নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল উইনিয়নের বড়হামকুড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্লিপের টাকার হিসাব দিতে না পাড়ায় প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা শিক্ষা অফিস।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে এই গড়মিল ধরা পড়লে তিন কর্মদিবসের মধ্যে স্লিপের টাকা ব্যয়ের রেজিস্টার ও পরিকল্পনা জমা দেবার নির্দেশ দেন সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম।
জানা যায়, বিদ্যালয়ের রক্ষনাবেক্ষণ ও অনান্য জরুরী প্রয়োজন মেটাতে সরকার প্রতি বছরই প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে স্লিপের মাধ্যমে একটি অর্থ বরাদ্দ দিয়ে থাকে। যা বিদ্যালয় এসএমসির মাধ্যমে খরচ করার বিধান হয়েছে। ২০০ জনের কম শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে প্রতি বছর দুটি কিস্তিতে ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। চলতি বছরও বড়হামকুড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় স্লিপের ২টি কিস্তিই উত্তোলন করেছে। কিন্তু টাকা খরচের বিপরীতে বিদ্যালয় প্রধান কোন পরিকল্পনা গ্রহণ করেনি। এমনকি নেই কোন রেজিস্টারও। অভিযোগ আছে মাহমুদুল হাসান একক ভাবে বিদ্যালয়ের যাবতীয় অর্থনৈতিক কর্মকান্ড করে থাকেন। মানেন না সরকারী নিয়ম নীতিও। নাম মাত্র ব্যয় পরিকল্পনায় টাকা হাতিয়ে নেবার অভিযোগের পাশাপাশি ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকার অভিযোগ অফিস প্রধান মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে। ফলে একদিকে সরকারী অর্থ নয় ছয় অপরদিকে শিক্ষার্থীরা যথাযথ শিক্ষা বঞ্চিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, তিনি সদ্য এই পদের দায়িত্ব নিয়েছেন। তাই ১ম কিস্তির টাকা খরচের বিষয়টি তার জানা নাই, ২য় কিস্তির টাকা খরচে তিনি গড়মিল পেয়েছেন। তিনি জানান, পরিদর্শনকালে প্রধান শিক্ষক স্লিপের টাকা খরচের পরিকল্পনার বিষয়টি দেখাতে পারেন নাই। কোন স্টক রেজিস্টার সংরক্ষণ করেন নাই। যাহা সরকারী চাকুরী বিধি লঙ্গন, একারণে তাকে শোকজ দেয়া হয়েছে। অফিস টাইমে প্রতিষ্ঠানের বাইরে ব্যক্তিগত কাজ করার বিষয়ে এ টি ও বলেন, উপজেলায় ১২৮ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিন্তু তারা ২জন মাত্র অফিসার তাই শিক্ষকদের বিষয়টি সুক্ষভাবে নজর রাখা সম্ভব হয়ে উঠে না। ক্লাস ফাঁকির বিষয়ে সুনিদ্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বড়হামকুড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হাসানের মুঠো ফোনে বারবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেনি।

রিপোর্টার: 























