সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শ্বশুরবাড়িতে বিষপান করানোর অভিযোগ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় যুবকের মৃত্যু

ঠাকুরগাঁওয়ের  ভূল্লী উপজেলার ১ নম্বর বড়গাঁও ইউনিয়নের কিসমত কেশুরবাড়ী এলাকার যুবকের মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃতের পরিবারের দাবি, তাকে শ্বশুরবাড়িতে জোরপূর্বক বিষাক্ত পদার্থ পান করানো হয়েছিল। তবে এ ঘটনায় প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।
মৃত যুবক ভূল্লী উপজেলার ১ নম্বর বড়গাঁও ইউনিয়নের কিসমত কেশুরবাড়ী এলাকার বাসিন্দা মো. নজরুল ইসলাম (২৬) পিতা-মো. হুমায়ুন ইসলামের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নজরুল ইসলাম ও শিরিন আক্তারের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের পর পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর কিছুদিন সংসার স্বাভাবিক চললেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ শুরু হয়। একপর্যায়ে শিরিন আক্তার বাবার বাড়ি কুমারপুর আফজালপাড়ায় চলে যান। পরে দুই পরিবারের উদ্যোগে সমঝোতার মাধ্যমে তাকে আবার স্বামীর বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হলেও কয়েক মাস পর পুনরায় দাম্পত্য কলহের জেরে তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে যান এবং প্রায় পাঁচ মাস সেখানেই অবস্থান করেন।
পরিবারের দাবি, পরে নজরুল ইসলাম স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে শ্বশুরবাড়ি কুমারপুর আফজালপাড়ায় গেলে সেখানে তার শ্বশুর শাহজাহান আলী ও স্ত্রী তাকে গালিগালাজ ও মারধর করে আটকে রাখেন। এ সময় নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তাকে জোরপূর্বক একটি বিষাক্ত পদার্থ পান করানো হয়েছে। এরপর থেকেই তার শরীরে তীব্র জ্বালাপোড়া শুরু হয় এবং তিনি বারবার বমি করতে থাকেন।
মৃতের স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা নজরুল ইসলামের মুখ ও জিহ্বা কালচে হয়ে যেতে দেখেন। এ সময় মেয়ের বাবা দাবি করেন, নজরুল নেশাজাতীয় কিছু সেবন করেছিলেন। তবে নজরুল ইসলামের দুলাভাই এ দাবি অস্বীকার করে বলেন, নজরুল কোনো ধরনের নেশা বা ধূমপান করতেন না।
পরে স্বজনরা তাকে বাড়িতে নিয়ে এসে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। অবস্থার অবনতি হলে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (জিয়া মেডিকেল নামে পরিচিত) রেফার করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরে আলম সিদ্দিক  জানান, নিহত নজরুল ইসলামের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, নিহতের পরিবার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক বিষপান করানোর অভিযোগ তুললেও, এ অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তাধীন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতেই ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্বশুরবাড়িতে বিষপান করানোর অভিযোগ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় যুবকের মৃত্যু

আপডেট টাইম : ১১:০৫:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
ঠাকুরগাঁওয়ের  ভূল্লী উপজেলার ১ নম্বর বড়গাঁও ইউনিয়নের কিসমত কেশুরবাড়ী এলাকার যুবকের মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃতের পরিবারের দাবি, তাকে শ্বশুরবাড়িতে জোরপূর্বক বিষাক্ত পদার্থ পান করানো হয়েছিল। তবে এ ঘটনায় প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।
মৃত যুবক ভূল্লী উপজেলার ১ নম্বর বড়গাঁও ইউনিয়নের কিসমত কেশুরবাড়ী এলাকার বাসিন্দা মো. নজরুল ইসলাম (২৬) পিতা-মো. হুমায়ুন ইসলামের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নজরুল ইসলাম ও শিরিন আক্তারের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের পর পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর কিছুদিন সংসার স্বাভাবিক চললেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ শুরু হয়। একপর্যায়ে শিরিন আক্তার বাবার বাড়ি কুমারপুর আফজালপাড়ায় চলে যান। পরে দুই পরিবারের উদ্যোগে সমঝোতার মাধ্যমে তাকে আবার স্বামীর বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হলেও কয়েক মাস পর পুনরায় দাম্পত্য কলহের জেরে তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে যান এবং প্রায় পাঁচ মাস সেখানেই অবস্থান করেন।
পরিবারের দাবি, পরে নজরুল ইসলাম স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে শ্বশুরবাড়ি কুমারপুর আফজালপাড়ায় গেলে সেখানে তার শ্বশুর শাহজাহান আলী ও স্ত্রী তাকে গালিগালাজ ও মারধর করে আটকে রাখেন। এ সময় নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তাকে জোরপূর্বক একটি বিষাক্ত পদার্থ পান করানো হয়েছে। এরপর থেকেই তার শরীরে তীব্র জ্বালাপোড়া শুরু হয় এবং তিনি বারবার বমি করতে থাকেন।
মৃতের স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা নজরুল ইসলামের মুখ ও জিহ্বা কালচে হয়ে যেতে দেখেন। এ সময় মেয়ের বাবা দাবি করেন, নজরুল নেশাজাতীয় কিছু সেবন করেছিলেন। তবে নজরুল ইসলামের দুলাভাই এ দাবি অস্বীকার করে বলেন, নজরুল কোনো ধরনের নেশা বা ধূমপান করতেন না।
পরে স্বজনরা তাকে বাড়িতে নিয়ে এসে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। অবস্থার অবনতি হলে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (জিয়া মেডিকেল নামে পরিচিত) রেফার করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরে আলম সিদ্দিক  জানান, নিহত নজরুল ইসলামের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, নিহতের পরিবার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক বিষপান করানোর অভিযোগ তুললেও, এ অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তাধীন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতেই ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হবে।