সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ ইইউর প্রধান পর্যবেক্ষকের

প্রেস ব্রিফিংয়ে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের প্রধান ইভারস আইজাবস। ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশ ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের প্রধান ইভারস আইজাবস।

 

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

 

 

তিনি বলেন, প্রশিক্ষিত এবং অত্যন্ত সক্রিয় পর্যবেক্ষকরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব ২৭টি সদস্য রাষ্ট্র থেকে এসেছেন। তবে এটি শুধু ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিষয় নয়, আমাদের অংশীদার দেশগুলোও এই মিশনে যুক্ত হয়েছে। যেমন নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড ও কানাডা। আমাদের যে সহকর্মীরা মাঠে কাজ করবেন, তারা সবাই নির্বাচন পর্যবেক্ষণের মূল নীতিগুলো মেনে চলবেন—নিরপেক্ষতা, নির্ভুলতা এবং পারস্পরিক সম্মান।

 

ইভারস আইজাবস বলেন, ঢাকায় অবস্থানরত আমাদের টিম সার্বক্ষণিকভাবে মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে। পাশাপাশি আমাদের মূল বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে মোতায়েন পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয় করবে।

একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে পারা আনন্দের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পর গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের এই প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার অগ্রগতি আমরা গভীর আগ্রহ নিয়ে প্রত্যাশা করছি। আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ অবশ্যই ইইউ–বাংলাদেশ সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।

তিনি আরও বলেন, ইউরোপে আমরা যে নীতিগুলো অনুসরণ করি—গণতন্ত্র, রাজনৈতিক ক্ষমতার জবাবদিহি এবং আইনের শাসন—সেগুলোই আমাদের অভিন্ন মূল্যবোধ। এই মূল্যবোধই আমাদের বাংলাদেশি জনগণের সঙ্গে একসূত্রে বেধেছে। এগুলোই ইইউ–বাংলাদেশ জনগণের সহযোগিতার ভিত্তি এবং ভবিষ্যতেও তা অটুট থাকবে। এ সময় তিনি একটি ভালো, অংশগ্রহণমূলক, বিশ্বাসযোগ্য এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা করেন।

 

 

ভোটের সামগ্রিক পরিবেশ ইতিবাচক জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা প্রার্থীদের সঙ্গে যেমন কথা বলেছি, তেমনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও কথা বলেছি। সাধারণভাবে একটি আশাবাদী মনোভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমাদের বেশিরভাগ আলোচনাসঙ্গীই বলেছেন, এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে—যার ভিত্তি হবে গণতন্ত্র।

 

 

বলেন, আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি নিরপেক্ষ থাকার বিষয়টিকে। এটি আমাদের ম্যান্ডেট এবং আমাদের পর্যবেক্ষকদের মূল দায়িত্ব। আমরা এখানে কোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় জড়িত হতে আসিনি, কিংবা বাংলাদেশের রাজনীতি সম্পর্কে নির্দেশনা দিতেও আসিনি। আমরা এখানে এসেছি কেবল প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ ও যাচাই করতে।

 

 

ইইউ প্রধান ইভারস আইজাবস বলেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর আমরা আরও একটি বিস্তৃত চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেব, যেখানে বিভিন্ন বিষয়ে সুপারিশও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সংক্রান্ত বিষয়গুলোও থাকবে, যা বর্তমানে শুধু একটি দেশের নয়—বিশ্বের সব গণতন্ত্রের জন্যই একটি বড় উদ্বেগের বিষয়।

 

 

ভুয়া তথ্য, বিভ্রান্তিমূলক প্রচার এবং এ ধরনের অন্যান্য চ্যালেঞ্জ চূড়ান্ত প্রতিবেদনে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি।

89
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ ইইউর প্রধান পর্যবেক্ষকের

আপডেট টাইম : ১২:২৪:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশ ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের প্রধান ইভারস আইজাবস।

 

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

 

 

তিনি বলেন, প্রশিক্ষিত এবং অত্যন্ত সক্রিয় পর্যবেক্ষকরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব ২৭টি সদস্য রাষ্ট্র থেকে এসেছেন। তবে এটি শুধু ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিষয় নয়, আমাদের অংশীদার দেশগুলোও এই মিশনে যুক্ত হয়েছে। যেমন নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড ও কানাডা। আমাদের যে সহকর্মীরা মাঠে কাজ করবেন, তারা সবাই নির্বাচন পর্যবেক্ষণের মূল নীতিগুলো মেনে চলবেন—নিরপেক্ষতা, নির্ভুলতা এবং পারস্পরিক সম্মান।

 

ইভারস আইজাবস বলেন, ঢাকায় অবস্থানরত আমাদের টিম সার্বক্ষণিকভাবে মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে। পাশাপাশি আমাদের মূল বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে মোতায়েন পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয় করবে।

একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে পারা আনন্দের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পর গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের এই প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার অগ্রগতি আমরা গভীর আগ্রহ নিয়ে প্রত্যাশা করছি। আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ অবশ্যই ইইউ–বাংলাদেশ সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।

তিনি আরও বলেন, ইউরোপে আমরা যে নীতিগুলো অনুসরণ করি—গণতন্ত্র, রাজনৈতিক ক্ষমতার জবাবদিহি এবং আইনের শাসন—সেগুলোই আমাদের অভিন্ন মূল্যবোধ। এই মূল্যবোধই আমাদের বাংলাদেশি জনগণের সঙ্গে একসূত্রে বেধেছে। এগুলোই ইইউ–বাংলাদেশ জনগণের সহযোগিতার ভিত্তি এবং ভবিষ্যতেও তা অটুট থাকবে। এ সময় তিনি একটি ভালো, অংশগ্রহণমূলক, বিশ্বাসযোগ্য এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা করেন।

 

 

ভোটের সামগ্রিক পরিবেশ ইতিবাচক জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা প্রার্থীদের সঙ্গে যেমন কথা বলেছি, তেমনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও কথা বলেছি। সাধারণভাবে একটি আশাবাদী মনোভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমাদের বেশিরভাগ আলোচনাসঙ্গীই বলেছেন, এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে—যার ভিত্তি হবে গণতন্ত্র।

 

 

বলেন, আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি নিরপেক্ষ থাকার বিষয়টিকে। এটি আমাদের ম্যান্ডেট এবং আমাদের পর্যবেক্ষকদের মূল দায়িত্ব। আমরা এখানে কোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় জড়িত হতে আসিনি, কিংবা বাংলাদেশের রাজনীতি সম্পর্কে নির্দেশনা দিতেও আসিনি। আমরা এখানে এসেছি কেবল প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ ও যাচাই করতে।

 

 

ইইউ প্রধান ইভারস আইজাবস বলেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর আমরা আরও একটি বিস্তৃত চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেব, যেখানে বিভিন্ন বিষয়ে সুপারিশও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সংক্রান্ত বিষয়গুলোও থাকবে, যা বর্তমানে শুধু একটি দেশের নয়—বিশ্বের সব গণতন্ত্রের জন্যই একটি বড় উদ্বেগের বিষয়।

 

 

ভুয়া তথ্য, বিভ্রান্তিমূলক প্রচার এবং এ ধরনের অন্যান্য চ্যালেঞ্জ চূড়ান্ত প্রতিবেদনে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি।