সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চেলসির জার্সিতে এমি মার্টিনেজের অভিষেক ম্যাচে ৩ গোল হজম, তবুও….

চেলসির জার্সিতে অভিষেক ম্যাচে মার্টিনেজ। ছবি: এক্স

প্রায় ২৪ ঘণ্টা আগে অ্যাস্টন ভিলা থেকে লন্ডনে পা রাখার পর কোনো অনুশীলন ছাড়াই স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে চেলসির জার্সিতে গ্লাভস হাতে সোজা মাঠে নেমে পড়লেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। চেলসি সমর্থকেরা ভেবেছিলেন, পোস্টের নিচে আর্জেন্টিনার এই বাজপাখির উপস্থিতিই হয়তো রক্ষণের সব ধাঁধার শেষ উত্তর। উত্তর মিলল ঠিকই, তবে তা ৭ গোলের এক পাগলাটে নাটকের মধ্য দিয়ে। যেখানে ব্রাইটনের বিপক্ষে চেলসির জয় ৪-৩ গোলে। ব্লুজদের জার্সিতে নিজের অভিষেক ম্যাচেই ৩ গোল হজম, তবে শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়াটাই যেন এমির ভক্ত-সমর্থকদের জন্য বড় আনন্দের খবর।

 

 

 

 

অভিষেকটা জয়ে রঙিন হলো মার্টিনেজের, কিন্তু একটা গোলকিপারের স্বস্তি কি আর ৪-৩ গোলের জয় দিয়ে পুরোপুরি মাপা যায়? স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে একটার পর একটা বল যখন জালে জড়াল, মার্তিনেজের চোখ-মুখে তখন অসন্তোষের মিশেল। শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠ ছাড়ার মুহূর্তে তার মুখের হাসিটা তাই যেমন ছিল ৩ পয়েন্ট পাওয়ার আনন্দের, তেমনি কপালে তিন গোল খাওয়ার কিছুটা অস্বস্তির ভাজও হয়তো ছিল।

 

 

 

 

ম্যাচ শুরুর মিনিট চারেকের মাথায় রোমেও লাভিয়া যখন ব্রাইটনের জালের ভেতর বল ঠেলে দিয়ে স্বাগতিকদের এগিয়ে নিলেন, গ্যালারির গর্জন তখন মার্তিনেজকে হয়তো নতুন ঘর চেনার সুযোগ দিচ্ছিল। সেখান থেকে ৪ মিনিটের ব্যবধানে ব্যবধান ২-০ করেন পেদ্রো নেতো। চেলসি তখন উড়ছে। সাবেক ক্লাব ব্রাইটনের সমর্থকদের দুয়োর জবাবে জবাব দিতে দেরি করেননি জোয়াও পেদ্রো, বক্সে ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে ৩২ মিনিটে চেলসিকে এনে দেন ৩-০ গোলের এক লিড।

 

 

কিন্তু ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ কখনো একপেশে গল্পের জন্য স্ক্রিপ্ট লেখে না। ৩ গোল হজম করেও হাল ছাড়েনি ব্রাইটন। ৩৫ মিনিটে মার্তিনেজের প্রথম বড় পরীক্ষা। ব্রাইটনের কস্তুলাসকে আটকাতে দ্রুতই পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন তিনি, কিন্তু ফিরতি বলে মালিক ইয়ালকুয়ের কোনাকুনি রকেট শট মার্তিনেজের কোনো সুযোগ না দিয়ে পোস্টে লেগে জালে জড়ায়। ব্রাইটনের জার্সিতে প্রথমবার একাদশে নেমে ব্যবধান ৩-১ করলেন এই তরুণ।

 

দ্বিতীয়ার্ধের গল্পটা আরও বেশি রোমাঞ্চকর। ৬৩ মিনিটে গ্রসের ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দিলেন সেই জোয়াও পেদ্রো। ৩-২! এরপর তো ব্রাইটনের আক্রমণের ঝড় সামলাতে মার্তিনেজকে হতে হলো মহাব্যস্ত। বসকাকলির নিচু শট কিংবা গোমেজের হেড আটকে দিয়ে পোস্টের নিচে যেন লড়াই করছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা। দর্শকদের দিকে হাত উঁচিয়ে গর্জে উঠে হুঙ্কারও দিলেন, যেন সতীর্থদের ঘুম ভাঙাতে চাইলেন।

 

 

 

সেই ঘুমে জাগরণ আনলেন কোল পালমার। ৭৪ মিনিটে একক নৈপুণ্যে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে ৪-২ করলেন ইংলিশ এই তরুণ তারকা। আর তাতেই উল্লাসে শূন্যে লাফিয়ে উঠলেন চেলসি কোচ জাবি আলোনসো। তবে নাটকের শেষ অঙ্ক তখনও বাকি। ম্যাচের যোগ করা সময়ে ফ্রি-কিক সামলাতে ব্যর্থ চেলসি রক্ষণকে শাস্তি দিয়ে দূরহ কোণ থেকে অসাধারণ হেডে নিজের তৃতীয় গোলটি আদায় করে নেন প্যাসকাল গ্রস।

 

 

 

 

শেষ পর্যন্ত ৪-৩ ব্যবধানের এক জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আলোনসোর দল। প্রথম দুই লিগ ম্যাচে ৭ গোল দেওয়ার কীর্তি গড়ে আলোনসো ঢুকে গেলেন ইতিহাসের পাতায়।

 

 

 

 

স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে নতুন এক যাত্রার রোমাঞ্চকর প্রথম অধ্যায় শেষে ড্রেসিংরুমে ফিরে গেলেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। জয় দিয়ে শুরু হয়েছে নতুন অধ্যায়, কিন্তু তিনবার জাল থেকে বল কুড়ানোর তে তো অভিজ্ঞতাটাও সঙ্গে নিয়েই গেলেন বিশ্বজয়ী এই গোলকিপার। নীল জার্সির এই নতুন বাজপাখির জন্য লড়াইটা যে মাত্র শুরু হলো!

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চেলসির জার্সিতে এমি মার্টিনেজের অভিষেক ম্যাচে ৩ গোল হজম, তবুও….

আপডেট টাইম : ১০:১১:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

প্রায় ২৪ ঘণ্টা আগে অ্যাস্টন ভিলা থেকে লন্ডনে পা রাখার পর কোনো অনুশীলন ছাড়াই স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে চেলসির জার্সিতে গ্লাভস হাতে সোজা মাঠে নেমে পড়লেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। চেলসি সমর্থকেরা ভেবেছিলেন, পোস্টের নিচে আর্জেন্টিনার এই বাজপাখির উপস্থিতিই হয়তো রক্ষণের সব ধাঁধার শেষ উত্তর। উত্তর মিলল ঠিকই, তবে তা ৭ গোলের এক পাগলাটে নাটকের মধ্য দিয়ে। যেখানে ব্রাইটনের বিপক্ষে চেলসির জয় ৪-৩ গোলে। ব্লুজদের জার্সিতে নিজের অভিষেক ম্যাচেই ৩ গোল হজম, তবে শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়াটাই যেন এমির ভক্ত-সমর্থকদের জন্য বড় আনন্দের খবর।

 

 

 

 

অভিষেকটা জয়ে রঙিন হলো মার্টিনেজের, কিন্তু একটা গোলকিপারের স্বস্তি কি আর ৪-৩ গোলের জয় দিয়ে পুরোপুরি মাপা যায়? স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে একটার পর একটা বল যখন জালে জড়াল, মার্তিনেজের চোখ-মুখে তখন অসন্তোষের মিশেল। শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠ ছাড়ার মুহূর্তে তার মুখের হাসিটা তাই যেমন ছিল ৩ পয়েন্ট পাওয়ার আনন্দের, তেমনি কপালে তিন গোল খাওয়ার কিছুটা অস্বস্তির ভাজও হয়তো ছিল।

 

 

 

 

ম্যাচ শুরুর মিনিট চারেকের মাথায় রোমেও লাভিয়া যখন ব্রাইটনের জালের ভেতর বল ঠেলে দিয়ে স্বাগতিকদের এগিয়ে নিলেন, গ্যালারির গর্জন তখন মার্তিনেজকে হয়তো নতুন ঘর চেনার সুযোগ দিচ্ছিল। সেখান থেকে ৪ মিনিটের ব্যবধানে ব্যবধান ২-০ করেন পেদ্রো নেতো। চেলসি তখন উড়ছে। সাবেক ক্লাব ব্রাইটনের সমর্থকদের দুয়োর জবাবে জবাব দিতে দেরি করেননি জোয়াও পেদ্রো, বক্সে ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে ৩২ মিনিটে চেলসিকে এনে দেন ৩-০ গোলের এক লিড।

 

 

কিন্তু ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ কখনো একপেশে গল্পের জন্য স্ক্রিপ্ট লেখে না। ৩ গোল হজম করেও হাল ছাড়েনি ব্রাইটন। ৩৫ মিনিটে মার্তিনেজের প্রথম বড় পরীক্ষা। ব্রাইটনের কস্তুলাসকে আটকাতে দ্রুতই পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন তিনি, কিন্তু ফিরতি বলে মালিক ইয়ালকুয়ের কোনাকুনি রকেট শট মার্তিনেজের কোনো সুযোগ না দিয়ে পোস্টে লেগে জালে জড়ায়। ব্রাইটনের জার্সিতে প্রথমবার একাদশে নেমে ব্যবধান ৩-১ করলেন এই তরুণ।

 

দ্বিতীয়ার্ধের গল্পটা আরও বেশি রোমাঞ্চকর। ৬৩ মিনিটে গ্রসের ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দিলেন সেই জোয়াও পেদ্রো। ৩-২! এরপর তো ব্রাইটনের আক্রমণের ঝড় সামলাতে মার্তিনেজকে হতে হলো মহাব্যস্ত। বসকাকলির নিচু শট কিংবা গোমেজের হেড আটকে দিয়ে পোস্টের নিচে যেন লড়াই করছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা। দর্শকদের দিকে হাত উঁচিয়ে গর্জে উঠে হুঙ্কারও দিলেন, যেন সতীর্থদের ঘুম ভাঙাতে চাইলেন।

 

 

 

সেই ঘুমে জাগরণ আনলেন কোল পালমার। ৭৪ মিনিটে একক নৈপুণ্যে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে ৪-২ করলেন ইংলিশ এই তরুণ তারকা। আর তাতেই উল্লাসে শূন্যে লাফিয়ে উঠলেন চেলসি কোচ জাবি আলোনসো। তবে নাটকের শেষ অঙ্ক তখনও বাকি। ম্যাচের যোগ করা সময়ে ফ্রি-কিক সামলাতে ব্যর্থ চেলসি রক্ষণকে শাস্তি দিয়ে দূরহ কোণ থেকে অসাধারণ হেডে নিজের তৃতীয় গোলটি আদায় করে নেন প্যাসকাল গ্রস।

 

 

 

 

শেষ পর্যন্ত ৪-৩ ব্যবধানের এক জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আলোনসোর দল। প্রথম দুই লিগ ম্যাচে ৭ গোল দেওয়ার কীর্তি গড়ে আলোনসো ঢুকে গেলেন ইতিহাসের পাতায়।

 

 

 

 

স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে নতুন এক যাত্রার রোমাঞ্চকর প্রথম অধ্যায় শেষে ড্রেসিংরুমে ফিরে গেলেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। জয় দিয়ে শুরু হয়েছে নতুন অধ্যায়, কিন্তু তিনবার জাল থেকে বল কুড়ানোর তে তো অভিজ্ঞতাটাও সঙ্গে নিয়েই গেলেন বিশ্বজয়ী এই গোলকিপার। নীল জার্সির এই নতুন বাজপাখির জন্য লড়াইটা যে মাত্র শুরু হলো!