সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

‘মালের গাড়ি এসেছে’ বলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ: মিললো চাঞ্চল্যকর তথ্য

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হত্যার ঘটনায় তিনজন গ্রেপ্তার।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় মর্জিনা বেগম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বুধবার (২৬ নভেম্বর) এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিনজনকে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন আখাউড়া পৌর শহরের কাঁচাবাজারের দারোয়ান শহিদুল ইসলাম এবং তার দুই সহযোগী মো. রোমান মিয়া ও হোসেন মিয়া।

 

পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শচীন চাকমা জানান, মর্জিনা বেগম বাজারে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজের পাশাপাশি সন্ধ্যায় পিঠা বিক্রি করতেন। মঙ্গলবার তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় রহস্য উদ্‌ঘাটনের জন্য মাঠে নামে পিবিআই।

তদন্তে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য ও মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে জানা যায়, কাঁচাবাজারের দারোয়ান শহিদুল ইসলাম (৪৩) নিজের মোবাইল ফোন থেকে ‘মালের গাড়ি এসেছে’ বলে মর্জিনাকে ফোন দিয়ে ডেকে নেন। ফোন করার মাত্র ১৪ মিনিট পর রাত ৩টা ১৮ মিনিটে তাকে কাঁচাবাজার এলাকায় যেতে দেখা যায়।

পিবিআই জানায়, ঘটনাস্থলে শহিদুল প্রথমে ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করে। পরে তার সহযোগী হোসেন ওরফে শফিক (৪০) এবং রুমান মিয়া (২৪) ধর্ষণের চেষ্টা করলে মর্জিনা বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনজন মিলে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। হোসেন ভুক্তভোগীর গলা চেপে ধরে, শহিদুল দুই হাত চেপে রাখে এবং রুমান দুই পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে থাকেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তারা মরদেহ ফেলে দ্রুত সরে যায়।

 

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বুধবার দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে আখাউড়া সড়ক বাজারের কাঁচাবাজার এলাকা থেকে শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে আখাউড়ার মসজিদপাড়া এলাকার ভাড়া বাসা থেকে হোসেন ও রুমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনজনই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে এবং স্বেচ্ছায় আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

 

পিবিআই জানায়, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।

 

মামলার বাদী নিহতের মেয়ে রহিমা আক্তার জানান, তার মা মর্জিনা বেগম (৪৫) আখাউড়া সড়কবাজারে শ্রমিক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন এবং সন্ধ্যায় পিঠা বিক্রি করতেন। অন্ধ স্বামীকে নিয়ে তিনি দেবগ্রামের নয়াবাজার এলাকায় বাস করতেন।

 

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) ভোররাত ৩টার দিকে অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হন মর্জিনা বেগম। পরদিন সকালেও তিনি বাসায় না ফেরায় সন্ধ্যায় সবজি আড়ত থেকে খবর পান পৌরসভার পুরোনো ভবনের পাশে এক নারীর মরদেহ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি মায়ের মরদেহ শনাক্ত করেন। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন ও শরীরে ময়লার দাগ ছিল।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

‘মালের গাড়ি এসেছে’ বলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ: মিললো চাঞ্চল্যকর তথ্য

আপডেট টাইম : ১১:৪০:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় মর্জিনা বেগম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বুধবার (২৬ নভেম্বর) এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিনজনকে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন আখাউড়া পৌর শহরের কাঁচাবাজারের দারোয়ান শহিদুল ইসলাম এবং তার দুই সহযোগী মো. রোমান মিয়া ও হোসেন মিয়া।

 

পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শচীন চাকমা জানান, মর্জিনা বেগম বাজারে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজের পাশাপাশি সন্ধ্যায় পিঠা বিক্রি করতেন। মঙ্গলবার তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় রহস্য উদ্‌ঘাটনের জন্য মাঠে নামে পিবিআই।

তদন্তে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য ও মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে জানা যায়, কাঁচাবাজারের দারোয়ান শহিদুল ইসলাম (৪৩) নিজের মোবাইল ফোন থেকে ‘মালের গাড়ি এসেছে’ বলে মর্জিনাকে ফোন দিয়ে ডেকে নেন। ফোন করার মাত্র ১৪ মিনিট পর রাত ৩টা ১৮ মিনিটে তাকে কাঁচাবাজার এলাকায় যেতে দেখা যায়।

পিবিআই জানায়, ঘটনাস্থলে শহিদুল প্রথমে ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করে। পরে তার সহযোগী হোসেন ওরফে শফিক (৪০) এবং রুমান মিয়া (২৪) ধর্ষণের চেষ্টা করলে মর্জিনা বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনজন মিলে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। হোসেন ভুক্তভোগীর গলা চেপে ধরে, শহিদুল দুই হাত চেপে রাখে এবং রুমান দুই পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে থাকেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তারা মরদেহ ফেলে দ্রুত সরে যায়।

 

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বুধবার দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে আখাউড়া সড়ক বাজারের কাঁচাবাজার এলাকা থেকে শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে আখাউড়ার মসজিদপাড়া এলাকার ভাড়া বাসা থেকে হোসেন ও রুমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনজনই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে এবং স্বেচ্ছায় আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

 

পিবিআই জানায়, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।

 

মামলার বাদী নিহতের মেয়ে রহিমা আক্তার জানান, তার মা মর্জিনা বেগম (৪৫) আখাউড়া সড়কবাজারে শ্রমিক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন এবং সন্ধ্যায় পিঠা বিক্রি করতেন। অন্ধ স্বামীকে নিয়ে তিনি দেবগ্রামের নয়াবাজার এলাকায় বাস করতেন।

 

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) ভোররাত ৩টার দিকে অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হন মর্জিনা বেগম। পরদিন সকালেও তিনি বাসায় না ফেরায় সন্ধ্যায় সবজি আড়ত থেকে খবর পান পৌরসভার পুরোনো ভবনের পাশে এক নারীর মরদেহ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি মায়ের মরদেহ শনাক্ত করেন। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন ও শরীরে ময়লার দাগ ছিল।