সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মারা গেলেন প্রখ্যাত বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকার

বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকার। ছবি : সংগৃহীত

প্রখ্যাত বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকার মারা গেছেন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৪টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

 

 

তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। সুনীল কর্মকার ১৯৫৯ সালে ১৫ জানুয়ারি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া থানার বান্দনাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

 

 

বেশ কয়েক দিন ধরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। শুক্রবার সকালে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের ছায়া নেমে আসে।

 

উল্লেখ্য, নেত্রকোনায় জন্ম নেওয়া সুনীল কর্মকার মাত্র সাত বছর বয়স থেকেই গানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কেবল কণ্ঠ নয়, বেহালা, দোতরা, তবলা ও হারমোনিয়াম- একাধিক বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারদর্শী ছিলেন এ শিল্পী।

বিখ্যাত বাউলশিল্পী ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর গান শুনেই গানের জগতে নিজেকে সঁপে দেন বালক সুনীল। ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর অসংখ্য গানে সুর বসিয়ে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে বহু জনপ্রিয় ও খ্যাতনামা গান রয়েছে। পাশাপাশি তার নিজের লেখা গানের সংখ্যাও কম নয়- প্রায় দেড়শ থেকে দুশর কাছাকাছি গান রচনা করেছেন তিনি।

 

ময়মনসিংহ বিভাগীয় বাউল সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, উনি দীর্ঘকাল ধরে বাউল ও লোকসংগীতের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে আধ্যাত্মিক চেতনার বাণী পৌঁছে দিয়েছেন।

 

 

সুনীল কর্মকার শুধু একজন গায়ক ছিলেন না, তিনি ছিলেন গ্রামবাংলার লোকজ ঐতিহ্যের ধারক। একতারা ও দোতারার ছন্দে ওনার কণ্ঠের সেই বিশেষ আবেদন শ্রোতাদের মুগ্ধ করত। ওনার গাওয়া গানে জীবনদর্শন, মানবপ্রেম এবং স্রষ্টার প্রতি ভক্তির কথাই বেশি শোনা যেত। সংগীতই ছিল ওনার একমাত্র ধ্যান ও জ্ঞান। মানুষ ধরো, মানুষ ভোজ ওস্তাদ জালাল উদ্দীন খাঁর সেই বিখ্যাত গানে তিনি ভীষণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন।

89
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মারা গেলেন প্রখ্যাত বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকার

আপডেট টাইম : ১১:৪৯:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রখ্যাত বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকার মারা গেছেন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৪টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

 

 

তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। সুনীল কর্মকার ১৯৫৯ সালে ১৫ জানুয়ারি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া থানার বান্দনাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

 

 

বেশ কয়েক দিন ধরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। শুক্রবার সকালে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের ছায়া নেমে আসে।

 

উল্লেখ্য, নেত্রকোনায় জন্ম নেওয়া সুনীল কর্মকার মাত্র সাত বছর বয়স থেকেই গানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কেবল কণ্ঠ নয়, বেহালা, দোতরা, তবলা ও হারমোনিয়াম- একাধিক বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারদর্শী ছিলেন এ শিল্পী।

বিখ্যাত বাউলশিল্পী ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর গান শুনেই গানের জগতে নিজেকে সঁপে দেন বালক সুনীল। ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর অসংখ্য গানে সুর বসিয়ে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে বহু জনপ্রিয় ও খ্যাতনামা গান রয়েছে। পাশাপাশি তার নিজের লেখা গানের সংখ্যাও কম নয়- প্রায় দেড়শ থেকে দুশর কাছাকাছি গান রচনা করেছেন তিনি।

 

ময়মনসিংহ বিভাগীয় বাউল সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, উনি দীর্ঘকাল ধরে বাউল ও লোকসংগীতের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে আধ্যাত্মিক চেতনার বাণী পৌঁছে দিয়েছেন।

 

 

সুনীল কর্মকার শুধু একজন গায়ক ছিলেন না, তিনি ছিলেন গ্রামবাংলার লোকজ ঐতিহ্যের ধারক। একতারা ও দোতারার ছন্দে ওনার কণ্ঠের সেই বিশেষ আবেদন শ্রোতাদের মুগ্ধ করত। ওনার গাওয়া গানে জীবনদর্শন, মানবপ্রেম এবং স্রষ্টার প্রতি ভক্তির কথাই বেশি শোনা যেত। সংগীতই ছিল ওনার একমাত্র ধ্যান ও জ্ঞান। মানুষ ধরো, মানুষ ভোজ ওস্তাদ জালাল উদ্দীন খাঁর সেই বিখ্যাত গানে তিনি ভীষণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন।