সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কবিতা: হারানো দিন

স্বপন চন্দ্র দাস। ছবি: জনতার কণ্ঠ গ্রাফিক্স।

স্বপন চন্দ্র দাস

সময়ের বিবর্তণে পৃথিবী রূপ পাল্টায়
মানুষের রঙ বদলায় আধুনিকতার ছোঁয়ায়
বদলে যায় সমাজ সংস্কৃতি, পাল্টায় রাজার নীতি

 

 

রূপান্তরের এ ধারাবাহিকতায়
আমার গা ভাসানো দায়
পুরাতন চিরসত্য,
বিশ্বাসী আমি সদা সেই পরম্পরায়

 

গঁ

গাঁয়ের পথধারে ঘাষের মাঝে
চোরকাঁটাগুলো লুকোচুরি খেলে
অদুরে অড়হর ক্ষেত
তাতে সোনালী ফুল হাসে
সেই দিনগুলো আজও আমার
তৃতীয় নয়নে ভাসে।

 

 

 মেঠো সেই পথে ধামা কাঁধে
পথিক ছোটে দূরান্তের হাটে
মোহনীয় সে দৃশ্য আমায় টানে

কোথাও কাঁদা কোথাও বালি
একেবেঁকে চলা আলপথখানি
আজও আমায় টানে।

 

 

দিগন্তজোড়া বিস্তৃর্ণ  মাঠে
সবুজ উর্মি দুলিয়া ওঠে
একগোছা ঘাষ আর নিড়ানী হাতে
উঁকি দিয়ে কৃষাণ,
হাসিয়া কি যেন বলে।

 

 

সাঁঝের বেলায় সেইপথ ধরে
গামছা মাথায় বিড়ার ওপরে
ভরা ধামা নিয়ে পথিক ফেরে,
কাঁচের শিশির গলে বেঁধে রশি
ঝুলিয়ে হাতে চলে সে দুলিয়ে
মুখখানায় তার তপ্ত স্বেদ
ঝরিয়া ঝরিয়া পরে।

 

 

থৈথৈ জল ভরা বরষায়
ইছামতী নদের ছোট্ট শাখায়
ডিঙি নাওখানা এপার ওপার চলে,
বৈঠা ঠেলে প্রৌঢ় মাঝি আর
যৌবনের কথা বলে।

 

 

গাছে গাছে দোয়েল-শালিকের সভায়
কাকভোরে যখন ঘুম ভেঙে যায়
লাঙল-জোয়াল কাঁধে নিয়ে
গোয়ালের দুটো বলদ তাড়িয়ে
মাঠের পানে কৃষাণ যায়
কৃষাণীও তার পিছে পিছে ধায়।

 

 

দিন শেষে প্রতি সন্ধ্যাকালে
ছেলে বুড়ো সবাই মিলে
বাহির বাড়িটায় বসে
বৈঠকী গান, আর কিসসা
শুনে কখনো কাঁদে
আবার কখনো হাসে।

 

 

হারানো সেই ছবিগুলো
আমার হৃদয় কাড়ে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কবিতা: হারানো দিন

আপডেট টাইম : ০২:০৯:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

স্বপন চন্দ্র দাস

সময়ের বিবর্তণে পৃথিবী রূপ পাল্টায়
মানুষের রঙ বদলায় আধুনিকতার ছোঁয়ায়
বদলে যায় সমাজ সংস্কৃতি, পাল্টায় রাজার নীতি

 

 

রূপান্তরের এ ধারাবাহিকতায়
আমার গা ভাসানো দায়
পুরাতন চিরসত্য,
বিশ্বাসী আমি সদা সেই পরম্পরায়

 

গঁ

গাঁয়ের পথধারে ঘাষের মাঝে
চোরকাঁটাগুলো লুকোচুরি খেলে
অদুরে অড়হর ক্ষেত
তাতে সোনালী ফুল হাসে
সেই দিনগুলো আজও আমার
তৃতীয় নয়নে ভাসে।

 

 

 মেঠো সেই পথে ধামা কাঁধে
পথিক ছোটে দূরান্তের হাটে
মোহনীয় সে দৃশ্য আমায় টানে

কোথাও কাঁদা কোথাও বালি
একেবেঁকে চলা আলপথখানি
আজও আমায় টানে।

 

 

দিগন্তজোড়া বিস্তৃর্ণ  মাঠে
সবুজ উর্মি দুলিয়া ওঠে
একগোছা ঘাষ আর নিড়ানী হাতে
উঁকি দিয়ে কৃষাণ,
হাসিয়া কি যেন বলে।

 

 

সাঁঝের বেলায় সেইপথ ধরে
গামছা মাথায় বিড়ার ওপরে
ভরা ধামা নিয়ে পথিক ফেরে,
কাঁচের শিশির গলে বেঁধে রশি
ঝুলিয়ে হাতে চলে সে দুলিয়ে
মুখখানায় তার তপ্ত স্বেদ
ঝরিয়া ঝরিয়া পরে।

 

 

থৈথৈ জল ভরা বরষায়
ইছামতী নদের ছোট্ট শাখায়
ডিঙি নাওখানা এপার ওপার চলে,
বৈঠা ঠেলে প্রৌঢ় মাঝি আর
যৌবনের কথা বলে।

 

 

গাছে গাছে দোয়েল-শালিকের সভায়
কাকভোরে যখন ঘুম ভেঙে যায়
লাঙল-জোয়াল কাঁধে নিয়ে
গোয়ালের দুটো বলদ তাড়িয়ে
মাঠের পানে কৃষাণ যায়
কৃষাণীও তার পিছে পিছে ধায়।

 

 

দিন শেষে প্রতি সন্ধ্যাকালে
ছেলে বুড়ো সবাই মিলে
বাহির বাড়িটায় বসে
বৈঠকী গান, আর কিসসা
শুনে কখনো কাঁদে
আবার কখনো হাসে।

 

 

হারানো সেই ছবিগুলো
আমার হৃদয় কাড়ে।