সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে জখম, শহীদ ক্যাডেটের শিক্ষক বুলবুল জেলহাজতে

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০৯:৫৭:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫
  • ৭৪ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক :
৬ষ্ঠ শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় শহীদ ক্যাডেট একাডেমি সিরাজগঞ্জ শাখার  আবাসিক শিক্ষক মো. বুলবুলকে (৪২) জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত।

রোববার (৩ আগষ্ট) বিকেলে সিরাজগঞ্জ সদর আমলী আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো. ওবায়ুদল হক রুমি তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলার অপর আসামি শহীদ ক্যাডেট একাডেমির পরিচালক মো. হাসানুজ্জামান রঞ্জুর জামিন মঞ্জুর করেন বিচারক।

মঙ্গলবার (৫ আগষ্ট) রাতে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোখলেসুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলাটি আমরা এফআইআর হিসেবে গণ্য করে তদন্ত শুরু করেছি। আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ শুরু করে। তবে রোববার আদালতে হাজিরা দিয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক বুলবুলকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৭ জুলাই এস এম ফারহান সাদিক ফাহিম (১২) নামে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে এলোপাথাড়ি বেত্রাঘাত করে এবং পিটিয়ে জখম করে আবাসিক শিক্ষক বুলবুল। এ ঘটনায়  গত (২৪ জুলাই) আহত শিক্ষার্থীর বাবা মো. সোহেল রানা বাদী হয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানা আমলি আদালতে মামলাটি করেন। মামলায় আবাসিক শিক্ষক বুলবুল ও পরিচালক হাসানুজ্জামন রঞ্জুকে আসামি করেন তিনি।

মামলা সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত মাস ধরে তার ছেলে এস এম ফারহান সাদিক ফাহিম শহীদ ক্যাডেট অ্যাকাডেমির আবাসিকে থেকে ক্যাডেট ব্যাচের ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। ১৭ জুলাই অসুস্থ বোধ করায় সঠিক সময়ে ঘুম থেকে উঠতে পারেনি। এ কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষক বুলবুল ঘুমন্ত শিশু ফাহিমকে এলোপাতাড়ি বেত্রাঘাত করে এবং পিটিয়ে জখম করে। বিষয়টি গোপন রাখার জন্য শিশুটিকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। পরদিন শুক্রবার (১৮ জুলাই) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে শিশুটির মা ও বাবা তাকে দেখতে শহীদ ক্যাডেট অ্যাকাডেমির আবাসিক ভবনে গেলে সহপাঠীরা বিষয়টি তাদের অবগত করেন। এ সময় ফাহিমের প্যান্ট খুলে পশ্চাৎ দেশে বেত ও কাঠের বাটামের আঘাতে জখম হওয়ার চিহ্ন দেখতে পান। তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় শহীদ ক্যাডেটের পরিচালক হাসানুজ্জামান রঞ্জুর কাছে বিচার দাবি করলে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উপরন্তু ফাহিমের বাবাকে হুমকি দেন এবং তাকে অফিস থেকে বের করে দেন।

85
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে জখম, শহীদ ক্যাডেটের শিক্ষক বুলবুল জেলহাজতে

আপডেট টাইম : ০৯:৫৭:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক :
৬ষ্ঠ শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় শহীদ ক্যাডেট একাডেমি সিরাজগঞ্জ শাখার  আবাসিক শিক্ষক মো. বুলবুলকে (৪২) জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত।

রোববার (৩ আগষ্ট) বিকেলে সিরাজগঞ্জ সদর আমলী আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো. ওবায়ুদল হক রুমি তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলার অপর আসামি শহীদ ক্যাডেট একাডেমির পরিচালক মো. হাসানুজ্জামান রঞ্জুর জামিন মঞ্জুর করেন বিচারক।

মঙ্গলবার (৫ আগষ্ট) রাতে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোখলেসুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলাটি আমরা এফআইআর হিসেবে গণ্য করে তদন্ত শুরু করেছি। আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ শুরু করে। তবে রোববার আদালতে হাজিরা দিয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক বুলবুলকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৭ জুলাই এস এম ফারহান সাদিক ফাহিম (১২) নামে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে এলোপাথাড়ি বেত্রাঘাত করে এবং পিটিয়ে জখম করে আবাসিক শিক্ষক বুলবুল। এ ঘটনায়  গত (২৪ জুলাই) আহত শিক্ষার্থীর বাবা মো. সোহেল রানা বাদী হয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানা আমলি আদালতে মামলাটি করেন। মামলায় আবাসিক শিক্ষক বুলবুল ও পরিচালক হাসানুজ্জামন রঞ্জুকে আসামি করেন তিনি।

মামলা সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত মাস ধরে তার ছেলে এস এম ফারহান সাদিক ফাহিম শহীদ ক্যাডেট অ্যাকাডেমির আবাসিকে থেকে ক্যাডেট ব্যাচের ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। ১৭ জুলাই অসুস্থ বোধ করায় সঠিক সময়ে ঘুম থেকে উঠতে পারেনি। এ কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষক বুলবুল ঘুমন্ত শিশু ফাহিমকে এলোপাতাড়ি বেত্রাঘাত করে এবং পিটিয়ে জখম করে। বিষয়টি গোপন রাখার জন্য শিশুটিকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। পরদিন শুক্রবার (১৮ জুলাই) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে শিশুটির মা ও বাবা তাকে দেখতে শহীদ ক্যাডেট অ্যাকাডেমির আবাসিক ভবনে গেলে সহপাঠীরা বিষয়টি তাদের অবগত করেন। এ সময় ফাহিমের প্যান্ট খুলে পশ্চাৎ দেশে বেত ও কাঠের বাটামের আঘাতে জখম হওয়ার চিহ্ন দেখতে পান। তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় শহীদ ক্যাডেটের পরিচালক হাসানুজ্জামান রঞ্জুর কাছে বিচার দাবি করলে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উপরন্তু ফাহিমের বাবাকে হুমকি দেন এবং তাকে অফিস থেকে বের করে দেন।