্ধ কোন ভাবেই  সহ্য করতে পারে না।”  আমাদের আরো দুটো সন্তান আছে তারা স্বাভাবিক খাবার খায়।

বাবা বুদ্দু মোল্লা জানান, আমরা যখন ভাত খাই তখন সে মুড়ি,  কখনো সবজি, সুজি,  আবার কখনো ফলমুল ,ও দুধ খেয়ে ক্ষুদা নিবারন করে । আমাদের সাথে ভাত খেতে বসে না।  সকালে মুড়ি, দুপুরে সবজি দিয়ে রুটি খায়। রাতের বেলায়  মুড়ি খেয়ে থাকে।  এসব খাবার না থাকলে না খেয়ে থাকে। বিয়ে বাড়ি বা কোন দাওয়াতি অনুষ্ঠানে  গেলে ভাত না খেয়ে শুধু  মাছ মাংস ও সবজি খায়।  ছেলেটাকে নিয়ে খুব বিপদে আছি।

বিয়াশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জামাল উদ্দিন জানান,  পারভেজ পড়া লেখা ও খেলাধুলায় সব দিক দিয়েই ভালো। ভাত না খাওয়ার বিষয়টি আমরা জানতাম না। নিয়মিত স্কুল করে এবং  শিক্ষক ও সহপাঠীদের সাথে তার সম্পর্কও  ভালো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মুজাহিদুল ইসলাম খোকন জানান, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে এক ধরনের  ‘ফুড ফোবিয়া (Food phobia) বা কোনো নির্দিষ্ট খাবারের প্রতি তীব্র মানসিক অনীহা বলা যেতে পারে। তিনি আরো জানান, ‘​মানুষের বেঁচে থাকার জন্য কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ভিটামিনের প্রয়োজন। বাঁধন যেহেতু দুধ, সুজি এবং ফলমূল নিয়মিত খাচ্ছে, তাই সেটির মাধ্যমেই তার শরীর প্রয়োজনীয় ক্যালোরি ও পুষ্টি পেয়ে যাচ্ছে।

​তবে দীর্ঘ মেয়াদে শরীরে কোনো জটিলতা তৈরি হচ্ছে কিনা, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত বলে তিনি জানান।

সালমান শাহর মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশনা বাতিল করল আদালত

মৃত্যুর প্রায় ৩০ বছর পর ‘খুনের রহস্য’ উদঘাটনে চিত্রনায়ক সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের আদেশ বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

 

 

বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত এ আদেশ দেন।

 

 

 

আবেদনে বলা হয়, সালমান শাহকে ঢাকার শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়েছে এবং সেখানেই তার কবর রয়েছে। এ অবস্থায় দেহাবশেষ উত্তোলন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। বাদী ও নিহতের মা নীলা চৌধুরীর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়।

এর আগে চলতি বছরের ২০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক মো. জিয়াউল মোর্শেদ আদালতে দেহাবশেষ উত্তোলন, সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের অনুমতি এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের আবেদন করেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ মে আদালত কবর থেকে দেহাবশেষ উত্তোলনের অনুমতি দেন। তবে বিষয়টি জানাজানি হয় ১০ জুন।

 

গত বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। আদালত পরে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

 

৬৭৬ শিক্ষকের মধ্যে ৬৬২ জনই অবৈধ, চাঞ্চল্যকর তথ্য

রাজধানীর মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে পূর্বের এডহক কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি গঠন প্রবিধানমালা অনুযায়ী আট সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটি গঠন করা হয়।

 

 

 

একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন মেনে শিগগিরই এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঁচ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আজকালের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হবে বলে জানা গেছে।

 

 

 

কমিটিতে সভাপতি হিসেবে রয়েছেন ম. হামিদুল হক মানিক। তিনি এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন— শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক ৩), মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমিক শাখার পরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকার বিদ্যালয় শাখার পরিদর্শক, শিক্ষক প্রতিনিধি শামীমা আহমেদ, অভিভাবক প্রতিনিধি শাকিল মোল্লা এবং প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম।

জানা গেছে, মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে শিগগিরই শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাকে অধ্যক্ষ হিসেবে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হবে। এছাড়া শাখা প্রধান হিসেবে আর চার শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা প্রেষণে নিয়োগ পাবেন। এ সংক্রান্ত ফাইল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ভয়াবহ অনিয়ম ও দূর্নীতির খবর উঠে আসে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বলা হয়, শিক্ষার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে এ প্রতিষ্ঠানটি। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, লুটপাট, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সীমাহীন অর্থবাণিজ্য চলেছে এখানে। প্রতিষ্ঠানটিতে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির ক্ষেত্রেও কোন সীমা ছিল না, ছিল শিক্ষার্থী বাণিজ্য। গত ১৫ বছরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে নামে-বেনামে ৬০০ কোটি টাকার বেশি লোপাট করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যে ৬৭৬ শিক্ষকের মধ্যে ৬৬২ জনই অবৈধ।

সুত্র: দৈনিক কালবেলা

 

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে বরিশালে নিরাপত্তা জোরদার

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে নাশকতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে বরিশালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল থেকে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন এলাকাজুড়ে এ চিত্র দেখা গেছে।

 

 

 

পুলিশ জানিয়েছে, কোতোয়ালি থানাধীন পাঁচটি স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে, ২০টির মতো মোবাইল টিম কাজ করছে। সিভিল ও সাদা পোশাকে ডিবি পুলিশ সদস্যরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। কোনো দুষ্কৃতিকারী বরিশাল শহরকে যেন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে সে লক্ষ্যে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

 

 

কোতোয়ালি মডেল থানার কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, কেউ যদি সুযোগ নিতে চায় তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে পুলিশের নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তাদের আটক করা হচ্ছে একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

 

 

এদিকে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন সড়কে মহড়া দিয়েছে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

 

 

সকাল থেকে নগরী সদর রোডে বিএনপির দলীয় কার্যালয়সহ বিভিন্ন সড়কে মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া দেন দলের নেতাকর্মীরা। নিষিদ্ধ সংগঠনের সব ধরনের অপতৎপরতা প্রতিরোধে বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার।

 

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে টুঙ্গিপাড়ায় কড়া নিরাপত্তা

কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী। শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি এলাকা, পাটগাতী বাসস্ট্যান্ডসহ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুর পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসহ আশপাশের এলাকায় সাঁজোয়া যানসহ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একইসঙ্গে সেনাবাহিনী ও আনসার সদস্যদের টহল জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সরকারি স্থাপনা ও জনসমাগমস্থলেও নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা।

 

 

 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা যেকোনো কর্মসূচির মাধ্যমে এলাকায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। এমন সম্ভাবনা এড়াতে গতকাল সোমবার (২২ জুন) রাত থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গত রাতে জেলার কাশিয়ানী ও মুকসুদপুর উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর আশঙ্কার অভিযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আইয়ুব আলী এসব তথ্য জানানোর পাশাপাশি বলেন, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত উপজেলার সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে অন্যান্য দিনের তুলনায় রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতি কিছুটা কম দেখা গেছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবাইকে আইন মেনে চলার পাশাপাশি গুজব ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে বলেও ওসি উল্লেখ করেন।

 

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে কি না, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের

কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

 

 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

 

 

বিস্তারিত আসছে…

 

রায়গঞ্জে ছাত্রলীগ নেতা জুবায়ের গ্রেপ্তার, আদালতে প্রেরণ

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মো. জুবায়ের আহমেদ নয়ন (২৭)কে গ্রেপ্তার করেছে রায়গঞ্জ থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (২৩ জুন) নিয়মিত একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া জুবায়ের আহমেদ নয়ন উপজেলার জয়েনপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মো. নাজিম উদ্দিনের ছেলে এবং রায়গঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচিত।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রায়গঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে নিয়মিত মামলার চালান অনুযায়ী তাকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান বলেন, “নিয়মিত মামলার আসামি হিসেবে মো. জুবায়ের আহমেদ নয়নকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
পুলিশ জানায়, মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

মাদ্রাসা সংস্কারের টাকা আত্মসাতের গুজব ছড়িয়ে ইউএনও অফিস কর্মকর্তাকে ফাঁসানোর অভিযোগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে পিআইসি কমিটির সভাপতির বরাত দিয়ে মাদ্রাসার সংস্কারের টাকা আত্মসাতের মিথ্যা গুজব প্রচার করে ইউএনও অফিসের উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তা কে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে একটি চিহ্নিত সিন্ডিকেট।
তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, উপজেলার ফতেপুর ইউপির আলীশাপুর দাখিল মাদ্রাসার ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত টিনের চালা মেরামতের জন্য উপজেলা পরিষদের রাজস্ব খাত থেকে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ২লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। পিআইসি কমিটির মাধ্যমে বরাদ্দের ওই প্রকল্পটি নাচোল এলজিইডি অফিসের উপসহকারি প্রকৌশলী ফাহাদ আলী কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করেন। পিআইসি কমিটির সভাপতি ফতেহপুর ইউপির ১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য ইসমোতারার তত্বাবধানে বরাদ্দের ২ লাখ টাকার ১৫% ভ্যাট ও আইটি কর্তনের পর ১লাখ ৭০হাজার টাকা খরচ করে টিনের চালা পূণঃনির্মান কাজ সম্পন্ন হয়। কাজ সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হয়েছে মর্মে ওই মাদ্রাসার সুপার মাওলানা রবিউল ইসলাম যথারীতি প্রত্যায়ন প্রদান করেন। কিন্তু হঠাৎ করে প্রকল্পের সভাপতি ইসমোতারা, মাদ্রাসার সুপার মাওলানা রবিউল ইসলাম ও উপসহকারী প্রকৌশলীর মধ্যে একে অপরকে দোষারোপ করতে শুরু করেন। ওই ইউপি সদস্য(প্রকল্প সভাপতি) ইসমোতারা প্রকল্পের কাজ সুষ্ঠভাবে হয়নি বলে এবং তিনি এ বিষয়ে অবহিত না বলে তাকে না জানিয়ে সভাপতি করা হয়েছে বলে প্রচার মাধ্যমে স্বাক্ষাতকার প্রদান করেছেন। ওই স্বাক্ষাতকারে উপজেলা নির্বাহী অফিসের কোন কর্মকর্তাকে দোষারোপ করেননি। কিন্তু জনৈক সাংবাদিক দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে উদ্যেশ্য মূলকভাবে ইউএনও অফিসের উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তা রবিউল ইসলামকে দোষারোপ করে তাঁর নাম প্রচার করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী(এলজিইডি) সাদেকুল ইসলাম জানান, বরাদ্দের ২লাখ টাকার ১৫% ভ্যাট ও আইটি বাদে বাকি ১ লাখ ৭০  টাকায় প্রকল্পের কাজ সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রকল্প সভাপতির অস্বিকার করার কোন অপশন নেই। তিনি প্রকল্পের বিল-ভাউচার, এগ্রিমেন্টসহ সমস্ত কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। এমনকি ওই মাদ্রাসার সুপার রবিউল ইসলাম টিনের চালার কাজ সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হয়েছে মর্মে লিখিত প্রত্যায়ন দিয়েছেন। এলজিইডি দপ্তরের দায়িত্বপ্ত উপসহকারি প্রকৌশলী জানান, সুষ্ঠভাবে কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রকল্প সভাপতি মোসাঃ ইসমোতারা প্রকল্পের ফাইলে স্বাক্ষর ও মাদ্রাসার সুপার মাওলানা রবিউল ইসলাম প্রত্যয়ন প্রদান করেছেন। এদিকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কোন অভিযোগ না থাকলেও পিআইসি কমিটির সভাপতির মিথ্যা অভিযোগ পুঁজি করে একটি মহল উপজেলা নির্বাহী অফিসের উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তাকে দোষারোপ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। ইউএনও অফিসের উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, তিনি শুধু প্রকল্পের চেকটি রেজিস্টারে এন্ট্রি করে ফাইলনোট লিখে ইউএন’র নিকট উপস্থাপন করেছিলেন। টাকা-পয়সা লেনদেনের অভিযোগটি মিথ্যা ও বানোয়াট। এদিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা জাহিদ হাসান গত ২৭ এপ্রিল অভিযোগটি তদন্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের দপ্তরে জমা দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোঃ মুসা জঙ্গি বলেন, তদন্ত প্রতিনেদন পেয়েছি। পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে নাচোল উপজেলায় সাংবাদিকতার আড়ালে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মনগড়া ও মিথ্যা অভিযোগ প্রচার করায় নাচোল উপজেলা প্রশাসনে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে জোরদার সেনা টহল

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের ছয়টি জেলায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সেনাবাহিনীর টহল কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।

 

 

 

সোমবার (২২ জুন) সোমবার মুঠোফোনে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রায়হান কবির জানান, নারায়ণগঞ্জে দায়িত্ব পালনকারী সেনাবাহিনীর টিম ঢাকার পোস্তগোলা ক্যান্টনমেন্ট থেকে পরিচালিত হবে।

 

 

 

তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। পোস্তগোলা ক্যান্টনমেন্ট থেকেই নারায়ণগঞ্জে টহল ও পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, সেনাবাহিনী নারায়ণগঞ্জে কখন এবং কোন এলাকায় টহল কার্যক্রম পরিচালনা করবে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানবেন। পরবর্তীতে বিষয়টি গণমাধ্যমকেও অবহিত করা হবে।

 

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

 

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে হামলার শিকার সাংবাদিকরা

রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে দৈনিক কালবেলার মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

 

 

 

ভুক্তভোগীরা জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ধানমন্ডি জোনের উদ্যোগে আওয়ামী লীগ বিরোধী একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল পরবর্তী ব্রিফিংয়ের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালান জামায়াতের নেতাকর্মীরা। তাদের হামলায় দৈনিক সকালের মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান শিশির গুরুতর আহত হন।

 

 

 

এছাড়া কালবেলার সংবাদকর্মী আব্দুর রহমান ইশান ও যমুনা টিভির রিপোর্টার রাব্বী সিদ্দিকীও হামলার শিকার হন।

ভুক্তভোগীরা জানান, জামায়াতের নেতাকর্মীরা অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে অন্তত ২০-২৫ জনকে রাস্তায় ফেলে মারধর করেছে। তাদের হামলায় মাহফুজুর রহমান শিশির রক্তাক্ত জখম হয়েছেন। আব্দুর রহমান ইশানকে কিল-ঘুষি মারা হয়েছে। সাংবাদিকদের মারধরের সময় পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে শিশিরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

তারা অভিযোগ করেন, সাংবাদিকদের মারধর করা হলেও পুলিশ সদস্যরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঘটনা দেখছিলেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে মবকারীদের নিবৃত্ত করার অনুরোধ করা হলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়া ঘটনাস্থলে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।

 

 

এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও পুলিশ সদস্যরা কথা বলতে চাননি।

 

 

 

জানা গেছে, মিছিল শেষে জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিফ্রিং চলাকালীন সাংবাদিকদের সঙ্গে ‘কথা কাটাকাটি’ হয়। কয়েকজন সাংবাদিককে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ ও ‘ভারতীয় দালাল’ আখ্যা দিলে তারা প্রতিবাদ করেন। এ সময় মিছিলকারীরা উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেন।

 

 

 

জামায়াতের এ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান, মুজাহিদুল ইসলাম শাহিনসহ বহু নেতাকর্মী-সমর্থক।

 

 

 

এ বিষয়ে ধানমন্ডি থানা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য মুজিবুর রহমান খানের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, বহিরাগত কেউ তাদের কর্মসূচিতে ঢুকে এমন কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে।

 

আজ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরোনো ঢাকার কে এম দাস লেনের ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেনে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রথম প্রধান বিরোধী দল হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

 

 

 

প্রথম কাউন্সিলে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং শামসুল হককে দলের যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। তখন তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন কারাগারে বন্দি। বন্দি অবস্থায় তাকে সর্বসম্মতিক্রমে প্রথম কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।

 

 

১৯৫৩ সালে ময়মনসিংহে দলের দ্বিতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ সম্পাদক হন। ১৯৫৫ সালের ২১-২৩ অক্টোবর ঢাকার সদরঘাটের রূপমহল সিনেমা হলে দলের তৃতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে দলের নতুন নামকরণ হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ। স্বাধীনতার পর নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

 

 

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ১ মার্চ ঐতিহাসিক ‘ছয় দফা’ ঘোষণার প্রাক্কালে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮১ সালের কাউন্সিলে শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। এরপর থেকে তিনি দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

 

 

বর্তমানে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে।

 

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম প্রতিহতের ঘোষণা দিল বিএনপি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পোস্ট দেওয়া নিয়ে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাছির উদ্দীন তালুকদার। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নৈরাজ্য ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে নেছারাবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেছে বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

 

 

 

সোমবার (২২ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা স্বরূপকাঠি পৌর শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পৌর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আয়োজিত পথসভায় গিয়ে শেষ হয়।

 

 

 

পথসভায় বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. নাছির উদ্দীন তালুকদার বলেন, মঙ্গলবার (২৩ জুন) থেকে আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেবে, তাদের যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই প্রতিহত করা হবে।

 

তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারা কী ধরনের পোস্ট দিচ্ছে, সে বিষয়ে প্রশাসন অবগত রয়েছে। এসব ব্যক্তিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা উচিত।

এ সময় আওয়ামী লীগের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের মা আর ফিরে আসবেন না। তাই বাঁকা পথ ছেড়ে স্বাভাবিক সামাজিক জীবনযাপন করুন, অন্যথায় পরিণতি ভয়াবহ হবে।

 

 

সভায় স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. শফিকুল ইসলাম ফরিদ বলেন, আমরা চেয়েছিলাম আওয়ামী লীগ অতীতে আমাদের সঙ্গে যা করেছে, তার প্রতিশোধ না নিতে। তারা শান্তিতেই ছিল। কিন্তু আমাদের মানবিকতাকে দুর্বলতা ভেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত উসকানিমূলক পোস্ট দিচ্ছে। তাই এখন থেকে সংঘবদ্ধভাবে তাদের প্রতিহত করা হবে।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, ২৩ জুন থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

 

 

পথসভায় আরও বক্তব্য দেন স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হাসান, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ওয়াহিদুজ্জামান মানিক, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হাফিজ সিকদারসহ অন্য নেতৃবৃন্দ।

 

জর্ডানকে হারিয়ে নকআউট স্বপ্ন জিইয়ে রাখল আলজেরিয়া

বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জে’-এর ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও দারুণ প্রত্যাবর্তন করে জর্ডানকে ২-১ গোলে হারিয়েছে আলজেরিয়া। সোমবার (২৩ জুন) সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে নকআউট পর্বে ওঠার আশা জিইয়ে রাখল উত্তর আফ্রিকার দলটি।

 

 

 

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি আলজেরিয়া। উল্টো ৩৬ মিনিটে মুসা আল-তামারির অ্যাসিস্ট থেকে নিযার আল-রাশদান গোল করে জর্ডানকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।

 

 

 

বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে একাধিক পরিবর্তন আনেন আলজেরিয়া কোচ। তার ফলও আসে দ্রুত। ৬৮ মিনিটে অধিনায়ক রিয়াদ মাহরেজের কর্নার থেকে নাধির বেনবুয়ালি হেডে সমতা ফেরান।

 

গোল শোধ করার পর আরও আক্রমণ বাড়ায় আলজেরিয়া। শেষ পর্যন্ত ৮২ মিনিটে কর্নার থেকে সৃষ্ট জটলার সুযোগ কাজে লাগিয়ে কাছ থেকে বল জালে জড়িয়ে দেন আমিন গুইরি। তার গোলেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আলজেরিয়া।

 

শেষ মুহূর্তে জর্ডান সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও আলজেরিয়ার রক্ষণভাগে আটকে যায় তাদের আক্রমণ। ফলে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াদ মাহরেজদের দল।

 

 

এই জয়ে দুই ম্যাচে তিন পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে নিজেদের সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখল আলজেরিয়া। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় পরাজয়ে নকআউট স্বপ্ন আরও কঠিন হয়ে গেল জর্ডানের।

 

গোল্ডেন বুট দৌড়ে মেসির প্রতিদ্বন্দ্বী যে তারকারা

২০২৬ বিশ্বকাপে দুই ম্যাচ শেষ হতেই জমে উঠেছে গোল্ডেন বুটের লড়াই। শীর্ষে রয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। তবে তার পেছনে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন বিশ্বের আরও কয়েকজন সেরা গোলদাতা। ফলে এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিততে মেসিকে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হবে।

 

 

 

এখন পর্যন্ত দুই ম্যাচে ৫ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে আছেন মেসি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন। ৩৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড এখনো আর্জেন্টিনার মূল ভরসা।

 

 

 

তবে খুব কাছেই রয়েছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি নিজের গোলসংখ্যা বাড়িয়ে ৪-এ নিয়েছেন। বিশ্বকাপে মাত্র ১৬ ম্যাচে ১৬ গোল করে তিনি ইতোমধ্যে মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। ফ্রান্স যত দূর এগোবে, এমবাপ্পের গোলসংখ্যাও তত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গোল্ডেন বুটের আরেক শক্তিশালী দাবিদার নরওয়ের স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোলসহ দুই ম্যাচে তার গোলসংখ্যাও ৪। বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলেই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন এই তারকা। জাতীয় দলের হয়ে ৫২ ম্যাচে ৫৯ গোল করা হালান্ড এখন প্রতিটি ম্যাচেই প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি। তিনটি করে গোল করেছেন জার্মানির দেনিজ উনদাভ ও কানাডার জোনাথন ডেভিড।

এ ছাড়া ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন ও ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ২ গোল করে এই দৌড়ে আছেন। প্রথম ম্যাচে জোড়া গোল করা কেইন পরবর্তী ম্যাচগুলোতে গোল করলে শীর্ষ লড়াইয়ে যোগ দিতে পারেন।

 

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট লড়াই মূলত মেসি, এমবাপ্পে ও হালান্ডকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে। তিন তারকার দুর্দান্ত ফর্মের কারণে টুর্নামেন্ট যত এগোবে, এই প্রতিযোগিতা ততই রোমাঞ্চকর হয়ে উঠবে।

 

 

বর্তমান অবস্থান :

মেসি (আর্জেন্টিনা) – ৫ গোল এমবাপ্পে (ফ্রান্স) – ৪ গোল হালান্ড (নরওয়ে) – ৪ গোল কেইন (ইংল্যান্ড) – ২ গোল।

বিশ্বকাপের মঞ্চে রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ছেন এই তারকারা। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত গোল্ডেন বুট কার হাতে ওঠে— মেসি কি এগিয়ে থাকবেন, নাকি এমবাপ্পে কিংবা হালান্ড তাকে ছাড়িয়ে যাবেন।

 

গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতার মুক্তির জন্য ছাত্রদলের সুপারিশের অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের উপজেলা সভাপতি পদপ্রার্থী হামিদুর রহমান তায়েফ সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২২ জুন) রাত ১০টার দিকে উপজেলার কনিকাড়া ব্রিজসংলগ্ন পৌর মেয়র মার্কেট এলাকার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

 

গ্রেপ্তার তায়েফ নবীনগর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজপাড়া এলাকার কাতারপ্রবাসী তোফায়েল সরকারের ছেলে।

 

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তায়েফ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পোস্টার ও ব্যানার বিভিন্ন স্থানে লাগানোর একটি ভিডিও ভাইরাল হলে তিনি এলাকায় আলোচনায় আসেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, গ্রেপ্তারের পর তায়েফকে থানা হাজত থেকে মুক্ত করার জন্য উপজেলা ছাত্রদলের একটি অংশ তদবির চালিয়েছে। তবে এ বিষয়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম বলেন, ‘মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।’

 

 

তবে কোন মামলায় তায়েফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

 

 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের অস্থিতিশীলতা প্রতিরোধে সিরাজগঞ্জে ছাত্রদল-যুবদলের বিক্ষোভ ও মহড়া

২৩ জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা ও তৎপরতা রুখে দিতে রাজপথে নেমেছে সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রদল ও যুবদল।

 

 

 

এরই ধারাবাহিকতায় আজ সোমবার (২২ জুন) বিকাল ৬টায় সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রদলের উদ্যোগে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও অলিগলি প্রদক্ষিণ করে।

 

 

 

মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের যেকোনো ধরনের অপচেষ্টা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বা ছাত্রলীগকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জের মাটিতে কোনো ধরনের কর্মসূচি পালন করার ন্যূনতম সুযোগ দেওয়া হবে না।

 

 

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিচ্ছিন্নভাবে ঝটিকা মিছিল করার চেষ্টা করলে, ছাত্রদল ও যুবদল তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা প্রতিরোধ মিছিল নিয়ে মাঠে নামে। ইতিমধ্যে গত তিন দিন ধরে সিরাজগঞ্জ জেলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের প্রতিবাদে রাজপথে লাগাতার পাল্টা মিছিল ও সমাবেশ করে আসছে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা।

 

 

 

আজকের এই বিক্ষোভ মিছিল ও মহড়ার নেতৃত্ব দেন সিরাজগঞ্জ জেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল বারী।

 

 

 

বিক্ষোভ মিছিলে আরও উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রদল সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রোমান আলীফ, যুগ্ম আহ্বায়ক
মনির, ছাত্রনেতা বিপ্লব, সিরাজগঞ্জ পৌর ছাত্রদল যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদ হাসান সাগর, মীর আকাশ, রাসেল, সিরাজগঞ্জ সদর থানা ছাত্রদলের মিনুল ইসলাম হৃদয়।

 

 

 

এছাড়াও বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রদল ও যুবদলের বিভিন্ন স্তরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। রাজপথে নেতাকর্মীদের এমন কঠোর অবস্থানের কারণে জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

 

দৃষ্টি হারানো মহিলাদল নেত্রী মেরি ও অসুস্থ নেতা হাসুর পাশে হাজী আব্দুস সাত্তার

পুলিশের গুলিতে দৃষ্টিশক্তি হারানো মহিলাদল নেত্রী মেরি ও অসুস্থ দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ালেন সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ও ‘আব্দুস সাত্তার ফাউন্ডেশন’-এর চেয়ারম্যান হাজী মোঃ আব্দুস সাত্তার।

 

 

 

সোমবার (২২ জুন) সকালে তিনি সিরাজগঞ্জ পৌরসভার মিরপুর এলাকায় রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার, দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানো সিরাজগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি মিরিনা সুলতানা মেরির বাসভবনে যান। সেখানে তিনি মেরির চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর আবেগঘন ও হৃদয়বিদারক জীবন সংগ্রামের গল্প শোনেন।

 

 

 

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় হামলার ঘটনায় পুলিশের গুলিতে দুটি চোখ হারান মেরী।
হাজী আব্দুস সাত্তারকে পাশে পেয়ে আবেগাপ্লুত মেরি বলেন, “আজ মনে হচ্ছে কোনো এক ভাই তার অসহায় বোনকে দেখতে এসেছে। অসুস্থতার এই কঠিন সময়ে এমন সহমর্মিতা তাঁকে বেঁচে থাকার নতুন মানসিক শক্তি ও সাহস জুগিয়েছে বলে তিনি জানান।

 

 

 

এরপর মিরপুর এমদাদিয়া হাফিজিয়া নূরানী মাদ্রাসায় যান হাজী আব্দুস সাত্তার। সেখানে তিনি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কিছু সময় কাটান। পরে শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় বিদ্যুৎ, খনিজ ও জ্বালানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি রুমানা মাহমুদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

 

 

 

 

মিরপুর থেকে বের হয়ে হাজী আব্দুস সাত্তার মাছিমপুর মহল্লায় যান। সেখানে তিনি সিরাজগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক হাসিনুর রহমান হাসুর সাথে সাক্ষাৎ করেন। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এই নেতার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
অসুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে নিজের পবিত্র মানবিক দায়িত্ব উল্লেখ করে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক হাজী মোঃ আব্দুস সাত্তার বলেন, মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী। এই পৃথিবী তৈরি হয়েছে একে অপরের উপকার করার জন্য। একজন মানুষ যখন অসুস্থ হয়ে কষ্টে থাকেন, তখন তাঁর পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় মানবিক কাজ। জীবিত অবস্থায় মানুষের প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়াতে পারাটাই প্রকৃত মানবতা।

 

 

 

তিনি সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আরও বলেন, “আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অসুস্থ, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। মানুষের জন্য করা ভালো কাজই আখিরাতের সবচেয়ে বড় সম্পদ। সমাজে যদি সবাই একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়, তাহলে অনেক মানুষের কষ্ট লাঘব হবে।

 

 

 

স্থানীয়রা জানান, হাজী আব্দুস সাত্তার দীর্ঘদিন ধরে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। অসহায় মানুষের চিকিৎসা সহায়তা, দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি এলাকায় ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। দুঃসময়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

 

 

 

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পৌর ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহরিয়ার হোসেন শিপুসহ অত্র এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় সাধারণ জনগণ।

 

রবীন্দ্রনাথ শিখিয়েছেন বিশ্বপ্রেম ও আত্মার মুক্তি নজরুল দিয়েছেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার শক্তি: ভিসি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার বলেছেন, রবীন্দ্রনাথ আমাদের শিখিয়েছেন বিশ্বপ্রেম এবং আত্মার মুক্তি। অন্যদিকে, নজরুল আমাদের দিয়েছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দ্রোহ, সাম্য এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার শক্তি। এই দুই মহান মানসের মেলবন্ধনই বাঙালি সংস্কৃতির মূল ভিত্তি। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কেবল শিক্ষার আলো ছড়ায় না, বরং বাঙালির এই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধারণ ও লালন করার এক পবিত্র দায়িত্ব পালন করে চলেছে।

 

 

 

সোমবার (২২জুন) রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে দুইদিনব্যাপী রবীন্দ্র ও নজরুল জয়ন্তী উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

 

সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবন-৩ এ আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া।

 

 

 

উপাচার্য আরও বলেন, আজকের এই দিনটি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আমরা আজ এক মঞ্চে দাঁড়িয়েছি যা বাংলা সাহিত্যের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতির প্রতি উৎসর্গকৃত।

 

 

 

তিনি বলেন, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আত্মাকে মুক্ত করা। যে শিক্ষা বিশ্বে বাজারে চলবে না সেটা শিক্ষা হতে পারে না। বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে হলে সেই ধরনের মানসম্মত শিক্ষা আমাদের দিতে হবে, নিতে হবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কাজী নজরুল ইসলামকে সাহিত্যিকের বাইরে সমাজ সংষ্কারক, মানবিকতা এবং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম আদর্শ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

 

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবন-৩ এ রবীন্দ্র মেলার উদ্বোধন করা হয়। এরপর রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবন-১-এর গীতাঞ্জলি স্টুডিও থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হয় রবীন্দ্রসংগীত প্রতিযোগিতা। এতে শাহজাদপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।

 

 

 

সংগীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের অধ্যাপক ড. আকলিমা ইসলাম কুহেলী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আলমগীর পারভেজ সুমন এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আশিক সরকার।

 

 

 

বিকাল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে “রবীন্দ্রনাথের কৃষি ও সময়চিন্তা” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে আলোচক হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. অনিরুদ্ধ কাহালি। সেমিনারে প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জাবেদ ইকবাল। সভাপতিত্ব করেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার।

 

 

 

বিকেলে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা রবীন্দ্র ও নজরুলের সৃষ্টিকে তুলে ধরেন।

 

 

 

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের গণসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ শাহ আলী জানান, উৎসবের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার ( ২৩ জুন) সকাল থেকে রবীন্দ্র মেলা পুনরায় শুরু হবে। এদিন দুপুর ২.০০টায় “নজরুলের দেশপ্রেম ও বিশ্বমানব-দর্শন: আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট” শীর্ষক সেমিনারে আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক ও নজরুল গবেষক আবদুল হাই শিকদার। বিকাল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক ও নজরুল গবেষক আবদুল হাই শিকদার। পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করবেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার।

 

আওয়ামী লীগের দেশ বিরোধী তৎপরতার প্রতিবাদে সিরাজগঞ্জে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের দেশব্যাপী নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রদল।

 

 

 

সোমবার বিকেলে শহরের মিলনমোড় থেকে মিছিল শুরু হয়ে শহরেরর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। এসময় তারা ‘লীগ ধর; জেলে ভর’, ‘ছাত্রলীগের ঠিকানা সিরাজগঞ্জে হবেনা’‘শেখ হাসিনার দালালেরা; হুশিয়ার সাবধান’, ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও; শেখ হাসিনার আস্তানা’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

 

 

 

এসময় সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জুনায়েদ হোসেন সবুজ বলেন, “নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকেরা দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্টের চেষ্টা করছে এবং বিভিন্ন উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছে। আমরা লক্ষ্য করছি, বিভিন্ন সময় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দল, সরকার ও দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টের উদ্দেশ্যে উসকানিমূলক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ছাত্রদল সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”

 

 

 

তিনি আরও বলেন, “সিরাজগঞ্জে কোনো ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে তা শক্ত হাতে প্রতিহত করা হবে।”

 

 

 

মিছিলে সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

গাজীপুরে আ.লীগের ৩০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

গাজীপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৩০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ।

 

 

 

সোমবার (২২ জুন) গ্রেপ্তারের বিষয় নিশ্চিত করেছেন জিএমপি ওসি মিডিয়া জালাল উদ্দিন মাহমুদ। মঙ্গলবার (২১ জুন) থেকে সোমবার (২২ জুন) সকাল ৮টা পর্যন্ত মহানগরের বিভিন্ন থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

 

জানা যায়, অভিযানে সদর থেকে আটজন, বাসন থানা থেকে ছয়জন, কোনাবাড়ি থেকে দুজন, কাশিমপুর থেকে তিনজন, গাছা থেকে পাঁচজন, পূবাইল থেকে দুজন, টঙ্গী পূর্ব থেকে দুজন এবং টঙ্গী পশ্চিম থানা থেকে ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

সোমবার বিকেলে জিএমপি প্রেস রিলিজে জানিয়েছে, বাসন থানাধীন মোগরখাল সাকিনস্থ কলম্বিয়া গার্মেন্টসের সামনে ময়মনসিংহ-ঢাকাগামী পাকা রাস্তার ওপর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং সরকারি কাজে বাধা ও হুমকি প্রদানের অপরাধে ৩০ জন আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ‎জিএমপি ওসি (মিডিয়া) জালাল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মহানগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত আছে।

 

 

নিরাপত্তা জোরদারে পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েন

দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

 

 

 

সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যা থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে।

 

 

 

 

বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কক্সবাজার, মাদারীপুর, শেরপুর, গাজীপুর ও মৌলভীবাজার জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

 

 

এছাড়া দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক মোতায়েনের লক্ষ্যে বিজিবি সদস্যরা স্ট্যান্ডবাই থাকবে।

 

উল্লেখ্য, বিজিবি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

হত্যার পর নদীতে ফেলে দেওয়া লাশ ৬ দিন পর ভেসে উঠলো

নরসিংদীর রায়পুরার নিলক্ষা ইউনিয়নে দুপক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে হত্যার পর নদীতে ফেলে দেওয়া বুলবুল (৩০) নামে আরেক যুবকের লাশ ছয়দিন পর ভেসে উঠেছে। রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার খাককান্দা এলাকায় মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করে নৌ পুলিশ ফাঁড়ি। এ নিয়ে নিলক্ষায় সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ জনে। নিহত বুলবুল নিলক্ষা ইউনিয়নের সোনাকান্দী গ্রামের হরমুজ মিয়ার ছেলে।

 

 

 

এর আগে নিহত চারজন হলেন নিলক্ষা ইউনিয়নের দড়িগাঁও গ্রামের পূর্বপাড়ার অনিক মিয়া (২২), বীরগাঁও গ্রামের পূর্বপাড়ার কাউসার আহমেদ (৩৭), কান্দাপাড়ার মালয়েশিয়াপ্রবাসী লতিফ মোল্লা (৩৫) এবং হরিপুর গ্রামের অহিদ মিয়ার ছেলে মোস্তফা মিয়া (৩৬)।

 

 

 

গত ১৬ জুন ভোরে রায়পুরার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁও গ্রামের নাজিম উদ্দিন (মিষ্টার) ও আলাল মুন্সির (জবা মেম্বার) গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। টেঁটা, দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে টানা কয়েক ঘণ্টা দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় কয়েকটি বাড়িঘরে। ঘটনার দিন অনিক মিয়া নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। পরদিন বুধবার (১৭ জুন) বেলা ৩টার দিকে নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানার চরদীঘলদী ইউনিয়নে জিৎরামপুর এলাকায় মেঘনা নদী থেকে টেটাবিদ্ধ অবস্থায় কাউসার আহমেদের লাশ ভেসে আঠে। এর পরদিন বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) নিলক্ষার হরিপুরে মেঘনা নদীতে ভেসে উঠে লতিফ মোল্লার লাশ।

 

এদিকে সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ মোস্তফা মিয়া দীর্ঘ পাঁচ দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকালে মৃত্যুর কুলে ঢলে পড়ে। একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানাধিন খাককান্দা এলাকায় মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় একটি লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ ফাঁড়ি। খবর পেয়ে নিখোঁজ বুলবুলের পরিবারের লোকজন খাককান্দা নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে নিহতের লাশ শনাক্ত করে। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ জনে।

 

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান বলেন, খাককান্দা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা লাশটি নিখোঁজ বুলবুলের বলে তার পরিবারের লোকজন শনাক্ত করে। নিলক্ষায় দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

 

 

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত রায়পুরা থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে গত বুধবার (১৭ জুন) রাতে নিহত অনিকের মা নাসিমা খাতুন বাদী হয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। অপর দিকে নিহত কাউসারের স্ত্রী মুন্নি আক্তার রবিবার (২১ জুন) বাদী হয়ে ১৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ১৬-১৭ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

জামায়াত-এনসিপির ডাকে জনগণ আর সাড়া দেবে না : মোমিন মেহেদী

নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী বলেছেন, জামায়াত-এনসিপির ডাকে জনগণ আর সাড়া দেবে না। নতুন করে আর কোনো জুলাই ঘটাতে চাইলে তাদের শেষ পরিণতি হবে গণধোলাইতে। তারা প্রায় দুই বছরে রাজনৈতিক-সামাজিক-প্রশাসনিক-অর্থনৈতিক-ধর্ম-মানবিক বা ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতা আনতে না পারলেও নিজেদের সাথে জনতার বৈষম্য তৈরি করে এমপি হয়েছে, উপদেষ্টা হয়েছে এমনকি রাজনৈতিক দল গঠন করে সমাজকে শত ভাবে বিভক্ত করেছে।
২২ জুন পুরানা পল্টনে নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির পক্ষ থেকে দ্রব্যমূল্য কমানোর দাবিতে অনুষ্ঠিত পথসভায় তিনি উপরোক্ত কথা বলেন। এসময় তিনি আরো বলেন, বৈষম্য দূর করবার খবর নাই, দ্রব্যমূল্য কমানোর খবর নাই, দুর্নীতি থামানোর খবর নাই, খুন-ধর্ষণ থামানোর খবর নাই, তাদের কেবল জুলাই চাই, সুরক্ষা চাই; এই সব হয়েনাদেরকে দেশের মানুষ সহিংসতা বন্ধ না করলে কঠোরভাবে প্রতিহত করতে তৈরি হচ্ছে। তারা আওয়ামী লীগ বোঝে না, বিএনপি বোঝে না, নতুনধারা বোঝে না। বোঝে কেবল লোভ মোহহীন-দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে এমপি হওয়ার পর প্রতারণার মধ্য দিয়ে জনগণকে বোকা বানানোর খেসারত দিতে হবে। আর এ কারণেই সারাদেশে সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য।
সভায় প্রেসিডিয়াম মেম্বার বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাড. হামিদুজ্জামান, চন্দন সেনগুপ্ত প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এসময় নেতৃবৃন্দ বলেন, যে লক্ষ্য থেকে নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবি ২০১২ সালের ৩০ ডিসেম্বর রেডর‌্যালীর মধ্য দিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে আত্মপ্রকাশ করেছিলো, সেই লক্ষ্য পুরণ করতে ২০১৭, ২০২২ এবং ২০২৪ সালে সকল শর্ত মেনে নিবন্ধনের আবেদন করলেও নিবন্ধন থেকে বঞ্চিত করে শেখ হাসিনা সরকার ও ইউনুস সরকার প্রমাণ করেছে যে, জাতির জন্য নিবেদিত থাকা রাজনৈতিক প্লাটফর্মকে রাজপথে দেখতে ভয় পায়। যে কারণে নিবন্ধন থেকে বঞ্চিত করে প্যাড সর্বস্ব প্লাটফর্মকে নিবন্ধন দিয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম বন্দর, বিকল কোটি টাকার আরটিজি ক্রেন

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে একটি রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি (আরটিজি) ক্রেন পুড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের অগ্নিনির্বাপণ দল। তবে আগুনে ক্রেনটি অচল হয়ে পড়ায় সংশ্লিষ্ট ইয়ার্ডটিতে আপাতত কন্টেইনার ডেলিভারি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।

 

 

সোমবার (২২ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে এনসিটির ৩ নম্বর জেটিতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার পরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ইয়ার্ডে কন্টেইনার ওঠানামা ও ডেলিভারি কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত করা হয়। পাশাপাশি শ্রমিক ও কর্মরতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

 

 

বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, একটি আরটিজি ক্রেনে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে আগুনের তাপের কারণে পাশে থাকা একটি রেফ্রিজারেটেড (রিফার) কন্টেইনারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে দ্রুত অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম শুরু হওয়ায় আগুন আশপাশের অন্যান্য কন্টেইনার কিংবা যন্ত্রপাতিতে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি।

তবে অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত আরটিজি ক্রেনটি বর্তমানে সম্পূর্ণ অচল হয়ে গেছে। ফলে ওই ক্রেন ব্যবহার করে আপাতত কোনো কন্টেইনার ডেলিভারি কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে সংশ্লিষ্ট ইয়ার্ডে ডেলিভারি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হলেও বন্দরের অন্যান্য সব ইয়ার্ডে পণ্য খালাস ও ডেলিভারি কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। সাধারণত একেকটি গেন্ট্রি ক্রেনের দাম পড়ে ১৫ থেকে ২৩ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত সচিব নাসির উদ্দিন অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এনসিটির একটি আরটিজি ক্রেনে আগুন লেগেছিল। ফায়ার সার্ভিস ও বন্দরের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ক্রেনটি পুনরায় সচল করা সম্ভব হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব নয়। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুত ৭.৬৩ টিসিএফ: সরকারি হিসাব

দেশে বর্তমানে উত্তোলনযোগ্য (রিকভারেবল) সাত দশমিক ৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত রয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তবে, প্রতিদিন গ্যাস সরবরাহে প্রায় ১ হাজার ১৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

 

 

সোমবার (২২ জুন) জাতীয় সংসদে মেহেরপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দীন খানের তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

 

 

 

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আটটি গ্রাহক শ্রেণির অনুমোদিত গ্যাস লোডের ভিত্তিতে বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় তিন হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত গড়ে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ছিল প্রায় দুই হাজার ৬৫৪ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার ১৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়ে গেছে। আর মজুত রয়েছে সাত দশমিক ৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)।

সরকার ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলেও তিনি সংসদকে জানান।

 

দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির কর্মসূচির আওতায় ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এর মধ্যে ইতোমধ্যে ২৮টি কূপে খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।’

 

 

তিনি জানান, অবশিষ্ট কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রণালয়, পেট্রোবাংলা এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

 

 

 

নতুন সম্ভাব্য গ্যাসক্ষেত্র চিহ্নিত করতে চলমান সিসমিক জরিপ কার্যক্রমের বিষয়েও তিনি আলোকপাত করেন।

 

 

 

মন্ত্রী বলেন, ‘ব্লক-৭ ও ব্লক-৯ এলাকায় প্রায় চার হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার দ্বিমাত্রিক (২ডি) সিসমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বর্তমানে এসব তথ্য প্রক্রিয়াকরণের কাজ চলছে।’

 

 

এছাড়া হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ ও মেঘনা গ্যাসক্ষেত্রের আশপাশে এক হাজার ৪৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে ত্রিমাত্রিক (৩ডি) সিসমিক জরিপ শিগগিরই শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

 

 

ইকবাল হাসান মাহমুদ আরো জানান, ভোলার চরফ্যাশন এলাকায় ৬৬০ বর্গকিলোমিটার, জামালপুরে ৬৫০ বর্গকিলোমিটার, তিতাস, হবিগঞ্জ ও নরসিংদী গ্যাসক্ষেত্র সংলগ্ন এলাকায় ৬৩২ বর্গকিলোমিটার এবং লামিগাঁও, লালাবাজার, গোয়াইনঘাট, কৈলাশটিলা দক্ষিণ ও ফেঞ্চুগঞ্জ পশ্চিম গ্যাসক্ষেত্র সংলগ্ন কাঠামোতে ৮৮২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় আরও থ্রিডি সিসমিক জরিপের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

 

 

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অনুসন্ধান প্রতিষ্ঠান বাপেক্স-কে শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে দুই হাজার এবং এক হাজার ৫০০ হর্স পাওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন দু’টি নতুন ড্রিলিং রিগ ক্রয়ের কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

 

 

 

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ভোলায় আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রগুলোকে জাতীয় গ্যাস গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে ভোলা-বরিশাল-জাজিরা-মাওয়া-আমিনবাজার গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত সরকার গ্রহণ করেছে এবং এ লক্ষ্যে বাস্তবায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

রাণীনগরে ভূমিসেবা সহজ করতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গণশুনানি অনুষ্ঠিত

নওগাঁর রাণীনগরে ভূমিসেবাকে সহজ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে আবাদপুকুর বাজারে কালীগ্রাম-একডালা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে একটি গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেল তিনটায় উপজেলা রাজস্ব প্রশাসনের আয়োজনে এই গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
গণশুনানিতে নামজারি, খারিজ, ভূমি উন্নয়ন কর, নাগরিক নিবন্ধন, DLRMS সংক্রান্ত আবেদন, খাস জমি বন্দোবস্ত এবং ভূমিসেবা গ্রহণে বিভিন্ন জটিলতা ও জনভোগান্তির বিষয় তুলে ধরেন স্থানীয় সেবাগ্রহীতারা। তারা সরাসরি তাদের মতামত, অভিযোগ ও সমস্যার কথা উপস্থিত কর্মকর্তাদের কাছে উপস্থাপন করেন। কর্মকর্তারা মনোযোগ দিয়ে তাদের বক্তব্য শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
গণশুনানিতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিলা ইয়াসমিন এবং রাজস্ব বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা। তারা ভূমিসেবা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, জবাবদিহিমূলক ও হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। এ ছাড়া নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, অনলাইনে আবেদন এবং ভূমি সংক্রান্ত সঠিক তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেন তারা।
উপজেলা রাজস্ব প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনগণের দোরগোড়ায় ভূমিসেবা পৌঁছে দেওয়া, সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ শোনা এবং তা দ্রুত সমাধানের পথ তৈরি করার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের গণশুনানির আয়োজন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে একদিকে জনসাধারণের ভোগান্তি কমবে, অন্যদিকে ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

চাকরির সুযোগ: রেশম উন্নয়ন বোর্ডে ১৬৭ পদে নিয়োগ

চাকরি দিচ্ছে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড। প্রতিষ্ঠানটি তাদের রাজস্ব খাতভুক্ত ১৪ থেকে ২০ গ্রেডের পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। মোট পদসংখ্যা ১৬৭। আবেদনের শেষ তারিখ ২১ জুলাই ২০২৬।

 

 

চলুন, একনজরে দেখে নিই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি-

১. পদের নাম: সহকারী হিসাবরক্ষক

পদসংখ্যা: ৫

গ্রেড ও বেতন স্কেল: ১০,২০০-২৪,৬৮০ টাকা (গ্রেড-১৪)।

২. পদের নাম: টেকনিক্যাল সুপারভাইজার

পদসংখ্যা: ৯৬

গ্রেড ও বেতন স্কেল: ৯,৭০০-২৩,৪৯০ টাকা (গ্রেড-১৫)।

৩. পদের নাম: ড্রাফটসম্যান

পদসংখ্যা: ১

গ্রেড ও বেতন স্কেল: ৯,৭০০-২৩,৪৯০ টাকা (গ্রেড-১৫)।

৪. পদের নাম: অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর

পদসংখ্যা: ১৮

গ্রেড ও বেতন স্কেল: ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা (গ্রেড-১৬)।

৫. পদের নাম: এক্সপার্ট উইভার

পদসংখ্যা: ৪

গ্রেড ও বেতন স্কেল: ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা (গ্রেড-১৬)।

৬. পদের নাম: অফিস সহায়ক

পদসংখ্যা: ৪৩

গ্রেড ও বেতন স্কেল: ৮,২৫০-২০,০১০ টাকা (গ্রেড-২০)।

বয়সসীমা: ১ জুন ২০২৬ তারিখে ১৮-৩২ বছর হতে হবে।

আবেদনের নিয়ম: পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক ব্যক্তি ওয়েবসাইটে আবেদনপত্র পূরণ করবেন।

আবেদন ফি: ১ থেকে ৫ নম্বর পদ: ১১২ টাকা (ভ্যাট ও সার্ভিস চার্জসহ); ৬ নম্বর পদ: ৫৬ টাকা (ভ্যাট ও সার্ভিস চার্জসহ)।

আবেদনের সময়সীমা: আবেদনপত্র পূরণ ও পরীক্ষার ফি জমাদান শুরু ২২ জুন ২০২৬

আবেদনপত্র জমাদানের শেষ তারিখ: ২১ জুলাই ২০২৬

*বিস্তারিত দেখতে ক্লিক করুন এখানে

শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে ১৭ লাখ টাকা, স্বর্ণ ও বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স খুলে গণনা শেষে নগদ টাকার পাশাপাশি স্বর্ণালঙ্কার ও বিদেশি মুদ্রাও পাওয়া গেছে। মাজারের দানবাক্স থেকে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৯ টাকা, প্রায় ৭ আনা স্বর্ণ এবং বিভিন্ন দেশের মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে।

 

 

সোমবার (২২ জুন) মাজার প্রাঙ্গণে প্রশাসনের উপস্থিতিতে দানবাক্সের টাকা গণনা করা হয়। গণনা শেষে জেলা প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।

 

 

গণনায় দেখা যায়, দানবাক্সে জমা হওয়া নগদ টাকার পরিমাণ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৯ টাকা। এছাড়া পাওয়া গেছে প্রায় ৭ আনা স্বর্ণ, দুটি সৌদি রিয়াল, ডলার ও পাউন্ডসহ বিভিন্ন বিদেশি মুদ্রা।

মাজারে দেশ-বিদেশ থেকে আগত ভক্ত ও দর্শনার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে দানবাক্সে নগদ অর্থের পাশাপাশি স্বর্ণালঙ্কার ও বিদেশি মুদ্রা দান করে আসছেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে প্রকাশ্যে দানবাক্সের টাকা গণনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। ৭শ শত বছরের প্রচলিত প্রথার বাইরে গিয়ে প্রশাসনের উপস্থিতিতে উন্মুক্তভাবে অর্থ গণনার এ উদ্যোগকে ঘিরে মাজারসংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রতিক্রিয়াও দেখা দেয়।

পাঁচ ব্যাংকের চাকরিচ্যুতদের চাকরি ফেরত চেয়ে আন্দোলন

চাকরি পুনর্বহাল, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনসহ ১০ দফা দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে দেশের পাঁচটি বেসরকারি ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

 

 

সোমবার (২২ জুন) সকালে নগরের কোতোয়ালি এলাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

পরে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধিদল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর প্রভাবে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে ব্যাপক হারে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

পাশাপাশি প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হয়েছেন অনেক কর্মী। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতে অস্বাভাবিক হারে ছাঁটাইয়ের ফলে অসংখ্য পরিবার আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া অবস্থান কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীরা প্ল্যাকার্ড হাতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেন। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে নগরের নিউমার্কেট মোড়ে জড়ো হয়ে তাঁরা কর্মসূচির প্রস্তুতি নেন।

 

আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে চাকরিচ্যুত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পূর্বের পদ, বেতন-ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধাসহ অবিলম্বে পুনর্বহাল করা, দক্ষ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন এবং ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা।

 

 

এ ছাড়া ব্যাংকের সব পর্যায়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ, প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ, গ্রাহকদের মধ্যে কৃত্রিম সংকট ও আতঙ্ক সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা এবং ৫ আগস্টের পর ব্যাংকিং খাতে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তারা।

 

 

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই আমাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আমরা আমাদের চাকরি, বেতন-ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধাসহ দ্রুত পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছি। এ দাবিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আমরা ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে আসছি।”

 

 

আরেক চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা আদনান মালেক বলেন, ৫ আগস্টের পর আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অনেক কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হারানো চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানাচ্ছি।

 

 

এদিকে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের একটি দল মোতায়েন ছিল।

 

 

কোতোয়ালি থানার ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর বলেন, আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন শেষে স্থান ত্যাগ করেছেন। মানববন্ধনের কারণে নগরীর যান চলাচলেও উল্লেখযোগ্য কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।

অগ্নিকাণ্ডে বিধ্বস্ত ভারতীয় কোচিং সেন্টার, প্রাণ গেল ১৩ জনের

ভারতের উত্তর প্রদেশের লখনৌ শহরের আলিগঞ্জ এলাকায় একটি কোচিং সেন্টার সংবলিত ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার (২২ জুন) এ দুর্ঘটনায় ভবনের ভেতরে আটকা পড়ে বহু মানুষ। প্রাণ বাঁচাতে কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রথম তলা থেকে লাফ দেন।

 

 

স্থানীয় সময় দুপুরে আগুন লাগার পর তা দ্রুত ভবনজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। পরে ধ্বংসস্তূপ থেকে অন্তত ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাণিজ্যিক এলাকার তিনতলা ভবনটিতে একটি কোচিং সেন্টারের পাশাপাশি পোষা প্রাণীর দোকানসহ আরও কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছিল। আগুন লাগার পর অনেকেই ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি ভাঙা জানালা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে নিচে পড়ে যান। তিনি একটি বেড়ার ওপর আছড়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।

ঘটনার পর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। উত্তর প্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠকও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

 

এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, এটি তিনতলা ভবন। ওপরের তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ধারকাজের জন্য কয়েকটি জানালা ভেঙে ফেলা হয়।

 

 

স্থানীয়দের দাবি, ভবনের ভেতরে শিক্ষার্থীসহ অনেক মানুষ আটকা পড়েছিলেন। তবে কতজন আটকা ছিলেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

 

 

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, পাঁচ থেকে সাতজন শিক্ষার্থী লাফ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের হাড় ভেঙে গেছে।

 

 

 

এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি নিহতদের পরিবারের জন্য দুই লাখ রুপি এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন। অন্যদিকে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

 

 

 

বিদেশি পর্যটককে হয়রানি, কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে আটক করেছে পুলিশ

ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার এলাকায় এক বিদেশি পর্যটককে নিয়ে বিতর্কিত ভিডিও ধারণের ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে টুরিস্ট পুলিশ। অভিযোগের ভিত্তিতে টুরিস্ট পুলিশ জয়পুরহাট সদর থানার ছোট মাঝিপাড়ার কনটেন্ট ক্রিয়েটর মো. আব্দুল মাবুত ওরফে ‘হিরো নানা’কে আটক করে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

 

সোমবার (২২ জুন) দুপুরে সদর উপজেলার নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।

 

 

জানা গেছে, গত ১৯ জুন পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে ঘুরতে আসা এক চীনা পর্যটককে কেন্দ্র করে আব্দুল মাবুত এবং সঙ্গে থাকা নারী একটি ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওর একপর্যায়ে আব্দুল মাবুত ওরফে হিরো নানা অশ্লীল কথাবার্তা বলতে থাকেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। নেটিজেনরা ঘটনাটিকে বিদেশি পর্যটকের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

বিষয়টি নজরে এলে পাহাড়পুর টুরিস্ট পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করে। যাচাইবাছাই শেষে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করা হয় এবং পরবর্তী আইনিব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।

ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের কাস্টডিয়ান মুহাম্মদ ফজলুল করিম জানান, পাহাড়পুর ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী প্রত্নস্থল। এখানে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক ব্যবস্থা রয়েছে। বিদেশি পর্যটককে হেনস্তার ভিডিওটি নজরে আসার পর টুরিস্ট পুলিশের সহযোগিতায় অভিযুক্তকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

অন্যদিকে নওগাঁ জেলা টুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ মাহবুব আলম বলেন, বিষয়টি সোস্যাল মিডিয়াতে দৃষ্টিগোচর হয়েছে, যাতে হিরো নানা নামে একজন ব্যক্তি বিদেশি পর্যটকের সঙ্গে হাত ধরে কথা বলছে। এক পর্যায়ে সে কিছু অশ্লীল কথাবার্তা বলেছে। সোস্যাল মিডিয়াতেও এ নিয়ে বিরুপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে কাস্টোডিয়ান এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে হিরো নানাকে আমরা আটক করি। আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বদলগাছী থানাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

 

 

বদলগাছী থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) নজরুল ইসলাম বলেন, একটি ঐতিহ্যবাহী স্থানের মান-সম্মান ক্ষুন্ন করেছেন অভিযুক্ত। এ ঘটনায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া ম্যাচের সময় ও মোবাইলে দেখার উপায়

আলজেরিয়ার বিপক্ষে দারুণ জয়ের পর এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা দাঁড়িয়ে আছে অস্ট্রিয়া ম্যাচের দোরগোড়ায়।

 

 

আজ সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় মাঠে নামবে আলবিসেলেস্তেরা। উত্তেজনাপূর্ণ এই ম্যাচ ঘিরে ভক্ত-দর্শকদের আগ্রহের শেষ নেই।

 

 

লিওনেল মেসির এই ম্যাচ ঘরে বসেই টিভিতে দেশীয় তিনটি চ্যানেলে দেখা যাবে। রাষ্ট্রায়ত্ত টিভি চ্যানেল বিটিভির পাশাপাশি টি-স্পোর্টস ও সময় টিভিতে সরাসরি দেখানো হবে আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়ার ম্যাচ।

 

 

 

এছাড়া মোবাইল ফোন কিংবা ল্যাপটপ থেকেও ম্যাচগুলো উপভোগ করতে পারবেন দর্শকরা। তবে সেক্ষেত্রে সাবস্ক্রিপশন ফি দিতে হবে।

নির্দিষ্ট সাবস্ক্রিপশন ফি দিয়ে মোবাইল ফোন ও স্মার্ট ডিভাইসে মাই রবি অ্যাপ, বাংলালিংকের টফি ও গ্রামীণফোনের বায়োস্কোপে ঘরে বসেই ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ উপভোগ করতে পারবেন দেশের ফুটবলপ্রেমীরা।

৬ জেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য তৎপরতা প্রতিরোধে ছয় জেলায় সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কমিশনড কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দিয়েছে সরকার।

 

 

সোমবার (২২ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

 

 

ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা, নারায়ণগঞ্জ জেলা, গোপালগঞ্জ জেলা এবং ফরিদপুর জেলায় ২২ জুন থেকে ৩০ জুন তারিখ পর্যন্ত এই আদেশ কার্যকর থাকবে।

মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১২(১) ও ১৭ ধারা অনুযায়ী এসব এলাকা ও এ সময়ের জন্য এই কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা অর্পণ করা হলো। কোস্টগার্ড ও বিজিবিতে প্রেষণে নিয়োজিত সমপদমর্যাদার কর্মকর্তারাও এ ক্ষমতার আওতাভুক্ত হবেন।

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫(২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ এবং ১৪২ অনুযায়ী অপরাধগুলোর ক্ষেত্রে তারা এই ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।

জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব সদস্য হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার আরও একজন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে আলোচিত সন্ত্রাসী গ্রুপের হামলায় র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৭।

 

 

গ্রেপ্তারকৃত আসামি আইয়ুব আলী ওরফে বাবুল সওদাগর (৫৩) মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে। তার বাড়ি সীতাকুণ্ড উপজেলার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সমাজ এলাকায়।

 

 

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‍্যাব জানিয়েছে, সীতাকুণ্ড থানায় দায়ের করা র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলায় তদন্তে প্রাপ্ত আসামি আইয়ুব আলী চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানার লয়েল রোড এলাকার নবী মার্কেটের সামনে অবস্থান করছেন- এমন তথ্যের ভিত্তিতে রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সীতাকুণ্ড থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর আগে গত দুইদিনে এ মামলার আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন- আলী আকবর (২৬) ও মো. ইমরান (২৫)।

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ

দুর্দান্তভাবে এবারের বিশ্বকাপ শুরু করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নিজেদের প্রথম ম্যাচে লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। সোমবার (২২ জুন) নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। ডালাসে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হবে ম্যাচটি।

 

 

প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরও একাদশে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছেন আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়ায় গঞ্জালো মন্টিয়েলকে বিশ্রাম দেওয়া হচ্ছে আজ। তার জায়গায় শুরু থেকেই খেলবেন নাহুয়েল মোলিনা।

 

 

এ ছাড়া আলজেরিয়ার বিপক্ষে জয় পাওয়া মূল একাদশই প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা বেশি। গোড়ালির চোট কাটিয়ে আলজেরিয়ার বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমেছিলেন হুলিয়ান আলভারেজ। লাউতারো মার্টিনেজের জায়গায় শুরুর একাদশে সুযোগ পেতে পারেন বলে আলোচনা থাকলেও ম্যাচ ফিটনেসে কিছুটা পিছিয়ে থাকায় আপাতত লাউতারোর ওপরই আস্থা রাখছেন স্কালোনি।

আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ: এমিলিয়ানো মার্টিনেজ (গোলরক্ষক), নাহুয়েল মলিনা, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, ফাকুন্দো মেদিনা, রদ্রিগো ডি পল, এঞ্জো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, থিয়াগো আলমাদা/নিকোলাস গঞ্জালেস, লিওনেল মেসি ও লাউতারো মার্টিনেজ।

হিলিতে পৃথক মাদক অভিযানে ৪ জন গ্রেফতার, আদালতে প্রেরণ

দিনাজপুরের হাকিমপুরে পৃথক তিনটি মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে ৪ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে হাকিমপুর থানা পুলিশ।
আজ সোমবার ২২ শে জুন বৈকাল ৫টায় গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাকিমপুর থানা পুলিশের পৃথক চৌকস দল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। এ সময় আসামিদের কাছ থেকে অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।
​গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন উপজেলার বোয়ালদার (খানপাড়া) গ্রামের মৃত তোজাম্মেল হক খানের ছেলে মোঃ মাজেদ আলী খান (৪৬)। উত্তর বাসুদেবপুর গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মোঃ আব্দুর রহিম (৪০)। একই গ্রামের মোঃ বাচ্চু মিয়ার ছেলে মোঃ রাজা মিয়া (৩০)। চকচকা গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে মোঃ মমিন প্রধান (৫০)।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ অনুযায়ী পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের আজ বিকেলে যথাযথ পুলিশ স্কটের মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন জানান, মাদক ও অপরাধ দমনে থানা পুলিশের এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে।

বেলজিয়াম ম্যাচে আলোচনায় আসা আলিরেজার জীবনের ৫ অবাক করা তথ্য

বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র ম্যাচে ইরানের হয়ে সবচেয়ে বড় নায়ক হিসেবে উঠে এসেছেন গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দ। একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভে তিনি থামিয়ে দেন বেলজিয়ামের তারকা আক্রমণভাগ যেখানে ছিলেন কেভিন ডি ব্রুইনা, লিয়ান্দ্রো ত্রোসার্দ।

 

 

২৩টি শটের মধ্যে ৭টি অন টার্গেট সবকটিই রুখে দেন বেইরানভান্দ। বিশেষ করে ম্যাক্সিম ডি কুইপারের পরপর দুটি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে তিনি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন বলে ম্যাচ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পুরো ম্যাচ শেষে তিনি পান সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার।

 

 

ইরানের জাতীয় দলের এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক বর্তমানে ক্লাব ফুটবলে খেলছেন ট্র্যাক্টর দলে। এর আগে তিনি পার্সেপোলিস, বোয়াভিস্তা এবং রয়্যাল অ্যান্টওয়ার্পের মতো ক্লাবেও খেলেছেন। জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত ৮০টির বেশি ম্যাচ খেলেছেন তিনি।

বিশ্বকাপ মঞ্চে ২০১৮ ও ২০২২ আসরেও ইরানের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক ছিলেন ১৯৫ সেন্টিমিটার উচ্চতার এই তারকা। তবে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তগুলোর একটি আসে ২০১৮ বিশ্বকাপে পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচে, যেখানে তিনি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পেনাল্টি সেভ করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসেন।

চলুন জেনে নেওয়া যাক আলিরেজা বেইরানভান্দের জীবনের ৫টি চমকপ্রদ তথ্য-

১. যাযাবর কুর্দি পরিবার থেকে উঠে আসা ইরানের লোরেস্তান প্রদেশের খোররামাবাদে জন্ম বেইরানভান্দের। কুর্দি লাক যাযাবর পরিবারে বড় হয়ে ওঠা এই গোলরক্ষক ছোটবেলায় পাহাড়ি এলাকায় পশুপালনের কাজও করেছেন। রাখাল জীবন থেকে বিশ্বমঞ্চে উঠে আসার গল্প তাকে অনন্য করে তুলেছে।

 

 

 

২. গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডধারী

দূরপাল্লার থ্রোয়ের জন্য বিখ্যাত বেইরানভান্দ। ফুটবলে সবচেয়ে দূরে বল ছোড়ার রেকর্ড (২০০.১৪ ফুট) এবং দীর্ঘতম ড্রপ-কিক (২৫৫.৯৫ ফুট) দুটি রেকর্ডই তার দখলে, যা গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান পেয়েছে।

 

 

৩. বেলজিয়ামের বিপক্ষে অসাধারণ পরিসংখ্যান

এই ম্যাচে তিনি ৭টি সেভ করেন। পাশাপাশি ৩৪টি পাসের মধ্যে ২০টি সফলভাবে সম্পন্ন করেন এবং ২৪টি লং বলের মধ্যে ১১টি সতীর্থদের কাছে পৌঁছে দেন যা তার গোলরক্ষার পাশাপাশি বিল্ড-আপ দক্ষতাও তুলে ধরে।

 

 

৪. ইরানি ফুটবলের শীর্ষ তারকা

গত এক দশকে ইরানি ঘরোয়া ফুটবলে ধারাবাহিকভাবে সাফল্য পেয়েছেন বেইরানভান্দ। তিনি টানা চার মৌসুম লিগের সেরা গোলরক্ষক নির্বাচিত হন এবং ২০১৯ সালে ইরানের বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার জেতেন। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছেন তিনি।

 

 

৫. রোনালদোর পেনাল্টি সেভে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি

২০১৮ বিশ্বকাপে পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচে রোনালদোর পেনাল্টি ঠেকিয়ে রাতারাতি বিশ্ব ফুটবলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন বেইরানভান্দ। সেই ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল, আর তার সেই সেভ আজও ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত।

 

ইরানের এই গোলরক্ষক তাই শুধু একজন খেলোয়াড় নন তিনি এক অনুপ্রেরণার গল্প, যেখানে পাহাড়ি যাযাবর জীবন থেকে উঠে এসে বিশ্বকাপের মঞ্চে নায়ক হওয়ার কাহিনি লেখা হয়েছে নতুন করে।

 

পারিবারিক কলহের জেরে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছেলের হাতে নিহত বাবা

রাজশাহী মহানগরীতে পারিবারিক কলহের জেরে ছেলের হামলায় রেজাউল করিম নামের এক স্কুলশিক্ষক নিহত হয়েছেন।

 

 

সোমবার (২২ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেহেরচণ্ডী বেড়ার মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

 

নিহত রেজাউল করিম (৬০) দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অভিযুক্ত তার ছেলে রাকিবুল করিম (২৭)। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) পর্যায়ের শিক্ষার্থী।

 

 

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, সোমবার সকালে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মা-বাবা ও ছেলে রাকিবুলের মধ্যে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রাকিবুল ঘরে থাকা একটি কাঠ দিয়ে তার বাবার মাথায় আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত রেজাউল করিম ঘটনাস্থলেই মারা যান।

ঘটনার পর অভিযুক্ত রাকিবুল দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানালে চন্দ্রিমা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

চন্দ্রিমা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ছেলে পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে এবং বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

 

 

 

মনিরুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

নোয়াখালীতে ডিবির অভিযানে ৩৪৭ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর হাতিয়ায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ৩৪৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় অপর এক সহযোগী পালিয়ে যায়।
জেলা পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় এবং ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সার্বিক তত্ত্বাবধানে সোমবার (২২ জুন ২০২৬) ভোররাতে হাতিয়া উপজেলার ১ নম্বর হরণী ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ডিবি পুলিশের এসআই মো. মিনহাজুল আবেদিন সঙ্গীয় ফোর্সসহ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ইসলামপুর এলাকার আবু তাহেরের বসতঘর থেকে মাদক ব্যবসায়ী মো. শাখাওয়াত (২২) কে ৩৪৭ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেন।
গ্রেপ্তার শাখাওয়াত হাতিয়া উপজেলার ১ নম্বর হরণী ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকার আবু তাহেরের ছেলে। অভিযানের সময় তার সহযোগী মো. সাঈদ উদ্দিন (৩০) পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আসামি ও পলাতক সহযোগীর বিরুদ্ধে হাতিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

জলঢাকায় পার্টনার কংগ্রেস ২০২৬ অনুষ্ঠিত

নীলফামারীর জলঢাকায় প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল এন্ড রুলার ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ এন্ড রিসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রোগ্রাম এর আওতায় পার্টনার কংগ্রেস ২০২৬ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে সুন্দর ও মনোরম পরিবেশের মধ্য দিয়ে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে ।
সোমবার ২২ শে জুন  সকালে উক্ত অনুষ্ঠানে শুরুতে ফিতা কেটে অনুষ্ঠানটির শুভসূচনা করেন নীলফামারী -৩  আসনের সাংসদ সদস্য মাওলানা  ওবায়দুল্লাহ সালাফি । পরে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিভিন্ন কৃষি বুথ ও কর্ণার পরিদর্শন শেষে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি। অনুষ্ঠানে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উপজেলা কৃষি অফিসার মিজানুর রহমান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জলঢাকা থানা অফিসার ইনচার্জ নাজমুল আলম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জলঢাকা উপজেলা আমির মোখলেছুর রহমান মাস্টার, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মোয়াম্মর আল হাসান , প্রেসক্লাব জলঢাকার সভাপতি কামারুজ্জামান, নীলফামারী জেলা জামায়াত ইসলামী প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি প্রভাষক সাদের  হোসেন , প্রেসক্লাব জলঢাকা সেক্রেটারি শাহজাহান কবির লেলিন,নীলফামারী জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য রশিদুল ইসলাম বাঙ্গালী,
জলঢাকা উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আমজাদ হোসেন, জলঢাকা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা, উপজেলা তথ্য অফিসার আয়েশা খাতুন, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আসাদুজ্জামান আসাদ ,উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারী সহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ । অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন  উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি অফিসার খোরশেদ আলম।

সিরাজগঞ্জে জব ফেয়ার-২০২৬ অনুষ্ঠিত

সিরাজগঞ্জে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং বেকার যুবকদের চাকরির সুযোগ তৈরীর লক্ষ্যে ‘জব ফেয়ার-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

সোমবার, (২২ জুন) জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এ মেলায় জেলার বিভিন্ন বেসরকারি চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা, প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং চাকরিপ্রত্যাশী যুবক-যুবতীরা অংশগ্রহণ করেন।

 

 

 

পিকেএসএফ এর অর্থায়নে রিকভারি অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অব ইনফরমাল সেক্টর এমপ্লয়মেন্ট (রেইজ) প্রকল্পের সহযোগীতায় ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এনডিপি), মডার্ন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এমডিও) এবং মানব মুক্তি সংস্থা (এমএমএস) এর যৌথ আয়োজনে দিনব্যাপী এই ‘জব ফেয়ার-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জব ফেয়ার এর উদ্বোধন করেন সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম। মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এনডিপি)-এর নির্বাহী পরিচালক মো. আলাউদ্দিন খান এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় তিনি বলেন, যুব সমাজকে দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের আয়োজন চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান ও চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

 

 

এসময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সময়ে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। যুগোপযোগী দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে যুবসমাজকে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে হবে। সরকার ও বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার যৌথ উদ্যোগে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির যে প্রচেষ্টা চলছে, তা বেকারত্ব নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিকেএসএফ এর রেইজ প্রকল্পের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. ফারুক হোসাইন, বিসিক জেলা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. মাহবুবুল ইসলাম, মানব মুক্তি সংস্থা (এমএমএস) এর নির্বাহী পরিচালক মো. হাবিব উল্লাহ বাহার এবং মডার্ন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এমডিও) এর নির্বাহী পরিচালক মাছউদ আহমেদ রোকনী।

 

 

অনুষ্ঠানে প্রকল্প বিষয়ে সার্বিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এনডিপি)-এর ঋণ সহায়তা কর্মসূচির পরিচালক মোসলেম উদ্দিন আহমেদ। এছাড়াও এসময় ৩০টির বেশি চাকুরিদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

 

বক্তারা বলেন, শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়, তথ্যপ্রযুক্তি, কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। কর্মসংস্থানের বাজারে টিকে থাকতে হলে যুবকদের আধুনিক প্রযুক্তি ও চাহিদাভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

 

 

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। মেলায় অংশগ্রহণকারী চাকরিপ্রত্যাশীরা সরাসরি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় ও জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়ার সুযোগ পান।

 

 

আয়োজকরা জানান, যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে। মেলায় জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রত্যাশী যুবক-যুবতী, উন্নয়নকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

দীর্ঘ অপেক্ষার পর মুক্তির তারিখ পেল আলোচিত সিনেমাটি

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মুক্তির তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে দক্ষিণ ভারতীয় সুপারস্টার যশ অভিনীত বহুল আলোচিত সিনেমা ‘টক্সিক: আ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপস’-এর। নির্মাতারা জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাপী সিনেমাটি মুক্তি পাবে আগামী ২৬ আগস্ট।

 

 

ব্যতিক্রম একটি বিষয় হলো, সিনেমাটি মুক্তি পাচ্ছে বুধবার। সাধারণত বড় বাজেটের ভারতীয় সিনেমাগুলো শুক্রবার মুক্তি পেলেও ‘টক্সিক’-এর ক্ষেত্রে ভিন্ন কৌশল নিয়েছেন নির্মাতারা। কারণ, মুক্তির সময়টিকে ঘিরে রয়েছে বরমহালক্ষ্মী পূজা, ওনাম ও রাখি বন্ধন-এর মতো একাধিক উৎসব ও ছুটির আবহ। ফলে টানা কয়েক দিনের ছুটির সুবিধা পেয়ে সিনেমাটি বক্স অফিসে বাড়তি দর্শক টানতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

 

 

মুক্তির তারিখ ঘোষণার পাশাপাশি প্রকাশ করা হয়েছে সিনেমাটির নতুন পোস্টারও। পোস্টারে যশকে দেখা গেছে দুটি ভিন্ন রূপে। জানা গেছে, সিনেমাতে তার চরিত্রের নাম ‘রায়া’ এবং ‘টিকিট’। পোস্টার প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

এর আগে এক সাক্ষাৎকারে যশ জানিয়েছিলেন, বাইরে থেকে এটি গ্যাংস্টার ঘরানার বাণিজ্যিক সিনেমা মনে হলেও এর ভেতরে রয়েছে আরও গভীর গল্প। তার ভাষায়, ‘এটি শুধু অপরাধজগতের গল্প নয়; বরং নৈতিক দ্বন্দ্ব, মানবমনের অন্ধকার দিক এবং আবেগের জটিলতাকে অনুসন্ধান করার একটি প্রচেষ্টা।‘

ইতোমধ্যে ‘টক্সিক’কে ভারতীয় সিনেমার অন্যতম উচ্চাভিলাষী প্রকল্প হিসেবে বলা হচ্ছে। সিনেমাটি একসঙ্গে কন্নড় ও ইংরেজি ভাষায় ধারণ করা হয়েছে। পরে এটি ছয়টি ভারতীয় ভাষার পাশাপাশি ইংরেজিতেও মুক্তি পাবে। আন্তর্জাতিক বাজারে বড় পরিসরে দর্শক টানার লক্ষ্যেই এমন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা গীতু মোহনদাস। এটি তার সঙ্গে যশের প্রথম কাজ। যশের পাশাপাশি সিনেমাতে অভিনয় করেছেন দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নয়নতারা, বলিউড তারকা কিয়ারা আদভানি, হুমা কুরেশি, রুক্ষ্মিনী বসন্ত ও তারা সুতারিয়া। ‘কেজিএফ’-এর পর যশের সবচেয়ে বড় বাজির সিনেমা হিসেবেই দেখা হচ্ছে ‘টক্সিক’-কে।

 

 

তবে মুক্তির আগেই একাধিকবার পিছিয়েছে সিনেমাটির মুক্তির তারিখ। প্রথমে ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল এটি মুক্তির পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু শুটিং ও প্রযোজনার কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ না হওয়ায় সেই পরিকল্পনা বাতিল করা হয়। পরে নতুন তারিখ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০২৬ সালের ১৯ মার্চ। শেষ পর্যন্ত সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আগামী ২৬ আগস্ট বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত এই সিনেমা।

 

 

দীর্ঘ অপেক্ষার পর যশকে নতুন রূপে বড় পর্দায় দেখতে মুখিয়ে আছেন তার ভক্তরা। তাই মুক্তির দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ‘টক্সিক’ ঘিরে দর্শকদের প্রত্যাশাও ততই বাড়ছে।

চরিত্রের গভীরে সুনেরাহ, ‘ঝরা বকুল’-এ পেলেন দর্শকের ভালোবাসা

নির্মাতা রাফাত মজুমদার রিংকুর নাটক মানেই নতুন কিছু। প্রেম ভালোবাসার পাশাপাশি বরাবরই পরিবারের গল্প তুলে ধরেন তিনি। এরমধ্যে তার নির্মিত ‘ঝরা বকুল’ নাটকটি দর্শকের মনে দাগ কেটেছে। বিশেষ করে এই নাটকের সুনেরাহ বিনতে কামাল অভিনীত মনিরা চরিত্রটি বেশ প্রশংসা পাচ্ছে।

 

 

গল্পে দেখা গেছে, মনিরা একটি গরীব পরিবারের বড় মেয়ে। সবার দায়িত্ব নিতে গিয়ে নিজের বিয়েও করা হয়ে ওঠেনি তার। এমনকি মনিরা অন্য পরিবারে চলে গেলে কে সংসার দেখবে এই ভয়ে তার মা নিজেও তাকে বিয়ের জন্য বলে না। কিন্তু কবির (ইয়াশ রোহান) মনিরাকে চায়। এভাবেই গল্প এগিয়ে যায়।

 

 

নাটকটির কমেন্টবক্সে একজন লেখেন, ‘জানিনা মানুষ সুনেরাহকে নিয়ে এত খারাপ মন্তব্য কেনো করে। ওর কণ্ঠ, ওর চেহারা সবই অন্য রকম। আর কেন জানি সব ধরনের অভিনয়ে মানিয়ে যায়। বড় লোকের মেয়ে, গরীবের বাড়ির মেয়ে, অহংকারী নিরহংকারী, সব চরিত্রে। ‘

রঙ্গন এন্টারটেইনমেন্টের ইউটিউব চ্যানেলে ‘ঝরা বকুল’ নাটকটি দেখা যাচ্ছে। এটি প্রযোজনা করেছেন জামাল হোসেন। নাটকটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রম্য, রোমান্টিক, অতি আর্ট দেখতে দেখতে দর্শক হয়রান। এসবে গল্প আর বাস্তবতার অভাব থাকে। হাপিয়ে উঠা দর্শক এখন একটা পরিবারের সুখ দুঃখ স্ট্রাগল ও সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে বাস্তবতা খুঁজে পান।’

নির্মাতা রিংকু বলেন, ‘আমি সব সময় পারিবারিক গল্পকে প্রধান্য দিয়ে আসছি। এই নাটকেও দর্শক সেটি দেখছেন। মানুষ নাটকে যখন নিজেদের খুঁজে পান তখন সেটি সহজে গ্রহণ করেন। এই কারণে হয়তো ঝরা বকুল সবার ভালো লাগছে।’

এই নাটকে বিভিন্ন চরিত্রে আরও অভিনয় করেছেন গুনী অভিনেত্রী ডলি জহুর, রোজী সিদ্দিকী ও গোলাম ফরিদা ছন্দাসহ আরও অনেকে।

স্কুলশিক্ষার্থী হত্যার অভিযোগে শিক্ষক-ছাত্র আটক

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান হত্যা মামলায় এক শিক্ষক ও এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২২ জুন) তাদের আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।

 

 

পুলিশ সূত্র জানায়, গত ১৮ জুন দায়ের হওয়া রামগঞ্জ থানার হত্যা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযান চালিয়ে ফরিদ আহম্মেদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক হল সুপার ও সহকারী অধ্যাপক এবং এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

 

এর আগে ১৬ জুন বিকেলে উপজেলার ফরিদ আহম্মেদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক হল থেকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মেহেদী হাসানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বিক্ষুব্ধ জনতা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটকসহ কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুর চালায়।

নিহত মেহেদী উপজেলার সোনাপুর বাজার এলাকার ব্যবসায়ী জিয়া উদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় ১৮ জুন তার বাবা বাদী হয়ে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ১০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, একটি আইফোন চুরিকে কেন্দ্র করে মারধরের ঘটনায় মেহেদীর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষকে অপসারণ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন শিক্ষক ও একজন শিক্ষার্থী রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সিংড়ায় ২০ লাখ টাকার চায়না জাল জব্দ, দুই ব্যক্তিকে জরিমানা ও একজনের কারাদণ্ড

​নাটোরের সিংড়ায় মৎস্য সম্পদ রক্ষায় অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ।
অভিযানে প্রায় ২০ লাখ টাকার  নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ এবং এ জাল ব্যবহারের দায়ে দুই ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড ও  একজনকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
​সোমবার  দুপুরে সিংড়া পৌর শহরের সরকার পাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
​অভিযানে মৎস্য সুরক্ষা আইন অমান্য করে চায়না দুয়ারি জাল বাড়িতে মজুদ ও জাল  দিয়ে মাছ ধরার অপরাধে শহিদুল ইসলাম (৩৫) ও একাক্বর (৩৭) নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে শহিদুল ইসলামকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা সহ ২ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।  অপরপক্ষে অভিযুক্ত একাক্বর কে ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন ভাম্যমান আদালত। এছাড়া  জব্দকৃত প্রায় ২০ লাখ টাকার  অবৈধ চায়না দুয়ারি  জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
অভিযান ও ভাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্মতা (ইউএনও)  ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্যাট আব্দুল্লাহ আল রিফাত।
এসময় উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ শাহাদত হোসেন, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রফিকুল ইসলাম সহ প্রশাসনিক কর্মকর্তা, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী  উপস্থিত ছিলেন।
ইউএনও আব্দুল্লাহ আল রিফাত জানান, চায়না দুয়ারি জাল বিলের ছোট বড় সব ধরনের মাছ ও জলজ প্রাণি ধবংস করে ফেলছে যা চলনবিলের জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কোন ছাড় নয়। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রেমিকের সঙ্গে পালানো নববধূর মরদেহ মিলল কামারখন্দ হাইওয়ের পাশে

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের পাশ থেকে এক নববধূর থেঁতলানো মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তিনি উল্লাপাড়া উপজেলার পূর্ণিমাগাতী ইউনিয়নের ফলিয়া গ্রামের আলতাফ হোসেনের মেয়ে মোছাঃ মুক্তা খাতুন (১৭)।
সোমবার (২২ জুন) সকালে উপজেলার কোনাবাড়ী মফিজ মোড় এলাকায় ঢাকাগামী লেনের পাশে স্থানীয়রা এক নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে যমুনা সেতু পশ্চিম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, নিহতের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থলের পাশে একটি লাল রঙের শাড়িও পাওয়া গেছে। এটি সড়ক দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিকভাবে প্রায় ১৫ দিন আগে মুক্তা খাতুনের বিয়ে হয়েছিল। তবে রোববার রাতে তিনি বাবার বাড়ি থেকে সিরাজগঞ্জের কড্ডা মোড় এলাকার এক প্রেমিকের সঙ্গে চলে যান। এর একদিন পর সোমবার সকালে কামারখন্দের কোনাবাড়ী মফিজ মোড় এলাকায় তার মাথা থেঁতলানো মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
বঙ্গবন্ধু পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাহের জানান, মরদেহটি মহাসড়কের পাশে পড়ে ছিল। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নিতে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে।

ধুনটে এলাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি পদে নাজমুল হকের মনোনয়ন পত্র দাখিল

বগুড়ার ধুনট  উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের এলাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের  এডহক কমিটির সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন নাজমুল হক সরকার (২২ জুন) সোমবার দুপুরে এলাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ে মিলনায়তনে।
উক্ত মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন  এলাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রউফ , সহকারী শিক্ষক ফজলুল হক,গোলাম  মোস্তফা, আব্দুল হামিদ, বিউটি রাণী ঘোষ।
এলাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন পিষ্টন, এলাঙ্গী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জি এম সম্রাট,  এলাঙ্গী ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক জিয়াউর রহমান জিয়া তালুকদার, ছাত্রদল নেতা রবিউল ইসলাম রতনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
৪০ বগুড়া -০৫ আসনের (শেরপুর – ধুনট নির্বাচনী এলাকার) মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের মনোনিত এডহক কমিটির সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র দিয়েছেন ।
এলাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের জমি দাতা সদস্য মরহুম মোজাম্মেল হকের ছেলে নাজমুল হক সরকারকে।

নীলফামারীতে চীনা নাগরিকের সঙ্গে তরুণীর বিয়ে, খতিয়ে দেখছে পুলিশ

নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে কর্মরত এক তরুণীর সঙ্গে এক চীনা নাগরিকের বিয়েকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিয়েটি নিয়ে নানা ধরনের তথ্য ও দাবি ছড়িয়ে পড়লেও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এসবের সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নীলফামারী সদর উপজেলার সংগলশী এলাকার বাসিন্দা জুয়েল হোসেনের মেয়ে মোছা. মাইশা আক্তার জুঁইয়ের সঙ্গে চীনা নাগরিক লিয়াউ জিচুনের পরিচয় হয় উত্তরা ইপিজেডে কর্মসূত্রে। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে গত ১০ জুন কোর্ট অ্যাফিডেভিটের (হলফনামা) মাধ্যমে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের আগে লিয়াউ জিচুন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নুর মোহাম্মদ নাম ধারণ করেন বলে জানা গেছে।

 

 

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১৮ জুন পারিবারিকভাবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। বিয়েতে তিন লাখ ২৫১ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় এবং নগদ পাঁচ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়।

 

 

জানা গেছে, মাইশা আক্তার জুঁই উত্তরা ইপিজেডের মেইগো বিডি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এক ব্যক্তির মাধ্যমে চীনা নাগরিকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে পারিবারিক সম্মতিতেই তাদের বিয়ে হয় বলে দাবি পরিবারের।

 

 

এদিকে, বিয়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে কনেকে মাইক্রোবাসে ওঠার সময় কান্নারত অবস্থায় দেখা যায়। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ দাবি করেন, এটি স্বাভাবিক বিয়ে নয়; বরং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অর্থের বিনিময়ে করা একটি চুক্তিভিত্তিক বিয়ে। তবে এ ধরনের দাবির পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

 

স্থানীয় বাসিন্দা লিটন ইসলাম বলেন, ‘আমার জানা মতে, তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পরিচয় ছিল। পরে তারা পারিবারিকভাবে বিয়ে করেছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের কথা শোনা যাচ্ছে।’

 

 

বিষয়টি জানতে জুঁইয়ের বাবা জুয়েল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এছাড়া নবদম্পতির বর্তমান অবস্থান সম্পর্কেও তিনি কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি।

 

 

নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, তারা কোর্ট অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে করেছেন। অর্থের বিনিময়ে চুক্তিভিত্তিক বিয়ের যে অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার হচ্ছে, সে বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

 

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবির সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

 

 

 

কামারখন্দে অজ্ঞাত এক নারীর থেঁতলানো লাশ উদ্ধার

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক নারীর থেঁতলানো মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২২ জুন) সকালে উপজেলার কোনাবাড়ী মফিজ মোড় এলাকায় ঢাকাগামী লেনের পাশে স্থানীয়রা ওই নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে বঙ্গবন্ধু পশ্চিম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, নিহত নারীর বয়স আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৫ বছর। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থলের পাশে একটি লাল রঙের শাড়ি পাওয়া গেছে।
বঙ্গবন্ধু পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাহের জানান, মহাসড়কের পাশে মাথা থেঁতলানো অবস্থায় মরদেহটি পড়ে ছিল। এটি সড়ক দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি আরও জানান, নিহতের পরিচয় শনাক্তের জন্য পিবিআইকে খবর দেওয়া হয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানালেন নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, দক্ষিণ লেবাননের বাফার জোন থেকে ইসরায়েলি সেনা আপাতত প্রত্যাহার করা হবে না। যত দিন প্রয়োজন, তত দিন সেখানে সেনা মোতায়েন থাকবে।

 

 

 

রোববার (২১ জুন) এক স্মরণসভায় তিনি এ কথা বলেন। নেতানিয়াহুর দাবি, ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করা গোষ্ঠীগুলোর ওপর চাপ অব্যাহত রাখা হবে।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, চলমান কূটনৈতিক আলোচনা যাই হোক না কেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। গত এক বছরে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে তিনি দেশের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেন।

এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজও জানান, সীমান্তবর্তী বাফার জোন থেকে ইসরায়েল সেনা সরাবে না। সীমান্ত এলাকায় সম্ভাব্য হুমকির বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানও অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে। তারা লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

সূত্র: শাফাক নিউজ

 

কুয়ালালামপুরে আনোয়ার ইব্রাহিম–তারেক রহমান বৈঠক শুরু

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষ্যে মালয়েশিয়ার পুত্রাজায়াতে অবস্থিত দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পেরদানা পুত্রা’ ভবনের চারপাশে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার পতাকা দিয়ে বর্ণাঢ্যভাবে সাজানো হয়েছে।

 

 

 

সোমবার (২২ জুন) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে নয়টার সময় পুত্রাজায়ায় সরজমিনে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

 

 

 

এদিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উচ্চ পর্যায়ের সীমিত বৈঠক শুরু হয়েছে।

এর আগে সকাল সাড়ে আটটার দিকে তারেক রহমান পুত্রাজায়ায় পৌঁছানোর পর তাকে লালা গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত ও অভিবাদন জানান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী।

 

 

পেরাদানা পুত্রা ভবনের সামনে মালয়েশিয়া মাদানী স্কয়ার যেন বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনের প্রতীক্ষায়। পরে এখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে একান্ত বৈঠক এবং দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কথা বলবেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী।

 

 

দেখা গেছে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর প্রশাসনিক কার্যালয়ে দীর্ঘ লম্বা সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার পতাকা দিয়ে।

 

 

 

মালয়েশিয়ার রাজধানী পুত্রাজায়াতে অবস্থিত। রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই ভবনটি মালয়, ইসলামিক-মুঘল এবং ইউরোপীয় স্থাপত্যের এক চমৎকার সংমিশ্রণ গঠিত, যার কেন্দ্রে রয়েছে আইকনিক সবুজ গম্বুজ।

 

 

 

পুত্রাজায়া স্কয়ারের চারপাশে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকা উড়ছে। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ভবনে যা নাম ‘পেরাদানা পুত্রা’ সেই ভবনের মালয়েশিয়ার পতাকার পাশে বাংলাদেশের পতাকা উড়ছে।

 

 

 

স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

নেত্রকোণায় স্ত্রী পারভীন আক্তারকে নির্যাতন করে হত্যার দায়ে শফিকুল ইসলাম (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

 

 

 

বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে নেত্রকোণা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ.কে.এম. এমদাদুল হক এ রায় ঘোষণা করেন।

 

 

 

এ সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মামলার অপর দুই আসামি তোরাব আলী ও সখিনা খাতুনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে বারহাট্টা উপজেলার রত্নপুর গ্রামের পারভীন আক্তারের সঙ্গে কলমাকান্দা উপজেলার ক্ষুদ্র সিধলী গ্রামের শফিকুল ইসলামের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই শফিকুল ইসলাম যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

ঘটনার এক মাস আগে শফিকুল ইসলাম পারভীনের কাছে এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয়। পরে পারভীন বাবার বাড়িতে চলে গেলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করে তাকে আবার স্বামীর বাড়িতে পাঠানো হয়।

 

 

এরপর ২০১৯ সালের ২৬ এপ্রিল গভীর রাতে পারভীনের মৃত্যুর খবর তার পরিবার জানতে পারে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে ঘরের বারান্দায় তার মরদেহ দেখতে পান। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোণা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আবু ইউসুফ বাদী হয়ে কলমাকান্দা থানায় স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও শুনানি শেষে আদালত শফিকুল ইসলামকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

 

 

 

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মো. নুরুল কবির রুবেল বলেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা। আদালত স্ত্রীকে নির্যাতন করে হত্যার দায়ে শফিকুল ইসলামকে সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছেন। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।

 

কক্সবাজারে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ, অধিকাংশ রোগী রোহিঙ্গা

কক্সবাজারে দিন দিন এইচআইভি রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবাধ যৌন সম্পর্ক, একাধিক বিয়ে, স্বাস্থ্যশিক্ষার অভাব, সচেতনতার ঘাটতি এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে অনীহার কারণে এইচআইভি সংক্রমণের হার বাড়ছে।

 

 

 

সূত্র জানায়, জেলার মোট এইচআইভি আক্রান্তদের প্রায় ৯৩ শতাংশই রোহিঙ্গা শরণার্থী, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তারা আরো জানান, রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক, সামাজিক ও পরিবেশগত চাপের পাশাপাশি কক্সবাজার এখন আরেকটি নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখোমুখি।

 

 

 

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন। এরমধ্যে কক্সবাজারেই রয়েছে প্রায় আড়াই হাজার। আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এদের মধ্যে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সংখ্যা মাত্র ১৭০ জন। বাকি অধিকাংশই উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে বসবাসরত রোহিঙ্গা।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের এআরটি (অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি) সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের বড় ঢলের পর থেকেই আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। শুধু ২০২৫ সালেই নতুন করে ২১৭ জন এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন, যাদের সবাই রোহিঙ্গা। এর আগের বছর ২০২৪ সালে শনাক্ত হয়েছিল ২১৫ জন।

 

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের বলেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর তুলনায় রোহিঙ্গাদের মধ্যে এইচআইভি আক্রান্তের হার অনেক বেশি। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়মিত কাজ করছে।

 

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যা শুধু আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আক্রান্ত মায়েদের মাধ্যমে নবজাতকদের শরীরেও ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে নতুন প্রজন্মের মধ্যেও ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

 

 

 

এইচআইভি ও এইডস বিষয়ক গবেষক অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বাস্থ্যশিক্ষার ঘাটতি রয়েছে। অনেকেই জানেন না কীভাবে এই ভাইরাস ছড়ায় বা প্রতিরোধ করা যায়। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি অসচেতন থাকলে তার মাধ্যমে আরও অনেকের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে যেতে পারে।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, আক্রান্ত মায়েদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সতর্কতা নিশ্চিত না করা হলে গর্ভাবস্থায় কিংবা জন্মের সময় শিশুর শরীরেও এইচআইভি সংক্রমিত হতে পারে।

 

 

 

কক্সবাজার এআরটি সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. মেজবাহ জানান, বর্তমানে কয়েকজন শিশু এইচআইভি পজিটিভ হিসেবে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তারা জন্মগতভাবে মায়ের কাছ থেকে ভাইরাসটি পেয়েছে। এ ধরনের সংক্রমণ রোধে ‘প্রিভেনশন অব মাদার টু চাইল্ড ট্রান্সমিশন (পিএমটিসিটি)’ কর্মসূচির আওতায় আক্রান্ত মায়েদের বিশেষ পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

 

 

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে এইচআইভি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে শুধু চিকিৎসা নয়, প্রয়োজন ব্যাপক স্বাস্থ্যশিক্ষা, সচেতনতা কার্যক্রম, নিয়মিত পরীক্ষা এবং ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ কমাতে সমন্বিত উদ্যোগ। অন্যথায় ভবিষ্যতে এটি আরও বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে রূপ নিতে পারে।

 

প্রত্যাহার হওয়া ডিসি সারওয়ারকে বহাল রাখার দাবি সিলেটে

সিলেটে মাজার ব্যবস্থাপনা ও সাম্প্রতিক একাধিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্কের পর শেষ পর্যন্ত জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে সিলেটের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।

 

 

 

এদিকে সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারের আদেশ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সিলেটের সর্বস্থরের যুব সমাজ। বিকাল ৬টায় সিলেট কোর্ট পয়েন্টে ও ডিসি অফিসের সামনে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

বক্তারা বলেন, সিলেটের স্বার্থে, সিলেটবাসীর দাবির প্রতি সম্মান দেখিয়ে ডিসি সরওয়ার আলমকে বহাল রাখতে হবে। জনমতের বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত সিলেটবাসী মেনে নেবে না।

 

গত বছরের ১৮ আগস্ট সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান মো. সারওয়ার আলম। এর আগে তিনি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের একান্ত সচিবের দায়িত্বে ছিলেন। সিলেটের সাদাপাথর লুট ও চুরির ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে তখন জেলা প্রশাসক হিসেবে তাকে পদায়ন করা হয়।

 

 

প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, দায়িত্ব পালনকালে একাধিক আলোচিত সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ ঘিরে সারওয়ার আলমের কর্মকাণ্ড নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা চলছিল। সর্বশেষ মাজার ইস্যুতে নেওয়া পদক্ষেপই জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, যার ফলে শেষ পর্যন্ত তাকে প্রত্যাহার করতে সরকার বাধ্য হয়েছে বলে ধারণা তাদের।

 

 

মাজার-ভক্ত-অনুসারীরা জানান, প্রায় ৭০০ বছর ধরে যে প্রক্রিয়ায় মাজার পরিচালিত হয়ে আসছে, সে ঐতিহ্যকে বিনষ্ট করতেই এই কাজ করা হয়েছে। যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দানবাক্সে সিলগালা করা হয়েছে, এটা মোটেও সঠিক পদ্ধতি নয়। এটা মাজার ও অলি-আউলিয়াবিরোধী কর্মকাণ্ড। হিসাব চাইতেই পারেন কেউ। কিন্তু জোরজবরদস্তি করে যেভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, সেটা ঠিক নয়।

 

 

 

সিলেট সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সভাপতি শামসুল বাসিত শেরো বলেন, কবি নজরুল অডিটোরিয়ামের মেরামতের মত সামান্য কাজ দুবছরে করতে পারেননি জেলা প্রশাসক। দুই বছরের বিদ্যুৎ বিল বাকী, নাইটগার্ডের ১৮ মাসের বেতন বাকি।

 

 

 

জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম বদলির বিষয়ে সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলনের সিলেট শাখার সমন্বয়ক আব্দুল করিম কিম কালবেলাকে বলেন, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাদাপাথর লুটের সময় তিনি লুটকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও পাথর পুনঃস্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এছাড়া র‌্যাবে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় থেকেই তিনি জনমনে পরিচিত ছিলেন।

 

 

 

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছু পদক্ষেপ বিশেষ করে দানবাক্স ও ঐতিহাসিক দানের ‘ডেগ সিলগালা’ এবং সেখানে পুলিশ ও আনসার মোতায়েন অনেকের কাছে বিতর্কিত ও অশোভন মনে হয়েছে।

 

 

 

এতে মাজার সংশ্লিষ্টদের সামাজিকভাবে হেয় করা হয়েছে এবং ঐতিহ্য ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

 

আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অবদানে জলঢাকা থানার ওসিকে  বিশেষ সম্মাননা প্রদান

জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব নাজমুল আলমকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করেছে নীলফামারী জেলা প্রশাসন। আজ রবিবার দুপুরে নীলফামারী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক জনাব নায়িরুজ্জামান তাঁর হাতে এই সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। নীলফামারী জেলার সকল থানার মধ্যে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক নিয়ন্ত্রন, চোর সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম দমন সহ সার্বিক তৎপরতায় গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রাখায় জনাব নাজমুল আলম কৃতিত্বপূর্ণ এই সম্মান অর্জন করেন।
সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার নীলফামারী, জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপী সহ নীলফামারী জেলাধীন সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জ সহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।
জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব নাজমুল আলম মর্যাদাপুর্ন এই সম্মান অর্জন জলঢাকার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশ বাহিনীকে আরও কর্মতৎপর ও উৎসাহী করে তুলবে বলে মনে করছেন জলঢাকার শান্তিপ্রিয় জনগণ।

এক স্ত্রী নিয়ে দুই স্বামীর টানাটানি! অতঃপর…

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ফুলজোড় ডিগ্রি কলেজের এক শিক্ষার্থীকে বিয়ে ঘিরে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একই নারীকে নিয়ে এক কলেজ শিক্ষকের সঙ্গে বিয়ের পর নিজেকে তার পূর্বের বৈধ স্বামী দাবি করে হাজির হয়েছেন আরেক ব্যক্তি। ঘটনাটি ঘিরে কলেজ ক্যাম্পাস, স্থানীয় এলাকা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ফুলজোড় ডিগ্রি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মনোয়ারুল ইসলাম গত ১৯ জুন একই কলেজের বিএ (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও উল্লাপাড়া উপজেলার আমডাঙ্গা গ্রামের শামছুল হক ভূঁইয়ার মেয়ে স্বর্ণা খাতুনকে বিয়ে করেন। অভিযোগ রয়েছে, কলেজে পড়াশোনার সময় তাদের মধ্যে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়, যা পরে বিয়েতে রূপ নেয়।
তবে বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর নতুন মোড় নেয় ঘটনাটি। উল্লাপাড়া উপজেলার বড়হর তেঁতুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য মো. মুরাদ হোসেন দাবি করেন, প্রায় দুই বছর আগে স্বর্ণা খাতুনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল এবং তিনি এখনও তার বৈধ স্বামী। তার অভিযোগ, স্বর্ণাকে কৌশলে অন্যত্র বিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মুরাদ হোসেন বলেন,
“স্বর্ণা আমার স্ত্রী। প্রায় দুই বছর আগে আমাদের বিয়ে হয়। এখন তাকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমি মেনে নিতে পারছি না। এতে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।”
রোববার কলেজের অফিস কক্ষে এসে কান্নাকাটি করলে শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি দ্রুত ক্যাম্পাসজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভাইরাল হয়ে যায়।
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক মো. মনোয়ারুল ইসলাম সরাসরি মন্তব্য না করে বলেন, “এসব বিষয়ে সামনাসামনি কথা বললে ভালো হয়। পরে কথা বলছি। আমার বড় ভাই আপনার সঙ্গে কথা বলবেন।”
অধ্যাপকের বড় ভাই মো. লিটন দাবি করেন, “স্বর্ণার আগে কোনো বিয়ে হয়নি। নিজেকে স্বামী দাবি করা ব্যক্তি প্রতারণার চেষ্টা করছেন। পারিবারিকভাবেই এই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। তার দাবির কোনো ভিত্তি নেই।”
ফুলজোড় ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শাহেদ আলী বলেন, “মেয়েটি অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং প্রাপ্তবয়স্ক। প্রেম করতেই পারে। বিয়ে করেছে কি না, সে বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।”
রায়গঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এলিজা সুলতানা বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বা আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়।”
এদিকে, ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা স্বর্ণা খাতুনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, মুরাদ হোসেনের দাবিকৃত পূর্ববর্তী বিয়ের কোনো নথিপত্রও তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ফলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর বৈবাহিক সম্পর্ক এবং পূর্ববর্তী বৈবাহিক দাবিকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

লেবাননে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী সক্রিয় হলে ফের হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, লেবাননে তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে অবিলম্বে ঝামেলা সৃষ্টি বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র আবারও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেবে এবং ইরানে হামলা চালাবে।

 

 

 

রোববার (২১ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ হুঁশিয়ারি দেন।

 

 

 

তিনি লেখেন, ইরানকে অবশ্যই লেবাননে তাদের উচ্চ বেতনভুক্ত প্রক্সিদের ঝামেলা সৃষ্টি করা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তারা যদি তা না করে, তাহলে আমরা ইরানকে আবারও খুব কঠোরভাবে আঘাত করবো; গত সপ্তাহের চেয়েও বেশি শক্তি দিয়ে।

লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার নতুন পর্ব শুরু হওয়ার মধ্যে ট্রাম্প এই মন্তব্য করলেন।

 

এর আগে ইরান অভিযোগ করেছিল, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের প্রথম শর্ত, সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ বাস্তবায়িত হয়নি। তেহরানের দাবি, ওয়াশিংটন ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি মানতে বাধ্য করতে ব্যর্থ হয়েছে।

 

 

বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন ইস্যু এখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অন্যতম স্পর্শকাতর বিষয়ে পরিণত হয়েছে এবং এ নিয়ে উত্তেজনা বাড়লে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অগ্রগতিও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

সূত্র : আল জাজিরা

 

মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় লালগালিচা সংবর্ধনা

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় রোববার (২১ জুন) রাত পৌনে ৯টায় প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইট কুয়ালামপুরের বুঙ্গা রায়া কমপ্লেক্সে (Bunga Raya Complex) এক্সক্লুসিভ ভিভিআইপি টার্মিনালে অবতরণ করে।

 

 

 

টার্মিনালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান এবং তার সহধর্মিণী। ছোট শিশু মাইসা নুর আইশা জুবাইদা রহমানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

 

 

 

এ সময়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী ও ডেপুটি হাই কমিশনার মিস সাহানারা মনিকা উপস্থিত ছিলেন।

 

সুসজ্জিত বাহিনীর দেওয়া গার্ড অব অনারের সময়ে ২ দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। এরপর বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রা সহকারে কুয়ালালামপুরের ‘শাংগ্রি লা’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সফরে প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিনীসহ সফরসঙ্গীরা এ হোটেলে থাকবেন।

 

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও শাংগ্রি লা হোটেল পর্যন্ত ৫০ মিনিটে সড়ক পথে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকায় সজ্জিত করা হয়।

 

 

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর মালয়েশিয়ায় প্রথম সফরে রয়েছেন তারেক রহমান।

 

 

 

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে আছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা একেএম শামসুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রমুখ।

 

 

 

তারেক রহমান সরকার গঠনের পরপরই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানান। সেই আমন্ত্রণেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক এই সফর। দক্ষিণ এশিয়ায় চীন ও ভারতের পর মালয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্য সহযোগী দেশ বাংলাদেশ। তবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে মালয়েশিয়া এগিয়ে আছে অনেক দূর। সেই মালয়েশিয়াকে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

 

 

সোমবার (২২ জুন) সকালে পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা জানাবেন।

 

 

 

সেখানে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে প্রথম একান্ত বৈঠক এবং এর পরপরই উভয় দেশের সরকারপ্রধানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেবেন দুই প্রধানমন্ত্রী। এই সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে পর্যটন ও সংস্কৃতিবিষয়ক সহযোগিতা নিয়েও দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে।

 

চাঁদাবাজির অভিযোগে এমপির ছেলেকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে

চাঁদাবাজির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে খাইরুল ইসলাম সজীবকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। সজীব নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

 

 

রোববার (২১ জুন) দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহায়তায় হেফাজতে নেওয়া হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী।

 

 

 

পুলিশ সূত্র জানায়, বিকেল ৫টার দিকে সজীবকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আনা হয়। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ পাওয়ার পর এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে সেখানে নেওয়া হয়।

 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী গণমাধ্যমকে বলেন, সজীবের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনি পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করেছেন এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বেচ্ছায় এসপি কার্যালয়ে আসেন।

 

 

পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

 

তবে অভিযোগের প্রকৃতি কিংবা মামলার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানায়নি পুলিশ। এ বিষয়ে তারেক আল মেহেদী বলেন, বিষয়টি নিয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু জানানো সম্ভব নয়।

 

 

 

এদিকে সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বার্তায় গণমাধ্যমকে জানানো হয়, খাইরুল ইসলাম সজীবকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।

 

 

 

ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হলেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সজীব বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

শাহজাদপুরে বিপুল পরিমাণ অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ‘চায়না দুয়ারি’ জাল জব্দ করা হয়েছে। পরে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের উপস্থিতিতে জব্দকৃত জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
শনিবার (২১ জুন) সকালে শাহজাদপুর থানা চত্বরে এসব জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইলোরা পারভিন, শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাইফুল ইসলাম, উপ-পরিদর্শক (এসআই) মন্তাজ উদ্দিনসহ থানার অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহজাদপুর থানার এসআই মন্তাজ উদ্দিনের নেতৃত্বে টহল পুলিশের একটি দল বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কের টেটিয়ারকান্দা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় একটি পিকআপ ভ্যান থেকে ১৬ বস্তা অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। পরে গাড়িটি থানায় নিয়ে আসা হয়।
আটক পিকআপের চালকের কাছ থেকে জানা যায়, জালগুলো পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা এলাকা থেকে বগুড়ায় নেওয়া হচ্ছিল।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, জব্দকৃত ১৬টি বস্তার মধ্যে মোট ৯৩ পিস অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল পাওয়া গেছে, যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে জালগুলো পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পিকআপের চালক ও তার সহকারীকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে পিকআপটি মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইলোরা পারভিন বলেন, চায়না দুয়ারি জাল উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ধরনের জাল ব্যবহারের ফলে দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুলিশের তৎপরতায় জালগুলো জব্দ করা সম্ভব হয়েছে এবং আমার উপস্থিতিতে সেগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। কোথাও অবৈধ চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার বা পরিবহন দেখতে পেলে দ্রুত প্রশাসন বা মৎস্য বিভাগকে জানাতে হবে।
মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সিরাজগঞ্জে একাত্তর টেলিভিশনের ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

সিরাজগঞ্জে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো দেশের জনপ্রিয় স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তর টিভির ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

 

 

রোববার (২৯ জুন) বেলা ১১টায় সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাব হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালায় সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

 

 

সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হারুন অর রশীদ খান হাসানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম ইন্নার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু।

 

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাজরান রউফ, সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মহীদুল হাসান, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. আব্দুল কাদের সেখ, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান, দৈনিক কলম সৈনিকের সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ, সিরাজগঞ্জ টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস হাসান, সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হেলাল আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টু, ফজল-এ-খোদা লিটন, সাবেক সহ-সভাপতি এস এম তফিজ উদ্দিন, বর্তমান সহ-সভাপতি হীরক গুণ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও যমুনা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার গোলাম মোস্তফা রুবেল, অর্থ সম্পাদক নয়াদিগন্তের রিপোর্টার নূরুল ইসলাম রইসী, বর্ণিক বার্তার রিপোর্টার অশোক ব্যানার্জী, সময় টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার রিংকু কুণ্ডু প্রমুখ।

 

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন একাত্তর টিভির সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ও সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ দেওয়ান রাজু।

 

 

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, একাত্তর টেলিভিশন প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বস্তুনিষ্ঠ, সাহসী ও জনমুখী সাংবাদিকতার মাধ্যমে দেশের গণমাধ্যমে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে চ্যানেলটি দর্শকদের আস্থা অর্জন করেছে এবং দেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। পাশাপাশি বস্তুনিষ্ঠ ও মানবিক সংবাদ পরিবেশনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

 

 

প্রধান অতিথি সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, একাত্তর টেলিভিশন দেশের মানুষের কথা তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় করতে একাত্তর টেলিভিশন ভবিষ্যতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

 

 

আলোচনা শেষে অতিথিরা একাত্তর টিভির প্রতিনিধিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান পুলিশ প্রশসান, রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা ও শিক্ষাবিদগণ এবং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘায়ু ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। পরে ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ১৪ পাউন্ডের কেক কর্তনের মধ্যদিয়ে আয়োজনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

 

 

 

“প্রাণের খোঁজে বিশ্বময়” এর উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ, আবৃত্তি-চিত্রাঙ্কন রচনা প্রতিযোগিতা

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সিরাজগঞ্জে গাছের চারা বিতরণ, পরিবেশের ওপরে কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, রচনা প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

রোববার (২১জুন) সকালে শহরের শিল্পকলা একাডেমী অডিটোরিয়ামে পরিবেশবাদী সংগঠন “প্রানের খোঁজে বিশ্বময়” এর আয়োজনে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু।

 

প্রানের খোঁজে বিশ্বময়’র সভাপতি ও রবীন্দ্র বিশ্ব বিদ্যালয় বাংলাদেশ এর বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক লায়লা ফেরদৌস হিমেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল হামিদ সরকার, সিরাজগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তুহিন আলম, অ্যাডভোকেট মাহবুব-এ-খোদা টুটল, জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত বৃক্ষপ্রেমী মাহবুব পলাশ প্রমূখ।

 

 

অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সবশেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

পেটানোর পর বৈদ্যুতিক শক দিয়ে যুবককে হত্যা, প্রতিবাদে পুলিশের গাড়ি ঘেরাও

চুরির অভিযোগে এক যুবককে পেটানোর পর বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

 

 

রোববার (২১ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠ সংলগ্ন রেলওয়ে পাবলিক হাইস্কুলের গেটের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করতে গেলে পুলিশের গাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ জনতা।

 

 

নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

 

ঘটনার খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধারে গেলে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের গাড়ি অবরোধ করে রাখে। এ সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

কোতোয়ালি থানার ওসি জায়েদ নূর বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি উদঘাটনে তদন্ত চলছে।পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

জাতীয় কবির ভাবনা-দর্শন ছড়িয়ে দিতে ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের উদ্যোগ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টি, সাহিত্যকর্ম ও মানবিক দর্শন নতুন প্রজন্মের মাঝে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে এক বছরের জন্য ‘নজরুল বর্ষ’ পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

 

 

রোববার (২১ জুন) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ২৫ মে থেকে আগামী বছরের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে পালন করা হবে।

 

 

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টি ও দর্শন নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা ২৫ মে ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। এ সময়জুড়ে কবির জীবন, কর্ম ও দর্শনভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সরকারের এ উদ্যোগের মাধ্যমে জাতীয় কবির সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অবদান নতুনভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে তার মানবতাবাদী ও বিদ্রোহী চেতনার সঙ্গে পরিচিত করার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জলঢাকায় টেন্ডার ছাড়াই সরকারি গাছ কর্তনের অভিযোগ

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় সামাজিক বনায়নের গাছ নিয়মবহির্ভূতভাবে কর্তন ও আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. জোবায়ের আলমের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি প্রদীপ কুমার রায়কে ব্যবহার করে উপজেলার বিভিন্ন স্থানের সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে উপজেলার কৈমারী-দোলাপাড়া এলাকায় ২ হাজার ১০০ মিটার সড়ক উন্নয়ন কাজে প্রায় ২ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ৭৩৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল গত ১২ মে ২০২৬। তবে সড়কের পাশে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় রোপণ করা বেশ কয়েকটি বৃহদাকৃতির ইউক্যালিপটাস গাছ থাকায় সেগুলো অপসারণের প্রয়োজন দেখা দেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি বিধি অনুযায়ী গাছগুলো নিলাম ও টেন্ডারের মাধ্যমে অপসারণের কথা থাকলেও সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বন বিভাগ কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রদীপ কুমার রায়ের মাধ্যমে  গাছগুলো কর্তন করে। পরে গাছগুলো অন্যত্র সরিয়ে বিক্রির পাঁয়তারা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির সদস্য ধীরেন্দ্র অধিকারী বলেন, “আমরা এই বাগানের সদস্য। কিন্তু গাছ নিলাম বা কর্তনের বিষয়ে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি। প্রদীপ যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন,সেভাবেই গাছ কর্তন হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক সদস্য বলেন, “এ বিষয়ে কিছু বলতে গেলে ভয়ভীতি ও মারধরের আশঙ্কা থাকে। তাই কেউ মুখ খুলতে চায় না।”
এদিকে গাছ অপসারণে ব্যবহৃত স্কেভেটর মেশিনের পরিচালক জানান, প্রদীপ কুমার রায়ের নির্দেশেই তারা গাছগুলো কেটেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে প্রদীপ কুমার রায় বলেন, “আমার কোনো দোষ নেই।  জলঢাকা বন বিভাগ কর্মকর্তা  আমাকে যে নির্দেশনা দিয়েছে, আমি সে অনুযায়ী কাজ করেছি।”
উপজেলা প্রকৌশলী মো. তারিকুজ্জামান বলেন, “আমরা অনেক আগেই বন বিভাগকে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে আমাদের করার কিছু নেই।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. জোবায়ের আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে স্থান ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা শাহিকুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সামাজিক বনায়নের গাছ কর্তন ও বিক্রির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।