সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

আলোচনায় বসতে রাজি ইরান, তবে রয়েছে একটি শর্ত

দুই দেশের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাকত রাভাঞ্চি। তবে এজন্য একটি শর্তারোপ করেছে ইরান। দেশটির দাবি, এজন্য ওয়াশিংটনকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনায় আগ্রহ দেখাতে হবে।

 

 

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

তেহরানে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাকত রাভাঞ্চি বলেন, চুক্তি করতে চাইলে আমেরিকাকেই প্রমাণ করতে হবে যে তারা আন্তরিক। তারা যদি সত্যিই আগ্রহী হয়, তাহলে আমরা সমঝোতার পথে এগোতে পারব।

 

অন্যদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা বরাবরই দাবি করে আসছেন, আলোচনা এগোতে দেরি হচ্ছে ইরানের কারণে। শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি চুক্তি চান, তবে ইরানের সঙ্গে তা করা খুবই কঠিন।

সম্প্রতি ওমানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে। তাকত রাভাঞ্চি জানান, আগামী মঙ্গলবার জেনেভায় দ্বিতীয় দফা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। আলোচনাকে তিনি মোটামুটি ইতিবাচক বলে উল্লেখ করলেও চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য সময় প্রয়োজন বলে জানান।

 

ইরান ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পাতলা (ডাইলিউট) করার প্রস্তাব দিয়েছে, যা তাদের সমঝোতার ইচ্ছার প্রমাণ বলে দাবি করেন তিনি। বর্তমানে ইরানের কাছে ৪০০ কেজির বেশি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে। তবে এটি দেশটির ভেতরেই থাকবে নাকি ২০১৫ সালের চুক্তির মতো বাইরে পাঠানো হবে তা নিয়ে এখনই কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

 

 

২০১৫ সালের বহুপাক্ষিক পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৮ সালে সরে দাঁড়ায়। সেই চুক্তির অংশ হিসেবে রাশিয়া নিম্নমাত্রায় সমৃদ্ধ ১১ হাজার কেজি ইউরেনিয়াম গ্রহণ করেছিল। মস্কো আবারও এ ধরনের প্রস্তাব দিয়েছে।

 

 

তাকত রাভাঞ্চি বলেন, আলোচনা কেবল পারমাণবিক ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের ‘শূন্য সমৃদ্ধকরণ’ দাবি এখন আর আলোচনার টেবিলে নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে ট্রাম্প সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেছেন, তারা কোনো ধরনের সমৃদ্ধকরণই চান না।

 

 

বিবিসি জানিয়েছে, ইরান তার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তাকত-রাভাঞ্চি বলেন, যখন আমাদের ওপর হামলা হয়েছে, তখন আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রই আত্মরক্ষায় সহায়তা করেছে। তাই প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ত্যাগ করা সম্ভব নয়।

 

 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, চুক্তি না হলে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হতে পারে। জবাবে ইরান সতর্ক করেছে, কোনো আগ্রাসন হলে তা পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলবে এবং প্রয়োজনে তারা জবাব দেবে।

 

 

ইরান আরও অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল আলোচনাকে ব্যাহত করার চেষ্টা করছে। তবে সব জটিলতা সত্ত্বেও কূটনৈতিক পথেই সমাধানের আশা প্রকাশ করেছেন তাকত রাভাঞ্চি। তিনি বলেন, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, তবে অপর পক্ষকেও আন্তরিকতা দেখাতে হবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

আলোচনায় বসতে রাজি ইরান, তবে রয়েছে একটি শর্ত

আপডেট টাইম : ০২:০৭:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাকত রাভাঞ্চি। তবে এজন্য একটি শর্তারোপ করেছে ইরান। দেশটির দাবি, এজন্য ওয়াশিংটনকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনায় আগ্রহ দেখাতে হবে।

 

 

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

তেহরানে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাকত রাভাঞ্চি বলেন, চুক্তি করতে চাইলে আমেরিকাকেই প্রমাণ করতে হবে যে তারা আন্তরিক। তারা যদি সত্যিই আগ্রহী হয়, তাহলে আমরা সমঝোতার পথে এগোতে পারব।

 

অন্যদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা বরাবরই দাবি করে আসছেন, আলোচনা এগোতে দেরি হচ্ছে ইরানের কারণে। শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি চুক্তি চান, তবে ইরানের সঙ্গে তা করা খুবই কঠিন।

সম্প্রতি ওমানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে। তাকত রাভাঞ্চি জানান, আগামী মঙ্গলবার জেনেভায় দ্বিতীয় দফা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। আলোচনাকে তিনি মোটামুটি ইতিবাচক বলে উল্লেখ করলেও চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য সময় প্রয়োজন বলে জানান।

 

ইরান ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পাতলা (ডাইলিউট) করার প্রস্তাব দিয়েছে, যা তাদের সমঝোতার ইচ্ছার প্রমাণ বলে দাবি করেন তিনি। বর্তমানে ইরানের কাছে ৪০০ কেজির বেশি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে। তবে এটি দেশটির ভেতরেই থাকবে নাকি ২০১৫ সালের চুক্তির মতো বাইরে পাঠানো হবে তা নিয়ে এখনই কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

 

 

২০১৫ সালের বহুপাক্ষিক পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৮ সালে সরে দাঁড়ায়। সেই চুক্তির অংশ হিসেবে রাশিয়া নিম্নমাত্রায় সমৃদ্ধ ১১ হাজার কেজি ইউরেনিয়াম গ্রহণ করেছিল। মস্কো আবারও এ ধরনের প্রস্তাব দিয়েছে।

 

 

তাকত রাভাঞ্চি বলেন, আলোচনা কেবল পারমাণবিক ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের ‘শূন্য সমৃদ্ধকরণ’ দাবি এখন আর আলোচনার টেবিলে নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে ট্রাম্প সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেছেন, তারা কোনো ধরনের সমৃদ্ধকরণই চান না।

 

 

বিবিসি জানিয়েছে, ইরান তার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তাকত-রাভাঞ্চি বলেন, যখন আমাদের ওপর হামলা হয়েছে, তখন আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রই আত্মরক্ষায় সহায়তা করেছে। তাই প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ত্যাগ করা সম্ভব নয়।

 

 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, চুক্তি না হলে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হতে পারে। জবাবে ইরান সতর্ক করেছে, কোনো আগ্রাসন হলে তা পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলবে এবং প্রয়োজনে তারা জবাব দেবে।

 

 

ইরান আরও অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল আলোচনাকে ব্যাহত করার চেষ্টা করছে। তবে সব জটিলতা সত্ত্বেও কূটনৈতিক পথেই সমাধানের আশা প্রকাশ করেছেন তাকত রাভাঞ্চি। তিনি বলেন, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, তবে অপর পক্ষকেও আন্তরিকতা দেখাতে হবে।