সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাদক ব্যবসায় বাধা, যুবকের পা ভাঙার অভিযোগে বিএনপি নেতাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি: আহত রফিকুল ইসলাম ও ইনসেটে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আব্দুল আজিজ।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়াহরিপুর ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলী গ্রামে মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক যুবককে মারধর, পা ভেঙে দেওয়া এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কালিয়াহরিপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ছাতিয়ানতলী গ্রামের বাসিন্দা মোছা. আলোকা তার ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম (৩৭)-এর ওপর হামলার অভিযোগ এনে মামলাটি দায়ের করেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। রফিকুল ইসলাম ওই কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ায় তার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তারা।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৩ জুলাই সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে আব্দুল আজিজ ও তার ছেলে ছানোয়ার হোসেন রফিকুল ইসলামকে বাড়ি থেকে ডেকে ছাতিয়ানতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা জুবায়ের হোসেন, খাদিজা খাতুন ও মোমো বেগমসহ অভিযুক্তরা কাঠের বাটাম, বাঁশের লাঠি ও কিল-ঘুষি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।

হামলায় রফিকুল ইসলামের বাম পায়ের হাড় ভেঙে যায় বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। এছাড়া মাথা, বুক, ঘাড় ও পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান তিনি। একপর্যায়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিদ্যালয়ের সামনের বন্যার পানিতে ফেলে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে স্থানীয় লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মামলায় আব্দুল আজিজ, ছানোয়ার হোসেন, জুবায়ের হোসেন, খাদিজা খাতুন ও মোমো বেগমকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দাকে ঘটনার সাক্ষী হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদী মোছা. আলোকা বলেন, “ছেলের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় থানায় মামলা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।”

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান বলেন, “অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদক ব্যবসায় বাধা, যুবকের পা ভাঙার অভিযোগে বিএনপি নেতাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট টাইম : ০৫:২১:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়াহরিপুর ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলী গ্রামে মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক যুবককে মারধর, পা ভেঙে দেওয়া এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কালিয়াহরিপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ছাতিয়ানতলী গ্রামের বাসিন্দা মোছা. আলোকা তার ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম (৩৭)-এর ওপর হামলার অভিযোগ এনে মামলাটি দায়ের করেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। রফিকুল ইসলাম ওই কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ায় তার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তারা।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৩ জুলাই সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে আব্দুল আজিজ ও তার ছেলে ছানোয়ার হোসেন রফিকুল ইসলামকে বাড়ি থেকে ডেকে ছাতিয়ানতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা জুবায়ের হোসেন, খাদিজা খাতুন ও মোমো বেগমসহ অভিযুক্তরা কাঠের বাটাম, বাঁশের লাঠি ও কিল-ঘুষি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।

হামলায় রফিকুল ইসলামের বাম পায়ের হাড় ভেঙে যায় বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। এছাড়া মাথা, বুক, ঘাড় ও পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান তিনি। একপর্যায়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিদ্যালয়ের সামনের বন্যার পানিতে ফেলে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে স্থানীয় লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মামলায় আব্দুল আজিজ, ছানোয়ার হোসেন, জুবায়ের হোসেন, খাদিজা খাতুন ও মোমো বেগমকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দাকে ঘটনার সাক্ষী হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদী মোছা. আলোকা বলেন, “ছেলের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় থানায় মামলা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।”

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান বলেন, “অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”