বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই বাড়তি উত্তাপ। ভক্ত-সমর্থকদের মধ্যে অন্যরকম উত্তেজনা। ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র ৩২ দিন বাকি। এবারের বিশ্বকাপ ফুটবলে সব কিছুর দামই আকাশচুম্বী! টিকিটের দাম থেকে শুরু করে এখন সম্প্রচার স্বত্বও চূড়ায় উঠতে শুরু করেছে। যে কারণে চীন, ভারত সম্প্রচার নিয়ে জটিলতায় পড়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা।
বাংলাদেশে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের জন্য স্বত্ব পেয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক মিডিয়া সংস্থা ‘স্প্রিংবক’। কিন্তু তারা এখন সেটি সম্প্রচারের জন্য বিটিভির কাছে যে পরিমাণ অর্থ চেয়েছে, তা দেশের একমাত্র সরকারি টেলিভিশনের বাজেটকেই প্রায় ছুঁয়ে ফেলছে! অনলাইন নিউজপোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন এর এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ টেলিভিশনের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘স্প্রিংবক থেকে আমাদের কাছে ১৫১ কোটি টাকার একটি প্রস্তাব এসেছে। এছাড়া এর সঙ্গে ট্যাক্স ও ভ্যাট মিলিয়ে সেটা দুইশত কোটি টাকা দাঁড়াবে।’
তারপরই ওই কর্তা জানান, এত অর্থ দিয়ে আসলে বিটিভির মতো প্রতিষ্ঠানের খেলা দেখানো অসম্ভব। তার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি, ‘আসলে এত টাকা দিয়ে বিটিভির পক্ষে বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব কেনা সম্ভব নয়। বিটিভির সারা বছরের বাজেটই আছে তিনশত কোটি টাকা। এর মধ্যে যদি আমরা দুইশত কোটি টাকা দিয়ে সম্প্রচার স্বত্ব কিনি তাহলে টেলিভিশন চলবে কী করে? সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এত টাকা দিয়ে স্বত্ব কিনে বিটিভি তো কোনোভাবেই লাভ করতে পারবে না। বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।’
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব ৯৮ কোটি টাকায় কিনেছিল বিটিভি। যার কারণে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছিল দেশের একমাত্র সরকারি টেলিভিশনকে। এ নিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘কাতার বিশ্বকাপে সম্প্রচার স্বত্ব কেনা নিয়ে পরবর্তীতে বিটিভিকে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল। আমরা বিজ্ঞাপন থেকে কিছু টাকা সংগ্রহ করতে পারলেও বিনিয়োগের পুরা টাকা আসেনি। বড় ক্ষতি হয়েছিল। এখন সরকার যদি মনে করে বিটিভির মাধ্যমে বিশ্বকাপ দেখাবে, তাহলে হয়তো সম্ভব। এছাড়া এই মুহূর্তে অন্য কোনও বিকল্প নেই।’
শেষ পর্যন্ত যদি বাংলাদেশেও বিশ্বকাপ সম্প্রচার না হয় তাহলে বিশ্বের একটি বড় অংশই সম্প্রচার তালিকার বাইরে চলে যাবে।
কিছু দিন আগেই যেমন রয়টার্সকে ফিফা জানিয়েছিল যে তারা ১৭৫টিরও বেশি অঞ্চলের সঙ্গে সম্প্রচার চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এটা সত্য হলেও বাস্তব চিত্র আরও জটিল। কারণ এখনও পাকিস্তান, বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি। তার ওপর ভারত ও চীনসহ বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল কয়েকটি দেশও ফিফার সম্প্রচার তালিকার বাইরে। অর্থাৎ বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ জনসংখ্যা এই সম্প্রচার কাভারেজের বাইরে রয়ে গেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বাদ পড়া দেশগুলোর বড় অংশই একই অঞ্চলের, মূলত টাইম জোন সমস্যা। ভারত যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে সাড়ে ৯ ঘণ্টা এবং চীন ১২ ঘণ্টা এগিয়ে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলো সেখানে বেশিরভাগ সময় গভীর রাত বা ভোরে সম্প্রচার হবে।
এর বিপরীতে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সময়ের পার্থক্য ছিল তুলনামূলক সুবিধাজনক সময়ে। ভারতের সঙ্গে ব্যবধান ছিল মাত্র আড়াই ঘণ্টা এবং চীনের সঙ্গে ৫ ঘণ্টা। সেই কারণেই সে সময় ভারতের ভায়াকম১৮ (বর্তমানে রিলায়েন্সের অধীনে থাকা জিওসিনেমা প্ল্যাটফর্ম) ৬ কোটি ডলারে সম্প্রচার স্বত্ব কিনেছিল এবং বিনামূল্যে ম্যাচ দেখিয়েছিল। ফলে প্ল্যাটফর্মটির দর্শক সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়ে গিয়েছিল। তবে সেখানেও বিজ্ঞাপন আয় ছিল কম, প্রায় ৩ কোটি ডলার। যার ফলে প্রতিষ্ঠানটি লোকসান দেখেছে। ভারতে মূলত সাবস্ক্রিপশন নয়, বিজ্ঞাপনই মিডিয়ার আয়ের প্রধান উৎস হওয়ায় এই মডেল টেকসই হয়নি।
এই অভিজ্ঞতার পর ফিফা ২০২৬ ও ২০৩০ বিশ্বকাপ মিলিয়ে ভারতীয় বাজারের জন্য প্রায় ১০ কোটি ডলারের একটি প্যাকেজ চেয়েছিল। কিন্তু রিপোর্ট অনুযায়ী, জিওস্টার ও সনির দুই বড় প্রতিদ্বন্দ্বীই সেই দামে আগ্রহ দেখায়নি। বরং জিওস্টার মাত্র ২ কোটি ডলারের প্রস্তাব দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সময়ের পার্থক্য ছাড়াও বড় কারণ হলো ভারতীয় ক্রিকেটের আধিপত্য, বিশেষ করে আইপিএলের জন্য বিপুল বিনিয়োগ। একই সময়ে নারীদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও থাকায় দর্শক ও বিজ্ঞাপনদাতাদের আগ্রহ সেদিকেই বেশি।
চীনের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি প্রায় একই। সেখানকার সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের কেন্দ্র। তবে ফিফার প্রত্যাশা অনুযায়ী চীনা বাজার থেকে বড় অঙ্কের অর্থ আসেনি। ফিফা শুরুতে ২৫ কোটি ডলার চাইলেও চীনা পক্ষের আগ্রহ ছিল অনেক কম। প্রস্তাব নেমে আসে ৮০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত। ফলে সব দিক দিয়ে এখন অর্থই অনর্থের মূল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক্ষেত্রে সবাইকে বিশ্বকাপ দেখাতে হলে ফিফাকে বড় ধরনের মূল্য ছাড় দিতে হবে।

“ওঙ্কার আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্রর” আত্মপ্রকাশ আগামীকাল
- নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৭:১৮:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
কবিতা জাগাবে বোধ” এই স্লোগানকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে নতুন সাহিত্য ও আবৃত্তি সংগঠন “ওঙ্কার আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র”।
আগামীকাল সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যা ৬টায় সিরাজগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করবেন সিরাজগঞ্জ জেলা কালচারাল অফিসার মোঃ মাহমুদুল হাসান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মী, শিল্পী ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা উপস্থিত থাকবেন।
মায়াময় এ সংসারের ঘূর্ণাবর্তে, স্বার্থের বেড়াজালে যখন জীবন অস্থির হয়ে ওঠে এবং হৃদয় মন যখন অশান্ত থাকে, তখন আবৃত্তি, গান ও শিল্প-সাহিত্যের আড্ডার মাধ্যমে সুস্থ বিনোদন ও নির্মল আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়াসে “কবিতা জাগাবে বোধ” এই স্লোগানকে ধারণ করে সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
অনুষ্ঠানে অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ, আমন্ত্রিত অতিথিদের বক্তব্য এবং আবৃত্তি পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শেষ হবে।
সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উক্ত অনুষ্ঠানকে আনন্দময়, প্রাণবন্ত এবং সার্থক করতে সকলের উপস্থিতির জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

অবরুদ্ধ পাঠশালা, আমাদের ভঙ্গুর শিরদাঁড়া: লায়ন মাহফুজ রহমান
- রিপোর্টার:
- আপডেট টাইম : ০৬:৫৮:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
প্রেস এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে নেতা কর্মীরা যে বিবৃতি প্রদান করেন, কত হাত ঘুরে মিডিয়া পর্যন্ত আসে সে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ, সত্যিই নির্মম সংঘর্ষ । দলীয় কোনো বিবৃতির পোস্টমর্টেম করলে জাতীয় রাজনীতির হতশ্রী সৃজনশীলতা আপনাদের যে কারো মন ভারাক্রান্ত হবে । যেমন দায়িত্ব প্রাপ্ত কোনো নেতাকর্মী, বক্তব্য টাইপ করতে নিয়ে যান শহরের নির্দিষ্ট স্পটে কোনো ইন্টারনেট ক্যাফে, দলিল লেখকদের দোকানে যেখানে জেলা, উপজেলা, থানা, ওয়ার্ড পর্যায়ের যত কাজ হয় সবাইকে আসতে হয় | দূরত্ব বুঝে দিতে হয় পরিবহণ ভাড়া, সাথে সঙ্গ দেয়া নেতাকর্মীদের চা নাস্তা, বিড়ির যোগান। দোকানে গিয়ে দেখলেন সেখানে বিদ্যুৎ নেই , আবার বিদ্যুৎ সচল হলে দেখলেন প্রিন্টার এর কালী নেই, কালী টপআপ করার পরে দেখলেন পেপার জ্যাম ।
দিন শেষে কাজটা শেষ না হলে, পরের দিন দেখলেন যে নেতাকে কাজটা দিয়েছেন নানা প্রয়োজনে সেই মানুষটা নাই। পরের দিন গিয়ে দেখলেন সাপ্তাহিক বন্ধ। একটা বিবৃতি মিডিয়ায় প্রেস রিলিজ দিতে পারাটা তাই দলীয় বিশাল কর্ম দক্ষতা | কার্যালয় গুলোতে একটা কম্পিউটার, প্রিন্টার থাকা অত্যাবশক হলেও সেটা কল্পনার বাহিরে। অনেক কার্যালয় গুলোতে দামি আলোক সজ্জা আছে, চেয়ারে আছে কিন্তু সেখানে একটা প্রিন্টার নাই। আর থাকলেও সেটা চালানোর মতো দক্ষ নেতাকর্মী নাই। প্রয়াত রেজিম ডিজিটাল বাংলাদেশ উপহার দেয়ার কথা বলে যে খিচুড়ি খাওয়া হকার নেতৃত্ব রেখে গেছেন, আজকের সরকারি দল সেখান থেকেই নিজেদের যোগ্যতার জানান দিচ্ছে। চেতনার মলম নিয়ে নব্য হকাররা ব্যস্ত কে কার পিও সেটি জানান দিতে | হৈচৈ, দৌড় ঝাপ আর তৈলাক্ত বাণী নিয়ে শিকার ধরতে ব্যস্ত |
একজন পেশাজীবী, ফুটবলার, ক্রিকেটার হতে যেমন প্রস্তুতি লাগে স্কিল লাগে, একজন নেতা, হতেও সেই একই পরিশ্রম জ্ঞান অধ্যাবসায় লাগে । বিস্ময়কর হলো এদেশে নেতা হতে কিছুই লাগে না, এমনকি মানুষত্বও লাগে না। যেমন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জন ছাড়াই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি চেয়ারম্যান হওয়া যায়। তেমনি কোনো একাডেমিক, আক্ষরিক, জ্ঞান ছাড়াই এই দেশে জাতীয় নেতা হওয়া যায়। এ দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের ৭০% যাদের স্কুল পাশ সার্টিফিকেট ছাড়াই স্বশিক্ষায় গর্বিত রাজনৈতিক নেতা।
আমাদের ভাষার বাইনারি হলো শব্দ, ভাব প্রকাশে শব্দের কথাবলা এক আনবাদ্য শিল্প, অনেকটা সংগীত শিল্পের মতন। নেতা হতে ভাষা গত প্রয়োগ ও পরিমাপ গুরুত্বপূর্ণ। নেতার দক্ষতা তার ভাষার ব্যবহারিক প্রয়োগের উপর নির্ভরশীল। একজন নেতার রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয়, শিল্প, সাহিত্য, ভৌগোলিক জ্ঞান অত্যাবশ্যক। পরিতাপের বিষয় এই দেশে অধিকাংশ নেতাকর্মী ভালো করে কথা বলতে লিখতে পড়তে জানেন না। সেখানে রাষ্ট্র বিজ্ঞান ভাবনা প্রয়োগিক ব্যবহার তাদের দিয়ে হয় না, সেটা তাদের চেতণার পরিপন্থী ।
সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বদৌলতে কিছু নেতা কর্মী তৈরী হলেও যোগ্যতার মান দন্ডে তারাও অনেক পিছিয়ে। উচ্চ পদপদবি নিয়ে নেতাকর্মীরা সগৌরবে দাপিয়ে বেড়ান কিন্তু সমন্বয়হীনতা অব্যবস্থাপনায় কার কি কাজ সেটা তাদের জানা নেই | যেমনটা ধরুন বল যেখানে পুরো টীম সেখানে | কিছু কাজ নেতাকর্মীরা দল বেঁধে করতে পছন্দ করেন, তাই দেখবেন চাঁদাবাজি,নেশা হামলা, মামলা এগুলো তারা দল বেঁধে করেন। ঐযে কথায় আছে দশে মিলে করি কাজ নাহি ভয় নাহি লাজ।
আজকাল দলবেঁধে ধর্ষণ দেশের ক্ষয়ে যাওয়া রাজনীতির হতশ্রী ভেঙেপড়া আস্তাবল। জরুরী সেবা প্রয়োজনে জেলার এক বিজ্ঞ আইনজীবী নেতার চেম্বারে গিয়ে দেখলাম, কার্যালয়ে খাট পালংক বিছিয়ে দস্তুরখান বসিয়ে পুরোদস্তুর বাবুর্চিখানা খুলে বসেছেন । এখানে যারা আসেন বাজার থেকে খাবারের বন্দোবস্ত করেই আসেন | কি এক অভিজ্ঞতা যেমন খিচুরি খাওয়া নেতা কর্মী, তেমনি তাদের আইন পেশার জোগাড়, সবাই মিলে মিশে এক সুখী পরিবার। এখানে নেতাদের পরিচয় চেতনার ফেরিওয়ালা আর অন্যজন তাদের হ্যাকিম-কবিরাজ।
জেলার কোর্ট কাচারীর যে দুরাবস্থা সেখানে কে মক্কেল কে উকিল আলাদা করে জানা অনেক কঠিন, যেখানে আইন পেশার চেয়ে দালাল বেশি। উইন্ডোস ১১, কোর আই ৯ এর যুগে, চ্যাটজিপ্ট ব্যবহার করা কোনো তরুণই এই দৃশ্য দেখে আইন পেশায় যে আসতে চাইবে না সেটা পরিষ্কার ।
রাজনীতি এক চলমান পাঠশালা কিন্তু আমাদের সেই পাঠশালায় না আছে দরজা জানালা, না আছে শিক্ষক। যাদের দায়িত্ব ছিল নেতৃত্ব তৈরী করা, তারা রাজনীতিতে হ্কার পয়দা করেছেন| কমিটি বাণিজ্যের আড়ালে দেশ ব্যাপী হকার পুনর্বাসন কেন্দ্র গড়ে তুলেছেন। তাদের অয্যোগ্য নেতৃত্বে অবরুদ্ধ পুরোদেশ । রাজনৈতিক হকারদের হৈ-চৈ আর কর্তৃত্বে শিক্ষিত মধ্যেবিত্তরা রাজনীতি থেকে হারিয়ে গেছেন। দোকান ভাড়া নিয়ে দুই চারটে নেতার ছবি টাঙিয়ে, রাজনীতির পসরা সাজিয়ে সমাজকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন সেগুলো বন্ধ করতে হবে।
এই হ্কারদের ফাউ খাওয়া বন্ধ না হলে পরিবর্তন আসবে না। একজন পেশাদার নাগরিক হতে ব্যক্তি ও পরিবারের যে মেহনত, ত্যাগ প্রচেষ্টা সেটি আসলে শেষ পর্যন্ত পূর্ণতা পায় না। তার সুফল পায় না পরিবার, সমাজ ও দেশ। প্রতিটা পেশাজীবীই তার কর্ম জীবনে এই রাজনৈতিক দোকানদের হাতে জিম্মি। এই বাস্তবতায় দেশের তরুণরা ক্রমশই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রতি উদাসীন এবং নিরুৎসাহী হয়ে পড়ছে | তরুণরা জেনে গেছেন মেম্বার , চেয়ারম্যান, মেয়র, এমপি, মন্ত্রী হতে শিক্ষা জীবনের সাথে কোনো সম্পৃক্ততা নাই । তাই বর্তমান সাংসদের ৭৯ জন এমপি যারা স্বশিক্ষিত যাদের কেউ হাই স্কুল পাশ করেন নাই, বাকি এমপি মুন্ত্রীরাও কোনো রকম যোগাড় নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। এর চেয়েও হতশ্রী অবস্থা পুরো দেশের মেয়র, চেয়ারম্যান, মেম্বারদের তা দেশের রাষ্ট্রীও পর্যায় এখনো কেউ সেভাবে ভেবে দেখছেন না । কি এক অবস্থা, অযোগ্যতাই এইদেশে উন্নতির ওপেনসিক্রেট |
আমাদের গবেষণায় এই দেশে ১ কোটি ৮০ লক্ষ রাজনৈতিক নেতা কর্মী যারা সরাসরি দলীয় সুবিধাভোগী, রাজনৈতিক দোকানের উপর নির্ভরশীল। এই লোকগুলো তারা যাদের দলীয় কমিটিতে দায়িত্বশীল পদ রয়েছে। এই নেতা কর্মীদের আসলে পরিচয় দেবার মতো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি, ট্রেনিং, গবেষণা, পরিচয় দেবার মতো পেশা নাই | দেশকে কিভাবে সামনে নিতে হবে দলের কেন্দ্রীয় পর্যায় সেই পৃষ্টপোষকতা নেই, রাজনৈতিক কোনো স্বদিচ্ছা নেই। পৃথিবীর সকল দেশে শিক্ষিত প্রগতিশীল,মধ্যেবিত্তরা রাজনীতি নিয়ন্ত্রন করলেও আমাদের দেশ নিয়ন্ত্রণ হয় অযোগ্য, সুবিধাভোগী রাজনৈতিক হকার দ্বারা। নেতা বলতে আমাদের দেশে শুধু রাজনৈতিক নেতাদেরকেই বুঝানো হয়। কিন্তু আরো অনেক নেতা আছে যেমন ব্যবসায়ীক নেতা, ক্রীড়া ব্যাক্তিক্ত, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বিজ্ঞ আইনজ্ঞ, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সবাইকে কর্ম ক্ষেত্রে পেশাজীবী নেতা বলা হয়। পেশাজীবী নেতা হতে শিক্ষা, মেধা, শ্রম, গবেষণা প্রয়োজন হয়, প্রতিটা পরীক্ষা কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হতে পুরো জীবন উৎসর্গ করতে হয়। পলিটিকাল নেতা হতে কি কি লাগে সেটাও আপনারা জানেন। তাই তরুণদের মধ্যে শর্ট কার্ট নীতি তীব্র থেকে তীব্র হচ্ছে।
সেখানে শিক্ষা ও শিক্ষকের প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন হয় না আদেশ উপদেশ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সুরে বলতে হয় : “নরমাংসের স্বাদ পাইলে মানুষের সম্বন্ধে বাঘের যে দশা হয়” অযোগ্য নেতা কর্মীদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার স্বাদ, নরমাংসের স্বাদ পাওয়া সেই বাঘের দশা । ছোট্টো করে বলতে হয় : অবরুদ্ধ পাঠশালা, নেই কোনো দরজা জানালা! চারদিকে অবক্ষয়, ভঙ্গুর শিরদাঁড়া!! রুচির দুর্ভিক্ষ গড়া আমাদের বঙ্গ উপত্যকা !!!
![]()
লায়ন মাহফুজ রহমান রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সমাজ কর্মী, সম্পাদক প্রবাসী পেশাজীবী কেন্দ্রীয় পরিষদ (BPRC) কনসালটেন্ট এজেন্ট ব্রিটিশ কাউন্সিল

‘সোজা গুলি করার’ ওপেন নির্দেশনা দিয়ে রেখেছিল শেখ হাসিনা: চিফ প্রসিকিউটর
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৫:২৯:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা— এমনটাই জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ‘লেথাল ওয়েপন’ ব্যবহার করে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
রোববার (১০ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে হওয়া এক কথোপকথনে শেখ হাসিনার নির্দেশনার বিষয়টি উঠে এসেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা বলেছিলেন— ‘আমার নির্দেশনা দেওয়া আছে, ওপেন নির্দেশনা দিয়ে দিছি। এখন লেথাল ওয়েপন ব্যবহার করবে, যেখানে পাবে সোজা গুলি করবে’।
তিনি বলেন, একজন সরকারপ্রধান হিসেবে শেখ হাসিনার এমন নির্দেশনা ছিল অমানবিক ও ভয়াবহ। এর ফলেই সারাদেশে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর প্রবণতা বেড়ে যায় এবং হাজারো মানুষ নিহত হন।
এই নির্দেশনার ভয়াবহতা তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘একজন সরকারপ্রধান যিনি এই দেশের মানুষের অভিভাবক ছিলেন, ছাত্র-জনতার মাতৃতুল্য নেত্রী ছিলেন, যার ওপরে মানুষের এতো আশা ভরসা ছিল, হয়তো এই দেশের ছাত্র-জনতা কোনোদিন চিন্তা করে নাই তিনি এইরকম একটা হুকুম তিনি দিতে পারেন। তিনি আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রীয় নানান কলাকৌশল ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু এরকম একটা ভয়াবহ আদেশ যার ফলশ্রুতিতে সারা দেশে লেথাল ওয়েপন ব্যবহারের প্রবণতা বেড়ে যায় এবং নির্বিচারে গুলি করে হাজারো মানুষকে হত্যা করা হয়।’
এদিকে এক-এগারো (১/১১) সরকারের প্রভাবশালী সেনা কর্মকর্তা লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়েও কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর। তাকে ওই সময়ের ডি ফ্যাক্টো গভর্নমেন্টের অন্যতম নিয়ন্ত্রক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘সে সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের নেপথ্যের মূল মহানায়ক ছিলেন তিনি। এছাড়া বিগত জুলাই আন্দোলনেও ফ্যাসিস্ট কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।’
একটি মিস কেসে তাকে অ্যারেস্ট দেখিয়ে সেফ হোমে একদিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে বলে তিনি জানান।
এছাড়া জুলাই-আগস্টের ঘটনায় থানা ও ট্রাইব্যুনালের তদন্তের মধ্যে যাতে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেজন্য পুলিশকে ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারাধীন মামলাগুলোতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) জমা না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, গুম সংক্রান্ত তথ্যের জন্য সেনাসদরে চিঠি পাঠানোর বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের ‘তদন্তের প্রয়োজনে অভ্যন্তরীণ কাজ’ বলে উল্লেখ করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মোটরসাইকেল চালক
- ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৫:২৪:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ধুলিয়াখাল বাইপাস সড়কে বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে জাহিদুল ইসলাম (৩০) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।
রোববার (১০ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জাহিদুল ইসলাম হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর এলাকার আব্দুল হামিদের ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুরে জাহিদুল ইসলাম মোটরসাইকেলযোগে ধুলিয়াখাল বাইপাস সড়ক পার হচ্ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল আরোহী জাহিদুল ইসলাম প্রাণ হারান।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে হবিগঞ্জ সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও মোটরসাইকেলটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা আধুনিক জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। এ ঘটনায় যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


ক্রীড়া ডেস্ক। জনতারকণ্ঠ.কম। 














































