সিরাজগঞ্জ , রবিবার, ১০ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ৭৬তম জন্মদিন আজ Logo আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলা: চিন্ময় দাশকে জামিন দেননি হাইকোর্ট Logo বিনামূল্যে বিদ্যুৎ ও মাদকমুক্ত তামিলনাড়ুর প্রতিশ্রুতি বিজয়ের Logo রায়গঞ্জে গরু চুরি রোধে ‘বাঁশ ব্যারিয়ার: ব্যতিক্রমী উদ্যোগে খামারিদের স্বস্তি  Logo কোটি টাকার হেরোইনসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার Logo রায়গঞ্জে ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজের উদ্যোগে ধানের অধিক ফলন নিশ্চিতে প্রশিক্ষণ কর্মশালা Logo রায়গঞ্জে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ, লাল নিশানায় চলছে সতর্কতা Logo কামারখন্দে সড়ক দুর্ঘটনায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু Logo শপথ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হলেন বিজয় Logo সিরাজগঞ্জে নির্মিত হচ্ছে আধুনিক ‘আল-আকসা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ’ কমপ্লেক্স

শপথ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হলেন বিজয়

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয়। ছবি : সংগৃহীত

তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয় বা বিজয় থালাপতি। রোববার (১০ মে) সকালে চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামে তার শপথ অনুষ্ঠান হয়।

 

 

 

অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা ৫১ বছরের বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪টির মধ্যে ১০৮টি আসনে জয় লাভ করে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত না হওয়ায় আটকে যায় তার শপথগ্রহণ। টানা পাঁচ দিন প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিতে আলোচনা ও গভর্নরের সঙ্গে চার দফা বৈঠক করতে হয় তাকে।

 

 

 

শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের পাঁচজন, বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চির দুজন, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (মার্কসবাদী) দুজন এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের দুই বিধায়কের সমর্থন নিয়ে বিজয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন।

দুটি আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ায় একটি আসন ছাড়তে হবে বিজয়কে। এরপরও তার জোটের মোট সদস্য সংখ্যা দাঁড়াবে ১২০ জনে।

এই সরকার গঠনের মাধ্যমে প্রায় ৬০ বছর পর তামিলনাড়ুতে ডিএমকে ও এআইএডিএমকের বাইরে অন্য কোনো দলের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলো।

 

 

সিরাজগঞ্জে নির্মিত হচ্ছে আধুনিক ‘আল-আকসা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ’ কমপ্লেক্স

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ৩ নম্বর বহুলী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ডুমুর ইছা গ্রামে নির্মিত হতে যাচ্ছে আধুনিক “আল-আকসা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ” কমপ্লেক্স। একইসঙ্গে একটি আধুনিক মাদ্রাসা, মাদ্রাসা ময়দান, ঈদগাহ মাঠ, খেলার মাঠ, প্রতিবন্ধী স্কুল ও স্পোর্টিং ক্লাব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

ডুমুর ইছা গ্রামের সাংবাদিক মো. ইয়াকুব আলী তালুকদারের উদ্যোগ ও আহ্বানে এবং প্রবাসী মো. আইয়ুব আলী তালুকদার ও মো. লিখন আলী তালুকদারের যৌথ সমন্বয়ে এই বৃহৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। এলাকার ধর্মীয়, সামাজিক ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নকে সামনে রেখে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

উদ্যোক্তা মো. ইয়াকুব আলী তালুকদার বলেন, আধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স ও মাদ্রাসা ভবন নির্মিত হলে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে মহান আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করতে পারবেন। পাশাপাশি গরিব, অসহায় ও তলবে এলেম শিক্ষার্থীরা ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার সুযোগ পাবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা ইসলামী জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে সুনাম বয়ে আনতে সক্ষম হবে, ইনশা আল্লাহ।

তিনি আরও জানান, মসজিদ ও মাদ্রাসার পাশাপাশি একটি ঈদগাহ মাঠ, যুব সমাজের জন্য স্পোর্টিং ক্লাব এবং খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে যুবসমাজকে মাদক ও নানা সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সামাজিক বিভিন্ন বিরোধ ও সমস্যা সমাধানের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবেশও তৈরি করা হবে।

এই মহৎ উদ্যোগে এলাকার প্রবীণ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন মো. আব্দুস সাত্তার তালুকদার, মো. মঞ্জুর হাসান ঝন্টু, মো. আব্দুল মান্নান তালুকদার, মো. ঈমান আলী তালুকদার, মো. ইউনুস আলী তালুকদার, মো. আনোয়ার হোসেন সেখ, মো. আদম আলী তালুকদার, মো. হাসান সেখ, মো. রওশন আলী তালুকদার, মো. আব্দুল মোমিন সেখ, মো. সুমন তালুকদার, মো. ফরজ আলী তালুকদার, মো. হারুনর রশীদ হিরোন, মো. আশরাফুল ইসলাম ও মো. আলহাজ্ব আলী তালুকদারসহ আরও অনেকে।

তারা বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়ন ও সফল বাস্তবায়নে তারা সবসময় সহযোগিতা করে যাবেন।

সবশেষে মো. ইয়াকুব আলী তালুকদার এলাকাবাসী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এটি শুধু একটি স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নয়, বরং একটি আদর্শ সমাজ গঠনের স্বপ্ন। তাই গ্রামের ছোট-বড় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে এসে সহযোগিতা করতে হবে। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এই মহৎ উদ্যোগ সফল করা সম্ভব।”

জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের মূল দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী

 

জনগণের শান্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১০ মে) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে বার্ষিক প্যারেড অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি এই কথা বলেন।

 

 

 

এর আগে ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চারদিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

 

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তব্যে তিনি বলেন, পুলিশ কর্মকর্তা এবং সদস্যবৃন্দ আনন্দঘন এই আয়োজন আপনারা সকলেই উপভোগ করেছেন। আমার কাছে এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা মনে হয়নি। বরং এটি ছিল পুলিশ সদস্যদের শৃঙ্খলা, আত্মমর্যাদা দায়িত্ববোধ এবং সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে দৃপ্ত পায়ে এগিয়ে চলার অবিচল অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশের মাধ্যম।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ছাত্রজনতার এক রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের পরে দেশের স্বাধীনতা প্রিয় মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হচ্ছে জনগণের রায়ে গঠিত বর্তমান সরকার।

তিনি আরও বলেন, বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য হামলা মামলার শিকার নিপীড়িত নির্যাতিত অধিকারহারা মানুষ বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সময় শান্তি এবং নিরাপত্তা চায়।

পুলিশদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণের শান্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আপনাদের কার্যক্রম। অর্থাৎ পুলিশের ভূমিকার ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। আপনারা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধ্য এবং সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবেন। এটিই আপনাদের কাছে বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা।

 

 

গাজীপুরে গরুচোর সন্দেহে তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা

 

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঘচালা গ্রামে গরু চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে ৩ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

 

 

 

 

রোববার (১০ মে) ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা চোরদের ব্যবহৃত একটি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়।

 

 

 

 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম। তবে নিহত তিনজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরে গরু চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছিল। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার গভীর রাতে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ট্রাক নিয়ে ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাগমারা-বাঘচালা এলাকায় গরু চুরি করতে আসে বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে মাইকিং ও চিৎকার দিয়ে আশপাশের মানুষকে জড়ো করে চারদিক থেকে চোরদের ধাওয়া দেয়।

 

স্থানীয়রা জানান, চোরচক্রের কয়েকজন সদস্য পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তিনজনকে আটক করে গণধোলাই দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। পরে উত্তেজিত জনতা চোরদের বহনের কাজে ব্যবহৃত ট্রাকটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তেই ট্রাকটি আগুনে পুড়ে যায়।

খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

 

 

কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গরু চুরি করতে আসা সন্দেহে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা তিনজনকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। এ সময় চুরি কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাকেও আগুন দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

 

 

 

এ ঘটনায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

 

 

 

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরি নিয়ে উত্তেজনা ও গণপিটুনির ঘটনা বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বারবার আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানালেও এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি উদ্বেগ তৈরি করেছে।

 

কামারখন্দে শিয়ালের তাণ্ডব, আহত ১৫ জন; আক্রান্ত ১৮ গবাদিপশু

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার রসুলপুর গ্রামে শিয়ালের আক্রমণে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। একই ঘটনায় বেশ কয়েকটি গবাদিপশুও আক্রান্ত হয়েছে। শনিবার (৯ মে) দুপুরে উপজেলার ফসলি মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা স্থানীয় হাসপাতাল ও বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে গ্রামের পাশের মাঠে হঠাৎ কয়েকটি শিয়াল মানুষের পাশাপাশি গরুর ওপর আক্রমণ শুরু করে। এ সময় গবাদিপশু রক্ষা করতে গেলে স্থানীয় লোকজনও শিয়ালের হামলার শিকার হন। পরে এলাকাবাসী ধাওয়া দিয়ে একটি শিয়ালকে মেরে ফেললেও অন্যগুলো পালিয়ে যায়।

 

 

 

গ্রামবাসী জানান, শিয়ালের কামড়ে অন্তত ১৮টি গরু আহত হয়েছে। আক্রান্ত গরুগুলোর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় কয়েকজন খামারির গবাদিপশু। হামলায় নজরুল, জিন্নাহ, জামেলা ও মাদ্রাসাছাত্র মিহিরসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। গুরুতর আহত সাত বছর বয়সী মিহিরকে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

 

 

কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, কয়েকজন আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে টিকার সংকট থাকায় একজনকে তাৎক্ষণিকভাবে ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব হয়নি।

 

 

 

অন্যদিকে কামারখন্দ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর জানিয়েছে, আক্রান্ত গবাদিপশুর বিষয়ে খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে সরেজমিনে কেউ যাননি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান।

 

 

 

ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এলাকায় বন্য প্রাণীর উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

 

 

সরকার গঠনের সব বাধা দূর, আগামীকাল শপথ নেবেন বিজয়

 

তামিলনাড়ুতে জোটের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর আগামীকালই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন তামিলাগা ভেট্টরি কাজাগম (টিভিকে) প্রধান থালাপতি বিজয়।

 

 

 

শনিবার (৯ মে) এনডিটিভির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি (ভিসিকে) এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল) নিঃশর্ত সমর্থন দেওয়ার পরই সরকার গঠনের পথে অনিশ্চয়তা কাটে বিজয়ের। দুই দলের সমর্থনে বিজয়ের নেতৃত্বাধীন জোট প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।

 

 

 

এর আগে শুক্রবারও গভর্নরের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছিলেন বিজয়। তবে সে সময় গভর্নর কার্যালয় সূত্রে বলা হয়েছিল, ১১৮ বিধায়কের সমর্থন নিশ্চিত করতে না পারায় তাকে এখনই সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে না।

বুধবার ও বৃহস্পতিবারও গভর্নর আরলেকারের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন বিজয়। কিন্তু দুইবারই গভর্নর স্পষ্ট জানান, বিধানসভায় প্রয়োজনীয় সমর্থন প্রমাণ করতে না পারায় তার দাবি গ্রহণ করা যাচ্ছে না।

এদিকে, তামিলনাড়ুর আরেক বড় রাজনৈতিক দল এআইএডিএমকেতে বড় ধরনের ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা সি ভি শানমুগম দল ভাঙার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে দাবি করেছে একাধিক সূত্র।

 

জানা গেছে, এআইএডিএমকের ৩০ জনের বেশি বিধায়ক তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং তাদের একটি অংশ বিজয়ের টিভিকেকে সমর্থন দেওয়ার পক্ষেও ঝুঁকছেন।

 

 

শনিবার পুদুচেরির একটি রিসোর্ট থেকে ফিরে চেন্নাইয়ে শানমুগমের কার্যালয়ে দলের শীর্ষ নেতাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে এস পি ভেলুমনি, এম আর বিজয়ভাস্কর, নাথাম বিশ্বনাথন এবং সি বিজয়ভাস্করসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

 

 

গাজীপুরের পাঁচ খুন: স্বজনদের ফোনে যা বলেছিলেন ঘাতক

 

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামের পাঁচ খুনের ঘটনায় দেশজুড়ে দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নারী, তার তিন সন্তান ও নারীর ভাইসহ পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত নারীর স্বামী ফোরকান মিয়া পলাতক আছেন।

 

 

 

শনিবার (৯ মে) সকালে রাউৎকোনা গ্রামের মো. মনির হোসেনের বাড়ির নিচতলা পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সেখানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনসহ (পিবিআই) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।

 

 

 

অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরী গোপীনাথপুর গ্রামের মো. আতিয়ার রহমানের ছেলে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন- ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন আক্তার (৩০), মেয়ে মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮), ফারিয়া (২) ও শ্যালক গোপালগঞ্জ সদরের পাইককান্দি গ্রামের রসুল মিয়া (২২)।

শারমিনের ফুফু ইভা আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, ফোরকান তার ভাই মিশকাতকে ফোন দিয়ে বলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেছে। সবাইকে মেরে ফেলেছি। আমাকে আর তোরা পাবি না।’ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে কয়েকজন গিয়ে দেখতে পায়, ভবনের কলাপসিবল গেট খোলা। নিচতলার কক্ষগুলোর দরজাও খোলা। ভেতরে গিয়ে মেঝে ও বিছানায় নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়। একই সঙ্গে তারা কাপাসিয়া থানায় যান।

 

তিনি দাবি করেন, ফোরকান মিয়া আরেকটি বিয়ে করার কথা স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন। এ নিয়ে শারমিন খুব মনঃক্ষুণ্ন ছিলেন। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য চলছিল। ছয় থেকে সাত মাস আগে ফোরকান শারমিনকে মারধর করেছিলেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে যায়। পরে তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। সুস্থ হওয়ার পর তিনি বাবার বাড়িতে থাকছিলেন। কয়েক দিন পর ফোরকান আবার স্ত্রীকে সেখান থেকে নিয়ে আসেন। এরপরও দ্বিতীয় বিয়ের প্রসঙ্গ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া–বিবাদ চলছিল।

 

 

ইভা আক্তার বলেন, আমার ভাতিজিসহ বাকি সবাইকে ফোরকান মিয়া হত্যা করেছে বলেই মনে হচ্ছে। আমরা এর কঠোর বিচার চাই।

 

 

 

এদিকে ঘরের ভেতর থেকে গোপালগঞ্জ সদর থানায় করা একটি অভিযোগের কপি উদ্ধার করা হয়েছে। কপিটিতে কোনো সই নেই। সেটি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৩ মে ফোরকান মিয়া একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে থানায় অভিযোগ করেন। সেখানে তার স্ত্রী, শ্বশুরসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

 

 

 

অভিযোগে বলা হয়েছে, শ্বশুর তার স্ত্রীর মাধ্যমে কয়েক দফায় এক লাখ টাকা নিয়েছেন। এ ছাড়া স্ত্রী তার এক স্বজনের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করায় শ্বশুর ও অন্যরা মিলে তাকে হাত–পা বেঁধে নির্যাতন করেন।

 

 

নিহত শারমিন আক্তারের চাচা মো. উজ্জ্বল মিয়া বলেন, আমাদের জানামতে ফোরকান সম্প্রতি তার শ্বশুরবাড়ি যায়নি। তাকে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমার মনে হয়, সে নিজেকে বাঁচানোর জন্য এমন অভিযোগ লিখেছে।’

 

 

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা ধারণা করছি, পারিবারিক কলহের জেরে ফোরকান এ ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে গেছে। ঘরের ভেতরে অনেক আলামত ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, আজ সকাল ৬টার দিকে ফোরকান তার গ্রামের বাড়িতে একজনকে কল করে জানিয়েছেন যে, তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে আমরা এখনো নিশ্চিত নই। তথ্য যাচাই–বাছাই চলছে। আমরা আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি।

 

 

রাশিয়ায় ড্রোন হামলায় প্রাণ গেল কিশোরগঞ্জের তরুণের

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার এক তরুণ রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের মধ্যে ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। নিহত মো. রিয়াদ রশিদ (২৮) উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের মাঝিরকোনা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জাফরাবাদ উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আব্দুর রশিদের ছেলে এবং রুশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

 

 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যার দিকে রিয়াদের বন্ধু লিমন দত্ত মেসেঞ্জারের মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর পরিবারকে জানান। লিমনও একই ক্যাম্পে অবস্থান করছিলেন। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়ে একটি পা হারান এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

 

লিমনের বরাতে পরিবার জানতে পারে, গত ২ মে রুশ সীমান্ত এলাকায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় রিয়াদসহ দুই বাংলাদেশি ও একজন নাইজেরীয় নাগরিক নিহত হন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

 

 

 

পরিবারের দাবি, গত বছরের অক্টোবরে চাকরির উদ্দেশ্যে রাশিয়ায় যান রিয়াদ রশিদ। পরে চলতি বছরের ৭ এপ্রিল তিনি রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তার ব্যাচ নম্বর ছিল ৭৩৫। তবে সেনাবাহিনীতে যোগদানের বিষয়টি পরিবারের কেউ আগে জানতেন না।

 

 

 

ছেলের মৃত্যুর সংবাদে শোকাহত বাবা আব্দুর রশিদ বলেন, “সে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছে—এ তথ্য আমাদের জানায়নি। জানলে কখনোই তাকে সেখানে যেতে দিতাম না। এখন শুনছি ড্রোন হামলায় সব শেষ হয়ে গেছে। ছেলের মরদেহেরও কোনো খোঁজ পাচ্ছি না।”
রিয়াদের চাচাতো ভাই জহিরুল ইসলাম জানান, গত ২৮ এপ্রিল পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রিয়াদের সর্বশেষ কথা হয়। এরপর ২৯ এপ্রিল রাত পর্যন্ত তাকে মেসেঞ্জারে অনলাইনে দেখা গিয়েছিল।

 

 

 

জাফরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাদাৎ মো. সায়েম ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে বলেন, নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সরকারি কোনো সহায়তার সুযোগ থাকলে তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।

 

 

 

করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরানুল কবির জানান, পুলিশ নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

 

সংবাদ প্রকাশের পর ফুলজোড় নদীর কচুরিপানা অপসারণ শুরু

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা ইউনিয়নের বকুলতলা এলাকায় ফুলজোড় নদীতে জমে থাকা বিশাল কচুরিপানার স্তূপ ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী এক দৃশ্য। নদীর মাঝখানে ভেসে থাকা কচুরিপানার ওপর গড়ে উঠেছে কয়েকটি অস্থায়ী ভ্রাম্যমাণ দোকান। প্রতিদিন সেখানে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। বিকেল গড়াতেই এলাকাটি যেন রূপ নেয় ছোট্ট এক বিনোদনকেন্দ্রে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নদীর পানির স্বাভাবিক প্রবাহ কমে যাওয়ায় কয়েক দিন ধরে বিপুল পরিমাণ কচুরিপানা এক জায়গায় জমে বড় আকার ধারণ করে। পরে স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী সেখানে চা, চানাচুর, ফুচকা ও বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের দোকান বসান। নদীর বুকে কচুরিপানার ওপর গড়ে ওঠা এই ব্যতিক্রমী পরিবেশ দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ সংবাদ প্রকাশের পর সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ফুলজোড় নদীর বকুলতলা এলাকায় জমে থাকা কচুরিপানা অপসারণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় ইতোমধ্যে অপসারণ কার্যক্রম শুরু করেছেন নলকা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রেজাউল করিম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদীতে কচুরিপানা জমে থাকায় নৌচলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও পানিপ্রবাহে বিরূপ প্রভাব পড়ছিল। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে প্রশাসনের নজরে আসে এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশ রক্ষায় নিয়মিত তদারকির দাবি জানান।

৫৩ লাখ টাকায় নির্মিত ভবন উদ্বোধনের আগেই ফাটল

 

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি পাবলিক লাইব্রেরি ভবনে উদ্বোধনের আগেই বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। ভবনটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর বা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি। এর মধ্যেই দেয়ালের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

 

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে নির্মিত এই লাইব্রেরি ভবনটি এলাকাবাসীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে বিবেচিত হলেও নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই এর গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

 

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনের একাধিক স্থানে দৃশ্যমান ফাটল রয়েছে। কোথাও কোথাও সিমেন্ট দিয়ে ফাটল ঢাকার চেষ্টা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং কাজের তদারকির অভাবের কারণেই এমন ত্রুটি দেখা দিয়েছে।

প্রকল্পের ঠিকাদার আবু তাহের ফাটলের বিষয়টি স্বীকার করলেও অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ভবনের কিছু জায়গায় সামান্য সমস্যা হয়েছে। আমরা দ্রুত মেরামত করে দেব।

তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, একটি নতুন ভবনে হস্তান্তরের আগেই কেন এমন ফাটল দেখা দেবে? শুধুমাত্র মেরামতের মাধ্যমে ভবনের স্থায়িত্ব কতটুকু নিশ্চিত করা সম্ভব, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন তারা।

 

 

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে নেওয়ার আগেই ঠিকাদারকে পুরো বিল পরিশোধ করা হয়েছে। বিষয়টি প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের আশঙ্কাকে আরও জোরাল করেছে।

 

 

 

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী হাসিনুর রশিদ ও নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নজরে এসেছে৷ আমরা সমাধান করে নেব৷

 

 

 

সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনায় উদ্বোধনের আগেই ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। তারা বলছেন, দায়সারা সংস্কার নয়—এই ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

 

 

জিআরআইসি স্টার্ট আপ লীগে রানার আপ

সফটওয়্যার দিয়ে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন ‘শিক্ষা আইটি’ লিমিটেডের

 

বিদেশি ব্যয়বহুল সফটওয়্যারের ওপর দেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় তরুণদের মাধ্যমে বিশ্বমানের সাস’ প্ল্যাটফর্ম তৈরির যুগান্তকারী আইডিয়া নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো  ‘১ম গ্লোবাল রোবটিকস অ্যান্ড ইনোভেশন চ্যাম্পিয়নশিপ (GRIC) ২০২৬।

 

 

ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত এই চ্যাম্পিয়নশীপের  স্টার্টআপ লিগে রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করলো দেশের উদীয়মান ভেঞ্চার বিল্ডার প্রতিষ্ঠান ‘শিক্ষা আইটি লিমিটেড’।

শুক্রবার (৮ মে) ইউনাইটেড ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়নশীপ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ১৫টি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। এতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে ‘গরুসেবা’ নামের একটি সফট্ওয়ার প্রতিষ্ঠান।

 

 

 

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার বিতরণ করেন ইউনাইটেড ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আবুল কাশেম মিয়া। এ সময় দেশী-বিদেশী আইটি বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষা আইটি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে দেশের নিউজ পোর্টাল, এসএমই এবং করপোরেট খাতগুলো সফটওয়্যার ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংকটে রয়েছে। বিদেশি প্ল্যাটফর্মগুলোর সাবস্ক্রিপশন ফি অত্যন্ত চড়া। উদাহরণস্বরূপ, ‘জোহো’ (Zoho)-এর মতো বিদেশি প্ল্যাটফর্মে ১০ জনের একটি টিমের জন্য মাসিক খরচ প্রায় সাড়ে চারশ ডলার বা ৫৪ হাজার টাকার বেশি, যা দেশের ছোট বা মাঝারি ব্যবসাগুলোর জন্য বহন করা কঠিন। অন্যদিকে, দেশীয় সফটওয়্যারগুলো সাধারণত প্রজেক্ট-ভিত্তিক হওয়ায় সেগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি আপডেট, আধুনিক ইউজার ইন্টারফেস (ইউআই) বা মোবাইল অপটিমাইজেশন থাকে না। ফলে দেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বাধ্য হয়ে পাইরেটেড বা ফ্রি টুলসের দিকে ঝুঁকছে।

 

 

 

এই বিশাল শূন্যস্থান পূরণের লক্ষ্যেই কাজ শুরু করেছে শিক্ষা আইটি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির মূল কার্যক্রম এগোচ্ছে ‘ভেঞ্চার বিল্ডার’ মডেলে, যা দুটি ধাপে কাজ করে। প্রথম ধাপ হলো ‘টেক বাংলাদেশ ২.০’। এটি ৯ মাসের একটি বিশেষায়িত প্রোগ্রাম, যেখানে তরুণদের ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিজাইন, মার্কেটিং, প্রোডাকশন এবং অপারেশনস—এই পাঁচটি কোর বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এই প্রশিক্ষণের সেরা তরুণদের নিয়ে দ্বিতীয় ধাপে গড়ে তোলা হবে ‘সাস স্টার্টআপ স্টুডিও’।

 

 

 

“আমরা কর্মী নয়, বরং গ্লোবাল মানের সফটওয়্যার নির্মাতা ও কো-ফাউন্ডার তৈরি করছি,” বলেন শিক্ষা আইটি লিমিটেডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “ভারতের জোহো (Zoho) যেভাবে একটি ছোট গ্রাম থেকে শুরু করে আজ বিশ্বের ১৫০টির বেশি দেশে সফটওয়্যার সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে, আমাদের স্বপ্নও ঠিক তেমনই। আমরা গতানুগতিক প্রজেক্ট নয়, গ্লোবাল মানের প্ল্যাটফর্ম বানাতে চাই, যা হবে আধুনিক, নিরাপদ এবং দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে।”

 

 

আতিকুল ইসলাম বলেন তিনি নিজে সেমিইন্ডিয়া প্রজেক্ট লিমিটেড, ফুডপান্ডাসহ বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন এবং সরকারের ‘হার পাওয়ার’ প্রজেক্টে যুক্ত ছিলেন।

 

 

 

তিনি বলেন, শিক্ষা আইটি লিমিটেড এর এই বিশাল কর্মযজ্ঞের নেতৃত্বে রয়েছেন অভিজ্ঞ প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক পেশাদাররা। চেয়ারম্যান মো. জুলহাস ক্রিয়েটিভ আইটি ও এডভয় বাংলাদেশের মতো প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং ডিরেক্টর (ফাইন্যান্স) হিসেবে রয়েছেন জয় চৌধুরী। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (RJSC) সরকারি দপ্তরের পূর্ণাঙ্গ অনুমোদনপ্রাপ্ত।

 

 

 

খুব শিগগিরই নিজস্ব রিসার্চ টিমের মাধ্যমে যাচাইকৃত নিজেদের তৈরি প্রথম ‘সাস’ (SaaS) প্রোডাক্ট নিয়ে দেশের কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় মিডিয়া হাউস ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সাথে পাইলট টেস্টিংয়ে যাচ্ছে শিক্ষা আইটি লিমিটেড। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ সফটওয়্যার রপ্তানি করে রেমিট্যান্স আনাই এখন টিম শিক্ষার মূল লক্ষ্য।

 

 

রায়গঞ্জে গণধর্ষণ মামলার আসামিসহ ৩ জন গ্রেফতার

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থানা পুলিশ পৃথক অভিযানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের গণধর্ষণ মামলার এক আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। শনিবার (৯ মে) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রায়গঞ্জ থানার মামলা নং-০৫, তারিখ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩) ধারায় দায়ের করা গণধর্ষণ মামলার আসামি মো. শাহীন খান (২৬) কে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি উপজেলার ধামাইনগর এলাকার মো. আব্দুল মজিদ খানের ছেলে।
এছাড়া সিআর মামলা নং-৯৯/২১ (সিরাজগঞ্জ) এর এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার সাজাপ্রাপ্ত আসামি আব্দুল মজিদ শেখকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি উপজেলার খামারগাতী গ্রামের মৃত রহিম বক্সের ছেলে।
অন্যদিকে পারিবারিক ডিং নং-৩৭২/২৫, পারিবারিক আদালত আইনের ১৭(৫) ধারার সাজাপ্রাপ্ত আসামি মোমিন শেখকেও আটক করা হয়েছে। তিনি উপজেলার মধুপুর গ্রামের মো. রমজানের ছেলে।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আহসানুজ্জামান বলেন,গ্রেফতারকৃতদের প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে ।

সেভ দ্য রোডের পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত

সেভ দ্য রোডের পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘আকাশ-সড়ক- রেল ও নৌপথকে দুর্ঘটনামুক্ত করার লক্ষ্যে ১৮ বছরের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা’ শীর্ষক সভায় সভাপতিত্ব করেন সেভ দ্য রোড-এর চেয়ারম্যান মো. আখতারুজ্জামান। রাজধানীর পুরানা পল্টনস্থ তাজ মিলনায়তনে ৯ মে বিকেলে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, মহাসচিব শান্তা ফারজানা, ভাইস চেয়ারম্যান বিকাশ রায়, আকরাম হোসেন খান, জিয়াউর রহমান জিয়া ও কালাম ফয়েজী।

 

 

 

এসময় নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, সেভ দ্য রোড-এর কার্যক্রমের কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষ সচেতন হলেও বিভিন্ন সময়ের সংশ্লিষ্ট মহলের কারণে নির্মমভাবে বাংলাদেশে সড়ক দূর্ঘটনা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। যা কোনাভাবেই সচেতন নাগরিকরা মেনে নিতে পারে। সেই সচেতন নাগরিক সমাজের আগ্রহী স্বেচ্ছাসেবি চিন্তার মানুষদেরকে সেভ দ্য রোড-এর সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে জনাব জামান বলেন, সেভ দ্য রোড-এর কার্যক্রমকে গতিশীল করতে সারাদেশে সদস্য সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আকাশ-সড়ক- রেল বা নৌপথে কোনো নতুন দুর্ঘটনা দেখতে চাই না।

 

 

ইসলামপুরে হালিম নগর বাজার হস্তান্তর ও ব্যবস্থাপনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় অবকাঠামোগত দক্ষতা  উন্নয়ন ও তথ্যের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বৃদ্ধি (প্রভাতী)” প্রকল্পের আওতায় বলিয়াদহ হালিম নগর (আমতলী) বাজার হস্তান্তর, পরিচালনা ও বাজার ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

 

‎শনিবার (০৯মে ২০২৬)  সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় কর্তৃক আয়োজিত  অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ এ. ই সুলতান মাহমুদ বাবু।

 

 

 

‎উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হুসাইনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী রােজদিদ আহাম্মেদ।
‎এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নবী নেওয়াজ খান লোহানী বিপুল, উপজেলা বিএনপির  সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নাজিম হোসেন নোমান, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক প্রিন্স আলম, পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম ঢালী, সাবেক সভাপতি জয়নাল আবেদীন সরকার, ইসলামপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আওয়াল খান লোহানী।

 

 


‎কর্মশালায় বাজার পরিচালনা ব্যবস্থাপনা কমিটি, বণিক সমতি, স্থায়া-অস্থায়ী ব্যবসায়ী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, খামারি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় বাজার ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা রক্ষা, খামারিদের সুবিধা বৃদ্ধি এবং বাজারের টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
‎অনুষ্ঠান শেষে ১০৫ জন এলএসপিদের মাঝে লভ্যাংশ প্রদান করা হয়।

 

 

কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারি, জোরদার টহল অভিযান

কুড়িগ্রামের সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ও ভারতীয় চোরাচালান ঠেকাতে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) জোরদার নজরদারি ও টহল কার্যক্রম শুরু করেছে।

শনিবার (৯ মে) কুড়িগ্রাম জেলার সীমান্তবর্তী ফুলবাড়ী এবং কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুরের চর নারায়ণপুর এলাকায় বিজিবির টহল কার্যক্রম দেখা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারতের সীমান্তঘেঁষা জেলা হওয়ায় কুড়িগ্রামের বিভিন্ন সীমান্তপথ দিয়ে মাদক, গরু, স্বর্ণ, কসমেটিকসসহ নানা ধরনের অবৈধ পণ্য দেশে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়। এসব চোরাচালান ঠেকাতে সীমান্তজুড়ে নজরদারি বাড়িয়েছে বিজিবি।

ফুলবাড়ী সীমান্ত ছাড়াও কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুরের চর নারায়ণপুর এলাকায় নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী সীমান্ত এলাকাকেও বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক পিএসসি বলেন, “কুড়িগ্রামের প্রায় ১৫০ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে নাগেশ্বরী, ফুলবাড়ী ও ভুরুঙ্গামারী এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষায় আমরা সর্বদা সোচ্চার রয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “যেসব এলাকা দিয়ে অতীতে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা চোরাচালানের ঘটনা ঘটেছে, সেসব এলাকাতেও কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। ফলে আগের মতো পরিস্থিতি আর হবে না বলে আমরা আশাবাদী।”

মাদকের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “মাদক দেশ ও জাতিকে ধ্বংস করছে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।”

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন কলকারখানা ও বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে: শিল্পমন্ত্রী

ঠাকুরগাঁওয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করতে নতুন করে গড়ে তোলা হচ্ছে বৃহৎ শিল্প পার্ক। যেখানে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রয়োজনে আরও  শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে।
শনিবার (৯ মে) সকাল সাড়ে ১০ দিকে ঠাকুরগাঁও বিসিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পনগরী পরিদর্শনে এসে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে ইতোমধ্যে একটি ইপিজেড রয়েছে, যেখানে শিল্প উদ্যোক্তারা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। নতুন যে বিসিক শিল্পনগরী নির্মাণ করা হচ্ছে, সেখানে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন শিল্প উদ্যোক্তার সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা প্লট নিয়ে নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, বেকারত্ব দূর করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। আর সেই লক্ষ্যেই নতুন কলকারখানা ও বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে। নতুন করে প্রায় ৫০ একর জায়গাজুড়ে ঠাকুরগাঁও শিল্প পার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে, যেখানে ২৫১টি প্লট থাকবে। এসব প্লটে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। কেউ হয়তো দুই, তিন কিংবা চারটি প্লট নিয়েও শিল্প স্থাপন করবেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, এই প্রকল্প সফল হলে ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে, যাতে দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হয়।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে জনগোষ্ঠীকে জনশক্তিতে রূপান্তর করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা এবং বিদ্যমান জনশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি করা। সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে।ঠাকুরগাঁওয়ের নতুন শিল্পনগরী পরিদর্শনও সেই কার্যক্রমেরই একটি অংশ।
শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওয়ে নতুন নতুন রপ্তানিযোগ্য ফসল উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে আলুভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশে ব্যাপক পরিমাণে আলু উৎপাদিত হলেও রপ্তানিযোগ্য আলুর ঘাটতি রয়েছে। তাই রপ্তানিযোগ্য আলুর নতুন জাত উৎপাদনের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং ইনশাল্লাহ আমরা সেটি আগামী দিনে অর্জন করব।
পরে শিল্পমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও পুরাতন বিসিক শিল্পনগরীর বিভিন্ন কারখানা পরিদর্শন করেন।
এসময় ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, বিসিক শিল্পনগরীর উদ্যোক্তা এবং জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

লিবিয়ায় মাফিয়াদের কবলে বরিশালের আসাদুল, ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি, প্রাণনাশের হুমকি

সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে লিবিয়া পাড়ি জমিয়েছিলেন বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার আসাদুল বক্তিয়ার । কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। গত দুই মাস ধরে লিবিয়ার একটি মাফিয়া চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তিনি। আসাদুলকে জীবিত ফিরে পেতে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে অপহরণকারীরা। ইতোমধ্যে ৪ লাখ টাকা দেওয়া হলেও বাকি টাকার জন্য তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

 

 

 

আসাদুল আগৈলঝাড়া উপজেলার চাঁত্রিশিরা গ্রামের আবু বক্তিয়ারের ছেলে। ২০২২ সালের অক্টোবরে বৈধভাবে লিবিয়ায় গিয়ে আনজারা শহরে মসজিদের পাশে একটি দোকানে টেইলারিংয়ের কাজ করে মাসে ২০-২৫ হাজার টাকা দেশে পাঠাতেন তিনি।

 

 

 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ রমজান সেহরি খাওয়ার পর ভোররাতে ৫-৬ জনের একটি সশস্ত্র মাফিয়া দল আসাদুলকে তার বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে একটি গোপন আস্তানায় তাকে হাত-পা বেঁধে উল্টো করে ঝুলিয়ে এবং বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারধর করা হচ্ছে। নির্যাতনের সেই শিউরে ওঠা দৃশ্য ভিডিও কলের মাধ্যমে বাংলাদেশে তার পরিবারকে দেখিয়ে ৩০ লাখ টাকা দাবি করছে মাফিয়ারা। এমনকি তার নখ উপড়ে ফেলা এবং চাকু দিয়ে খুঁচিয়ে রক্ত ঝরানোর দৃশ্যও পরিবারকে দেখানো হয়েছে।

 

 

 

 

আসাদুলের বাবা আবু বক্তিয়ার অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, মাফিয়ারা ৩০ লাখ টাকা চায়। আমার সম্পত্তি থাকলে বিক্রি করে দিতাম, কিন্তু কিছুই নেই। একজন পিতা হয়ে ছেলের এমন করুণ পরিণতি কীভাবে সইব? সরকারের কাছে দাবি, আমার কলিজার টুকরা বাবারে ফিরাইয়া দেন।
আসাদুলের মা বকুল বেগম ও স্ত্রী নিপা বেগমও এখন শোকে পাথর। বাড়িতে দুই শিশু সন্তান হামিম ও শামিম তাদের বাবার ফেরার অপেক্ষায় পথ চেয়ে আছে। নিপা বেগম জানান, ধারে-সুদে আনা ৩ লাখ ও বাবার বাড়ি থেকে ১ লাখ টাকা সংগ্রহ করে মোট ৪ লাখ টাকা রোববার ও সোমবার ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু মাফিয়ারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আগামী দুই দিনের মধ্যে বাকি টাকা না দিলে আসাদুলকে হত্যা করে চার টুকরো করে মরুভূমিতে ফেলে দেওয়া হবে।

 

 

 

 

লিবিয়ায় থাকা আসাদুলের শ্যালক এরফান সরদার বিষয়টি স্থানীয় দুটি থানায় জানালে মাফিয়ারা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকেও খুঁজতে শুরু করে। জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় এরফান গত ৩০ মার্চ বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন এবং বোন নিপা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ঘটনার বিবরণ দিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরে মাফিয়ারা আসাদুলের ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়।
বর্তমানে আসাদুলের জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশ সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছে তার পরিবার ও এলাকাবাসী।

 

 

 

 

এ ব্যাপারে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বনিক বলেন, লিবিয়ায় এক যুবককে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের বিষয়টি মিডিয়া কর্মীর মাধ্যমে আমি জানতে পেরেছি। ওই পরিবার আমার কাছে লিখিতভাবে জানালে ওই কপি আমি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।

 

 

নির্দোষ হয়েও ধর্ষণ মামলায় একমাস কারাভোগ, প্রশ্নের মুখে তদন্ত

‎ফরেনসিক পরীক্ষায় ফেনীর পরশুরামের বক্সমাহমুদে ধর্ষণের শিকার সেই কিশোরীর ভূমিষ্ঠ সন্তানের সঙ্গে তার আপন বড় ভাইয়ের ডিএনএ’র মিল পাওয়া গেছে। আর এই অপরাধের দায় থেকে ভাইকে বাঁচাতে ফাঁসানো হয়েছিল স্থানীয় এক মসজিদের ইমামকে। এক মাস দুইদিন কারাভোগের পর ধর্ষণ মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি।

 

 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে মক্তবের পাঠ শেষ করেন পরশুরামের বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের রুবি আক্তার (১৪)। মক্তবে যাওয়া বন্ধ করার পাঁচ বছর পর অন্তঃসত্তা হয়ে পড়েন ওই ছাত্রী। পরে সন্তানও প্রসব করেন। আর এ ঘটনার দায় চাপানো হয় মক্তবের শিক্ষক মোজাফফর আহমদের (২৫) ওপর। দায়ের করা হয় তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা। সেই মামলায় একমাস জেল খাটার পর ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় ওই কিশোরীর গর্ভজাত সন্তানের বাবা মোজাফফর আহমদ নন। ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণ মেলে, তার গর্ভজাত সন্তানের বাবা আপন বড় ভাই মোরশেদ। ‎ ‎চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের উত্তর টেটেশ্বর গ্রামে। এ ঘটনার পর মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারান তিনি। মামলার খরচ যোগাতে বিক্রি করেছেন ৫ শতক জায়গা। প্রতিনিয়ত সামাজিকভাবে ট্রলের শিকার হতে হয় তাকে। এসব কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন মোজাফফর আহমদ। তিনি উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের আবুল বশরের ছেলে। ‎ ‎সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের ইমাম ও মক্তবের শিক্ষক ছিলেন মোজাফফর আহমেদ। ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর ওই গ্রামের চান মিয়ার স্ত্রী হনুফা খাতুন তার কিশোরী কন্যা রুবি আক্তারকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগে মোজাফফরের বিরুদ্ধে পরশুরাম মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। তখন ইমাম মোজাফফর এই ঘটনার সাথে জড়িত নন দাবি করে কাকুতি মিনতি করলেও কারো মন গলেনি। মিথ্যা অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর ফেনীর আদালতে মামলা করতে যান মোজাফফর। এসময় আদালত প্রাঙ্গণ থেকে গ্রামের মাতব্বর ও হনুফা খাতুন ইমাম মোজাফফরকে জোরপূর্বক পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এরপর একমাস দুইদিন কারাভোগ করেন মোজাফফর।

 

 

 

‎এদিকে একই বছরের ২২ ডিসেম্বর অভিযুক্ত মোজাফফরকে ঢাকার মালিবাগে পুলিশের সিআইডি বিভাগের ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্ব-শরীরে ও রুবি আক্তারের সংরক্ষিত ভ্যাজাইনাল সোয়াব পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।

‎ঢাকার মালিবাগের ফরেনসিক ল্যাবরেটরি থেকে থেকে ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি পরশুরাম মডেল থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক জাহিদুল ইসলামের কাছে পাঠানো ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে বলা হয়, পরীক্ষায় ভ্যাজাইনাল সোয়াব এ পুরুষের বীর্যের উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত হয়নি। ভ্যাজাইনাল সোয়াবে বীর্যের উপস্থিতি শনাক্ত না হওয়ায় মোজাফফরের ডিএনএ প্রোফাইলের সাথে তুলনা করে মতামত প্রদান করা সম্ভব নয়।

মামলার ভিকটিম ও তার সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশু কন্যা সন্তানের জৈবিক পিতা নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষার নিমিত্তে ভিকটিম ও তার সন্তানকে পরীক্ষাগারে উপস্থিত হয়ে ডিএনএর নমুনা প্রদানের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। ‎ ‎এরমধ্যে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে বিস্ময়কর তথ্য। ডিএনএ রিপোর্টে কিশোরীর সাথে মোজাফফরের মিল না পাওয়ার প্রতিবেদন ফেনীতে আসলে পুলিশ বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে তদন্ত শুরু করে। কিশোরী রুবি আক্তারকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে কিশোরী তাকে তার সহোদর ভাই গণহারে ধর্ষণ করেছে বলে জানায়। প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে আপন বড় ভাই মোরশেদকে ধর্ষণের দায় থেকে বাঁচাতে ভিকটিম রুবি আক্তার শিক্ষক মোজাফফর়কে ফাঁসানো হয়। ২০২৫ সালের ১৯ মে রুবি আক্তারকে ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বড় ভাই মোরশেদকে (২২) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে, মোরশেদ পরিবারের অগোচরে আপন বোন রুবি আক্তারকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে ২০ মে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন। ভিকটিম রুবি আক্তার ও তার ভাই মোরশেদ ওই গ্রামের চান মিয়ার ছেলেমেয়ে। ‎ ‎আদালতে আবেদনের প্রেক্ষিতে রুবি আক্তার, আর ভূমিষ্ঠ সন্তান জান্নাতুল ফেরদাউস ও অভিযুক্ত বড় ভাই মোরশেদকে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য একই বছরের ৪ আগস্ট ঢাকায় পুলিশের ফরেনসিক ল্যাবরেটরীতে পাঠানো হয়। ৯ আগস্ট ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ভিকটিমের সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশু কন্যা জান্নাতুল ফেরদাউসের সাথে মোরশেদের ডিএনএ নমুনা মিলে যাওয়ায় তিনি তার জৈবিক পিতা। ডিএনএ পরীক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ডিএনএ পরীক্ষায় মোরশেদের সাথে জান্নাতুল ফেরদৌসের পিতা হিসেবে ৯৯.৯৯ শতাংশ মিল রয়েছে। মোজাফফর আহমেদ রুবি আক্তারের গর্ভজাত সন্তানের জৈবিক পিতা নন। ‎ ‎মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক শরীফ হোসেন অভিযোগপত্রে -মোজাফফর আহমেদের বিরুদ্ধে আনিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০০) এর ৯ (১) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার দায় হতে অব্যাহতি প্রদান ও গ্রেপ্তার আসামি মোরশেদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমনের একই ধারায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গ্রেপ্তারের পর থেকে মোরশেদ ফেনী জেলা কারাগারে রয়েছেন।

 

 

 

এদিকে আদালতে ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট উপস্থাপনের পর এক মাস দুইদিন কারাভোগ করে জামিনে মুক্তি পান মোজাফফর।

 

 

 

‎মোজাফফর আহমদ বলেন, অবশেষে সত্যের জয় হয়েছে। এ ঘটনায় আমি সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেনস্থার শিকার হয়েছি। মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারিয়েছি। মামলার খরচ চালাতে বাড়ির পাশে মূল্যবান জায়গা বিক্রি করে দিয়েছি, অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। কারাভোগ, সামাজিক মর্যাদাহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তিনি। ‎ ‎তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় প্রায় মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে ফাঁসানো হয়। প্রকৃত সত্য তুলে ধরা হলে এভাবে আমার মতো অনেক নিরপরাধ মানুষ বেঁচে যাবে। ইমামের সামাজিক মর্যাদাহানি ও এক মাস কারা ক্ষতিপূরণের দাবি করেছেন।

 

 

 

‎মোজাফফর আহমেদের আইনজীবী আবদুল আলিম মাকসুদ বলেন, এ ধরনের ঘটনা বিরল। তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। ডিএনএ পরীক্ষায় সত্য উদঘাটন হয়েছে।

 

 

 

‎জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ পরশুরাম উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মুফতি আমিনুল ইসলাম জানান, সুন্নি, কওমি বা সরকারি বুঝি না, সে একজন মজলুম ইমাম ও তালেবে ইলম।

 

 

 

‎ক্ষতিগ্রস্ত ইমামের ক্ষতিপূরণ কে দেবে? তাকে মানসিকভাবে সাহস দেওয়ার পাশাপাশি, আর্থিক ও আইনিভাবে সহযোগিতা করা উচিত।

 

 

 

‎পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ গভীরভাবে তদন্ত করে। ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর চার্জশিট থেকে তার নাম প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার আপন বড় ভাই এ ঘটনার সাথে জড়িত।

 

 

 

তিনি বলেন, নিরপরাধ একজনকে ফাঁসানোর জন্য চেষ্টা করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

 

গজারিয়ায় ৭১’র গণহত্যার শহীদদের স্মরণে দোয়া ও আলোচনা সভা

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ১৯৭১ সালের ৯ মে গজারিয়ায় সংঘটিত ভয়াবহ গণহত্যায় শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) দুপুর  ১২টায় গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গজারিয়া ইউনিয়ন শহীদ পরিবার কল্যাণ পরিষদ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন।
অনুষ্ঠান  উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রেনেসাঁ ইন্টান্যাশনাল ফাউন্ডেশন, চেয়ারম্যান  ড.মো.আতাউর রহমান। গজারিয়া ইউনিয়ন শহীদ পরিবার কল্যাণ পরিষদের, সভাপতি মো.বিল্লাল হোসেন আখন্দের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, গজারিয়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহমুদুল হাসান, গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ( ওসি) হাসান আলী, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজ সেবক ইকবাল হোসেন সহ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভা শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।সে সঙ্গে  এমপির হাত থেকে ১০ কেজি চাউল ও পোষাক উপহার গ্রহন করে মুক্তি যোদ্ধা পরিবার।

বৈরী আবহাওয়া ও কম দামে দিশেহারা নাচোলের বোরো চাষিরা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখেছিলেন স্থানীয় কৃষকরা। প্রতি বিঘা জমিতে ২০ থেকে ২৫ মণ ধান পাওয়ার আশা থাকলেও মিলছে মাত্র ১২ থেকে ১৮ মণ। উৎপাদন কম হওয়ার পাশাপাশি বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

কৃষকদের দাবি, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের বাড়তি খরচের তুলনায় ধানের দাম একেবারে তলানিতে ঠেকেছে। তার ওপর কয়েক দিনের বৈরী আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টিতে অনেকের কাটা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে ধান শুকানো ও ঘরে তুলতে অতিরিক্ত শ্রমিক খরচ গুনতে হচ্ছে। এতে লোকসানের পরিমাণ আরও বাড়ছে।

স্থানীয় কৃষক সন্তশ হাঁসদা বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। ঋণ করে বোরো ধানের আবাদ করেছি। কিন্তু বৃষ্টির কারণে কাটা ধান পানিতে ডুবে যাচ্ছে। প্রতিদিন ধান নিচু জায়গা থেকে উঁচু জায়গায় নিয়ে শুকাতে হচ্ছে। এরপরও কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছি না।”

তবুও কষ্টার্জিত ফসল ঘরে তুলতে পেরে কিছুটা আনন্দিত কৃষকরা। তবে বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় সেই আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে যাচ্ছে।

আরেক কৃষক মজিবর বলেন, “বৃষ্টির কারণে কাটা ধান পানির নিচে ডুবে গেছে। এতে ধানে গাছ বের হয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের ধান বাজারে বিক্রি করা যাচ্ছে না। ফলে আমাদের বড় ধরনের লোকসান গুনতে হচ্ছে।”

স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দ্রুত মাঠের ধান কেটে নিরাপদে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

চলতি মৌসুমে নাচোল উপজেলায় প্রায় ৭ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ হয়েছে। কৃষকদের দাবি, ধান ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে চান তারা।

One thought on “শপথ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হলেন বিজয়

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ৭৬তম জন্মদিন আজ

শপথ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হলেন বিজয়

আপডেট টাইম : ১১:২৪:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয় বা বিজয় থালাপতি। রোববার (১০ মে) সকালে চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামে তার শপথ অনুষ্ঠান হয়।

 

 

 

অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা ৫১ বছরের বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪টির মধ্যে ১০৮টি আসনে জয় লাভ করে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত না হওয়ায় আটকে যায় তার শপথগ্রহণ। টানা পাঁচ দিন প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিতে আলোচনা ও গভর্নরের সঙ্গে চার দফা বৈঠক করতে হয় তাকে।

 

 

 

শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের পাঁচজন, বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চির দুজন, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (মার্কসবাদী) দুজন এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের দুই বিধায়কের সমর্থন নিয়ে বিজয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন।

দুটি আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ায় একটি আসন ছাড়তে হবে বিজয়কে। এরপরও তার জোটের মোট সদস্য সংখ্যা দাঁড়াবে ১২০ জনে।

এই সরকার গঠনের মাধ্যমে প্রায় ৬০ বছর পর তামিলনাড়ুতে ডিএমকে ও এআইএডিএমকের বাইরে অন্য কোনো দলের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলো।

 

 

সিরাজগঞ্জে নির্মিত হচ্ছে আধুনিক ‘আল-আকসা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ’ কমপ্লেক্স

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ৩ নম্বর বহুলী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ডুমুর ইছা গ্রামে নির্মিত হতে যাচ্ছে আধুনিক “আল-আকসা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ” কমপ্লেক্স। একইসঙ্গে একটি আধুনিক মাদ্রাসা, মাদ্রাসা ময়দান, ঈদগাহ মাঠ, খেলার মাঠ, প্রতিবন্ধী স্কুল ও স্পোর্টিং ক্লাব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

ডুমুর ইছা গ্রামের সাংবাদিক মো. ইয়াকুব আলী তালুকদারের উদ্যোগ ও আহ্বানে এবং প্রবাসী মো. আইয়ুব আলী তালুকদার ও মো. লিখন আলী তালুকদারের যৌথ সমন্বয়ে এই বৃহৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। এলাকার ধর্মীয়, সামাজিক ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নকে সামনে রেখে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

উদ্যোক্তা মো. ইয়াকুব আলী তালুকদার বলেন, আধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স ও মাদ্রাসা ভবন নির্মিত হলে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে মহান আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করতে পারবেন। পাশাপাশি গরিব, অসহায় ও তলবে এলেম শিক্ষার্থীরা ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার সুযোগ পাবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা ইসলামী জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে সুনাম বয়ে আনতে সক্ষম হবে, ইনশা আল্লাহ।

তিনি আরও জানান, মসজিদ ও মাদ্রাসার পাশাপাশি একটি ঈদগাহ মাঠ, যুব সমাজের জন্য স্পোর্টিং ক্লাব এবং খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে যুবসমাজকে মাদক ও নানা সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সামাজিক বিভিন্ন বিরোধ ও সমস্যা সমাধানের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবেশও তৈরি করা হবে।

এই মহৎ উদ্যোগে এলাকার প্রবীণ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন মো. আব্দুস সাত্তার তালুকদার, মো. মঞ্জুর হাসান ঝন্টু, মো. আব্দুল মান্নান তালুকদার, মো. ঈমান আলী তালুকদার, মো. ইউনুস আলী তালুকদার, মো. আনোয়ার হোসেন সেখ, মো. আদম আলী তালুকদার, মো. হাসান সেখ, মো. রওশন আলী তালুকদার, মো. আব্দুল মোমিন সেখ, মো. সুমন তালুকদার, মো. ফরজ আলী তালুকদার, মো. হারুনর রশীদ হিরোন, মো. আশরাফুল ইসলাম ও মো. আলহাজ্ব আলী তালুকদারসহ আরও অনেকে।

তারা বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়ন ও সফল বাস্তবায়নে তারা সবসময় সহযোগিতা করে যাবেন।

সবশেষে মো. ইয়াকুব আলী তালুকদার এলাকাবাসী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এটি শুধু একটি স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নয়, বরং একটি আদর্শ সমাজ গঠনের স্বপ্ন। তাই গ্রামের ছোট-বড় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে এসে সহযোগিতা করতে হবে। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এই মহৎ উদ্যোগ সফল করা সম্ভব।”

জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের মূল দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী

 

জনগণের শান্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১০ মে) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে বার্ষিক প্যারেড অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি এই কথা বলেন।

 

 

 

এর আগে ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চারদিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

 

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তব্যে তিনি বলেন, পুলিশ কর্মকর্তা এবং সদস্যবৃন্দ আনন্দঘন এই আয়োজন আপনারা সকলেই উপভোগ করেছেন। আমার কাছে এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা মনে হয়নি। বরং এটি ছিল পুলিশ সদস্যদের শৃঙ্খলা, আত্মমর্যাদা দায়িত্ববোধ এবং সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে দৃপ্ত পায়ে এগিয়ে চলার অবিচল অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশের মাধ্যম।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ছাত্রজনতার এক রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের পরে দেশের স্বাধীনতা প্রিয় মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হচ্ছে জনগণের রায়ে গঠিত বর্তমান সরকার।

তিনি আরও বলেন, বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য হামলা মামলার শিকার নিপীড়িত নির্যাতিত অধিকারহারা মানুষ বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সময় শান্তি এবং নিরাপত্তা চায়।

পুলিশদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণের শান্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আপনাদের কার্যক্রম। অর্থাৎ পুলিশের ভূমিকার ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। আপনারা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধ্য এবং সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবেন। এটিই আপনাদের কাছে বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা।

 

 

গাজীপুরে গরুচোর সন্দেহে তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা

 

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঘচালা গ্রামে গরু চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে ৩ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

 

 

 

 

রোববার (১০ মে) ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা চোরদের ব্যবহৃত একটি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়।

 

 

 

 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম। তবে নিহত তিনজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরে গরু চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছিল। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার গভীর রাতে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ট্রাক নিয়ে ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাগমারা-বাঘচালা এলাকায় গরু চুরি করতে আসে বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে মাইকিং ও চিৎকার দিয়ে আশপাশের মানুষকে জড়ো করে চারদিক থেকে চোরদের ধাওয়া দেয়।

 

স্থানীয়রা জানান, চোরচক্রের কয়েকজন সদস্য পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তিনজনকে আটক করে গণধোলাই দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। পরে উত্তেজিত জনতা চোরদের বহনের কাজে ব্যবহৃত ট্রাকটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তেই ট্রাকটি আগুনে পুড়ে যায়।

খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

 

 

কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গরু চুরি করতে আসা সন্দেহে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা তিনজনকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। এ সময় চুরি কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাকেও আগুন দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

 

 

 

এ ঘটনায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

 

 

 

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরি নিয়ে উত্তেজনা ও গণপিটুনির ঘটনা বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বারবার আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানালেও এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি উদ্বেগ তৈরি করেছে।

 

কামারখন্দে শিয়ালের তাণ্ডব, আহত ১৫ জন; আক্রান্ত ১৮ গবাদিপশু

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার রসুলপুর গ্রামে শিয়ালের আক্রমণে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। একই ঘটনায় বেশ কয়েকটি গবাদিপশুও আক্রান্ত হয়েছে। শনিবার (৯ মে) দুপুরে উপজেলার ফসলি মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা স্থানীয় হাসপাতাল ও বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে গ্রামের পাশের মাঠে হঠাৎ কয়েকটি শিয়াল মানুষের পাশাপাশি গরুর ওপর আক্রমণ শুরু করে। এ সময় গবাদিপশু রক্ষা করতে গেলে স্থানীয় লোকজনও শিয়ালের হামলার শিকার হন। পরে এলাকাবাসী ধাওয়া দিয়ে একটি শিয়ালকে মেরে ফেললেও অন্যগুলো পালিয়ে যায়।

 

 

 

গ্রামবাসী জানান, শিয়ালের কামড়ে অন্তত ১৮টি গরু আহত হয়েছে। আক্রান্ত গরুগুলোর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় কয়েকজন খামারির গবাদিপশু। হামলায় নজরুল, জিন্নাহ, জামেলা ও মাদ্রাসাছাত্র মিহিরসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। গুরুতর আহত সাত বছর বয়সী মিহিরকে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

 

 

কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, কয়েকজন আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে টিকার সংকট থাকায় একজনকে তাৎক্ষণিকভাবে ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব হয়নি।

 

 

 

অন্যদিকে কামারখন্দ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর জানিয়েছে, আক্রান্ত গবাদিপশুর বিষয়ে খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে সরেজমিনে কেউ যাননি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান।

 

 

 

ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এলাকায় বন্য প্রাণীর উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

 

 

সরকার গঠনের সব বাধা দূর, আগামীকাল শপথ নেবেন বিজয়

 

তামিলনাড়ুতে জোটের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর আগামীকালই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন তামিলাগা ভেট্টরি কাজাগম (টিভিকে) প্রধান থালাপতি বিজয়।

 

 

 

শনিবার (৯ মে) এনডিটিভির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি (ভিসিকে) এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল) নিঃশর্ত সমর্থন দেওয়ার পরই সরকার গঠনের পথে অনিশ্চয়তা কাটে বিজয়ের। দুই দলের সমর্থনে বিজয়ের নেতৃত্বাধীন জোট প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।

 

 

 

এর আগে শুক্রবারও গভর্নরের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছিলেন বিজয়। তবে সে সময় গভর্নর কার্যালয় সূত্রে বলা হয়েছিল, ১১৮ বিধায়কের সমর্থন নিশ্চিত করতে না পারায় তাকে এখনই সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে না।

বুধবার ও বৃহস্পতিবারও গভর্নর আরলেকারের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন বিজয়। কিন্তু দুইবারই গভর্নর স্পষ্ট জানান, বিধানসভায় প্রয়োজনীয় সমর্থন প্রমাণ করতে না পারায় তার দাবি গ্রহণ করা যাচ্ছে না।

এদিকে, তামিলনাড়ুর আরেক বড় রাজনৈতিক দল এআইএডিএমকেতে বড় ধরনের ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা সি ভি শানমুগম দল ভাঙার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে দাবি করেছে একাধিক সূত্র।

 

জানা গেছে, এআইএডিএমকের ৩০ জনের বেশি বিধায়ক তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং তাদের একটি অংশ বিজয়ের টিভিকেকে সমর্থন দেওয়ার পক্ষেও ঝুঁকছেন।

 

 

শনিবার পুদুচেরির একটি রিসোর্ট থেকে ফিরে চেন্নাইয়ে শানমুগমের কার্যালয়ে দলের শীর্ষ নেতাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে এস পি ভেলুমনি, এম আর বিজয়ভাস্কর, নাথাম বিশ্বনাথন এবং সি বিজয়ভাস্করসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

 

 

গাজীপুরের পাঁচ খুন: স্বজনদের ফোনে যা বলেছিলেন ঘাতক

 

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামের পাঁচ খুনের ঘটনায় দেশজুড়ে দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নারী, তার তিন সন্তান ও নারীর ভাইসহ পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত নারীর স্বামী ফোরকান মিয়া পলাতক আছেন।

 

 

 

শনিবার (৯ মে) সকালে রাউৎকোনা গ্রামের মো. মনির হোসেনের বাড়ির নিচতলা পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সেখানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনসহ (পিবিআই) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।

 

 

 

অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরী গোপীনাথপুর গ্রামের মো. আতিয়ার রহমানের ছেলে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন- ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন আক্তার (৩০), মেয়ে মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮), ফারিয়া (২) ও শ্যালক গোপালগঞ্জ সদরের পাইককান্দি গ্রামের রসুল মিয়া (২২)।

শারমিনের ফুফু ইভা আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, ফোরকান তার ভাই মিশকাতকে ফোন দিয়ে বলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেছে। সবাইকে মেরে ফেলেছি। আমাকে আর তোরা পাবি না।’ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে কয়েকজন গিয়ে দেখতে পায়, ভবনের কলাপসিবল গেট খোলা। নিচতলার কক্ষগুলোর দরজাও খোলা। ভেতরে গিয়ে মেঝে ও বিছানায় নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়। একই সঙ্গে তারা কাপাসিয়া থানায় যান।

 

তিনি দাবি করেন, ফোরকান মিয়া আরেকটি বিয়ে করার কথা স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন। এ নিয়ে শারমিন খুব মনঃক্ষুণ্ন ছিলেন। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য চলছিল। ছয় থেকে সাত মাস আগে ফোরকান শারমিনকে মারধর করেছিলেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে যায়। পরে তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। সুস্থ হওয়ার পর তিনি বাবার বাড়িতে থাকছিলেন। কয়েক দিন পর ফোরকান আবার স্ত্রীকে সেখান থেকে নিয়ে আসেন। এরপরও দ্বিতীয় বিয়ের প্রসঙ্গ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া–বিবাদ চলছিল।

 

 

ইভা আক্তার বলেন, আমার ভাতিজিসহ বাকি সবাইকে ফোরকান মিয়া হত্যা করেছে বলেই মনে হচ্ছে। আমরা এর কঠোর বিচার চাই।

 

 

 

এদিকে ঘরের ভেতর থেকে গোপালগঞ্জ সদর থানায় করা একটি অভিযোগের কপি উদ্ধার করা হয়েছে। কপিটিতে কোনো সই নেই। সেটি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৩ মে ফোরকান মিয়া একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে থানায় অভিযোগ করেন। সেখানে তার স্ত্রী, শ্বশুরসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

 

 

 

অভিযোগে বলা হয়েছে, শ্বশুর তার স্ত্রীর মাধ্যমে কয়েক দফায় এক লাখ টাকা নিয়েছেন। এ ছাড়া স্ত্রী তার এক স্বজনের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করায় শ্বশুর ও অন্যরা মিলে তাকে হাত–পা বেঁধে নির্যাতন করেন।

 

 

নিহত শারমিন আক্তারের চাচা মো. উজ্জ্বল মিয়া বলেন, আমাদের জানামতে ফোরকান সম্প্রতি তার শ্বশুরবাড়ি যায়নি। তাকে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমার মনে হয়, সে নিজেকে বাঁচানোর জন্য এমন অভিযোগ লিখেছে।’

 

 

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা ধারণা করছি, পারিবারিক কলহের জেরে ফোরকান এ ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে গেছে। ঘরের ভেতরে অনেক আলামত ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, আজ সকাল ৬টার দিকে ফোরকান তার গ্রামের বাড়িতে একজনকে কল করে জানিয়েছেন যে, তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে আমরা এখনো নিশ্চিত নই। তথ্য যাচাই–বাছাই চলছে। আমরা আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি।

 

 

রাশিয়ায় ড্রোন হামলায় প্রাণ গেল কিশোরগঞ্জের তরুণের

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার এক তরুণ রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের মধ্যে ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। নিহত মো. রিয়াদ রশিদ (২৮) উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের মাঝিরকোনা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জাফরাবাদ উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আব্দুর রশিদের ছেলে এবং রুশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

 

 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যার দিকে রিয়াদের বন্ধু লিমন দত্ত মেসেঞ্জারের মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর পরিবারকে জানান। লিমনও একই ক্যাম্পে অবস্থান করছিলেন। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়ে একটি পা হারান এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

 

লিমনের বরাতে পরিবার জানতে পারে, গত ২ মে রুশ সীমান্ত এলাকায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় রিয়াদসহ দুই বাংলাদেশি ও একজন নাইজেরীয় নাগরিক নিহত হন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

 

 

 

পরিবারের দাবি, গত বছরের অক্টোবরে চাকরির উদ্দেশ্যে রাশিয়ায় যান রিয়াদ রশিদ। পরে চলতি বছরের ৭ এপ্রিল তিনি রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তার ব্যাচ নম্বর ছিল ৭৩৫। তবে সেনাবাহিনীতে যোগদানের বিষয়টি পরিবারের কেউ আগে জানতেন না।

 

 

 

ছেলের মৃত্যুর সংবাদে শোকাহত বাবা আব্দুর রশিদ বলেন, “সে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছে—এ তথ্য আমাদের জানায়নি। জানলে কখনোই তাকে সেখানে যেতে দিতাম না। এখন শুনছি ড্রোন হামলায় সব শেষ হয়ে গেছে। ছেলের মরদেহেরও কোনো খোঁজ পাচ্ছি না।”
রিয়াদের চাচাতো ভাই জহিরুল ইসলাম জানান, গত ২৮ এপ্রিল পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রিয়াদের সর্বশেষ কথা হয়। এরপর ২৯ এপ্রিল রাত পর্যন্ত তাকে মেসেঞ্জারে অনলাইনে দেখা গিয়েছিল।

 

 

 

জাফরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাদাৎ মো. সায়েম ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে বলেন, নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সরকারি কোনো সহায়তার সুযোগ থাকলে তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।

 

 

 

করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরানুল কবির জানান, পুলিশ নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

 

সংবাদ প্রকাশের পর ফুলজোড় নদীর কচুরিপানা অপসারণ শুরু

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা ইউনিয়নের বকুলতলা এলাকায় ফুলজোড় নদীতে জমে থাকা বিশাল কচুরিপানার স্তূপ ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী এক দৃশ্য। নদীর মাঝখানে ভেসে থাকা কচুরিপানার ওপর গড়ে উঠেছে কয়েকটি অস্থায়ী ভ্রাম্যমাণ দোকান। প্রতিদিন সেখানে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। বিকেল গড়াতেই এলাকাটি যেন রূপ নেয় ছোট্ট এক বিনোদনকেন্দ্রে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নদীর পানির স্বাভাবিক প্রবাহ কমে যাওয়ায় কয়েক দিন ধরে বিপুল পরিমাণ কচুরিপানা এক জায়গায় জমে বড় আকার ধারণ করে। পরে স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী সেখানে চা, চানাচুর, ফুচকা ও বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের দোকান বসান। নদীর বুকে কচুরিপানার ওপর গড়ে ওঠা এই ব্যতিক্রমী পরিবেশ দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ সংবাদ প্রকাশের পর সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ফুলজোড় নদীর বকুলতলা এলাকায় জমে থাকা কচুরিপানা অপসারণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় ইতোমধ্যে অপসারণ কার্যক্রম শুরু করেছেন নলকা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রেজাউল করিম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদীতে কচুরিপানা জমে থাকায় নৌচলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও পানিপ্রবাহে বিরূপ প্রভাব পড়ছিল। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে প্রশাসনের নজরে আসে এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশ রক্ষায় নিয়মিত তদারকির দাবি জানান।

৫৩ লাখ টাকায় নির্মিত ভবন উদ্বোধনের আগেই ফাটল

 

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি পাবলিক লাইব্রেরি ভবনে উদ্বোধনের আগেই বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। ভবনটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর বা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি। এর মধ্যেই দেয়ালের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

 

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে নির্মিত এই লাইব্রেরি ভবনটি এলাকাবাসীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে বিবেচিত হলেও নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই এর গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

 

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনের একাধিক স্থানে দৃশ্যমান ফাটল রয়েছে। কোথাও কোথাও সিমেন্ট দিয়ে ফাটল ঢাকার চেষ্টা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং কাজের তদারকির অভাবের কারণেই এমন ত্রুটি দেখা দিয়েছে।

প্রকল্পের ঠিকাদার আবু তাহের ফাটলের বিষয়টি স্বীকার করলেও অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ভবনের কিছু জায়গায় সামান্য সমস্যা হয়েছে। আমরা দ্রুত মেরামত করে দেব।

তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, একটি নতুন ভবনে হস্তান্তরের আগেই কেন এমন ফাটল দেখা দেবে? শুধুমাত্র মেরামতের মাধ্যমে ভবনের স্থায়িত্ব কতটুকু নিশ্চিত করা সম্ভব, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন তারা।

 

 

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে নেওয়ার আগেই ঠিকাদারকে পুরো বিল পরিশোধ করা হয়েছে। বিষয়টি প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের আশঙ্কাকে আরও জোরাল করেছে।

 

 

 

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী হাসিনুর রশিদ ও নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নজরে এসেছে৷ আমরা সমাধান করে নেব৷

 

 

 

সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনায় উদ্বোধনের আগেই ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। তারা বলছেন, দায়সারা সংস্কার নয়—এই ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

 

 

জিআরআইসি স্টার্ট আপ লীগে রানার আপ

সফটওয়্যার দিয়ে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন ‘শিক্ষা আইটি’ লিমিটেডের

 

বিদেশি ব্যয়বহুল সফটওয়্যারের ওপর দেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় তরুণদের মাধ্যমে বিশ্বমানের সাস’ প্ল্যাটফর্ম তৈরির যুগান্তকারী আইডিয়া নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো  ‘১ম গ্লোবাল রোবটিকস অ্যান্ড ইনোভেশন চ্যাম্পিয়নশিপ (GRIC) ২০২৬।

 

 

ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত এই চ্যাম্পিয়নশীপের  স্টার্টআপ লিগে রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করলো দেশের উদীয়মান ভেঞ্চার বিল্ডার প্রতিষ্ঠান ‘শিক্ষা আইটি লিমিটেড’।

শুক্রবার (৮ মে) ইউনাইটেড ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়নশীপ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ১৫টি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। এতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে ‘গরুসেবা’ নামের একটি সফট্ওয়ার প্রতিষ্ঠান।

 

 

 

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার বিতরণ করেন ইউনাইটেড ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আবুল কাশেম মিয়া। এ সময় দেশী-বিদেশী আইটি বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষা আইটি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে দেশের নিউজ পোর্টাল, এসএমই এবং করপোরেট খাতগুলো সফটওয়্যার ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংকটে রয়েছে। বিদেশি প্ল্যাটফর্মগুলোর সাবস্ক্রিপশন ফি অত্যন্ত চড়া। উদাহরণস্বরূপ, ‘জোহো’ (Zoho)-এর মতো বিদেশি প্ল্যাটফর্মে ১০ জনের একটি টিমের জন্য মাসিক খরচ প্রায় সাড়ে চারশ ডলার বা ৫৪ হাজার টাকার বেশি, যা দেশের ছোট বা মাঝারি ব্যবসাগুলোর জন্য বহন করা কঠিন। অন্যদিকে, দেশীয় সফটওয়্যারগুলো সাধারণত প্রজেক্ট-ভিত্তিক হওয়ায় সেগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি আপডেট, আধুনিক ইউজার ইন্টারফেস (ইউআই) বা মোবাইল অপটিমাইজেশন থাকে না। ফলে দেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বাধ্য হয়ে পাইরেটেড বা ফ্রি টুলসের দিকে ঝুঁকছে।

 

 

 

এই বিশাল শূন্যস্থান পূরণের লক্ষ্যেই কাজ শুরু করেছে শিক্ষা আইটি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির মূল কার্যক্রম এগোচ্ছে ‘ভেঞ্চার বিল্ডার’ মডেলে, যা দুটি ধাপে কাজ করে। প্রথম ধাপ হলো ‘টেক বাংলাদেশ ২.০’। এটি ৯ মাসের একটি বিশেষায়িত প্রোগ্রাম, যেখানে তরুণদের ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিজাইন, মার্কেটিং, প্রোডাকশন এবং অপারেশনস—এই পাঁচটি কোর বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এই প্রশিক্ষণের সেরা তরুণদের নিয়ে দ্বিতীয় ধাপে গড়ে তোলা হবে ‘সাস স্টার্টআপ স্টুডিও’।

 

 

 

“আমরা কর্মী নয়, বরং গ্লোবাল মানের সফটওয়্যার নির্মাতা ও কো-ফাউন্ডার তৈরি করছি,” বলেন শিক্ষা আইটি লিমিটেডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “ভারতের জোহো (Zoho) যেভাবে একটি ছোট গ্রাম থেকে শুরু করে আজ বিশ্বের ১৫০টির বেশি দেশে সফটওয়্যার সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে, আমাদের স্বপ্নও ঠিক তেমনই। আমরা গতানুগতিক প্রজেক্ট নয়, গ্লোবাল মানের প্ল্যাটফর্ম বানাতে চাই, যা হবে আধুনিক, নিরাপদ এবং দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে।”

 

 

আতিকুল ইসলাম বলেন তিনি নিজে সেমিইন্ডিয়া প্রজেক্ট লিমিটেড, ফুডপান্ডাসহ বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন এবং সরকারের ‘হার পাওয়ার’ প্রজেক্টে যুক্ত ছিলেন।

 

 

 

তিনি বলেন, শিক্ষা আইটি লিমিটেড এর এই বিশাল কর্মযজ্ঞের নেতৃত্বে রয়েছেন অভিজ্ঞ প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক পেশাদাররা। চেয়ারম্যান মো. জুলহাস ক্রিয়েটিভ আইটি ও এডভয় বাংলাদেশের মতো প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং ডিরেক্টর (ফাইন্যান্স) হিসেবে রয়েছেন জয় চৌধুরী। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (RJSC) সরকারি দপ্তরের পূর্ণাঙ্গ অনুমোদনপ্রাপ্ত।

 

 

 

খুব শিগগিরই নিজস্ব রিসার্চ টিমের মাধ্যমে যাচাইকৃত নিজেদের তৈরি প্রথম ‘সাস’ (SaaS) প্রোডাক্ট নিয়ে দেশের কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় মিডিয়া হাউস ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সাথে পাইলট টেস্টিংয়ে যাচ্ছে শিক্ষা আইটি লিমিটেড। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ সফটওয়্যার রপ্তানি করে রেমিট্যান্স আনাই এখন টিম শিক্ষার মূল লক্ষ্য।

 

 

রায়গঞ্জে গণধর্ষণ মামলার আসামিসহ ৩ জন গ্রেফতার

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থানা পুলিশ পৃথক অভিযানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের গণধর্ষণ মামলার এক আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। শনিবার (৯ মে) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রায়গঞ্জ থানার মামলা নং-০৫, তারিখ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩) ধারায় দায়ের করা গণধর্ষণ মামলার আসামি মো. শাহীন খান (২৬) কে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি উপজেলার ধামাইনগর এলাকার মো. আব্দুল মজিদ খানের ছেলে।
এছাড়া সিআর মামলা নং-৯৯/২১ (সিরাজগঞ্জ) এর এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার সাজাপ্রাপ্ত আসামি আব্দুল মজিদ শেখকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি উপজেলার খামারগাতী গ্রামের মৃত রহিম বক্সের ছেলে।
অন্যদিকে পারিবারিক ডিং নং-৩৭২/২৫, পারিবারিক আদালত আইনের ১৭(৫) ধারার সাজাপ্রাপ্ত আসামি মোমিন শেখকেও আটক করা হয়েছে। তিনি উপজেলার মধুপুর গ্রামের মো. রমজানের ছেলে।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আহসানুজ্জামান বলেন,গ্রেফতারকৃতদের প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে ।

সেভ দ্য রোডের পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত

সেভ দ্য রোডের পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘আকাশ-সড়ক- রেল ও নৌপথকে দুর্ঘটনামুক্ত করার লক্ষ্যে ১৮ বছরের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা’ শীর্ষক সভায় সভাপতিত্ব করেন সেভ দ্য রোড-এর চেয়ারম্যান মো. আখতারুজ্জামান। রাজধানীর পুরানা পল্টনস্থ তাজ মিলনায়তনে ৯ মে বিকেলে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, মহাসচিব শান্তা ফারজানা, ভাইস চেয়ারম্যান বিকাশ রায়, আকরাম হোসেন খান, জিয়াউর রহমান জিয়া ও কালাম ফয়েজী।

 

 

 

এসময় নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, সেভ দ্য রোড-এর কার্যক্রমের কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষ সচেতন হলেও বিভিন্ন সময়ের সংশ্লিষ্ট মহলের কারণে নির্মমভাবে বাংলাদেশে সড়ক দূর্ঘটনা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। যা কোনাভাবেই সচেতন নাগরিকরা মেনে নিতে পারে। সেই সচেতন নাগরিক সমাজের আগ্রহী স্বেচ্ছাসেবি চিন্তার মানুষদেরকে সেভ দ্য রোড-এর সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে জনাব জামান বলেন, সেভ দ্য রোড-এর কার্যক্রমকে গতিশীল করতে সারাদেশে সদস্য সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আকাশ-সড়ক- রেল বা নৌপথে কোনো নতুন দুর্ঘটনা দেখতে চাই না।

 

 

ইসলামপুরে হালিম নগর বাজার হস্তান্তর ও ব্যবস্থাপনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় অবকাঠামোগত দক্ষতা  উন্নয়ন ও তথ্যের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বৃদ্ধি (প্রভাতী)” প্রকল্পের আওতায় বলিয়াদহ হালিম নগর (আমতলী) বাজার হস্তান্তর, পরিচালনা ও বাজার ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

 

‎শনিবার (০৯মে ২০২৬)  সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় কর্তৃক আয়োজিত  অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ এ. ই সুলতান মাহমুদ বাবু।

 

 

 

‎উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হুসাইনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী রােজদিদ আহাম্মেদ।
‎এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নবী নেওয়াজ খান লোহানী বিপুল, উপজেলা বিএনপির  সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নাজিম হোসেন নোমান, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক প্রিন্স আলম, পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম ঢালী, সাবেক সভাপতি জয়নাল আবেদীন সরকার, ইসলামপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আওয়াল খান লোহানী।

 

 


‎কর্মশালায় বাজার পরিচালনা ব্যবস্থাপনা কমিটি, বণিক সমতি, স্থায়া-অস্থায়ী ব্যবসায়ী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, খামারি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় বাজার ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা রক্ষা, খামারিদের সুবিধা বৃদ্ধি এবং বাজারের টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
‎অনুষ্ঠান শেষে ১০৫ জন এলএসপিদের মাঝে লভ্যাংশ প্রদান করা হয়।

 

 

কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারি, জোরদার টহল অভিযান

কুড়িগ্রামের সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ও ভারতীয় চোরাচালান ঠেকাতে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) জোরদার নজরদারি ও টহল কার্যক্রম শুরু করেছে।

শনিবার (৯ মে) কুড়িগ্রাম জেলার সীমান্তবর্তী ফুলবাড়ী এবং কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুরের চর নারায়ণপুর এলাকায় বিজিবির টহল কার্যক্রম দেখা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারতের সীমান্তঘেঁষা জেলা হওয়ায় কুড়িগ্রামের বিভিন্ন সীমান্তপথ দিয়ে মাদক, গরু, স্বর্ণ, কসমেটিকসসহ নানা ধরনের অবৈধ পণ্য দেশে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়। এসব চোরাচালান ঠেকাতে সীমান্তজুড়ে নজরদারি বাড়িয়েছে বিজিবি।

ফুলবাড়ী সীমান্ত ছাড়াও কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুরের চর নারায়ণপুর এলাকায় নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী সীমান্ত এলাকাকেও বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক পিএসসি বলেন, “কুড়িগ্রামের প্রায় ১৫০ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে নাগেশ্বরী, ফুলবাড়ী ও ভুরুঙ্গামারী এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষায় আমরা সর্বদা সোচ্চার রয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “যেসব এলাকা দিয়ে অতীতে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা চোরাচালানের ঘটনা ঘটেছে, সেসব এলাকাতেও কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। ফলে আগের মতো পরিস্থিতি আর হবে না বলে আমরা আশাবাদী।”

মাদকের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “মাদক দেশ ও জাতিকে ধ্বংস করছে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।”

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন কলকারখানা ও বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে: শিল্পমন্ত্রী

ঠাকুরগাঁওয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করতে নতুন করে গড়ে তোলা হচ্ছে বৃহৎ শিল্প পার্ক। যেখানে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রয়োজনে আরও  শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে।
শনিবার (৯ মে) সকাল সাড়ে ১০ দিকে ঠাকুরগাঁও বিসিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পনগরী পরিদর্শনে এসে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে ইতোমধ্যে একটি ইপিজেড রয়েছে, যেখানে শিল্প উদ্যোক্তারা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। নতুন যে বিসিক শিল্পনগরী নির্মাণ করা হচ্ছে, সেখানে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন শিল্প উদ্যোক্তার সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা প্লট নিয়ে নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, বেকারত্ব দূর করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। আর সেই লক্ষ্যেই নতুন কলকারখানা ও বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে। নতুন করে প্রায় ৫০ একর জায়গাজুড়ে ঠাকুরগাঁও শিল্প পার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে, যেখানে ২৫১টি প্লট থাকবে। এসব প্লটে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। কেউ হয়তো দুই, তিন কিংবা চারটি প্লট নিয়েও শিল্প স্থাপন করবেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, এই প্রকল্প সফল হলে ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে, যাতে দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হয়।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে জনগোষ্ঠীকে জনশক্তিতে রূপান্তর করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা এবং বিদ্যমান জনশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি করা। সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে।ঠাকুরগাঁওয়ের নতুন শিল্পনগরী পরিদর্শনও সেই কার্যক্রমেরই একটি অংশ।
শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওয়ে নতুন নতুন রপ্তানিযোগ্য ফসল উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে আলুভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশে ব্যাপক পরিমাণে আলু উৎপাদিত হলেও রপ্তানিযোগ্য আলুর ঘাটতি রয়েছে। তাই রপ্তানিযোগ্য আলুর নতুন জাত উৎপাদনের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং ইনশাল্লাহ আমরা সেটি আগামী দিনে অর্জন করব।
পরে শিল্পমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও পুরাতন বিসিক শিল্পনগরীর বিভিন্ন কারখানা পরিদর্শন করেন।
এসময় ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, বিসিক শিল্পনগরীর উদ্যোক্তা এবং জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

লিবিয়ায় মাফিয়াদের কবলে বরিশালের আসাদুল, ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি, প্রাণনাশের হুমকি

সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে লিবিয়া পাড়ি জমিয়েছিলেন বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার আসাদুল বক্তিয়ার । কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। গত দুই মাস ধরে লিবিয়ার একটি মাফিয়া চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তিনি। আসাদুলকে জীবিত ফিরে পেতে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে অপহরণকারীরা। ইতোমধ্যে ৪ লাখ টাকা দেওয়া হলেও বাকি টাকার জন্য তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

 

 

 

আসাদুল আগৈলঝাড়া উপজেলার চাঁত্রিশিরা গ্রামের আবু বক্তিয়ারের ছেলে। ২০২২ সালের অক্টোবরে বৈধভাবে লিবিয়ায় গিয়ে আনজারা শহরে মসজিদের পাশে একটি দোকানে টেইলারিংয়ের কাজ করে মাসে ২০-২৫ হাজার টাকা দেশে পাঠাতেন তিনি।

 

 

 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ রমজান সেহরি খাওয়ার পর ভোররাতে ৫-৬ জনের একটি সশস্ত্র মাফিয়া দল আসাদুলকে তার বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে একটি গোপন আস্তানায় তাকে হাত-পা বেঁধে উল্টো করে ঝুলিয়ে এবং বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারধর করা হচ্ছে। নির্যাতনের সেই শিউরে ওঠা দৃশ্য ভিডিও কলের মাধ্যমে বাংলাদেশে তার পরিবারকে দেখিয়ে ৩০ লাখ টাকা দাবি করছে মাফিয়ারা। এমনকি তার নখ উপড়ে ফেলা এবং চাকু দিয়ে খুঁচিয়ে রক্ত ঝরানোর দৃশ্যও পরিবারকে দেখানো হয়েছে।

 

 

 

 

আসাদুলের বাবা আবু বক্তিয়ার অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, মাফিয়ারা ৩০ লাখ টাকা চায়। আমার সম্পত্তি থাকলে বিক্রি করে দিতাম, কিন্তু কিছুই নেই। একজন পিতা হয়ে ছেলের এমন করুণ পরিণতি কীভাবে সইব? সরকারের কাছে দাবি, আমার কলিজার টুকরা বাবারে ফিরাইয়া দেন।
আসাদুলের মা বকুল বেগম ও স্ত্রী নিপা বেগমও এখন শোকে পাথর। বাড়িতে দুই শিশু সন্তান হামিম ও শামিম তাদের বাবার ফেরার অপেক্ষায় পথ চেয়ে আছে। নিপা বেগম জানান, ধারে-সুদে আনা ৩ লাখ ও বাবার বাড়ি থেকে ১ লাখ টাকা সংগ্রহ করে মোট ৪ লাখ টাকা রোববার ও সোমবার ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু মাফিয়ারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আগামী দুই দিনের মধ্যে বাকি টাকা না দিলে আসাদুলকে হত্যা করে চার টুকরো করে মরুভূমিতে ফেলে দেওয়া হবে।

 

 

 

 

লিবিয়ায় থাকা আসাদুলের শ্যালক এরফান সরদার বিষয়টি স্থানীয় দুটি থানায় জানালে মাফিয়ারা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকেও খুঁজতে শুরু করে। জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় এরফান গত ৩০ মার্চ বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন এবং বোন নিপা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ঘটনার বিবরণ দিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরে মাফিয়ারা আসাদুলের ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়।
বর্তমানে আসাদুলের জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশ সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছে তার পরিবার ও এলাকাবাসী।

 

 

 

 

এ ব্যাপারে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বনিক বলেন, লিবিয়ায় এক যুবককে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের বিষয়টি মিডিয়া কর্মীর মাধ্যমে আমি জানতে পেরেছি। ওই পরিবার আমার কাছে লিখিতভাবে জানালে ওই কপি আমি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।

 

 

নির্দোষ হয়েও ধর্ষণ মামলায় একমাস কারাভোগ, প্রশ্নের মুখে তদন্ত

‎ফরেনসিক পরীক্ষায় ফেনীর পরশুরামের বক্সমাহমুদে ধর্ষণের শিকার সেই কিশোরীর ভূমিষ্ঠ সন্তানের সঙ্গে তার আপন বড় ভাইয়ের ডিএনএ’র মিল পাওয়া গেছে। আর এই অপরাধের দায় থেকে ভাইকে বাঁচাতে ফাঁসানো হয়েছিল স্থানীয় এক মসজিদের ইমামকে। এক মাস দুইদিন কারাভোগের পর ধর্ষণ মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি।

 

 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে মক্তবের পাঠ শেষ করেন পরশুরামের বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের রুবি আক্তার (১৪)। মক্তবে যাওয়া বন্ধ করার পাঁচ বছর পর অন্তঃসত্তা হয়ে পড়েন ওই ছাত্রী। পরে সন্তানও প্রসব করেন। আর এ ঘটনার দায় চাপানো হয় মক্তবের শিক্ষক মোজাফফর আহমদের (২৫) ওপর। দায়ের করা হয় তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা। সেই মামলায় একমাস জেল খাটার পর ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় ওই কিশোরীর গর্ভজাত সন্তানের বাবা মোজাফফর আহমদ নন। ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণ মেলে, তার গর্ভজাত সন্তানের বাবা আপন বড় ভাই মোরশেদ। ‎ ‎চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের উত্তর টেটেশ্বর গ্রামে। এ ঘটনার পর মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারান তিনি। মামলার খরচ যোগাতে বিক্রি করেছেন ৫ শতক জায়গা। প্রতিনিয়ত সামাজিকভাবে ট্রলের শিকার হতে হয় তাকে। এসব কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন মোজাফফর আহমদ। তিনি উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের আবুল বশরের ছেলে। ‎ ‎সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের ইমাম ও মক্তবের শিক্ষক ছিলেন মোজাফফর আহমেদ। ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর ওই গ্রামের চান মিয়ার স্ত্রী হনুফা খাতুন তার কিশোরী কন্যা রুবি আক্তারকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগে মোজাফফরের বিরুদ্ধে পরশুরাম মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। তখন ইমাম মোজাফফর এই ঘটনার সাথে জড়িত নন দাবি করে কাকুতি মিনতি করলেও কারো মন গলেনি। মিথ্যা অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর ফেনীর আদালতে মামলা করতে যান মোজাফফর। এসময় আদালত প্রাঙ্গণ থেকে গ্রামের মাতব্বর ও হনুফা খাতুন ইমাম মোজাফফরকে জোরপূর্বক পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এরপর একমাস দুইদিন কারাভোগ করেন মোজাফফর।

 

 

 

‎এদিকে একই বছরের ২২ ডিসেম্বর অভিযুক্ত মোজাফফরকে ঢাকার মালিবাগে পুলিশের সিআইডি বিভাগের ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্ব-শরীরে ও রুবি আক্তারের সংরক্ষিত ভ্যাজাইনাল সোয়াব পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।

‎ঢাকার মালিবাগের ফরেনসিক ল্যাবরেটরি থেকে থেকে ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি পরশুরাম মডেল থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক জাহিদুল ইসলামের কাছে পাঠানো ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে বলা হয়, পরীক্ষায় ভ্যাজাইনাল সোয়াব এ পুরুষের বীর্যের উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত হয়নি। ভ্যাজাইনাল সোয়াবে বীর্যের উপস্থিতি শনাক্ত না হওয়ায় মোজাফফরের ডিএনএ প্রোফাইলের সাথে তুলনা করে মতামত প্রদান করা সম্ভব নয়।

মামলার ভিকটিম ও তার সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশু কন্যা সন্তানের জৈবিক পিতা নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষার নিমিত্তে ভিকটিম ও তার সন্তানকে পরীক্ষাগারে উপস্থিত হয়ে ডিএনএর নমুনা প্রদানের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। ‎ ‎এরমধ্যে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে বিস্ময়কর তথ্য। ডিএনএ রিপোর্টে কিশোরীর সাথে মোজাফফরের মিল না পাওয়ার প্রতিবেদন ফেনীতে আসলে পুলিশ বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে তদন্ত শুরু করে। কিশোরী রুবি আক্তারকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে কিশোরী তাকে তার সহোদর ভাই গণহারে ধর্ষণ করেছে বলে জানায়। প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে আপন বড় ভাই মোরশেদকে ধর্ষণের দায় থেকে বাঁচাতে ভিকটিম রুবি আক্তার শিক্ষক মোজাফফর়কে ফাঁসানো হয়। ২০২৫ সালের ১৯ মে রুবি আক্তারকে ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বড় ভাই মোরশেদকে (২২) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে, মোরশেদ পরিবারের অগোচরে আপন বোন রুবি আক্তারকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে ২০ মে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন। ভিকটিম রুবি আক্তার ও তার ভাই মোরশেদ ওই গ্রামের চান মিয়ার ছেলেমেয়ে। ‎ ‎আদালতে আবেদনের প্রেক্ষিতে রুবি আক্তার, আর ভূমিষ্ঠ সন্তান জান্নাতুল ফেরদাউস ও অভিযুক্ত বড় ভাই মোরশেদকে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য একই বছরের ৪ আগস্ট ঢাকায় পুলিশের ফরেনসিক ল্যাবরেটরীতে পাঠানো হয়। ৯ আগস্ট ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ভিকটিমের সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশু কন্যা জান্নাতুল ফেরদাউসের সাথে মোরশেদের ডিএনএ নমুনা মিলে যাওয়ায় তিনি তার জৈবিক পিতা। ডিএনএ পরীক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ডিএনএ পরীক্ষায় মোরশেদের সাথে জান্নাতুল ফেরদৌসের পিতা হিসেবে ৯৯.৯৯ শতাংশ মিল রয়েছে। মোজাফফর আহমেদ রুবি আক্তারের গর্ভজাত সন্তানের জৈবিক পিতা নন। ‎ ‎মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক শরীফ হোসেন অভিযোগপত্রে -মোজাফফর আহমেদের বিরুদ্ধে আনিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০০) এর ৯ (১) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার দায় হতে অব্যাহতি প্রদান ও গ্রেপ্তার আসামি মোরশেদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমনের একই ধারায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গ্রেপ্তারের পর থেকে মোরশেদ ফেনী জেলা কারাগারে রয়েছেন।

 

 

 

এদিকে আদালতে ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট উপস্থাপনের পর এক মাস দুইদিন কারাভোগ করে জামিনে মুক্তি পান মোজাফফর।

 

 

 

‎মোজাফফর আহমদ বলেন, অবশেষে সত্যের জয় হয়েছে। এ ঘটনায় আমি সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেনস্থার শিকার হয়েছি। মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারিয়েছি। মামলার খরচ চালাতে বাড়ির পাশে মূল্যবান জায়গা বিক্রি করে দিয়েছি, অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। কারাভোগ, সামাজিক মর্যাদাহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তিনি। ‎ ‎তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় প্রায় মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে ফাঁসানো হয়। প্রকৃত সত্য তুলে ধরা হলে এভাবে আমার মতো অনেক নিরপরাধ মানুষ বেঁচে যাবে। ইমামের সামাজিক মর্যাদাহানি ও এক মাস কারা ক্ষতিপূরণের দাবি করেছেন।

 

 

 

‎মোজাফফর আহমেদের আইনজীবী আবদুল আলিম মাকসুদ বলেন, এ ধরনের ঘটনা বিরল। তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। ডিএনএ পরীক্ষায় সত্য উদঘাটন হয়েছে।

 

 

 

‎জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ পরশুরাম উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মুফতি আমিনুল ইসলাম জানান, সুন্নি, কওমি বা সরকারি বুঝি না, সে একজন মজলুম ইমাম ও তালেবে ইলম।

 

 

 

‎ক্ষতিগ্রস্ত ইমামের ক্ষতিপূরণ কে দেবে? তাকে মানসিকভাবে সাহস দেওয়ার পাশাপাশি, আর্থিক ও আইনিভাবে সহযোগিতা করা উচিত।

 

 

 

‎পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ গভীরভাবে তদন্ত করে। ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর চার্জশিট থেকে তার নাম প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার আপন বড় ভাই এ ঘটনার সাথে জড়িত।

 

 

 

তিনি বলেন, নিরপরাধ একজনকে ফাঁসানোর জন্য চেষ্টা করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

 

গজারিয়ায় ৭১’র গণহত্যার শহীদদের স্মরণে দোয়া ও আলোচনা সভা

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ১৯৭১ সালের ৯ মে গজারিয়ায় সংঘটিত ভয়াবহ গণহত্যায় শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) দুপুর  ১২টায় গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গজারিয়া ইউনিয়ন শহীদ পরিবার কল্যাণ পরিষদ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন।
অনুষ্ঠান  উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রেনেসাঁ ইন্টান্যাশনাল ফাউন্ডেশন, চেয়ারম্যান  ড.মো.আতাউর রহমান। গজারিয়া ইউনিয়ন শহীদ পরিবার কল্যাণ পরিষদের, সভাপতি মো.বিল্লাল হোসেন আখন্দের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, গজারিয়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহমুদুল হাসান, গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ( ওসি) হাসান আলী, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজ সেবক ইকবাল হোসেন সহ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভা শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।সে সঙ্গে  এমপির হাত থেকে ১০ কেজি চাউল ও পোষাক উপহার গ্রহন করে মুক্তি যোদ্ধা পরিবার।

বৈরী আবহাওয়া ও কম দামে দিশেহারা নাচোলের বোরো চাষিরা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখেছিলেন স্থানীয় কৃষকরা। প্রতি বিঘা জমিতে ২০ থেকে ২৫ মণ ধান পাওয়ার আশা থাকলেও মিলছে মাত্র ১২ থেকে ১৮ মণ। উৎপাদন কম হওয়ার পাশাপাশি বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

কৃষকদের দাবি, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের বাড়তি খরচের তুলনায় ধানের দাম একেবারে তলানিতে ঠেকেছে। তার ওপর কয়েক দিনের বৈরী আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টিতে অনেকের কাটা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে ধান শুকানো ও ঘরে তুলতে অতিরিক্ত শ্রমিক খরচ গুনতে হচ্ছে। এতে লোকসানের পরিমাণ আরও বাড়ছে।

স্থানীয় কৃষক সন্তশ হাঁসদা বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। ঋণ করে বোরো ধানের আবাদ করেছি। কিন্তু বৃষ্টির কারণে কাটা ধান পানিতে ডুবে যাচ্ছে। প্রতিদিন ধান নিচু জায়গা থেকে উঁচু জায়গায় নিয়ে শুকাতে হচ্ছে। এরপরও কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছি না।”

তবুও কষ্টার্জিত ফসল ঘরে তুলতে পেরে কিছুটা আনন্দিত কৃষকরা। তবে বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় সেই আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে যাচ্ছে।

আরেক কৃষক মজিবর বলেন, “বৃষ্টির কারণে কাটা ধান পানির নিচে ডুবে গেছে। এতে ধানে গাছ বের হয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের ধান বাজারে বিক্রি করা যাচ্ছে না। ফলে আমাদের বড় ধরনের লোকসান গুনতে হচ্ছে।”

স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দ্রুত মাঠের ধান কেটে নিরাপদে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

চলতি মৌসুমে নাচোল উপজেলায় প্রায় ৭ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ হয়েছে। কৃষকদের দাবি, ধান ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে চান তারা।