সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার খোকশাবাড়ী ইউনিয়নে অবস্থিত খোকশাবাড়ী ১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল (পল্লী স্বাস্থ্য কেন্দ্র) এর বিরুদ্ধে উঠেছে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ। কাগজে-কলমে রোগী ভর্তি দেখিয়ে সরকারি অর্থ ও খাবার বরাদ্দ উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে রাতে কোনো রোগীকে থাকতে দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি সরকারি এই চিকিৎসা কেন্দ্রে গত কয়েকদিন ধরে জাতীয় পতাকাও উত্তোলন করা হয়নি বলে স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালটিতে সকাল, দুপুর ও রাতের খাবার নিয়ম মাফিক উত্তোলন করা হলেও রাতে কোনো রোগী থাকে না। খাতা-কলমে রোগী ভর্তি দেখানো হলেও বাস্তবে তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না। এছাড়া সরবরাহকৃত খাবারের মান নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগীরা।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগীর সাথে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই রাতে হাসপাতালে থাকতে চান, কিন্তু দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের থাকতে দেন না। আবার কয়েকজন রোগী স্বীকার করেছেন যে, তারা সন্ধ্যার আগেই রাতের খাবার নিয়ে বাড়ি চলে যান। তবে হাসপাতাল থেকে যে খাবার দেওয়া হয়, তার মান অত্যন্ত নিম্নমানের।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে খোকশাবাড়ী ১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার ডা.খাদিজাতুল কোবরা এক অদ্ভুত দাবি করেন। তিনি বলেন, রোগী এসে ভর্তি হয়, তারা চিকিৎসা নিয়ে (বাড়িতে) গরু-ছাগল রাখতে যায়। দুপুর অথবা খাওয়ার সময় হলে তারা এসে খাবার নিয়ে যায়। এখানে আমরা কী করব?
হাসপাতালে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ জন রোগী আসে দাবি করলেও, রাতে কেন কেউ থাকে না-তার কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি। তবে তিনি স্বীকার করেন, সন্ধ্যার আগেই সবাই খাবার নিয়ে চলে যায়।
হাসপাতালে কতজন ডাক্তার ও নার্স কর্মরত আছেন, সেই তথ্য দিতেও অস্বীকৃতি জানান এই কর্মকর্তা। তিনি সাংবাদিকদের সিভিল সার্জন অফিস থেকে তথ্য নেওয়ার পরামর্শ দেন। এছাড়া, গত কয়েকদিন ধরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বিষয়টি নিয়ে সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমীনের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পরবর্তীতে বক্তব্য নেওয়ার জন্য ডেপুটি সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. রিয়াজুল ইসলামের কার্যালয়ে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে যাওয়া হলে তাকে অফিসে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি মধ্যাহ্নভোজে (লাঞ্চে) আছেন এবং ১০-১৫ মিনিট পর ফিরবেন। একই সাথে তিনি জানান যে, সিভিল সার্জন বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন এবং এ বিষয়ে ডা. ফারিহা তাসনিমের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।
সার্বিক বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. ফারিহা তাসনিম বলেন, আমি আপনাদের অভিযোগগুলো লিখে রাখলাম। সিভিল সার্জন স্যার বর্তমানে ছুটিতে আছেন। তিনি ছুটি থেকে ফিরলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এমন উদাসীনতা ও অনিয়মের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম। 


















One thought on “খোকশাবাড়ী হাসপাতালে অনিয়মের অভিযোগ: রোগী নেই, তবু খাবার বরাদ্দ উত্তোলন”