সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাকসুর অর্থ উত্তোলনে স্বচ্ছতা চেয়ে ছাত্রদলের ৭ দাবি

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল আলীমের কাছে ছাত্রদলের স্মারকলিপি প্রদান।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) তহবিল থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ উত্তোলন এবং বড় একটি অংশের বিল-ভাউচার না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রাকসুর আর্থিক কর্মকাণ্ডের তদন্তসহ ৭ দাবি জানিয়েছে রাবি শাখা ছাত্রদল।

 

 

 

 

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলীমের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে এ দাবি জানান তারা।

 

 

 

 

 

সাত দাবির মধ্যে রয়েছে— রাকসু তহবিল থেকে উত্তোলিত অর্থের পূর্ণাঙ্গ ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ, খাত উল্লেখ না করে কিংবা যথাযথ বিল-ভাউচার ছাড়া উত্তোলিত অর্থের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, রাকসু ফান্ডের সংশ্লিষ্ট সব আর্থিক নথিপত্রের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত বা অডিট, প্রয়োজনে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং প্রতিবেদন শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশ, অনিয়ম বা দুর্নীতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা।

 

এছাড়া, অনিয়মের মাধ্যমে ব্যয় বা আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধার করে রাকসু ফান্ডে ফেরত দেওয়া; এবং ভবিষ্যতে নিয়মিত অডিট, আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ ও প্রতিটি ব্যয়ের বিপরীতে বাধ্যতামূলক বিল-ভাউচারের মাধ্যমে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

 

 

স্মারকলিপিতে ছাত্রদল নেতারা দাবি করেন, রাকসুর ৪২টি কর্মসূচিতে তহবিল থেকে মোট ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উত্তোলিত ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার কোনো বিল-ভাউচার জমা দেওয়া হয়নি।

 

 

 

তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্টরা নিজেদের ইচ্ছামতো অর্থ উত্তোলন করেছেন এবং উত্তোলিত অর্থের বড় একটি অংশ সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়নি।

 

 

 

 

এসময় ছাত্রদল নেতারা বলেন, রাকসু কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সংগঠনের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান। ফলে রাকসু ফান্ডের প্রতিটি টাকা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় এবং তার স্বচ্ছ হিসাব নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব। সোয়া কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়ে থাকলে সেই অর্থ কোথায়, কীভাবে, কোন খাতে এবং কার অনুমোদনে ব্যয় হয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব দিতে হবে।

 

 

 

 

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমদ রাহী বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কষ্টার্জিত সোয়া কোটি টাকা রাকসুর ভিপি এবং জিএসসহ তাদের সম্পাদকরা ব্যক্তিগত কাজে উত্তোলন করে বিনা ভাউচারে কর্মসূচি সম্পাদন করেছে। টাকা উত্তোলনের প্রসেস হচ্ছে- উত্তোলনের পর বিল লিখিতভাবে পরিশোধ করে তারপর আবার টাকা উত্তোলন করা। অথচ রাকসু সেই প্রসেস মেইনটেইন করেনি। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় তারা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় করেনি। এর প্রতিবাদেই আমরা আজকে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছি।

 

 

 

 

স্মারকলিপির বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল আলিম বলেন, উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে ছাত্রদল রাকসুর অর্থনৈতিক প্রসঙ্গে একটি স্মারকলিপি দিয়েছে। এখানে রাকসুর বিরুদ্ধে আর্থিক বিধি না মেনে তহবিল থেকে অর্থ উত্তোলনের অনেকগুলো অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, উপাচার্য ফিরলেই এ বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব। জনগণের ট্যাক্সের এবং শিক্ষার্থীদের প্রদানকৃত অর্থ ব্যয়ে কোনো অনিয়ম হলে অবশ্যই বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাকসুর অর্থ উত্তোলনে স্বচ্ছতা চেয়ে ছাত্রদলের ৭ দাবি

আপডেট টাইম : ০৬:২৭:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) তহবিল থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ উত্তোলন এবং বড় একটি অংশের বিল-ভাউচার না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রাকসুর আর্থিক কর্মকাণ্ডের তদন্তসহ ৭ দাবি জানিয়েছে রাবি শাখা ছাত্রদল।

 

 

 

 

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলীমের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে এ দাবি জানান তারা।

 

 

 

 

 

সাত দাবির মধ্যে রয়েছে— রাকসু তহবিল থেকে উত্তোলিত অর্থের পূর্ণাঙ্গ ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ, খাত উল্লেখ না করে কিংবা যথাযথ বিল-ভাউচার ছাড়া উত্তোলিত অর্থের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, রাকসু ফান্ডের সংশ্লিষ্ট সব আর্থিক নথিপত্রের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত বা অডিট, প্রয়োজনে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং প্রতিবেদন শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশ, অনিয়ম বা দুর্নীতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা।

 

এছাড়া, অনিয়মের মাধ্যমে ব্যয় বা আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধার করে রাকসু ফান্ডে ফেরত দেওয়া; এবং ভবিষ্যতে নিয়মিত অডিট, আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ ও প্রতিটি ব্যয়ের বিপরীতে বাধ্যতামূলক বিল-ভাউচারের মাধ্যমে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

 

 

স্মারকলিপিতে ছাত্রদল নেতারা দাবি করেন, রাকসুর ৪২টি কর্মসূচিতে তহবিল থেকে মোট ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উত্তোলিত ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার কোনো বিল-ভাউচার জমা দেওয়া হয়নি।

 

 

 

তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্টরা নিজেদের ইচ্ছামতো অর্থ উত্তোলন করেছেন এবং উত্তোলিত অর্থের বড় একটি অংশ সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়নি।

 

 

 

 

এসময় ছাত্রদল নেতারা বলেন, রাকসু কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সংগঠনের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান। ফলে রাকসু ফান্ডের প্রতিটি টাকা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় এবং তার স্বচ্ছ হিসাব নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব। সোয়া কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়ে থাকলে সেই অর্থ কোথায়, কীভাবে, কোন খাতে এবং কার অনুমোদনে ব্যয় হয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব দিতে হবে।

 

 

 

 

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমদ রাহী বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কষ্টার্জিত সোয়া কোটি টাকা রাকসুর ভিপি এবং জিএসসহ তাদের সম্পাদকরা ব্যক্তিগত কাজে উত্তোলন করে বিনা ভাউচারে কর্মসূচি সম্পাদন করেছে। টাকা উত্তোলনের প্রসেস হচ্ছে- উত্তোলনের পর বিল লিখিতভাবে পরিশোধ করে তারপর আবার টাকা উত্তোলন করা। অথচ রাকসু সেই প্রসেস মেইনটেইন করেনি। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় তারা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় করেনি। এর প্রতিবাদেই আমরা আজকে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছি।

 

 

 

 

স্মারকলিপির বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল আলিম বলেন, উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে ছাত্রদল রাকসুর অর্থনৈতিক প্রসঙ্গে একটি স্মারকলিপি দিয়েছে। এখানে রাকসুর বিরুদ্ধে আর্থিক বিধি না মেনে তহবিল থেকে অর্থ উত্তোলনের অনেকগুলো অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, উপাচার্য ফিরলেই এ বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব। জনগণের ট্যাক্সের এবং শিক্ষার্থীদের প্রদানকৃত অর্থ ব্যয়ে কোনো অনিয়ম হলে অবশ্যই বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।