বিনোদন ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
বিশ্বজিৎ চ্যাটার্জি, বলিউডের এক সময়ের তুমুল জনপ্রিয় নায়ক। ষাট থেকে আশির দশক পর্যন্ত বলিউড দাপিয়ে বেড়িয়েছেন বাঙালি এই অভিনেতা। তার ছেলে প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি কলকাতার বাংলা সিনেমায় তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে রাজত্ব করলেও বলিউডের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। এ নিয়ে আফসোস রয়েছে বাবা বিশ্বজিৎ চ্যাটার্জির।
সম্প্রতি কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমন আক্ষেপ করেছেন বিশ্বজিৎ। ওই সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, “আমার ছেলে কিছুতেই আমার মত বলিউডে এল না। ওকে বলেছিলাম, হিন্দি সিনোমার হিরো হওয়ার সব গুণ তোমার মধ্যে। তুমি চলে এসো।
“ও পাল্টা বলল, ‘কলকাতায় আমার জায়গা তৈরি করেছি। ওরা আমায় খুব ভালবাসে। ওই জায়গা ছেড়ে বলিউডে আসতে রাজি নই।‘ কত ডাক ফিরিয়ে দিয়েছে! সেই সময় বুম্বা (প্রসেনজিৎ) কথা শুনলে আজ বলিউডের প্রথম সারির নায়ক হত।”
হিন্দি চলচ্চিত্রের বিস্তৃত পরিসর ফেলে বাংলা সিনেমাতেই কেন প্রসেনজিৎ ক্যারিয়ার গড়লেন, সে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বরাবর বলেছেন, তিনি বাংলা সিনেমায় কেবল অভিনেতা হয়ে নয়, ‘নায়ক’ হিসেবে রাজত্ব করতে চান।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “দাদার (উত্তম কুমার) মতই ইন্ডাস্ট্রির প্রতি দায়িত্ববোধ। সবাইকে আগলে নিয়ে একসঙ্গে চলার চেষ্টা করে। একটা সময় তো একা ঘাড়ে করে ইন্ডাস্ট্রিকে বয়েছে। সুখে-দুঃখে সবার পাশে থাকতে চায়।”
কয়েক প্রজন্মের দর্শক প্রসেনজিতের সিনেমা দেখছে। ১৯৬৮ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে হৃষিকেশ মুখার্জির ‘ছোট্ট জিজ্ঞাসা’ সিনেমায় প্রথম পর্দায় আসেন প্রসেনজিৎ। আর ১৯৮৭ সালে সুজিত গুহের ‘অমর সঙ্গী’তে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি পান। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি এই নায়ককে, একের পর এক হিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন ভক্তদের।
নব্বই দশকের শুরুতে ডেভিড ধাওয়ানের ‘আঁধিয়ান’ দিয়ে বলিউডে অভিষেক হয়েছিল প্রসেনজিতের। এর আগে সালমান খান অভিনীত ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ করারও প্রস্তাব এসেছিল অভিনেতার কাছে। এছাড়া তিনি কাজ করেছেন ‘সাংঘাই’ নামের একটি সিনেমাতে।
তবে প্রসেনজিৎকে ‘অভিনেতা’ হিসেবে তুলে ধরেন প্রয়াত নির্মাতা ঋতুপর্ণ ঘোষ, ২০০৩ সালে তার ‘চোখের বালি’ সিনেমায়। এর পর থেকে ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক সিনেমা থেকে দূরে সরে যান অভিনেতা।
২০১০ সালে নির্মাতা সৃজিত মুখার্জির হাত ধরে ‘অটোগ্রাফ’ সিনেমা এবং পরে একের পর এক গল্প ও চরিত্রনির্ভর সিনেমা করে নিজেকে ‘অন্য মাত্রায়’ তুলে ধরেন প্রসেনজিৎ।
তবে ওটিটিতে তার হাতেখড়ি হয়েছে হিন্দি সিরিজ দিয়ে। ২০২২ সালে ওয়েব সিরিজ ‘স্কুপ’ ও ‘জুবলি’ দিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি।
এবারের দুর্গোৎসবের সময়ে মুক্তি পেয়েছে ‘দেবী চৌধুরাণী’। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমায় ‘ভবানী পাঠক’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রসেনজিৎ।

রিপোর্টার: 

























