জার্মানির একটি অপেশাদার ক্লাবের ফুটবলারের বিরুদ্ধে সতীর্থকে বিষ প্রয়োগ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তদন্তের পর ৩৫ বছর বয়সী মারিয়াস ভি নামের ওই ফুটবলারকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
জার্মান পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুনে ড্রেসড্রেনে ক্লাবের দলীয় ভ্রমণের সময় ঘটনাটি ঘটে। ক্লাব টুএস ১৯১২ রকেনবার্গের খেলোয়াড়রা মৌসুমের শেষাংশের ছুটি কাটাতে সেখানে গিয়েছিলেন। ভ্রমণের সময় তারা হাইকিং ও বোট রাইডসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন।
তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনের মাঝামাঝি ওই সফরেই ৩০ বছর বয়সী ফিলিপ এলকের খাবারে বিষাক্ত পদার্থ মেশানো হয়। পরে রকেনবার্গে ফিরে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।
চিকিৎসকদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে গত বছরের ১৬ জুন, নিজের ৩১তম জন্মদিনের ঠিক আগে মারা যান ফিলিপ। শুরুতে তার মৃত্যুকে খাদ্যে বিষক্রিয়া কিংবা সামুদ্রিক মাছ খাওয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে গিসেন ইনস্টিটিউট অব ফরেনসিক মেডিসিনের ময়নাতদন্ত ও টক্সিকোলজি রিপোর্টের পর ভিন্ন তথ্য সামনে আসে।
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে বিষ প্রবেশের কারণেই সেপটিক মাল্টিপল অর্গান ফেইলিওর হয়ে ফিলিপের মৃত্যু হয়েছে। এরপর ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত শুরু করে কর্তৃপক্ষ।
তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা প্রতিশোধের কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে। জার্মান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই সতীর্থের মধ্যে ব্যক্তিগত কোনো বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব ছিল। তবে ঠিক কী কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে কিংবা কোন ধরনের বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে বলে জানিয়েছে আদালত।
প্রধান প্রসিকিউটর থমাস হাউবার্গার ঘটনাটিকে অত্যন্ত বিরল উল্লেখ করে বলেন, বিষ প্রয়োগ করে হত্যা খুবই অস্বাভাবিক। তার পেশাগত জীবনে এমন মামলার মুখোমুখি আগে কখনো হননি বলেও জানান তিনি।
এদিকে সতীর্থের মৃত্যুর এক বছরের বেশি সময় পর গ্রেপ্তারের ঘটনায় ক্লাবটি আবারও শোক ও হতাশা প্রকাশ করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, গত বছর দলের একজন সতীর্থের আকস্মিক মৃত্যুর পর সাম্প্রতিক এই ঘটনায় তারা আবারও বাকরুদ্ধ। ঘটনার সত্য উদ্ঘাটনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপরই এখন তাদের ভরসা।

ক্রীড়া ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম। 
























