ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে জাকার্তায় ব্যস্ততম সোয়েকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কয়েক ঘণ্টার জন্য সব ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
ইন্দোনেশিয়ার জিওলজিক্যাল এজেন্সি জানিয়েছে, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) থেকেই সুন্দা প্রণালিতে অবস্থিত আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরিতে অস্বাভাবিক কার্যকলাপের লক্ষণ দেখা গিয়েছে। পরে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোর ৩টা ৫৩ মিনিটে প্রায় ৩০ সেকেন্ড ধরে আগ্নেয়গিরিটিতে অগ্ন্যুৎপাত হয়। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। খবর এবিসি নিউজের।
খবরে বলা হয়, অগ্ন্যুৎপাতের পর আগ্নেয় ছাই রাজধানী জাকার্তা এবং সুমাত্রা দ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তের লামপুং প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ইন্দোনেশিয়ার সেন্টার ফর ভলক্যানোলজি অ্যান্ড জিওলজিক্যাল হ্যাজার্ড মিটিগেশন এ তথ্য জানিয়েছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, অগ্ন্যুৎপাতের কার্যক্রম বেড়ে যাওয়ায় সোয়েকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টা থেকে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
দেশটির ব্যস্ততম এই বিমানবন্দরে ফ্লাইট বাতিল হওয়ার পর যাত্রীরা অর্থ ফেরত নেওয়া এবং চেক-ইন করা লাগেজ ফেরত পেতে ভিড় করেন। এ সময় বিমানবন্দরের প্রস্থানসংক্রান্ত ডিসপ্লে বোর্ডে একের পর এক বাতিল হওয়া ফ্লাইটের তালিকা বাড়তে দেখা যায়।
ইন্দোনেশিয়ার আগ্নেয়গিরিবিষয়ক সংস্থা এবং অস্ট্রেলিয়ার ডারউইন ভলক্যানিক অ্যাশ অ্যাডভাইজরি সেন্টার স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে দুটি আগ্নেয় ছাইয়ের মেঘ শনাক্ত করেছে।
এর মধ্যে একটি ছাইয়ের মেঘ ২০ হাজার ফুট বা ৬ হাজার ১০০ মিটার উচ্চতায় উঠে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। এতে জাকার্তা, বানতেন, পশ্চিম জাভা এবং আশপাশের জলসীমার বিভিন্ন এলাকা প্রভাবিত হয়েছে।
অন্য ছাইয়ের মেঘটি ৫০ হাজার ফুট বা ১৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় পৌঁছেছে। এটি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বানতেন, লামপুং ও বেংকুলু প্রদেশের বিভিন্ন এলাকা, দক্ষিণ সুন্দা প্রণালি এবং সুমাত্রার পশ্চিমে ভারত মহাসাগরের কিছু অংশ ঢেকে ফেলেছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনায় এখনো কাউকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। আগ্নেয়গিরিটির কাছের জনবসতি ১৬ কিলোমিটার বা ১০ মাইলের বেশি দূরে।
তবে সতর্কতার অংশ হিসেবে বাসিন্দা ও পর্যটকদের আগ্নেয়গিরির সক্রিয় জ্বালামুখ থেকে অন্তত ৩ কিলোমিটার বা ১ দশমিক ৯ মাইল দূরে থাকতে বলা হয়েছে।
আনাক ক্রাকাতাউ ইন্দোনেশিয়ার জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মধ্যবর্তী সুন্দা প্রণালিতে অবস্থিত একটি আগ্নেয় দ্বীপ।
এর আগে ২০১৮ সালে আনাক ক্রাকাতাউয়ের বিস্ফোরণজনিত ধসের কারণে সৃষ্ট সুনামিতে সুমাত্রা ও জাভা দ্বীপে অন্তত ৪৩০ জন নিহত হয়েছিলেন।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম 





















One thought on “আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, জাকার্তার প্রধান বিমানবন্দরে ফ্লাইট স্থগিত”