সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

মেসির আগমনে উন্মাদনায় ভাসছে পুরো কলকাতা শহর

লিওনেল মেসি। ছবি: সংগৃহীত

ফুটবলপ্রেমী শহর কলকাতা আবারও ইতিহাসের সাক্ষী হতে চলেছে। ‘ফুটবলের ঈশ্বর’ হিসেবে পূজিত লিওনেল মেসির ভারত সফরের প্রথম গন্তব্য হওয়ায় কার্যত উন্মাদনায় ভাসছে ‘সিটি অব জয়’। কলকাতার রাজপথ, মোড় এবং খোলা জায়গা জুড়ে বিশাল কাটআউট, ব্যানার ও পোস্টারে ছয়ে গেছে শহর। মেসির পা রাখার আগেই থমকে যাওয়ার উপক্রম নগরজীবনের।

 

ভারতের এই পূর্বাঞ্চলীয় মহানগরীতে মেসির জনপ্রিয়তা নতুন নয়। ২০১১ সালে ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রীতি ম্যাচ খেলতে এসে প্রথমবার কলকাতায় পা রাখেন তিনি। দীর্ঘ ১৪ বছর পর তার দ্বিতীয় আগমনকে ঘিরে এবার প্রত্যাশা আরও তুঙ্গে।

 

কলকাতা সেই শহর, যেখানে এর আগে এসেছেন ফুটবলের আরও দুই মহাতারকা—পেলে ও দিয়েগো ম্যারাডোনা। ১৯৭৭ সালে নিউ ইয়র্ক কসমসের হয়ে একটি প্রদর্শনী ম্যাচ খেলতে এসে কলকাতাকে মুগ্ধ করেছিলেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলে। ম্যারাডোনা এসেছিলেন ২০০৮ ও ২০১৭ সালে—দু’বারই অবাক হয়েছিলেন এ শহরের ফুটবল উন্মাদনা দেখে।

২০০৮ সালে জার্মান কিংবদন্তি গোলরক্ষক অলিভার কানও এখানেই বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে নিজের শেষ ম্যাচ খেলেন। সেই ম্যাচও হয়েছিল সল্টলেক স্টেডিয়ামে—যেখানেই এবার মেসিকে ঘিরে থাকছে মূল আয়োজন। এই ইভেন্টে থাকবে কনসার্ট ও তারকা-সমৃদ্ধ একটি সেলিব্রিটি ম্যাচ, যেখানে অংশ নেবেন সৌরভ গাঙ্গুলি, ভাইচুং ভুটিয়া ও লিয়েন্ডার পেজের মতো ক্রীড়াবিদরা।

২০২৩ সালের জুলাইয়ে কাতার বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ কলকাতায় এসে যে উন্মাদনা দেখেছিলেন, সেটিও ছিল চোখে পড়ার মতো। তার ঠিক এক মাস আগেই শহর সফর করেছিলেন জার্মান বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লোথার মাথাউস। ইউরোপীয় ফুটবল রাজধানীগুলোর সঙ্গে পাল্লা দেওয়া ফুটবল উত্তেজনা দেখে তিনিও বিস্মিত হন।

“ফুটবলের ঈশ্বরকে এক ঝলক দেখার স্বপ্ন”

কলকাতার বাসিন্দা ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার দেবজ্যোতি ধর ১১ হাজার ৮০০ রুপির টিকিট কিনেছেন কেবল মেসিকে এক নজর দেখার আশায়। তিনি বলেন, “আমরা সবাই মেসিকে নিয়ে পাগল। প্রায় দুই দশক ধরে তার খেলা দেখছি। এত কাছ থেকে তাকে দেখার সুযোগ পাওয়া আমার জীবনের স্বপ্নপূরণ।”

 

কড়া নিরাপত্তায় অনুষ্ঠানসূচি

মেসি শনিবার ভোর ১টা ৩০ মিনিটে দুবাই হয়ে মিয়ামি থেকে কলকাতায় পৌঁছাবেন। সম্প্রতি টানা দ্বিতীয়বারের মতো মেজর লিগ সকারের (MLS) সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। সকালে তিনি অংশ নেবেন স্পনসরদের জন্য আয়োজিত একটি বিশেষ ‘মিট অ্যান্ড গ্রীট’ অনুষ্ঠানে, যেখানে থাকবে আর্জেন্টাইন ও ভারতীয় খাবারের ফিউশন ফেস্টিভ্যাল।

 

নিরাপত্তাজনিত কারণে মেসিকে সরাসরি উপস্থিত না রেখে ভার্চুয়ালি তার সবচেয়ে বড়—৭০ ফুট উচ্চতার—মূর্তি উন্মোচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগে পরিকল্পনা ছিল তিনি নিজেই সেখানে উপস্থিত থাকবেন, তবে পুলিশ অনুমতি দেয়নি।

 

সল্টলেক স্টেডিয়ামের মূল আয়োজনে ৭৫ হাজার দর্শকের জন্য গ্যালারি খোলা রাখা হয়েছে। ইভেন্টের প্রমোটার শতদ্রু দত্ত জানান, টিকিটের চাহিদা এতটাই বেশি যে মঙ্গলবার থেকেই কাউন্টার বিক্রিও চালু করা হয়েছে।

 

মেসির সঙ্গে এই সফরে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে ইন্টার মায়ামির সতীর্থ রদ্রিগো দে পল ও লুইস সুয়ারেজের। ভারতের অন্যান্য শহর—হায়দরাবাদ, মুম্বাই ও নয়াদিল্লিতেও থাকছে অনুষ্ঠান। পাশাপাশি বলিউড তারকা শাহরুখ খান, জন আব্রাহাম ও টাইগার শ্রফের উপস্থিতি এই ‘GOAT ইন্ডিয়া ট্যুর’-কে পরিণত করছে এক অনন্য উৎসবে।

 

সব মিলিয়ে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকার আগমন উদ্‌যাপনে প্রস্তুত কলকাতা—আরও একবার প্রমাণ করছে কেন এই শহরকে ভারতের ফুটবল-রাজধানী বলা হয়।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

মেসির আগমনে উন্মাদনায় ভাসছে পুরো কলকাতা শহর

আপডেট টাইম : ০৮:১২:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

ফুটবলপ্রেমী শহর কলকাতা আবারও ইতিহাসের সাক্ষী হতে চলেছে। ‘ফুটবলের ঈশ্বর’ হিসেবে পূজিত লিওনেল মেসির ভারত সফরের প্রথম গন্তব্য হওয়ায় কার্যত উন্মাদনায় ভাসছে ‘সিটি অব জয়’। কলকাতার রাজপথ, মোড় এবং খোলা জায়গা জুড়ে বিশাল কাটআউট, ব্যানার ও পোস্টারে ছয়ে গেছে শহর। মেসির পা রাখার আগেই থমকে যাওয়ার উপক্রম নগরজীবনের।

 

ভারতের এই পূর্বাঞ্চলীয় মহানগরীতে মেসির জনপ্রিয়তা নতুন নয়। ২০১১ সালে ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রীতি ম্যাচ খেলতে এসে প্রথমবার কলকাতায় পা রাখেন তিনি। দীর্ঘ ১৪ বছর পর তার দ্বিতীয় আগমনকে ঘিরে এবার প্রত্যাশা আরও তুঙ্গে।

 

কলকাতা সেই শহর, যেখানে এর আগে এসেছেন ফুটবলের আরও দুই মহাতারকা—পেলে ও দিয়েগো ম্যারাডোনা। ১৯৭৭ সালে নিউ ইয়র্ক কসমসের হয়ে একটি প্রদর্শনী ম্যাচ খেলতে এসে কলকাতাকে মুগ্ধ করেছিলেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলে। ম্যারাডোনা এসেছিলেন ২০০৮ ও ২০১৭ সালে—দু’বারই অবাক হয়েছিলেন এ শহরের ফুটবল উন্মাদনা দেখে।

২০০৮ সালে জার্মান কিংবদন্তি গোলরক্ষক অলিভার কানও এখানেই বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে নিজের শেষ ম্যাচ খেলেন। সেই ম্যাচও হয়েছিল সল্টলেক স্টেডিয়ামে—যেখানেই এবার মেসিকে ঘিরে থাকছে মূল আয়োজন। এই ইভেন্টে থাকবে কনসার্ট ও তারকা-সমৃদ্ধ একটি সেলিব্রিটি ম্যাচ, যেখানে অংশ নেবেন সৌরভ গাঙ্গুলি, ভাইচুং ভুটিয়া ও লিয়েন্ডার পেজের মতো ক্রীড়াবিদরা।

২০২৩ সালের জুলাইয়ে কাতার বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ কলকাতায় এসে যে উন্মাদনা দেখেছিলেন, সেটিও ছিল চোখে পড়ার মতো। তার ঠিক এক মাস আগেই শহর সফর করেছিলেন জার্মান বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লোথার মাথাউস। ইউরোপীয় ফুটবল রাজধানীগুলোর সঙ্গে পাল্লা দেওয়া ফুটবল উত্তেজনা দেখে তিনিও বিস্মিত হন।

“ফুটবলের ঈশ্বরকে এক ঝলক দেখার স্বপ্ন”

কলকাতার বাসিন্দা ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার দেবজ্যোতি ধর ১১ হাজার ৮০০ রুপির টিকিট কিনেছেন কেবল মেসিকে এক নজর দেখার আশায়। তিনি বলেন, “আমরা সবাই মেসিকে নিয়ে পাগল। প্রায় দুই দশক ধরে তার খেলা দেখছি। এত কাছ থেকে তাকে দেখার সুযোগ পাওয়া আমার জীবনের স্বপ্নপূরণ।”

 

কড়া নিরাপত্তায় অনুষ্ঠানসূচি

মেসি শনিবার ভোর ১টা ৩০ মিনিটে দুবাই হয়ে মিয়ামি থেকে কলকাতায় পৌঁছাবেন। সম্প্রতি টানা দ্বিতীয়বারের মতো মেজর লিগ সকারের (MLS) সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। সকালে তিনি অংশ নেবেন স্পনসরদের জন্য আয়োজিত একটি বিশেষ ‘মিট অ্যান্ড গ্রীট’ অনুষ্ঠানে, যেখানে থাকবে আর্জেন্টাইন ও ভারতীয় খাবারের ফিউশন ফেস্টিভ্যাল।

 

নিরাপত্তাজনিত কারণে মেসিকে সরাসরি উপস্থিত না রেখে ভার্চুয়ালি তার সবচেয়ে বড়—৭০ ফুট উচ্চতার—মূর্তি উন্মোচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগে পরিকল্পনা ছিল তিনি নিজেই সেখানে উপস্থিত থাকবেন, তবে পুলিশ অনুমতি দেয়নি।

 

সল্টলেক স্টেডিয়ামের মূল আয়োজনে ৭৫ হাজার দর্শকের জন্য গ্যালারি খোলা রাখা হয়েছে। ইভেন্টের প্রমোটার শতদ্রু দত্ত জানান, টিকিটের চাহিদা এতটাই বেশি যে মঙ্গলবার থেকেই কাউন্টার বিক্রিও চালু করা হয়েছে।

 

মেসির সঙ্গে এই সফরে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে ইন্টার মায়ামির সতীর্থ রদ্রিগো দে পল ও লুইস সুয়ারেজের। ভারতের অন্যান্য শহর—হায়দরাবাদ, মুম্বাই ও নয়াদিল্লিতেও থাকছে অনুষ্ঠান। পাশাপাশি বলিউড তারকা শাহরুখ খান, জন আব্রাহাম ও টাইগার শ্রফের উপস্থিতি এই ‘GOAT ইন্ডিয়া ট্যুর’-কে পরিণত করছে এক অনন্য উৎসবে।

 

সব মিলিয়ে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকার আগমন উদ্‌যাপনে প্রস্তুত কলকাতা—আরও একবার প্রমাণ করছে কেন এই শহরকে ভারতের ফুটবল-রাজধানী বলা হয়।