সিরাজগঞ্জ , রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

একজন সংসদ সদস্য কী কী সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন

ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে নতুন সংসদ গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নতুন সরকারের সংসদ সদস্যরা আগামী মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) শপথ নিতে যাচ্ছেন। এরপর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান।

 

 

বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ সদস্যরা (এমপি) শুধু আইন প্রণয়ন ও জনগণের প্রতিনিধিত্বই করেন না, রাষ্ট্র তাদের জন্য নির্ধারণ করেছে সম্মানী-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার একটি বিস্তৃত কাঠামো।

 

 

এসব সুবিধা নির্ধারিত হয়েছে ‘সংসদ সদস্য (পারিশ্রমিক ও ভাতা) আদেশ, ১৯৭৩’ অনুযায়ী, যা সময় সময় সংশোধনের মাধ্যমে হালনাগাদ করা হয়েছে। নিচে আইনি কাঠামো থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এমপিদের প্রাপ্ত প্রধান সুবিধাগুলো তুলে ধরা হলো—

 

মাসিক সম্মানী

সংসদ সদস্যরা মাসিক ৫৫ হাজার টাকা হারে সম্মানী পান। এটি তাদের মূল পারিশ্রমিক, যা পুরো দায়িত্বকালজুড়েই প্রযোজ্য।

 

নির্বাচনী এলাকা ভাতা

সংসদ সদস্যরা নির্বাচনী এলাকায় কাজ পরিচালনা, জনসংযোগ ও সাংগঠনিক তৎপরতার জন্য পান মাসিক ১২ হাজার ৫০০ টাকা।

 

আপ্যায়ন ভাতা

অতিথি আপ্যায়ন, সামাজিক যোগাযোগ ইত্যাদির জন্য সংসদ সদস্যরা মাসিক পাঁচ হাজার টাকা ভাতা নির্ধারিত।

 

শুল্কমুক্ত গাড়িসুবিধা

সংসদ সদস্যদের একটি বড় সুবিধা হলো—দায়িত্বকালীন একটি গাড়ি/জিপ/মাইক্রোবাস; কাস্টমস ডিউটি, ভ্যাট, ডেভেলপমেন্ট সারচার্জ ও আমদানি পারমিট ফি ছাড়া আমদানির সুযোগ এবং পাঁচ বছর পর একই শর্তে আরেকটি নতুন গাড়ি আমদানির সুযোগ।

 

পরিবহন ভাতা

যাতায়াত, জ্বালানি, গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতন মিলিয়ে এমপিরা মাসিক ৭০ হাজার টাকা পরিবহন ভাতা পান।

 

অফিস ব্যয় ভাতা

নির্বাচনী এলাকায় অফিস পরিচালনার জন্য মাসিক ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

 

লন্ড্রি ও আনুষঙ্গিক ভাতা

সংসদ সদস্যরা প্রতি মাসে লন্ড্রি ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং অন্যান্য ব্যয় (রান্নার সরঞ্জাম, লিনেন, টয়লেট্রিজ) ছয় হাজার টাকা।

 

ভ্রমণ ভাতা (সেশন ও কমিটি)

সংসদ অধিবেশন বা কমিটির বৈঠকে অংশ নিতে—বিমান/রেল/জাহাজে সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড় গুণ পর্যন্ত ভাতা এবং সড়কপথে ভ্রমণে কিলোমিটার প্রতি ১০ টাকা পান।

 

দৈনিক ভাতা

দায়িত্ব পালনের সময় অবস্থান ভাতা—দৈনিক ভাতা ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং যাতায়াত ভাতা ৭৫ থেকে ২০০ টাকা (উপস্থিতি রেকর্ডভিত্তিক) পান।

 

দেশে অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ

প্রতি বছর সংসদ সদস্যরা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ভ্রমণ-ভাতা অথবা সমপরিমাণের নন-ট্রান্সফারেবল ট্রাভেল পাস পান।

 

চিকিৎসা সুবিধা

সংসদ সদস্যরা ও তাদের পরিবার সদস্যরা প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তাদের সমমানের চিকিৎসা-সুবিধা এবং মাসিক ৭০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান।

 

টেলিফোন সুবিধা

বাসভবনে সরকারি খরচে টেলিফোন সংযোগ এবং কল ও ভাড়া বাবদ মাসিক ৭ হাজার ৮০০ টাকা পান।

 

বিমা-সুবিধা

দায়িত্বকালীন দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে ১০ লাখ টাকার বিমা-সুবিধা পান।

 

ঐচ্ছিক অনুদান

জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয়ের জন্য বছরে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ পান।

 

কর সুবিধা

এই আদেশ অনুযায়ী প্রাপ্ত ভাতাগুলো আয়করমুক্ত।

 

প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব বনাম রাষ্ট্রীয় সুবিধা

আইন অনুযায়ী এই সুবিধাগুলো সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে সহায়তা, নির্বাচনী এলাকায় উপস্থিতি নিশ্চিত করা, গণসংযোগ জোরদার এবং প্রশাসনিক কাজ সহজ করার উদ্দেশ্যে নির্ধারিত।

 

 

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভাতার পরিমাণ, সুবিধার পরিধি ও জবাবদিহি নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে, বিশেষ করে স্বচ্ছতা, কার্যকারিতা ও জনসেবার সঙ্গে সুবিধার সামঞ্জস্য নিয়ে।

93
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

একজন সংসদ সদস্য কী কী সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন

আপডেট টাইম : ১০:৫৮:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে নতুন সংসদ গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নতুন সরকারের সংসদ সদস্যরা আগামী মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) শপথ নিতে যাচ্ছেন। এরপর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান।

 

 

বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ সদস্যরা (এমপি) শুধু আইন প্রণয়ন ও জনগণের প্রতিনিধিত্বই করেন না, রাষ্ট্র তাদের জন্য নির্ধারণ করেছে সম্মানী-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার একটি বিস্তৃত কাঠামো।

 

 

এসব সুবিধা নির্ধারিত হয়েছে ‘সংসদ সদস্য (পারিশ্রমিক ও ভাতা) আদেশ, ১৯৭৩’ অনুযায়ী, যা সময় সময় সংশোধনের মাধ্যমে হালনাগাদ করা হয়েছে। নিচে আইনি কাঠামো থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এমপিদের প্রাপ্ত প্রধান সুবিধাগুলো তুলে ধরা হলো—

 

মাসিক সম্মানী

সংসদ সদস্যরা মাসিক ৫৫ হাজার টাকা হারে সম্মানী পান। এটি তাদের মূল পারিশ্রমিক, যা পুরো দায়িত্বকালজুড়েই প্রযোজ্য।

 

নির্বাচনী এলাকা ভাতা

সংসদ সদস্যরা নির্বাচনী এলাকায় কাজ পরিচালনা, জনসংযোগ ও সাংগঠনিক তৎপরতার জন্য পান মাসিক ১২ হাজার ৫০০ টাকা।

 

আপ্যায়ন ভাতা

অতিথি আপ্যায়ন, সামাজিক যোগাযোগ ইত্যাদির জন্য সংসদ সদস্যরা মাসিক পাঁচ হাজার টাকা ভাতা নির্ধারিত।

 

শুল্কমুক্ত গাড়িসুবিধা

সংসদ সদস্যদের একটি বড় সুবিধা হলো—দায়িত্বকালীন একটি গাড়ি/জিপ/মাইক্রোবাস; কাস্টমস ডিউটি, ভ্যাট, ডেভেলপমেন্ট সারচার্জ ও আমদানি পারমিট ফি ছাড়া আমদানির সুযোগ এবং পাঁচ বছর পর একই শর্তে আরেকটি নতুন গাড়ি আমদানির সুযোগ।

 

পরিবহন ভাতা

যাতায়াত, জ্বালানি, গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতন মিলিয়ে এমপিরা মাসিক ৭০ হাজার টাকা পরিবহন ভাতা পান।

 

অফিস ব্যয় ভাতা

নির্বাচনী এলাকায় অফিস পরিচালনার জন্য মাসিক ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

 

লন্ড্রি ও আনুষঙ্গিক ভাতা

সংসদ সদস্যরা প্রতি মাসে লন্ড্রি ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং অন্যান্য ব্যয় (রান্নার সরঞ্জাম, লিনেন, টয়লেট্রিজ) ছয় হাজার টাকা।

 

ভ্রমণ ভাতা (সেশন ও কমিটি)

সংসদ অধিবেশন বা কমিটির বৈঠকে অংশ নিতে—বিমান/রেল/জাহাজে সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড় গুণ পর্যন্ত ভাতা এবং সড়কপথে ভ্রমণে কিলোমিটার প্রতি ১০ টাকা পান।

 

দৈনিক ভাতা

দায়িত্ব পালনের সময় অবস্থান ভাতা—দৈনিক ভাতা ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং যাতায়াত ভাতা ৭৫ থেকে ২০০ টাকা (উপস্থিতি রেকর্ডভিত্তিক) পান।

 

দেশে অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ

প্রতি বছর সংসদ সদস্যরা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ভ্রমণ-ভাতা অথবা সমপরিমাণের নন-ট্রান্সফারেবল ট্রাভেল পাস পান।

 

চিকিৎসা সুবিধা

সংসদ সদস্যরা ও তাদের পরিবার সদস্যরা প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তাদের সমমানের চিকিৎসা-সুবিধা এবং মাসিক ৭০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান।

 

টেলিফোন সুবিধা

বাসভবনে সরকারি খরচে টেলিফোন সংযোগ এবং কল ও ভাড়া বাবদ মাসিক ৭ হাজার ৮০০ টাকা পান।

 

বিমা-সুবিধা

দায়িত্বকালীন দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে ১০ লাখ টাকার বিমা-সুবিধা পান।

 

ঐচ্ছিক অনুদান

জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয়ের জন্য বছরে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ পান।

 

কর সুবিধা

এই আদেশ অনুযায়ী প্রাপ্ত ভাতাগুলো আয়করমুক্ত।

 

প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব বনাম রাষ্ট্রীয় সুবিধা

আইন অনুযায়ী এই সুবিধাগুলো সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে সহায়তা, নির্বাচনী এলাকায় উপস্থিতি নিশ্চিত করা, গণসংযোগ জোরদার এবং প্রশাসনিক কাজ সহজ করার উদ্দেশ্যে নির্ধারিত।

 

 

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভাতার পরিমাণ, সুবিধার পরিধি ও জবাবদিহি নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে, বিশেষ করে স্বচ্ছতা, কার্যকারিতা ও জনসেবার সঙ্গে সুবিধার সামঞ্জস্য নিয়ে।