সিরাজগঞ্জ , রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মেঘনার ভাঙনে বিলীন ইসলামপুর মাদ্রাসা, খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় ভয়াবহ মেঘনা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে ইসলামপুর দাখিল মাদ্রাসা। প্রায় ১৫০ শতক জমি নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় এখন খোলা আকাশের নিচেই চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান।
এক সময় টিনশেডের নিজস্ব ভবনে পাঠদান হতো ইসলামপুর দাখিল মাদ্রাসায়। সেখানে ৪০০ জনেরও বেশি ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করত। কিন্তু নদীভাঙনে পুরো প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে ওই শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আব্দুল আহাদের নিজ বাড়ির উঠানে।
এখন মাত্র ১০ থেকে ১২টি বেঞ্চে গাছতলার নিচে চলছে ক্লাস। একই সাথে চারটি শ্রেণির ক্লাস নেওয়ায় পাঠদানে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে বলে জানান প্রধান শিক্ষক আব্দুল আহাদ। তিনি বলেন, “আমরা খোলা আকাশের নিচে ক্লাস নিচ্ছি। রোদ-বৃষ্টি—সব কিছুর মধ্যেই পাঠদান চালাতে হচ্ছে। একসাথে একাধিক ক্লাস নিতে গিয়ে সঠিকভাবে পড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।”
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েকদিন ধরে ভাঙন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই প্রধান শিক্ষকের বসতভিটাও নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। শিক্ষার্থীরা জানান, “আমরা রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে ক্লাস করি, এতে খুব কষ্ট হয়।”
এদিকে স্থানীয় জনগণ স্থায়ীভাবে ভাঙনরোধে সরকারের দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষায়, “প্রতিদিনই নদী আমাদের গ্রাস করছে। এখনই যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে এই এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বসতবাড়ি সবই বিলীন হয়ে যাবে।”
নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী রেফাত জামিল বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। অনুমতি পেলে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধে কাজ শুরু করা হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা—দ্রুত সরকারি উদ্যোগে স্থায়ীভাবে মেঘনা নদীর ভাঙনরোধ করা হবে, যাতে ইসলামপুর দাখিল মাদ্রাসার মতো প্রতিষ্ঠান আর হারিয়ে না যায়।
90
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মেঘনার ভাঙনে বিলীন ইসলামপুর মাদ্রাসা, খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান

আপডেট টাইম : ১২:৩৫:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় ভয়াবহ মেঘনা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে ইসলামপুর দাখিল মাদ্রাসা। প্রায় ১৫০ শতক জমি নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় এখন খোলা আকাশের নিচেই চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান।
এক সময় টিনশেডের নিজস্ব ভবনে পাঠদান হতো ইসলামপুর দাখিল মাদ্রাসায়। সেখানে ৪০০ জনেরও বেশি ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করত। কিন্তু নদীভাঙনে পুরো প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে ওই শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আব্দুল আহাদের নিজ বাড়ির উঠানে।
এখন মাত্র ১০ থেকে ১২টি বেঞ্চে গাছতলার নিচে চলছে ক্লাস। একই সাথে চারটি শ্রেণির ক্লাস নেওয়ায় পাঠদানে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে বলে জানান প্রধান শিক্ষক আব্দুল আহাদ। তিনি বলেন, “আমরা খোলা আকাশের নিচে ক্লাস নিচ্ছি। রোদ-বৃষ্টি—সব কিছুর মধ্যেই পাঠদান চালাতে হচ্ছে। একসাথে একাধিক ক্লাস নিতে গিয়ে সঠিকভাবে পড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।”
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েকদিন ধরে ভাঙন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই প্রধান শিক্ষকের বসতভিটাও নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। শিক্ষার্থীরা জানান, “আমরা রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে ক্লাস করি, এতে খুব কষ্ট হয়।”
এদিকে স্থানীয় জনগণ স্থায়ীভাবে ভাঙনরোধে সরকারের দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষায়, “প্রতিদিনই নদী আমাদের গ্রাস করছে। এখনই যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে এই এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বসতবাড়ি সবই বিলীন হয়ে যাবে।”
নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী রেফাত জামিল বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। অনুমতি পেলে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধে কাজ শুরু করা হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা—দ্রুত সরকারি উদ্যোগে স্থায়ীভাবে মেঘনা নদীর ভাঙনরোধ করা হবে, যাতে ইসলামপুর দাখিল মাদ্রাসার মতো প্রতিষ্ঠান আর হারিয়ে না যায়।