সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পানিবন্দি ৪ হাজার পরিবার

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার চর আলাতুলি ইউনিয়নের বন্যায় প্লাবিত কয়েকটি বাড়ি। ছবি: সংগৃহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীর পানি কমতে শুরু করলেও নিম্নাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। জেলার তিন হাজার ৯৫০টি পরিবার এখনো পানিবন্দি। অনেক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। রান্না, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভোগান্তি বেড়েছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অনেকে।

 

 

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় পাঙ্খা গেজ স্টেশনে পদ্মা নদীর পানি ৬ সেন্টিমিটার কমেছিল। শনিবার পানির উচ্চতা ছিল ২১ দশমিক ৭৯ মিটার। রোববার তা নেমে দাঁড়ায় ২১ দশমিক ৭৩ মিটারে। নদীটির বিপৎসীমা ২২ দশমিক ০৫ মিটার।

 

 

 

পদ্মার পানি ঢুকে সদর উপজেলার নারায়ণপুর ও আলাতুলী ইউনিয়ন এবং শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা, দুর্লভপুর ও উজিরপুর ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কোথাও কোথাও রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, দোকানপাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকেছে। তলিয়ে গেছে ফসলের মাঠ। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এসব এলাকার মানুষ।

শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের দোভাগী গ্রামের বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম বলেন, পদ্মার পানি বাড়ায় বাড়িঘর ডুবে গেছে। চাল-চুলো নেই। খুব কষ্টের মধ্যে আছি। রাস্তাঘাটও ডুবে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছি।

 

একই উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘চর সেতারাপাড়া গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে। মানুষ ও গবাদিপশু খাদ্যসংকটে রয়েছে। সরকারি ত্রাণ সহায়তা আরও বাড়ানো দরকার।’

 

 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, প্লাবিত এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান স্বাভাবিক রয়েছে।

তবে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বলেন, প্লাবিত এলাকায় শিবগঞ্জ উপজেলার আটটি এবং সদর উপজেলার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান সাময়িক বন্ধ রয়েছে।

 

 

 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘নদ-নদীর পানি বৃদ্ধিতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২১৩ দশমিক ৪ হেক্টর আউশ ও আমন ধান, মাসকলাই, হলুদ, মরিচ, কলা ও শাকসবজির জমি পানিতে আক্রান্ত হয়েছে।’

 

 

 

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা জাহিদ হাসান বলেন, ‘পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে নিম্নাঞ্চলের তিন হাজার ৯৫০টি পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। এসব পরিবারের মধ্যে ৪৪ দশমিক ২৮ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি নগদ পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’

 

 

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব বলেন, ‘পদ্মার পানি কমতে শুরু করেছে। বন্যার আশঙ্কা নেই। আগামী দুয়েক দিনে পানি আরও কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পানিবন্দি ৪ হাজার পরিবার

আপডেট টাইম : ১১:৫৩:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীর পানি কমতে শুরু করলেও নিম্নাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। জেলার তিন হাজার ৯৫০টি পরিবার এখনো পানিবন্দি। অনেক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। রান্না, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভোগান্তি বেড়েছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অনেকে।

 

 

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় পাঙ্খা গেজ স্টেশনে পদ্মা নদীর পানি ৬ সেন্টিমিটার কমেছিল। শনিবার পানির উচ্চতা ছিল ২১ দশমিক ৭৯ মিটার। রোববার তা নেমে দাঁড়ায় ২১ দশমিক ৭৩ মিটারে। নদীটির বিপৎসীমা ২২ দশমিক ০৫ মিটার।

 

 

 

পদ্মার পানি ঢুকে সদর উপজেলার নারায়ণপুর ও আলাতুলী ইউনিয়ন এবং শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা, দুর্লভপুর ও উজিরপুর ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কোথাও কোথাও রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, দোকানপাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকেছে। তলিয়ে গেছে ফসলের মাঠ। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এসব এলাকার মানুষ।

শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের দোভাগী গ্রামের বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম বলেন, পদ্মার পানি বাড়ায় বাড়িঘর ডুবে গেছে। চাল-চুলো নেই। খুব কষ্টের মধ্যে আছি। রাস্তাঘাটও ডুবে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছি।

 

একই উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘চর সেতারাপাড়া গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে। মানুষ ও গবাদিপশু খাদ্যসংকটে রয়েছে। সরকারি ত্রাণ সহায়তা আরও বাড়ানো দরকার।’

 

 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, প্লাবিত এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান স্বাভাবিক রয়েছে।

তবে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বলেন, প্লাবিত এলাকায় শিবগঞ্জ উপজেলার আটটি এবং সদর উপজেলার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান সাময়িক বন্ধ রয়েছে।

 

 

 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘নদ-নদীর পানি বৃদ্ধিতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২১৩ দশমিক ৪ হেক্টর আউশ ও আমন ধান, মাসকলাই, হলুদ, মরিচ, কলা ও শাকসবজির জমি পানিতে আক্রান্ত হয়েছে।’

 

 

 

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা জাহিদ হাসান বলেন, ‘পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে নিম্নাঞ্চলের তিন হাজার ৯৫০টি পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। এসব পরিবারের মধ্যে ৪৪ দশমিক ২৮ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি নগদ পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’

 

 

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব বলেন, ‘পদ্মার পানি কমতে শুরু করেছে। বন্যার আশঙ্কা নেই। আগামী দুয়েক দিনে পানি আরও কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’