সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অফিস সহায়ক দিয়ে প্রশাসকের বাসার কাজ, ‘না গেলে চাকরি হারানোর হুমকি’

নড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকি দাস। ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভার অফিস সহায়ক রিতা রানী ও নাসিমা বেগম। দাপ্তরিক কাজে পৌরসভায় সহায়তা করার কথা তাদের। অভিযোগ, সেই দায়িত্বের বাইরে গিয়ে তাদের দিয়ে নিয়মিত ও মাঝেমধ্যে পৌর প্রশাসকের ব্যক্তিগত বাসার কাজ করানো হচ্ছে।

 

 

 

 

অভিযোগ রয়েছে, নড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকি দাসের বাসায় কাজ করতে যেতে হয় রিতা রানীকে। অনিচ্ছা প্রকাশ করলে চাকরি হারানোর ভয় দেখানো হয়। এ হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার ফিরোজ আহমেদের বিরুদ্ধে।

 

 

 

 

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে নড়িয়া পৌরসভা কার্যালয়ে গিয়ে রিতা রানীকে পাওয়া যায়নি। পৌরসভার একাধিক কর্মচারী জানান, প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে অফিসে এসে হাজিরা দেন রিতা। এরপর চলে যান পৌর প্রশাসকের বাসায়। সেখানে কাজ শেষে দুপুর ১টার দিকে আবার অফিসে ফেরেন।

পরে দুপুর ১টার দিকে রিতা রানীকে পৌরসভা কার্যালয়ে ঢুকতে দেখা যায়। এ সময় তার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, প্রশাসকের বাসা থেকেই কাজ করে ফিরেছেন।

 

 

 

সপ্তাহে কত দিন বাসায় যেতে হয়, জানতে চাইলে রিতা বলেন, ‘প্রতিদিনই যেতে হয়। না গেলে চাকরি থাকবে না।’

 

 

 

পৌরসভার কয়েকজন কর্মচারীর অভিযোগ, শুধু রিতা নন, আরেক অফিস সহায়ক নাসিমা বেগমকেও মাঝেমধ্যে প্রশাসকের বাসায় কাজ করতে যেতে হয়। কখনো কখনো দুজনকেই একসঙ্গে পাঠানো হয়।

 

 

 

 

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পৌরসভার এক কর্মচারী বলেন, প্রতিদিন রিতাকে বাসায় কাজের জন্য পাঠানো হয়। যেতে না চাইলে চাকরি চলে যাওয়ার ভয় দেখানো হয়। মাঝে মাঝে রিতা ও নাসিমা দুজনকেই বাসায় যেতে হয়।

 

 

 

 

ওই কর্মচারীর দাবি, একজন অফিস সহায়ক দিনের বড় একটি সময় পৌর কার্যালয়ের বাইরে থাকায় দাপ্তরিক কাজে অন্য কর্মচারীদের ওপরও চাপ বাড়ছে।

 

 

 

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার ফিরোজ আহমেদ ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তবে তিনি বলেন, পৌর প্রশাসক লাকি দাস ছোট একটি মেয়েকে নিয়ে একা থাকেন। তার বাসায় স্থায়ী কাজের লোক থাকলেও মাঝেমধ্যে রিতা তার মেয়েকে দেখাশোনার জন্য সেখানে যান।

 

 

 

 

ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘উনার (লাকি দাস) অনুরোধে আমি পাঠাই।’

 

 

 

 

তবে রিতা ও নাসিমাকে বাসার কাজে পাঠানো এবং না গেলে চাকরি চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। অভিযোগ করে ফিরোজ বলেন, ‘পৌর প্রশাসকের জন্য কিছু করলেও তিনি সন্তুষ্ট হন না, বরং আরও কিছু চান।

 

 

 

 

অভিযোগের বিষয়ে নড়িয়া পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকি দাসের সঙ্গে কথা হলে তিনি পৌরসভার কর্মীদের বাসায় নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।

 

 

 

 

লাকি দাস বলেন, ‘আমি ছোট একটা বাচ্চা নিয়ে একা থাকি। আমার বাসায় স্থায়ী কাজের লোক রয়েছে। তবে মাঝে মধ্যে রিতাকে আমার মেয়েকে একটু রাখার জন্য বাসায় পাঠাই।’

 

 

 

 

পৌরসভার অফিস সহায়ককে ব্যক্তিগত বাসার কাজে পাঠানো যায় কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা আমি পারি না। তবে মাঝে মধ্যে বাধ্য হয়ে নিতে হয়।’

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘এটি একটি ছোট বিষয়। তাকে আর বাসায় নেব না।’

 

 

 

 

বিষয়টি নিয়ে নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল কাইয়ুম খানের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি মানবিক দিক থেকে দেখতে হবে। লাকি দাস একা থাকেন এবং তার ছোট মেয়ে রয়েছে।

 

 

 

 

তবে পৌরসভা তার অধীন নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরাসরি কিছু বলতে চান না। একই সঙ্গে তিনি জানান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে লাকি দাস তার সহকর্মী। তাই এ ধরনের কাজ যেন তিনি আর না করেন, সেটি তাকে জানাবেন।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অফিস সহায়ক দিয়ে প্রশাসকের বাসার কাজ, ‘না গেলে চাকরি হারানোর হুমকি’

আপডেট টাইম : ১১:০২:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভার অফিস সহায়ক রিতা রানী ও নাসিমা বেগম। দাপ্তরিক কাজে পৌরসভায় সহায়তা করার কথা তাদের। অভিযোগ, সেই দায়িত্বের বাইরে গিয়ে তাদের দিয়ে নিয়মিত ও মাঝেমধ্যে পৌর প্রশাসকের ব্যক্তিগত বাসার কাজ করানো হচ্ছে।

 

 

 

 

অভিযোগ রয়েছে, নড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকি দাসের বাসায় কাজ করতে যেতে হয় রিতা রানীকে। অনিচ্ছা প্রকাশ করলে চাকরি হারানোর ভয় দেখানো হয়। এ হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার ফিরোজ আহমেদের বিরুদ্ধে।

 

 

 

 

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে নড়িয়া পৌরসভা কার্যালয়ে গিয়ে রিতা রানীকে পাওয়া যায়নি। পৌরসভার একাধিক কর্মচারী জানান, প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে অফিসে এসে হাজিরা দেন রিতা। এরপর চলে যান পৌর প্রশাসকের বাসায়। সেখানে কাজ শেষে দুপুর ১টার দিকে আবার অফিসে ফেরেন।

পরে দুপুর ১টার দিকে রিতা রানীকে পৌরসভা কার্যালয়ে ঢুকতে দেখা যায়। এ সময় তার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, প্রশাসকের বাসা থেকেই কাজ করে ফিরেছেন।

 

 

 

সপ্তাহে কত দিন বাসায় যেতে হয়, জানতে চাইলে রিতা বলেন, ‘প্রতিদিনই যেতে হয়। না গেলে চাকরি থাকবে না।’

 

 

 

পৌরসভার কয়েকজন কর্মচারীর অভিযোগ, শুধু রিতা নন, আরেক অফিস সহায়ক নাসিমা বেগমকেও মাঝেমধ্যে প্রশাসকের বাসায় কাজ করতে যেতে হয়। কখনো কখনো দুজনকেই একসঙ্গে পাঠানো হয়।

 

 

 

 

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পৌরসভার এক কর্মচারী বলেন, প্রতিদিন রিতাকে বাসায় কাজের জন্য পাঠানো হয়। যেতে না চাইলে চাকরি চলে যাওয়ার ভয় দেখানো হয়। মাঝে মাঝে রিতা ও নাসিমা দুজনকেই বাসায় যেতে হয়।

 

 

 

 

ওই কর্মচারীর দাবি, একজন অফিস সহায়ক দিনের বড় একটি সময় পৌর কার্যালয়ের বাইরে থাকায় দাপ্তরিক কাজে অন্য কর্মচারীদের ওপরও চাপ বাড়ছে।

 

 

 

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার ফিরোজ আহমেদ ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তবে তিনি বলেন, পৌর প্রশাসক লাকি দাস ছোট একটি মেয়েকে নিয়ে একা থাকেন। তার বাসায় স্থায়ী কাজের লোক থাকলেও মাঝেমধ্যে রিতা তার মেয়েকে দেখাশোনার জন্য সেখানে যান।

 

 

 

 

ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘উনার (লাকি দাস) অনুরোধে আমি পাঠাই।’

 

 

 

 

তবে রিতা ও নাসিমাকে বাসার কাজে পাঠানো এবং না গেলে চাকরি চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। অভিযোগ করে ফিরোজ বলেন, ‘পৌর প্রশাসকের জন্য কিছু করলেও তিনি সন্তুষ্ট হন না, বরং আরও কিছু চান।

 

 

 

 

অভিযোগের বিষয়ে নড়িয়া পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকি দাসের সঙ্গে কথা হলে তিনি পৌরসভার কর্মীদের বাসায় নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।

 

 

 

 

লাকি দাস বলেন, ‘আমি ছোট একটা বাচ্চা নিয়ে একা থাকি। আমার বাসায় স্থায়ী কাজের লোক রয়েছে। তবে মাঝে মধ্যে রিতাকে আমার মেয়েকে একটু রাখার জন্য বাসায় পাঠাই।’

 

 

 

 

পৌরসভার অফিস সহায়ককে ব্যক্তিগত বাসার কাজে পাঠানো যায় কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা আমি পারি না। তবে মাঝে মধ্যে বাধ্য হয়ে নিতে হয়।’

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘এটি একটি ছোট বিষয়। তাকে আর বাসায় নেব না।’

 

 

 

 

বিষয়টি নিয়ে নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল কাইয়ুম খানের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি মানবিক দিক থেকে দেখতে হবে। লাকি দাস একা থাকেন এবং তার ছোট মেয়ে রয়েছে।

 

 

 

 

তবে পৌরসভা তার অধীন নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরাসরি কিছু বলতে চান না। একই সঙ্গে তিনি জানান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে লাকি দাস তার সহকর্মী। তাই এ ধরনের কাজ যেন তিনি আর না করেন, সেটি তাকে জানাবেন।