সিরাজগঞ্জ , রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

‘পুলিশি সতর্কতা’র মধ্যেই যশোরে যুবলীগের ঝটিকা মিছিল

যুবলীগের নামে যশোরে ঝটিকা মিছিল

যশোর: পুলিশের ‘বিশেষ সতর্কতা’র মধ্যেই এবার যশোরে বিক্ষোভ করেছে যুবলীগ নামধারীরা। তাও খোদ শহরের আদালতপাড়া থেকে মিছিলটি বের হয়। যদিও এর স্থায়িত্ব ছিল মাত্র কয়েক মিনিটের।

যশোর পৌরসভার ছয় নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর পলাতক যুবলীগ নেতা আলমগীর কবির সুমন ওরফে হাজি সুমন নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে মিছিলের একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বেশ কিছু ব্যক্তি শহরের আদালত পাড়ার আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনের সামনে থেকে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি মিছিল বের করেন।

মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের প্রায় সবাই চেহারা আড়াল করে এসেছিলেন। তাদের কেউ হেলমেট, আবার কেউ মাস্ক পরে মিছিলে অংশ নেন। মিছিলটি শুরু হয়ে পোস্ট অফিসের সামনে দিয়ে কয়েশ’ গজ দূরের মাইকপট্টিতে শেষ হয়। সেখান থেকে অংশগ্রহণকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।

প্রসঙ্গত, পলাতক আলমগীর কবির সুমনের বাড়ি এই এলাকার পোস্ট অফিস পাড়ায়। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের ক্যাডার হিসেবে অধিক পরিচিত। যদিও তার পিতা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল খালেক যশোর জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ছিলেন।

আলমগীর কবির সুমনের বিরুদ্ধে যশোরে ব্যাপক চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলদারিত্ব, অপহরণের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায় এবং অস্ত্র বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর পরই আত্মগোপনে চলে যান সুমন। পরে শোনা যায় তিনি মালয়েশিয়াতে অবস্থান করছেন।

সেখান থেকেই পরিচালিত হচ্ছে তার অপরাধের সাম্রাজ্য। একইসাথে তিনি যশোরে তার অনুসারীদের মাধ্যমে নানা নাশকতা এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকান্ডও পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মিছিলে অংশ গ্রহণকারীরাও আলমগীর কবির সুমনের ক্যাডার এবং তাদের বাড়ি আশপাশের এলাকায় বলে জানিয়েছেন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী।

এদিকে, কয়েক মিনিটের ওই কথিত মিছিল থেকে স্লোগান দেওয়া হয়, ‘শেখ হাসিনার সরকার, বার বার দরকার’, ‘শেখ হাসিনা ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’ ইত্যাদি।

বিষয়টি নিয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক কাজী বাবুল আগের মতোই ‘কিছু জানা নেই’ বলে বক্তব্য দিয়েছেন মিডিয়াকে। তিনি বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নেবেন বলেও জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, যশোর পুলিশ সোমবার থেকে বিশেষ সতকর্তামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানানো হয়। বলা হয়, দৃশমান হিসেবে পুলিশি মহড়া এবং বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এও জানানো হয়, পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা ধরে কাজ করছেন। এর মধ্যেই যুবলীগের নামে এই মিছিল পুলিশের বক্তব্যের অসারতাকেই প্রমাণ করেছে বলে উল্লেখ করেছেন অনেকে।

94
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘পুলিশি সতর্কতা’র মধ্যেই যশোরে যুবলীগের ঝটিকা মিছিল

আপডেট টাইম : ০১:৪২:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

যশোর: পুলিশের ‘বিশেষ সতর্কতা’র মধ্যেই এবার যশোরে বিক্ষোভ করেছে যুবলীগ নামধারীরা। তাও খোদ শহরের আদালতপাড়া থেকে মিছিলটি বের হয়। যদিও এর স্থায়িত্ব ছিল মাত্র কয়েক মিনিটের।

যশোর পৌরসভার ছয় নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর পলাতক যুবলীগ নেতা আলমগীর কবির সুমন ওরফে হাজি সুমন নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে মিছিলের একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বেশ কিছু ব্যক্তি শহরের আদালত পাড়ার আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনের সামনে থেকে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি মিছিল বের করেন।

মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের প্রায় সবাই চেহারা আড়াল করে এসেছিলেন। তাদের কেউ হেলমেট, আবার কেউ মাস্ক পরে মিছিলে অংশ নেন। মিছিলটি শুরু হয়ে পোস্ট অফিসের সামনে দিয়ে কয়েশ’ গজ দূরের মাইকপট্টিতে শেষ হয়। সেখান থেকে অংশগ্রহণকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।

প্রসঙ্গত, পলাতক আলমগীর কবির সুমনের বাড়ি এই এলাকার পোস্ট অফিস পাড়ায়। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের ক্যাডার হিসেবে অধিক পরিচিত। যদিও তার পিতা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল খালেক যশোর জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ছিলেন।

আলমগীর কবির সুমনের বিরুদ্ধে যশোরে ব্যাপক চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলদারিত্ব, অপহরণের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায় এবং অস্ত্র বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর পরই আত্মগোপনে চলে যান সুমন। পরে শোনা যায় তিনি মালয়েশিয়াতে অবস্থান করছেন।

সেখান থেকেই পরিচালিত হচ্ছে তার অপরাধের সাম্রাজ্য। একইসাথে তিনি যশোরে তার অনুসারীদের মাধ্যমে নানা নাশকতা এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকান্ডও পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মিছিলে অংশ গ্রহণকারীরাও আলমগীর কবির সুমনের ক্যাডার এবং তাদের বাড়ি আশপাশের এলাকায় বলে জানিয়েছেন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী।

এদিকে, কয়েক মিনিটের ওই কথিত মিছিল থেকে স্লোগান দেওয়া হয়, ‘শেখ হাসিনার সরকার, বার বার দরকার’, ‘শেখ হাসিনা ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’ ইত্যাদি।

বিষয়টি নিয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক কাজী বাবুল আগের মতোই ‘কিছু জানা নেই’ বলে বক্তব্য দিয়েছেন মিডিয়াকে। তিনি বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নেবেন বলেও জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, যশোর পুলিশ সোমবার থেকে বিশেষ সতকর্তামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানানো হয়। বলা হয়, দৃশমান হিসেবে পুলিশি মহড়া এবং বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এও জানানো হয়, পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা ধরে কাজ করছেন। এর মধ্যেই যুবলীগের নামে এই মিছিল পুলিশের বক্তব্যের অসারতাকেই প্রমাণ করেছে বলে উল্লেখ করেছেন অনেকে।