সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

ট্রাম্পের ফোনেই বালোগানের লালকার্ড নিষেধাজ্ঞা বাতিল, ফুটবল দুনিয়ায় তোলপাড়

বসনিয়ার বিপক্ষে সরাসরি লাল কার্ড দেখেছিলেন বালোগান। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব চলাকালীন নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ফিফার এক সিদ্ধান্ত। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের কারণে এক ম্যাচের স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা।

 

 

 

গত ১ জুলাই বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ২-০ গোলের জয়ের ম্যাচে ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচের পিঠের ওপর পা রাখার দায়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখেছিলেন বালোগান। ভিএআর পর্যালোচনার পর রেফারি এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় স্বাভাবিক নিয়মেই এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হন তিনি। এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন মার্কিন কোচ মরিসিও পচেত্তিনো। কারণ, সরাসরি লাল কার্ড দেখলে এর বিরুদ্ধে আপিল করার কোনো সুযোগ থাকে না।

 

 

 

তবে ফিফা জানায়, শাস্তি স্থগিত রাখার বিধান ব্যবহার করে বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এর ফলে তিনি বেলজিয়ামের বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে খেলতে পারবেন।

এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে উয়েফা এক বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা এমন নজিরবিহীন, দুর্বোধ্য ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্তে বিস্মিত প্রকাশ করছি।’ উয়েফা আরও যোগ করে, ‘বালোগানর লাল কার্ড দেখানোর জেরে এক ম্যাচের স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা এক বছরের পরীক্ষামূলক সময়ের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্তটি সীমা লঙ্ঘন করেছে।’

 

উয়েফা আরও বলেছে, ফুটবলের মূল ভিত্তি হলো নিরপেক্ষ ও সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নিয়ম। লাল কার্ডের পর অন্তত এক ম্যাচের স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা বাধ্যতামূলক এবং এটি কোনো বিবেচনাধীন বিষয় নয়। চলমান টুর্নামেন্টের মাঝপথে একজন খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম তৈরি করলে প্রতিযোগিতার বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

 

 

সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের জন্য একটি নজির তৈরি করবে। একই ধরনের পরিস্থিতিতে অন্য খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রেও সমান সুবিধা দাবি উঠতে পারে, যা প্রতিযোগিতার সুষ্ঠু পরিচালনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 

 

 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক পোস্টে ফিফাকে ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছেন, তারা ‘সঠিক কাজ করেছে এবং একটি বড় অবিচারের সংশোধন করেছে।’

 

 

 

এবিসি নিশ্চিত করেছে যে, ট্রাম্প গত সপ্তাহে ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে বালোগানের লাল কার্ডটি পুনর্বিবেচনা করতে বলার জন্য ফোন করেছিলেন। এরপর ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি তাদের শৃঙ্খলা বিধির ২৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী এই বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

 

 

এদিকে, বেলজিয়াম ফুটবল ফেডারেশনও এই সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করে জানিয়েছে, তারা সম্ভাব্য সব আইনি ও আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। বাংলাদেশ সময় সোমবার রাতে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র ও বেলজিয়াম। বিজয়ী দল জায়গা করে নেবে কোয়ার্টার ফাইনালে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখোমুখি ফাইটাররা, প্রশ্নোত্তরের পাশাপাশি দেখালেন বক্সিং পোজ

ট্রাম্পের ফোনেই বালোগানের লালকার্ড নিষেধাজ্ঞা বাতিল, ফুটবল দুনিয়ায় তোলপাড়

আপডেট টাইম : ০৯:০৯:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব চলাকালীন নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ফিফার এক সিদ্ধান্ত। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের কারণে এক ম্যাচের স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা।

 

 

 

গত ১ জুলাই বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ২-০ গোলের জয়ের ম্যাচে ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচের পিঠের ওপর পা রাখার দায়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখেছিলেন বালোগান। ভিএআর পর্যালোচনার পর রেফারি এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় স্বাভাবিক নিয়মেই এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হন তিনি। এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন মার্কিন কোচ মরিসিও পচেত্তিনো। কারণ, সরাসরি লাল কার্ড দেখলে এর বিরুদ্ধে আপিল করার কোনো সুযোগ থাকে না।

 

 

 

তবে ফিফা জানায়, শাস্তি স্থগিত রাখার বিধান ব্যবহার করে বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এর ফলে তিনি বেলজিয়ামের বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে খেলতে পারবেন।

এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে উয়েফা এক বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা এমন নজিরবিহীন, দুর্বোধ্য ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্তে বিস্মিত প্রকাশ করছি।’ উয়েফা আরও যোগ করে, ‘বালোগানর লাল কার্ড দেখানোর জেরে এক ম্যাচের স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা এক বছরের পরীক্ষামূলক সময়ের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্তটি সীমা লঙ্ঘন করেছে।’

 

উয়েফা আরও বলেছে, ফুটবলের মূল ভিত্তি হলো নিরপেক্ষ ও সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নিয়ম। লাল কার্ডের পর অন্তত এক ম্যাচের স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা বাধ্যতামূলক এবং এটি কোনো বিবেচনাধীন বিষয় নয়। চলমান টুর্নামেন্টের মাঝপথে একজন খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম তৈরি করলে প্রতিযোগিতার বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

 

 

সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের জন্য একটি নজির তৈরি করবে। একই ধরনের পরিস্থিতিতে অন্য খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রেও সমান সুবিধা দাবি উঠতে পারে, যা প্রতিযোগিতার সুষ্ঠু পরিচালনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 

 

 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক পোস্টে ফিফাকে ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছেন, তারা ‘সঠিক কাজ করেছে এবং একটি বড় অবিচারের সংশোধন করেছে।’

 

 

 

এবিসি নিশ্চিত করেছে যে, ট্রাম্প গত সপ্তাহে ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে বালোগানের লাল কার্ডটি পুনর্বিবেচনা করতে বলার জন্য ফোন করেছিলেন। এরপর ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি তাদের শৃঙ্খলা বিধির ২৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী এই বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

 

 

এদিকে, বেলজিয়াম ফুটবল ফেডারেশনও এই সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করে জানিয়েছে, তারা সম্ভাব্য সব আইনি ও আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। বাংলাদেশ সময় সোমবার রাতে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র ও বেলজিয়াম। বিজয়ী দল জায়গা করে নেবে কোয়ার্টার ফাইনালে।