সিরাজগঞ্জ , রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

মিরপুরে হারের পর বাংলাদেশের স্পিন কৌশল নিয়ে সমালোচনা

ছবি : সংগৃহীত

মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে স্বাগতিকদের হারের পর বাংলাদেশের স্পিন সহায়ক উইকেট এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এক প্রতিবেদনে ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ বাংলাদেশে স্পিন সহায়ক উইকেট সহায়ক উইকেট নিয়ে সমালোচনার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

 

 

 

 

 

আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার স্বপ্নের পথে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে স্পিননির্ভর আক্রমণ দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বধ করার পরিকল্পনা করেছিল বাংলাদেশ। তবে তাতে কোনো সুফল মেলেনি, বরং এই কৌশলটির মাধ্যমে সফরকারী দলই সুবিধাজনক অবস্থানে চলে যায়।

 

 

 

 

 

 

টেস্টজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা। বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেটসহ মোট নয়টি উইকেট শিকার করেন। এরপর অধিনায়ক রোস্টন চেজ নিজের অফ স্পিনে দ্বিতীয় ইনিংসে নেন পাঁচ উইকেট, যা দলের জয় নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখে এবং পরে ব্যাটাররা বাকি কাজটুকু সহজেই সেরে নেন।

 

 

 

 

দুই দলের স্পিনারদের বোলিংয়ের ধরন ছিল ভিন্ন। তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, বাংলাদেশের স্পিনারদের ৩ ডিগ্রি টার্নের বিপরীতে ক্যারিবীয় স্পিনাররা গড়ে ৩.৫ ডিগ্রি বেশি টার্ন আদায় করে নেন।

মিরপুর টেস্টের পর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় দলের টিম ম্যানেজমেন্টের এক সদস্য বলেন, আমি জানি না কেন আমরা বল ঘোরানো ভুলে গেছি। যদি এই উইকেটেও আমরা বল না ঘোরাতে পারি, তবে নিশ্চিত নই কোথায় আমরা বল ঘোরাতে পারব।’

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, আমি নিশ্চিত নই এটি কোনো কৌশলগত বিষয় নাকি অন্য কিছু, কারণ একই বোলাররা তুলনামূলক ফ্ল্যাট উইকেটেও এর চেয়ে ভালো বল ঘুরিয়েছিলেন। আমার মনে হয়, আমাদের বোলাররা বেশি গতিতে বল করার চেষ্টা করেছেন, অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা অনেক ধীরগতিতে বল করেছেন এবং সম্ভবত সেটাই তাদের আমাদের চেয়ে বেশি টার্ন পেতে সহায়তা করেছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশি স্পিনারদের মানসিকতা এবং তারা আদৌ আক্রমণাত্মক বিকল্প হিসেবে নিজেদের মেলে ধরতে পারছেন কি না, তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।

 

 

 

 

 

টিম ম্যানেজমেন্টের ওই সদস্য বলেন, এটা বলাই যায় যে আমরা প্রথাগতভাবে আক্রমণাত্মক স্পিনার নই। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, রানের গতি আটকে রাখতে পারলে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে। আমাদের বেশির ভাগ স্পিনার এই দর্শন নিয়েই ক্রিকেট খেলে।

 

 

 

 

 

সাম্প্রতিক সময়ে টেস্ট ক্রিকেটে স্পিন-সহায়ক উইকেটের কৌশলটি জয়ের চেয়ে বেশি হার ডেকে আনলেও মিরপুরে বাংলাদেশ আবারও একই পথে হাঁটায় বেশ কিছু প্রশ্ন উঠেছে। তা ছাড়া, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স দিয়ে বাংলাদেশের পেসাররাও নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে শুরু করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে তাদের ওপর আস্থা না রাখাটা বুদ্ধিমানের কাজ হয়নি বলেই মনে করছেন অনেকে।

 

 

 

 

ইনজুরির কারণে সিরিজ থেকে ছিটকে পড়া পেসার নাহিদ রানার অনুপস্থিতিও হয়তো এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছিল। তবে স্পিনারদের জন্য উপযোগী এমন উইকেটেও যদি তারা প্রতিপক্ষের চেয়ে কম বল ঘুরিয়ে থাকেন, তবে টিম ম্যানেজমেন্টের নেওয়া এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

 

 

 

 

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট অর্জনের তাগিদই এই সিদ্ধান্তের বড় কারণ ছিল কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলতে পারে। তবে আগামী ৫ নভেম্বর থেকে সিলেটে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টের আগে নিজেদের ভুলত্রুটি শুধরে নেওয়ার সময় এসেছে। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের পর টানা পরাজয়ের স্বাদ পাওয়া বাংলাদেশকে এখন অনেক কিছু নিয়েই ভাবতে হচ্ছে।

 

 

 

 

 

জনতার কন্ঠ/এস এ

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

মিরপুরে হারের পর বাংলাদেশের স্পিন কৌশল নিয়ে সমালোচনা

আপডেট টাইম : ১১:০৮:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে স্বাগতিকদের হারের পর বাংলাদেশের স্পিন সহায়ক উইকেট এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এক প্রতিবেদনে ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ বাংলাদেশে স্পিন সহায়ক উইকেট সহায়ক উইকেট নিয়ে সমালোচনার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

 

 

 

 

 

আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার স্বপ্নের পথে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে স্পিননির্ভর আক্রমণ দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বধ করার পরিকল্পনা করেছিল বাংলাদেশ। তবে তাতে কোনো সুফল মেলেনি, বরং এই কৌশলটির মাধ্যমে সফরকারী দলই সুবিধাজনক অবস্থানে চলে যায়।

 

 

 

 

 

 

টেস্টজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা। বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেটসহ মোট নয়টি উইকেট শিকার করেন। এরপর অধিনায়ক রোস্টন চেজ নিজের অফ স্পিনে দ্বিতীয় ইনিংসে নেন পাঁচ উইকেট, যা দলের জয় নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখে এবং পরে ব্যাটাররা বাকি কাজটুকু সহজেই সেরে নেন।

 

 

 

 

দুই দলের স্পিনারদের বোলিংয়ের ধরন ছিল ভিন্ন। তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, বাংলাদেশের স্পিনারদের ৩ ডিগ্রি টার্নের বিপরীতে ক্যারিবীয় স্পিনাররা গড়ে ৩.৫ ডিগ্রি বেশি টার্ন আদায় করে নেন।

মিরপুর টেস্টের পর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় দলের টিম ম্যানেজমেন্টের এক সদস্য বলেন, আমি জানি না কেন আমরা বল ঘোরানো ভুলে গেছি। যদি এই উইকেটেও আমরা বল না ঘোরাতে পারি, তবে নিশ্চিত নই কোথায় আমরা বল ঘোরাতে পারব।’

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, আমি নিশ্চিত নই এটি কোনো কৌশলগত বিষয় নাকি অন্য কিছু, কারণ একই বোলাররা তুলনামূলক ফ্ল্যাট উইকেটেও এর চেয়ে ভালো বল ঘুরিয়েছিলেন। আমার মনে হয়, আমাদের বোলাররা বেশি গতিতে বল করার চেষ্টা করেছেন, অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা অনেক ধীরগতিতে বল করেছেন এবং সম্ভবত সেটাই তাদের আমাদের চেয়ে বেশি টার্ন পেতে সহায়তা করেছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশি স্পিনারদের মানসিকতা এবং তারা আদৌ আক্রমণাত্মক বিকল্প হিসেবে নিজেদের মেলে ধরতে পারছেন কি না, তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।

 

 

 

 

 

টিম ম্যানেজমেন্টের ওই সদস্য বলেন, এটা বলাই যায় যে আমরা প্রথাগতভাবে আক্রমণাত্মক স্পিনার নই। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, রানের গতি আটকে রাখতে পারলে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে। আমাদের বেশির ভাগ স্পিনার এই দর্শন নিয়েই ক্রিকেট খেলে।

 

 

 

 

 

সাম্প্রতিক সময়ে টেস্ট ক্রিকেটে স্পিন-সহায়ক উইকেটের কৌশলটি জয়ের চেয়ে বেশি হার ডেকে আনলেও মিরপুরে বাংলাদেশ আবারও একই পথে হাঁটায় বেশ কিছু প্রশ্ন উঠেছে। তা ছাড়া, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স দিয়ে বাংলাদেশের পেসাররাও নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে শুরু করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে তাদের ওপর আস্থা না রাখাটা বুদ্ধিমানের কাজ হয়নি বলেই মনে করছেন অনেকে।

 

 

 

 

ইনজুরির কারণে সিরিজ থেকে ছিটকে পড়া পেসার নাহিদ রানার অনুপস্থিতিও হয়তো এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছিল। তবে স্পিনারদের জন্য উপযোগী এমন উইকেটেও যদি তারা প্রতিপক্ষের চেয়ে কম বল ঘুরিয়ে থাকেন, তবে টিম ম্যানেজমেন্টের নেওয়া এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

 

 

 

 

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট অর্জনের তাগিদই এই সিদ্ধান্তের বড় কারণ ছিল কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলতে পারে। তবে আগামী ৫ নভেম্বর থেকে সিলেটে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টের আগে নিজেদের ভুলত্রুটি শুধরে নেওয়ার সময় এসেছে। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের পর টানা পরাজয়ের স্বাদ পাওয়া বাংলাদেশকে এখন অনেক কিছু নিয়েই ভাবতে হচ্ছে।

 

 

 

 

 

জনতার কন্ঠ/এস এ