সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজনৈতিক শূন্যতায় নতুন নেতা খুঁজছে নেপাল!

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০৮:০০:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 57

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম

দুর্নীতি বিরোধী তীব্র বিক্ষোভ ও সরকার পতনের পর নেপাল এখন রাজনৈতিক শূন্যতায় নতুন নেতৃত্বের সন্ধান করছে। প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাউডেল ও সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগডেল অন্তর্বর্তীকালীন একজন ঐক্যমত্যপূর্ণ নেতা খুঁজে বের করতে রাজনৈতিক দল ও যুব আন্দোলনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন।

এএফপি জানায়, টানা সহিংসতায় এ পর্যন্ত অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন। ২০০৮ সালের মাওবাদী যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এটাই সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাত। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া তরুণরা সংসদ ভাঙার দাবি তুলেছে। প্রার্থীদের মধ্যে প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কির নাম আলোচনায় আছে।

গত মঙ্গলবার বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবন, সরকারি দফতর ও একটি হোটেলে আগুন ধরিয়ে দিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এর পর প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি পদত্যাগ করেন এবং সেনাবাহিনী রাস্তায় নেমে আসে। সেনারা ১০০টিরও বেশি লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করেছে, তবে এখনও ১২ হাজারের বেশি কয়েদি কারাগার থেকে পালিয়ে পলাতক রয়েছে।

বিক্ষোভের সময় পুলিশি অভিযানে নিহতদের মধ্যে কমপক্ষে ২১ জন ছিলেন আন্দোলনকারী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীতে কারফিউ জারি করা হলেও শুক্রবার আংশিকভাবে তুলে নেওয়া হয়। ফলে সাধারণ মানুষ খাদ্য ও জ্বালানির জন্য বাইরে বের হন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ অর্থনৈতিক সংকট ও তরুণদের বেকারত্বই এই সংকটের মূল কারণ। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, নেপালে ১৫-২৪ বছর বয়সী প্রতি পাঁচজনের একজন বেকার, আর মাথাপিছু আয় মাত্র ১,৪৪৭ ডলার।

যুব আন্দোলনের নেতারা বলছেন, তারা একটি ‘নতুন নেপাল’ গড়তে চান। ২৪ বছর বয়সী আন্দোলনকারী জেমস কার্কি বলেন, আমরা পরিবর্তনের জন্য লড়ছি। আশা করি সেনাবাহিনী আমাদের কথা শুনবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনৈতিক শূন্যতায় নতুন নেতা খুঁজছে নেপাল!

আপডেট টাইম : ০৮:০০:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম

দুর্নীতি বিরোধী তীব্র বিক্ষোভ ও সরকার পতনের পর নেপাল এখন রাজনৈতিক শূন্যতায় নতুন নেতৃত্বের সন্ধান করছে। প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাউডেল ও সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগডেল অন্তর্বর্তীকালীন একজন ঐক্যমত্যপূর্ণ নেতা খুঁজে বের করতে রাজনৈতিক দল ও যুব আন্দোলনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন।

এএফপি জানায়, টানা সহিংসতায় এ পর্যন্ত অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন। ২০০৮ সালের মাওবাদী যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এটাই সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাত। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া তরুণরা সংসদ ভাঙার দাবি তুলেছে। প্রার্থীদের মধ্যে প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কির নাম আলোচনায় আছে।

গত মঙ্গলবার বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবন, সরকারি দফতর ও একটি হোটেলে আগুন ধরিয়ে দিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এর পর প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি পদত্যাগ করেন এবং সেনাবাহিনী রাস্তায় নেমে আসে। সেনারা ১০০টিরও বেশি লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করেছে, তবে এখনও ১২ হাজারের বেশি কয়েদি কারাগার থেকে পালিয়ে পলাতক রয়েছে।

বিক্ষোভের সময় পুলিশি অভিযানে নিহতদের মধ্যে কমপক্ষে ২১ জন ছিলেন আন্দোলনকারী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীতে কারফিউ জারি করা হলেও শুক্রবার আংশিকভাবে তুলে নেওয়া হয়। ফলে সাধারণ মানুষ খাদ্য ও জ্বালানির জন্য বাইরে বের হন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ অর্থনৈতিক সংকট ও তরুণদের বেকারত্বই এই সংকটের মূল কারণ। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, নেপালে ১৫-২৪ বছর বয়সী প্রতি পাঁচজনের একজন বেকার, আর মাথাপিছু আয় মাত্র ১,৪৪৭ ডলার।

যুব আন্দোলনের নেতারা বলছেন, তারা একটি ‘নতুন নেপাল’ গড়তে চান। ২৪ বছর বয়সী আন্দোলনকারী জেমস কার্কি বলেন, আমরা পরিবর্তনের জন্য লড়ছি। আশা করি সেনাবাহিনী আমাদের কথা শুনবে।