নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত পুলিশের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী এ তথ্য জানা গেছে। বিবিসির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়।
এর মাত্র এক ঘণ্টা আগেও নেপাল পুলিশ জানিয়েছিল, বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৩৩২ জন। এক ঘণ্টার ব্যবধানে মৃতের সংখ্যা আরও ২৭ জন বেড়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে বিভিন্ন এলাকায় কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।
নেপালের ভোতে কোশি নদীর তীরবর্তী রসুয়া ও নুওয়াকোট জেলার কয়েকটি এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষায়, দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ‘কল্পনারও বাইরে’। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে নিখোঁজদের উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন উদ্ধারকারীরা।
দুর্যোগের আঘাতে নেপাল-চীন বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভোতে কোশি নদীর তীরবর্তী এলাকায় থাকা হাইওয়ে, সেতু ও জলবিদ্যুৎ অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চীনের সীমান্তবর্তী অংশেও সড়ক, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
রসুয়াগাধি হয়ে প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক তিব্বতের কৈলাস-মানস সরোবরের দিকে যাতায়াত করেন। পাশাপাশি জনাই পূর্ণিমা উপলক্ষে শত শত নেপালি তীর্থযাত্রীও ওই অঞ্চলের গোসাইঙ্কুণ্ডে যান। ফলে দুর্যোগের সময় ওই এলাকায় বিপুলসংখ্যক পর্যটক ও ভ্রমণকারী উপস্থিত ছিলেন।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভোতে কোশি নদীর উজানে কোনো হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদের পানি হঠাৎ বেরিয়ে আসার কারণে বন্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের সূত্রপাত হতে পারে। তবে দুর্যোগের সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র এখনো নিশ্চিত নয়।
নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে উদ্ধারকাজ জোরদার করা হয়েছে। হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন উদ্ধারকারী দল নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ করছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। আহতদের চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুর সরকারি হাসপাতাল ও নিরাপত্তা বাহিনীর চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো পাঠানো হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম। 























