সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

অস্ট্রিয়ায় স্কুলছাত্রীদের হিজাব পরা নিষিদ্ধের ঘোষণা

হিজাব পরা নারীরা। ছবি : সংগৃহীত

স্কুলছাত্রীদের জন্য হিজাব নিষিদ্ধ করেছে অস্ট্রিয়া। দেশটির পার্লামেন্টে ১৪ বছরের কম বয়সী স্কুলছাত্রীদের জন্য হিজাব নিষিদ্ধ করার আইন পাস হয়েছে।

 

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানবাধিকার সংস্থা ও মুসলিম সম্প্রদায়ের আপত্তি সত্ত্বেও পাস হওয়া এই আইন সমাজে বিভাজন আরও বাড়াবে। এ ছাড়া এটি মুসলিমদের প্রান্তিক করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

চলতি বছরের শুরুতে দেশের রক্ষণশীল নেতৃত্বাধীন সরকারের উদ্যোগে এই আইন পাস করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোটের আগে ক্ষমতাসীন জোটের সদস্য লিবারেল নিয়সের সংসদীয় নেতা ইয়ানিক শেটি বলেন, এটি স্বাধীনতা সীমিত করার জন্য নয়; বরং ১৪ বছর পর্যন্ত মেয়েদের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য। তার দাবি, হিজাব শুধু পোশাক নয়—অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি মেয়েদের পুরুষের দৃষ্টি থেকে আড়াল করে।

দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা আগামী সেপ্টেম্বরের নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। আইন ভঙ্গ করলে পরিবারকে বারবার অপরাধের ক্ষেত্রে ৮০০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।

এটি পিপলস পার্টির নেতৃত্বাধীন সরকারের দ্বিতীয় হিজাব–নিষিদ্ধ উদ্যোগ। ২০১৯ সালে ১০ বছরের নিচের মেয়েদের জন্য হিজাব নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, যা পরে সাংবিধানিক আদালত বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে বাতিল করে দেয়। এইবার সরকার বলছে—পূর্ব ভুল এড়িয়ে চলার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে শেটি নিজেও স্বীকার করেছেন—আইনটি আদালতে টিকবে কিনা নিশ্চিত নন।

 

ভোটে একমাত্র বিরোধিতা করেছে গ্রীন পার্টি। তারা আইনটিকে সংবিধানবিরোধী বলছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন সংস্থা বলছে, আইনটি মেয়েদের ক্ষমতায়ন করবে না, বরং অস্ট্রিয়ায় মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান বর্ণবাদী পরিবেশকে আরও তীব্র করবে।

 

মহিলা অধিকার সংগঠন আমাজোনের অ্যাঞ্জেলিকা অ্যাটজিঙ্গার বলেন, আইনটি মেয়েদের কাছে ভুল বার্তা পাঠাচ্ছে—তাদের শরীর নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাদের নয়।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

অস্ট্রিয়ায় স্কুলছাত্রীদের হিজাব পরা নিষিদ্ধের ঘোষণা

আপডেট টাইম : ১০:৩৮:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

স্কুলছাত্রীদের জন্য হিজাব নিষিদ্ধ করেছে অস্ট্রিয়া। দেশটির পার্লামেন্টে ১৪ বছরের কম বয়সী স্কুলছাত্রীদের জন্য হিজাব নিষিদ্ধ করার আইন পাস হয়েছে।

 

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানবাধিকার সংস্থা ও মুসলিম সম্প্রদায়ের আপত্তি সত্ত্বেও পাস হওয়া এই আইন সমাজে বিভাজন আরও বাড়াবে। এ ছাড়া এটি মুসলিমদের প্রান্তিক করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

চলতি বছরের শুরুতে দেশের রক্ষণশীল নেতৃত্বাধীন সরকারের উদ্যোগে এই আইন পাস করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোটের আগে ক্ষমতাসীন জোটের সদস্য লিবারেল নিয়সের সংসদীয় নেতা ইয়ানিক শেটি বলেন, এটি স্বাধীনতা সীমিত করার জন্য নয়; বরং ১৪ বছর পর্যন্ত মেয়েদের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য। তার দাবি, হিজাব শুধু পোশাক নয়—অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি মেয়েদের পুরুষের দৃষ্টি থেকে আড়াল করে।

দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা আগামী সেপ্টেম্বরের নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। আইন ভঙ্গ করলে পরিবারকে বারবার অপরাধের ক্ষেত্রে ৮০০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।

এটি পিপলস পার্টির নেতৃত্বাধীন সরকারের দ্বিতীয় হিজাব–নিষিদ্ধ উদ্যোগ। ২০১৯ সালে ১০ বছরের নিচের মেয়েদের জন্য হিজাব নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, যা পরে সাংবিধানিক আদালত বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে বাতিল করে দেয়। এইবার সরকার বলছে—পূর্ব ভুল এড়িয়ে চলার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে শেটি নিজেও স্বীকার করেছেন—আইনটি আদালতে টিকবে কিনা নিশ্চিত নন।

 

ভোটে একমাত্র বিরোধিতা করেছে গ্রীন পার্টি। তারা আইনটিকে সংবিধানবিরোধী বলছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন সংস্থা বলছে, আইনটি মেয়েদের ক্ষমতায়ন করবে না, বরং অস্ট্রিয়ায় মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান বর্ণবাদী পরিবেশকে আরও তীব্র করবে।

 

মহিলা অধিকার সংগঠন আমাজোনের অ্যাঞ্জেলিকা অ্যাটজিঙ্গার বলেন, আইনটি মেয়েদের কাছে ভুল বার্তা পাঠাচ্ছে—তাদের শরীর নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাদের নয়।