সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

ভুয়া মামলায় কেন গ্রেপ্তার করতে হবে, রাশেদের প্রশ্ন

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০৫:২০:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫
  • 200

জনতার কণ্ঠ ডেস্কঃ

যাত্রাবাড়ী থানার আসাদুল হক বাবু হত্যা মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদিকে বরিশাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটা নিছক একটা ভুয়া মামলা, এ মামলায় কেন তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে? এমন প্রশ্ন করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।

 

সোমবার (২৫ আগস্ট) বেলা সোয়া ১১টায় নিজের ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান লিখেছেন, ‘যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলায় তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটা নিছক একটা ভুয়া মামলা। ভুয়া মামলায় কেন তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে? সে তেলবাজি করেছে, তেলবাজির মামলায় বা তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ থাকলে সেটির পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার করতে পারত। তৌহিদ আফ্রিদিদের আমি কখনোই পছন্দ করি নাই। এদের তেলবাজি নিয়ে আমি বরাবরই প্রতিবাদ করেছি, বক্তব্যও দিয়েছি। বরাবর বলেছি, এসব তেলবাজরা তরুণদের আইডল হতে পারে না। যাই হোক, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা আইনের শাসনের কথা বলছি। ভুয়া মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা আইনের শাসন কায়েমের অন্তরায়। যার বিরুদ্ধে যতটুকু অভিযোগ, সে যতটুকু অন্যায় করেছে, তাকে ততটুকুই শাস্তি দিতে হবে।

 

রাশেদ খান আরও লিখেছেন, ‘দ্বিতীয়ত, সরাসরি আওয়ামী লীগের পদে থাকা ডামি এমপি বা মন্ত্রীরা কেন গ্রেপ্তার হচ্ছে না? তৌহিদ আফ্রিদির থেকে তারা বড় অপরাধী। তারা সন্ত্রাসী পেলেছে, দুর্নীতি করেছে, শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করেছে। তাদের অন্তর্বর্তী সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নিরাপত্তা পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। বিচার শেষ হওয়ার পূর্বে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তে সারা দেশে এরা জামিনও পাচ্ছে। আমি ১ বছর এসব নিয়ে প্রতিবাদ করায় অনেকের বিরাগভাজন হয়েছি। অন্তর্বর্তী সরকারের এসব কর্মযজ্ঞের সমালোচনা করায় যারা আমার সমালোচনা করেছে, তারা দেখি এখন সরাসরি ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস ও তার সরকারের কঠোর সমালোচনা ও আক্রমণ শুরু করেছে। এজন্য আমি আপাতত সরকারের সমালোচনা বন্ধ করেছি, স্বার্থে আঘাত লাগায় বা সরকারের সঙ্গে নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়ে বিরোধ তৈরি হওয়ায় আমার সমালোচকদের বিবেক জাগ্রত হয়েছে। তারা আপাতত সব পুষিয়ে দিচ্ছে।

এদিকে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে আসাদুল হক বাবু হত্যা মামলায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদিকে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার (২৫ আগস্ট) বেলা ২টা ২৫ মিনিটে তাকে আদালতে হাজির করে সিএমএম কোর্টের হাজতখানায় রাখা হয়। পরে বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক আসামি তৌহিদ আফ্রিদির ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক খান মো. এরফান তৌহিদ আফ্রিদির সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

এর আগে রোববার (২৪ আগস্ট) রাতে বরিশাল থেকে তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি পুলিশ।

এ মামলায় গত ১৭ আগস্ট রাজধানীর গুলশান থেকে তৌহিদ আফ্রিদির বাবা বেসরকারি টিভি চ্যানেল মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে এ মামলায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে গত ২৩ আগস্ট নাসিরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

মামলার সূত্রে জানা গেছে, জুলাই আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানাধীন পাকা রাস্তার ওপর আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান মো. আসাদুল হক বাবু। এ ঘটনায় নিহতের বাবা জয়নাল আবেদীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।

এ মামলায় নাসির উদ্দিন ২২ নম্বর ও তার ছেলে তৌহিদ আফ্রিদি ১১ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।

সূত্রঃ কালবেলা

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখোমুখি ফাইটাররা, প্রশ্নোত্তরের পাশাপাশি দেখালেন বক্সিং পোজ

ভুয়া মামলায় কেন গ্রেপ্তার করতে হবে, রাশেদের প্রশ্ন

আপডেট টাইম : ০৫:২০:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫

জনতার কণ্ঠ ডেস্কঃ

যাত্রাবাড়ী থানার আসাদুল হক বাবু হত্যা মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদিকে বরিশাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটা নিছক একটা ভুয়া মামলা, এ মামলায় কেন তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে? এমন প্রশ্ন করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।

 

সোমবার (২৫ আগস্ট) বেলা সোয়া ১১টায় নিজের ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান লিখেছেন, ‘যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলায় তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটা নিছক একটা ভুয়া মামলা। ভুয়া মামলায় কেন তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে? সে তেলবাজি করেছে, তেলবাজির মামলায় বা তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ থাকলে সেটির পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার করতে পারত। তৌহিদ আফ্রিদিদের আমি কখনোই পছন্দ করি নাই। এদের তেলবাজি নিয়ে আমি বরাবরই প্রতিবাদ করেছি, বক্তব্যও দিয়েছি। বরাবর বলেছি, এসব তেলবাজরা তরুণদের আইডল হতে পারে না। যাই হোক, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা আইনের শাসনের কথা বলছি। ভুয়া মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা আইনের শাসন কায়েমের অন্তরায়। যার বিরুদ্ধে যতটুকু অভিযোগ, সে যতটুকু অন্যায় করেছে, তাকে ততটুকুই শাস্তি দিতে হবে।

 

রাশেদ খান আরও লিখেছেন, ‘দ্বিতীয়ত, সরাসরি আওয়ামী লীগের পদে থাকা ডামি এমপি বা মন্ত্রীরা কেন গ্রেপ্তার হচ্ছে না? তৌহিদ আফ্রিদির থেকে তারা বড় অপরাধী। তারা সন্ত্রাসী পেলেছে, দুর্নীতি করেছে, শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করেছে। তাদের অন্তর্বর্তী সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নিরাপত্তা পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। বিচার শেষ হওয়ার পূর্বে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তে সারা দেশে এরা জামিনও পাচ্ছে। আমি ১ বছর এসব নিয়ে প্রতিবাদ করায় অনেকের বিরাগভাজন হয়েছি। অন্তর্বর্তী সরকারের এসব কর্মযজ্ঞের সমালোচনা করায় যারা আমার সমালোচনা করেছে, তারা দেখি এখন সরাসরি ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস ও তার সরকারের কঠোর সমালোচনা ও আক্রমণ শুরু করেছে। এজন্য আমি আপাতত সরকারের সমালোচনা বন্ধ করেছি, স্বার্থে আঘাত লাগায় বা সরকারের সঙ্গে নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়ে বিরোধ তৈরি হওয়ায় আমার সমালোচকদের বিবেক জাগ্রত হয়েছে। তারা আপাতত সব পুষিয়ে দিচ্ছে।

এদিকে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে আসাদুল হক বাবু হত্যা মামলায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদিকে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার (২৫ আগস্ট) বেলা ২টা ২৫ মিনিটে তাকে আদালতে হাজির করে সিএমএম কোর্টের হাজতখানায় রাখা হয়। পরে বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক আসামি তৌহিদ আফ্রিদির ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক খান মো. এরফান তৌহিদ আফ্রিদির সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

এর আগে রোববার (২৪ আগস্ট) রাতে বরিশাল থেকে তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি পুলিশ।

এ মামলায় গত ১৭ আগস্ট রাজধানীর গুলশান থেকে তৌহিদ আফ্রিদির বাবা বেসরকারি টিভি চ্যানেল মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে এ মামলায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে গত ২৩ আগস্ট নাসিরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

মামলার সূত্রে জানা গেছে, জুলাই আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানাধীন পাকা রাস্তার ওপর আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান মো. আসাদুল হক বাবু। এ ঘটনায় নিহতের বাবা জয়নাল আবেদীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।

এ মামলায় নাসির উদ্দিন ২২ নম্বর ও তার ছেলে তৌহিদ আফ্রিদি ১১ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।

সূত্রঃ কালবেলা