সম্প্রতি দেশজুড়ে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে খারাপের দিকে যাচ্ছে পটুয়াখালীর ডেঙ্গু পরিস্থিতি। গত ৩৭ ঘণ্টায় পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে অন্তত ২১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। এদের মধ্যে ১০ নারী ও ১১ জন পুরুষ আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
যা এই হাসপাতালে গত দুদিনের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া গড়ে প্রতিদিন এই চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি হচ্ছেন অন্তত ৫ থেকে ৬ জন ডেঙ্গু রোগী। আক্রান্ত এসব রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে সেবক-সেবিকাদের।
এদিকে সাধারণত জ্বর নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসকদের দ্বারস্থ হলেও পরীক্ষার পর ডেঙ্গুর উপস্থিতি মিলছে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীরে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ৫০ শয্যা হাসপাতালে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি রোগীরা সেবা নিচ্ছেন প্রতিদিন। এরইমধ্যে ডেঙ্গুর প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ায় নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে বাড়তি রোগীদের রাখতে বেগ পেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। এছাড়া এই রোগীদের জন্য সরবরাহে অতিপ্রয়োজনীয় স্যালাইনেও ঘাটতি রয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, এই চিকিৎসা কেন্দ্রের দ্বিতীয় তলার অভ্যন্তরে একটি ডেঙ্গু ওয়ার্ডে সারি সারি মশারি সাঁটিয়ে শুয়ে আছেন একাধিক আক্রান্ত মানুষ। এদের মধ্যে তরুণ, মাঝবয়সীদের সংখ্যা বেশি। তবে তুলনামূলক প্রায় অর্ধেক সংখ্যায় নারী রোগীরাও ভর্তি রয়েছেন হাসপাতালে।
হাসপাতালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি মাসেই এই পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন ৬৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। আর রোববার একদিনেই রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন ডেঙ্গু নিয়ে। এছাড়া সোমবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টায় ভর্তি হন ৬ জন। এদের ৪ জন নারী ও ২ জন পুরুষ ডেঙ্গু রোগী।
চিকিৎসা নিতে আসা অনেকের দাবি শুধু কলাপাড়া হাসপাতালেই নয়, একাধিক আক্রান্ত মানুষ বিভিন্ন স্থানে গিয়ে ব্যয়বহুল চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করছেন। এসব মানুষের দাবি সম্প্রতি সময়ে কলাপাড়া উপজেলা এখন ডেঙ্গুর হটস্পট হয়ে উঠেছে।
হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন কলাপাড়া পৌর শহরের বাসিন্দা আব্দুর রহিম মৃধা বলেন, ‘ভর্তি হলেও অনেকে বেড পাচ্ছে না। ছোট হাসপাতালে আর বড় করা উচিত।’
কুয়াকাটা থেকে আসা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘চিকিৎসা নিতে এসে চাদর ও মশারি ঠিক মতো পাওয়া যায় না, একটা নষ্ট হলে আবার চাইলে দিতে দেরি করে। এছাড়া সামান্য ওষুধ ছাড়া অধিকাংশ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।’
কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তেন মং কালবেলাকে বলেন, ‘বর্তমানে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে মোট ২২ জন চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে রোগীরা কিছু সমস্যার কথা বলছেন। স্যালাইনেও ঘাটতি রয়েছে। আমরা এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সচেষ্ট আছি। তবে সচেতনতা বৃদ্ধি না হলে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই সকলেরই সচেতন হওয়ার কথা জানান তিনি।’

ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম 




















