নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম
চালফুটো টিনের জীর্ণ ঘরে বাস করছিলে স্বজনহীন বিধবা শাহারবানু। অন্যের বাড়ি চেয়ে-চিন্তে খেয়ে না না খেয়ে দিন কাটছিল তাঁর। শাহারবানুর দুঃখময় জীবন কাহিনী নিয়ে কালবেলায় মাল্টিমিডিয়ায় ভিডিও স্টোরি প্রচারিত হওয়ার পর স্বপ্নের রঙিন ঘর পেলেন তিনি।
বুধবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের একডালা গ্রামের বৃদ্ধা শাহারবানুকে নতুন ঘরসহ অন্যান্য সামগ্রী হস্তান্তর করেন সিরাজগঞ্জের ফেসবুক আইকন বলে পরিচিত সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস। ঘরের সঙ্গে টয়লেট, টিউবওয়েল, খাট, লেপতোষক,শাড়ী ও খাদ্যসামগ্রী এবং নগদ টাকাও তুলে দেওয়া হয় বৃদ্ধার হাতে।
এ সময় তার সাথে স্বেচ্ছাসেবক ইসমাইল হোসেন, আব্দুর রহিম, জনতার কণ্ঠ.কম’র সম্পাদক ও প্রকাশক স্বপন চন্দ্র দাস, জনতার কণ্ঠ.কম’র মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ হুমায়ুন কবির সোহেল, প্রধান ভিডিও এডিটর শেখ মোহাম্মদ রিপন, সাংবাদিক মাসু রানাসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
একডালা গ্রামে রাস্তার ধারে চালফুটো একটি ভাঙা টিনের ঘরে বসবাস করছিলেন শাহারবানু। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছিল ৬৫ বছরের এই বৃদ্ধার। স্বামী-সন্তান নেই। নেই ভাইবোন আর আত্মীয় স্বজনও। অন্যের বাড়ি কাজ করে জীবনটাকে টেনে নিয়ে গেছেন। এখন বয়সের ভারে নূব্জ। কাজ করতে পারেন না, পারছেন না ভাঙা ঘরটিকেও মেরামত করতে। সামান্য বৃষ্টি হলেই চালের হাজারো ফুটো দিয়ে পানি পড়ে ভেসে যায় মেঝে। এককোনে চৌকিতে জড়োসড়ো হয়ে থাকতে হয় প্রায় ৬৫ বছর বয়সী এই বৃদ্ধাকে।
এ নিয়ে জনতার কণ্ঠ অনলাইন পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়ায় ভিডিও স্টোরি প্রচারিত হয়। বিষয়টি নজরে আসে ফেসবুক ভিত্তিক সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাসের। তিনি কালবেলার সংবাদ প্রকাশে সূত্র ধরে নিজের ফেসবুক পোস্টে একটি পোস্ট দেন। তার একটি পোস্টেই বদলে যায় শাহারবানুর ভাগ্য।
মামুন বিশ্বাস বলেন, গত কয়েকদিন আগে জনতার কণ্ঠ অনলাইনে শাহারবানু খালাকে নিয়ে একটা নিউজ করে। তার টিনের চালে হাজারও ছিদ্র। ঝড়-বৃষ্টি আসলে সে ঘুম পাড়া বাদ দিয়ে এক কোনে বসে থেকে রাত পার করতো। নিউজটি দেখে আমাদের খারাপ লাগে। তখন আমরা ফেসবুকে একটি পোস্ট দিলে এক লাখ ২ হাজার টাকা ওঠে। সেই টাকা দিয়ে তার জন্য ঘর, টয়লেট, টিউবওয়েল, খাট, বিছানা, খাদ্য সামগ্রী নগদ ৪ হাজার টাকা তুলে দিলাম। দেশবিদেশের এত মানুষ তার পাশে দাঁড়িয়েছে। তাদের জন্য শাহারবানু খালা স্বপ্নের ঘরে নতুন বিছানায় আরামে ঘুমোতে পারবে। মানুষের যে এত কষ্ট তার শেষ জীবনে যে শান্তির ব্যবস্থা করে দিতে পেরেছে আমাদের জন্য এটাই অনুপ্রেরনা।)
ঘর পেয়ে আবেগে আপ্লুত শাহারবানু বলেন, আপনেরা রিপোর্ট কইর্যাে আমার সব কাজ আগাইছেন। মামুন ভাই ঘর দিলো। ঘর দরজা, টিউবওয়েল পায়খানা, খাট বিছানা চাল সব কিছু দিচ্ছে। আমি এখন খুব খুশি। আমি তার জন্য দোয়া করি। যারা নিউজ করছে তারা আইস্যা আমার যে উপকার করলো, আল্লাহ যেন সবাইকে ভালে রাখে। আমার কিছু ছিল না। আল্লায় আমাক মাপাইচে। মামুন ভাইয়েক আল্লাহ যেন বাচাইয়া রাখে। আমার আত্মীয়-স্বজন ছওয়াল-পাল কিছু ছিল না। আপনারাই আমার সব। পাঁচওয়াক্ত নামাজ পড়ি, কোরআন পড়ি। আমি আপাগোরে জন্য দোয়া করমু।
প্রতিবেশী আইনজীবি সহকারী বলেন, শাহারবানু প্রতিদিনই বলতো, ভাঙা ঘর আমি থাকতে পারি না। পানি পরে। আমি তখন সাংবাদিক ভাইদের স্মরণ করি। সাংবাদিক এসে ভিডিও তুলে সেটা প্রচার করেছে। সেই কারণেই শাহারবানুর নতুন ঘর, নতুন গোসলখানা, খাট লেপ তোষক বালিশ পেয়েছে। শাহারবানু অত্যন্ত খুশি। সাংবাদিক ভাইদের জন্য দোয়া করবে।
প্রতিবেশী এক নারী বলেন, শাহারবানুর ভাঙা ঘর দেখে তারা প্রচার করে দিয়েছিল। আজ শাহারবানুর নতুন ঘর পেলে, খাট, লেপ তোষক, বড় মাছ দিয়ে গেল। আজ শাহারবানু খুশি। আমরাও খুশি।
স্বেচ্ছাসেবী আব্দুর রহিম বলেন, আমাদের উত্তরবঙ্গসহ সারেদেশের মানবতরা ফেরিওয়ালা মামুন বিশ্বাস ভাইয়ের একটি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে ১ লাখ ২ হাজার টাকা এসেছিল। সেই টাকা দিয়ে চাচিকে ঘরসহ বিভিন্ন সামগ্রী দেওয়া হয়েছিল। আসলে আমরা মামুন বিশ্বাস ভাইয়ের সাথে আল্লাহকে রাজি খুশি করার জন্য এ স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে থাকি। আমরা দোয়া করি প্রত্যেক গ্রামে একটা করে মামুন বিশ্বাস তৈরি হোক।

রিপোর্টার: 




















