সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

হিমেল বাতাসে কাঁপছে যমুনা পাড়ের মানুষ, জনজীবন বিপর্যস্ত

হিমেল বাতাসে কাঁপছে যমুনা পাড়ের মানুষ, জনজীবন বিপর্যস্ত

ঘন কুয়াশা ও উত্তরের হিমেল বাতাসে কাঁপছে যমুনা পাড়ের মানুষ। পৌষের প্রচণ্ড শীতে সিরাজগঞ্জের মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
এদিকে, শীতজনিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকরা ফসলের মাঠে খেত প্রস্তুত করতে নাকাল হয়ে পড়েছেন। দরিদ্র মানুষেরা শীত নিবারণে পুরাতন শীতবস্ত্র কিনতে ও শীতের তীব্রতায় অনেককেই আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করতে দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে কুয়াশার চাদরে ঢাকা রয়েছে সিরাজগঞ্জ শহরসহ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল। নিম্ন আয়ের কর্মজীবী মানুষের স্বাভাবিক কাজকর্মে নেমে এসেছে স্থবিরতা।

তাড়াশ পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, নিয়মিত তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ৯৫ শতাংশ। তবে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে তিনি জানান।

শহরের পৌরসভা রোডে অবস্থিত হকার্স মাকের্টে দেখা যায়, তীব্র শীত ও কুয়াশায় সাধারণ মানুষ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় জেলা শহরে একাধিক গরম কাপড় পরে জীবিকার সন্ধানে নেমেছে শ্রমজীবী মানুষ। স্বাভাবিক দিনের থেকে জনসমাগম কম থাকায় রিকশাচালকসহ কর্মজীবি মানুষ শীতের কাপড় জড়িয়ে বসে থাকতে দেখা গেছে। তবে খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। সুর্যের দেখা না মেলায় কুয়াশায় যানবাহন চলাচল করছে ধীরগতিতে এবং বাতাসের কারণে মানুষজন আরও বিপাকে পড়েছেন।

সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের কৃষক আলী হোসেন বলেন, প্রচণ্ড শীতের সাথে উত্তরের বাতাসে ফসলের মাঠে কাজ করতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। জীবিকার তাগিদে শীতকে উপেক্ষা করেই কাজে বের হয়েছি। কাজ না করলে সংসার চলবে না। যতই কষ্ট হক না কেন, কাজ করতেই হবে।

কয়েকজন রিকশাচালক বলেন, কয়েকদিন ধরে কুয়াশার কারণে শহরে লোকজন কম। পেটের সংসার চালাতে রিকশা নিয়ে বের হলেও আয়-রোজগার নেই বললেই চলে। শীতের কারণে রিকশায় কেউ উঠতে চায় না। তবে প্রতিদিন শীত ও কুয়াশা মাথায় নিয়ে জীবিকার তাগিদে ঘর ছাড়তে হয়। ইতোমধ্যে ফুটপাতের দোকানগুলোতে গরম কাপড় কেনাবেচা বাড়তে শুরু করেছে।

তাড়াশ ও বাঘাবাড়ি আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, মৃদু শৈত্য প্রবাহের কারণে জেলায় রবিশস্য, বোরোধানের বীজতলা ও মৌ খামারিদের মধূ সংগ্রহে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। জেলার নয়টি উপজেলার মাঠে রয়েছে সরিষা, ভূট্টা, পেঁয়াজ, রসুনসহ মৌসুমি শাক সবজীসহ বোরো ধানের বীজতলা। চলনবিলাঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ সরিষার আবাদ হওয়ায় অসংখ্য মৌ খামারিরা মধূ সংগ্রহ করতে মৌ বাক্স বসিয়েছেন। প্রতি বছর চলনবিল থেকে ১৫শ থেকে দুই হাজার মেট্রিক টন মধু সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে মৌমাছি মারা পড়ায় মধু সংগ্রহে বিরূপ প্রভাব পড়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (উপ-পরিচালক) এ কে এম মঞ্জুরে মওলা বলেন, শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রচন্ড শীতে কৃষকেরা মাঠে কাজ করতে পারছেন না। এতে কৃষি কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ফসল সুরক্ষায় কৃষকদের আগাম সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় করণীয় সম্পর্কে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে ফসলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন, যাতে শীতজনিত কারণে ফসের ক্ষতি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হিমেল বাতাসে কাঁপছে যমুনা পাড়ের মানুষ, জনজীবন বিপর্যস্ত

আপডেট টাইম : ০৬:২০:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
ঘন কুয়াশা ও উত্তরের হিমেল বাতাসে কাঁপছে যমুনা পাড়ের মানুষ। পৌষের প্রচণ্ড শীতে সিরাজগঞ্জের মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
এদিকে, শীতজনিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকরা ফসলের মাঠে খেত প্রস্তুত করতে নাকাল হয়ে পড়েছেন। দরিদ্র মানুষেরা শীত নিবারণে পুরাতন শীতবস্ত্র কিনতে ও শীতের তীব্রতায় অনেককেই আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করতে দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে কুয়াশার চাদরে ঢাকা রয়েছে সিরাজগঞ্জ শহরসহ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল। নিম্ন আয়ের কর্মজীবী মানুষের স্বাভাবিক কাজকর্মে নেমে এসেছে স্থবিরতা।

তাড়াশ পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, নিয়মিত তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ৯৫ শতাংশ। তবে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে তিনি জানান।

শহরের পৌরসভা রোডে অবস্থিত হকার্স মাকের্টে দেখা যায়, তীব্র শীত ও কুয়াশায় সাধারণ মানুষ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় জেলা শহরে একাধিক গরম কাপড় পরে জীবিকার সন্ধানে নেমেছে শ্রমজীবী মানুষ। স্বাভাবিক দিনের থেকে জনসমাগম কম থাকায় রিকশাচালকসহ কর্মজীবি মানুষ শীতের কাপড় জড়িয়ে বসে থাকতে দেখা গেছে। তবে খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। সুর্যের দেখা না মেলায় কুয়াশায় যানবাহন চলাচল করছে ধীরগতিতে এবং বাতাসের কারণে মানুষজন আরও বিপাকে পড়েছেন।

সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের কৃষক আলী হোসেন বলেন, প্রচণ্ড শীতের সাথে উত্তরের বাতাসে ফসলের মাঠে কাজ করতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। জীবিকার তাগিদে শীতকে উপেক্ষা করেই কাজে বের হয়েছি। কাজ না করলে সংসার চলবে না। যতই কষ্ট হক না কেন, কাজ করতেই হবে।

কয়েকজন রিকশাচালক বলেন, কয়েকদিন ধরে কুয়াশার কারণে শহরে লোকজন কম। পেটের সংসার চালাতে রিকশা নিয়ে বের হলেও আয়-রোজগার নেই বললেই চলে। শীতের কারণে রিকশায় কেউ উঠতে চায় না। তবে প্রতিদিন শীত ও কুয়াশা মাথায় নিয়ে জীবিকার তাগিদে ঘর ছাড়তে হয়। ইতোমধ্যে ফুটপাতের দোকানগুলোতে গরম কাপড় কেনাবেচা বাড়তে শুরু করেছে।

তাড়াশ ও বাঘাবাড়ি আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, মৃদু শৈত্য প্রবাহের কারণে জেলায় রবিশস্য, বোরোধানের বীজতলা ও মৌ খামারিদের মধূ সংগ্রহে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। জেলার নয়টি উপজেলার মাঠে রয়েছে সরিষা, ভূট্টা, পেঁয়াজ, রসুনসহ মৌসুমি শাক সবজীসহ বোরো ধানের বীজতলা। চলনবিলাঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ সরিষার আবাদ হওয়ায় অসংখ্য মৌ খামারিরা মধূ সংগ্রহ করতে মৌ বাক্স বসিয়েছেন। প্রতি বছর চলনবিল থেকে ১৫শ থেকে দুই হাজার মেট্রিক টন মধু সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে মৌমাছি মারা পড়ায় মধু সংগ্রহে বিরূপ প্রভাব পড়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (উপ-পরিচালক) এ কে এম মঞ্জুরে মওলা বলেন, শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রচন্ড শীতে কৃষকেরা মাঠে কাজ করতে পারছেন না। এতে কৃষি কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ফসল সুরক্ষায় কৃষকদের আগাম সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় করণীয় সম্পর্কে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে ফসলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন, যাতে শীতজনিত কারণে ফসের ক্ষতি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।