সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

মুকুলের সুবাসে প্রাণ ফিরে পেয়েছে প্রকৃতি

গাছে গাছে ফুটেছে আমের মুকুল। ছবি : সংগৃহীত

নেত্রকোনার সীমান্তঘেঁষা জনপদ কলমাকান্দা উপজেলা এখন বসন্তের আগমনী বার্তায় ভরে উঠেছে। গাছে গাছে ফুটেছে আমের মুকুল- ক্ষুদ্র হলুদাভ-সবুজ ফুলের ঝাঁক যেন চারদিককে সাজিয়েছে এক অপরূপ সৌন্দর্যে। বাতাসে ভেসে আসে মিষ্টি ঘ্রাণ, যা মানুষকে মাতোয়ারা করছে।

 

 

ভোরবেলার হালকা আলোতে আমগাছের ডালে বসে ডাকে কোকিল। তার সুমিষ্ট কুহুতাল যেন কলমাকান্দার বন-বিশ্বকে মাতিয়ে তুলেছে। দোয়েল উড়ে বেড়াচ্ছে ডাল বদল করে, শালিক দলবেঁধে বসে আছে গাছের মাথায়, বুলবুলি মুকুলের ফাঁকে ফাঁকে উড়ে বেড়াচ্ছে, আর ফিঙে দূরের খোলা আকাশ থেকে এসে ডালের আগায় বসেছে। মৌমাছির গুঞ্জন, পাখির কণ্ঠ- সব মিলেমিশে যেন তৈরি করছে এক প্রাকৃতিক অর্কেস্ট্রা। এই দৃশ্য কলমাকান্দার প্রকৃতিকে আরও প্রাণবন্ত করেছে।

 

 

তবে কৃষি অফিস বলছে- আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঝড় বা অকালবৃষ্টির কারণে অনেক মুকুল ঝরে যেতে পারে, তাই সময়মতো পরিচর্যা জরুরি।

 

এবার উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের গ্রামগুলো যেন নতুন সাজে সেজেছে। ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের আমগাছে মুকুল ফুটেছে, শোভা ছড়াচ্ছে নিজস্ব মহিমায়। দেশি জাতের সঙ্গে আম্রপালি, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ফজলি জাতের আমেও মুকুল এসেছে। মুকুল আসা মানে শুধু সৌন্দর্য নয়- এটি অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রতীক।

স্থানীয় কৃষকরা বলেন, এবার গাছে মুকুল ভালো এসেছে। পেছনের অভিজ্ঞতা বলে, যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে, তাহলে ফলনও ভালো হয়। প্রতিটি মুকুল মানে পরিবারের জন্য সম্ভাবনা। একটি গাছে ভালো ফল হলে সেই টাকা দিয়ে সংসারের খরচ মেটানো যায়- শিশুদের বই-খাতা, ঈদের নতুন পোশাক, এমনকি ছোটোখাটো ঋণও মেটানো যায়।

 

লেংগুরা গ্রামের মমিন মিয়া বলেন- এখানে শুধু দেশি জাতের আম নয়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চারা আনা হয়েছে। খিরসা, মোহনা, রাজভোগ, বারি-৪, গোপালভোগ— সব মিলে বাগানগুলো যেন এখন এক রঙিন মুকুলমেলা। প্রতিটি গাছের মুকুলের ঘ্রাণে পুরো গ্রাম মাতোয়ারা হয়ে উঠেছে। তবে মুকুল যেন ঝরে না পড়ে, সেই চেষ্টা করতেই আমরা প্রতিটি গাছের পরিচর্যা করছি।

 

 

কলমাকান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, আমের মুকুল আসা মানেই ফলনের সম্ভাবনার সূচনা। তবে কৃষকদের সতর্ক থাকতে হবে। পোকামাকড় ও রোগবালাই দমনে নিয়মিত পরিচর্যা করা প্রয়োজন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর ফলন ভালো হবে। তবে ঝড় বা অকালবৃষ্টির কারণে অনেক মুকুল ঝরে যেতে পারে, তাই সময়মতো কাজ করতে হবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

মুকুলের সুবাসে প্রাণ ফিরে পেয়েছে প্রকৃতি

আপডেট টাইম : ১১:৪১:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নেত্রকোনার সীমান্তঘেঁষা জনপদ কলমাকান্দা উপজেলা এখন বসন্তের আগমনী বার্তায় ভরে উঠেছে। গাছে গাছে ফুটেছে আমের মুকুল- ক্ষুদ্র হলুদাভ-সবুজ ফুলের ঝাঁক যেন চারদিককে সাজিয়েছে এক অপরূপ সৌন্দর্যে। বাতাসে ভেসে আসে মিষ্টি ঘ্রাণ, যা মানুষকে মাতোয়ারা করছে।

 

 

ভোরবেলার হালকা আলোতে আমগাছের ডালে বসে ডাকে কোকিল। তার সুমিষ্ট কুহুতাল যেন কলমাকান্দার বন-বিশ্বকে মাতিয়ে তুলেছে। দোয়েল উড়ে বেড়াচ্ছে ডাল বদল করে, শালিক দলবেঁধে বসে আছে গাছের মাথায়, বুলবুলি মুকুলের ফাঁকে ফাঁকে উড়ে বেড়াচ্ছে, আর ফিঙে দূরের খোলা আকাশ থেকে এসে ডালের আগায় বসেছে। মৌমাছির গুঞ্জন, পাখির কণ্ঠ- সব মিলেমিশে যেন তৈরি করছে এক প্রাকৃতিক অর্কেস্ট্রা। এই দৃশ্য কলমাকান্দার প্রকৃতিকে আরও প্রাণবন্ত করেছে।

 

 

তবে কৃষি অফিস বলছে- আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঝড় বা অকালবৃষ্টির কারণে অনেক মুকুল ঝরে যেতে পারে, তাই সময়মতো পরিচর্যা জরুরি।

 

এবার উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের গ্রামগুলো যেন নতুন সাজে সেজেছে। ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের আমগাছে মুকুল ফুটেছে, শোভা ছড়াচ্ছে নিজস্ব মহিমায়। দেশি জাতের সঙ্গে আম্রপালি, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ফজলি জাতের আমেও মুকুল এসেছে। মুকুল আসা মানে শুধু সৌন্দর্য নয়- এটি অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রতীক।

স্থানীয় কৃষকরা বলেন, এবার গাছে মুকুল ভালো এসেছে। পেছনের অভিজ্ঞতা বলে, যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে, তাহলে ফলনও ভালো হয়। প্রতিটি মুকুল মানে পরিবারের জন্য সম্ভাবনা। একটি গাছে ভালো ফল হলে সেই টাকা দিয়ে সংসারের খরচ মেটানো যায়- শিশুদের বই-খাতা, ঈদের নতুন পোশাক, এমনকি ছোটোখাটো ঋণও মেটানো যায়।

 

লেংগুরা গ্রামের মমিন মিয়া বলেন- এখানে শুধু দেশি জাতের আম নয়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চারা আনা হয়েছে। খিরসা, মোহনা, রাজভোগ, বারি-৪, গোপালভোগ— সব মিলে বাগানগুলো যেন এখন এক রঙিন মুকুলমেলা। প্রতিটি গাছের মুকুলের ঘ্রাণে পুরো গ্রাম মাতোয়ারা হয়ে উঠেছে। তবে মুকুল যেন ঝরে না পড়ে, সেই চেষ্টা করতেই আমরা প্রতিটি গাছের পরিচর্যা করছি।

 

 

কলমাকান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, আমের মুকুল আসা মানেই ফলনের সম্ভাবনার সূচনা। তবে কৃষকদের সতর্ক থাকতে হবে। পোকামাকড় ও রোগবালাই দমনে নিয়মিত পরিচর্যা করা প্রয়োজন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর ফলন ভালো হবে। তবে ঝড় বা অকালবৃষ্টির কারণে অনেক মুকুল ঝরে যেতে পারে, তাই সময়মতো কাজ করতে হবে।