সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বার্সার কোচের চোখে নতুন ‘ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো’

একটি দুঃসাহসিক চালেই বাজিমাত করেছেন বার্সেলোনা কোচ হানসি ফ্লিক। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়াকে নামিয়ে দিয়েছেন এক সম্পূর্ণ নতুন ভূমিকায়। ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গোলডটকমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

 

 

দলবদল বাজারের অচলাবস্থার মধ্যে একজন প্রথাগত নম্বর নাইন (সেন্টার-ফরোয়ার্ড) খুঁজে না পেয়ে, এই জার্মান কোচ ব্রাজিলিয়ান তারকা রাফিনিয়াকেই করেন দলের আক্রমণের মূল অস্ত্র। কোচের আস্থার প্রতিদানও তিনি দিয়েছেন হাতেনাতে। লা লিগার প্রথম চার ম্যাচেই করেছেন ছয় গোল, যা তাকে তুলে এনেছে গোলদাতাদের তালিকার শীর্ষে। আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফেয়েনোর্ডের বিপক্ষে ঝুলিতে পুরেছেন আরও দুটি গোল।

 

আরও পড়ুন: বার্সার কোচের চোখে নতুন ‘ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো’

 

মাঠে রাফিনিয়ার এই নতুন রূপ সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। তবে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল ভিটর কাম্পেলোস। কাতালান দৈনিক ‘স্পোর্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপে রাফিনিয়ার প্রথম এই কোচের অধীনেই ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে মাঝবরাবর খেলার সুযোগ পান তিনি।

পর্তুগিজ এই কোচ বর্তমানে স্লোভেনিয়ার ক্লাব ‘সেলজে’র কোচের দায়িত্বে রয়েছেন। ভিক্টোরিয়া গিমারেজের রিজার্ভ দলে মাত্র ১৯ বছর বয়সে রাফিনিয়াকে প্রথমবার কাছে পাওয়ার সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন স্পোর্টের সঙ্গে।

কাম্পেলোস জানান, ২০১৫-১৬ মৌসুমে পোর্তো বি দলের বিরুদ্ধে কেবল একটি ম্যাচের শেষ দিকে আমরা তাকে মূল স্ট্রাইকার হিসেবে নামিয়েছিলাম। কারণ এই পজিশনে খেলার জন্য প্রয়োজনীয় সব গুণাবলি তার মধ্যে ছিল।

প্রথম থেকেই রেকর্ডের খাতায় নাম লেখানোর ঝোঁক ছিল রাফিনিয়ার। বার্সেলোনার ইতিহাসে লা লিগার প্রথম চার ম্যাচে অন্তত ছয়টি গোল করা ষষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দুটি গোল তো রয়েছেই।

 

 

 

 

গোলের প্রতি এমন তীক্ষ্ণ নজর দেখে মোটেও অবাক হননি কাম্পেলোস। তিনি বলেন, রাফিনিয়া তখন কেবল এক উদীয়মান তরুণ, কিন্তু তার একটি চমৎকার গুণ ছিল- গোলকিপারের মুখোমুখি হলে সে অত্যন্ত নিখুঁত ও শানিত হয়ে উঠত। ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে গোল করাটা তার জন্য ডালভাত ছিল।

 

 

 

 

এক দশক পর আজকের দিনে রাফিনিয়ার এমন দুর্দান্ত সূচনা দেখে তার সেই পুরোনো কোচের বিশ্বাস, সেন্ট্রাল-ফরোয়ার্ড পজিশনটি স্থায়ীভাবে নিজের করে নিতে পারেন রাফিনিয়া। ঠিক যেভাবে একসময় মাঠ কাঁপিয়েছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

 

 

 

 

পর্তুগিজ এই কৌশলবিদ আরও বলেন, ভবিষ্যতে এটিই হতে পারে তার প্রধান পজিশন। রোনালদোর মতোই এক বিবর্তনীয় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সে যেতে পারে। রোনালদোও তো শুরুটা করেছিলেন উইঙ্গার হিসেবে, পরে হয়ে ওঠেন দলের আক্রমণের মূল স্তম্ভ।

 

 

 

 

কেবল গোলের সংখ্যা দিয়েই রাফিনিয়াকে মাপা কঠিন; তার পরিশ্রম ও প্রতিশ্রুতির সুনামও কুড়িয়েছে ফুটবল বিশ্বে। উইংয়েই খেলুন কিংবা ফরোয়ার্ডে, প্রতিপক্ষ যখন পিছন থেকে আক্রমণ গোছানোর চেষ্টা করে, তখন বার্সার হাই-প্রেসিংয়ের নেতৃত্বটা দেন এই ব্রাজিলিয়ানই।

 

 

 

 

স্মৃতিচারণ করে কাম্পেলোস বলেন, সে যে একদিন বার্সেলোনা কিংবা ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে খেলবে, তা হয়তো সেদিন ভাবিনি। কিন্তু তার পেশাদারিত্ব দেখে আমরা নিশ্চিত ছিলাম যে সে বিশ্বের শীর্ষ সারির কোনো ক্লাবে খেলবে। কারণ প্রতিদিন নিজের সেরাটা ঢেলে দিয়ে সে অনুশীলন করত- সবসময় এক অপরাজেয় মনোভাব, সর্বোচ্চ শক্তি ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখত সে।

 

 

 

 

প্রসঙ্গত, বার্সেলোনার জার্সি গায়ে চার মৌসুম পেরোতেই ১৮২ ম্যাচে তার ঝুলিতে জমেছে ৮৩টি গোল আর ৫৩টি অ্যাসিস্ট। এমন নজরকাড়া পরিসংখ্যানই তাকে ২০২৫ সালের ব্যালনের ডি’অর জয়ের রেসে বেশ কাছে নিয়ে এসেছিল। অথচ এবারের ৩০ জনের চূড়ান্ত সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পাননি এই ব্রাজিলিয়ান।

 

 

 

 

তবে কাম্পেলোসের মতে, এই তালিকায় থাকাটা তার একদম প্রাপ্য ছিল। তিনি বলেন, আমি মনেপ্রাণে চেয়েছিলাম সে থাকুক। কারণ যেভাবে সে নিজেকে নিংড়ে দিয়েছে এবং যেভাবে প্রতিনিয়ত নিজের উন্নতি ঘটিয়েছে, তাতে এই পুরস্কারের প্রধান দাবিদার সে-ই হতে পারে। একেবারে সাধারণ অবস্থা থেকে শুরু করে কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায় দিয়ে আজকের এই অবস্থানে এসেছে সে। যা অর্জন করার, সেই যোগ্যতা ওর শতভাগ রয়েছে।

 

 

 

সূত্র: গোলডটকম

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বার্সার কোচের চোখে নতুন ‘ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো’

আপডেট টাইম : ০৭:১৯:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একটি দুঃসাহসিক চালেই বাজিমাত করেছেন বার্সেলোনা কোচ হানসি ফ্লিক। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়াকে নামিয়ে দিয়েছেন এক সম্পূর্ণ নতুন ভূমিকায়। ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গোলডটকমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

 

 

দলবদল বাজারের অচলাবস্থার মধ্যে একজন প্রথাগত নম্বর নাইন (সেন্টার-ফরোয়ার্ড) খুঁজে না পেয়ে, এই জার্মান কোচ ব্রাজিলিয়ান তারকা রাফিনিয়াকেই করেন দলের আক্রমণের মূল অস্ত্র। কোচের আস্থার প্রতিদানও তিনি দিয়েছেন হাতেনাতে। লা লিগার প্রথম চার ম্যাচেই করেছেন ছয় গোল, যা তাকে তুলে এনেছে গোলদাতাদের তালিকার শীর্ষে। আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফেয়েনোর্ডের বিপক্ষে ঝুলিতে পুরেছেন আরও দুটি গোল।

 

আরও পড়ুন: বার্সার কোচের চোখে নতুন ‘ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো’

 

মাঠে রাফিনিয়ার এই নতুন রূপ সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। তবে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল ভিটর কাম্পেলোস। কাতালান দৈনিক ‘স্পোর্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপে রাফিনিয়ার প্রথম এই কোচের অধীনেই ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে মাঝবরাবর খেলার সুযোগ পান তিনি।

পর্তুগিজ এই কোচ বর্তমানে স্লোভেনিয়ার ক্লাব ‘সেলজে’র কোচের দায়িত্বে রয়েছেন। ভিক্টোরিয়া গিমারেজের রিজার্ভ দলে মাত্র ১৯ বছর বয়সে রাফিনিয়াকে প্রথমবার কাছে পাওয়ার সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন স্পোর্টের সঙ্গে।

কাম্পেলোস জানান, ২০১৫-১৬ মৌসুমে পোর্তো বি দলের বিরুদ্ধে কেবল একটি ম্যাচের শেষ দিকে আমরা তাকে মূল স্ট্রাইকার হিসেবে নামিয়েছিলাম। কারণ এই পজিশনে খেলার জন্য প্রয়োজনীয় সব গুণাবলি তার মধ্যে ছিল।

প্রথম থেকেই রেকর্ডের খাতায় নাম লেখানোর ঝোঁক ছিল রাফিনিয়ার। বার্সেলোনার ইতিহাসে লা লিগার প্রথম চার ম্যাচে অন্তত ছয়টি গোল করা ষষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দুটি গোল তো রয়েছেই।

 

 

 

 

গোলের প্রতি এমন তীক্ষ্ণ নজর দেখে মোটেও অবাক হননি কাম্পেলোস। তিনি বলেন, রাফিনিয়া তখন কেবল এক উদীয়মান তরুণ, কিন্তু তার একটি চমৎকার গুণ ছিল- গোলকিপারের মুখোমুখি হলে সে অত্যন্ত নিখুঁত ও শানিত হয়ে উঠত। ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে গোল করাটা তার জন্য ডালভাত ছিল।

 

 

 

 

এক দশক পর আজকের দিনে রাফিনিয়ার এমন দুর্দান্ত সূচনা দেখে তার সেই পুরোনো কোচের বিশ্বাস, সেন্ট্রাল-ফরোয়ার্ড পজিশনটি স্থায়ীভাবে নিজের করে নিতে পারেন রাফিনিয়া। ঠিক যেভাবে একসময় মাঠ কাঁপিয়েছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

 

 

 

 

পর্তুগিজ এই কৌশলবিদ আরও বলেন, ভবিষ্যতে এটিই হতে পারে তার প্রধান পজিশন। রোনালদোর মতোই এক বিবর্তনীয় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সে যেতে পারে। রোনালদোও তো শুরুটা করেছিলেন উইঙ্গার হিসেবে, পরে হয়ে ওঠেন দলের আক্রমণের মূল স্তম্ভ।

 

 

 

 

কেবল গোলের সংখ্যা দিয়েই রাফিনিয়াকে মাপা কঠিন; তার পরিশ্রম ও প্রতিশ্রুতির সুনামও কুড়িয়েছে ফুটবল বিশ্বে। উইংয়েই খেলুন কিংবা ফরোয়ার্ডে, প্রতিপক্ষ যখন পিছন থেকে আক্রমণ গোছানোর চেষ্টা করে, তখন বার্সার হাই-প্রেসিংয়ের নেতৃত্বটা দেন এই ব্রাজিলিয়ানই।

 

 

 

 

স্মৃতিচারণ করে কাম্পেলোস বলেন, সে যে একদিন বার্সেলোনা কিংবা ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে খেলবে, তা হয়তো সেদিন ভাবিনি। কিন্তু তার পেশাদারিত্ব দেখে আমরা নিশ্চিত ছিলাম যে সে বিশ্বের শীর্ষ সারির কোনো ক্লাবে খেলবে। কারণ প্রতিদিন নিজের সেরাটা ঢেলে দিয়ে সে অনুশীলন করত- সবসময় এক অপরাজেয় মনোভাব, সর্বোচ্চ শক্তি ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখত সে।

 

 

 

 

প্রসঙ্গত, বার্সেলোনার জার্সি গায়ে চার মৌসুম পেরোতেই ১৮২ ম্যাচে তার ঝুলিতে জমেছে ৮৩টি গোল আর ৫৩টি অ্যাসিস্ট। এমন নজরকাড়া পরিসংখ্যানই তাকে ২০২৫ সালের ব্যালনের ডি’অর জয়ের রেসে বেশ কাছে নিয়ে এসেছিল। অথচ এবারের ৩০ জনের চূড়ান্ত সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পাননি এই ব্রাজিলিয়ান।

 

 

 

 

তবে কাম্পেলোসের মতে, এই তালিকায় থাকাটা তার একদম প্রাপ্য ছিল। তিনি বলেন, আমি মনেপ্রাণে চেয়েছিলাম সে থাকুক। কারণ যেভাবে সে নিজেকে নিংড়ে দিয়েছে এবং যেভাবে প্রতিনিয়ত নিজের উন্নতি ঘটিয়েছে, তাতে এই পুরস্কারের প্রধান দাবিদার সে-ই হতে পারে। একেবারে সাধারণ অবস্থা থেকে শুরু করে কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায় দিয়ে আজকের এই অবস্থানে এসেছে সে। যা অর্জন করার, সেই যোগ্যতা ওর শতভাগ রয়েছে।

 

 

 

সূত্র: গোলডটকম