সিরাজগঞ্জ , রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রেষ্টুরেন্টে কিশোরী ধর্ষণের চিৎকার আড়াল করতে বাজানো হচ্ছিল গান

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০৮:১৫:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩৬০ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে রেষ্টুরেন্টের মধ্যে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় নির্যাতিত কিশোরীর চিৎকার যাতে বাইরে না যায়, সে জন্য জোরে জোরে গান বাজাচ্ছিল ধর্ষনকারী যুবকের বন্ধুরা।

পাশবিক নির্যাতনে গুরুতর আহত ওই কিশোরী শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সোমবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে তার অস্ত্রপাচার সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। নির্যাতিত কিশোরী উপজেলার কর্ণসূতি গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ছাত্রী।

এর আগে রোববার (১৯ অক্টোবর) দুপুরের দিকে কামারখন্দের জামতৈল রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় ডেরা ফাস্টফুড এন্ড চাইনিজ রেষ্টুরেন্টে এ ঘটনা ঘটে।

কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল লতিফ বলেন, কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। আমরা তদন্ত শুরু করেছি এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।

কামারখন্দ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বাবুল আক্তার ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, রোববার সকালে বাড়ি থেকে মাদ্রাসায় যায় ওই কিশোরী। মাদরাসা থেকে কলম কেনার জন্য বাইরে বের হলে ৬/৭ জন যুবক তাকে জোরপূর্বক সিএনজি চালিত অটোরিকশায় তুলে জামতৈল স্টেশনের পাশে সেন্ট্রাল পার্কের পাশে ডেরা ফাস্টফুড এন্ড চাইনিজ রেষ্টুরেন্টে নিয়ে যায়। সেখানে কিশোরীকে এক যুবক জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। বাকিরা জোরে জোরে গান বাজাতে থাকে, যাতে কিশোরীর চিৎকার বাইরে না যায়। এক পর্যায়ে কিশোরী অসুস্থ্য হয়ে পড়লে ধর্ষক ও তার বন্ধুরা তাকে সিরাজগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপর ভিকটিমের পরিবার বিষয়টি জানতে পারলে তারা পালিয়ে যায়। বর্তমানে ভিকটিম শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এ. টি. এম. নুরুজ্জামান বলেন, রোববার রাতে ওই কিশোরী হাসপাতালে ভর্তি হয়। তার বিশেষ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আজ অস্ত্রপাচারের মাধ্যমে সেটি ঠিক করা হয়েছে। বর্তমানে কিশোরী অনেকটা সুস্থ্য রয়েছে। তবে হাসপাতালের খাতায় ওই কিশোরীকে উল্লাপাড়া উপজেলার বাসিন্দা বলে পরিচয় লেখা হয়েছে।

মামলার তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া কর্মকর্তা এসআই রতন কুমার সাহা বলেন, আমরা তদন্ত শুরু করেছি। ঘটনাস্থল ডেরা ফাস্টফুড এন্ড চাইনিজ রেষ্টুরেন্টকে ক্রামই সিন হিসেবে চিহ্নিত করে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

90
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

One thought on “রেষ্টুরেন্টে কিশোরী ধর্ষণের চিৎকার আড়াল করতে বাজানো হচ্ছিল গান

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রেষ্টুরেন্টে কিশোরী ধর্ষণের চিৎকার আড়াল করতে বাজানো হচ্ছিল গান

আপডেট টাইম : ০৮:১৫:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে রেষ্টুরেন্টের মধ্যে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় নির্যাতিত কিশোরীর চিৎকার যাতে বাইরে না যায়, সে জন্য জোরে জোরে গান বাজাচ্ছিল ধর্ষনকারী যুবকের বন্ধুরা।

পাশবিক নির্যাতনে গুরুতর আহত ওই কিশোরী শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সোমবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে তার অস্ত্রপাচার সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। নির্যাতিত কিশোরী উপজেলার কর্ণসূতি গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ছাত্রী।

এর আগে রোববার (১৯ অক্টোবর) দুপুরের দিকে কামারখন্দের জামতৈল রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় ডেরা ফাস্টফুড এন্ড চাইনিজ রেষ্টুরেন্টে এ ঘটনা ঘটে।

কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল লতিফ বলেন, কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। আমরা তদন্ত শুরু করেছি এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।

কামারখন্দ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বাবুল আক্তার ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, রোববার সকালে বাড়ি থেকে মাদ্রাসায় যায় ওই কিশোরী। মাদরাসা থেকে কলম কেনার জন্য বাইরে বের হলে ৬/৭ জন যুবক তাকে জোরপূর্বক সিএনজি চালিত অটোরিকশায় তুলে জামতৈল স্টেশনের পাশে সেন্ট্রাল পার্কের পাশে ডেরা ফাস্টফুড এন্ড চাইনিজ রেষ্টুরেন্টে নিয়ে যায়। সেখানে কিশোরীকে এক যুবক জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। বাকিরা জোরে জোরে গান বাজাতে থাকে, যাতে কিশোরীর চিৎকার বাইরে না যায়। এক পর্যায়ে কিশোরী অসুস্থ্য হয়ে পড়লে ধর্ষক ও তার বন্ধুরা তাকে সিরাজগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপর ভিকটিমের পরিবার বিষয়টি জানতে পারলে তারা পালিয়ে যায়। বর্তমানে ভিকটিম শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এ. টি. এম. নুরুজ্জামান বলেন, রোববার রাতে ওই কিশোরী হাসপাতালে ভর্তি হয়। তার বিশেষ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আজ অস্ত্রপাচারের মাধ্যমে সেটি ঠিক করা হয়েছে। বর্তমানে কিশোরী অনেকটা সুস্থ্য রয়েছে। তবে হাসপাতালের খাতায় ওই কিশোরীকে উল্লাপাড়া উপজেলার বাসিন্দা বলে পরিচয় লেখা হয়েছে।

মামলার তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া কর্মকর্তা এসআই রতন কুমার সাহা বলেন, আমরা তদন্ত শুরু করেছি। ঘটনাস্থল ডেরা ফাস্টফুড এন্ড চাইনিজ রেষ্টুরেন্টকে ক্রামই সিন হিসেবে চিহ্নিত করে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।