সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

পুকুর খননে জলাবদ্ধতা: তলিয়ে গেল ৭শ হেক্টর জমির ধান

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০৭:২৭:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 62

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম

দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে চলনবিল অধ্যুষিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার যেখানে সেখানে হাজার হাজার পুকুর খনন করা হয়েছে। এতে পানি প্রবাহের খাল-বিল ও নালা বন্ধ হয়ে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে প্রায় ৭শ হেক্টর জমির রোপা আমন।

৬দিন ধরে টানা বৃষ্টিতে জমা পানি বের হতে না পারায় এই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তালম ইউনিয়ন এলাকার তালম পদ্মাপাড়া, নাগর পাড়া, মেলা পাড়া, গুল্টা, চৌড়া, রোকনপুর, কুন্দাশন, মাধাইনগর ইউনিয়ন এলাকার বিলাসপুর, পৌষার, মাদারজানি, কাস্তা, দেশিগ্রাম ইউনিয়ন এলাকার উত্তরশ্যামপুর, কাটাগাড়ি, মাছদক্ষিণা, তেঘরী, দোগারিয়া, নওগাঁ ইউনিয়ন এলাকার খালকুলা, বাঁশবাড়িয়া, বারুহাস ইউনিয়ন এলাকার বস্তুল, কুসুম্বী, মনোহারপুর, দিঘুরিয়াসহ অনন্ত ৪০-৪৫টি গ্রামের ফসলি মাঠে হাঁটু সমান পানি জমে গেছে। যার ফলে প্রায় ৭শ হেক্টর সম্মূর্ণ এবং প্রায় ৯০০ হেক্টর জমির আংশিক জমির রোপা আমন ডুবে গেছে।

উপজেলার চৌড়া এলাকার কৃষক লুৎফর রহমান জানান, জলাবদ্ধতায় পড়া সদ্য লাগানো রোপা আমন ধান অনেক জায়গায় ডুবে গেছে। এভাবে ধান গাছগুলো যদি তিন চারদিন ডুবে থাকে তখন পচে যাবে।

বস্তুল এলাকার কৃষক ফরিদুল ইসলাম জানান, তাড়াশে প্রশাসনিক নজরদারির অভাবে গত ২০০৭ সালের পর থেকে বিভিন্ন ইউনিয়ন এলাকায় যত্রতত্র হাজার হাজার পুকুর খনন করা হয়েছে। পাশাপাশি পুকুর খনন কারণে ব্রিজ, কালভার্ট, খাল-নালা বন্ধ করে বাড়ি ঘর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করায় পানিপ্রবাহের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে অপেক্ষাকৃত নিচু ফসলি জমিতে।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আগস্ট মাসের শুরু থেকে তালম, বারুহাস, নওগাঁ, তাড়াশ সদর, মাধাইনগর, দেশিগ্রাম ইউনিয়ন ও তাড়াশ পৌর এলাকায় চলতি বছর ১৩ হাজার ৯১০ হেক্টের বিভিন্ন জাতের রোপা আমন ধান লাগানো হয়েছে। বর্তমানে বিলের পানি কমে যাওয়া এসব অঞ্চলের আরও কিছু জমিতে লাগানো হচ্ছে রোপা আমন ধান।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি পর্যাবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, গত সোমবার থেকে তাড়াশ অঞ্চলে থেমে থেকে ভারি এবং মাঝারি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রবার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় ৭০ মিলিমিটার। শনি থেকে রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়ে ৬০ মিলিমিটার।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা বলেন, কয়েকদিনের বর্ষণে কিছু জমির ধান আংশিক ডুবে গেছে। আবহাওয়া ভালো হলে বেশি ভাগ জমির ধানের ক্ষতি হবে না।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখোমুখি ফাইটাররা, প্রশ্নোত্তরের পাশাপাশি দেখালেন বক্সিং পোজ

পুকুর খননে জলাবদ্ধতা: তলিয়ে গেল ৭শ হেক্টর জমির ধান

আপডেট টাইম : ০৭:২৭:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম

দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে চলনবিল অধ্যুষিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার যেখানে সেখানে হাজার হাজার পুকুর খনন করা হয়েছে। এতে পানি প্রবাহের খাল-বিল ও নালা বন্ধ হয়ে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে প্রায় ৭শ হেক্টর জমির রোপা আমন।

৬দিন ধরে টানা বৃষ্টিতে জমা পানি বের হতে না পারায় এই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তালম ইউনিয়ন এলাকার তালম পদ্মাপাড়া, নাগর পাড়া, মেলা পাড়া, গুল্টা, চৌড়া, রোকনপুর, কুন্দাশন, মাধাইনগর ইউনিয়ন এলাকার বিলাসপুর, পৌষার, মাদারজানি, কাস্তা, দেশিগ্রাম ইউনিয়ন এলাকার উত্তরশ্যামপুর, কাটাগাড়ি, মাছদক্ষিণা, তেঘরী, দোগারিয়া, নওগাঁ ইউনিয়ন এলাকার খালকুলা, বাঁশবাড়িয়া, বারুহাস ইউনিয়ন এলাকার বস্তুল, কুসুম্বী, মনোহারপুর, দিঘুরিয়াসহ অনন্ত ৪০-৪৫টি গ্রামের ফসলি মাঠে হাঁটু সমান পানি জমে গেছে। যার ফলে প্রায় ৭শ হেক্টর সম্মূর্ণ এবং প্রায় ৯০০ হেক্টর জমির আংশিক জমির রোপা আমন ডুবে গেছে।

উপজেলার চৌড়া এলাকার কৃষক লুৎফর রহমান জানান, জলাবদ্ধতায় পড়া সদ্য লাগানো রোপা আমন ধান অনেক জায়গায় ডুবে গেছে। এভাবে ধান গাছগুলো যদি তিন চারদিন ডুবে থাকে তখন পচে যাবে।

বস্তুল এলাকার কৃষক ফরিদুল ইসলাম জানান, তাড়াশে প্রশাসনিক নজরদারির অভাবে গত ২০০৭ সালের পর থেকে বিভিন্ন ইউনিয়ন এলাকায় যত্রতত্র হাজার হাজার পুকুর খনন করা হয়েছে। পাশাপাশি পুকুর খনন কারণে ব্রিজ, কালভার্ট, খাল-নালা বন্ধ করে বাড়ি ঘর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করায় পানিপ্রবাহের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে অপেক্ষাকৃত নিচু ফসলি জমিতে।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আগস্ট মাসের শুরু থেকে তালম, বারুহাস, নওগাঁ, তাড়াশ সদর, মাধাইনগর, দেশিগ্রাম ইউনিয়ন ও তাড়াশ পৌর এলাকায় চলতি বছর ১৩ হাজার ৯১০ হেক্টের বিভিন্ন জাতের রোপা আমন ধান লাগানো হয়েছে। বর্তমানে বিলের পানি কমে যাওয়া এসব অঞ্চলের আরও কিছু জমিতে লাগানো হচ্ছে রোপা আমন ধান।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি পর্যাবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, গত সোমবার থেকে তাড়াশ অঞ্চলে থেমে থেকে ভারি এবং মাঝারি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রবার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় ৭০ মিলিমিটার। শনি থেকে রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়ে ৬০ মিলিমিটার।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা বলেন, কয়েকদিনের বর্ষণে কিছু জমির ধান আংশিক ডুবে গেছে। আবহাওয়া ভালো হলে বেশি ভাগ জমির ধানের ক্ষতি হবে না।