সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৭ মাস পর এক পা হারিয়ে বাড়ি ফিরলেন রায়হান, মুখে রহস্যময় বক্তব্য

এক পা হারানো রায়হান। ছবি: সংগৃহীত

লোহাগাড়ার ১২ বছরের শিশু মুহাম্মদ রায়হান নিখোঁজ হওয়ার পর সাত মাস পেরিয়ে বাড়ি ফিরেছে একটি পা হারিয়ে। মাথা, চোখ ও পেটেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কীভাবে তার পা কাটা পড়ল, কোথায় তার চিকিৎসা হয়েছে, কারা তাকে হাসপাতালে নিয়েছিল, এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর এখনো মেলেনি।

 

 

 

নিখোঁজ হওয়ার পর রায়হান কীভাবে আহত হলো, কীভাবে হাসপাতালে গেল এবং কারা তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করল, তার কোনো সুস্পষ্ট তথ্য পরিবারের কাছে নেই। এর মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেওয়া রায়হানের বক্তব্যের সঙ্গে বাড়ি ফেরার পর দেওয়া বক্তব্যেরও মিল পাওয়া যাচ্ছে না।

 

 

 

রায়হান চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাতগড় নয়া পাড়ার অটোরিকশাচালক নাজিম উদ্দিনের ছেলে। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর সে সৎ মায়ের সঙ্গে থাকত। স্থানীয় একটি হেফজখানায় পড়াশোনা করত সে।

পরিবারের ভাষ্য, বাড়িতে অবহেলা ও অনাদরের কারণে রায়হানের মন বসত না। এর আগে কয়েকবার বাড়ি থেকে পালিয়েও গিয়েছিল সে।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে কক্সবাজার যায় রায়হান। পরে চলে যায় ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে। এরপর পরিবারের সঙ্গে তার আর কোনো যোগাযোগ ছিল না।

 

 

দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকার পর গত ১৩ মে ‘হান্নান ভাই’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে রায়হানের পরিবারের সন্ধান চেয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে রায়হানকে জীবিত ও স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা যায়। তাকে আশ্রয় দেওয়া এক নারীও সেখানে কথা বলেন। রায়হানের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারীর নাম সালমা।

 

 

 

কিন্তু তখনও জানা যায়নি, কীভাবে রায়হান ওই নারীর কাছে গেল এবং তার সঙ্গে কী ঘটেছিল।

 

 

 

পরবর্তী সময়ে ঢাকার শেরেবাংলা নগরের জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন ছিল রায়হান।

 

 

 

ময়মনসিংহের তানভীর প্লাবন নামে এক যুবক দাবি করেন, তার এক আত্মীয় ওই হাসপাতালে রায়হানের পাশের সিটে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। তারা গত ৮ জুলাই হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে চলে যান। একই দিন রায়হানকেও হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয় বলে তার দাবি।

 

 

 

সম্প্রতি রায়হানের চিকিৎসাধীন অবস্থার একটি ভিডিও সামনে আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, তার একটি পা নেই। মাথার সামনের ডান পাশে, বাম চোখের নিচে এবং পেটের ডান পাশেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

 

 

 

 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ওই ভিডিওতে রায়হান নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা সম্পর্কে যে বক্তব্য দেয়, পরে বাড়ি ফিরে তার বক্তব্যে আসে বড় ধরনের পরিবর্তন।

 

 

 

 

চিকিৎসাধীন অবস্থায় ধারণ করা ভিডিওতে রায়হানকে বলতে শোনা যায়, তার মা-বাবা নেই। ট্রেনের ছাদ থেকে কেউ তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে বলেও সে দাবি করে।

 

 

 

কীভাবে সে হাসপাতালে গেল, কারা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেল কিংবা তার পা কীভাবে কাটা পড়ল, সে বিষয়ে ওই ভিডিওতে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

 

 

গত ১৩ সেপ্টেম্বর বাড়ি ফেরার পর রায়হান এখন বলছে, ঢাকায় থাকার সময় তাকে দিয়ে ওই কথাগুলো বলানো হয়েছিল।

 

 

 

রায়হানের দাবি, তাকে শেখানো কথা না বললে সালমা ও তার সহযোগীরা গুলি করে হত্যার হুমকি দিত।

 

 

 

 

এখন তার ভাষ্য, প্রতিদিনের মতো রাতের খাবার খেয়ে কমলাপুর রেলস্টেশনের ৮ নম্বর প্ল্যাটফর্মের পাশে বাগানঘেরা একটি টিনশেড ঘরে ঘুমাতে যায় সে। পরদিন দুপুরে ঘুম থেকে উঠে নিজেকে হাসপাতালের বিছানায় দেখতে পায়। তখন তার একটি পা ছিল না।

 

 

 

কিন্তু মাঝের সময়টুকুতে ঠিক কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে রায়হানের বক্তব্যও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।

 

 

রায়হানের বক্তব্য অনুযায়ী, সে কমলাপুর রেলস্টেশনের কাছে ঘুমাতে গিয়েছিল। পরদিন জ্ঞান ফেরার পর নিজেকে হাসপাতালে দেখতে পায় এবং তখন তার একটি পা ছিল না।

 

 

 

তাহলে প্রশ্ন হলো, তার পা কোথায় এবং কীভাবে কাটা পড়ল?

 

 

 

সে যদি ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে থাকে, তাহলে দুর্ঘটনাটি কোথায় ঘটেছিল? তাকে কে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিল? হাসপাতালের নথিতে তার ভর্তির সময় কী উল্লেখ আছে? অস্ত্রোপচার কোথায় হয়েছে? পরিবারের অনুমতি ছাড়াই তার চিকিৎসা কীভাবে হলো? আর যদি তাকে জোর করে অন্য কোনো বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়ে থাকে, তাহলে কারা তাকে নিয়ন্ত্রণ করেছিল?

 

 

 

এসব প্রশ্নের কোনো নিশ্চিত উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।

 

 

একই সঙ্গে চিকিৎসাধীন অবস্থার ভিডিওতে রায়হানের দেওয়া বক্তব্য এবং বাড়ি ফেরার পর দেওয়া বক্তব্যের পার্থক্যও ঘটনাটিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

 

 

 

তবে রায়হানের বর্তমান বক্তব্যের সত্যতা কিংবা আগের বক্তব্য কেন ভিন্ন ছিল, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তার পা হারানোর প্রকৃত কারণও এখনো নিশ্চিত নয়।

 

 

 

রায়হানের পৈতৃক বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার বাবা নাজিম উদ্দিন জীবিত আছেন। বিচ্ছেদের পর আলাদা থাকা রায়হানের মাও সন্তানের খোঁজে সেখানে এসেছেন।

 

 

 

 

ছেলের বর্তমান অবস্থার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা।

 

 

রায়হানের পরিবার জানিয়েছে, দারিদ্র্যের কারণে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থেকে ঢাকায় গিয়ে মামলা করা বা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সামর্থ্য তাদের নেই। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

 

 

রায়হানের বাবা-মায়ের দাবি, সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন করুক। একই সঙ্গে রায়হানের সঙ্গে কী ঘটেছিল, কারা তাকে চিকিৎসা করিয়েছে এবং তার পা হারানোর ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

 

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বায়েজিদ বিন আখন্দ বলেন, ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা প্রয়োজন। এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

 

 

 

তিনি বলেন, রায়হান ও তার পরিবার অত্যন্ত অসহায়। তার চিকিৎসা, শিক্ষা, পুনর্বাসন ও ভবিষ্যৎ জীবনযাপনে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে উপজেলা প্রশাসন পাশে থাকবে।

 

 

 

ইউএনও আরও বলেন, মানবিকতার জায়গা থেকে রায়হানের পাশে দাঁড়িয়ে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৭ মাস পর এক পা হারিয়ে বাড়ি ফিরলেন রায়হান, মুখে রহস্যময় বক্তব্য

আপডেট টাইম : ০১:৫২:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লোহাগাড়ার ১২ বছরের শিশু মুহাম্মদ রায়হান নিখোঁজ হওয়ার পর সাত মাস পেরিয়ে বাড়ি ফিরেছে একটি পা হারিয়ে। মাথা, চোখ ও পেটেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কীভাবে তার পা কাটা পড়ল, কোথায় তার চিকিৎসা হয়েছে, কারা তাকে হাসপাতালে নিয়েছিল, এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর এখনো মেলেনি।

 

 

 

নিখোঁজ হওয়ার পর রায়হান কীভাবে আহত হলো, কীভাবে হাসপাতালে গেল এবং কারা তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করল, তার কোনো সুস্পষ্ট তথ্য পরিবারের কাছে নেই। এর মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেওয়া রায়হানের বক্তব্যের সঙ্গে বাড়ি ফেরার পর দেওয়া বক্তব্যেরও মিল পাওয়া যাচ্ছে না।

 

 

 

রায়হান চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাতগড় নয়া পাড়ার অটোরিকশাচালক নাজিম উদ্দিনের ছেলে। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর সে সৎ মায়ের সঙ্গে থাকত। স্থানীয় একটি হেফজখানায় পড়াশোনা করত সে।

পরিবারের ভাষ্য, বাড়িতে অবহেলা ও অনাদরের কারণে রায়হানের মন বসত না। এর আগে কয়েকবার বাড়ি থেকে পালিয়েও গিয়েছিল সে।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে কক্সবাজার যায় রায়হান। পরে চলে যায় ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে। এরপর পরিবারের সঙ্গে তার আর কোনো যোগাযোগ ছিল না।

 

 

দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকার পর গত ১৩ মে ‘হান্নান ভাই’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে রায়হানের পরিবারের সন্ধান চেয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে রায়হানকে জীবিত ও স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা যায়। তাকে আশ্রয় দেওয়া এক নারীও সেখানে কথা বলেন। রায়হানের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারীর নাম সালমা।

 

 

 

কিন্তু তখনও জানা যায়নি, কীভাবে রায়হান ওই নারীর কাছে গেল এবং তার সঙ্গে কী ঘটেছিল।

 

 

 

পরবর্তী সময়ে ঢাকার শেরেবাংলা নগরের জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন ছিল রায়হান।

 

 

 

ময়মনসিংহের তানভীর প্লাবন নামে এক যুবক দাবি করেন, তার এক আত্মীয় ওই হাসপাতালে রায়হানের পাশের সিটে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। তারা গত ৮ জুলাই হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে চলে যান। একই দিন রায়হানকেও হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয় বলে তার দাবি।

 

 

 

সম্প্রতি রায়হানের চিকিৎসাধীন অবস্থার একটি ভিডিও সামনে আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, তার একটি পা নেই। মাথার সামনের ডান পাশে, বাম চোখের নিচে এবং পেটের ডান পাশেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

 

 

 

 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ওই ভিডিওতে রায়হান নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা সম্পর্কে যে বক্তব্য দেয়, পরে বাড়ি ফিরে তার বক্তব্যে আসে বড় ধরনের পরিবর্তন।

 

 

 

 

চিকিৎসাধীন অবস্থায় ধারণ করা ভিডিওতে রায়হানকে বলতে শোনা যায়, তার মা-বাবা নেই। ট্রেনের ছাদ থেকে কেউ তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে বলেও সে দাবি করে।

 

 

 

কীভাবে সে হাসপাতালে গেল, কারা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেল কিংবা তার পা কীভাবে কাটা পড়ল, সে বিষয়ে ওই ভিডিওতে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

 

 

গত ১৩ সেপ্টেম্বর বাড়ি ফেরার পর রায়হান এখন বলছে, ঢাকায় থাকার সময় তাকে দিয়ে ওই কথাগুলো বলানো হয়েছিল।

 

 

 

রায়হানের দাবি, তাকে শেখানো কথা না বললে সালমা ও তার সহযোগীরা গুলি করে হত্যার হুমকি দিত।

 

 

 

 

এখন তার ভাষ্য, প্রতিদিনের মতো রাতের খাবার খেয়ে কমলাপুর রেলস্টেশনের ৮ নম্বর প্ল্যাটফর্মের পাশে বাগানঘেরা একটি টিনশেড ঘরে ঘুমাতে যায় সে। পরদিন দুপুরে ঘুম থেকে উঠে নিজেকে হাসপাতালের বিছানায় দেখতে পায়। তখন তার একটি পা ছিল না।

 

 

 

কিন্তু মাঝের সময়টুকুতে ঠিক কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে রায়হানের বক্তব্যও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।

 

 

রায়হানের বক্তব্য অনুযায়ী, সে কমলাপুর রেলস্টেশনের কাছে ঘুমাতে গিয়েছিল। পরদিন জ্ঞান ফেরার পর নিজেকে হাসপাতালে দেখতে পায় এবং তখন তার একটি পা ছিল না।

 

 

 

তাহলে প্রশ্ন হলো, তার পা কোথায় এবং কীভাবে কাটা পড়ল?

 

 

 

সে যদি ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে থাকে, তাহলে দুর্ঘটনাটি কোথায় ঘটেছিল? তাকে কে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিল? হাসপাতালের নথিতে তার ভর্তির সময় কী উল্লেখ আছে? অস্ত্রোপচার কোথায় হয়েছে? পরিবারের অনুমতি ছাড়াই তার চিকিৎসা কীভাবে হলো? আর যদি তাকে জোর করে অন্য কোনো বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়ে থাকে, তাহলে কারা তাকে নিয়ন্ত্রণ করেছিল?

 

 

 

এসব প্রশ্নের কোনো নিশ্চিত উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।

 

 

একই সঙ্গে চিকিৎসাধীন অবস্থার ভিডিওতে রায়হানের দেওয়া বক্তব্য এবং বাড়ি ফেরার পর দেওয়া বক্তব্যের পার্থক্যও ঘটনাটিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

 

 

 

তবে রায়হানের বর্তমান বক্তব্যের সত্যতা কিংবা আগের বক্তব্য কেন ভিন্ন ছিল, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তার পা হারানোর প্রকৃত কারণও এখনো নিশ্চিত নয়।

 

 

 

রায়হানের পৈতৃক বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার বাবা নাজিম উদ্দিন জীবিত আছেন। বিচ্ছেদের পর আলাদা থাকা রায়হানের মাও সন্তানের খোঁজে সেখানে এসেছেন।

 

 

 

 

ছেলের বর্তমান অবস্থার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা।

 

 

রায়হানের পরিবার জানিয়েছে, দারিদ্র্যের কারণে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থেকে ঢাকায় গিয়ে মামলা করা বা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সামর্থ্য তাদের নেই। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

 

 

রায়হানের বাবা-মায়ের দাবি, সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন করুক। একই সঙ্গে রায়হানের সঙ্গে কী ঘটেছিল, কারা তাকে চিকিৎসা করিয়েছে এবং তার পা হারানোর ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

 

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বায়েজিদ বিন আখন্দ বলেন, ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা প্রয়োজন। এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

 

 

 

তিনি বলেন, রায়হান ও তার পরিবার অত্যন্ত অসহায়। তার চিকিৎসা, শিক্ষা, পুনর্বাসন ও ভবিষ্যৎ জীবনযাপনে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে উপজেলা প্রশাসন পাশে থাকবে।

 

 

 

ইউএনও আরও বলেন, মানবিকতার জায়গা থেকে রায়হানের পাশে দাঁড়িয়ে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে।