আর মাত্র দুদিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল কাঙ্খিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সিরাজগঞ্জের ৬টি আসনে ইতিমধ্যে জমে উঠেছে নির্বাচনী আলোচনা। ১২ তারিখে কে পড়বে বিজয়ে মালা তা নিয়ে মাঠে, ঘাটে, চায়ের স্টলে চলছে আলোচনা আর বিতর্ক। কোন আসনে কোন প্রার্থী বিজয়ী হবে তা নিয়ে চলছে ভোটার ও সমর্থকদের মধ্যে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
আওয়ামী লীগ বিহীন নির্বাচন হওয়ার কারণে এক সময়ের জোট সঙ্গী বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই গড়ে উঠেছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বীতা। এ দুটি দলের সমর্থকরা সমান তালে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিরাজগঞ্জের ৬টি আসনের মধ্যে দুটি আসনে সহজ জয় পেতে পারে বিএনপি এবং দুটিতে জামায়াত প্রার্থীদের বিজয়ের সম্ভাবনা ও দুটি আসনে দুই দলের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে।
১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ পর্যন্ত ৬টি আসনের নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ জেলার কোন আসন থেকেই জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা বিজয়ী হতে পারেনি। ২০০৮ সালে সিরাজগঞ্জে-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থী দ্বিতীয় হয়েছিলেন। আর কোন নির্বাচনে কোন আসনে দ্বিতীয় স্থানও অর্জন করতে পারেনি দলটি। তবে এবারের পরিস্থিতি একদমই ভিন্ন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বৃহৎ শক্তি হিসেবেই আবির্ভূত হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট।
৬২, সিরাজগঞ্জ–১
কাজিপুর উপজেলা ও সদরের ৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৫ হাজার ২৪। পুরুষ ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬৭৬, নারী ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৪৪ ও হিজড়া ভোটার রয়েছে চারজন।
আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে স্বাধীনতার পর থেকে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীরা জয় পায়নি। একটি বাদে সবকটি নির্বাচনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শহীদ এম মনসুর আলী, তাঁর দুই ছেলে মোহাম্মদ নাসিম ও ড. মোহাম্মদ সেলিম এবং নাতি তানভির শাকিল জয় বিজয়ী হয়েছেন। ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী বিজয়ী হয়েছিলেন।
এবারের নির্বাচনে আওয়ামী ভোট ব্যাংকের দিকেই নজর বিএনপি-জামায়াতসহ অন্যান্য ছোট দলের প্রার্থীদের। আসনটিতে মোট ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। ধানের শীষ প্রতিকে কাজিপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সেলিম রেজা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তাঁর দাবী, আওয়ামী লীগের ঘাটি নয়, বরং এ আসনটিতে বর্তমানে বিএনপি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত। তাই আগামি নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত।
দাঁড়িপাল্লা প্রতিকে লড়ছেন জেলা জামায়াতের আমীর মওলানা শাহীনুর আলম। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে একটি থেকেই এমপি নির্বাচিত হয়েছে। কাজিপুরের জনগণ পরিবর্তণ চায়। সাধারণ ভোটাররা দাঁড়িপাল্লাকেই বিজয়ী করবে।
আসনটিতে বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাধী গণঅধিকার পরিষদের মল্লিকা খাতুন বলেন, আমি কাজিপুরবাসীর কাছে ৫টি বছর চেয়েছি। আশা করি পরিবর্তণের লক্ষ্যে তারা আমার ট্রাক প্রতিকেই ভোট দেবেন।
এ আসনে জাতীয় পার্টির জহুরুল ইসলাম (লাঙ্গল), নাগরিক ঐক্যের নাজমুস সাকিব (কেটলি) এবং স্বতন্ত্র আব্দুস সবুর (ঘোড়া) প্রতীকে লড়াই করছেন। এ আসনে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর দ্বি-মুখী প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে।

৬৩, সিরাজগঞ্জ–২
সিরাজগঞ্জ সদরের ৬ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং কামারখন্দ উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনের মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৮৭৮। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৩৫ হাজার ২৩৮ ও নারী ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২৬।
স্বাধীনতার পর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাদে সবগুলো নির্বাচনেই এ আসন থেকে বিজয়ী দলই সরকার গঠন করেছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে শুধু সদর উপজেলা নিয়েই গঠিত ছিল আসনটি। তখন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমান শক্তিতে লড়াই করেছে। আসন পূণর্বিন্যাসে সিরাজগঞ্জের একটি আসন বাদ পড়ে গেলে সদরের সঙ্গে যুক্ত হয় কামারখন্দ উপজেলা। যার ফলে আসনটি বিএনপির ঘাটিতে রুপান্তরিত হয়।
এ আসনে ১৯৯১ সালে বিএনপির মির্জা মুরাদুজ্জামান, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ নাসিম, ২০০১ সালে বিএনপির ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ২০০৮ সালে বিএনপির রুমানা মাহমুদ নির্বাচিত হন। এ আসনটিতে কখনো জামায়াত প্রার্থীরা জয়লাভ করতে না পারলেও একবার উপজেলা চেয়ারম্যান পদে জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ বিজয়ী হন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে মোট ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলেও মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে।
আসনটি পুনরুদ্ধারের লক্ষে ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে রাতদিন মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও তার কর্মী-সমর্থকেরা। অপরদিকে প্রথমবারের মতো জয়ের লক্ষ্যে নিরলস প্রচারণায় রয়েছেন দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম।
সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সিরাজগঞ্জ গড়ার অঙ্গীকার করে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, নির্বাচিত হলে সিরাজগঞ্জকে সবুজ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতা মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজ ও দখলবাজমুক্ত সিরাজগঞ্জ গড়তে চাই। মানুষ পরিবর্তণ চায়, তাই তারা দাঁড়িপাল্লাকেই বিজয়ী করবে।
এ আসনের অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন, সিপিবির আনোয়ার হোসেন (কাস্তে) বাসদের আব্দুল্লাহ আল মামুন (মই), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি মুহিব্বুল্লাহ (হাতপাখা), গণঅধিকার পরিষদের মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান (ট্রাক) এবং জনতার দলের সোহেল রানা (কলম)।

৬৪, সিরাজগঞ্জ-৩
চলনবিল অধ্যুষিত রায়গঞ্জ ও তাড়াশ উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনের মোট ভোটার ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৪২৭। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ২২ হাজার ৭৩৭, নারী ২ লাখ ২১ হাজার ৬৮৩ ও তৃতীয় লিঙ্গের ৭ ভোটটি।
এক সময়ের বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আসনটি পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের দখলে চলে যায়। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির আব্দুল মান্নান তালুকদার হ্যাট্টিক বিজয় অর্জন করেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের ইসহাক তালুকদার নির্বাচিত হন। এরপরের নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হন।
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আসনটিতে বিএনপি অনেকটা শক্ত অবস্থানে রয়েছে। এখানে জামায়াতেরও একটা ভোটব্যাংক থাকলেও জোটগত নির্বাচনের কারণে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী না থাকায় অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বিএনপি।
আসনটিতে ধানের শীষ প্রতিকে লড়ছেন রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ভিপি আয়নুল হক। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী করা হয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহা: আব্দুর রউফ সরকারকে (রিকশা)। আসনটিতে বিএনপির ভিপি আইনুল হকের বিজয় অনেকটা সুনিশ্চিত বলেই ধারণা করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ভিপি আয়নুল হক বিজয়ের ব্যাপারে সম্পূর্ণ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ১৭ বছর আমি মানুষের পাশে ছিলাম। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি। স্বৈরাচার সরকারের আমলেও জনগণ আমকে উপজেলা চেয়ারশ্যান নির্বাচিত করেছিল। আশা করছি এবারও বিপুল ভোটে রায়গঞ্জ-তাড়াশবাসী আমাকে বিজয়ী করবে।
এ আসনে আরও দুজন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। তারা হলেন, জাতীয় পার্টির ফজলুল হক (লাঙ্গল) এবং স্বতন্ত্র ইলিয়াছ রেজা রবিন (ঘোড়া)।

৬৫, সিরাজগঞ্জ–৪
উল্লাপাড়া উপজেলা ও সলঙ্গা থানার একাংশ নিয়ে গঠিত আসনটিতে মোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৮২১টি। পুরুষ ২ লাখ ৪৩ হাজার ৬৮০, নারী ২ লাখ ৩২ হাজার ১২৫ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১৬ জন।
১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিএনপি প্রার্থী এম আকবর আলী, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের আব্দুল লতিফ মির্জা, ২০০৮ সাল থেকে পরের নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগের শফিকুল ইসলাম ও তানভীর ইমাম নির্বাচিত হন।
আগে থেকেই আসনটিতে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জামায়াত তিনটি দলেরই ভোটব্যাংক রয়েছে। আওয়ামী লীগ না থাকায় জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বীতার আভাস মিলছে আসনটিতে। সেক্ষেত্রে বিএনপির মধ্যে বিদ্রোহ থাকায় জামায়াত প্রার্থীর বিজয় অনেকটা সহজ হতে পারে বলে ধারণা অনেকের।
আসনটিতে বিএনপির ৮৬ বছর বয়সী প্রার্থী এম আকবর আলী রাতদিন ভোটের মাঠে কাজ করছেন। আর জামায়াতের হয়ে লড়ছেন দলটির কেন্দ্রীয় সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।
এম আকবর আলী বলেন, আমি দুবার এমপি ছিলাম। উল্লাপাড়াবাসীর জন্য কি করেছি তা সবাই জানে। আমি উল্লাপাড়াকে শিক্ষানগরী হিসেবে গড়ে তুলেছি। মানুষ এগুলো বিবচেনা করে আমাকেই ভোট দেবে।
উল্লাপাড়া উপজেলা জামায়াতরে আমীর অধ্যাপক শাহজাহান আলী বলেন, উল্লাপাড়ায় দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ব্যাপক গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের প্রার্থী বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে ইনশাল্লাহ।
আসনটিতে জাতীয় পার্টির হিলটন প্রামাণিক (লাঙ্গল), সিপিবির আব্দুল হাকিম (কাস্তে), এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুর রহমান (হাতপাখা) প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

৬৬, সিরাজগঞ্জ-৫
যমুনা বিধৌত ও তাঁতশিল্প অধ্যুষিত চৌহালি এবং বেলকুচি উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে ভোটার ৪ লাখ ২৬ হাজার ৩২১। পুরুষ ২ লাখ ১৮ হাজার ৬৬৪, নারী ২ লাখ ৭ হাজার ৬৫৫ ও তৃতীয় লিঙ্গে ভোটার রয়েছে ২টি।
১৯৯১ সালে বিএনপির শহীদুল্লাহ খান, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের আব্দুল লতিফ মির্জা, ২০০১ সালে বিএনপির বিচারপতি মোজাম্মেল হক বিজয়ী হন। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে যথক্রমে আব্দুল মজিদ মন্ডল ও তার ছেলে মমিন মন্ডল এমপি হন।
এ আসনেও বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীর শক্ত অবস্থান রয়েছে। সংসদ সদস্য নির্বাচিত না হলেও বেলকুচি থেকে জামায়াতের প্রার্থীরা উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।
আওয়ামী লীগ না থাকায় দ্বি-মুখী প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিএনপির সাবেক এমপি মনজুর কাদের ও তার সমর্থকরা এনসিপিতে যোগ দিয়ে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে কাজ করায় আসনটিতে জামায়াত শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
এ আসনে বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম ধানের শীষ প্রতিকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। আর জামায়াতের কেন্দ্রীয় সূরা সদস্য অধ্যক্ষ আলী আলম দাঁড়িপাল্লা প্রতিকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।
অধ্যক্ষ আলী আলম আওয়ামী লীগের আমলে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। সাধারণ ভোটারদের কাছেও রয়েছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তার উপর মনজুর কাদের সমর্থকরা পক্ষে থাকায় তিনি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।
আসনটিতে জাতীয় পার্টির আকবর হোসেন (লাঙ্গল),ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী নুরুন নাবী (হাতপাখা), গণঅধিকার পরিষদের ইউসুফ আলী (ট্রাক) ও সিপিবির মতিউর রহমান (কাস্তে) প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।
৬৭, সিরাজগঞ্জ-৬
তাঁতশিল্প ও দুগ্ধশিল্প সমৃদ্ধ শাহজাদপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৩৮৭টি। পুরুষ ২ লাখ ৪৬ হাজার ৪১২, নারী ২ লাখ ৩৮ হাজার ৯৭২ ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩ জন।
বরাবরই বিএনপির ঘাটি হিসেবে পরিচিত আসনটিতে ১৯৯১ সালে বিএনপির কামরুদ্দিন এহিয়া খান মজলিস নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে বিএনপি থেকে হাসিবুর রহমান স্বপন নির্বাচিত হয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ২০০১ সালে বিএনপির ডা. এম এ মতিন, ২০০৮ সাল থেকে আওয়ামী লীগের চয়ন ইসলাম, হাসিবুর রহমান স্বপন ও মেরিনার জাহান কবিতা এমপি নির্বাচিত হন।
এখানে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের পক্ষে এনসিপি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব এস এম সাইফ মুস্তাফিজ। সরাসরি জামায়াতের প্রার্থী না থাকায় অনেকটাই নির্ভার রয়েছেন বিএনপি প্রার্থী ডক্টর এম এ মুহিত।
বিএনপি প্রার্থী এম এ মুহিত বলেন, আমার বাবা এখান থেকে এমপি হয়েছিলেন। তিনি উপ-প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকে এলাকার উন্নয়ণ করেছেন। আমি নিজেও প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। এ আসনে ভোটাররা আমাকেই বিজয়ী করবে।
এ আসনে আরও ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ব্দীতা করছেন। এরা হলেন, জাতীয় পার্টির মোক্তার হোসেন (লাঙ্গল), বাসদের অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন (মই), জেএসডির ইলোরা খাতুন (তারা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মিসবাহ উদ্দিন (হাতপাখা), আমজনতার দলের আসাদুল হক (প্রজাপতি), ইসলামী ফ্রন্টের মোশারফ হোসেন শহিদুল (মোমবাতি), এবি পার্টির আবু জাফর মো. আনোয়ারুস সাদাত (ঈগল), স্বতন্ত্র হুমায়ুন কবির (ঘোড়া) এবং স্বতন্ত্র মোসায়েক ইকবাল খান মজলিস (হেলিকপ্টার)।

নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম 


















