সিরাজগঞ্জ , রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

নতুন বেতনকাঠামোয় আজ বেতন পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা, বাদ পড়ছেন যারা

নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী আজ রোববার (১ নভেম্বর) থেকে তিন মাসের বকেয়াসহ বর্ধিত বেতন পাওয়ার কথা সরকারি চাকরিজীবীদের। এ লক্ষ্যে বেতন পরিশোধের প্রস্তুতিও নিয়েছে সরকার। তবে নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ না হওয়ায় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী আপাতত পুরোনো কাঠামোতেই বেতন পাচ্ছেন। পরবর্তী সময়ে তাদের বর্ধিত বেতন ও বকেয়া সমন্বয় করা হবে।

 

 

 

 

 

অর্থ বিভাগ সূত্রের খবর, দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী, আট লাখ পেনশনভোগী এবং ছয় লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক রয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেরই এখনো নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ হয়নি। বেতন নির্ধারণ করতে গিয়ে গ্রেডের ক্রম, উচ্চতর গ্রেড, বাড়িভাড়া ভাতা এবং পদোন্নতির পর আর্থিক সুবিধাসহ বিভিন্ন বিষয়ে অসংগতি দেখা দিয়েছে। এর পাশাপাশি সরকারের সমন্বিত আর্থিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি আইবাস++ নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে।

 

 

 

এসব সমস্যা সমাধানে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আবেদন করেছেন। তবে এখনো এসব আবেদনের নিষ্পত্তি হয়নি।

 

অর্থ বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন তৈরি ও বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতার ঘাটতির কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ চলছে।

এদিকে নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে গ্রেডভিত্তিক বেতনের অসংগতি নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন কর্মচারীরা। তাদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিচের গ্রেডের কর্মচারীর মূল বেতন ওপরের গ্রেডের কর্মচারীর চেয়ে বেশি নির্ধারিত হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তারা বলছেন, ১১তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর মূল বেতন নির্ধারণ হচ্ছে ৩৭ হাজার টাকা। অথচ ১২তম গ্রেডের একজন কর্মচারী পাচ্ছেন ৩৭ হাজার ৭০০ টাকা।

 

 

 

 

বাড়িভাড়া ভাতা নির্ধারণেও দেখা দিয়েছে অসংগতি। কর্মচারীদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, দশম গ্রেড থেকে নবম গ্রেডে পদোন্নতি পেলে মূল বেতন ১ হাজার ৩০০ টাকা বাড়লেও বাড়িভাড়া ভাতা কমতে পারে ১ হাজার ৯০০ টাকা। এতে পদোন্নতির পরও একজন কর্মচারীর মোট মাসিক আয় ৬০০ টাকা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্যতা ও সময় নির্ধারণ এবং আইবাস++ ব্যবস্থায় বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়েও আপত্তি রয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

 

 

 

 

সব মিলিয়ে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হলেও সবার বেতন-ভাতা নির্ধারণের জটিলতা এখনো কাটেনি। ফলে নির্ধারিত সময়ে বর্ধিত বেতন না পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া ও অতিরিক্ত অর্থ কবে নাগাদ সমন্বয় করা হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

 

 

 

 

 

জনতার কন্ঠ/এস এ

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

নতুন বেতনকাঠামোয় আজ বেতন পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা, বাদ পড়ছেন যারা

আপডেট টাইম : ১০:২২:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী আজ রোববার (১ নভেম্বর) থেকে তিন মাসের বকেয়াসহ বর্ধিত বেতন পাওয়ার কথা সরকারি চাকরিজীবীদের। এ লক্ষ্যে বেতন পরিশোধের প্রস্তুতিও নিয়েছে সরকার। তবে নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ না হওয়ায় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী আপাতত পুরোনো কাঠামোতেই বেতন পাচ্ছেন। পরবর্তী সময়ে তাদের বর্ধিত বেতন ও বকেয়া সমন্বয় করা হবে।

 

 

 

 

 

অর্থ বিভাগ সূত্রের খবর, দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী, আট লাখ পেনশনভোগী এবং ছয় লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক রয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেরই এখনো নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ হয়নি। বেতন নির্ধারণ করতে গিয়ে গ্রেডের ক্রম, উচ্চতর গ্রেড, বাড়িভাড়া ভাতা এবং পদোন্নতির পর আর্থিক সুবিধাসহ বিভিন্ন বিষয়ে অসংগতি দেখা দিয়েছে। এর পাশাপাশি সরকারের সমন্বিত আর্থিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি আইবাস++ নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে।

 

 

 

এসব সমস্যা সমাধানে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আবেদন করেছেন। তবে এখনো এসব আবেদনের নিষ্পত্তি হয়নি।

 

অর্থ বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন তৈরি ও বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতার ঘাটতির কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ চলছে।

এদিকে নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে গ্রেডভিত্তিক বেতনের অসংগতি নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন কর্মচারীরা। তাদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিচের গ্রেডের কর্মচারীর মূল বেতন ওপরের গ্রেডের কর্মচারীর চেয়ে বেশি নির্ধারিত হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তারা বলছেন, ১১তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর মূল বেতন নির্ধারণ হচ্ছে ৩৭ হাজার টাকা। অথচ ১২তম গ্রেডের একজন কর্মচারী পাচ্ছেন ৩৭ হাজার ৭০০ টাকা।

 

 

 

 

বাড়িভাড়া ভাতা নির্ধারণেও দেখা দিয়েছে অসংগতি। কর্মচারীদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, দশম গ্রেড থেকে নবম গ্রেডে পদোন্নতি পেলে মূল বেতন ১ হাজার ৩০০ টাকা বাড়লেও বাড়িভাড়া ভাতা কমতে পারে ১ হাজার ৯০০ টাকা। এতে পদোন্নতির পরও একজন কর্মচারীর মোট মাসিক আয় ৬০০ টাকা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্যতা ও সময় নির্ধারণ এবং আইবাস++ ব্যবস্থায় বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়েও আপত্তি রয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

 

 

 

 

সব মিলিয়ে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হলেও সবার বেতন-ভাতা নির্ধারণের জটিলতা এখনো কাটেনি। ফলে নির্ধারিত সময়ে বর্ধিত বেতন না পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া ও অতিরিক্ত অর্থ কবে নাগাদ সমন্বয় করা হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

 

 

 

 

 

জনতার কন্ঠ/এস এ