সিরাজগঞ্জ , রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ, মামলায় গ্রেপ্তার তাহসিফের বন্ধু দীপ

শাহরিয়ার রেজা দীপ ও কেএম তাহসিফ সাউরি। ছবি: সংগৃহীত

 

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় মামলা করেছেন তার বাবা এনায়েতুল করিম। রাজধানীর উত্তরখান থানায় করা এ মামলায় তাহসিফের ব্যবসায়িক অংশীদার ও বন্ধুস্থানীয় ছোটভাই শাহরিয়ার রেজা দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পরে তাকে নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

 

 

 

 

 

শনিবার (৩১ অক্টোবর) পিবিআই সদর দপ্তর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

 

 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শনিবার মধ্যরাতে দীপকে নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসার তৃতীয় তলা থেকে দীপকে হেফাজতে নেয় পিবিআই। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে। নিখোঁজ হওয়ার আগে তাহসিফের সঙ্গে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন দীপ। এ কারণে তার কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানতে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তদন্তকারীরা।

তাহসিফের মৃত্যুর আগের মুহূর্ত নিয়ে গণমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ভিন্ন রকম তথ্য দিয়েছেন দীপ। ফলে এই মৃত্যু নিয়ে রহস্য বেড়েছে।

 

 

 

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পিবিআইয়ের একটি তদন্ত দল দীপকে নিয়ে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যায়। তুরাগ নদসংলগ্ন বিআইডব্লিউটিএর ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের আশপাশে কী ঘটেছিল, তা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকা থেকে কালো রঙের একটি সুজুকি জিক্সার ১৫০ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। মোটরসাইকেলটির কোনো নম্বরপ্লেট ছিল না।

জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার রাতের বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন দীপ। তার দাবি, সেদিন রাতে তিনি ও তাহসিফ তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে দুজনের কথা বলার সময় কয়েকজন তাদের ধাওয়া করেন। ধাওয়াকারীদের মধ্যে দুজনের পরনে পুলিশের পোশাক ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

 

 

 

 

 

দীপের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তিদের দেখে তাহসিফ দৌড় দেন। একপর্যায়ে তিনি তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন। অন্যদিকে দীপ বিআইডব্লিউটিএর ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের আড়ালে লুকিয়ে পড়েন। পরে সেখান থেকে চলে যান তিনি।

 

 

 

 

তবে ঘটনার বিষয়ে দীপের দেওয়া এসব বক্তব্যের সত্যতা তদন্তে যাচাই করা হচ্ছে।

 

 

 

এর আগে কালবেলাকে দীপ বলেছিলেন, ‘আমার বাইক এবং উনার বাইক একই মডেলের। তো উনার বাইকটা অকেজো হয়ে পড়েছিল। যেহেতু আমার সেম মডেলের বাইক আছে এবং আমি আমার বাইক খুবই মেইনটেন্যান্স করে রাখি। আমি জানি যে কখন কী করতে হবে, ইঞ্জিন অয়েল কীভাবে কী চেঞ্জ করতে হবে। তো তাকে আমি ওর বাইকটা স্টার্ট নিতে সাহায্য করি এবং আমরা একসঙ্গে উত্তরার একটা ওয়ার্কশপে যাই। ওইখানে গিয়ে তার বাইকের ইঞ্জিন অয়েল চেঞ্জ করে। আরও বেশ কিছু বিষয় ছিল সেগুলা কমপ্লিট করে আমরা আবার অ্যাপার্টমেন্ট প্রজেক্টে ফেরত আসি।’

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘সেখান থেকে একটা রেস্টুরেন্টে যাই। আমরা দুজন মিলে ডিনার করি। আমি বের হয়ে আমার বাসার দিকে চলে আসি, উনি আরেক দিকে চলে যান। আমি স্পেসিফিকভাবে জানি না, আসলে উনি কোন কাজে কোন দিকে চলে গিয়েছিলেন।’

এ ব্যাপারে শুক্রবার ঢাকা মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি এনায়েত হোসেন মান্নান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সে (দীপ) অনেক এলোমেলো তথ্য দিচ্ছে। সব তথ্য আমরা বিশ্বাসে নিচ্ছি না। আর সব তথ্য কাউন্ট করতেছি না। যেটা গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনার সঙ্গে সেটা আমরা যাচাই করে ভেরিফাই করে আপনাদেরকে তথ্যগুলো দেব।’

জনতার কন্ঠ. এস এ

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ, মামলায় গ্রেপ্তার তাহসিফের বন্ধু দীপ

আপডেট টাইম : ১০:১৬:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

 

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় মামলা করেছেন তার বাবা এনায়েতুল করিম। রাজধানীর উত্তরখান থানায় করা এ মামলায় তাহসিফের ব্যবসায়িক অংশীদার ও বন্ধুস্থানীয় ছোটভাই শাহরিয়ার রেজা দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পরে তাকে নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

 

 

 

 

 

শনিবার (৩১ অক্টোবর) পিবিআই সদর দপ্তর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

 

 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শনিবার মধ্যরাতে দীপকে নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসার তৃতীয় তলা থেকে দীপকে হেফাজতে নেয় পিবিআই। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে। নিখোঁজ হওয়ার আগে তাহসিফের সঙ্গে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন দীপ। এ কারণে তার কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানতে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তদন্তকারীরা।

তাহসিফের মৃত্যুর আগের মুহূর্ত নিয়ে গণমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ভিন্ন রকম তথ্য দিয়েছেন দীপ। ফলে এই মৃত্যু নিয়ে রহস্য বেড়েছে।

 

 

 

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পিবিআইয়ের একটি তদন্ত দল দীপকে নিয়ে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যায়। তুরাগ নদসংলগ্ন বিআইডব্লিউটিএর ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের আশপাশে কী ঘটেছিল, তা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকা থেকে কালো রঙের একটি সুজুকি জিক্সার ১৫০ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। মোটরসাইকেলটির কোনো নম্বরপ্লেট ছিল না।

জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার রাতের বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন দীপ। তার দাবি, সেদিন রাতে তিনি ও তাহসিফ তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে দুজনের কথা বলার সময় কয়েকজন তাদের ধাওয়া করেন। ধাওয়াকারীদের মধ্যে দুজনের পরনে পুলিশের পোশাক ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

 

 

 

 

 

দীপের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তিদের দেখে তাহসিফ দৌড় দেন। একপর্যায়ে তিনি তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন। অন্যদিকে দীপ বিআইডব্লিউটিএর ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের আড়ালে লুকিয়ে পড়েন। পরে সেখান থেকে চলে যান তিনি।

 

 

 

 

তবে ঘটনার বিষয়ে দীপের দেওয়া এসব বক্তব্যের সত্যতা তদন্তে যাচাই করা হচ্ছে।

 

 

 

এর আগে কালবেলাকে দীপ বলেছিলেন, ‘আমার বাইক এবং উনার বাইক একই মডেলের। তো উনার বাইকটা অকেজো হয়ে পড়েছিল। যেহেতু আমার সেম মডেলের বাইক আছে এবং আমি আমার বাইক খুবই মেইনটেন্যান্স করে রাখি। আমি জানি যে কখন কী করতে হবে, ইঞ্জিন অয়েল কীভাবে কী চেঞ্জ করতে হবে। তো তাকে আমি ওর বাইকটা স্টার্ট নিতে সাহায্য করি এবং আমরা একসঙ্গে উত্তরার একটা ওয়ার্কশপে যাই। ওইখানে গিয়ে তার বাইকের ইঞ্জিন অয়েল চেঞ্জ করে। আরও বেশ কিছু বিষয় ছিল সেগুলা কমপ্লিট করে আমরা আবার অ্যাপার্টমেন্ট প্রজেক্টে ফেরত আসি।’

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘সেখান থেকে একটা রেস্টুরেন্টে যাই। আমরা দুজন মিলে ডিনার করি। আমি বের হয়ে আমার বাসার দিকে চলে আসি, উনি আরেক দিকে চলে যান। আমি স্পেসিফিকভাবে জানি না, আসলে উনি কোন কাজে কোন দিকে চলে গিয়েছিলেন।’

এ ব্যাপারে শুক্রবার ঢাকা মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি এনায়েত হোসেন মান্নান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সে (দীপ) অনেক এলোমেলো তথ্য দিচ্ছে। সব তথ্য আমরা বিশ্বাসে নিচ্ছি না। আর সব তথ্য কাউন্ট করতেছি না। যেটা গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনার সঙ্গে সেটা আমরা যাচাই করে ভেরিফাই করে আপনাদেরকে তথ্যগুলো দেব।’

জনতার কন্ঠ. এস এ