বয়সে একচল্লিশকেও ছাড়িয়ে গেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। সিআর সেভেন এখন ক্যারিয়ারের গোধূলীতে। ক্যারিয়ারের সম্ভাব্য শেষ মৌসুমের শুরুতেও অপ্রতিরোধ্য আল নাসরের পর্তুগিজ সুপারস্টার। গড়লেন আরও এক অনন্য রেকর্ড। ২০০২-০৩ মৌসুম থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত প্রতিটি লিগ মৌসুমেই গোল করার ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন তিনি। আল-রিয়াদের বিপক্ষে আল-নাসরের ৪-০ গোলের জয়ে দলের শেষ গোলটি করে ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা ২৫ লিগ মৌসুমে গোল করার কীর্তি গড়েছেন সিআরসেভেন।
যদিও ৪১ বছর বয়সি রোনালদো ম্যাচটি শুরু করেছিলেন বেঞ্চে। দ্বিতীয়ার্ধের ৬২ মিনিটে আবদুল্লাহ আল হামদানের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। এরপর মাত্র ২১ মিনিটের মধ্যেই নতুন মৌসুমে নিজের প্রথম গোলের দেখা পান। ৮৩ মিনিটে আইমান ইয়াহিয়ার বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণ করে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে আল-রিয়াদের জালে পাঠান রোনালদো।
এই গোলের মাধ্যমে টানা মৌসুমে গোল করার রেকর্ডে তিনি পেছনে ফেলেছেন সুইডিশ তারকা জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচকে। ১৯৯৯-২০০০ থেকে ২০২২-২৩ মৌসুম পর্যন্ত টানা ২৪ মৌসুমে গোল করেছিলেন ইব্রাহিমোভিচ।
রোনালদোর এই ধারাবাহিকতা আরও উল্লেখযোগ্য, কারণ তিনি চারটি দেশের পাঁচটি ক্লাবের হয়ে গোল করে রেকর্ডটি গড়েছেন। স্পোর্টিংয়ে ক্যারিয়ার শুরু করার পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্রথম অধ্যায়ের প্রতিটি মৌসুমে গোল করেন তিনি। এরপর রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে টানা নয় মৌসুম এবং জুভেন্টাসের হয়ে তিন মৌসুমে গোল করার পর আবার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ফেরেন। ২০২২-২৩ মৌসুমের মাঝপথে সৌদি আরবে পাড়ি দিয়ে আল-নাসরের হয়েও গোলের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন তিনি।
আল-রিয়াদের বিপক্ষে গোলটি ছিল রোনালদোর অফিশিয়াল সিনিয়র ক্যারিয়ারের ৯৭৭তম। অর্থাৎ ঐতিহাসিক ১,০০০ গোলের মাইলফলক থেকে এখন মাত্র ২৩ গোল দূরে তিনি।
রোনালদোর মোট গোলের মধ্যে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৪৫০টি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দুই মেয়াদে ১৪৫টি, জুভেন্টাসে ১০১টি, স্পোর্টিংয়ে ৫টি এবং আল-নাসরের হয়ে ১৩০টি রয়েছে। জাতীয় দলের জার্সিতে পর্তুগালের হয়ে করেছেন আরও ১৪৬ গোল।
নতুন মৌসুমের প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ানোর সৌজন্যে সিআর সেভেনের গোলসংখ্যা এখন ৯৭৭। আল-নাসরের সঙ্গে চলতি মৌসুম পর্যন্ত চুক্তি থাকা রোনালদো এখন ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়েও ১,০০০ গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলকের দিকে এগিয়ে চলেছেন।

ক্রীড়া ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম। 






















