সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

উত্তরবঙ্গমুখী মানুষের ঈদযাত্রা নিয়ে ভোগান্তির শঙ্কা

ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক। ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে উত্তরবঙ্গমুখী মানুষের সবচেয়ে বড় ভরসা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক। তবে প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন হওয়া নিয়ে শঙ্কা কাটছে না। মহাসড়কে বেপরোয়া থ্রি-হুইলারের চলাচল, যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের অসমাপ্ত নির্মাণকাজ এবং সড়কের খানাখন্দ মিলিয়ে যেকোনো সময় ভয়াবহ যানজটের আশঙ্কা করছেন যাত্রী ও চালকেরা।

 

 

 

এর সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে পশুবাহী ট্রাকের অতিরিক্ত চাপ। কোরবানির পশু পরিবহনের কারণে ঈদের আগে ও পরে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।

 

 

 

বর্তমানে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড, বলিয়ারপুর বাসস্ট্যান্ড, সাভারের পাকিজা পয়েন্ট, থানা স্ট্যান্ড, সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড, নবীনগর বাসস্ট্যান্ড, বাইপাইল, পল্লী বিদ্যুৎ ও বলিভদ্র বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রায় সারাক্ষণই থ্রি-হুইলারের দখল দেখা যায়।

অভিযোগ রয়েছে, এসব যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলের কারণে মহাসড়কের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ছে। অনেক সময় পুলিশ সদস্যদেরও অসহায় অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আব্দুল্লাহপুর থেকে শ্রীপুর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ ধীরগতিতে এগোনো এবং বিভিন্ন স্থানে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে সড়ক সরু হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। এতে ভারী যানবাহন চলাচলে যেমন সমস্যা হচ্ছে, তেমনি সামান্য চাপ বাড়লেই দীর্ঘ যানজট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

 

চুক্তি অনুযায়ী নির্মাণকাজের সময় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার কথা থাকলেও বাস্তবে সেই নির্দেশনা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ নিয়ে কার্যকর তদারকির অভাবও চোখে পড়ছে বলে মনে করছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

 

উত্তরবঙ্গগামী একটি বাসের চালক ইমরুল বলেন, এখনো তেমন সমস্যা হচ্ছে না। তবে ঈদের সময় পশুবাহী গাড়ি বেড়ে গেলে চাপ বাড়বে। বিশেষ করে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজের কারণে রাস্তায় অনেক খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। তখন গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে যাবে।

 

 

 

গরুভর্তি একটি ট্রাকের চালক মুরাদ বলেন, রাস্তা ভাঙা থাকায় গাড়ি চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। এখন যানজট কম আছে, কিন্তু ঈদের সময় চাপ বাড়বে। মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করা গেলে অনেকটা স্বস্তি পাওয়া যেত।

 

 

 

কুষ্টিয়াগামী যাত্রী ইকবাল হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত ভোগান্তি নেই, ভাড়াও ঠিক আছে। কিন্তু প্রতি ঈদেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়। ৫০০ টাকার ভাড়া ১ হাজার টাকা নেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এবার যেন এমন না হয়, সরকারকে সেদিকে নজর দিতে হবে।

 

 

 

 

ঢাকা জেলা ট্রাফিক পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (এডমিন) রুহুল আমিন সোহেল বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন থাকবে। আমাদের বড় প্রতিবন্ধকতার একটি হচ্ছে বাইপাইল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ। তারপরও মানুষের ভোগান্তি কমাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।

 

 

 

এ বিষয়ে হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ শাজাহান বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। মহাসড়কে অটোরিকশা ও অবৈধ যান চলাচল বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে উল্টো পথে চলাচল এবং বিভিন্ন মোড়ে জটলা তৈরি হওয়ায় কিছুটা ভোগান্তির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

 

 

 

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতি বছর ঈদ এলেই ঢাকা-আরিচা ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে যানজট, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং দুর্ভোগের চিত্র দেখা যায়। এবারও পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন না হওয়ায় স্বস্তির বদলে শঙ্কাই বাড়ছে ঘরমুখো মানুষের মধ্যে। তবে পুলিশ বলছে ঈদ যাত্রায় সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে।

 

 

রাজধানীতে উচ্ছেদ অভিযানে যত টাকার জমি উদ্ধার করল সরকার

রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনসংলগ্ন কালশী রোডের পাশের বাউনিয়াবাঁধ মৌজায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের প্রায় ১৩ একর সরকারি জমি উদ্ধার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, উদ্ধার হওয়া জমির বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা।

 

 

 

বুধবার (২০ মে) সকাল থেকে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। এর আগে মঙ্গলবার অভিযান পরিচালনার সময় দখলকারীদের বাধার মুখে পড়ে অভিযান আংশিকভাবে ব্যাহত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরদিন অতিরিক্ত পুলিশ ও জনবল নিয়ে পুনরায় অভিযান চালানো হয়।

 

 

 

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সচিব মনদীপ ঘরাই জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে থাকা জমিটি দুই দিনের সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাতীয় গৃহায়ণের ঢাকা ডিভিশন-১ এর তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

 

 

অভিযানে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অংশ নেয়। অভিযানের সময় অস্থায়ী ছাপড়া ঘর, টং দোকান, আধাপাকা টিনশেড স্থাপনা এবং কয়েকটি দ্বিতল ভবনসহ আনুমানিক ১৮০ থেকে ২০০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

 

জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া জমিটি এলএ (LA) কেস নং ৫/৭২–৭৩ অনুযায়ী সরকার আইনগতভাবে অধিগ্রহণ করেছিল। জমিটি জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের বাস্তবায়নাধীন ‘মিরপুরস্থ ১১ নম্বর সেকশনে বস্তিবাসীদের জন্য ৫৩৩টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ’ প্রকল্পের পশ্চিম পাশে অবস্থিত।

 

 

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী অনুমোদন ছাড়াই স্থাপনা নির্মাণ করে জমিটি দখলে রেখেছিল। এতে সরকারি সম্পদের ব্যবহার, পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল।

 

 

 

জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে উদ্ধারকৃত জমি পরিকল্পিত আবাসন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে। বিশেষ করে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

 

 

একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

 

রামিসার পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন প্রধানমন্ত্রী

 

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় নিহত আট বছর বয়সী শিশু রামিসার বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে পল্লবীতে রামিসার পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন প্রধানমন্ত্রী।

 

 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রীসভার বৈঠক শেষে রামিসার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন তিনি।

 

বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

 

মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বুধবার (২০ মে) নিহত রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন ঘটনার প্রধান আসামি সোহেল রানা। এ ছাড়া মামলার বিচার দ্রুত শেষ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে সূত্রটি।

 

 

এদিকে, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদের কাছে জবানবন্দি রেকর্ড হওয়ার পর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

 

 

রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লার দায়ের করা মামলায় সোহেল রানা, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার এবং অজ্ঞাতনামা আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

 

 

মামলার এজাহার অনুযায়ী, সোহেল রানা কৌশলে রামিসাকে নিজের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

 

 

আগৈলঝাড়ায় ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধনের দিনেই সেবা গ্রহীতাকে মারধর

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় ভূমিসেবা মেলা উদ্বোধনের দিনই সেবা গ্রহীতাকে মারধর করে তার হাতের শাঁখা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পয়সাহাট ভূমি অফিসের এক সহায়ক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার পয়সাহাট ভূমি অফিসে ঘটে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ অনুযায়ী, বাকাল ইউনিয়নের সরবাড়ি গ্রামের রনজিত জয়ধরের স্ত্রী শিখা জয়ধর তাদের জমির দুটি মিউটেশন করার জন্য ২০২৪ সালে ভূমি অফিস সহায়ক আবুল বাশার বাদশাকে ১৫ হাজার টাকা দেন। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ দুই বছরেও তিনি মিউটেশনের কাজ সম্পন্ন করেননি এবং বিভিন্ন সময়ে টালবাহানা করেন।

ভূমিসেবা মেলার দিন মঙ্গলবার বিকেলে শিখা জয়ধর মিউটেশনের কাগজপত্র চাইতে গেলে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে অফিসের বাইরে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই গৃহবধূকে মারধর করা হলে তার বাম হাতের শাঁখা ভেঙে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

তবে ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত আবুল বাশার বাদশা দাবি করেন, তিনি শিখা জয়ধরের কাছ থেকে ১৪ হাজার টাকা নিয়েছেন এবং তার কাগজপত্র কয়েক মাস আগেই দেওয়া হয়েছে। বাইরে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।

এ বিষয়ে পয়সাহাট ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা উত্তম বেপারী জানান, ঘটনাটি অফিসের বাইরে ঘটেছে বলে তিনি শুনেছেন, তবে কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিখন বণিক বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চিকিৎসকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আগৈলঝাড়ায় মানববন্ধন

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক নাসির ইসলামসহ দেশব্যাপী চিকিৎসকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে চিকিৎসকরা।

 

 

 

বুধবার (২০ মে) দুপুরে উপজেলা ইউএইচএফপিও ফোরামের আয়োজনে হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের ব্যানারে হাসপাতাল চত্বরে ওই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

 

কর্মসূচিতে চিকিৎসকরাসহ নার্সরাও অংশগ্রহণ করেন। ঘণ্টাব্যাপী চলা মানববন্ধনে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শিশির কুমার গাইনের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন ডা. মিরন হালদার, ডা. সুবল কৃষ্ণ, ডা. শিল্পী সমাদ্দার, ডা. সুমাইয়া তাসনীম তনিমা, ডা. মো. শামীম হোসেন, ডা. সাবরিনা ইসলাম, ডা. নাসফিন জাহান নিপা, ডা. শাহানাজ পারভীন সেতু, ডা. শাহ্ মো. বদরুল আলম ও ডা. নুসরাত জাহান প্রমুখ।

 

 

 

চিকিৎসক নাসির ইসলাম ও এক স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর হামলার প্রতিবাদে নিরাপদ স্বাস্থ্য সেবার পরিবেশ, আইনগত সুরক্ষা এবং চিকিৎকদের জন্য ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রদানের দাবি জানিয়ে বক্তরা বলেন, নাসিরের ওপর হামলাকারী আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত ও কর্তব্যরত স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরা আইন প্রণয়ন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলাকে জামিন অযোগ্য অপরাধ হিসেবে আইন করে দ্রুত কার্যকর করতে সরকারের প্রতি দাবি জানান বক্তারা।

 

 

কুখ্যাত ডাকাত টিক্কা আটক

নৌ ও স্থলপথের দুর্ধর্ষ ডাকাত মুজিবুর রহমান ওরফে টিক্কাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা নৌ পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২১ মে) গাজীপুরের পুবাইলের মাজু খান বাজার-সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

টিক্কা সাভার মডেল থানার আলোচিত ডাকাতি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। গ্রেপ্তার অভিযানে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন ঢাকা জেলা নৌ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান।

 

 

কালবেলাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-মামুন। তিনি বলেন, ‘পলাতক আসামি টিক্কাকে ধরতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে অংশ নেন একদল চৌকস পুলিশ সদস্য। আসামি ধরার সময় গুরুতর আহত হয়েছেন আমাদের এই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। তার কোমর ও মাথায় আঘাত লেগেছে। তাকে প্রথমে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

আশুলিয়া নৌ ফাঁড়ির সূত্রে জানা গেছে, টিক্কা বরগুনার আমতলীর বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা থেকে নৌ ও স্থলপথে ডাকাতি করে আসছিল এই ডাকাত। তার নামে ঢাকা ও আশপাশের জেলার বিভিন্ন থানায় অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে। তার আসল নাম মুজিবুর রহমান, ঢাকায় এসে নাম নিয়েছে টিক্কা।

 

আসন্ন ঈদুল আজহা: হিলিতে জমতে শুরু করেছে দা-বঁটি ও চাকুর বাজার

পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদের আর মাত্র দিনকয়েক বাকি। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাংলা হিলি বাজারে ব্যস্ততা বাড়ছে কামারপাড়ার কারিগরদের। টুংটাং শব্দে মুখরিত কামারশালাগুলো পেরিয়ে এখন বাজারের দোকানগুলোতে শোভা পাচ্ছে চকচকে দা, বঁটি, ছুরি ও চাপাতি।
​আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে বাংলাহিলি বাজার ঘুরে দেখা যায়, কামাররা তাদের দোকানে অত্যন্ত সুন্দর ও সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রেখেছেন কোরবানির পশু জবাই এবং মাংস কাটার যাবতীয় সরঞ্জাম। ঈদের প্রস্তুতি হিসেবে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বাহারি ডিজাইনের দেশীয় ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করছেন বিক্রেতারা।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের বাকি আর মাত্র ৬ থেকে ৭ দিন। বাজারে এখনো উপচে পড়া ভিড় না জমলেও, টুপি-তাকিয়া কিংবা কোরবানির পশু কেনার পাশাপাশি অনেকেই এখন থেকেই প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে দোকানে ঢুঁ মারছেন। তবে কামারদের আশা, আগামী দুই-একদিনের মধ্যে বেচাকেনা পুরোদমে জমে উঠবে।
​বাংলা হিলি বাজারের কামার ব্যবসায়ী সবুজ বৈরাগী বলেন, ঈদের আর মাত্র ৭ দিন বাকি। আশা করা যাচ্ছে দুই-একদিনের মধ্যেই পুরোদমে বেচাকেনা শুরু হয়ে যাবে। আমরা ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে সম্পূর্ণ খাঁটি ও মানসম্মত লোহা দিয়ে দা, বঁটি ও চাকু তৈরি করেছি, যাতে এগুলো টেকসই ও ধারালো হয়। আশা করছি এবার ভালো ব্যবসা করতে পারব।
​বিক্রেতারা জানান, আকার ও লোহার গুণগত মানের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে এসব সরঞ্জাম। পাশাপাশি পুরোনো দা-বঁটি শাণ দেওয়ার (ধারালো করার) কাজও শুরু হয়েছে সমানতালে। আগামী কয়েকদিনে এই ব্যস্ততা ও বিক্রি আরও কয়েকগুণ বাড়বে বলে প্রত্যাশা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের।

নওগাঁয় পৃথক ঘটনায় বজ্রপাতে ৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

 

নওগাঁ জেলার রাণীনগর উপজেলায় বজ্রপাতে একই দিনে তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল আনুমানিক ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে পৃথক দুটি ঘটনায় এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে রাণীনগর থানাধীন ০৪নং পারুইল ইউনিয়নের জাঠাইল মাঠে। কৃষিকাজ করার সময় বজ্রপাতের শিকার হন দুই কৃষক। নিহতরা হলেন— পারুইল গ্রামের মৃত আসাদ ফকিরের পুত্র মোঃ আক্কাস ফকির (৬০) এবং মোঃ আমিনুরের পুত্র মোঃ তারেক (২২)।

অপরদিকে, একই থানাধীন ০৫নং বড়গাছা ইউনিয়নের গুয়াতা আটনিটা গ্রামে আরেকটি বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। কৃষিজমির মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হন মোঃ নয়ন তালুকদার (৩২)। তিনি ওই গ্রামের হাসেন তালুকদারের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হঠাৎ বজ্রসহ ঝড়ের কবলে পড়ে তিনজনই ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাণীনগর থানার ওসি মো. জাকারিয়া মন্ডল জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এ ঘটনায় থানায় পৃথক ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ইউপি সদস্যের আত্মহত্যা, চিরকুটে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

 

পটুয়াখালীর দুমকিতে সাবেক ইউপি সদস্য ও দলিল লেখক আবুল কালাম খান মানসিক নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকুট ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

 

 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাড়ির আঙিনায় গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

 

 

 

পুলিশ জানায়, নিহতের লেখা চিরকুটে ৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন— উত্তম কুমার, কালাম মৃধা, মিলন মৃধা, হান্নান সিকদার, দেলোয়ার হোসেন টিটু খা ও ছালাম মৃধা। চিরকুটে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আলাদা আলাদা অভিযোগ তুলে নিজের মৃত্যুর জন্য দায়ী করেছেন আবুল কালাম খান।

 

চিরকুটের ভাষ্যমতে, দক্ষিণ মুরাদিয়া এলাকার পিলার ব্যবসায়ী উত্তম কুমার ‘পিলারের ব্যবসার লোভ’ দেখিয়ে তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা নেন। পরে টাকা ফেরত চাইলে উল্টো বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উত্তম কুমার দাবি করেন, ‘আমি কালাম খানকে চিনিই না।’

 

চিরকুটে আরও উল্লেখ করা হয়, কালাম মৃধা ওই অর্থ লেনদেনে মধ্যস্থতা করে টাকার ভাগ নিয়েছেন। তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

আরেক অভিযুক্ত মিলন মৃধার বিরুদ্ধে চিরকুটে লেখা হয়, তাকে সাক্ষী রেখে ১০ হাজার টাকা সুদ দেওয়ার শর্তে এক লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কয়েক মাস সুদ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় মিলন মৃধা বাড়িতে গিয়ে স্ত্রীকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।

 

 

 

মিলন মৃধার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

 

 

চিরকুটে দেলোয়ার হোসেন টিটু খাকে এলাকার শীর্ষ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী উল্লেখ করে আবুল কালাম খান লিখেছেন, তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে বছরে ২০ হাজার টাকা সুদ দেওয়ার চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু টাকা পরিশোধ করতে না পারায় টিটু খা তাকে পথে-ঘাটে দেখলেই হত্যার হুমকি দিতেন।

 

 

 

অভিযোগ অস্বীকার করে টিটু খা বলেন, ‘এসব মিথ্যা ও বানোয়াট কথা।’

 

 

 

বাকি অভিযুক্ত হান্নান সিকদার ও ছালাম মৃধার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

 

 

নিহতের মেয়ে রাবেয়া বলেন, ‘কিছু লোক আমার বাবাকে দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে অত্যাচার করেছে। চিরকুটে যাদের নাম আছে, তাদের বিষয়ে বাবা প্রায়ই আমাদের কাছে কষ্টের কথা বলতেন। সেই মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরেই বাবা এই পথ বেছে নিয়েছেন। আমরা এর বিচার চাই।’

 

 

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, আর্থিক সংকট ও ঋণের চাপে দীর্ঘদিন ধরেই ভেঙে পড়েছিলেন আবুল কালাম খান। একসময় তিনি শ্রীরামপুর ইউনিয়নের নির্বাচিত ইউপি সদস্য ছিলেন এবং দলিল লেখক হিসেবে কাজ করতেন।

 

 

 

দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকুটটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

 

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পে-স্কেল নিয়ে সর্বশেষ সিদ্ধান্ত

নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে সচিব কমিটির ডাকা সভায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিচের দুই স্তরের সরাকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বেশি ও ওপরের স্তরের কর্মকর্তাদের তুলনামূলক কম সুবিধা পাবে বলে সুপারিশ করা হয়েছে।

 

 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ১১টায় সচিবালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়ে দুপুরে বৈঠক শেষে এই তথ্য জানা গেছে।

 

 

কমিটির সঙ্গে যুক্ত দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, নিচের দুই স্তরের সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ওপরের স্তরের কর্মকর্তারা তুলনামূলক কম সুবিধা পাবেন। একইসঙ্গে সরকারি পেনশনভোগীদের পেনশনের হার শতভাগের বেশি বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ অনুযায়ী একবারে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে গেলে সরকারের অতিরিক্ত ৪৩ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতো। তবে বর্তমানে চাকরিজীবীরা যে ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন, তা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে দেওয়ায় সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ কমে ৩৭ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এই হিসাব মাথায় রেখেই আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

পে স্কেল সংক্রান্ত কমিটির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, মূল্যস্ফীতির চাপ নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের ওপর সবচেয়ে বেশি পড়ছে।

তাই নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার নতুন পে স্কেলে তুলনামূলক বেশি রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বুধবার (২০ মে) ও বৃহস্পতিবার (২১ মে) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়টিও আলোচনা হয়েছে। নবম পে স্কেলের আওতায় শুধু প্রশাসন ক্যাডার নয় বরং এর সঙ্গে শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ পর্যায়ে প্রশাসন, বিচার বিভাগীয় কর্মচারীসহ সবাই অন্তর্ভুক্ত থাকছেন।

 

 

সোমবার (১৮ মে) অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আগামী অর্থবছরের শুরুতে অর্থাৎ ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন হবে।’

 

 

অর্থনীতির অবস্থা খারাপ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জিডিপির তুলনায় রাজস্ব সংগ্রহের অবস্থাও খারাপ। ফলে অনেক কিছু বাদ দিতে হচ্ছে আমাদের। কাটছাঁট করতে হচ্ছে। তার মধ্যেও নতুন বেতনকাঠামোর দিকটা দেখতে হচ্ছে।’ কমিশনের সুপারিশ কাটছাঁট করে তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানা গেছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী তিন অর্থবছরে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কমিটির সুপারিশ ছিল। তবে আমাদের তো বাজেটের সীমাবদ্ধতা আছে। আমরা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আছি।’

 

 

কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশনপ্রাপ্তদের পেনশন প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। যাদের মাসিক পেনশন ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে, তাদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। আর ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

 

 

এ ছাড়া প্রবীণ পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতা ১০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে, যা বর্তমানে ৮ হাজার টাকা।

 

 

অপরদিকে, ৫৫ বছরের কম বয়সী পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা ৫ হাজার টাকা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এদিকে, নতুন পে স্কেলে সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে।

 

বিচারহীনতার কারণেই বেপরোয়া অপরাধীরা: ছাত্র জমিয়ত

দেশে উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়া শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সাআদ বিন জাকির। তিনি বলেন, বিচারহীনতা ও মামলা চাপা পড়ে যাওয়ার সংস্কৃতিই অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

 

 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) ফরিদপুর সদর উপজেলার খবালপুর মাদ্রাসা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ ফরিদপুর জেলা সদস্য সম্মেলন ও কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

সাআদ বিন জাকির বলেন, ‘আজ দেশে শিশু নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। একটি ঘটনার বিচার শেষ হওয়ার আগেই আরেকটি নির্মম ঘটনা সামনে আসছে। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, অনেক ঘটনায় প্রথমদিকে তীব্র আলোচনা হলেও পরে সেগুলো ধীরে ধীরে চাপা পড়ে যায়। এই সংস্কৃতিই অপরাধীদের মনে ভয়হীনতা তৈরি করছে।’

তিনি বলেন, ‘মাগুরায় শিশু আছিয়া হত্যা, সিলেটে শিশু ফাহিমা হত্যা, ঠাকুরগাঁওয়ে লামিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যা কিংবা মুন্সীগঞ্জে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার মতো ঘটনাগুলো জাতিকে নাড়া দিয়েছে। জনগণ এখন দেখতে চায়, এসব ঘটনায় জড়িতদের বিচার কত দ্রুত ও দৃশ্যমানভাবে নিশ্চিত করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিশুরা আজ শুধু বাইরে নয়, অনেক সময় নিজেদের পরিচিত পরিবেশেও নিরাপদ নয়। এটি সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের ভয়াবহ চিত্র। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে শিশু সুরক্ষায় আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’

ছাত্র জমিয়তের এই নেতা বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানানোই যথেষ্ট নয়। শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। কোনো অপরাধী যেন রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাব বা অর্থের কারণে পার পেয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’

 

 

তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘শিশু নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধীদের প্রতি নরম অবস্থান ভবিষ্যৎ সমাজকে আরও অনিরাপদ করে তুলবে।’

 

 

বক্তব্যের শেষে তিনি অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সন্তানদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ রাখলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। তাদের নৈতিক শিক্ষা, মানসিক বিকাশ ও নিরাপত্তার বিষয়েও পরিবারকে গুরুত্ব দিতে হবে।’

 

 

রায়গঞ্জে বিটুমিনবাহী ট্যাংকলরি উল্টে প্রাণ গেল নারীর

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে বিটুমিনবাহী ট্যাংকলরি উল্টে তার নীচে চাপা পড়ে ফুয়ারা খাতুন নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের উপজেলার দাদপুর সাহেবগঞ্জ আন্ডারপাস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

 

 

নিহত ফুয়ারা খাতুন উপজেলার দাদপুর সাহেবগঞ্জ (মহ্যৎপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা ও কোবাদ আলীর স্ত্রী।

 

 

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের দাদপুর সাহেবগঞ্জ আন্ডারপাস এলাকায় হেঁটে যাচ্ছিলেন ফুয়ারা খাতুন। এ সময় উত্তপ্ত তরল বিটুমিনবাহী ট্যাংকলরিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। উল্টে যাওয়া লরির নিচে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান ফুয়ারা।

 

 

 

খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেন।

 

 

 

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানা-র অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। লরিটিকে জব্দ করা হলেও এর চালক পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

 

 

৯১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য ১২টি আইপিপির সঙ্গে সরকারের নতুন চুক্তি

 

জাতীয় গ্রিডে ৯১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ১২টি বেসরকারি ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারের (আইপিপি) সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সরকার। এসব বিদ্যুতের ইউনিট প্রতি (কিলোওয়াট-ঘণ্টা) উৎপাদনের গড় ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৭.৮০ সেন্ট অর্থাৎ প্রায় ৯ টাকা ১২ পয়সা। যা আগের তুলনায় প্রায় আড়াই সেন্ট কম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

 

 

 

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকারের জ্বালানি বহুমুখীকরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এসব চুক্তি করা হয়।

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, এতে বিদ্যুতের উৎপাদন গড় ব্যয় ২ থেকে ৩ সেন্ট কমে গেছে। ফলে সামগ্রিক উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। যেখানে আগে বিদ্যুতের ইউনিট প্রতি গড় উৎপাদন ব্যয় ছিল প্রায় ১০.৫ সেন্ট।

 

বিপিডিবির কর্মকর্তারা জানান, নতুন সরকার পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের বাতিল করা ছয়টি বিদ্যুৎ প্রকল্প পুনর্বহাল করেছে। এছাড়া কম দামে ৯১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার লক্ষ্যে নতুন আরও ছয়টি প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

 

 

 

তারা জানান, ১২টি প্রকল্পের আওতায় নির্মিতব্য ১২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র আগামী দুই বছরের মধ্যে উৎপাদনে যাবে এবং সবগুলো জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

 

 

কর্মকর্তারা আরও জানান, চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সবচেয়ে বড় ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মিত হবে। এছাড়া পাবনার ঈশ্বরদীতে ১৫০ মেগাওয়াটের আরেকটি কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

 

 

 

তারা বলেন, কক্সবাজারে দুটি ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। একইভাবে আরও একটি ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র বাগেরহাটের মোংলায় নির্মাণ করা হবে। পাবনার ঈশ্বরদীতে ৭০ মেগাওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

 

 

 

এছাড়া অবশিষ্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো মৌলভীবাজারের সদর ও বিবিয়ানা, নীলফামারীর জলঢাকা, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী এবং নোয়াখালীর সুধারামে স্থাপন করা হবে। এসব কেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা হবে ১০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত।

 

 

 

 

বিপিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ট্যারিফ নিশ্চিত করে সরকার ১২টি আইপিপির সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেছে।

 

 

 

 

কনফিডেন্স পাওয়ারের চেয়ারম্যান ও আইপিপি উদ্যোক্তা ইমরান করিম জানান, তার তিনটি প্রতিষ্ঠান মোট ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, বাকি দুটি কেন্দ্রের জন্য জমি ক্রয়ের প্রক্রিয়া চলছে। আমাদের তিনটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র ২০২৮ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে।

 

 

 

 

জ্বালানি বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাংলাদেশের আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে।

 

 

 

বিপিডিবির হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে উৎপাদিত এক হাজার ৪৫১ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। যা দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ৫.০১ শতাংশ।

 

 

 

বিপিডিবির কর্মকর্তারা জানান, ২০২৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর অন্তর্বর্তী সরকার ৩১টি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাতিল করেছিল। যার মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প ছিল ২৭টি। এসব প্রকল্প থেকে ২ হাজার ৭২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা ছিল। বাকি চারটি প্রকল্প ছিল বায়ু ও জলবিদ্যুৎভিত্তিক। যেগুলো বিভিন্ন পর্যায়ে বাতিল করা হয়।

 

 

 

বিপিডিবি চেয়ারম্যান বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানো, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে সরকারের সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি।

 

 

 

কর্মকর্তারা জানান, ১২টি প্রকল্প ছাড়াও ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ এবং অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নে আলাদা কর্মসূচি চলছে।

 

 

 

বর্তমানে বাংলাদেশে ১,৪৫০.৬৭ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। এর মধ্যে ১,০৭৩.৫ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে (অন গ্রিড) এবং ৩৭৭.১৭ মেগাওয়াট অফ-গ্রিড ব্যবস্থায় রয়েছে।

 

 

 

টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১,৭৪৩.৭৬ মেগাওয়াট।

 

 

 

সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি ২৩০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ, ৬২ মেগাওয়াট বায়ুশক্তি, ০.৬৯ মেগাওয়াট বায়োগ্যাস এবং ০.৪ মেগাওয়াট বায়োমাস এর মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

 

 

 

জ্বালানি বিশ্লেষক ও ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) কর্মকর্তা শফিকুল আলম বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে এবং নীতিমালার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে সরকারের একটি সমন্বিত জ্বালানি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

 

 

 

কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্কের (ক্লিন) প্রধান নির্বাহী ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ হাসান মেহেদি বাসস’কে বলেন, সরকার যদি মানুষকে নিজ নিজ বাড়িতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে উৎসাহিত করতে পারে, তাহলে সরকারি বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে না।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, আগে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণ করা প্রায় ১৩ হাজার একর জমি এখনো অব্যবহৃত রয়েছে। নতুন করে জমি অধিগ্রহণের পরিবর্তে ওই জমিগুলো সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে ব্যবহার করা গেলে বিদ্যুতের ইউনিট প্রতি খরচ ২৩ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।

 

 

 

বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের ৪০ শতাংশ পরিবেশবান্ধব ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

 

 

 

আন্তর্জাতিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংস্থার (আইআরইএনএ) সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, ১২ লাখ দুই হাজার ১৭৮.৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী চীন বর্তমানে বিশ্বে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র, যার উৎপাদন দুই লাখ ১১ হাজার ৬১০ দশমিক এক মেগাওয়াট এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত, যার উৎপাদন সক্ষমতা এক লাখ ৩৫ হাজার ৫০১ দশমিক পাঁচ মেগাওয়াট।

 

 

 

এছাড়া জাতীয় গ্রিডে সংযুক্তির লক্ষ্যে বর্তমানে ভিয়েতনাম আট হাজার ৭০০ মেগাওয়াট, ফিলিপাইন দুই হাজার ৬০০ মেগাওয়াট, শ্রীলঙ্কা এক হাজার মেগাওয়াট এবং পাকিস্তান ৮০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।

 

 

সূত্র : বাসস

 

 

ঝুলন্ত অবস্থায় মিলল এসএসসি পরীক্ষার্থীর মরদেহ

নীলফামারীর ডিমলায় এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

 

বুধবার (২০ মে) রাত ১০টার দিকে উপজেলার বাবুরহাট মহিলা কলেজপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

 

নিহত নিফতাহুল জান্নাত মাইশা (১৬) দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার তাজনগর গ্রামের ব্র্যাক কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেনের মেয়ে। তিনি পরিবারসহ ডিমলার বাবুরহাট এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। নিহত মাইশা স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

 

 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাওয়াদাওয়া শেষে মাইশা নিজ শয়নকক্ষে চলে যান। পরে দীর্ঘ সময় কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরে প্রবেশ করলে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান তারা। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে ডিমলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে।

প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও এর পেছনের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ডিমলা থানার ওসি শওকত আলী সরকার বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।’

 

তাইওয়ানকে অস্ত্র বিক্রির ইঙ্গিত, প্রতিবাদ চীনের

দীর্ঘ কয়েক দশকের কূটনৈতিক রীতি ভেঙে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের সঙ্গে সম্ভাব্য অস্ত্র বিক্রির বিষয় নিয়ে সরাসরি কথা বলার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্ভাব্য অস্ত্রচুক্তি নিয়ে এই আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। আর এতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ওয়াশিংটন-বেইজিং সম্পর্কে।

 

 

১৯৭৯ সালে তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে চীনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে মার্কিন ও তাইওয়ানের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ কার্যত বন্ধ ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই ঘোষণা বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

 

বুধবার (২০ মে) সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমি লাই চিংয়ের সঙ্গে কথা বলব। আমি সবার সঙ্গেই কথা বলি। তাইওয়ান ইস্যু নিয়েও কাজ করব।

তিনি আরও জানান, তাইওয়ানের কাছে প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আলোচনায় রয়েছে ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি।

ট্রাম্প একইসঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে নিজের সম্পর্ককে অসাধারণ বলে উল্লেখ করেন। সম্প্রতি বেইজিং সফরে দুই নেতার বৈঠকের পরই তাইওয়ান ইস্যু নতুন করে সামনে আসে।

 

অন্যদিকে, ট্রাম্পের সম্ভাব্য এই পদক্ষেপে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের মধ্যে কোনও ধরনের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ এবং অস্ত্র বিক্রির বিরোধিতা করে চীন।

 

 

চীনের দাবি, তাইওয়ান তাদের ভূখণ্ডের অংশ এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করেও দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হতে পারে। তবে তাইওয়ানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে দ্বীপটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে জোর দিচ্ছেন।

 

 

১৯৭৯ সালের তাইওয়ান সম্পর্ক আইন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে আত্মরক্ষামূলক অস্ত্র সরবরাহ করতে পারে। কিন্তু একইসঙ্গে ওয়াশিংটনকে বেইজিংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্যও বজায় রাখতে হয়।

 

 

এদিকে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নীতিবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা এলব্রিজ কোলবির সম্ভাব্য চীন সফর আটকে রেখেছে বেইজিং। ট্রাম্প তাইওয়ানকে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেন, সেটির দিকেই নজর রাখছে চীন।

 

 

এর আগে ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরও ট্রাম্প তৎকালীন তাইওয়ান নেতা সাই ইং-ওয়েনের সঙ্গে কথা বলে কূটনৈতিক রীতিভঙ্গ করেছিলেন। সে সময়ও বেইজিং আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছিল।

 

 

তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে ট্রাম্পের সঙ্গে তাইওয়ান প্রণালির স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক শান্তি নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী।

 

 

১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে আশ্বাস দিয়েছিল যে, তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে তারা বেইজিংয়ের সঙ্গে পরামর্শ করবে না। কিন্তু বেইজিং থেকে ফেরার পথে বিমানে সেই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে ট্রাম্প বলেন, ১৯৮০-এর দশক এখনও অনেক দূরের পথ।

 

 

গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে ১১ বিলিয়ন ডলার (৮.২ বিলিয়ন পাউন্ড) মূল্যের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয়, যা এযাবৎকালের অন্যতম বৃহত্তম এবং এই ঘটনা বেইজিংয়ের ক্ষোভের কারণ হয়।

 

 

প্রেসিডেন্ট লাইয়ের নেতৃত্বে তাইওয়ান চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপ মোকাবেলায় তার প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।

 

 

অনেক তাইওয়ানি নিজেদেরকে একটি পৃথক জাতির অংশ বলে মনে করেন। যদিও বেশিরভাগই স্থিতাবস্থা বজায় রাখার পক্ষে, যেখানে তাইওয়ান চীনের কাছ থেকে স্বাধীনতা ঘোষণাও করবে না বা তার সাথে একীভূতও হবে না।

 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরুরি বার্তা, বন্ধ অষ্টম শ্রেণির অনলাইন রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম

শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক ও আর্থিক চাপ কমানো এবং বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম স্থগিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

 

 

গত বুধবার (২০ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে নির্দেশনাটি দেওয়া হয়।

 

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থী ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির সময় একবার এবং পরবর্তীকালে নবম শ্রেণিতে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবারও রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে। এ অবস্থায় অষ্টম শ্রেণিতে নতুন করে আরও একটি রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি বিষয়টি অভিভাবকদের মধ্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এসব দিক বিবেচনায় নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে চলমান ২০২৬ সালের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ নির্দেশনার অনুলিপি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে। ফলে ২০২৬ সালের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের আপাতত অনলাইনে কোনো রেজিস্ট্রেশন করতে হবে না।

 

 

কাফির প্রশ্ন: বিচার কি শুধুই স্লোগান?

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সম্প্রতি এনসিপিতে যোগ দেওয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি।

 

 

বুধবার (২০ মে) রাত ১১টা ২৯ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

 

 

 

নুরুজ্জামান কাফি লেখেন, ‌‘আমরা ঠিক আর কত মানুষের জন্য, কত বাচ্চার জন্য, কত ভাইয়ের জন্য, কত মায়ের জন্য জাস্টিস চাইবো?’

তিনি লেখেন, ‘কোনো সরকারই এমন কঠোর কোনো বিচার জনসম্মুখে নেওয়ার কি হেডম (ক্ষমতা) নাই, যে একটা কঠোর বিচার জনসম্মুখে করবে!’

এই এনসিপি নেতা আরও লেখেন, ‘জনসম্মুখে একটা কঠোর বিচার হলে এটাই হতো আমাদের শেষ বিচার চাওয়া #JusticeForRamisa বলে।’

সবশেষে তিনি লেখেন, ‘আমরা #JusticeForRamisa বলে আর কারো জন্য জাস্টিস চাইতে চাই না। অর্থাৎ আমরা আর এরকম ঘটনার সম্মুখীন হতে চাই না।’ অর্থাৎ ভবিষ্যতে আর কোন পরিবারকে যেন এমন ঘটনার সম্মুখীন হতে না হয়।

 

ঈদযাত্রায় যানজট নিরসনে ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতা

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর এলাকায় বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ। যানজট নিরসন ও সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবার হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি এপিবিএন সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।
ঈদকে সামনে রেখে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ভবেরচর অংশে যানবাহনের চাপ বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় আগে থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ পার্কিং রোধ এবং সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিতে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।
ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শাহ কামাল আকন্দ বলেন,আসন্ন ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি এপিবিএন সদস্যরাও আমাদের সহায়তা করছেন। মহাসড়কে কোথাও যেন অযথা যানজট সৃষ্টি না হয়, সে জন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন,চালক ও যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। কেউ যেন সড়কের পাশে অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং না করেন এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলেন এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি।

 

আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়ও ব্যাপক ভাইরাল বাংলাদেশের ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো সোনালি চুলের অ্যালবিনো (জন্মগত জেনেটিক ত্রুটি) জাতের একটি মহিষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কোরবানির ঈদের আগে এই ব্যতিক্রমী মহিষটি এখন নারায়ণগঞ্জে এক অপ্রত্যাশিত আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। মহিষটিকে একনজর দেখার জন্য প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় করছেন ।

 

 

 

 

জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মিল থাকায় মহিষটির নাম রাখা হয়েছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়া এলাকার রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে রাখা প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এই মহিষ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও জায়গা করে নিয়েছে।

 

 

 

 

বার্তা সংস্থা এএফপি, রয়টার্স থেকে শুরু করে ভারতীয় এনডিটিভি, পাকিস্তানি ও থাই গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছে।

 

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, সোনালি চুল ও হালকা গোলাপি বর্ণের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহিষটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে। খামারের মালিক ৩৮ বছর বয়সী জিয়া উদ্দিন মৃধা জানান, তার ছোট ভাই মজা করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে চুলের মিল দেখে নামটি রাখেন, যা পরে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

 

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নয়, একই খামারে থাকা আরেকটি মহিষকে ‘বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু’ নামেও ডাকা হচ্ছে, যা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন কৌতূহল তৈরি করেছে।

 

 

থাই ও পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এই অ্যালবিনো মহিষটি বাংলাদেশে এক ধরনের ‘সেলিব্রিটি প্রাণী’তে পরিণত হয়েছে। ঢাকার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই খামারে প্রতিদিনই শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষ ভিড় করছেন ছবি তুলতে ও কাছ থেকে দেখতে।

 

 

 

খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, বিশেষ যত্নে রাখা এই মহিষটিকে দিনে চারবার গোসল করানো হয় এবং সোনালি লোম পরিচ্ছন্ন রাখতে আলাদা পরিচর্যা করা হয়। খামারের কর্মীরা এটিকে শান্ত ও নমনীয় প্রকৃতির প্রাণী হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

 

 

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে কোরবানির পশুর ভিড়ের মধ্যেই এই ব্যতিক্রমী মহিষটি দর্শনার্থীদের বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবির কারণে এর জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে।

 

 

 

জানা গেছে, প্রাণীটির নামকরণ কেবল কৌতুক নয়; বরং এর চুল ও রঙের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাহ্যিক মিলই এই নামের অনুপ্রেরণা। প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি অ্যালবিনো বা বিরল জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের কারণে সাদা-গোলাপি বর্ণের হয়ে থাকে।

 

 

 

তবে দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত ভিড়ে মহিষটির শারীরিক অবস্থায় প্রভাব পড়ায় এখন খামারে প্রবেশে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। এরপরও দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন এই ‘বাংলার ডোনাল্ড ট্রাম্প’-কে একনজর দেখার জন্য।

 

 

 

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এই ঘটনা যেমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও বাংলাদেশে প্রাণী সংস্কৃতি, নামকরণ ও জনপ্রিয়তার নতুন এক ব্যতিক্রমী চিত্র তুলে ধরেছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচন করতে চান ট্রাম্প!

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মজা করে বলেছেন, ইসরায়েলে আমি অত্যন্ত জনপ্রিয়। ভবিষ্যতে আমি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী পদেও নির্বাচন করতে পারি।

 

 

 

বুধবার যুক্তরাষ্ট্র কোস্টগার্ড একাডেমির সমাবর্তনের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলে আমি অত্যন্ত জনপ্রিয়।

 

 

 

তিনি বলেন, হয়তো এটা শেষ করার পর আমি ইসরায়েলে যাব, প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচন করব। আজ সকালে একটি জরিপ দেখেছি, সেখানে আমি ৯৯ শতাংশ সমর্থন পেয়েছি।

তবে তিনি কোন জরিপের কথা বলেছেন, তা স্পষ্ট করেননি। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

ইসরায়েলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ১৯৯৬ সাল থেকে বিভিন্ন মেয়াদে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনায় ট্রাম্প বরাবরই নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত।

 

 

নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাম্প্রতিক যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, তিনি ভালো আছেন, খুব ভালো মানুষ। আমি যা চাইব, তিনি তাই করবেন।

 

 

 

এ সময় নেতানিয়াহুকে যুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলে নেতানিয়াহুকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। সূত্র : ইউএসএ টুডে।

 

 

মাদ্রাসার শিক্ষক শিহাবের বিরুদ্ধে আরও ৪ শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগ

 

রাজধানীর রামপুরায় বলাৎকার ও আত্মহত্যায় প্ররোচণার চাঞ্চল্যকর মামলার আসামি মো. শিহাব হোসেন (১৯)-কে গ্রেপ্তার করেছে রামপুরা থানা পুলিশ। 

 

 

 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। 

 

 

পুলিশ জানায়, গত ১৯ মে রাতে রামপুরা থানাধীন বনশ্রী সি-ব্লকে অবস্থিত আলোকিত কুরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসায় মো. আব্দুল্লাহ (১০) নামে এক শিক্ষার্থীর গলায় গামছা পেঁচানো ঝুলন্ত মরদেহের খবর পেয়ে রামপুরা থানার একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

 

 

সুরতহাল প্রস্তুতের সময় শিশুটির পায়ুপথে অস্বাভাবিক যৌনাচারের আলামত দেখতে পান তদন্ত কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, মো. শিহাব হোসেন (১৯)-এর বিরুদ্ধে আরও চার শিক্ষার্থীর সঙ্গে অস্বাভাবিক যৌনাচারে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

 

 

 

এর মধ্যে পরবর্তীতে আব্দুল্লাহর মা মোছা. টুকু আরা খাতুন রামপুরা থানায় এসে শিহাব হোসেন ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

 

 

 

মামলার এজাহারে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী/২০০৩) এর ৯(১) ধারা এবং পেনাল কোডের ৩০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। 

 

 

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আব্দুল্লাহ আত্মহত্যার আগেই শিহাব হোসেন মাদ্রাসা ত্যাগ করে গ্রামের বাড়িতে চলে যান। পরে রামপুরা থানার একটি আভিযানিক দল পাবনা জেলার বেড়া থানাধীন খাকছাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

 

 

সরকারের কাছে ‘জাস্টিস কার্ড’ চাই : হাসনাত আব্দুল্লাহ

 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ নানা ধরনের কার্ড দেওয়া হচ্ছে; কিন্তু জনগণ ন্যায়বিচার পাচ্ছে না। আমরা সরকারের কাছে ‘জাস্টিস কার্ড’ চাই।’

 

 

 

 

বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যায় কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

 

 

 

 

হাসনাত আব্দুল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালে আইসিইউর অভাব, ঘুষ ছাড়া চাকরি না পাওয়া, থানায় দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য-এসব সমস্যা এখনো বহাল রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য সেবা থেকে প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হচ্ছে।’

জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে তিনি অভিযোগ করেন, দেশে এখনো বিচারহীনতা, দুর্নীতি ও দমন-পীড়নের সংস্কৃতি বিদ্যমান। মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। গুম ও হত্যার ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, বরং বিচার না পাওয়ার আশঙ্কায় ভুক্তভোগীরা অনেক সময় আইনি আশ্রয় নেওয়া থেকেও বিরত থাকছে।

 

 

সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে এনসিপির নেতা বলেন, ‘যত দিন পর্যন্ত সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হবে, তত দিন সরকারের সব উন্নয়নমূলক উদ্যোগই প্রশ্নবিদ্ধ থাকবে। জনগণ একদিন ব্যালটের মাধ্যমে বা গণপ্রতিরোধের মুখে এর উপযুক্ত জবাব দেবে।’

 

 

 

অবিলম্বে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন এবং বিচারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান হাসনাত আব্দুল্লাহ।

 

 

সুত্র: দৈনিক কালবেলা

 

ভোল পাল্টানো মাহামুদুল এক মহাপ্রতারক

জামায়াত আমিরের জালিয়াত উপদেষ্টা

 

ক্ষমতার পালাবদলের প্রতিটি বাঁকে গিরগিটির মতো রং পাল্টে দেশের নীতিনির্ধারণী মহলকে ধোঁকা দেওয়া এক মহাপ্রতারকের নাম মাহামুদুল হাসান। শিক্ষা বলতে ঢাকা ইমপেরিয়াল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস। অথচ নামের আগে লাগিয়েছেন ‘প্রফেসর’। যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ আমেরিকান ইউনিভার্সিটি (এনএইউ) থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন—এমন দাবিতে লাগান ‘ড.’ তকমাও। আর এ মিথ্যা পরিচয়ে দেশের নর্থ সাউথ ও আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটি, বাংলাদেশের (এআইইউবি) মতো নামি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন দীর্ঘদিন।

 

 

 

প্রতারণাকে পেশা বানানো এ ব্যক্তি ক্ষমতার শীর্ষ স্তরে জায়গা পেতে কখনো বনে গেছেন রাজনৈতিক শীর্ষ নেতাদের উপদেষ্টা, আবার ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর বাগিয়ে নিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের পররাষ্ট্র উপদেষ্টার পদও। কিন্তু আভিজাত্যের এ চটকদার মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক বিকৃত ও নৃশংস অপরাধীর চেহারা। কালবেলার অনুসন্ধানে উন্মোচিত হয়েছে তার একাধিক বিয়ে এবং অনেক নিরীহ নারীর জীবন ধ্বংসের রোমহর্ষক অধ্যায়। শ্বশুরবাড়ির ১৫ বছরের এক কিশোরী গৃহপরিচারিকাকে ধর্ষণের দায়ে জেল খাটার অকাট্য প্রমাণও মিলেছে তার বিরুদ্ধে। ওই মামলায় পরবর্তী সময়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সাক্ষীদের আদালতে না যেতে বাধ্য করা হয়। একই সঙ্গে নিজের বিকৃত মানসিকতার পরিচয় দিয়ে ১৬ বছরের প্রথম সন্তান, সাবেক স্ত্রী এবং তার পরিবারের সদস্যদের ‘জঙ্গি’ তকমা দিয়ে নানাভাবে হয়রানি করেন।

 

 

 

 

এই মহাপ্রতারক মাহামুদুল হাসান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভুয়া সংস্কারক সেজে প্রতারণার জাল বিছিয়ে ছিলেন সারা দেশে। ক্ষমতার দম্ভে আইন, সমাজ ও পরিবারকে জিম্মি করা এ কাল্পনিক ‘ভিআইপি’ দুই যুগের বেশি সময় ধরে ছিলেন মুখোশের আড়ালে।

ছাত্রজীবনেই প্রতারণার হাতেখড়ি: কালবেলার অনুসন্ধানে জানা যায়, মাহামুদুল হাসানের প্রতারণার জাল বিছানো শুরু হয়েছিল তার ছাত্রজীবন থেকেই। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান এম এ আওয়াল সম্পর্কে মাহামুদুলের মায়ের মামা। এ সুবাদে ১৯৯৯ সালের ফল সেমিস্টারে বিবিএতে ভর্তি হন তিনি। কিন্তু পড়াশোনা না করে সেখানে শুরু করেন ভর্তি বাণিজ্য। এরপর এক প্রভাবশালী ব্যক্তির ছেলেকে নর্থ সাউথে ভর্তিতে সহায়তার সূত্রে তৎকালীন বিএনপি মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের পরিবারে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন। ওই পরিবারের সহায়তায় পাড়ি জমান লন্ডনে।

 

যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পরই তার জালিয়াতির পরিধি আন্তর্জাতিক রূপ নেয়। লন্ডনে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুয়া সনদ বিক্রি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেন। যার ফলে অসংখ্য শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ বিপন্ন হয়। একই সঙ্গে ‘ই-ফাইভ-কাউন্সিল’ নামে একটি নামসর্বস্ব সংগঠন খুলে নিজেকে সেটির চেয়ারম্যান দাবি করেন। দেশের মন্ত্রী, এমপি ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে ‘বিদেশি ডেলিগেট’ আনার লোভ দেখিয়ে শিডিউল চাইতেন। এ ছাড়া লন্ডনপ্রবাসী বাংলাদেশিদের জাতীয় নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করতেন। ২০০৯ সালের দিকে এ ভয়াবহ জালিয়াতি হাতেনাতে ধরা পড়ায় মাহামুদুলের ওপর যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন নিষেধাজ্ঞা বা ‘ব্যান’ জারি করা হয় বলে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

 

 

ভোল পাল্টে আওয়ামী লীগার ও শেখ হাসিনার ‘উপদেষ্টা’: ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর জালিয়াতির দায়ে যুক্তরাজ্য থেকে বিতাড়িত মাহামুদুল কিছুদিন গা ঢাকা দিয়ে থাকেন। তবে চতুর এই বাজিকর দ্রুতই নিজের রাজনৈতিক রং বদলে ফেলেন। একপর্যায়ে হয়ে ওঠেন কট্টর আওয়ামী লীগার। নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘উপদেষ্টা’ পরিচয় দিয়ে দেশে এক নতুন প্রতারণার জাল পাতেন।

 

 

 

প্রতারণাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে মাহামুদুল ‘প্রিমিয়াম পাস লিমিটেড’ ও ‘পিএপি ইন্টারন্যাশনাল’ নামে দুটি নামসর্বস্ব এনজিও খোলেন। এই ভুঁইফোঁড় সংগঠনের প্যাড ব্যবহার করে তিনি সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও বিদেশি প্রতিনিধিদের মেইল পাঠিয়ে বৈঠকের সময় (শিডিউল) বের করতেন। পরবর্তী সময়ে গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এবং বিভিন্ন স্থানে র্যাব মহাপরিচালকের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ভুয়া লোকেশন ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে নিজেকে একজন অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা ভিআইপি হিসেবে জাহির করতেন। ফেসবুক ও এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্টের এ সাজানো আভিজাত্যকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, মন্ত্রী এবং নর্থ সাউথ ও এআইইউবির মতো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ মহলের সঙ্গে লবিং করে বড় অঙ্কের অর্থবাণিজ্যের ফাঁদ পাততেন।

 

 

 

দেশে-বিদেশে সব প্রতারণায় মাহামুদুল ব্যবহার করেন তার স্ত্রীদের ঠিকানা। তিনি কখনো নিজের বাসায় থাকতেন না। থাকতেন শ্বশুরালয় বা অন্য স্ত্রীদের বাসায়। এ কারণে মাহামুদুল হাসানের প্রতারণার দায়ভার বর্তায় স্ত্রী ও তার পরিবারের ওপরে। অনুসন্ধানে স্ত্রীদের বিরুদ্ধে মাহামুদুলের দায়ের করা একাধিক মামলা এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার কপি এসেছে কালবেলার হাতে।

 

 

 

মাহামুদুল হাসানের ফেসবুক আইডি বিশ্লেষণ করে কালবেলা দেখতে পায়, ২০১৮ সালের ২৬ মার্চ মাহামুদুল হাসান নিজের ফেসবুকে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের লোকেশন অ্যাটাচ করে লিখেছেন ‘উইথ হার এক্সেলেন্সি শেখ হাসিনা, প্রাইম মিনিস্টার, গভর্নমেন্ট অব দ্য পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ।’ এর কিছুদিন আগে ১৫ মার্চ গণভবনের লোকেশন শেয়ার করে লিখেছেন ‘উইথ অনারেবল প্রাইম মিনিস্টার’। ২০২১ সালের ১৪ মার্চ লিখেছেন ‘মিটিং উইথ ডিরেক্টর জেনারেল র্যাব’ এবং ‘ফরমার হোম স্টেট মিনিস্টার অ্যাট বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্লামেন্ট’।

 

 

 

 

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের পর মাহামুদুল হাসানের আনাগোনা বাড়ে বিভিন্ন দূতাবাসে। এ সময় তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে ছবি তোলেন। এখনো মাহামুদুল সেসব ছবি ফেসবুক ও এক্স অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে তার প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

 

 

 

শ্বশুরবাড়ি গিয়ে গৃহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ: আদালতে খোঁজ নিয়ে মাহামুদুল হাসানের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি ধর্ষণ মামলা ও তার দায়ের করা আরও বেশকিছু মামলার তথ্য পায় কালবেলা। ধর্ষণ মামলার এজাহারে বলা হয়েছে—শ্বশুরবাড়ি গিয়ে গৃহকর্মীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ান মাহামুদুল। এ ঘটনায় তার বিকৃত যৌনাচার এবং নানা সময় প্রতারণার বিষয়টি জানতে পেরে ওই স্ত্রী তাকে তালাক দেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তিনি ছিলেন মাহামুদুলের দ্বিতীয় স্ত্রী।

 

 

 

ধর্ষণের ওই মামলার তদন্তে মাহামুদুলের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পায় মিরপুর থানা পুলিশ। পরে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেওয়া হয় আদালতে। যার অভিযোগপত্র নং-৩১৬, তারিখ: ২৭/৮/২০২০। মেডিকেল রিপোর্টেও গৃহপরিচারিকা ১৫ বছরের ওই কিশোরীর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার প্রমাণ মিলেছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বেশ কয়েক মাস জেলও খাটেন। পরে জামিনে বের হয়ে সাক্ষীদের নানাভাবে হুমকি দেন। সে সময় তিনি নিজেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা হিসেবে পরিচয় দেন। তার হুমকি-ধমকির কারণে সাক্ষীরা আদালতে সাক্ষ্য দিতে না যাওয়ায় বিচারক মাহামুদুলকে খালাস দেন। যদিও সে মামলায় পুলিশের কাছে ১৬১ ধারায় দেওয়া অন্তত চারটি জবানবন্দি সংগ্রহ করেছে কালবেলা।

 

 

 

ওই সাক্ষীদের একজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। তার নাম মো. নুর মোহাম্মদ। তিনি সম্পর্কে মাহামুদুল হাসানের সাবেক স্ত্রীর মামা। কালবেলাকে তিনি বলেন, ‘মাহামুদুল আমাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। আমার পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিল। আমার ভাগনিটা খুবই ভালো ছাত্রী ছিল। জীবনে কোনো পরীক্ষায় দ্বিতীয় হয়নি। ভাগনির ঘরে দুটি সন্তান রয়েছে। একটি ছেলে, একটি মেয়ে; তারা হাফেজ। আমার ভাগনি তার সন্তানদের কথা ভেবে আর দ্বিতীয় বিয়ে করেনি। ও (মাহামুদুল) আমার ভাগনির জীবনটা ধ্বংস করে দিল।’

 

 

 

মামলায় সাক্ষী দিতে কেন গেলেন না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওই সময় যাওয়ার সুযোগ কই! সে তখন শেখ হাসিনার লোক। জীবন না বাঁচলে বিচার দিয়া কী করমু!’

 

 

 

 

২০টি সংস্কার কমিশনে কাজ করার দাবি: মাহামুদুল তার অন্য এক স্ত্রীর বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকার একটি মানহানির মামলা দায়ের করেছেন আদালতে। সে মামলায় তিনি নিজেকে ভিআইপি প্রমাণ করতে দাবি করেছেন—তিনি দেশি-বিদেশি কয়েকডজন কোম্পানির সঙ্গে কাজ করছেন। সরকারে উচ্চপর্যায়ে এবং বিদেশি হাই অফিসিয়ালদের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। মামলার অভিযোগের এক জায়গায় লিখেছেন, ‘বাদী বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত ও মূল্যায়নাধীন একাধিক সংস্কার নির্দেশিকা প্রণয়ন ও দাখিলে অংশগ্রহণ করেছেন। ওই সংস্কারগুলো হলো—আন্তর্জাতিক ঋণ নীতিমালা (বৈদেশিক ঋণ ও এখতিয়ার) পুনর্বিবেচনা ও সংস্কার, পররাষ্ট্র প্রশাসনের সংস্কার, দীর্ঘমেয়াদি সরকারি রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংস্কার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংস্কার, নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কার, জনপ্রশাসনের সংস্কার, সংবিধানের সংস্কার, পুলিশ ব্যবস্থার সংস্কার, দুর্নীতি দমন কমিশনের সংস্কার, সাইবার প্রযুক্তির সংস্কার, ব্যবসায়িক প্রযুক্তির সংস্কার, বুদ্ধিমান পরিবহন ব্যবস্থার (ইনটেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্টেশন সিস্টেম) সংস্কার, বিচার বিভাগের সংস্কার, শিক্ষা খাতের সংস্কার, সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোর সংস্কার, তৃণমূল পর্যায় থেকে উৎপাদন ও বিতরণ নীতিমালার সংস্কার, দেশীয় ও প্রবাসী জনশক্তি ব্যবস্থাপনার সংস্কার, প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার-সংক্রান্ত আইনের সংস্কার, বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) অনুদান নীতিমালার সংস্কার এবং ব্যাংকিং, নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও পুঁজিবাজারের সংস্কার।’

 

 

 

মাহামুদুল হাসান এমন ২০টি সংস্কার কমিশনে কাজ করার দাবি করলেও বাস্তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছিল ১১টি। সেই ১১ কমিশনের সদস্যদের তালিকা খুঁজে কোনোটিতেই মাহামুদুল হাসানের নাম পাওয়া যায়নি। বিষয়টি আরও নিশ্চিত হতে যোগাযোগ করা হয় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলমের সঙ্গে। তিনি মাহামুদুল হাসানের সঙ্গে কাজ করার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি উনাকে চিনি না। পারসোনাল ক্যাপাসিটিতে বলতে পারি—আমি উনাকে চিনি না।’

 

 

 

বিবিএতে ভর্তি হলেও কোর্স শেষ করেননি: ১৯৯৯ সালে মাহামুদুল হাসান নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএতে ভর্তি হন। সেখানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভর্তি হলেও কোর্স শেষ করেননি তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত হতে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. আহমেদ তাজমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে কালবেলা। মাহামদুল হাসানের বাবা-মায়ের নাম, জন্ম তারিখ ও জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রার দপ্তরে তথ্য অধিকার আইনে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রেজিস্ট্রার আহমেদ তাজমিন স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে গত ৭ এপ্রিল কালবেলাকে দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, ‘এম মাহামুদুল হাসান ১৯৯৯ সালের ফল সেমিস্টার থেকে ২০০৩ সালের সামার সেমিস্টার পর্যন্ত নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। আমাদের নথি অনুযায়ী, তিনি এনএসইউ থেকে তার পড়াশোনা সম্পন্ন করেননি।’

 

 

 

 

সাবেক স্ত্রীর বয়ানে প্রতারণা-জালিয়াতি-নির্যাতনের রোমহর্ষক তথ্য: আরও বিস্তারিত জানতে কালবেলা খুঁজে বের করে মাহামুদুলের সাবেক স্ত্রীকে, যার সঙ্গে এক যুগ আগে বিচ্ছেদ হয়েছে। প্রথমে তিনি ভয়ে কথা বলতে চাননি। নিজের ও একমাত্র সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তিনি। কারণ দীর্ঘদিন ধরে তিনি ও তার পরিবার মাহামুদুলের একের পর এক ভুয়া মামলায় জর্জরিত।

 

 

 

অনেক চাপাচাপির পর তিনি বলতে শুরু করেন, মাহামুদুল তিন দিনের সরকারি সফরের কথা বলে হঠাৎ বিয়ে করেন। পরে জানা যায়, তিনি লন্ডনে ভুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট তৈরি ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত। এসব অভিযোগে তার ‘ইউকে ইমিগ্রেশন ব্যান’ হয়। পরে মাহামুদুল অন্য পাসপোর্ট ও ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে আবার বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করেন। তার এমন একের পর এক প্রতারণার প্রতিবাদ করলে মাহামুদুল তাকে শারীরিক নির্যাতন করেন। একদিন শারীরিক নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। তখনই জানতে পারেন তিনি অন্তঃসত্ত্বা। বিষয়টি স্বামীকে জানালে তিনি সন্তান নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেন। তখনই তার প্রকৃত চেহারা বেরিয়ে আসে। সিদ্ধান্ত নেন এ প্রতারকের সঙ্গে আর সংসার করবেন না। অনাগত সন্তানকে পৃথিবীতে এনে একাই তাকে লালন-পালন করবেন।

 

 

 

অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তালাক দেওয়া যায় না, সেই চিন্তা থেকে তখনো মাহামুদুলের সঙ্গে সংসার চালিয়ে যান ওই নারী। কিন্তু দিন দিন মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের মাত্রা বেড়েই চলছিল। ওই নারী বলেন, ‘মাহামুদুলের করা একের পর এক ভুয়া মামলায় আমি ও আমার পরিবার জর্জরিত। আত্মীয়স্বজন, এমনকি বৃদ্ধ মা-বাবার নামেও জঙ্গি মামলার অভিযোগ দেওয়া হয়। র্যাব বা পুলিশ বলত, এসব অভিযোগ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এসেছে। পরে থানায় গিয়ে প্রমাণ দিতে হতো মাহামুদুল আসলে একজন প্রতারক।’

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘সন্তান জন্মের পর মাহামুদুল ও তার পরিবার যৌতুকের জন্য আমার পরিবারকে চাপ দিতে থাকে। টাকা না পেয়ে আমার বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধে মামলা করে এবং টাকার জন্য অপহরণের চেষ্টাও করে। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ গণমাধ্যমগুলোকে বিভ্রান্ত করেছেন। আমার বাবার অফিসে গিয়ে তাকে দুর্নীতিবাজ বলে শাসাতেন। পুরো গর্ভাবস্থায় আমি একা ছিলাম। তার অত্যাচারে পরিবারও আমার ওপর বিরক্ত হয়ে পড়ে। শুধু অপেক্ষায় ছিলাম গর্ভের সন্তান কবে পৃথিবীতে আসবে। শেষে সন্তান জন্মের পরপরই আমি তাকে ডিভোর্স দিই।’

 

 

 

 

ওই নারী জানান, তার ছেলের বয়স এখন ১৬ বছর। এই ১৬ বছর একাই লড়াই করে সন্তানকে লালন-পালন করেছেন, ভালো স্কুলে পড়িয়েছেন এবং ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে সুস্থ পরিবেশে বড় করে তুলেছেন। প্রতিদিন তার একটাই চিন্তা ছিল—সন্তান ঠিকমতো খাচ্ছে কি না, নিরাপদ ও সুস্থ আছে কি না। সন্তানের জন্য তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলটাইম চাকরি ছেড়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পার্টটাইম ক্লাস নিয়েছেন অতিরিক্ত খরচ জোগাতে।

 

 

 

ওই নারী আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘৫ আগস্টের পর মাহামুদুল পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) থেকে আমার ঠিকানা ও সন্তানের পাসপোর্ট নম্বর সংগ্রহ করেন। কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে তাকে আবার আমাদের পেছনে লাগিয়ে দেন। মাহামুদুল সন্তানের মানসিক অবস্থার কথাও ভাবেননি এবং শুধুই হয়রানির উদ্দেশ্যে একের পর এক মামলা করে ছেলের ইমিগ্রেশন আটকে রেখেছেন। ফলে আমি ছেলেকে রেখে ওমরা, উচ্চশিক্ষা, চিকিৎসা বা ভ্রমণের জন্য বিদেশেও যেতে পারছি না।’

 

 

সাবেক এক সেনা কর্মকর্তার বর্ণনায় মাহামুদুল হাসান: এআইইউবিতে গেস্ট টিচার হিসেবে চাকরি করেছেন মাহামুদুল হাসান। সেখানে মাহামুদুল হাসানের ছাত্র ছিলেন— এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়েছে কালবেলার। তাদের একজন সাবেক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলাম। তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘২০১২-২০১৩ সালের দিকে আমি তখন মেজর পদবির একজন অফিসার হিসেবে ডিজিএফআইতে কর্মরত ছিলাম। একই সময়ে কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে আমি এআইইউবিতে এমবিএ প্রোগ্রামে ভর্তি হই। সেখানে এইচআর কোর্সের প্রথম ক্লাসে একজন ফ্যাকাল্টি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় মাহামুদুল হাসানের সঙ্গে। প্রথম দিন তিনি কোনো একাডেমিক ক্লাস না নিয়ে মূলত উচ্চারণ নিয়ে আলোচনা করেন এবং ইউকেতে থাকার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের পরিচয় ও পেশাগত ব্যাকগ্রাউন্ড নেন। তিনি ক্লাসে না পড়িয়ে নিজেকে শো-অফ করতেন। যেমন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তিনি সারা দিন কাজ করেন। তিনি এত ব্যস্ত যে সেনাপ্রধান, পুলিশ প্রধানসহ বিভিন্ন হাই অফিসিয়াল তার কাছে সহায়তা চান, কিন্তু তিনি যেতে পারেন না।’

 

 

সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘কয়েকদিন পর মাহামুদুল হাসান আমাকে ব্যক্তিগতভাবে তার অফিসে ডাকেন। সেখানে আলোচনার একপর্যায়ে তিনি আমার কাছে ডিজিএফআই মহাপরিচালকের সঙ্গে একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট করিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। কারণ জানতে চাইলে বলেন—একজনের কাছে তিনি ৫ লাখ টাকা পাবেন, ওই ব্যক্তি টাকাটা দিচ্ছেন না। পরে আমি তাকে বলি—এ বিষয়ের জন্য আপনি ডিজিএফআইয়ের ডিজির কাছে যাবেন! আপনি তো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বললেই পারেন। পুলিশ প্রধানের সঙ্গেও তো শুনেছি আপনার ভালো সম্পর্ক, তাকে বললেও পারেন। তখন তিনি বলেন, এত ছোট বিষয়ে তাদের বলা যায় না। আমার কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। একজন ফ্যাকাল্টি সদস্য হয়ে এমন অনুরোধ এবং তার আচরণ আমাকে অস্বস্তিতে ফেলে। ফলে আমি বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যাই।’

 

 

 

খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে জানতে পারি সেখানে আমার অন্য ক্লাসমেট ছিল এসএসএফে—তাকে অনুরোধ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শিডিউল নিয়ে দেওয়ার জন। আরও অন্য যারা সহপাঠী ছিল সবাইকে উনি বিভিন্ন জায়গায় লিংক-লবিং করিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাতে থাকেন। পরে আমার নিজেরা কথা বলে সিদ্ধান্ত নিই উনাকে আমরা কোথাও লিংক করিয়ে দেব না। এরপর উনি ক্লাসে আমাদের থ্রেড দিতে থাকেন যে— কোর্সে নম্বর কম দেবেন! পরে আমরা এআইইউবি কর্তৃপক্ষকে তার বিষয়ে বলি, কিন্তু তারা জানায়—উনার রেফারেন্স (উচ্চপর্যায় থেকে সুপারিশ) আছে। রেফারেন্সের জন্যই নেওয়া (চাকরিতে) হয়েছে।’

 

 

 

জামায়াত আমিরের উপদেষ্টার পদ পান যেভাবে: ৫ আগস্টের পর কিছুদিন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে লিংক-লবিং করার চেষ্টা করেন মাহামুদুল। এ সময় তিনি তার সঙ্গে থাকা পুরোনো ছবি ব্যবহার করেন। পরে বিষয়টি তার পূর্বপরিচিত এক সাংবাদিকের নজরে এলে তিনি বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে জানান। এরপর তার সেখানে ঢোকা বন্ধ হয়ে যায়। কোথাও জায়গা না পেয়ে সর্বশেষ আশ্রয় নেন জামায়াতে ইসলামীতে। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের অনেক উপদেষ্টার সঙ্গে জামায়াতের সুসম্পর্ক রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি যাতে আবারও প্রতারণা চালিয়ে যেতে পারেন, সেজন্য জামায়াতকে সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করেন। সুচতুর মাহামুদুল একপর্যায়ে গত বছরের ডিসেম্বরে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ বাগিয়ে নেন। কিন্তু জামায়াত আমিরের অনুমতি না নিয়ে নিজেকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করে দলীয় প্যাডে চিঠি পাঠান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে জামায়াত আমিরের উপদেষ্টার পদসহ জামায়াত ইসলামী থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

 

 

 

জামায়াতে ইসলামীর বক্তব্য: জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের কালবেলাকে বলেন, ‘২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২৬-এর জানুয়ারি পর্যন্ত উনি (মাহামুদুল হাসান) আমাদের সঙ্গে কাজ করেছেন। উনার সঙ্গে আমাদের রাজনৈতিক কোনো সম্পর্ক নেই। ২৪-পরবর্তী সময়ে আমাদের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস থেকে যোগাযোগ শুরু হয়। তখন যোগাযোগ রক্ষার্থে হাইকমিশন বা দূতাবাসে যে চিঠি দেওয়া লাগে, সেজন্য তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। উনার একটা ফার্ম আছে, উনি এসব কাজ করেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে উনাকে আমিরে জামায়াতের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।’

 

 

 

অভিযোগের বিষয়ে কালবেলাকে কোনো সাড়া দেননি মাহামুদুল: অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাহামুদুল হাসানের সঙ্গে সব ধরনের মাধ্যমে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে পরিচয় দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে বিস্তারিত বার্তা পাঠানো হয়। তারও কোনো জবাব দেননি তিনি। তবে একবার মোবাইল ফোন রিসিভ করে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর আর কোনো কথা বলেননি। প্রায় ৪৪ সেকেন্ড ফোন লাইনে নীরব থাকার পর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

 

 

 

পরবর্তী সময়ে তার ওয়েবসাইটে উল্লেখ থাকা তিনটি টিঅ্যান্ডটি নম্বরে যোগাযোগ করা হয়। এর মধ্যে একটি নম্বরে ফোন রিসিভ করা হলেও ওপাশ থেকে কোনো কথা বলা হয়নি। একই নম্বরে তিনবার ফোন দিলে দুইবার রিসিভ করা হয়—একবার ১২ সেকেন্ড এবং আরেকবার ৪১ সেকেন্ড সংযোগ চালু থাকলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। এ সময় ফোনের এপাশ থেকে বারবার পরিচয় দিয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। নম্বরটির ট্রুকলার তথ্যেও তার নাম প্রদর্শিত হয়।

 

 

 

সবশেষে তার বক্তব্য জানার জন্য হোয়াটসঅ্যাপে সুনির্দিষ্ট ১২টি প্রশ্ন পাঠানো হয়। বার্তাগুলো ডেলিভার হলেও তিনি কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি এবং এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো সাড়া দেননি।

 

 

সুত্র: দৈনিক কালবেলা

 

 

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকপণ্যে কার্যকর কর আরোপের আহ্বান পানিসম্পদ মন্ত্রীর

 

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যের কার্যকরভাবে করারোপ করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

 

 

 

বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী তামাক ব্যবহারজনিত অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকার বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, তামাকপণ্যের কর ও মূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি সুস্থ, নিরাপদ ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে জাতীয় সংসদসহ সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিষটি তুলে ধরার হবে।

 

 

 

বুধবার (২০ মে) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ঢাকা আহছানিয়া মিশন আয়োজিত ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক ব্যবহারজনিত অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকরভাবে তামাক পণ্যের কর ও মূল্য বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান এবং স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি।

 

 

সেমিনারে মূল প্রবন্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইন্সটিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে চার স্তরের সিগারেট বিদ্যমান; এর মধ্যে বাজারে বিক্রিত সিগারেটের প্রায় ৯০ শতাংশই নিম্ন ও মধ্যম স্তরের, যা সহজলভ্য হওয়ায় তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষকে দ্রুত আসক্ত করে তুলছে। কারণ নিম্ন এবং মধ্যম স্তরের সিগারেটের দাম কাছাকাছি হওয়ায় ভোক্তা যে কোন একটি স্তরের সিগারেট বেছে নেয়ার সুযোগ পায়। পাশাপাশি জর্দা, গুল ও বিড়ি সহজলভ্য হওয়ায় তামাক ব্যবহার আরও বাড়ছে।

 

 

 

তাই আসন্ন অর্থবছরে তামাকপণ্যে কার্যকর করারোপের মাধ্যমে দাম বৃদ্ধি করে নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একত্র করে প্রতি ১০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেটের সর্বনিম্ন দাম ১০০ টাকা, উচ্চ স্তরে ১৫০ টাকা, ও অতি উচ্চ স্তরে ২০০ টাকা নির্ধারণ এবং সকল স্তরে ৬৭% সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করতে হবে।

 

 

 

তামাকপণ্যে প্রস্তাবিত এই কর ও মূল্য প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা গেলে ৩ লক্ষ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ১ লক্ষ ৮৫ হাজারের বেশি তরুণ জনগোষ্ঠীর অকালমৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে। এবং তামাক খাত থেকে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় সম্ভব হবে, যা বর্তমান অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বেশি।

শেখ মোমেনা মনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি (৩৫.৩ শতাংশ)। ফলে তামাকজনিত রোগে দেশে প্রতিবছর প্রায় ২ লক্ষ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে। ২০২৪ সালে তামাকের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা এই খাত থেকে প্রাপ্ত রাজস্বের দ্বিগুণেরও বেশি।

আসন্ন বাজেটে তামাকজাত দ্রব্যে কর ও মূল্য বৃদ্ধি করে সে লক্ষ্যে আরও এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। প্রস্তাবিত তামাক কর বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্জিত রাজস্ব আয় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত শক্তিশালীকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। মূল্যস্ফীতি ও আয় বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে তামাকপণ্যে কার্যকর করারোপের মাধ্যমে সরকার একদিকে, তামাকজনিত রোগের বোঝা কমাতে এবং অন্যদিকে, স্বাস্থ্য খাত সংস্কারে টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।

ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সভাপতি প্রফেসর ড. গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, স্বাস্থ্য সেক্টরের উপ-পরিচালক মোখলেছুর রহমান। আরও বক্তব্য রাখেন মিশনের ভাইস সহ-সভাপতি এস এম ড. খলিলুর রহমান, তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর শরিফুল ইসলাম, আহছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরামের কো-অর্ডিনেটর মারজানা মুনতাহা ও তাসনিম হাসান আবির।

 

 

পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজের কাজ করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের উত্তর অঞ্চল, দক্ষিণ অঞ্চলে বিশেষ করে রাজশাহীতে পদ্মা নদীতে পদ্মা ব্যারেজ তৈরি করব। সীমান্তের ওপারে ব্যারেজ তৈরি করে বিভিন্নভাবে পানি সরিয়ে নিচ্ছে কিন্তু খরা মৌসুমে আমরা পানি কম পাচ্ছি। এই ব্যারেজটি এই জন্য করতে চাচ্ছি, যাতে বর্ষায় বলুন বা খরা মৌসুম বলুন, আমাদের দেশের মানুষ বা কৃষক যেন ঠিক সময়ে পানি পায়।

 

 

 

বুধবার (২০ মে) দুপুরে গাজীপুরে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

 

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করেছি, আমরা খাল খনন কর্মসূচি শুরু করবো। আমরা সরকার গঠন করেছি আলহামদুলিল্লাহ এবং আমরা আমাদের সেই খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছি। এই খাল খনন কর্মসূচির সাথে মানুষের জীবন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই খাল খননের সাথে কৃষি জড়িত। তাই যেভাবেই হোক আমাদের খাল খনন কর্মসূচি শুরু করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারে সমুদ্রের তীর ধরে একটি রাস্তা নির্মাণ হচ্ছে। সেখানে দেখলাম ৩ শতাধিক গাছ কেটে ফেলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালাম। যাতে ডিজাইনটা পরিবর্তন করা হয়। গাছ যাতে রক্ষা পায়।’

 

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুপুর ২টায় গাজীপুরের টঙ্গী সাতাইশ এলাকায় নবনির্মিত জাতীয় দুর্যোগ ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধন করেন। পরে তিনি তালগাছ রোপণ ও একটি পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।

সুত্র: কালবেলা

 

 

তাড়াশে কোরবানির ঈদে গরু-ছাগল চুরি প্রতিরোধে গ্রামে গ্রামে পাহারা

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু-ছাগল চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় সিরাজগঞ্জের তাড়াশে নিজেদের সম্পদ রক্ষায় মাঠে নেমেছেন গ্রামবাসী। পুলিশের পাশাপাশি বাসিন্দাদের সমন্বয়ে গ্রামে গ্রামে রাতজাগা পাহার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের সাকোদিঘি, বিনোদপুর, খালকুলা, নওগাঁ বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় রাতে দলবদ্ধভাবে পাহারা দিচ্ছেন গ্রামবাসী। এতে সহযোগিতা করছে পুলিশ। গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয়দের নিয়ে গঠিত দল বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে শতাধিক অস্থায়ী বাঁশের চেকপোস্ট বসিয়েছে। সন্দেহজনক যানবাহন ও ব্যক্তিদের সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তাড়াশ উপজেলায় কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গরু-ছাগল চুরি ঠেকাতে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে টহল জোরদার করা হয়েছে। থানা পুলিশ ও স্থানীয় গ্রাম পুলিশের সমন্বয়ে ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ৯টি টিম গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি টিমে ৩ থেকে ৮ জন সদস্য রয়েছেন। তারা জনপদ ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রাতদিন পালা করে টহল দিচ্ছেন।
পাশাপাশি সন্দেহজনক যানবাহন ও ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি খামারিদের পশু নিরাপদে রাখার বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণাও চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাবিবুর রহমান বলেন, বিগত বছরগুলোতে কোরবানির আগে বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু-ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। তাই সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবার পুলিশের পাশাপাশি গ্রামবাসীর সমন্বয়ে পাহার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশের টহল ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
গ্রামবাসীর এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, পুলিশ-জনতার যৌথ উদ্যোগে এবার কোরবানির পশু নিরাপদ থাকবে বলে আশা করছি।

আগৈলঝাড়ায় শিশু সুরক্ষা ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ‘শিখা প্রকল্প’র অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিশু সুরক্ষা এবং যৌন হয়রানি প্রতিরোধ বিষয়ক কর্মসূচির উপজেলা পর্যায়ে ব্র্যাক সোশ্যাল কমপ্লায়েন্সের অধীনে ‘শিখা প্রকল্প’র অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ব্র্যাক সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স কর্মসূচির আওতায় এই অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, কার্যকর প্রতিকার ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়ন।

 

 

 

বুধবার (২০ মে) বিকেলে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বনিক।

 

 

 

এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, আগৈলঝাড়া থানার ওসি (তদন্ত) সুশংকর মল্লিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা তপন বিশ্বাস, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, ভেগাই হালদার পাবলিক একাডেমীর প্রধান শিক্ষক যতিন্দ্রনাথ মিস্ত্রী, রাংতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান, শিখা প্রকল্পের প্রোজেক্ট অফিসার অনিক বিশ্বাস, উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, অভিভাবক, ইয়ুথ ক্লাবের সদস্যরা, কমিউনিটি ভলান্টিয়ারসহ ব্র্যাক ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ। ।

 

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে ব্র্যাক বরিশাল জেলার টেকনিক্যাল ম্যানেজার মো. তৌহিদুর রহমান শুভেচ্ছা বক্তব্যে প্রকল্পের উদ্দেশ্য, কার্যপরিধি এবং উপজেলা পর্যায়ে কর্মসূচির লক্ষ্য তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক বলেন, ব্র্যাক সোশ্যাল কমপ্লায়েন্সের এই সময়োপযোগী উদ্যোগ, বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম, বাংলাদেশে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা ও যৌন হয়রানি হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান বলেন, যৌন হয়রানি একটি ভয়াবহ অপরাধ, যার প্রভাব একজন ভুক্তভোগীর পুরো জীবনজুড়ে থেকে যায়। এটি শিশু ও নারীদের মানসিক বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ জীবনকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কর্মক্ষেত্র পর্যন্ত সর্বত্র নারীদের নিরাপদ ও সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

 

 

আগৈলঝাড়া থানার ওসি (তদন্ত) সুশংকর মল্লিক বলেন, যৌন হয়রানির মতো অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। যেকোনো অভিযোগ আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করি এবং দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করি। সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে ভুক্তভোগীরা নির্ভয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন।

 

 

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তপন বিশ্বাস বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলার স্থান। ‘শিখা প্রকল্প’ এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ায় ধন্যবাদ জানাই।

 

 

 

রাংতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগীরা যেন নির্ভয়ে অভিযোগ জানাতে পারে, শিখা প্রকল্প’ যেন এমন সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি তাদের মানসিক ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্ব।

 

 

 

ব্র্যাক বরিশাল জেলার টেকনিক্যাল ম্যানেজার মো. তৌহিদুর রহমান বলেন, শিখা প্রকল্প মূলত উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পাবলিক স্পেস এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কাজ করবে। জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা মোকাবিলা এবং নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সামাজিক সচেতনতা ও জনসম্পৃক্ততা অত্যন্ত জরুরি। এধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক আচরণগত পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে।

 

 

 

আয়োজিত এ সভায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা, যৌন হয়রানি, বাল্য বিবাহ, বুলিং ও র‌্যাগিং প্রতিরোধ জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে কর্মপরিকল্পনা করা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

 

 

গজারিয়ায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬ উদ্বোধন

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার গজারিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কম্পাউন্ডে এ অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।

“অগ্নিযোদ্ধাদের একটাই পণ, নিরাপদ রাখবো সম্পদ ও জীবন”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ কামরুজ্জামান রতন। তিনি অনুষ্ঠানের আগে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ও এর বিভিন্ন সরঞ্জাম পরিদর্শন করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গজারিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার মোঃ ফিরোজ মিয়া।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসান এবং গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাসান আলী

আলোচনা সভা শেষে একটি শোভাযাত্রার মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, গণমাধ্যমকর্মী, গজারিয়া থানা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

রাণীনগরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার-৭

 

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে চুরি, মাদক ও আদালতের পরোয়ানাভুক্ত মামলায় মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছেন দোকান ও গরু চুরির ঘটনায় সন্দেহভাজন দুইজন, নিষিদ্ধ ট্যাপেন্টাডলসহ দুইজন এবং আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত তিনজন।

চুরির ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে কালীগ্রাম এলাকার শরিফুল ইসলাম এবং গরু চুরির মামলায় পূর্ব বালুভরা গ্রামের এনামুল হককে আটক করা হয়। এছাড়া পারইল গ্রামের শফিকুল ইসলাম ও ভবানীপুর গ্রামের জহুরুল ইসলামকে ৪৫ পিস নিষিদ্ধ ট্যাপেন্টাডলসহ গ্রেফতার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, আদালতের পরোয়ানার ভিত্তিতে চকবলরাম গ্রামের আজাহার আলী ও তার স্ত্রী রহিমা বিবি এবং পশ্চিম বালুভরা গ্রামের লিটনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

রাণীনগর থানা-র ওসি মো. জাকারিয়া মন্ডল জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার গ্রেফতার ৭ জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

‎হোসেনপুরে সিদলা ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন

‎পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নে দুস্থ ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ভিজিএফ (VGF) চাল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
‎বুধবার (২০ মে)  সকালে সিদলা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
‎এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ফরিদ আহমেদ,ইউপি সচিব মো. আবু বকর সিদ্দিক, বিএনপি নেতা বিল্লাল হোসেন, ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মমিন মিয়াসহ ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
‎এ সময় দুস্থ ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে সরকারি বরাদ্দের ১০ কেজি করে ভিজিএফ চাল বিতরণ শুরু করা হয়।
‎সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঈদকে সামনে রেখে এ ইউনিয়নের ৬৩৪৭  টি  নিম্নআয়ের ও অসচ্ছল পরিবারের খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিতরণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

হিলিতে ঈদ উপলক্ষে ৩ হাজার ৮৫ পরিবারে বিনামূল্যে চাল বিতরণ

আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে দিনাজপুরের হাকিমপুর পৌরসভায় অতিদরিদ্র, অসহায়, দুঃস্থ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে বিনামূল্যে ১০ কেজি হারে ভিজিএফ-এর চাল বিতরণ করা হয়েছে।
আজ বুধবার ২০ মে সকাল থেকে হাকিমপুর পৌরসভা চত্বরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এই চাল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এর অধীনে হাকিমপুর পৌরসভায় ৩,০৮৫টি অতিদরিদ্র ও দুস্থ পরিবারের মাঝে মাথাপিছু ১০ (দশ) কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে।
​হাকিমপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, আসন্ন ঈদে যেন কোনো দরিদ্র পরিবার খাদ্যকষ্টে না ভোগে, সেই লক্ষ্যে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই চাল বিতরণ করা হচ্ছে। চাল নিতে আসা সাধারণ মানুষ সরকারের এই মানবিক সহায়তায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং এতে তাদের ঈদের আনন্দ আরও সার্থক হবে বলে জানিয়েছেন।
চাল নিতে আসা মোছাঃ ছকিনা বেওয়া বলেন, প্রতিবছর এই সময়ে সরকারের কাছ থেকে আমরা ১০ কেজি চাল পাই এবং পেয়ে অনেক খুশি হই। আমরা গরিব মানুষ, দিন এনে দিন খাই। এই চাল আমাদের ঈদে অনেক উপকারে আসবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাকিমপুর পৌরসভা, উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে কর্মকর্তারা বলেন, বর্তমান সরকার সবসময় অসহায় ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে আছে। পবিত্র ঈদ-উল-আযহার আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতেই সরকারের এই মানবিক উদ্যোগ।

ঈদকে ঘিরে রায়গঞ্জে ঠুং-ঠাং শব্দে মুখর কামারপল্লী ,বেড়েছে বাড়তি ব্যস্ততা

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার কামারপল্লীগুলোতে এখন চলছে বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের জন্য প্রয়োজনীয় দা, ছুরি, চাপাতি ও বঁটির বাড়তি চাহিদায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিরামহীন কাজ করছেন কামারশিল্পীরা।
কামারশালার ছোট ছোট চুল্লিতে জ্বলছে কয়লার আগুন, হাপরের বাতাসে লাল হয়ে ওঠা লোহা দক্ষ হাতুড়ির আঘাতে রূপ নিচ্ছে ধারালো দা, ছুরি ও বঁটিতে। চারদিকে ঠুং-ঠাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে উপজেলার বিভিন্ন কামারপল্লী।
সরেজমিনে উপজেলার নিমগাছী, চান্দাইকোনা ও বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পুরোনো দা-ছুরি শান দেওয়া এবং নতুন সরঞ্জাম তৈরির ধুম পড়েছে। অনেকেই আগে থেকেই ব্যবহৃত সরঞ্জাম ধার করাতে নিয়ে আসছেন। দোকানের সামনে সারি সারি সাজিয়ে রাখা হয়েছে নানা আকারের দা, ছুরি, চাপাতি ও বঁটি।
কারিগররা জানান, মান ও আকারভেদে ছুরি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায়, দা ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকায় এবং বঁটি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। পশু জবাইয়ের বিশেষ ছুরির দাম রাখা হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। অনেক কারিগর কাস্টম অর্ডারেও সরঞ্জাম তৈরি করছেন।
নিমগাছী বাজারের কামারশিল্পী শ্রী সাধন কর্মকার বলেন,“ঈদের আগে কাজের চাপ অনেক বেড়ে গেছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করেও সব অর্ডার সময়মতো দিতে কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু কয়লা ও লোহার দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভ খুব বেশি থাকে না।”
কারিগর গনেশ কর্মকার বলেন,
“সারাদিন আগুনের পাশে বসে কাজ করতে হয়। পরিশ্রমের তুলনায় আয় কম। সরকারি সহায়তার অভাবে অনেকেই পৈত্রিক এই পেশা ছেড়ে অন্য কাজে চলে যাচ্ছেন।”
আরেক কারিগর প্রানেশ কর্মকারের ভাষায়,“আমাদের পূর্বপুরুষরাও এই পেশায় ছিলেন। আমরাও ধরে রেখেছি। কিন্তু এখনকার তরুণদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। কারণ কষ্ট বেশি, আয় তুলনামূলক কম।”
কারিগরদের দাবি, লোহার পাত, কয়লা, কাঠের হাতলসহ বিভিন্ন কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। এতে লাভের পরিমাণ কমে গেছে।
চান্দাইকোনা হাটে দা-ছুরি কিনতে আসা জহুরুল ইসলাম বলেন,“কোরবানির ঈদ সামনে, তাই প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে এসেছি। তবে আগের তুলনায় দা-ছুরির দাম অনেক বেশি।”
অপর ক্রেতা মজিদ হোসেন বলেন,
“ঈদ উপলক্ষে দা, চাপাতি ও ছুরির দাম বাড়ানো হয়েছে। আবার পুরোনো ছুরি শান দিতেও ৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।”
রায়গঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য কামার পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ঐতিহ্যবাহী এই লোহাশিল্প টিকিয়ে রেখেছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, প্রশিক্ষণ ও স্বল্পসুদের ঋণের ব্যবস্থা করা হলে এ শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
আসন্ন কোরবানির ঈদ যেমন কামারদের ব্যস্ততা বাড়িয়েছে, তেমনি তাদের মুখে এনে দিয়েছে সাময়িক স্বস্তির হাসি। তবে এই হাসিকে দীর্ঘস্থায়ী করতে প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা।

পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে শিশু হত্যা: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

নরসিংদীর পলাশে পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে রামিম নামে এক ৯ বছরের শিশু হত্যা মামলার প্রধান আসামী সবুজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার (২০ মে) ভোরে জেলা শহরের আরশীনগর ও রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

 

গ্রেপ্তারকৃত সবুজ মিয়া (২৭) গজারিয়া ইউনিয়নের চরকারারদী গ্রামের লোকমান হোসেনের ছেলে।

 

 

পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত সবুজ হত্যা মামলার পর থেকে পলাতক ছিল। গোপনে অন্যস্থানে পালিয়ে যাওয়ার সময় তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

 

পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন জানান, গ্রেপ্তারকৃত সবুজকে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামীদেরও গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ।

 

 

 

এর আগে, গত ৬ মে পলাশের গজারিয়া বাজারে রামিম নামে ৯ বছরের এক শিশুকে জোরপূর্বক একটি রিকশার গ্যারেজে নিয়ে হাওয়ার মেশিন দিয়ে তার পায়ুপথ ও মুখে বাতাস ঢুকায় অভিযুক্ত সবুজ, ফয়সাল, শিশির ও বাবু নামে চার যুবক। পরে শিশুটি গুরত্বর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে তার মৃত্যু হয়।

 

 

এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা রিপন মিয়া বাদী হয়ে অভিযুক্ত চার যুবকের নামে পলাশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এদিকে শিশুটিকে হত্যার পর থেকে পলাতক ছিল অভিযুক্তরা।

 

 

রায়গঞ্জে কোরবানির জন্য প্রস্তুত প্রায় ৭১ হাজার পশু, বাড়তি ৪৪ হাজার যাবে দেশের বিভিন্ন জেলায়

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা-এ প্রস্তুত রাখা হয়েছে প্রায় ৭১ হাজার কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু। দিনরাত পরিশ্রম করে লাভের আশায় দেশীয় পদ্ধতিতে ষাঁড় মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা।
উপজেলার বিভিন্ন বিল ও নদীকূল এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে ঘাস উৎপাদন বেশি হওয়ায় এখানে গরু-ছাগল পালন তুলনামূলক সহজ ও কম ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে প্রতি বছরই স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিপুল সংখ্যক কোরবানির পশু সরবরাহ করা হয়।
তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর গো-খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়েছে। এতে কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন খামারিরা। তারপরও ভালো দামের আশায় পশু লালন-পালনে কোনো কমতি রাখছেন না তারা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ঈদুল আজহায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত গবাদিপশুর মধ্যে রয়েছে ১৮ হাজার ৫৪৬টি ষাঁড়-বলদ, ৭৯৮টি মহিষ, ৪২ হাজার ৬২৮টি ছাগল এবং ৯ হাজার ১০০টি ভেড়া। সব মিলিয়ে প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ৭১ হাজার ৭২টি পশু।
তিনি আরও জানান, উপজেলায় কোরবানির চাহিদা রয়েছে প্রায় ২৬ হাজার ৩২৮টি পশু। চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত ৪৪ হাজার ৭৪৮টি পশু দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে।
তিনি বলেন, বিল ও নদীকূল এলাকায় প্রচুর প্রাকৃতিক ঘাস থাকায় রায়গঞ্জে স্বাস্থ্যসম্মত ও দেশীয় পদ্ধতিতে পশু পালন করা হয়। এ কারণে এ অঞ্চলের কোরবানির পশুর চাহিদা অন্যান্য উপজেলার তুলনায় বেশি।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে স্পষ্ট অবস্থান প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে এবং এ বিষয়ে কোনো বিভ্রান্তি ছড়ানোর সুযোগ নেই।

 

 

তিনি বলেন, জুলাই সনদের সঙ্গে বিএনপি যুক্ত ছিল এবং দলটি সনদে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করবে। তবে জুলাই আদেশ নিয়ে বিএনপির কিছু মতপার্থক্য রয়েছে, যা নির্বাচনের আগেই দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।

 

 

 

বুধবার (২০ মে) রাজধানীর সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের বার্ষিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা-২০২৬ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। ওই শিক্ষার্থীদের স্মরণে কলেজের সামনে বা মূল সড়কে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে। জুলাইয়ের স্মৃতি ও আন্দোলনের কারণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, কলেজটি একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেও বিগত ১৭ বছরে অবহেলার শিকার হয়েছে। তিনি কলেজ ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা তুলে ধরে বলেন, কোথাও ফাটল বা ক্ষতি হওয়ায় অস্থায়ী পিলার বসাতে হয়েছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করেছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট, শ্রেণিকক্ষের ঘাটতি ও আধুনিক বিজ্ঞানাগারের অভাবের বিষয়টি আমার জানা আছে। এ সমস্যাগুলো সমাধানে শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে কলেজ পরিদর্শনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি নতুন উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।

 

 

কলেজের আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা নিশ্চিত করতে জ্ঞান ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে কলেজটিকে আরও উন্নত করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

 

এ সময় তিনি ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকার পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিগত সাড়ে ১৫ বছরের ‘জঞ্জাল’ একদিনে দূর করা সম্ভব নয়। ধাপে ধাপে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাদক, কিশোর গ্যাং ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 

ইশরাক বলেন, যেকোনো অপকর্ম প্রতিরোধে ছাত্রসংগঠনগুলোকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রয়োজনে তাদেরও জবাবদিহির মধ্যে আনা হবে।

 

 

অনুষ্ঠানে কলেজের জন্য একটি প্রজেক্টর দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। এ বিষয়ে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্যের সঙ্গে যৌথভাবে অর্থায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান।

কলেজের শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাজেটসহ মূল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে লিখিতভাবে তুলে ধরতে। ঈদের ছুটির পর শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে কলেজসহ আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সরকার গঠনের ৯২ দিনের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় উল্লেখ করে ইশরাক হোসেন বলেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সে কারণে অনেক উদ্যোগ বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা দিচ্ছে।

 

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডক্টর খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কাকলী মুখোপাধ্যায়, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ফরিদা ইয়াসমিন, অফিসার্স কাউন্সিলের সম্পাদক, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অনন্যা সংগঠনের নেতৃত্ববৃন্দরা।

 

 

রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা, ১৯ দিনেই এলো ২৪৮ কোটি ডলার

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি মে মাসের প্রথম ১৯ দিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৪৮ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

 

 

বুধবার (২০ মে) এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

 

 

তিনি জানান, মে মাসের প্রথম ১৯ দিনে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১৩ কোটি ৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১৭৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে বড় ধরনের বৃদ্ধি পেয়েছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৯ মে পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ১৮১ কোটি ৬০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ৩৮ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদুল আজহাকে ঘিরে প্রবাসীরা দেশে থাকা পরিবার-স্বজনদের জন্য বাড়তি অর্থ পাঠাচ্ছেন। এর ফলে রেমিট্যান্সের প্রবাহ আরও শক্তিশালী হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসে দেশে আসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রাপ্তির রেকর্ড। এপ্রিল মাসে আসে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার।

 

 

হামের টিকা সংকট নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ৫ চিঠি পাঠিয়েছিল ইউনিসেফ

দেশে হামের টিকা সংকট নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে একাধিকবার সতর্ক করেছিল জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। সংস্থাটির বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স জানিয়েছেন, ২০২৪ সাল থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তত পাঁচ থেকে ৬টি চিঠি পাঠানো হয়েছিল এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে অন্তত ১০ বার বৈঠকও করা হয়।

 

 

 

বুধবার (২০ মে) এক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স এ তথ্য জানান।

 

 

 

কোনো মহামারি হঠাৎ করে তৈরি হয় না উল্লেখ করে রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, কিছু বিশেষ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ রকম পরিস্থিতি দেখা দেয়। বিশেষ করে, টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য রোগের ক্ষেত্রে।

টিকা সংকটের বিষয়ে আগাম সতর্ক করেছেন বলেও দাবি করেন বাংলাদেশের ইউনিসেফ প্রধান। তিনি বলেন, একেবারে সুনির্দিষ্ট দিন-তারিখের তথ্য এখন জানা নেই। তবে তদন্তে বিষয়টি নিশ্চিত হবে।

‘২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৫-৬টি চিঠি পাঠিয়েছি, যার মধ্যে শেষ চিঠিটি নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক আগে পৌঁছেছিল। আমরা আশা করেছিলাম যিনি নতুন করে এ দায়িত্ব পাবেন তার ডেস্কে চিঠিটি থাকবে,’ যোগ করেন ফ্লাওয়ার্স।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর টিকা ক্রয় প্রক্রিয়ায় বিলম্বের অন্যতম কারণ ছিল উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা কেনার বিষয়ে মন্ত্রিসভার একটি সিদ্ধান্ত। গত বছর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।

 

 

 

রানা ফ্লাওয়ার্স জানান, টিকা কেনা সাধারণ ওষুধ কেনার মতো নয়। এটি অত্যন্ত বিশেষায়িত একটি প্রক্রিয়া। এখানে শুধু কম দামের বিষয়টি বিবেচ্য নয়, বরং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত নিরাপদ ও কার্যকর টিকা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

 

 

 

এছাড়া উন্মুক্ত টেন্ডার পদ্ধতিতে টিকা সংগ্রহ করতে এক বছরের মতো সময় লেগে যায়। ইউনিসেফের মাধ্যমে দ্রুত টিকা সংগ্রহ করা যায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 

 

 

ইউনিসেফ ২০২৪ সালেই টিকার সংকটের পূর্বাভাস ও পরবর্তী দুই বছরে বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছিল বলে জানান তিনি। রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, তাই আমরা আগেভাগেই সতর্ক করছিলাম এবং ক্রমাগত মনে করিয়ে দিচ্ছিলাম যে তারা সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে। এটা স্পষ্ট ছিল, দেশে টিকা আনতে না পারলে সমস্যা তৈরি হবে।

 

 

 

তবে এখন কাউকে দোষারোপ করার কিছু নেই বলে মনে করেন তিনি। বাংলাদেশের ইউনিসেফ প্রধান বলেন, এখন এমনভাবে টিকাদান প্রক্রিয়া কাজ করাতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এই দেশের কোনো শিশু প্রতিরোধযোগ্য রোগে আর মারা না যায়।

 

 

 

এছাড়া দেশে এখন ১ কোটি ৮০ লাখের বেশি শিশু হামের টিকা পেয়েছে বলেও জানান ইউনিসেফের এ প্রতিনিধি।

 

গোপনে নারী ফুটবলারদের ভিডিও ধারণের অভিযোগে কোচ আজীবনের জন্য বহিষ্কার

গোপনে নারী ফুটবলারদের ভিডিও ধারণ করার অভিযোগ উঠেছিল চেক প্রজাতন্ত্র জাতীয় দলের কোচ পিটার ভ্লাচোভস্কির বিরুদ্ধে। যে কারণে তাকে ফুটবল-সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম থেকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা উয়েফা। চেক গণমাধ্যম বলছে, ২০২৫ সালের মে মাসে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন।

 

 

এর আগে এফসি স্লোভাচকো ক্লাবের নারী ফুটবলারদের ড্রেসিংরুমে গোপনে ভিডিও ধারণের দায়ে পিটারকে এক বছরের স্থগিত কারাদণ্ড এবং দেশীয় পর্যায়ে পাঁচ বছরের কোচিং নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। যেসব খেলোয়াড়ের ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী ছিলেন ১৭ বছর বয়সী এক ফুটবলার। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত কোচ অপরাধ স্বীকার করে অনুশোচনা প্রকাশ করেন বলে চেক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

 

 

নতুন করে তাকে শাস্তি দেওয়ার বিষয়ে এক বিবৃতিতে উয়েফার কন্ট্রোল, এথিকস অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারি বডি (সিইডিবি) জানিয়েছে, ‘সম্ভাব্য অসদাচরণের অভিযোগ তদন্তে একজন এথিকস ও ডিসিপ্লিনারি ইন্সপেক্টর নিয়োগের পর ভ্লাখোভস্কিকে আজীবনের জন্য ফুটবল-সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিইডিবি ফিফার কাছে এই নিষেধাজ্ঞা বিশ্বব্যাপী কার্যকর করার অনুরোধ এবং চেক প্রজাতন্ত্রের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে পিটার ভ্লাখোভস্কির কোচিং লাইসেন্স বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছে।’

চেক প্রজাতন্ত্র জাতীয় নারী দলের কোচ হওয়ার আগে ভ্লাখোভস্কি নারী অনূর্ধ্ব-১৯ দলেরও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এফসি স্লোভাচকোর এক মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেন, ‘এটি অত্যন্ত গুরুতর এবং উদ্বেগজনক একটি ঘটনা। ২০২৩ সালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং এটি আমাদের ক্লাবের ওপর, বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত খেলোয়াড়দের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।’

 

২১ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে বিদ্যুতের দাম

পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এতে বর্তমান দরের তুলনায় প্রায় ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে।

 

 

 

বুধবার (২০ মে) রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আয়োজিত গণশুনানিতে এই প্রস্তাব উপস্থাপন করে পিডিবি।

 

 

 

শুনানিতে পিডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, চলতি অর্থবছরে সংস্থাটির ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকা এবং আগামী অর্থবছরে তা বেড়ে ৬৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের দাম না বাড়ালে খাতটি বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকিতে পড়বে বলে দাবি করেন সংস্থাটির প্রধান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম।

তবে পিডিবির এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর প্রতিনিধিরা। তাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ খাতে অনিয়ম ও লুটপাটের দায় গ্রাহকের ওপর চাপানো হচ্ছে।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়লে শিল্প উৎপাদন খরচ বাড়বে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তার মতে, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পরিবর্তে বরং কমানোর উদ্যোগ নেওয়া উচিত এবং এ বিষয়ে আইনগত কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

 

 

গণশুনানিতে অংশীজনরা আরও বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের মধ্যে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করবে এবং শিল্প ও উৎপাদন খাতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 

 

এর আগে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের বিষয়ে বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুই দিনের গণশুনানির আয়োজন করে বিইআরসি। বৃহস্পতিবার গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের ওপর পৃথক শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

 

 

লেফটেন্যান্ট তানজিম হত্যায় চারজনের ফাঁসির আদেশ

কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারায় অভিযান চলাকালে ডাকাত দলের ছুরিকাঘাতে নিহত সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার হত্যা মামলায় চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে পাঁচজনকে যাবজ্জীবন, চারজনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

বুধবার (২০ মে) দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খুরশেদ আলম চৌধুরী এ তথ্য জানান।

 

 

 

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের ৫২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হয়। সাক্ষীরা নির্ভয়ে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আজ রায় ঘোষণা করেন।

বিগত ২০২৪ সালে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া গ্রামে ডাকাতির খবর পেয়ে যৌথবাহিনী অভিযান চালায়। অভিযানের সময় ডাকাত দলের সদস্যরা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ারকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে।

এ ঘটনায় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, ২৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১২টার দিকে চকরিয়ার ডুলাহাজারা এলাকায় একটি সন্দেহভাজন বাড়ি ঘিরে ফেলে যৌথ বাহিনী। এ সময় লেফটেন্যান্ট তানজিম দুই সন্ত্রাসীকে চ্যালেঞ্জ করলে তারা তাকে ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে চকরিয়া খ্রিস্টান হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার হত্যা ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলায় মোট ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে ইতোপূর্বে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

 

সেনবাগে ইয়াবাসহ ৩ আসামি আটক

নোয়াখালীর সেনবাগে থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ বিভিন্ন মামলার ৩ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার (২০ মে ২০২৬) সেনবাগ থানা পুলিশের পরিচালিত বিশেষ অভিযানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৩টি মাদক মামলার এজাহারভুক্ত এক পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটক করা হয়েছে। এছাড়া, একটি জিআর গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত এক বছর তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামি এবং নিয়মিত মামলার আরও এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
সেনবাগ থানা পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

 

রায়গঞ্জে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার, সাজাপ্রাপ্ত আসামিও আটক

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। একই অভিযানে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আরও এক আসামিকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত (২০ মে ) রাত আনুমানিক ৩টা ৪৫ মিনিটে রায়গঞ্জ থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে রায়গঞ্জ থানার পাঙ্গাশি বাজার এলাকা থেকে ফয়সাল (৩৬) নামের এক ব্যক্তিকে ১০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে। গ্রেফতার ফয়সাল সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার দেওভাঙ্গা এলাকার আকতারের ছেলে।
পুলিশ জানায়, ফয়সালের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় পূর্বে ৭টি মাদক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে একই অভিযানে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মাদক ব্যবসায়ী মোঃ আমিনুল মন্ডল (৪৫) কে গ্রেফতার করা হয়। তিনি রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা পূর্বপাড়া এলাকার আয়নাল মন্ডলের ছেলে। গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

বেলকুচিতে কৃষকদের নিয়ে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে ২০২৫- ২০২৬ অর্থ বছরে প্রস্তাবিত প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের নিয়ে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

বুধবার সকালে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে কৃষকপ্রশিক্ষণ হলরুমে কৃষকদের নিয়ে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বগুড়া জেলার কৃষি সম্প্রসারণের অধিদপ্তরের উপপরিচালক ইসমাইল হোসেন। এ সময় তিনি বলেন, আমাদের দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে। এখন প্রয়োজন নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন। মেধাবী জাতি গঠনে উৎপাদিত খাদ্যের পুষ্টিমান অক্ষুণ্ণ রাখা এবং বাণিজ্যিকিকরণের মাধ্যমে বাজারজাতকরণের সম্ভাবনাকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছি আমরা। এই লক্ষ্যে কৃষাণ-কৃষাণী পর্যায়ে দল গঠন করে তাদেরকে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে সংগঠিত করা হচ্ছে।

 

এ ছাড়াও উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইশরাত জাহান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুকান্ত ধর, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোছাব্বিরুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাব্বির আহাম্মেদ শুভ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব বনি আমিনসহ বিভিন্ন ব্লকের কৃষক-কৃষাণী উপস্থিত ছিলেন।

নিজ দোকানে গলাকাটা অবস্থায় পড়েছিল ব্যবসায়ী

সিরাজগঞ্জে নিজ দোকান থেকে আজিমুল ইসলাম আজিম (৪০) নামে এক ব্যবসায়ীকে গলা কাটা অবস্থা উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে মুমুর্ষ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

 

বুধভার (২০ মে) সকালে সিরাজগঞ্জ শহরের পৌর সুপার মার্কেটের মেসার্স শীতল ফ্যাশন নামে দোকানের ভেতের থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। ব্যবসায়ী আজিম শহরের হোসেনপুর মহল্লার মো. রবিউল আলমের ছেলে।

 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সকালে আজিম তার দোকান খোলেন। তখন মার্কেটের অধিকাংশ দোকানই বন্ধ ছিল। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আজিমের দোকানের বন্ধ সাটারের নীচ দিয়ে রক্ত বের হয়ে আসছিল। এটা দেখে স্থানীয়রা সাটার খুলে দোকানে ঢুকে আজিমকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। তার গলা কাটা ছিল।

 

তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

 

সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিজ দোকানের ভেতর থেকে ব্যবসায়ী আজিমকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার গলা কাটা রয়েছে। ঘটনাটি সম্পর্কে বিভিন্ন কথা শোনা যাচ্ছে। শোনা যাচ্ছে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। বারা কেউ বলছেন ঋণের দায়ে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করে থাকতে পারেন। বিষয়টি তদন্ত ছাড়া বলা যাচ্ছে না।

 

অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচিত হবে না : ডিএমপি কমিশনার

 

রাজধানীতে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক, কিশোর গ্যাং, অনলাইন জুয়া ও সাইবার প্রতারণার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নতুন কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, অপরাধে জড়িতদের রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না।

 

 

 

বুধবার (২০ মে) রাজধানীতে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম সংবাদ সম্মেলন।

 

 

 

ডিএমপি কমিশনার বলেন, নিরাপদ, অপরাধমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ রাজধানী গড়ে তুলতে কাজ করছে পুলিশ। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের সহযোগিতাকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

তিনি বলেন, প্রায় তিন কোটি মানুষের এই নগরীতে ছিনতাই, মাদক, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং, অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা ও হ্যাকিং বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অপরাধ দমনে গত ১ মে থেকে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে ডিএমপি।

 

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় ডিএমপির সাইবার ইউনিটকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে বলেও জানান মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ডিবি কার্যালয়ে স্থাপিত ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব সম্প্রতি তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) মন্ত্রণালয়ের স্বীকৃতি পেয়েছে। এটি সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

 

রাজধানীর যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার। তার ভাষ্য, গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এআইভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে ই-প্রসিকিউশন চালু করা হয়েছে।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, নাগরিকদের অনলাইনে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার সুবিধা চালু রয়েছে। পাশাপাশি ‘হ্যালো ডিএমপি’ ও হোটেল বর্ডার ইনফরমেশন সিস্টেমও চালু করা হয়েছে।

 

 

 

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, পশুর হাট, ঈদের জামাত, শপিং মল ও আবাসিক এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও অতিরিক্ত যাত্রী বহনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনে পুলিশের সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, ছিনতাইকারী ও জাল নোট চক্র ঠেকাতে ডিবি ও থানা পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

 

 

 

মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে যেকোনো অপরাধের তথ্য দ্রুত পুলিশকে জানাতে এবং প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করার অনুরোধ করেন।

 

 

 

 

গণমাধ্যমের উদ্দেশে ডিএমপি কমিশনার বলেন, পুলিশের গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি ইতিবাচক কাজগুলোও তুলে ধরা উচিত, যাতে নগরবাসী আরও সচেতন হয়।

 

 

আওয়ামী লীগ ফিরে আসেনি, তারা ছিলই: আসিফ নজরুল

 

জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ আবারও রাজনীতিতে ‘ফিরে এসেছে’ বলে মনে করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগের অধ্যাপক ও অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল মনে করেন, ‘আওয়ামী লীগ ফেরেনি, তারা ছিল।’

 

 

 

বুধবার (২০ মে) দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া স্ট্যাটাসে এমন দাবি করেন ঢাবির এ শিক্ষক।

 

 

 

স্ট্যাটাসে আসিফ নজরুল লেখেন, ‘আওয়ামী লীগ ব্যাক করেনি। তারা ছিলই। ব্যাক করেছে তাদের দম্ভ, মিথ্যাচার আর মানুষকে বিভ্রান্ত করার দুঃসাহস।’

এর আগে মঙ্গলবার কিছু সময়ের ব্যবধানে ‘আওয়ামী লীগের ফেরা’ নিয়ে ফেসবুকে দুটি পোস্ট দেন। এর প্রথমটিতে তিনি লেখেন, ‘লীগ রাজনৈতিক দলের আগে একটা ধর্মতত্ত্ব, সে ধর্মতত্ত্বে ইমান আবার ফেরত এসেছে।’ কীভাবে ফিরল, সে ‘গল্পই’ তুলে ধরার কথা বলেন তিনি।

এ স্ট্যাটাসের পর ফেসবুকে আলোচনা শুরু হলে আরেকটি পাল্টা স্ট্যাটাসে মাহফুজ লেখেন, ‘যারা আগের পোস্টকে পর্যালোচনা হিসাবে পাঠ করেছেন, তাদের জন্য বলছি। আমাদের এখনকার কাজ হল- সকল নিপীড়নের বিরুদ্ধে, নিপীড়িতের পক্ষে থাকা। দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে বাংলাদেশের সকল নাগরিকের মানবাধিকারের পক্ষে থাকা।’

 

 

চুরির ঘটনায় গণপিটুনিতে যুবক নিহত

 

‎বগুড়ার শেরপুরে সেচ পাম্পের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার (২০ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি নিহত হন।

 

 

 

‎‎নিহত যুবকের নাম রাফি মন্ডল। তিনি ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ী ইউনিয়নের বুলু মন্ডলের ছেলে। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর হোসেন (৩২) নামে আরও এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি একই উপজেলার বড়বিলা গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে।

 

 

 

‎স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শেরপুরের কুসুম্বি ইউনিয়নের বাসিন্দা রমজান আলী ও আব্দুল জলিল যৌথভাবে একটি সেচ পাম্প পরিচালনা করেন। চুরির হাত থেকে রক্ষা পেতে তারা পাম্পের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের সঙ্গে বিশেষ সতর্কবার্তা ডিভাইস (অ্যালার্ম) সংযুক্ত করেছিলেন।

 

 

‎‎গভীর রাতে রাফি ও জাহাঙ্গীর ট্রান্সফরমার চুরির চেষ্টা করলে ডিভাইস থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মালিকপক্ষের মোবাইল ফোনে কল চলে যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে রমজান আলী ও আব্দুল জলিল চোর চোর বলে চিৎকার শুরু করেন। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে দুই যুবককে আটক করে। এ সময় উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে তারা গুরুতর আহত হন।

 

‎‎স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাদের শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাফি মন্ডলের মৃত্যু হয়। আহত জাহাঙ্গীর হোসেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

 

 

‎‎শেরপুর থানার উপপুলিশ পরিদর্শক তোফাজ্জল হোসেন জানান, ট্রান্সফরমার চুরির সময় গণপিটুনিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থার প্রক্রিয়া চলছে।

 

 

নদীভাঙনে সব হারিয়ে জিওব্যাগই এখন ভরসা নিঃস্ব দম্পতির

  • রিপোর্টার:
  •  আপডেট টাইম : ১২:১৪:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
 

সন্ধ্যা নদীর পাড়ে বিকেলের শেষ আলো যখন পানির ঢেউয়ে ঝিকমিক করে ওঠে, তখন নদীর দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন নুরজাহান বেগম। যেন নদীর বুকের ভেতরেই খুঁজে ফেরেন হারিয়ে যাওয়া জীবনের গল্প। যে নদী একসময় ছিল তাদের জীবিকা ও স্বপ্নের সঙ্গী, সেই নদীই আজ কেড়ে নিয়েছে সহায়-সম্বল, বসতভিটা আর স্বাভাবিক জীবন।

 

 

 

বরিশালের বাবুগঞ্জে বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের রমজানকাঠী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নদীভাঙনের শিকার হাবিবুর রহমান ফকির ও তার স্ত্রী নুরজাহান বেগম এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। চার দফা ভাঙনে তাদের প্রায় ৬৫ শতক জমি, বাড়িঘর, গাছপালা ও দীর্ঘদিনের সাজানো সংসার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে নদী রক্ষায় ফেলা সরকারি জিওব্যাগের ওপর অস্থায়ীভাবে নির্মিত একটি ছোট টিনের ঘরেই বসবাস করছেন তারা।

 

 

 

স্থানীয়রা জানান, প্রায় পাঁচ বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ওই ঘরেই দিন কাটছে বৃদ্ধ দম্পতির। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বেড়ে গেলে অনেক সময় ঘরের নিচ দিয়ে স্রোত বয়ে যায়। কখনও পানি ঢুকে পড়ে ঘরের ভেতরেও। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা জলোচ্ছ্বাস দেখা দিলে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটতে হয় আশপাশের লোকজনের বাড়িতে। তারপরও জন্মভূমির মায়া ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে পারেননি তারা।

 

নুরজাহান বেগম বলেন, ‘এই জায়গার সঙ্গে আমাদের পুরো জীবন জড়ানো। আগে জমিতে ফসল হতো, সেই ফসল বিক্রি করে সংসার চলত। বাড়িঘর, জমিজমা— সব নদী গিলে খাইছে। এখন শুধু স্মৃতিগুলোই আছে। নদীর দিকে তাকাইয়া সেগুলাই মনে করি।’

 

 

কথা বলতে বলতে বারবার দীর্ঘশ্বাস ফেলছিলেন তিনি। চোখেমুখে স্পষ্ট ছিল দীর্ঘদিনের কষ্ট আর অনিশ্চয়তার ছাপ। তিনি বলেন, ‘অনেক কষ্টে দিন চলে। তবুও মানুষের কাছে হাত পাততে লজ্জা লাগে। আল্লাহ যেভাবে রাখছে, সেভাবেই আছি।’

 

 

স্বামী হাবিবুর রহমান ফকির জানান, একসময় তিনি এলাকায় সচ্ছল মানুষ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। রাজমিস্ত্রির কাজের পাশাপাশি কৃষিজমির আয়েও ভালোভাবেই চলত সংসার। কিন্তু নদীভাঙনের আঘাতে সবকিছু হারিয়ে আজ তিনি প্রায় নিঃস্ব।

 

 

 

তিনি বলেন, ‘বাপ-দাদার ভিটায় জন্ম হইছে, বড় হইছি। চারবার ঘর নদীতে গেছে। সব শেষ হওয়ার পরে সরকার জিওব্যাগ ফেলছে। এখন সেই জিওব্যাগের ওপরেই ঘর কইরা থাকি।’

 

 

 

নদীভাঙনের দুশ্চিন্তা ও আর্থিক সংকটের চাপ সহ্য করতে না পেরে তিনবার ব্রেইন স্ট্রোক করেছেন বলেও জানান তিনি। বর্তমানে কানে কম শোনেন এবং আগের মতো ভারী কাজ করতে পারেন না। বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে আয়ও অনেক কমে গেছে। তাদের দুই ছেলে আলাদা পরিবার নিয়ে অন্যত্র ভাড়া বাসায় থাকেন। তারাও আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় বৃদ্ধ বাবা-মায়ের পাশে তেমনভাবে দাঁড়াতে পারছেন না।

 

 

 

এলাকাবাসী জানান, সন্ধ্যা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে এই অঞ্চলের বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কেউ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেলেও অনেকেই স্মৃতির টানে এখনও নদীপাড় আঁকড়ে পড়ে আছেন।

 

 

 

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল আহসান খান হিমু বলেন, বিষয়টি জেনে খুব খারাপ লেগেছে। আমি পরিবারটির খোঁজখবর নিয়েছি। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে সহযোগিতার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করব।

 

 

 

বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমা উল হুসনা বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এই পরিবারের বিষয়টি অত্যন্ত মানবিক। আমরা তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে সরকারি সহায়তার আওতায় আনার চেষ্টা করব। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত অন্য পরিবারগুলোর বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

 

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্তিতে হাইকোর্টের বিস্ময়

আপিল বিভাগে মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। বুধবার (২০ মে) সকালে এ তথ্য জানান আইনজীবী শিশির মনির।

 

 

 

 

তিনি বলেন, আপিল বিভাগে মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই সচিবালয় বিলুপ্ত করায় হাইকোর্ট বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। সকালে বিচারপতি আহমেদ সোহেলের বেঞ্চে বিলুপ্তির প্রজ্ঞাপন উপস্থাপন করা হলে আদালত রাষ্ট্রপক্ষকে বলেন, ‘এটি কীভাবে সম্ভব?’

 

 

 

 

পরে পৃথক সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে রিটকারী আইনজীবী শিশির মনির বলেন, চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই কার্যক্রম বিলুপ্ত করে সরকার আদালত অবমাননা করেছে।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করা হবে এবং আবেদনটি তিনি নিজেই করবেন।

এ আইনজীবী আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করায় বিদেশিদের কাছেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

 

 

এর আগে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করে সেখানে কর্মরত ১৫ জন বিচারককে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়। এরও আগে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক করে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। পরে অধ্যাদেশটি বাতিল করে বিএনপি সরকার।

 

 

 

তবে বিচার বিভাগ পৃথককরণ সংক্রান্ত রায়ে হাইকোর্ট তিন মাসের মধ্যে সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেন। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্ত নেয় রাষ্ট্রপক্ষ। যদিও এখনো আপিল করা হয়নি। একই সঙ্গে হাইকোর্ট রাষ্ট্রপক্ষের কাছে আশা প্রকাশ করেন, চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগে যেন সচিবালয়ের কার্যক্রম বন্ধ না করা হয়।

 

 

ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর ‘মাথার দাম’ ৫৮ মিলিয়ন ডলার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হত্যার জন্য তাদের ‘মাথার দাম’ প্রায় ৫৮ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছে ইরান।

 

 

 

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি জানিয়েছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা ব্যবস্থা শীর্ষক একটি বিল প্রস্তুত করা হচ্ছে। এতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে হত্যাকারী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে ৫ কোটি ইউরো (প্রায় ৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) পুরস্কার দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। খবর এনডিটিভির।

 

 

 

আগামী দিনে এ বিলটি ইরানি পার্লামেন্টে ভোটে তোলা হতে পারে বলে জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে হামলায় তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনার জবাব হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্টরা।

ইব্রাহিম আজিজি অভিযোগ করেন, খামেনি হত্যাকাণ্ডে ট্রাম্প, নেতানিয়াহু এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের ভূমিকা রয়েছে। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের আরেক সদস্য মাহমুদ নাবাভিয়ানও জানিয়েছেন, যে ব্যক্তি ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে জাহান্নামে পাঠাবে, তাকে পুরস্কৃত করার বিষয়ে পার্লামেন্ট শিগগিরই ভোট দেবে।

 

 

এর আগে ইরানি সংবাদমাধ্যম মাসাফ দাবি করেছিল, ‘কিল ট্রাম্প’ নামে একটি অভিযানের জন্য ৫ কোটি ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া ‘হানদালা’ নামে ইরান-সমর্থিত একটি সাইবার গোষ্ঠীও ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে নির্মূলের জন্য ৫ কোটি ডলার বরাদ্দের দাবি করে।

 

 

 

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। একই সময়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন শান্তি প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানের নতুন প্রস্তাবে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি।

 

২-০ ব্যবধানে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ

মিরপুর টেস্টের পর সিলেটেও দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে ৭৮ রানের জয় তুলে নিয়ে ইতিহাস গড়েছে টাইগাররা। ঘরের মাঠে টেস্ট ক্রিকেটে এবারই প্রথম পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করল বাংলাদেশ।

 

 

 

৪৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চতুর্থ দিন শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৭ উইকেটে ৩১৭ রান। শেষ দিনে জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন ছিল আরও ১২০ রান, আর বাংলাদেশের দরকার ছিল মাত্র তিন উইকেট।

 

 

 

পঞ্চম দিনের শুরুতে ব্যাট করতে নামেন আগের দিনের অপরাজিত দুই ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাজিদ খান। শুরুতেই রিজওয়ানকে ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। নাহিদ রানার বলে স্লিপে ক্যাচ তুললেও সেটি তালুবন্দি করতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজ।

 

জীবন পেয়ে রিজওয়ান ও সাজিদ খান অষ্টম উইকেটে গড়ে তোলেন অর্ধশতাধিক রানের জুটি। এতে ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে পাকিস্তান। তবে সেই জুটি ভেঙে দেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। সাজিদ খানকে ফিরিয়ে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। আউট হওয়ার আগে ৩৬ বলে ২৮ রান করেন সাজিদ।

 

এরপর দ্রুত বাকি উইকেট তুলে নিয়ে দারুণ এক জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। এই জয়ে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করল টাইগাররা।

 

 

 

বিলুপ্ত হলো সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়: আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত কর্মকর্তারা

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করে এই সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবসহ ১৫ জন কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত নেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (১৯ মে) এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির আদেশে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ।

 

এছাড়া আরেকটি পৃথক আদেশে এই কর্মকর্তাদের আইন মন্ত্রণালয়ে যোগদানের তারিখ দেখানো হয়েছে ১০ এপ্রিল। যার আগের দিন ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছিল।

 

মন্ত্রণালয়ে ফেরতে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ অনুযায়ী বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের নিম্ন বর্ণিত সদস্যদের পরবর্তী উপযুক্ত পদে পদায়নের নিমিত্ত পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করা হলো।

 

প্রজ্ঞাপনে ছক করে কর্মকর্তাদের নাম, বিলুপ্ত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সাবেক পদ এবং সংযুক্ত পদ উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯ মে এটি জারি হলেও এর ভুতাপেক্ষ কার্যকারিতা দেখানো হয়েছে ১০ এপ্রিল থেকে।

 

অপরদিকে অফিস আদেশে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে প্রজ্ঞাপনমূলে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের নিম্ন বর্ণিত সদস্যদের পরবর্তী উপযুক্ত পদে পদায়নের নিমিত্ত আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করা হলো। তদানুসারে তাদের দাখিল করা যোগদানপত্র ১০ এপ্রিল থেকে ভূতাপেক্ষভাবে গ্রহণ করা হলো।

 

 

ভারত সফরে যাচ্ছেন ভ্লাদিমির পুতিন

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফরে যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মঙ্গলবার (১৯ মে) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ক্রেমলিন।

 

ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রেক্ষাপটে এই সফর বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এক বছরের মধ্যে এটি হবে পুতিনের দ্বিতীয় ভারত সফর, যা দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ২৩তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিতে ভারত সফর করেছিলেন পুতিন। সে সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।

ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বার্ষিক শীর্ষ বৈঠকের একটি ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এর আওতায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্ক পর্যালোচনা করেন। এখন পর্যন্ত এমন ২৩টি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা পালাক্রমে দুই দেশে আয়োজন করা হয়।

 

যদিও ২০২৫ সালের বৈঠকটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল, কারণ ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর সেটিই ছিল পুতিনের প্রথম ভারত সফর। এর আগে তিনি সর্বশেষ ২০২১ সালে নয়াদিল্লি সফর করেছিলেন।

পুতিনের এবারের সফরের আগে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভও নয়াদিল্লি সফর করেন। তিনি ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন। ১৪ ও ১৫ মে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

 

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য এবারের ব্রিকস সম্মেলনে বৈশ্বিক নিরাপত্তা সংকট এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আগৈলঝাড়ায় অবৈধ ভাবে তেল বিক্রির দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন এক তেল ব্যবসায়ীকে। সোমবার সন্ধ্যায় এই অভিযান পরিচালনা করেন ভ্র্যাম্যমান আদালতের বিচারক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের মঠবাজারে ঝালকাঠীর জুয়েল হাওলাদার নামে এক ব্যক্তি গাড়ী নিয়ে অবৈধভাবে তেল বিক্রি করতে আসেন। তার তেল বিক্রির কথা ছিল ঝালকাঠী সদরে। এ-সংবাদ পুলিশ জানতে পেরে থানার এসআই সেলিম মিয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে তেলের গাড়ী জব্দসহ ঝালকাঠী জেলার সদর উপজেলার ইফাতনগর গ্রামের ইয়াসিন হাওলাদারের ছেলে মো. জুয়েল হাওলাদারকে আটক করে।

 

পরে তাকে তেলের গাড়ীসহ ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক এর আদালতে উপস্থিত করা হলে আদালতের বিচারক জুয়েল হাওলাদারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস সহকারী অশোক মিস্ত্রী ও থানার এসআই সেলিম মিয়াসহ প্রমুখ।

 

রাণীনগরে ছাত্রলীগ কর্মী গ্রেফতার

নওগাঁর রাণীনগরে যৌথ অভিযান চালিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য এসকে নাহিদকে (২৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত সোমবার সন্ধ্যায় রাণীনগর রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে রাণীনগর ও আত্রাই থানা পুলিশ যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে।
গ্রেফতারকৃত এসকে নাহিদ রাণীনগর উপজেলার পূর্ববালুভরা গ্রামের এসকে হাবিবুর রহমানের ছেলে।
নাহিদের ছোট ভাই মারুফ জানান, তার ভাই দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি স্ত্রীর অসুস্থতার খবর পেয়ে তিনি গ্রামের বাড়িতে আসেন। সোমবার বিকেলে পারিবারিক বাজার-সদাই করতে বেরিয়ে রাণীনগর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালেই পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে পরিবার জানতে পারে, পার্শ্ববর্তী আত্রাই থানার একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
রাণীনগর থানার ডিউটি অফিসার এএসআই মজিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে নাহিদকে আত্রাই থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আত্রাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওবায়দুর রহমান জানান, এসকে নাহিদের বিরুদ্ধে আত্রাই থানায় ‘সন্ত্রাস দমন আইনে’ একটি মামলা রয়েছে। সেই মামলাতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

ভোলাহাটে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলা ভূমি অফিসের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী “দেশব্যাপী ভূমিসেবা মেলা-২০২৬” এর জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার ১৯ মে ২০২৬ সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ভোলাহাট উপজেলা ভূমি অফিস প্রাঙ্গনে এ মেলার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রজেক্টর স্ক্রিনের মাধ্যমে ঢাকা থেকে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ সানাউল মোর্শেদ এবং প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা কর্মকর্তা নাসিম উদ্দিন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম কবিরাজ, সমবায় অফিসার (ভার) আব্দুল জলিল এবং আরডিও সবুজ আলী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও ছাত্র-ছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। ভূমি সেবা মেলায় ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা, তথ্য প্রদান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে।

আগৈলঝাড়ায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও সুসংহত ও কার্যকর করতে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

মঙ্গলবার সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বনিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, আগৈলঝাড়া থানার ওসি (তদন্ত) সুশংকর মল্লিক, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক শিকদার হাফিজুল ইসলাম, সদস্য সচিব মোল্লা বশির আহম্মেদ পান্না, যুগ্ম-আহবায়ক শাহ মো. বক্তিয়ার, আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাব সভাপতি মো. শামীমুল ইসলাম শামীম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুনিত কুমার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. সেকেন্দার মৃধা, গৈলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা রফিকুল ইসলাম নেছারী, ডা. মিরন হালদার, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পলাশ হালদার।

 

সভায় উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা কমিটির পাশাপাশি মাদক প্রতিরোধ, ঈদুল আযহা উপলক্ষে চারটি পশুর হাটে মনিটারিং, প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এসময় বক্তারা সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, নিয়মিত মনিটরিং জোরদারের দাবি জানান।

 

আগৈলঝাড়ায় ভূমিসেবা মেলা উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা

“জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা: সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ” এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

মঙ্গলবার সকালে উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে র‌্যালি শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন শেষে উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

 

পরে উপজেলা ভূমি অফিসের হলরুমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বনিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন, আগৈলঝাড়া থানার ওসি (তদন্ত) সুশংকর মল্লিক, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক শিকদার হাফিজুল ইসলাম, সদস্য সচিব মোল্লা বশির আহম্মেদ পান্না, যুগ্ম-আহবায়ক শামচুল হক খোকন, আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাব সভাপতি মো. শামীমুল ইসলাম শামীম, সহ-সভাপতি মাসুম হাওলাদার প্রমুখ। এছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

সেমিনারে বক্তারা বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় ভূমিসেবা পৌঁছে দিতে সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনায় আধুনিক ও ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করেছে। অনলাইনে নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধসহ বিভিন্ন সেবা সহজলভ্য হওয়ায় সাধারণ মানুষ এখন উপকৃত হচ্ছে। ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

 

তিন দিনব্যাপী এ মেলায় ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও পরামর্শ সেবা প্রদান করা হবে। তাই সকলকে এই মেলায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

 

ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন ড. আতিক মুজাহিদ এমপি

কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল থেকে প্রতি মাসে ১৪ লাখ টাকা উত্তোলনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন।
আজ ১৯ মে মঙ্গলবার কুড়িগ্রাম আলিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে ব্রিফিং করেন তিনি। ব্রিফিংয়ে তিনি কুড়িগ্রাম জেলার অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়েও কথা বলেন। এ সময় তিনি কুড়িগ্রাম জেলার উন্নয়ন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীদের জনবিরোধী বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী উপজেলার দপ্তরিক কর্মচারীরা মূলত একটি গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করেন। তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য জনগণের কাজের গতিকে বাধাগ্রস্ত করতে দ্বিধাবোধ করেন না।
এমপি হওয়ার পর থেকে আমি কুড়িগ্রামবাসীকে হৃদয়ে ধারণ করে সংসদে কথা বলেছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে কয়েকজন মন্ত্রীর সাথেও কথা বলেছি। কুড়িগ্রাম জেলায় কাজ করার জন্য বিভিন্ন মাধ্যম অবলম্বন করছি। কিন্তু তার পরেও আমার নামে মিথ্যা রটানো হচ্ছে।
আমি নাকি কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল থেকে প্রতি মাসে ১৪ লাখ টাকা উঠাই, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার নামে মিথ্যা খবর প্রচার করে আমাকে কুড়িগ্রাম জেলার উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করতে চাচ্ছে।
আমি সাংবাদিকদের চ্যালেঞ্জ করে বলছি, যারা আমার নামে এমন মিথ্যা প্রচার করছে তাদের আমার কাছে নিয়ে আসুন। সঠিক তথ্য যাচাই-বাছাই করুন। প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব বক্তব্য রাখেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মোঃ মুকুল মিয়া, সদস্য সচিব মাসুম রানা, যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুলজ্জামান তাওহীদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হক, শ্রমিক শক্তির জেলা আহ্বায়ক মজনু মিয়া, ছাত্র শক্তির জেলা আহ্বায়ক জাহিদ হাসানসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

 

 

জলঢাকায় ভুমিসেবা মেলা উপলক্ষে র‍্যালী সচেতনতামূলক সভা

সারাদেশের ন্যায় নীলফামারীর জলঢাকায় ভুমিসেবা মেলা উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালী ও জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা: সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ, ভূমি সেবা মেলা ও জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
 ১৯ শে মে ২০২৬ ইং রোজ মঙ্গলবার  সকালে   উপজেলা ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে এ মেলা ৩ দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।
উদ্বোধনী মেলা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনের সংসদ সদস্য  মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফি। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকার ভূমি সেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ডিজিটাল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা চালু করেছে। জনগণকে ভূমি সংক্রান্ত সেবায় সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
এসয়ম সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি, থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল আলম, উপজেলা জামায়াতের আমির মোখলেসুর রহমান মাস্টার , উপজেলা কৃষি অফিসার মিজানুর রহমান, প্রেসক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব কামারুজ্জামান,উপজেলা জামাতের সহকারী সেক্রেটারি প্রভাষক মুজাহিদ মাসুম,  উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা,মৎস কর্মকর্তা,  সমাজসেবা কর্মকর্তা, পৌরসভা ও উপজেলার  সকল ইউনিয়নের  ভূমি কর্মকর্তাবৃন্দসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ শিক্ষার্থীগন উপস্থিত ছিলেন,  অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত কৃষি অফিসার খোরশেদ আলম।
সভায় বক্তারা ভূমি সংক্রান্ত অনলাইন সেবা, নামজারি, খাজনা প্রদান ও ভূমি জটিলতা নিরসনে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করেন।

 

ভূমিসেবাকে জনবান্ধব করতে ইসলামপুরে ‘ভূমিসেবা মেলা

ভূমি সেবাকে আরও সহজ, দ্রুত ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে জামালপুরের ইসলামপুরে উদযাপিত হয়েছে ‘ভূমি সেবা মেলা-২০২৬’। “জনবান্ধব স্বয়ংক্রিয় ভূমি ব্যবস্থাপনা, সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মেলায় একটি বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও জনসচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা হয়।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় এবং ইসলামপুর উপজেলা ভূমি অফিসের উদ্যোগে মঙ্গলবার সকালে উপজেলা ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন মো. রেজুয়ান ইফতেকার, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হোসেন, ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. গাজী আব্দুল কাইয়ুম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল ইসলাম (নবাব), সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নবী নেওয়াজ খান লোহানী বিপুল এবং সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন। এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, অন্যান্য কর্মকর্তা এবং বিপুল সংখ্যক আগ্রহী সাধারণ মানুষ মেলায় অংশগ্রহণ করেন।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, মেলায় নাগরিকদের জন্য আধুনিক ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনার নানা দিক তুলে ধরা হয়। মেলায় যে সকল সেবা ও তথ্য প্রদান করা হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: অনলাইনে নাম নিবন্ধন বা নামজারি, সহজে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, খতিয়ান ও মানচিত্র সম্পর্কিত তথ্য ও সেবা এবং ভূমি সংক্রান্ত আইনি ও সাধারণ পরামর্শ। এছাড়া ভূমি সংক্রান্ত কার্যক্রমে নাগরিকদের হয়রানি কমাতে এবং সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মেলা থেকে জানানো হয়, ভূমি সেবা সম্পর্কে যেকোনো তথ্য, অভিযোগ ও পরামর্শের জন্য নাগরিকরা দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা হটলাইন সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। পাশাপাশি, ঘরে বসে সহজেই ভূমি সংক্রান্ত তথ্য ও সেবা পেতে সরকারি ফেসবুক পেজ এবং বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের জন্য নাগরিকদের প্রতি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

শিক্ষকের মৃত্যুর খবর শুনে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

নওগাঁর বদলগাছীতে সিএনজি ও ধান মাড়াই মেশিনের মুখোমুখি সংঘর্ষে উম্মে কুলছুম নামের এক শিক্ষক নিহত হয়েছে। এঘটনায় আরও এক শিক্ষক আহত হয়েছেন। এদিকে প্রিয় শিক্ষকের মৃত্যুর খবর শুনে একই স্কুলের তাসনিম নামের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (১৯মে) দুপুরে উপজেলার চাকরাইল বটতলি মোড় এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সিনএনজি যাত্রী ও শিক্ষক কুলছুম হলেন উপজেলার সদর দর্গাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি বদলগাছী লাবণ্য প্রভা ও কমিউনিটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। আহত ব্যক্তি সদর উপজেলার গোড়শাহী গ্রামের বাসিন্দা মমতাজ জাহান। তিনিও একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
অপরদিকে নিহত তাসনিম একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেনীর শিক্ষার্থী। ঘটনার দিন তাসনিম তার শিক্ষকের মৃত্যুর খবর শুনে অসুস্থ হঠাৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখে অসুস্থ  হয়ে পরে। পরে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই শিক্ষার্থীকে মৃত ঘোষণা করে।
শিক্ষার্থীর বাবা আবুল কালাম বলেন,“ আমার মেয়েটি ফেসবুকে তার শিক্ষক কুলছুমের মৃত্যুর খবর দেখে সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে বদলগাছী হাসপাতালে নিয়ে আসলে ডাক্তার পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে মৃত ঘোষণা করে।
বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আসাদুজ্জামান নাহিদ বলেন,“ শিক্ষার্থী কোনো আকর্ষিক ঘটনা দেখে হয়তো জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। তবে এখনি মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু বলা যাচ্ছে না। পোষ্ট মেটাম রিপোর্ট আসলে মৃত্যুর সঠিক কারন জানা যাবে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যাত্রীবাহী সিএনজি উপজেলার গোড়শাহী এলাকা থেকে দুই জন যাত্রী নিয়ে রাজশাহীর উদ্দেশ্য রওনা হয়। চাকরাইল বটতলী মোড় এলাকায় পৌছালে মাতাজিহাট থেকে আসা ধান মাড়াই মেশিনের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলে সংঘর্ষের তীব্রতায় সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই সহকারী শিক্ষক কুলছুম মারা যায়। এ সময় গুরুতর আহত হন আরও এক শিক্ষক মমতাজ জাহান।
পরে স্থানীয়রা আহত শিক্ষককে উদ্ধার করে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
তাজা দুটি প্রাণের মৃত্যুর খবর পেয়ে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত যান দুটি জব্দ করে।
বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। আর শিক্ষকের মৃত্যুর খবর দেখে একই বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর পেয়েছি। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

সেনবাগে  ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে সেনবাগ থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের বৈশার বাপের পুল সংলগ্ন এলাকায় সেনবাগ থানার উদ্যোগে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তার মো. নিজাম উদ্দিন (২৭)। তিনি ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের আম্বর আলী চৌকিদার বাড়ির বাসিন্দা এবং আমির হোসেনের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে নিজাম উদ্দিনের কাছ থেকে ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে আটক করে সেনবাগ থানায় নিয়ে আসা হয়।
সেনবাগ থানা পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে পূর্বে ৯টি মাদক মামলার এজাহার রয়েছে। উদ্ধারকৃত মাদকের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে চলমান বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

গজারিয়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে হামলা-পাল্টা হামলা, আহত ২

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যসহ দুইজন আহত হয়েছেন।
সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামের মিয়া বাড়ির সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
​আহতরা হলেন, গজারিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল বারেক বেপারীর ছেলে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য নাসির উদ্দিন (৬৫) এবং একই গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে তালহা (১৬)। তাদের মধ্যে সাবেক সেনাসদস্য নাসির উদ্দিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
​ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাবেক সেনাসদস্য নাসির উদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় সোহেল ও মিলন পক্ষের বিরোধ চলছিল। পূর্ব শত্রুতার জেরে সোমবার সন্ধ্যায় উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে নাসির উদ্দিন ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন এবং অপর পক্ষের কিশোর তালহা আহত হয়।
​আহত নাসির উদ্দিনের অভিযোগ, এলাকায় মাদক ব্যবসা ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় প্রভাবশালী সোহেল মিঝি, মনির ও মিলনের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়। তারা বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁর ওপর হামলার পরিকল্পনা করছিল। সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ির পাশের একটি মেসে বসে থাকার সময় সোহেল মিঝি, মনির ও মিলনের নেতৃত্বে ২০-২২ জনের একটি সশস্ত্র দল লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়। তাঁর চিৎকার শুনে ছেলে জেম বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করে হামলাকারীরা। পরে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। ঘটনার পর থেকে তাঁর ছেলে জেম নিখোঁজ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
​এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত সোহেল মিঝি ও মিলনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
​গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আবেদ আহমেদ জানান, নাসির উদ্দিনের মাথা ও গালে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন অংশে জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাঁর মাথার দুই জায়গায় ও গালে সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
​গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান আলী বলেন, “বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

রায়গঞ্জে ভূমি সেবা মেলার উদ্বোধন

“জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা, সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ” — এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ভূমি সেবা মেলার শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। দেশব্যাপী আয়োজিত ভূমি সেবা মেলার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় চত্বরে এ মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল খালেক পাটোয়ারী।
অনুষ্ঠানে মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শামসুল ইসলাম, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস মন্ডল, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বেলাল হোসেন, নির্বাচন কর্মকর্তা ফেরদৌস আলম, শিক্ষক হাফিজুর রহমান এবং নাজির কাম-ক্যাশিয়ার ছরোয়ার হোসেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি উপজেলা চত্বর প্রদক্ষিণ করে। পরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া মেলায় কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হলে রায়গঞ্জ সদর বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা এতে অংশগ্রহণ করে।
উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিএনপির নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

 

বেলকুচিতে ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লার অত্যাচারে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা (৪০) ও তার সহযোগী নুরুল ইসলাম, তোফাজ্জল, আল- আমিন মাল এর বিরুদ্ধে  এলাকায় বেপরোয়া চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে ডাকাতি, অবৈধ মাদক সাম্রাজ্য গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও প্রভাবখাটিয়ে গোপালপুর বটতলার স্লুইসগেট খুলে দেওয়ায় মাছের ঘের তলিয়ে গিয়ে প্রায় ৫ লাখ টাকার মত ক্ষতিসাধিত হয়েছে মৎস্যচাষীরা।

 

 

তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন গোপরেখী গ্রামের মানুষ।

 

মৎস্যচাষীরা জানান, রোববার দপুরে উপজেলায় বড়তলা গরুরহাটের ইজারাদার নেওয়াকে কেন্দ্র করে আমরা শুনেছি ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা মার খেয়েছেন। তবে মারধরের ঘটনার বিষয়ে আমরা বিস্তারিত কিছু জানি না। কিন্তু সেট ঘটনার জেরে রোববার রাতে প্রচন্ড বৃষ্টির সময় স্লুইসগেট খুলে দেওয়ায় আমাদের মাছের ঘের তলিয়ে গিয়ে মাছ বের হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৫ লাখ টাকার মত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমরা চাই প্রশাসন সঠিক তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক।

 

 

জানা যায়, গোপালপুর বটতলা বাজারের হাশেম আলীর দোকানের  সামনে সুতার গাড়ি দাঁড়ানোকে অজুহাত বানিয়ে ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা প্রকাশ্যে চাঁদা দাবি করেছেন। আমরা বৈধভাবে ব্যবসা করি, কোনো অপরাধ করিনি। তারপরও প্রভাব খাটিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। জনপ্রতিনিধির পরিচয়ে এ ধরনের চাঁদাবাজি ব্যবসায়ীদের জন্য অপমানজনক ও আতঙ্কের বিষয়।

 

 

এছাড়াও গত ২ বছর আগে জমির মাপকে কেন্দ্র করে  সোহেল মোল্লার নেতৃত্বে স্থানীয় রিয়াজ (২২) নামের এক যুবককে ছুরি দিয়ে মারাক্তক ভাবে আহত করে। ৬ মাস চিকিৎসা করার পর ওই যুবক সুস্থ হোন। গত ২০১৩ ও ২০১৪ সালে মাদক বিক্রির দায়ে জেল খেঠেছেন এমন অভিযোগ পাওয়া যায়।

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লার সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

 

দৌলতপুর  ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বলেন, স্লুইসগেট চাবি তার কাছে আছে কি না জানি না। তবে মাদক বিক্রি করে এমন অভিযোগ শুনেছি। এ বিষয়ে নিয়ে পরিষদে অন্য সকল সদস্যের নিয়ে মিটিং করা হয়েছে। তার বিষয়ে পরিষদ থেকে কোন ব্যবস্থা নেওয়া যাবে কি না সেটা যেনে জানাতে পারবো।

 

রাণীনগরে ভূমি সেবা মেলা ২০২৬ অনুষ্ঠিত

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় মঙ্গলবার (১৮ মে) “ভূমি সেবা মেলা ২০২৬” সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভূমি সেবাকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য ও স্বচ্ছ করে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত হয় এই মেলা।
সকাল ১১টায় উপজেলা চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য পদযাত্রার মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। পদযাত্রায় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পদযাত্রা শেষে অংশগ্রহণকারীরা মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।
পরবর্তীতে উপজেলা অডিটোরিয়াম পরিষদে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিলা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, আজকের এই ভূমি সেবা মেলা একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ। ভূমি সংক্রান্ত সেবা গ্রহণ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। সেই ভোগান্তি দূর করে জনগণের দোরগোড়ায় ভূমি সেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। আজকের এই মেলায় নামজারি, পর্চা, খতিয়ান, ডিজিটাল সেবাসহ ভূমি-সংক্রান্ত সেবা প্রদানের সকল বিষয়ে  আলোচনা করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  রাকিবুল হাসান তাঁর বক্তব্যে বলেন,”ভূমি সেবা মেলা শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি সরকারের জনবান্ধব প্রশাসনের একটি বাস্তব প্রতিফলন। আমরা চাই উপজেলার প্রতিটি নাগরিক যেন ঘরে বসেই অথবা সহজে ভূমি সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যার সমাধান পেতে পারেন।  আজকের এই মেলায় সরাসরি সেবা প্রদানের পাশাপাশি মানুষকে অনলাইনে ভূমি সেবা গ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কেও সচেতন করা।  আমি আশা করি এই ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন  উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাকিমা খাতুন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোসারব হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাউলহক লিটন প্রমুখ সহ এলাকার অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ গণ।

 

র‍্যাবে আসতে পারে বড় পরিবর্তন, বদলাতে পারে নাম

র‍্যাবকে আগের কাঠামোয় রাখা হচ্ছে না; বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ও সুনির্দিষ্ট আইনের আওতায় এনে বাহিনীটিকে সংস্কার করা হচ্ছে এবং এর নামও পরিবর্তন হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

 

 

মঙ্গলবার (১৯ মে) সচিবালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

জাহেদ উর রহমান জানান, র‍্যাব এতদিন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের একটি অপশনের অধীনে পরিচালিত হয়েছে। তবে নতুন আইনের মাধ্যমে বাহিনীটির কাঠামো, দায়িত্ব ও কার্যক্রম আরও সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হবে।

তিনি বলেন, এক অর্থে র‍্যাব আগের মতো থাকছে না। এমনকি এর নামও পরিবর্তন হতে পারে।

র‍্যাব বিলুপ্তির দাবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাহিনীটির বিরুদ্ধে অতীতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকলেও একটি রাষ্ট্রে বিশেষায়িত এলিট ফোর্সের প্রয়োজন রয়েছে। উন্নত প্রশিক্ষণ ও আধুনিক সরঞ্জামের কারণে র‍্যাব সন্ত্রাস ও বিভিন্ন জটিল অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে, যেখানে প্রচলিত পুলিশ বাহিনী অনেক সময় সীমাবদ্ধতায় পড়েছে।

অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সমালোচনা করে বলেন, আইন কীভাবে প্রয়োগ হবে তা নির্ভর করে সরকারের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর। তার দাবি, র‍্যাবকে বিতর্কিতভাবে ব্যবহারের দায় তৎকালীন সরকারের ওপরই বর্তায়।

 

 

তিনি আরও বলেন, নতুন আইন কার্যকর হলে এলিট ফোর্সটি র‍্যাব নামে থাকুক বা অন্য কোনো নামে পরিচালিত হোক, অতীতের ঝুঁকি ও অনিয়ম কমে আসবে বলে সরকার আশা করছে।

 

 

সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রকাশ

সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেট চূড়ান্ত করতে চাহিদাপত্র চেয়েছে সরকার। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আওতাধীন সব অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ সংক্রান্ত জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 

সোমবার (১৮ মে) এক অফিস আদেশে এ নির্দেশ দেয় মাউশি।

 

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট (www.dshe.gov.bd) থেকে দেওয়া ‘ছক’ (১১ পাতা) সংগ্রহ করে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের চাহিদা প্রস্তুত করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন অফিস, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বাজেট সংক্রান্ত তথ্য ৪ জুন মধ্যে সংশ্লিষ্ট গুগল ফরম পূরণ করে সাবমিট করার জন্য বলা হলো।

এতে আরও বলা হয়, প্রয়োজনীয় তথ্য নির্ধারিত তারিখের মধ্যে সাবমিট করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাজেট বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হতে পারে এবং সেক্ষেত্রে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য এ অধিদপ্তর কোনো দায়-দায়িত্ব বহন করবে না।

 

বাংলাদেশিদের জন্য নাগরিকত্ব নীতিতে পরিবর্তন আনল ভারত সরকার

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় নাগরিকত্ব আবেদনের নিয়মে নতুন পরিবর্তন এনেছে ভারত সরকার। এখন থেকে আবেদনকারীদের নিজ দেশের পাসপোর্টের অবস্থা সম্পর্কে বিশেষ ঘোষণা দিতে হবে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের নাগরিকদের জন্যও একই নিয়ম চালু করেছে দেশটি।

 

 

মঙ্গলবার (১৯ মে) টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নাগরিকত্ব বিধিমালা সংশোধন করে নতুন একটি শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীর কাছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা আফগানিস্তান সরকারের ইস্যু করা বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ কোনো পাসপোর্ট থাকা যাবে না।

তবে কারও কাছে সক্রিয় পাসপোর্ট থাকলে তাকে পাসপোর্ট নম্বর, কোথায় ও কবে ইস্যু হয়েছে এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখসহ বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে হবে।

এছাড়া নাগরিকত্ব আবেদন অনুমোদনের ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ডাক বিভাগের জ্যেষ্ঠ সুপারিনটেনডেন্ট বা সুপারিনটেনডেন্টের কাছে বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট জমা দেওয়ার ঘোষণাও দিতে হবে আবেদনকারীদের।

ভারতের নাগরিকত্ব বিধিমালা, ২০০৯-এ এই সংশোধন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

 

মেসির দল কবে জানাবে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড?

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য এরইমধ্যে ব্রাজিল ও ফ্রান্সসহ বেশ কয়েকটি দল তাদের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। তবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এখনো ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল প্রকাশ করেনি।

 

 

বিশ্বকাপ সামনে রেখে আলাদা পরিকল্পনা সাজিয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। চূড়ান্ত দল ঘোষণার আগে বাড়তি কয়েকজন ফুটবলারকে নিয়ে বিশেষ অনুশীলন ক্যাম্প করতে চান তিনি।

 

 

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের শেষ সপ্তাহে বুয়েনস এইরেসের এজেইজায় অনুশীলন শুরু করবে আলবিসেলেস্তেরা। এরপর বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ক্যাম্পের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাবে দলটি। এর আগে ৩০ মে চূড়ান্ত স্কোয়াড জমা দেবে আর্জেন্টিনা।

জানা যায়, চূড়ান্ত ২৬ জনের বাইরে অতিরিক্ত কয়েকজন ফুটবলারকে প্রস্তুত রাখতে চান স্কালোনি। বিশেষ করে উইঙ্গার পজিশনে বাড়তি খেলোয়াড় রাখার চিন্তা রয়েছে তার। সম্ভাব্য চমক হিসেবে আলোচনায় আছেন এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া ও মাতিয়াস সুলে।

বিশ্বকাপের আগে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। ৬ জুন টেক্সাসে হন্ডুরাসের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। এরপর ৯ জুন আলাবামায় আইসল্যান্ডের মুখোমুখি হবে লিওনেল মেসিরা।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘জে’তে রয়েছে আর্জেন্টিনা। একই গ্রুপে আছে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হবে ১৬ জুন, আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে।

 

 

তরুণদের চলচ্চিত্র শিক্ষায় বিসিটিআই–জবির উদ্যোগ

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চলচ্চিত্র শিক্ষার গুরুত্ব এবং বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে চলচ্চিত্র প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে এক যৌথ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (বিসিটিআই) এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সাজিদ একাডেমিক ভবনে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

 

 

‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চলচ্চিত্র শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা এবং বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে বিসিটিআইয়ের প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের গুরুত্ব’ শীর্ষক কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এস এম ইমরান হোসেন।

 

 

মূল প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের দীর্ঘ ঐতিহ্য থাকা সত্ত্বেও দক্ষ মানবসম্পদের ঘাটতি, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অভাবে শিল্পটি এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বায়ন ও ডিজিটাল যুগে চলচ্চিত্র শিক্ষা কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; বরং শিক্ষা, সংস্কৃতি, সামাজিক সচেতনতা এবং জাতীয় পরিচয় নির্মাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।’

তিনি আরও বলেন, ‘চলচ্চিত্র শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ এখনো অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঢাকা-কেন্দ্রিক হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগের মেধাবী ও সম্ভাবনাময় তরুণরা পর্যাপ্ত সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জেলা শিল্পকলা একাডেমির অবকাঠামো ব্যবহার করে স্থানীয় পর্যায়ে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ এবং বিভাগীয় পর্যায়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে নতুন প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’ পাশাপাশি আঞ্চলিক চলচ্চিত্র শিল্প এবং ফিল্ম কমিশন গঠনের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ‘লোকালাইজড ফিল্ম ইকোসিস্টেম’ গড়ে তোলা সম্ভব বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।

আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিসিটিআইয়ের প্রধান নির্বাহী আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিন। তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস, চলচ্চিত্র অঙ্গনে বিসিটিআইয়ের অবদান এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এ ধরনের কর্মশালার গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের মাধ্যমে যৌথ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সভাপতির বক্তব্যে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. শাহ মো. নিসতার জাহান কবীর বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তবমুখী শিক্ষা এবং শিল্প-সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিসিটিআই ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগ ভবিষ্যতে চলচ্চিত্র শিক্ষা ও গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

 

 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক জুনায়েদ আহমেদ হালিম বলেন, ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট নীরবে চলচ্চিত্র শিক্ষার্থী তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, যার ইতিবাচক প্রভাব ভবিষ্যতে আরও সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হবে।’

 

 

চলচ্চিত্র গবেষক মীর শামছুল আলম বাবু বলেন, ‘দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের টেকসই বিকাশ এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে বিসিটিআইয়ের একটি স্থায়ী ও আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হলে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, গবেষণা কার্যক্রম, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং ব্যবহারিক দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।’

 

 

চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লাবিব নাজমুছ ছাকিব কর্মশালার সঞ্চালনা করেন। সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন বিসিটিআইয়ের উপপরিচালক মো. মোকছেদ হোসেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে চলচ্চিত্র শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে প্রাণবন্ত মতবিনিময় হয়।

 

ডোবায় জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

মাগুরা সদরের বজ্রুক শ্রীকুন্ঠি বালিয়াডাঙ্গা এলাকায় ডোবায় জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে ডুবে একই পরিবারের দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

 

 

 

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

 

 

নিহত দুই শিশু বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের মো. লিটন মিয়ার মেয়ে নূসরাত (৭) এবং একই এলাকার মো. জামাল উদ্দিনের ছেলে নাঈম (৬)। নিহতরা সম্পর্কে ফুপু-ভাতিজা।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল থেকে বাড়ির উঠানে খেলাধুলা করছিল দুই শিশু। সকাল ১০টার দিকে তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের ডোবার ধারে শিশু দুটির স্যান্ডেল দেখতে পেয়ে স্বজনদের সন্দেহ হয়। পরে তারা ডোবায় নেমে খোঁজ করতে থাকেন। কিছুক্ষণ পর ডোবার পানির ভেতর থেকে দুই শিশুকে উদ্ধার করে দ্রুত মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হয়।

মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ইমরান বলেন, দুটি শিশুকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসার পর তারা মারা যান।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বালিয়াডাঙ্গায় পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

অবশেষে চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছে নেইমার

গোটা ফুটবল দুনিয়ার ভক্ত-অনুরাগীদের বাড়তি নজর ছিল এবারের ব্রাজিলের দল ঘোষণায়। মন্টেভিডিওর সেই অভিশপ্ত রাতের পর দীর্ঘ আড়াই বছরের যন্ত্রণা, মাঠের বাইরের সমালোচনা আর অন্তহীন অপেক্ষায় ছিলেন নেইমার। অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে, সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে ২০২৬ হেক্সা মিশনের চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছেন নেইমার জুনিয়র।

 

 

 

সোমবার বাংলাদেশ সময় গভীর রাতে যখন আনচেলত্তি নেইমারের নাম উচ্চারণ করেন, তখন রিও ডি জেনিরোর ‘মিউজিয়াম অব টুমরো’র পুরো মিলনায়তন উল্লাসে ফেটে পড়ে। স্বস্তি ফিরে গোটা বিশ্বের নেইমার ভক্তদের হৃদয়ে।

 

 

 

ছেলের এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন নেইমারের বাবাও। ছেলের দীর্ঘ লড়াইকে স্মরণ করে নেইমারের বাবা লিখেছেন, ‘বাবা, ইনজুরির পর থেকে যে ব্যথা ও সংশয় আমাদের তাড়া করে বেরিয়েছে, সেটা নিয়ে আমি লিখতে পারতাম। এই পুরোটা সময়ে নীরব থেকে আমাদের যা পড়তে ও শুনতে হয়েছে, সেটাও স্মরণ করতে পারতাম। কিন্তু আজ খুশির দিন।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমার মনের মধ্যে কেবল একটি ব্যাপারই খেলা করছে, সেটা হলো তুমি যেখানেই গিয়েছ, সেখানেই তোমার নাম ধরে শিশুরা আনন্দে চিৎকার করেছে। এই মুহূর্তটার জন্য কত দীর্ঘ অপেক্ষা আর কঠোর পরিশ্রম করেছ, আমরা সেটা জানি। এই যাত্রায় সব যন্ত্রণা, সংশয় ও নীরবতা সঙ্গে ছিল। কিন্তু ঈশ্বর আমাদের সাহায্য করেছেন। অভিনন্দন বাবা, আরেকটি বিশ্বকাপের জন্য আমি তোমার সঙ্গে থাকব।’

ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৭৯টি আন্তর্জাতিক গোল করা নেইমার শেষবার দেশের জার্সিতে মাঠে নেমেছিলেন ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর। উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের সেই ম্যাচে ২-০ গোলে হেরেছিল ব্রাজিল। সেদিনই বাঁ হাঁটুর এসিএল ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন নেইমার। এরপর দীর্ঘ আড়াই বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে। আনচেলত্তি সেলেসাওদের দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম দলে ডাক পেলেন তিনি।

 

 

 

আর ফুটবল বিশ্লেষকদের ধারণা, নেইমারের ডাক পাওয়াতে যেন পূর্ণতা পেল ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডও। তবে এখন অপেক্ষা ব্রাজিলের হ্ক্সো জয়ের। আনচেলত্তির দল কী পারবেন দীর্ঘ দুই যুগের অপেক্ষা ঘুচাতে? তার উত্তর বলতে পারে কেবলই সময়।

 

হারুনের ভাইকে ঘিরে নতুন তদন্ত, জব্দের নির্দেশ আয়কর নথি

সাবেক ডিবি প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন্স) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের ভাই এ বি এম শাহারিয়ারের আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

 

 

 

মঙ্গলবার (১৯ মে) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

 

 

 

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। দুদকের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন তার আয়কর নথি জব্দের আদেশ দেন।

আবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট অ্যান্ড এগ্রো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ বি এম শাহারিয়ার ১২ কোটি ৯৬ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৪ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনপূর্বক ভোগ দখলে রাখেন। সাবেক ডিবি প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে আসামি শাহরিয়ারকে অপরাধে সহায়তা করেন।

মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সকল আয়কর রিটার্নসহ সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র জব্দ করে পর্যালোচনা করা একান্ত প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন।

 

 

২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর দুদক বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলার বিবরণে সাবেক ডিবি প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে ১৭ কোটি ৫১ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ, তার স্ত্রী শিরিন আক্তারের বিরুদ্ধে ১০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা এবং হারুনের ভাই এ বি এম শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে ১২ কোটি ৯৬ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

টেস্টে জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ

পাকিস্তানের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ। চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশনে ইতোমধ্যেই তুলে নিয়েছে সফরকারীদের মূল্যবান ৫ উইকেট। দ্বিতীয় সেশন শেষে ৫৩ ওভারে ২০০/৫ রান সংগ্রহ করেছে পাকিস্তান। জয়ের জন্য ২৩৭ রান চাই পাকিস্তানের। অন্যদিকে বাংলাদেশের দরকার প্রয়োজন ৫ উইকেট। তবে আজ পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ যখন বিদায় নেন তখন তার রান ছিল ৭১। টাইগারদের অভিজ্ঞ বোলার তাইজুল ইসলামের বলে ডিফেন্ড করতে গিয়েছিলেন তিনি। তার ব্যাটে লেগে বল সরাসরি চলে যায় ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে থাকা মাহমুদুল হাসান জয়ের হাতে। আর তাতেই ৭১-এ আটকে যান পাক অধিনায়ক।

 

 

 

শুধু রান নয়? শান মাসুদ এদিন আরও এক ৭১-এ আটকে যান। এই ৭১ আরও বেশি আক্ষরিক। ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে তার ক্যাচ নেওয়া মাহমুদুল হাসান জয়ের জার্সি নম্বরও যে ৭১!

 

 

 

তার আগে এই সেশনে প্রথম বিদায় নেন বাবর আজম। শান মাসুদের সঙ্গে তার ৯৩ রানের জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। উইকেটের পেছনে দারুণ ক্যাচ নেন অধিনায়ক লিটন দাস।

এরপর সৌদ শাকিলের ক্যাচটাও নিয়েছেন লিটন দাসই। নাহিদ রানার করা অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে তিনি ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে।

এক পাশ আগলে রেখে শান মাসুদ স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন পাকিস্তানকে। তবে তার বিদায়ে বড় এক ধাক্কাই খেয়েছে সফরকারীরা। বাংলাদেশ চলে গেছে জয়ের অনেক কাছে।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণা: বাড়ছে অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার স্টেশন

অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহের কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সক্ষমতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে ২০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলমান। এবং ডুবুরিদের সক্ষমতা বাড়াতে ৭২টি পদ সৃজনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

 

 

 

 

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর পূর্বাচল মাল্টিপারপাস ট্রেনিং গ্রাউন্ডে আয়োজিত ‘ফায়ার সার্ভিস সপ্তাহ, পদক বিতরণ ও পাসিং আউট প্যারেড’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

 

 

 

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সারা দেশে ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশনের মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সেবা প্রদান করছে, যা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়। এ কারণে জনগুরুত্ব বিবেচনায় নতুন স্টেশন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। গতি, সেবা ও ত্যাগের মন্ত্রে উজ্জীবিত এ বাহিনীর সদস্যরা দুর্যোগ-দুর্ঘটনা ও সংকটময় মুহূর্তে জনগণের জানমাল রক্ষায় নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। বিভিন্ন অগ্নিকাণ্ড ও দুর্যোগে তাদের পেশাদারি মনোভাব, সাহস ও সেবামূলক কার্যক্রম মানুষের আস্থা অর্জন করেছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জনবল নিয়োগ সম্পন্ন হলে নৌ-যান দুর্ঘটনা মোকাবিলায় এ বাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়বে। এছাড়া ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী সদস্য সংখ্যা ৩০ হাজারের বেশি করতে ফায়ার সার্ভিসের অর্গানোগ্রাম পুনর্গঠনের প্রস্তাবও বিবেচনাধীন রয়েছে। প্রশিক্ষণের মান উন্নয়নে গজারিয়া এলাকায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স একাডেমি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ফায়ার সার্ভিসের সেবা সহজীকরণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গত ১ মে থেকে অনলাইনভিত্তিক ই-ফায়ার লাইসেন্স কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সব উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতেও সরকার কাজ করছে। সদস্যদের আবাসন সমস্যা সমাধানে ঢাকার মিরপুর ও সদরঘাট এলাকায় দুটি বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া মিরপুরে সদর দপ্তর ভবনের নির্মাণকাজও চলমান। অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকাজে অংশ নিয়ে বিভিন্ন সময় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা জীবন উৎসর্গ করেছেন। সর্বশেষ টঙ্গী এলাকার কেমিক্যাল অগ্নিকাণ্ডে তিনজন কর্মী নিহত হয়েছেন।

 

 

 

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০২৫ সালে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ২৭ হাজার ৫৯টি অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম পরিচালনা করে ৩ হাজার ২৬৩ কোটি টাকার সম্পদ রক্ষা করেছে। এছাড়া ৭ হাজার ৮১৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ২৬৬ জন আহত ও ১ হাজার ৩৮ জন নিহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। একই বছরে অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে ১০ হাজার ৪৮০ জন রোগী পরিবহন, ১৪ হাজার ৯৮৭টি গণসংযোগ কার্যক্রম, ২ হাজার ৭৮টি ভবন সার্ভে এবং ১০ হাজার ৫৩৩টি ভবন পরিদর্শন করা হয়েছে। পাশাপাশি ১ হাজার ৩৯ জন নতুন কমিউনিটি ভলান্টিয়ার তৈরি এবং ২ লাখ ৫৬ হাজার ১৬৫ জনকে অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

২০২৫ সালে অপারেশনাল দায়িত্ব পালনকালে এ বাহিনীর তিনজন সদস্য নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়েছেন বলেও অনুষ্ঠানে জানানো হয়। তাদের বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ অনুষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদক প্রদান করা হয়েছে।

 

 

 

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মুহাম্মদ জাহেদ কামাল।

 

বেলকুচিতে ভূমি মেলা উদ্বোধন

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে ভূমি মেলা উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা চত্বরে  পরে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়।

 

র‍্যালিটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে উপজেলা অডিটোরিয়ামে ভূমি মেলা উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহান।

 

মঙ্গলবার ১৯ মে থেকে আগামী ২২ মে পর্যন্ত চলবে এ মেলা।

এসময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইশরাত জাহান, উপজেলার উচ্চ মাধ্যমিক কর্মকর্তা এস. এম গোলাম রেজা, উপজেলা প্রানিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ নাজমুল হক, বেলকুচি থানার তদন্ত কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য গোলাম আজম, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব বনি আমিন, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম শফি, বেলকুচি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রেজাউলসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

১৮ বিএনপি নেতাকে হত্যার হুমকি দিয়ে চিঠি ও বোমা পাঠালো দূবৃত্তরা

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জোড়পুকুরিয়া গ্রামে এবার বিএনপির ১৮ নেতাকর্মীকে হত্যার হুমকি দিয়ে চিরকুট ও দুটি হাতবোমা রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা।

 

রোববার (১৭ মে) দিবাগত রাতের কোনো একসময় জোড়পুকুরিয়া গ্রামের মধ্যপাড়া এলাকার বাবলুর বাড়ির সামনে, তিন রাস্তার মোড়ে লাল স্কসটেপ দিয়ে মোড়ানো বোমা ও চিরকুট দুটি কে বা কারা রেখে যায়।

 

 

স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস ও তদন্ত অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন ফোর্সসহ ঘটনাস্থল থেকে বোমা দুটি ও চিরকুট উদ্ধার করেন। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে বোমা দুটি পানিভর্তি বালতিতে রাখা হয়।

 

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফেলে যাওয়া চিরকুটে অশালীন ভাষা ব্যবহার করে হুমকি দিয়ে লেখা হয়েছে, ‘জয় বাংলা, ঘণ্টা সময় পাইলে তোদের বিএনপিদের যে কি হাল করব… লাবলুর মতো তোদের জবাই করব। পুলিশ আমাদের হয়ে কাজ করবে, আমরা টাকা দিই ওদের।

 


আরেকটি চিরকুটে ওই গ্রামের ১৮ জন বিএনপি নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে লেখা হয়েছে, ‘শেখ হাসিনা আসবে ৬ মাস সময়, জয় বাংলা, জোড়পুকুরের বিএনপিদের কি হাল যে করব… আমরা গ্রামে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত সবাই এক, দালালদের বাজারে পাইলে খবর আছে।’

 

চিরকুটে নাম থাকা জোড়পুকুরিয়া গ্রামের বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছেন, জেটিএস মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম হেলু মাস্টার, খলিল, মুজাম, হাপি, বেলু, মহিবুল ইসলাম, জিয়া, সেন্টু, মিঠুন, জিকো, সোহেল, সাহেব আলী, ইব্রাহিম, বাপ্পী, ইউসুফ, রফিকুল, জয়নাল ও সাজ্জাদ হোসেন।

 

 

বোমা ও হত্যার হুমকিসম্বলিত চিরকুট উদ্ধারের পর থেকে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও গ্রামবাসীর মাঝে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।

 

 

এদিকে এই স্পর্শকাতর ঘটনায় গাংনী থানার ওসি উত্তম কুমার দাস উদ্ধার অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করলেও ক্যামেরার সামনে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

 

ঘটনার তদন্ত ও জড়িতদের শনাক্তে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে। এর আগে জোড়পুকুরিয়া গ্রাম বিএনপির সভাপতি লাবলু হোসেনকে প্রকাশ্যে দিবালোকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছিল দূর্বৃত্তরা।

 

 

তাড়াশে তিন দিন ব্যাপি ভূমিসেবা মেলা শুরু

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সাধারণ মানুষকে দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত ভূমি সেবা দিতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ভূমি সেবা মেলা। মঙ্গলবার( ১৯’শে মে) সকালে উপজেলা ভূমি অফিস চত্বরে ফিতা কেটে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান।
উপজেলা ভূমি অফিসের আয়োজনে ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ জেড এম নাহিদ হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইউএনও নুসরাত জাহান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও নুসরাত জাহান বলেন, “ভূমি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এই আধুনিক ও ডিজিটালাইজড সেবার উদ্যোগ নিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় তাড়াশে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ভূমির সাথে মানুষের সম্পর্ক জন্ম-জন্মান্তরের। তাই ভূমি সেবায় শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে, যেন কোনো নাগরিক হয়রানির শিকার না হন। তাড়াশ উপজেলা ভূমি অফিস সাধারণ মানুষকে দ্রুত ও স্বচ্ছ সেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
মেলায় নামজারি, জমা-খারিজ, খতিয়ান যাচাই, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধসহ ডিজিটাল ভূমি সেবা এক ছাদের নিচে দেওয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষকে আর বারবার অফিসে দৌড়াতে হবে না।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি খন্দকার সেলিম জাহাঙ্গীর, স. ম আফছার আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম টুটুল, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক তপন গোস্বামী, আব্দুল বারিক খন্দকার,উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব  খন্দকার শাহাদত হোসেন সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
অনুষ্ঠান শেষে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি পৌরসভার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মেলা চলবে আগামী ৩ দিন।

 

 

সুইজারল্যান্ড যাওয়ার পথে গ্রেপ্তার হলেন ইউপি চেয়ারম্যান

সুইজারল্যান্ডে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পথে চেক প্রতারণা মামলায় গ্রেপ্তার হলেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লিটন মিয়া। তিনি চেক প্রতারণা মামলায় আদালত থেকে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।

 

সোমবার (১৮ মে) সকালে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করেছে পুলিশ প্রশাসন।

 

‎কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশ আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
‎জানা গেছে, চেক ডিজঅনার (এনআই অ্যাক্ট) সংক্রান্ত দুটি মামলায় চেয়ারম্যান লিটন মিয়াকে পৃথকভাবে এক বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে দুই মামলায় মোট ১১ লাখ টাকা অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়। আদালতের দেওয়া সেই গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
‎পরিবার সূত্রে জানা যায়, শারীরিক চিকিৎসার উদ্দেশ্যে সুইজারল্যান্ড যাওয়ার জন্য ঢাকা বিমানবন্দরে পৌঁছালে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে।
‎লিটন মিয়ার বড় ভাই এরশাদুল হক বলেন, “চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরই পুলিশ তাকে আটক করে।”ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

 

আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা: ব্যাক্তিগত সম্পত্তিতে খাল খনন!

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে জোরপূর্বক ব্যাক্তিগত জায়গার উপর দিয়ে খাল খননের অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের মাকড়কোলা গ্রামের মৃত মাজেদ আলীর স্ত্রী মোছাঃ সুফিয়া খাতুন এবং সন্তান মোঃ রায়হান সরকার, মোঃ আব্দুল মান্নান সরকার, মোঃ তৌফিক সরকার ও মোছাঃ মুসলিমা খাতুনের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১৪ মে শাহজাদপুর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের বিচারক মোঃ সানু আকন্দ জায়গার উপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেন। আদালতের নিষেধাজ্ঞার আদেশ পাওয়ার পরেও কোনকিছুর তোয়াক্কা না করে সম্পূর্ণ ব্যাক্তি মালিকানাধীন জায়গা খনন করে ক্যানেল করা হয়েছে।
জানা গেছে- চলতি অর্থ বছরে কৃষি সেচ উন্নয়ন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বর্তমান সরকারের খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আওয়াতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে শাহজাদপুরে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যায়ে ২ কিলো. ১৫০ মিটার খাল পুনঃখনন করা হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে ভেকু মেশিন দিয়ে খননকাজ চলমান থাকলেও বিপত্তি বাধে মাকড়কোলা লেবুতলা মৃত মাজেদ আলীর বাড়ির কাছে এসে। খাল খননের জন্য লাল নিশান টানানোর পরেই ঐ জায়গাকে নিজেদের ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি দাবি করে মৃত মাজেদ আলীর স্ত্রী মোছাঃ সুফিয়া খাতুন এবং সন্তান মোঃ রায়হান সরকার, মোঃ আব্দুল মান্নান সরকার, মোঃ তৌফিক সরকার ও মোছাঃ মুসলিমা খাতুন বাদী হয়ে হত ১৩ মে শাহজাদপুর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মামলায় বিবাদী করা হয় সিরাজগঞ্জ ডেপুটি কমিশনার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে। বিজ্ঞ আদালত নথিপত্র পর্যালোচনা করে ১৪ মে জায়গার উপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেন। তবে এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জোরপূর্বক গাছ উপরে ফেলে ক্যানেলের জন্য মাটি কাটা হয়েছে।
বাদী পক্ষের আইনজীবী মোঃ রাশিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিজ্ঞ আদালত নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পরেও জোরপূর্বক গাছ কেটে বাদীর জায়গার উপর দিয়ে খাল খনন করেছে।

 

ক্যামেরা জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন সিরাজগঞ্জের অভিষেক অনুষ্ঠান শুরু

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হলো ক্যামেরা জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন সিরাজগঞ্জের দিনব্যাপী অভিষেক অনুষ্ঠান। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন, বৃক্ষরোপন ও বর্নাঢ্য র‌্যালির মধ্যে দিয়ে অভিষেক অনুষ্ঠান শুরু হয়।

 

দিনের প্রথম প্রহরে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সংগঠনটির সদস্যরা। এরপর শহরের বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষরোপন শেষে বর্নাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের বাজার স্টেশন থেকে শুরু হয়ে চৌরাস্তায় গিয়ে শেষ হয়।

 

‎র‌্যালি উদ্বোধন করেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু।

‎কর্মসূচিগুলোতে ক্যামেরা জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশন সিরাজগঞ্জের নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন টেলিভিশনে সিরাজগঞ্জে কর্মরত রিপোর্টারেরা অংশগ্রহণ করেন।

 

সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবনে উৎসব কমিউনিটি সেন্টারে নব নির্বাচিত কমিটির অভিষেক ও পরিচিতি অনুষ্ঠিত হবে।

 

 

 

 

সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু

আগামি সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাজন শুরুর কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এক বছরের মধ্যে জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে বলে জানান তিনি।

 

মঙ্গলবার (১৯ মে) প্রতিমন্ত্রীর নিজ দপ্তরে আয়োজিত বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের আনুষ্ঠানিক যোগদান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

 

সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা কী, এমন প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে সংসদে সিটি কর্পোরেশন সংশোধন আইন-২০২৬ পাস হয়েছে।

 

নতুন আইনে দলীয় প্রতীক ছাড়া সাধারণ প্রতীকে মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় নিয়ে এক প্রশ্নে মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন সাধারণত উৎসবমুখর পরিবেশে হয়।

 

তাই বর্ষা শেষে শুষ্ক মৌসুমে নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনাই বেশি। আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে নির্বাচন শুরু হতে পারে।

 

সেপ্টেম্বরে কোন নির্বাচনটা শুরু হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটা এখনো ও রকম সিদ্ধান্ত হয়নি। আগে বাজেট দেখা হবে, কোন নির্বাচনে কত টাকা লাগবে। নির্বাচন আয়োজনের ব্যয়, নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি এবং অর্থ বিভাগের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

 

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন কবে থেকে শুরু হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সবচেয়ে বড় পরিসরের হওয়ায় এতে ব্যয়ও বেশি হবে। প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন করতে বিপুলসংখ্যক ব্যালট পেপার ছাপানোসহ নানা প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে। শুধু ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেই কমপক্ষে ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

 

তিনি আরও বলেন, আগামী বাজেটে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কমিশন ব্যয়ের হিসাব পাঠানোর পর অর্থ বিভাগ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন যৌথভাবে নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত করবে।

 

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম জানান, বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের তফসিল এবং অন্য ১২টি সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে একযোগে ঘোষণা করা হবে।

 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন সিটি কর্পোরেশনগুলোর কার্যক্রম গতিশীল করতে চলতি অর্থবছরেই প্রাথমিকভাবে ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের জন্যও দ্রুত বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

 

স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপি প্রস্তুতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্য দলগুলো নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলীয়ভাবে, আর যেহেতু নির্বাচনটা দলীয়ভাবে হবে না, তাই আমাদের দলের লোকজন তো নির্বাচন করবে নিরপেক্ষভাবে। বিএনপি বৃহৎ একটি রাজনৈতিক দল; যেকোনো সময় আন্দোলনের প্রস্তুতি যেমন থাকে, তেমনি আমাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি, ভোটের প্রস্তুতিও থাকে।

 

 

ঠাকুরগাঁওয়ে নানা আয়োজনে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা উদ্বোধন

“জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা: সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা ভূমি অফিস চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
পরে বেলুন উড়িয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক। এসময়  উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার খাইরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশাদুল হকসহ অন্যান্যরা।
উদ্বোধন শেষে উপজেলা ভূমি অফিস চত্বরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে ডিজিটাল সেবার পরিধি বৃদ্ধি করেছে। অনলাইনের মাধ্যমে নামজারি, খতিয়ান ও ভূমি উন্নয়ন করসহ বিভিন্ন সেবা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষ এখন দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা পাচ্ছেন।
তারা আরও বলেন, ভূমিসেবা মেলার মাধ্যমে জনগণকে ভূমি সংক্রান্ত আধুনিক ও ডিজিটাল সেবা সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি সরাসরি সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে এবং ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। পরে জমি অধিগ্রহণ বিক্রেতা ও ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে চেক বিতরন করা হয়।
এ সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও সেবাগ্রহীতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

আজ থেকে বাজারে মিলবে নতুন ডিজাইনের ৫ টাকার নোট

নতুন ডিজাইন ও বৈশিষ্ট্যের ৫ টাকার নোট বাজারে এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) থেকেই পাওয়া যাবে অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার স্বাক্ষরিত এই নোট।

 

প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস হতে এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য অফিস থেকে ইস্যু করা হবে।

‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শীর্ষক নতুন নতুন এই নোটের ডিজাইন ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য হলো-

নোটটির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৭ মি.মি × ৬০ মি.মি।

 

নোটের সম্মুখভাগের বামপাশে তারা মসজিদ, ঢাকার ছবি ও মাঝখানে ব্যাকগ্রাউন্ডে পাতা ও কলিসহ প্রস্ফুটিত জাতীয় ফুল শাপলার ছবি এবং নোটের পিছনভাগে গ্রাফিতি-২০২৪ এর ছবি আছে।

 

নোটে জলছাপ হিসেবে ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ’ এর নিচে উজ্জ্বল ইলেকট্রোটাইপ জলছাপ ‘5’ এবং ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মনোগ্রাম’ রয়েছে।

নোটটিতে হালকা গোলাপী রঙের আধিক্য রয়েছে। নোটের বামদিকে বিদ্যমান ২ মি.মি. চওড়া নিরাপত্তা সুতাটি নোটের কাগজের ভিতরে প্রবিষ্ট যা আলোর বিপরীতে ধরলে উভয় দিক হতে দেখা যায়।

 

এ ছাড়া, নোটের সামনের দিকে নীচের গ্লিউইশ প্যাটার্নের উপরের অংশে মাইক্রোপ্রিন্ট হিসেবে আনুভূমিকভাবে অসংখ্য ‘BANGLADESH’ লেখা আছে।

 

নতুন ডিজাইন ও বৈশিষ্ট্যের ৫ টাকা মূল্যমান নোটের পাশাপাশি বর্তমানে প্রচলিত সকল কাগুজে নোট এবং ধাতব মুদ্রাও যথারীতি চালু থাকবে।

 

এ ছাড়া, মুদ্রা সংগ্রাহকদের চাহিদার বিষয়টি বিবেচনা করে নিয়মিত নোটের পাশাপাশি ৫ টাকা মূল্যমান নমুনা নোট (যা বিনিময়যোগ্য নয়) মুদ্রণ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংক কারেন্সি মিউজিয়াম, মিরপুর থেকে নির্ধারিত মূল্যে সংগ্রহ করা যাবে।

 

 

উল্লাপাড়ায় তিন দিনব্যাপী ভূমি মেলার উদ্ধোধন করলেন হুইপ

  • রিপোর্টার:
  •  আপডেট টাইম : ১২:১৩:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় তিন দিনব্যাপী ভূমি মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে উপজেলা চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য র‍্যালি  বের হয়ে ভুমি অফিসে  গিয়ে শেষ হয়।
ভূমি সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে উপজেলা ভূমি অফিসের উদ্যোগে এ মেলার আয়োজন করা হয়।
মেলায় বিভিন্ন সরকারি সেবা, নামজারি, খতিয়ান, ভূমি উন্নয়ন কর ও অনলাইন সেবা বিষয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন আক্তার রিমা এবং ওসি তদন্ত রুপকর,উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক শাহজাহান আলী,উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজাদ হোসেন সহ অনেকে।

 

সব জল্পনার অবসান, বিশ্বকাপে যাচ্ছেন নেইমার

অনেক দিন ধরেই গুঞ্জন ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপে হয়তো দর্শক হয়ে থাকতে হতে পারে নেইমারকে।
কেননা ফিটনেসের সমস্যায় ভুগছেন ৩৪ বছর বয়সী তারকা। তাতে মৌসুমের বেশিরভাগ সময়ই চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে।
কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাই ব্রাজিলিয়ান তারকাকে শর্ত জুড়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপে সুযোগ পেতে হলে ফিটনেস পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হতে হবে। সুযোগ পাওয়ায় বলা যায় সেই পরীক্ষায় পাস করেছেন নেইমার। 
সান্তোসের হয়ে এবারের মৌসুমে ১৫ ম্যাচ খেলে ৬ গোল করেছেন। সঙ্গে ৪ গোলে সহায়তাও করেছেন সাবেক বার্সেলোনা ও পিএসজির ফরোয়ার্ড।নিশ্চয়ই ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে আরও দারুণ কিছু করার প্রত্যয় নিয়েই মাঠে নামবেন তিনি। কার্লো আনচেলত্তি নেইমারের নাম ঘোষণা করতেই রিও ডি জেনেইরোর মিউজিয়াম অব টুমরোতে করতালির ঝড় ওঠে।দল ঘোষণার আগে সিবিএফ টিভিকে আনচেলত্তি বলেছেন, ‘যোগ্যতা, প্যাশন এবং অজ্ঞিতার সমন্বয়ে দলটি সাজানো হয়েছে। দলটি দারুণ হয়েছে। এটি কোনো নিখুঁত তালিকা না, তবে এমন একটি দল দেওয়া হয়েছে যেখানে ভুলের সংখ্যা সামান্য।আমাদের মূল লক্ষ্য বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপকে জাঁকজমকপূর্ণ করে তোলা।’ 

 

এর আগে রিও ডি জেনেইরোর মিউজিয়াম অব টুমরোতে দল ঘোষণায় দেশি-বিদেশি প্রায় ৭০০ সংবাদকর্মীকে আমন্ত্রণ জানায় সিবিএফ। বিশেষ অতিথিরা তো ছিলেনই। উপস্থিত বিশেষ দর্শকদের বিমোহিত করতে গান, নাচ ও অভিনয়ের ব্যবস্থা করা হয় সিবিএফের পক্ষ থেকে। মাঝে মাঝে দেখানো হয় ফুটবল বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ইতিহাস। অন্যদিকে অনুষ্ঠান চলাকালীন সময় সামনের সারিতে বিশ্বকাপের ফাইল হাতে বসে থাকতে দেখা যায় আনচেলত্তিকে। পারফরমারদের পারফরম্যান্স দেখে কখনো হাসতেছেন আবার কখনো করতালি দিয়ে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি।

 

বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপে পড়েছে ব্রাজিল। আগামী ১৪ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এরপর ২০ জুন প্রতিপক্ষ হাইতি এবং ২৫ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে স্কটল্যান্ডের। আগামী ১১ জুন শুরু হবে ২০২৬ বিশ্বকাপ। এবারের আসরের যৌথ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা।

 

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াড:
গোলরক্ষক: অ্যালিসন, এদারসন ও ওয়েভারটন।
ডিফেন্ডার: ব্রেমার, গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস, ইবানেজ, লিও পেরেইরা, মার্কিনিওস অ্যালেক্স সান্দ্রো, দানিলো, ডগলাস সান্তোস ও ওয়েসলি।
মিডফিল্ডার: ব্রুনো গুইমারেস, কাসেমিরো, দানিলো দস সান্তোস, ফাবিনহো ও লুকাস পাকেতা।
ফরোয়ার্ড: নেইমার জুনিয়র, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া, গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি, ম্যাথিউস কুনিয়া, লুইজ হেনরিকে, এন্ড্রিক, ইগর থিয়াগো ও রায়ান।

 

৫০ লাখ টাকার হেরোইনসহ র‌্যাবের হাতে আটক নারী

সিরাজগঞ্জে অভিযান চালিয়ে ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ৫০০ গ্রাম হেরোইনসহ মোছা. রেহেনা (৩৫) নামে এক নারীকে আটক করেছে র‌্যাব-১২ সদস্যরা।

 

সোমবার (১৮ মে) ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

 

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১২ সিরাজগঞ্জ সদর কোম্পানির কমান্ডার কাপ্টের তাবরীজ তাজওয়ার শরীফ। আটক রেহেনা রাজশাহী জেলার বাসিন্দা মো. মোস্তফার স্ত্রী।

 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব কমান্ডার উল্লেখ করেন, গোপন সংবাদ ও তথ্য প্রযুক্তির ভিত্তিতে হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৫০০ গ্রাম হেরোইন জব্দ করা হয়েছে।

 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে আটক নারী দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহীর সীমান্ত এলাকা থেকে হেরোইন সংগ্রহ করে নিজে পরিবহন করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মাদক ব্যাবসায়ীদের নিকট সরবরাহ করে আসছে।

 

এ ঘটনায় সলঙ্গা থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।

 

 

ইউনূসের বিত্তবৈভব প্রতারণা ও জালিয়াতি

  • অদিতি করিম
  •  আপডেট টাইম : ০৯:১২:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

ড. ইউনূস শান্তিতে নোবেলজয়ী। দেড় বছর অন্তর্র্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সবকিছু ছাপিয়ে তিনি একজন আত্মকেন্দ্রিক, স্বার্থপর এবং লোভাতুর মানুষ হিসেবেই বিবেচিত হবেন। ড. ইউনূস অন্তর্র্বর্তী সরকারের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় দেশের জন্য কিছু করুন আর না-ই করুন নিজের জন্য দুহাত ভরে বিভিন্ন সুযোগসুবিধা গ্রহণ করেছেন।

 

তবে ইউনূসের জীবন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেড় বছর প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনকালে তিনি যেভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজে নানা ধরনের আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন, তেমনি সারা জীবন সরকারি অর্থ দিয়ে ব্যবসা করে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। দারিদ্র্য বিমোচনের নামে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান গড়ে তিনি রাষ্ট্রের সম্পদ দিয়েই নিজে বিত্তবান হয়েছেন।
মুহাম্মদ ইউনূস। দেশের সমস্যা নিয়ে তিনি নীরব।

 

দেশের কোনো সংকটে, উৎসবে তিনি থাকেন না। ব্যক্তিস্বার্থে বিদেশে তিনি সরব। হামে শিশুমৃত্যু নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই। কিন্তু ট্রেড টার্নারের মৃত্যুতে তিনি মর্মাহত হয়ে শোকবার্তা দেন। ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে দারিদ্র্যকে জাদুঘরে পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। দারিদ্র্য জাদুঘরে যায়নি বটে, তবে তিনি অর্থ, বিত্তবৈভবের জাদু দেখিয়েছেন। এখন ‘সামাজিক ব্যবসার’ আওয়াজ তুলে বিশ্বে বক্তৃতা দিচ্ছেন। সামাজিক ব্যবসা প্রবর্তন হোক না-হোক তার বিত্তের প্রসার ঘটেছে। শিক্ষক থেকে তিনি হয়ে উঠেছেন বিলিয়নিয়ার। কিন্তু তার এই বিত্ত বেড়ে ওঠেছে গরিবের সম্পদ লুটে; সরকারকে ঠকিয়ে; রাষ্ট্রীয় সম্পদকে আত্মসাৎ করে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পেশাগত জীবনে অর্থনীতিবিদ হলেও নোবেল পেয়েছেন শান্তিতে।

 

জোবরা গ্রামে গবেষণা শুরু করেছিলেন ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম নিয়ে। একসময় এই দরিদ্র, হতদরিদ্র মানুষদের স্বাবলম্বী করে তোলার কথা বলে দারস্থ হয়েছিলেন বাংলাদেশ সরকারের কাছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রস্তাবেই এরশাদ সরকার গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে। ড. ইউনূস সেখানে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের চাকরি নেন। ১৯৮৩ সালে এটি একটি বৈধ ও স্বতন্ত্র ব্যাংক হিসেবে যাত্রা শুরু করে। সরকার গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে একটি আইনের মাধ্যমে ও সেখানে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে।

 

১৯৮৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সরকার গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ নামে একটি অধ্যাদেশ (অধ্যাদেশ নম্বর-৪৬) জারি করে। সে সময়ে গ্রামীণ ব্যাংক শুরু হয় মাত্র ৩ কোটি টাকা মূলধন দিয়ে। এর মধ্যে বেশির ভাগ টাকা অর্থাৎ ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ছিল সরকারের এবং ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ছিল ঋণগ্রহীতাদের। অর্থাৎ গ্রামীণ ব্যাংকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যক্তিগত কোনো টাকা ছিল না। অথচ গ্রামীণ ব্যাংককে ব্যবহার করেই ড. ইউনূস পেয়েছেন সবকিছু। কাগজকলমে গ্রামীণ ব্যাংকের মালিক সরকার এবং ঋণগ্রহীতা জনগণ। কিন্তু ‘অসাধারণ’ মেধায় রাষ্ট্র এবং জনগণের অর্থ ড. ইউনূস পুরে ফেলেন তার পকেটে। গ্রামীণ ব্যাংকের টাকায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস গড়ে তুলেছেন তার নিয়ন্ত্রণাধীন ২৮টি প্রতিষ্ঠান ও গ্রামীণ ব্যাংক তথা সরকারের টাকা আত্মসাৎ করে তিনি এখন হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।

 

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দাতা গোষ্ঠী অনুদান ও ঋণ দেয় গ্রামীণ ব্যাংককে। অনুদানের সব অর্থ যদি রাষ্ট্র এবং জনগণের কাছে যায় তাহলে ড. ইউনূসের লাভ কি? তাই দাতাদের অনুদানের অর্থ দিয়ে গঠন করলেন সোশ্যাল ভেনচার ক্যাপিটাল ফান্ড (এসভিসিএফ)। ১৯৯২ সালের ৭ অক্টোরব ওই ফান্ড দিয়ে আলাদা একটি প্রতিষ্ঠান গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৯৪ সালে ‘গ্রামীণ ফান্ড’ নামের একটি লিমিটেড কোম্পানি গঠন করা হয়। তাতে ওই ফান্ডের ৪৯ দশমিক ১০ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়। গ্রামীণ ব্যাংক দেখিয়ে বিদেশ থেকে টাকা এনে তা সরিয়ে ফেলার চেষ্টা ছিল শুরু থেকেই। গ্রামীণ ব্যাংক সরকারি প্রতিষ্ঠান হলেও ড. ইউনূস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে সব সিদ্ধান্ত একাই নিতেন। পরিচালনা পর্ষদ এমনভাবে গঠন করা হয়েছিল, যাতে কেউ ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে কথা না বলেন। ড. ইউনূস এই সুযোগটি কাজে লাগান। ১৯৯৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর গ্রামীণ ব্যাংকের ৩৪তম বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয় দাতা গোষ্ঠীর অনুদানের অর্থ ও ঋণ দিয়ে সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট ফান্ড (এসএএফ) গঠন করা হয়। কিন্তু দাতারা গ্রামীণ ব্যাংক থেকে এভাবে অর্থ সরিয়ে ফেলার আপত্তি জানান। তারা সাফ জানিয়ে দেন, এভাবে অর্থ স্থানান্তর জালিয়াতি। এবার ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করেন ড. ইউনূস। আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে তিনি জানান এটি একটি ভুল সিদ্ধান্ত। ভবিষ্যতে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন বলে অঙ্গীকার করেন তিনি। পরে ২৫ এপ্রিল, ১৯৯৬ সালে তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ড সভায় ‘গ্রামীণ কল্যাণ’ গঠনের প্রস্তাব আনেন।

 

প্রস্তাবে বলা হয়, গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্য এবং কর্মীদের কল্যাণে ‘কোম্পানি আইন ১৯৯৪’-এর আওতায় ‘গ্রামীণ কল্যাণ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করা হলো। গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ড সভা এই প্রস্তাব অনুমোদন করে। এটি গ্রামীণ ব্যাংকেরই অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। গ্রামীণ কল্যাণ যে গ্রামীণ ব্যাংকেরই শাখা প্রতিষ্ঠান, তা আরও স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় এর মূলধন গঠন প্রক্রিয়ায়। গ্রামীণ কল্যাণে গ্রামীণ ব্যাংকের সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট ফান্ড (এসএএফ) থেকে ৬৯ কোটি টাকা প্রদান করা হয়। গ্রামীণ কল্যাণের মেমোরেন্ডাম অব আর্টিকেলেও গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে এর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলে। মেমোরেন্ডাম অব আর্টিকেল অনুযায়ী গ্রামীণ কল্যাণের ৯ সদস্যের পরিচালনা পরিষদের ২ জন সদস্য হবেন গ্রামীণ ব্যাংকের মনোনীত প্রতিনিধি। এ ছাড়াও গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান হবেন গ্রামীণ ব্যাংকের মনোনীত প্রতিনিধি। গ্রামীণ ব্যাংকের মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে ড. ইউনূস গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান হন। এরপরে গ্রামীণ কল্যাণ হয়ে ওঠে ড. ইউনূসের ‘সোনার ডিম পাড়া রাজহাঁস’।

 

গ্রামীণ কল্যাণের মাধ্যমে তিনি গড়ে তোলেন একাধিক প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-১. গ্রামীণ টেলিকম লি., ২. গ্রামীণ ডিস্ট্রিবিউশন লি., ৩. গ্রামীণ শিক্ষা, ৪. গ্রামীণ নিটওয়্যার লি., ৫. গ্রামীণ ব্যবস্থা বিকাশ, ৬. গ্রামীণ আইটি পার্ক, ৭. গ্রামীণ ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট, ৮. গ্রামীণ সল্যুশন লি., ৯. গ্রামীণ ডানোন ফুডস লি., ১০. গ্রামীণ হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস লি., ১১. গ্রামীণ স্টার এডুকেশন লি., ১২. গ্রামীণ ফেব্রিক্স অ্যান্ড ফ্যাশন লি., ১৩. গ্রামীণ কৃষি ফাউন্ডেশন।

 

অন্যদিকে গ্রামীণ কল্যাণের আদলে প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ফান্ডের মাধ্যমে গঠন করা হয় আরও কিছু প্রতিষ্ঠন। এগুলো হলো-১. গ্রামীণ ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লি., ২. গ্রামীণ সল্যুশন লি., ৩. গ্রামীণ উদ্যোগ ৪. গ্রামীণ আইটেক লি., ৫. গ্রামীণ সাইবারনেট লি., ৬. গ্রামীণ নিটওয়্যার লি., ৭. গ্রামীণ আইটি পার্ক ৮. টিউলিপ ডেইরি অ্যান্ড প্রোডাক্ট লি., ৯. গ্লোব কিডস ডিজিটাল লি., ১০. গ্রামীণ বাইটেক লি., ১১. গ্রামীণ সাইবার নেট লি., ১২. গ্রামীণ স্টার এডুকেশন লি., ১২. রফিক অটোভ্যান মানুফ্যাকচারার লি., ১৩. গ্রামীণ ইনফরমেশন হাইওয়ে লি., ১৪. গ্রামীণ ব্যবস্থা সেবা লি., ১৫. গ্রামীণ সামগ্রী।

 

মজার ব্যাপার হলো, গ্রামীণ ব্যাংকের অর্থে ও বোর্ড সভার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ‘গ্রামীণ কল্যাণ’ ও ‘গ্রামীণ ফান্ড’ গঠিত হয়। এই দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যে প্রতিষ্ঠানগুলো গঠিত হয়েছে- তা সবই আইনত গ্রামীণ ব্যাংকের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু ২০২০ সাল পর্যন্ত গ্রামীণ ফান্ড এবং গ্রামীণ কল্যাণের পরিচালনা পর্ষদে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিনিধি থাকলেও ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠান দুটিতে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিনিধি নেই। গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই দুইটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হবেন গ্রামীণ ব্যাংকের মনোনীত ব্যক্তি। কিন্তু ড. মুহাম্মদ ইউনূস এখনো গ্রামীণ কল্যাণ ও গ্রামীণ ফান্ডের চেয়ারম্যান পদে বহাল আছেন। রাষ্ট্রের অর্থ দিয়ে ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার এই এক অদ্ভুত জালিয়াতি।

 

গ্রামীণ কল্যাণ ও গ্রামীণ ফান্ডের মাধ্যমে গঠিত ২৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একমাত্র গ্রামীণ টেলিকম ছাড়া আর সব প্রতিষ্ঠানই লোকসানি। গ্রামীণ টেলিকম দেশের সর্ববৃহৎ মোবাইল নেটওয়ার্ক গ্রামীণফোনের ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ শেয়ারের মালিক। ২০২২ সালে গ্রামীণফোন ট্যাক্স, ভ্যাট দেওয়ার পর নিট মুনাফা করেছে ৩ হাজার ৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ গ্রামীণফোন থেকে গ্রামীণ টেলিকম প্রতিবছর নিট মুনাফা পায় ১ হাজার কোটি টাকার বেশি। গ্রামীণফোনের লভ্যাংশ নয়ছয় করা ছাড়া গ্রামীণ টেলিকমের আর কোনো কাজ নেই। একটু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, গ্রামীণ ব্যাংক থেকে টাকা সরিয়ে গ্রামীণ কল্যাণের মাধ্যমে যে প্রতিষ্ঠানগুলো গঠন করা হয়েছে; তার সবগুলোর চেয়ারম্যান ড. ইউনূস। আর এই প্রতিষ্ঠানগুলোর এমডি পদে নিয়োগ দেওয়া হয় ড. ইউনূসের একান্ত অনুগত ও বিশ্বস্তদের। এই প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিষ্ঠার এক বড় কার্যক্রম হলো গ্রামীণ টেলিকমের লাভের টাকা আত্মসাৎ করা ও আয়কর ফাঁকি।

গ্রামীণ টেলিকম কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ধারা ২৮ এবং ২৯-এর বিধান লঙ্ঘন করে গ্রামীণফোন লিমিটেড থেকে গ্রামীণ কল্যাণকে তার লভ্যাংশ আয়ের ৪২.৬% বিতরণ করে আসছে। যদিও গ্রামীণ কল্যাণ গ্রামীণফোন লিমিটেডের শেয়ারহোল্ডার নয়। আইন অনুযায়ী গ্রামীণ টেলিকমের সমগ্র লভ্যাংশ আয়কে এর আয় হিসেবে ভোগ করতে হবে ও সেই অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট আর্থিক বছরের জন্য প্রযোজ্য করপোরেট হারে কর দিতে হবে।

 

কিন্তু তাদের নিরীক্ষিত হিসাব পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তারা গ্রামীণ টেলিকম থেকে গ্রামীণ কল্যাণকে তাদের লভ্যাংশ আয়ের প্রায় অর্ধেক প্রদান করেছে শুধু অগ্রিম আয়কর (এআইটি) ১০-২০% হারে। অথচ আইন অনুযায়ী তাদের জন্য প্রযোজ্য করপোরেট করের হার ছিল ৩৫% থেকে ৩৭.৫% পর্যন্ত। এই করপোরেট রেট ও ডিভিডেন্ট ট্যাক্সের পার্থক্য কর ফাঁকি। কারণ গ্রামীণ কল্যাণ প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোনোভাবেই গ্রামীণ টেলিকমের লভ্যাংশ আয়ের অধিকারী নয়। গ্রামীণ টেলিকম শুরু থেকে যেসব কর ফাঁকি দিয়েছে সেগুলো যোগ করলে এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। এই কর ফাঁকির হিসাব শুধু গ্রামীণ টেলিকমের। ড. ইউনূসের নিয়ন্ত্রিত অন্যান্য কোম্পানি এবং প্রতিষ্ঠান ও তার ব্যক্তিগত আয়করের ক্ষেত্রেও ব্যাপকভাবে কর ফাাঁকির ঘটনা অনেকটা স্বাভাবিক নিয়মের মতোই বহু বছর ধরে ঘটেছে। ড. ইউনূসনিয়ন্ত্রিত অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কর ফাঁকির ঘটনাগুলো হিসাব করলে এই পরিমাণ দাঁড়াবে বিশাল অঙ্কের। এ নিয়ে মামলা হয়েছিল। হাই কোর্ট ইউনূসকে অতিরিক্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার অনাদায়ি কর পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছিল। ইউনূস সে সময় বলেছিলেন আদালত বলেছে কর দিতে আমি দেব। তিনি দাবি করেন, তিনি কর ফাঁকি দেননি, আদালতের নির্দেশনা চেয়েছেন। কিন্তু ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর ক্ষমতার অপব্যবহার করে ওই কর ফাঁকির মামলা প্রত্যাহার করান ড. ইউনূস।

 

গ্রামীণ টেলিকমের ২৮ বছরের কার্যক্রম চলাকালীন প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার কর ফাঁকি দেওয়া হয়। এই দীর্ঘ সময়ে ড. ইউনূস প্রতি বছর শতকরা ১৫ থেকে ২৫ ভাগ পর্যন্ত কর ফাঁকি দিয়ে আসছেন। ১৯৯৭ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর গ্রামীণ টেলিকমে ড. ইউনূস ২৫% কর ফাঁকি দিয়েছেন। ওই সময়ে কর ছিল ৩৫%, প্রদান করেছিলেন মাত্র ১০%। ২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানে ড. ইউনূস কর ফাঁকি দিয়েছেন বছরে ২০%। ওই সময়ে কর ছিল ৩৫%, প্রদান করেছিলেন মাত্র ১৫%। ২০০৯ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ড. ইউনূস নিয়ন্ত্রিত গ্রামীণ টেলিকমে প্রতি বছর ১৫% কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে কর ছিল ৩৫%, আর প্রদান করেছিলেন মাত্র ২০%।

এটি লক্ষণীয় ড. ইউনূস তার কর ফাঁকির বিষয়গুলো ধামাচাপা দিতে দেশের আদালতে বেশ কিছু মামলা এবং রিট পিটিশন দায়ের করেন। এসব মামলা এবং রিটের উদ্দেশ্য হচ্ছে কর ফাঁকিসংক্রান্ত বিষয়ে ড. ইউনূসকে যেন আইনের মুখোমুখি হতে না হয়। ড. ইউনূসের করসংক্রান্ত প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার কর ফাঁকির বিষয়গুলো দালিলিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ড. ইউনূসের কর ফাঁকির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় এবং নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের দ্বারা পরিচালিত তদন্তে এটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে ড. ইউনূস নিজে ও তার নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলো তার নির্দেশনাতেই কর ফাঁকির অপরাধে জড়িত। ইউনূস তার দেড় বছরের শাসনকালে তার বিরুদ্ধে চলমান এনবিআরের সব মামলা এবং তদন্ত কার্যক্রম বন্ধ করে দেন।

 

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে তিনটি। এই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তিনটি হলো যথাক্রমে- ১. সাউথইস্ট ব্যাংক, (অ্যাকাউন্ট নম্বর-০২১২১০০০২০০৬১), ২. স্ট্যান্ডার্ড চার্টাড ব্যাংক, (অ্যাকাউন্ট নম্বর-১৮১২১২৭৪৭০১) এবং ৩. রূপালী ব্যাংক, (অ্যাকাউন্ট নম্বর-০৪৮৯০১০০০৮০৯৬)। এই তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মধ্যে ২০০০ সালে খোলা সাউথইস্ট ব্যাংকের অ্যাকাউন্টটি (অ্যাকাউন্ট নম্বর-০২১২১০০০২০০৬১) তার মূল ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হিসেবেই প্রতীয়মান হয়েছে। এই অ্যাকাউন্টে ২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১১৮ কোটি ২৭ লাখ ৭৬ হাজার ৩৬৮ টাকা রেমিট্যান্স এসেছে। এই রেমিট্যান্সের বেশির ভাগ ৪৭ কোটি ৮৯ লাখ ৯৬ হাজার ৬৫২ টাকা এসেছে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে। সেই সময়েই একটি রাজনৈতিক দল গঠনেরও প্রয়াস করেছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কি এক-এগারোর বিরাজনীতিকরণের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে ইউনূসের কাছে বিদেশ থেকে টাকা এসেছিল?

 

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ট্যাক্স ফাইল বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ২০০৩ সালের পরে নোবেল বিজয়ীর তকমাধারী ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার ট্যাক্স ফাইলে ২০০৫-০৬ করবছরে তিনি সর্বমোট ৯৭ কোটি ৪ লাখ ৬১ হাজার ১৯১ টাকা রেমিট্যান্স প্রাপ্তির কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু ওই সময়ে তার ব্যক্তিগত সাউথইস্ট ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে রেমিট্যান্স প্রাপ্তির পরিমাণ ১১৫ কোটি ৯৮ লাখ ৯৬ হাজার ২৪ টাকা। অর্থাৎ ওই সময়ে তিনি ১৮ কোটি ৯৪ লাখ ৩৪ হাজার ৮৩৫ টাকার রেমিট্যান্স প্রাপ্তির তথ্য সরকারকে কর ফাঁকি দেওয়ার লক্ষ্যে তার ব্যক্তিগত ট্যাক্স ফাইলে গোপন করেছেন। এটি স্পষ্ট অর্থ পাচারের দোষে দুষ্ট।

 

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের ডেবিট অ্যানালাইসিসে উঠে এসেছে অপ্রদর্শিত অর্থসমূহের মূল অংশ তিনি সাউথইস্ট ব্যাংকের অন্য দুটি অ্যাকাউন্ট, সাউথইস্ট ব্যাংকের ১৫ নম্বর ব্রাঞ্চের ট্রাভেল ইন্টারন্যাশনাল লি. নামের (অ্যাকাউন্ট নম্বর- ৭৩৩০০০০০৩৩৩৯) ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১১ কোটি ১৪ লাখ ৩১ হাজার ৭৬৭ টাকা এবং ০০৩৫ নম্বর ব্রাঞ্চের (অ্যাকাউন্ট নম্বর-৯০৩০৩১৬০৯১০) ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা স্থানান্তর করেছেন। অর্থ পাচারের জন্যই এভাবে টাকা এক ব্যাংক থেকে আরেক ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়।

 

সরকারকে কর ফাঁকি দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর বছরে তিনি তার ব্যক্তিগত ট্যাক্স ফাইলে নিজস্ব সাউথইস্ট ব্যাংকে প্রাপ্ত বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্সের তথ্য গোপন করেছেন। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে তিনি রেমিট্যান্স প্রাপ্ত হয়েছেন ১৫ কেটি ১১ লাখ ৩১ হাজার ৪৭ টাকা। কিন্তু তিনি তার ট্যাক্স ফাইলে প্রদর্শন করেছেন ৯ কোটি ১৪ লাখ ৫৮ হাজার ৪৮৯ টাকা। ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট এবং ট্যাক্স বা কর ফাইলের সঙ্গে এখানে পার্থক্য রয়েছে ৫ কোটি ৯৬ লাখ ৭২ হাজার ৫৫৯ টাকা। ২০০৮-০৯ কর বছরে তিনি রেমিট্যান্স প্রাপ্ত হয়েছেন ১১ কোটি ৮৩ লাখ ১৪ হাজার ৪১০ টাকা। অথচ তিনি তার ট্যাক্স ফাইলে উল্লেখ করেছেন ১০ কোটি ৪০ লাখ ২৪ হাজার ৮৩২ টাকা। এখানে তিনি ১ কোটি ৪২ লাখ ৮৯ হাজার ৫৭৮ টাকার তথ্য গোপন করেছেন। ২০০৯-১০ কর বছরে তিনি রেমিট্যান্স প্রাপ্ত হয়েছেন ২০ কোটি ৯৫ লাখ ৫১ হাজার ১৯৫ টাকা। তিনি তার ট্যাক্স ফাইলে উল্লেখ করেছেন ১৮ কোটি ৯৯ লাখ ২৮ হাজার ৭৩১ টাকা। এখানে তিনি ১ কোটি ৯৬ লাখ ২২ হাজার ৪৬৫ টাকার তথ্য গোপন করেছেন। ২০১০-১১ কর বছরে তিনি রেমিট্যান্স প্রাপ্ত হয়েছেন ৮ কোটি ১৮ লাখ ৬৫ হাজার ২০৪ টাকা। অথচ তার ট্যাক্স ফাইলে উল্লেখ করেছেন ৬ কোটি ৬০ লাখ ৪৪ হাজার ৯২ টাকা। এখানে তিনি ১ কোটি ৫৮ লাখ ২১ হাজার ১১২ টাকার তথ্য গোপন করেছেন। ২০১১-১২ কর বছরে তিনি রেমিট্যান্স প্রাপ্ত হয়েছেন ৫ কোটি ৯১ লাখ ৫ হাজার ৫৮৬ টাকা। আর ট্যাক্স ফাইলে উল্লেখ করেছেন ৪ কোটি ৬৫ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭২ টাকা। এখানে তিনি ১ কোটি ২৫ লাখ ৬৯ হাজার ১৪ টাকার তথ্য গোপন করেছেন। ২০১২-১৩ কর বছরে তিনি রেমিট্যান্স প্রাপ্ত হয়েছেন ৮ কোটি ৩৭ লাখ ২ হাজার ৭৭ টাকা। তিনি তার ট্যাক্স ফাইলে উল্লেখ করেছেন ৬ কোটি ৫০ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৫ টাকা। এখানে তিনি ১ কোটি ৮৬ লাখ ৩৫ হাজার ৪১২ টাকার তথ্য গোপন করেছেন। ২০১৩-১৪ কর বছরে তিনি রেমিট্যান্স প্রাপ্ত হয়েছেন ১০ কোটি ৫৫ লাখ ৪২ হাজার ৩৩৬ টাকা। তিনি তার ট্যাক্স ফাইলে উল্লেখ করেছেন ৭ কোটি ৯৮ লাখ ৫৯ হাজার ৫৪৪ টাকা। এখানে তিনি ২ কোটি ৫৬ লাখ ৮২ হাজার ৭৯৩ টাকার তথ্য গোপন করেছেন। ২০১৪-১৫ কর বছরে তিনি রেমিট্যান্স প্রাপ্ত হয়েছেন ৭ কোটি ১৪ লাখ ৫৭ হাজার ২০৭ টাকা। অথচ ট্যাক্স ফাইলে উল্লেখ করেছেন ৫ কোটি ১৬ লাখ ৬১ হাজার ৫৯৮ টাকা। এখানেও তিনি ১ কোটি ৯৭ লাখ ৯৫ হাজার ৬০৯ টাকার তথ্য গোপন করেছেন।

 

২০০০ সালের পর থেকে এমন প্রতিটি কর বছরে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স প্রাপ্ত হয়ে কোটি কোটি টাকার তথ্য গোপন করে সরকারের কর ফাঁকি দিয়েছেন। ২০০৫-০৬ কর বছর থেকে শুরু করে চলতি কর বছর পর্যন্ত সরকারকে কর ফাঁকি দেওয়ার লক্ষ্যে তিনি ১৮ কোটি ৯৪ লাখ ৩৪ হাজার ৮৩৫ টাকা রেমিট্যান্সের তথ্য গোপন রেখেছেন। মজার ব্যাপার হলো, ২০২০-২১ অর্থবছরে ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় সব টাকা তুলে ‘ইউনূস ট্রাস্ট’ গঠন করেন। ট্রাস্টের টাকা আয়করমুক্ত। সেই হিসাব থেকেই এমন কাণ্ড করেন তিনি। কিন্তু এরকম ফান্ডের জন্য ১৫ শতাংশ কর দিতে হয়, এটি তিনি দেননি। এই ট্যাক্স ফাঁকির কারণেই তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এই মামলায় তিনি হেরে যান।

 

ড. ইউনূস ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার জন্য যে ট্রাস্ট গঠন করেন তার একটি মাত্র কার্যক্রম দেখা যায়। তা হলো ড. ইউনূস ও তার পরিবারের সব ব্যয় বহন করা হয় এই ট্রাস্টের টাকায়। এটাও এক ধরনের জালিয়াতি। এই ট্রাস্ট যেই ধরনের সমাজসেবামূলক কার্যক্রম করবে বলে আঙ্গীকার করা হয়েছে, তার কিছুই করে না। তাহলে কি কর ফাঁকি দিয়ে বিলাসী জীবন যাপনের জন্যই এই ট্রাস্ট? একজন নোবেলজয়ী ব্যক্তি, কীভাবে রাষ্ট্র ও জনগণের সঙ্গে এই রকম প্রতারণা করতে পারেন?

 

সারা জীবন ইউনূস যেভাবে নিজের স্বার্থে রাষ্ট্রের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন ক্ষমতায় গিয়েও তিনি একই কাজ করেছেন। তিনি ১৮ মাস দেশের জন্য কিছুই করেননি। সবকিছু করেছেন নিজের জন্য। ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে গ্রামীণসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সরকারি অনুমোদন ও সুবিধা পেতে শুরু করে। অন্তর্র্বর্তী সরকারের আমলে নিবন্ধন, অনুমোদন, করছাড়সহ বেশ কিছু সুবিধা পেয়েছে গ্রামীণসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ঢাকায় গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি নামে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন পেয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে গ্রামীণ অ্যামপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেসের জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স, গ্রামীণ টেলিকমের ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর অনুমতি। এ ছাড়া গ্রামীণ ব্যাংকের কর মওকুফ ও সরকারিভাবে ব্যাংকে শেয়ারের পরিমাণ ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে।

 

ড. ইউনূস ও তার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে থাকা শ্রম আইন লঙ্ঘন ও অর্থ পাচারের মামলা দ্রুত খারিজ হয়ে যাওয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি নামে বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি গ্রামীণ ট্রাস্টের অধীনে চলবে। ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর আবেদন জমা দেওয়ার তিন মাসের মধ্যেই এটি অনুমোদন পায়। অন্তর্র্বর্তী সরকারের আমলে অনুমোদিত প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এটি। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ অ্যামপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড (জিইএসএল) বিএমইটি থেকে একটি লাভজনক জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স (জখ ঘড়. ২৮০৬) পায় এবং এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) সদস্যপদ লাভ করে। ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই গ্রামীণ টেলিকমের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ‘সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেড’ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডর (পিএসপি) হিসেবে কাজ করার জন্য অনুমোদন পায়। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ‘অনাপত্তি সনদ’ (এনওসি) পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি পিএসপি লাইসেন্স পায়। ২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল অন্তর্র্বর্তী সরকার একটি বৈঠকে গ্রামীণ ব্যাংকের জন্য নতুন অধ্যাদেশ জারির সিদ্ধান্ত নেয়, যেখানে সরকারের মালিকানা ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়।

 

বৈঠকটি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। নতুন অধ্যাদেশে শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানা ৭৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করা হয় এবং বোর্ডে নির্বাচিত ৯ জন সদস্যের মধ্য থেকে ৩ জন পরিচালক মনোনীত হবেন, যাদের মধ্য থেকে একজনকে বোর্ড চেয়ার হিসেবে নির্বাচন করা হবে। এতে সরকারের চেয়ার নিয়োগের ভূমিকা বাতিল হয়। ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার দুই মাস পর ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গ্রামীণ ব্যাংককে ২০২৯ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য কর অব্যাহতি দেয়। অন্যদিকে ড. ইউনূস গত বছরের ৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার তিন দিন পরই অর্থ পাচার মামলায় ঢাকার একটি আদালত তাকে খালাস দেয়। এ ছাড়া শপথ নেওয়ার আগের দিনই শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় ইউনূসসহ গ্রামীণ টেলিকমের পরিচালকদের যে ছয় মাসের কারাদণ্ড হয়েছিল, সেই মামলাতেও আদালত তাদের খালাস দেন।

 

এভাবেই ইউনূস যখনই সুযোগ পেয়েছেন তখনই জালিয়াতি এবং প্রতারণার মাধ্যমে তার বিত্তবৈভব বাড়িয়ে নিয়েছেন। ২০০৬ সালে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার সময় ইউনূস বলেছিলেন দারিদ্র্য জাদুঘরে যাবে। কিন্তু দারিদ্র্যের হার গত ২৬ বছরে আরও বেড়েছে। বিশেষ করে ইউনূসের শাসনকালে বাংলাদেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। কিন্তু তাতে কী? ইউনূস এ সময় হয়েছেন আরও বিত্তবান। আর তার এই বিত্তবৈভব কষ্ট করে অর্জিত নয়, স্রেফ প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত তার সম্পদের পাহাড়।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

 

 

দুপুরের মধ্যে ঝড়-বজ্রবৃষ্টি হতে পারে যে ৫ অঞ্চলে

দেশের পাঁচ অঞ্চলের ওপর দিয়ে দুপুরের মধ্যে দমকা কিংবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর পুনঃ সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১৯ মে) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এজন্য এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

 

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল হয়ে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু স্থানে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।

 

অন্যদিকে পটুয়াখালীসহ খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

 

পরবর্তী কয়েক দিনেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বর্ধিত পাঁচ দিনের শেষদিকে সারা দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

 

এছাড়া আজ রাজধানী ঢাকায় দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। তবে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়ার সময় এর গতি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে।

 

মসজিদে ৩ জনকে গুলি করে হত্যার পর দুই কিশোরের আত্মহত্যা

সান ডিয়েগোর একটি মসজিদে দুই কিশোর বন্দুকধারী গুলি চালিয়ে তিনজনকে হত্যা করে এবং এরপর কয়েক ব্লক দূরে আত্মহত্যা করেছে। পুলিশ এই হামলাটিকে একটি বিদ্বেষমূলক অপরাধ হিসেবে তদন্ত করছে। সোমবার (১৮ মে)  সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।

খবর বার্তা সংস্থা এপির

সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারের  বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট হুমকি দেওয়া হয়নি, তবে কর্তৃপক্ষ এমন প্রমাণ পেয়েছে যে সন্দেহভাজনরা “সাধারণ বিদ্বেষমূলক বক্তব্য” দিয়েছে, বলেছেন সান ডিয়েগো পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াল। তিনি আরও বিস্তারিত জানাতে অস্বীকার করলেও বলেছেন, “যে পরিস্থিতি এই ঘটনার দিকে নিয়ে গেছে” তা আগামী দিনগুলোতে সামনে আসবে।

 

ওয়াল বলেন, হামলার আগে থেকেই কর্মকর্তারা একজন কিশোরের সন্ধান করছিলেন, কারণ তার মা উদ্বিগ্ন হয়ে পুলিশকে ফোন করে জানান যে তার ছেলে আত্মহত্যাপ্রবণ এবং পালিয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, বাড়ি থেকে অস্ত্রশস্ত্র এবং মায়ের গাড়িটিও পাওয়া যায়নি।

 

তিনি বলেন, পুলিশ যখন জানতে পারে যে ছেলেটি ছদ্মবেশে ছিল এবং একজন পরিচিতের সাথে ছিল, তখন অনুসন্ধান আরও জরুরি হয়ে ওঠে — এই বিবরণগুলো এমন কারো জন্য অপ্রত্যাশিত ছিল যে আত্মহত্যা করতে চলেছে।

 

১৭ ও ১৮ বছর বয়সীদের খুঁজে বের করতে পুলিশ স্বয়ংক্রিয় লাইসেন্স প্লেট রিডারসহ সম্ভাব্য সব প্রযুক্তি ব্যবহার করতে শুরু করে। পুলিশ যেখানে গাড়িটির অবস্থান শনাক্ত করেছিল, তার কাছাকাছি একটি শপিং মলে কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয় এবং কর্মকর্তারা এমন একটি স্কুলকে সতর্ক করেন যেখানে সন্দেহভাজনদের মধ্যে অন্তত একজন পড়ত, বলেন ওয়াল।

 

কিশোর-কিশোরীরা কোথায় থাকতে পারে সে বিষয়ে কর্মকর্তারা যখন মা-কে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তারা মসজিদে গোলাগুলির খবর পান।

 

ওয়াহল বলেন, নিহতদের মধ্যে মসজিদের একজন নিরাপত্তাকর্মীও ছিলেন, যিনি হামলাটিকে “আরও ভয়াবহ” হওয়া থেকে বিরত রাখতে “একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন” বলে পুলিশ মনে করে।

 

পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান বলেন, “এটা বলাই যায় যে তার কাজ ছিল বীরত্বপূর্ণ। নিঃসন্দেহে তিনি আজ প্রাণ বাঁচিয়েছেন।”

 

এর ওয়েবসাইট অনুসারে, এই কেন্দ্রটি সান ডিয়েগো কাউন্টির বৃহত্তম মসজিদ এবং এর মধ্যে আল রশিদ স্কুলও রয়েছে, যেখানে ৫ বছর বা তার বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য আরবি ভাষা, ইসলাম শিক্ষা এবং কোরআনের কোর্স করানো হয়।

 

ওয়াল বলেন, ফোন পাওয়ার চার মিনিটের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা পৌঁছানোর সাথে সাথেই কয়েক ব্লক দূরে গুলির শব্দ শোনা যায়, যেখানে একজন ল্যান্ডস্কেপারকে গুলি করা হলেও তিনি অক্ষত ছিলেন। তিনি জানান, কাছাকাছি একটি রাস্তার মাঝখানে থেমে থাকা একটি গাড়ির ভেতর থেকে হামলাকারীদের মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

 

আকাশ থেকে ধারণ করা টিভি ফুটেজে দেখা যায়, কেন্দ্রটির পার্কিং লটটি অসংখ্য পুলিশের গাড়ি দিয়ে ঘেরা ছিল এবং সেখান থেকে এক ডজনেরও বেশি শিশুকে হাত ধরে বের করে আনা হচ্ছিল। মসজিদটি বাড়িঘর, অ্যাপার্টমেন্ট এবং শপিং মলের একটি এলাকায় অবস্থিত, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের রেস্তোরাঁ ও বাজার রয়েছে।

 

অভিভাবকদের তাদের সন্তানদের নিয়ে যাওয়ার জন্য কাছাকাছি একটি এলাকায় যেতে বলা হয়।

 

মসজিদটির পরিচালক ইমাম তাহা হাসানে এটিকে “একটি উপাসনালয়কে লক্ষ্যবস্তু করা অত্যন্ত জঘন্য কাজ” বলে অভিহিত করেছেন।

 

তিনি বলেন, “আমাদের এই সুন্দর শহরের সমস্ত উপাসনালয় সর্বদা সুরক্ষিত থাকা উচিত।”

 

তিনি আরও বলেন যে, কেন্দ্রটি আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ক এবং সম্প্রদায় গঠনের উপর গুরুত্ব দিত এবং সোমবার সকালে একদল অমুসলিম ইসলাম সম্পর্কে জানতে মসজিদটি পরিদর্শন করছিলেন।

 

ইসলামিক সেন্টারের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে যে, এর লক্ষ্য শুধু মুসলিম জনগোষ্ঠীর সেবা করাই নয়, বরং “বৃহত্তর সম্প্রদায়ের সাথে মিলে সুবিধাবঞ্চিতদের সেবা করা, শিক্ষা প্রদান করা এবং আমাদের দেশকে আরও উন্নত করা।” সেখানে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ অনুষ্ঠিত হয় এবং মসজিদটি অন্যান্য সংস্থা ও সকল ধর্মের মানুষের সাথে সামাজিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহত্তম মুসলিম নাগরিক অধিকার ও অধিকার রক্ষা গোষ্ঠী ‘কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস’ এই গুলির ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে।

 

সিএআইআর-সান ডিয়েগোর নির্বাহী পরিচালক তাজিন নিজাম এক বিবৃতিতে বলেন, “প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রার্থনা বা পড়াশোনা করার সময় কারও নিরাপত্তা নিয়ে ভয় পাওয়া উচিত নয়। আমরা এই ঘটনা সম্পর্কে আরও জানতে কাজ করছি এবং সবাইকে এই সম্প্রদায়ের জন্য প্রার্থনা করতে উৎসাহিত করছি।”

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তরবঙ্গমুখী মানুষের ঈদযাত্রা নিয়ে ভোগান্তির শঙ্কা

আপডেট টাইম : ১০:০১:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে উত্তরবঙ্গমুখী মানুষের সবচেয়ে বড় ভরসা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক। তবে প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন হওয়া নিয়ে শঙ্কা কাটছে না। মহাসড়কে বেপরোয়া থ্রি-হুইলারের চলাচল, যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের অসমাপ্ত নির্মাণকাজ এবং সড়কের খানাখন্দ মিলিয়ে যেকোনো সময় ভয়াবহ যানজটের আশঙ্কা করছেন যাত্রী ও চালকেরা।

 

 

 

এর সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে পশুবাহী ট্রাকের অতিরিক্ত চাপ। কোরবানির পশু পরিবহনের কারণে ঈদের আগে ও পরে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।

 

 

 

বর্তমানে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড, বলিয়ারপুর বাসস্ট্যান্ড, সাভারের পাকিজা পয়েন্ট, থানা স্ট্যান্ড, সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড, নবীনগর বাসস্ট্যান্ড, বাইপাইল, পল্লী বিদ্যুৎ ও বলিভদ্র বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রায় সারাক্ষণই থ্রি-হুইলারের দখল দেখা যায়।

অভিযোগ রয়েছে, এসব যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলের কারণে মহাসড়কের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ছে। অনেক সময় পুলিশ সদস্যদেরও অসহায় অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আব্দুল্লাহপুর থেকে শ্রীপুর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ ধীরগতিতে এগোনো এবং বিভিন্ন স্থানে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে সড়ক সরু হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। এতে ভারী যানবাহন চলাচলে যেমন সমস্যা হচ্ছে, তেমনি সামান্য চাপ বাড়লেই দীর্ঘ যানজট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

 

চুক্তি অনুযায়ী নির্মাণকাজের সময় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার কথা থাকলেও বাস্তবে সেই নির্দেশনা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ নিয়ে কার্যকর তদারকির অভাবও চোখে পড়ছে বলে মনে করছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

 

উত্তরবঙ্গগামী একটি বাসের চালক ইমরুল বলেন, এখনো তেমন সমস্যা হচ্ছে না। তবে ঈদের সময় পশুবাহী গাড়ি বেড়ে গেলে চাপ বাড়বে। বিশেষ করে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজের কারণে রাস্তায় অনেক খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। তখন গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে যাবে।

 

 

 

গরুভর্তি একটি ট্রাকের চালক মুরাদ বলেন, রাস্তা ভাঙা থাকায় গাড়ি চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। এখন যানজট কম আছে, কিন্তু ঈদের সময় চাপ বাড়বে। মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করা গেলে অনেকটা স্বস্তি পাওয়া যেত।

 

 

 

কুষ্টিয়াগামী যাত্রী ইকবাল হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত ভোগান্তি নেই, ভাড়াও ঠিক আছে। কিন্তু প্রতি ঈদেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়। ৫০০ টাকার ভাড়া ১ হাজার টাকা নেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এবার যেন এমন না হয়, সরকারকে সেদিকে নজর দিতে হবে।

 

 

 

 

ঢাকা জেলা ট্রাফিক পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (এডমিন) রুহুল আমিন সোহেল বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন থাকবে। আমাদের বড় প্রতিবন্ধকতার একটি হচ্ছে বাইপাইল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ। তারপরও মানুষের ভোগান্তি কমাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।

 

 

 

এ বিষয়ে হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ শাজাহান বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। মহাসড়কে অটোরিকশা ও অবৈধ যান চলাচল বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে উল্টো পথে চলাচল এবং বিভিন্ন মোড়ে জটলা তৈরি হওয়ায় কিছুটা ভোগান্তির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

 

 

 

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতি বছর ঈদ এলেই ঢাকা-আরিচা ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে যানজট, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং দুর্ভোগের চিত্র দেখা যায়। এবারও পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন না হওয়ায় স্বস্তির বদলে শঙ্কাই বাড়ছে ঘরমুখো মানুষের মধ্যে। তবে পুলিশ বলছে ঈদ যাত্রায় সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে।

 

 

রাজধানীতে উচ্ছেদ অভিযানে যত টাকার জমি উদ্ধার করল সরকার

রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনসংলগ্ন কালশী রোডের পাশের বাউনিয়াবাঁধ মৌজায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের প্রায় ১৩ একর সরকারি জমি উদ্ধার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, উদ্ধার হওয়া জমির বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা।

 

 

 

বুধবার (২০ মে) সকাল থেকে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। এর আগে মঙ্গলবার অভিযান পরিচালনার সময় দখলকারীদের বাধার মুখে পড়ে অভিযান আংশিকভাবে ব্যাহত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরদিন অতিরিক্ত পুলিশ ও জনবল নিয়ে পুনরায় অভিযান চালানো হয়।

 

 

 

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সচিব মনদীপ ঘরাই জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে থাকা জমিটি দুই দিনের সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাতীয় গৃহায়ণের ঢাকা ডিভিশন-১ এর তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

 

 

অভিযানে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অংশ নেয়। অভিযানের সময় অস্থায়ী ছাপড়া ঘর, টং দোকান, আধাপাকা টিনশেড স্থাপনা এবং কয়েকটি দ্বিতল ভবনসহ আনুমানিক ১৮০ থেকে ২০০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

 

জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া জমিটি এলএ (LA) কেস নং ৫/৭২–৭৩ অনুযায়ী সরকার আইনগতভাবে অধিগ্রহণ করেছিল। জমিটি জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের বাস্তবায়নাধীন ‘মিরপুরস্থ ১১ নম্বর সেকশনে বস্তিবাসীদের জন্য ৫৩৩টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ’ প্রকল্পের পশ্চিম পাশে অবস্থিত।

 

 

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী অনুমোদন ছাড়াই স্থাপনা নির্মাণ করে জমিটি দখলে রেখেছিল। এতে সরকারি সম্পদের ব্যবহার, পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল।

 

 

 

জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে উদ্ধারকৃত জমি পরিকল্পিত আবাসন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে। বিশেষ করে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

 

 

একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

 

রামিসার পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন প্রধানমন্ত্রী

 

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় নিহত আট বছর বয়সী শিশু রামিসার বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে পল্লবীতে রামিসার পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন প্রধানমন্ত্রী।

 

 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রীসভার বৈঠক শেষে রামিসার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন তিনি।

 

বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

 

মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বুধবার (২০ মে) নিহত রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন ঘটনার প্রধান আসামি সোহেল রানা। এ ছাড়া মামলার বিচার দ্রুত শেষ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে সূত্রটি।

 

 

এদিকে, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদের কাছে জবানবন্দি রেকর্ড হওয়ার পর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

 

 

রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লার দায়ের করা মামলায় সোহেল রানা, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার এবং অজ্ঞাতনামা আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

 

 

মামলার এজাহার অনুযায়ী, সোহেল রানা কৌশলে রামিসাকে নিজের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

 

 

আগৈলঝাড়ায় ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধনের দিনেই সেবা গ্রহীতাকে মারধর

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় ভূমিসেবা মেলা উদ্বোধনের দিনই সেবা গ্রহীতাকে মারধর করে তার হাতের শাঁখা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পয়সাহাট ভূমি অফিসের এক সহায়ক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার পয়সাহাট ভূমি অফিসে ঘটে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ অনুযায়ী, বাকাল ইউনিয়নের সরবাড়ি গ্রামের রনজিত জয়ধরের স্ত্রী শিখা জয়ধর তাদের জমির দুটি মিউটেশন করার জন্য ২০২৪ সালে ভূমি অফিস সহায়ক আবুল বাশার বাদশাকে ১৫ হাজার টাকা দেন। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ দুই বছরেও তিনি মিউটেশনের কাজ সম্পন্ন করেননি এবং বিভিন্ন সময়ে টালবাহানা করেন।

ভূমিসেবা মেলার দিন মঙ্গলবার বিকেলে শিখা জয়ধর মিউটেশনের কাগজপত্র চাইতে গেলে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে অফিসের বাইরে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই গৃহবধূকে মারধর করা হলে তার বাম হাতের শাঁখা ভেঙে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

তবে ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত আবুল বাশার বাদশা দাবি করেন, তিনি শিখা জয়ধরের কাছ থেকে ১৪ হাজার টাকা নিয়েছেন এবং তার কাগজপত্র কয়েক মাস আগেই দেওয়া হয়েছে। বাইরে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।

এ বিষয়ে পয়সাহাট ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা উত্তম বেপারী জানান, ঘটনাটি অফিসের বাইরে ঘটেছে বলে তিনি শুনেছেন, তবে কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিখন বণিক বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চিকিৎসকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আগৈলঝাড়ায় মানববন্ধন

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক নাসির ইসলামসহ দেশব্যাপী চিকিৎসকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে চিকিৎসকরা।

 

 

 

বুধবার (২০ মে) দুপুরে উপজেলা ইউএইচএফপিও ফোরামের আয়োজনে হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের ব্যানারে হাসপাতাল চত্বরে ওই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

 

কর্মসূচিতে চিকিৎসকরাসহ নার্সরাও অংশগ্রহণ করেন। ঘণ্টাব্যাপী চলা মানববন্ধনে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শিশির কুমার গাইনের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন ডা. মিরন হালদার, ডা. সুবল কৃষ্ণ, ডা. শিল্পী সমাদ্দার, ডা. সুমাইয়া তাসনীম তনিমা, ডা. মো. শামীম হোসেন, ডা. সাবরিনা ইসলাম, ডা. নাসফিন জাহান নিপা, ডা. শাহানাজ পারভীন সেতু, ডা. শাহ্ মো. বদরুল আলম ও ডা. নুসরাত জাহান প্রমুখ।

 

 

 

চিকিৎসক নাসির ইসলাম ও এক স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর হামলার প্রতিবাদে নিরাপদ স্বাস্থ্য সেবার পরিবেশ, আইনগত সুরক্ষা এবং চিকিৎকদের জন্য ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রদানের দাবি জানিয়ে বক্তরা বলেন, নাসিরের ওপর হামলাকারী আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত ও কর্তব্যরত স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরা আইন প্রণয়ন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলাকে জামিন অযোগ্য অপরাধ হিসেবে আইন করে দ্রুত কার্যকর করতে সরকারের প্রতি দাবি জানান বক্তারা।

 

 

কুখ্যাত ডাকাত টিক্কা আটক

নৌ ও স্থলপথের দুর্ধর্ষ ডাকাত মুজিবুর রহমান ওরফে টিক্কাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা নৌ পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২১ মে) গাজীপুরের পুবাইলের মাজু খান বাজার-সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

টিক্কা সাভার মডেল থানার আলোচিত ডাকাতি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। গ্রেপ্তার অভিযানে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন ঢাকা জেলা নৌ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান।

 

 

কালবেলাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-মামুন। তিনি বলেন, ‘পলাতক আসামি টিক্কাকে ধরতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে অংশ নেন একদল চৌকস পুলিশ সদস্য। আসামি ধরার সময় গুরুতর আহত হয়েছেন আমাদের এই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। তার কোমর ও মাথায় আঘাত লেগেছে। তাকে প্রথমে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

আশুলিয়া নৌ ফাঁড়ির সূত্রে জানা গেছে, টিক্কা বরগুনার আমতলীর বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা থেকে নৌ ও স্থলপথে ডাকাতি করে আসছিল এই ডাকাত। তার নামে ঢাকা ও আশপাশের জেলার বিভিন্ন থানায় অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে। তার আসল নাম মুজিবুর রহমান, ঢাকায় এসে নাম নিয়েছে টিক্কা।

 

আসন্ন ঈদুল আজহা: হিলিতে জমতে শুরু করেছে দা-বঁটি ও চাকুর বাজার

পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদের আর মাত্র দিনকয়েক বাকি। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাংলা হিলি বাজারে ব্যস্ততা বাড়ছে কামারপাড়ার কারিগরদের। টুংটাং শব্দে মুখরিত কামারশালাগুলো পেরিয়ে এখন বাজারের দোকানগুলোতে শোভা পাচ্ছে চকচকে দা, বঁটি, ছুরি ও চাপাতি।
​আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে বাংলাহিলি বাজার ঘুরে দেখা যায়, কামাররা তাদের দোকানে অত্যন্ত সুন্দর ও সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রেখেছেন কোরবানির পশু জবাই এবং মাংস কাটার যাবতীয় সরঞ্জাম। ঈদের প্রস্তুতি হিসেবে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বাহারি ডিজাইনের দেশীয় ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করছেন বিক্রেতারা।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের বাকি আর মাত্র ৬ থেকে ৭ দিন। বাজারে এখনো উপচে পড়া ভিড় না জমলেও, টুপি-তাকিয়া কিংবা কোরবানির পশু কেনার পাশাপাশি অনেকেই এখন থেকেই প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে দোকানে ঢুঁ মারছেন। তবে কামারদের আশা, আগামী দুই-একদিনের মধ্যে বেচাকেনা পুরোদমে জমে উঠবে।
​বাংলা হিলি বাজারের কামার ব্যবসায়ী সবুজ বৈরাগী বলেন, ঈদের আর মাত্র ৭ দিন বাকি। আশা করা যাচ্ছে দুই-একদিনের মধ্যেই পুরোদমে বেচাকেনা শুরু হয়ে যাবে। আমরা ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে সম্পূর্ণ খাঁটি ও মানসম্মত লোহা দিয়ে দা, বঁটি ও চাকু তৈরি করেছি, যাতে এগুলো টেকসই ও ধারালো হয়। আশা করছি এবার ভালো ব্যবসা করতে পারব।
​বিক্রেতারা জানান, আকার ও লোহার গুণগত মানের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে এসব সরঞ্জাম। পাশাপাশি পুরোনো দা-বঁটি শাণ দেওয়ার (ধারালো করার) কাজও শুরু হয়েছে সমানতালে। আগামী কয়েকদিনে এই ব্যস্ততা ও বিক্রি আরও কয়েকগুণ বাড়বে বলে প্রত্যাশা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের।

নওগাঁয় পৃথক ঘটনায় বজ্রপাতে ৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

 

নওগাঁ জেলার রাণীনগর উপজেলায় বজ্রপাতে একই দিনে তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল আনুমানিক ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে পৃথক দুটি ঘটনায় এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে রাণীনগর থানাধীন ০৪নং পারুইল ইউনিয়নের জাঠাইল মাঠে। কৃষিকাজ করার সময় বজ্রপাতের শিকার হন দুই কৃষক। নিহতরা হলেন— পারুইল গ্রামের মৃত আসাদ ফকিরের পুত্র মোঃ আক্কাস ফকির (৬০) এবং মোঃ আমিনুরের পুত্র মোঃ তারেক (২২)।

অপরদিকে, একই থানাধীন ০৫নং বড়গাছা ইউনিয়নের গুয়াতা আটনিটা গ্রামে আরেকটি বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। কৃষিজমির মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হন মোঃ নয়ন তালুকদার (৩২)। তিনি ওই গ্রামের হাসেন তালুকদারের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হঠাৎ বজ্রসহ ঝড়ের কবলে পড়ে তিনজনই ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাণীনগর থানার ওসি মো. জাকারিয়া মন্ডল জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এ ঘটনায় থানায় পৃথক ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ইউপি সদস্যের আত্মহত্যা, চিরকুটে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

 

পটুয়াখালীর দুমকিতে সাবেক ইউপি সদস্য ও দলিল লেখক আবুল কালাম খান মানসিক নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকুট ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

 

 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাড়ির আঙিনায় গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

 

 

 

পুলিশ জানায়, নিহতের লেখা চিরকুটে ৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন— উত্তম কুমার, কালাম মৃধা, মিলন মৃধা, হান্নান সিকদার, দেলোয়ার হোসেন টিটু খা ও ছালাম মৃধা। চিরকুটে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আলাদা আলাদা অভিযোগ তুলে নিজের মৃত্যুর জন্য দায়ী করেছেন আবুল কালাম খান।

 

চিরকুটের ভাষ্যমতে, দক্ষিণ মুরাদিয়া এলাকার পিলার ব্যবসায়ী উত্তম কুমার ‘পিলারের ব্যবসার লোভ’ দেখিয়ে তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা নেন। পরে টাকা ফেরত চাইলে উল্টো বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উত্তম কুমার দাবি করেন, ‘আমি কালাম খানকে চিনিই না।’

 

চিরকুটে আরও উল্লেখ করা হয়, কালাম মৃধা ওই অর্থ লেনদেনে মধ্যস্থতা করে টাকার ভাগ নিয়েছেন। তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

আরেক অভিযুক্ত মিলন মৃধার বিরুদ্ধে চিরকুটে লেখা হয়, তাকে সাক্ষী রেখে ১০ হাজার টাকা সুদ দেওয়ার শর্তে এক লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কয়েক মাস সুদ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় মিলন মৃধা বাড়িতে গিয়ে স্ত্রীকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।

 

 

 

মিলন মৃধার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

 

 

চিরকুটে দেলোয়ার হোসেন টিটু খাকে এলাকার শীর্ষ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী উল্লেখ করে আবুল কালাম খান লিখেছেন, তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে বছরে ২০ হাজার টাকা সুদ দেওয়ার চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু টাকা পরিশোধ করতে না পারায় টিটু খা তাকে পথে-ঘাটে দেখলেই হত্যার হুমকি দিতেন।

 

 

 

অভিযোগ অস্বীকার করে টিটু খা বলেন, ‘এসব মিথ্যা ও বানোয়াট কথা।’

 

 

 

বাকি অভিযুক্ত হান্নান সিকদার ও ছালাম মৃধার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

 

 

নিহতের মেয়ে রাবেয়া বলেন, ‘কিছু লোক আমার বাবাকে দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে অত্যাচার করেছে। চিরকুটে যাদের নাম আছে, তাদের বিষয়ে বাবা প্রায়ই আমাদের কাছে কষ্টের কথা বলতেন। সেই মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরেই বাবা এই পথ বেছে নিয়েছেন। আমরা এর বিচার চাই।’

 

 

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, আর্থিক সংকট ও ঋণের চাপে দীর্ঘদিন ধরেই ভেঙে পড়েছিলেন আবুল কালাম খান। একসময় তিনি শ্রীরামপুর ইউনিয়নের নির্বাচিত ইউপি সদস্য ছিলেন এবং দলিল লেখক হিসেবে কাজ করতেন।

 

 

 

দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকুটটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

 

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পে-স্কেল নিয়ে সর্বশেষ সিদ্ধান্ত

নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে সচিব কমিটির ডাকা সভায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিচের দুই স্তরের সরাকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বেশি ও ওপরের স্তরের কর্মকর্তাদের তুলনামূলক কম সুবিধা পাবে বলে সুপারিশ করা হয়েছে।

 

 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ১১টায় সচিবালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়ে দুপুরে বৈঠক শেষে এই তথ্য জানা গেছে।

 

 

কমিটির সঙ্গে যুক্ত দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, নিচের দুই স্তরের সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ওপরের স্তরের কর্মকর্তারা তুলনামূলক কম সুবিধা পাবেন। একইসঙ্গে সরকারি পেনশনভোগীদের পেনশনের হার শতভাগের বেশি বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ অনুযায়ী একবারে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে গেলে সরকারের অতিরিক্ত ৪৩ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতো। তবে বর্তমানে চাকরিজীবীরা যে ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন, তা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে দেওয়ায় সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ কমে ৩৭ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এই হিসাব মাথায় রেখেই আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

পে স্কেল সংক্রান্ত কমিটির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, মূল্যস্ফীতির চাপ নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের ওপর সবচেয়ে বেশি পড়ছে।

তাই নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার নতুন পে স্কেলে তুলনামূলক বেশি রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বুধবার (২০ মে) ও বৃহস্পতিবার (২১ মে) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়টিও আলোচনা হয়েছে। নবম পে স্কেলের আওতায় শুধু প্রশাসন ক্যাডার নয় বরং এর সঙ্গে শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ পর্যায়ে প্রশাসন, বিচার বিভাগীয় কর্মচারীসহ সবাই অন্তর্ভুক্ত থাকছেন।

 

 

সোমবার (১৮ মে) অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আগামী অর্থবছরের শুরুতে অর্থাৎ ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন হবে।’

 

 

অর্থনীতির অবস্থা খারাপ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জিডিপির তুলনায় রাজস্ব সংগ্রহের অবস্থাও খারাপ। ফলে অনেক কিছু বাদ দিতে হচ্ছে আমাদের। কাটছাঁট করতে হচ্ছে। তার মধ্যেও নতুন বেতনকাঠামোর দিকটা দেখতে হচ্ছে।’ কমিশনের সুপারিশ কাটছাঁট করে তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানা গেছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী তিন অর্থবছরে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কমিটির সুপারিশ ছিল। তবে আমাদের তো বাজেটের সীমাবদ্ধতা আছে। আমরা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আছি।’

 

 

কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশনপ্রাপ্তদের পেনশন প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। যাদের মাসিক পেনশন ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে, তাদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। আর ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

 

 

এ ছাড়া প্রবীণ পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতা ১০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে, যা বর্তমানে ৮ হাজার টাকা।

 

 

অপরদিকে, ৫৫ বছরের কম বয়সী পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা ৫ হাজার টাকা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এদিকে, নতুন পে স্কেলে সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে।

 

বিচারহীনতার কারণেই বেপরোয়া অপরাধীরা: ছাত্র জমিয়ত

দেশে উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়া শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সাআদ বিন জাকির। তিনি বলেন, বিচারহীনতা ও মামলা চাপা পড়ে যাওয়ার সংস্কৃতিই অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

 

 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) ফরিদপুর সদর উপজেলার খবালপুর মাদ্রাসা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ ফরিদপুর জেলা সদস্য সম্মেলন ও কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

সাআদ বিন জাকির বলেন, ‘আজ দেশে শিশু নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। একটি ঘটনার বিচার শেষ হওয়ার আগেই আরেকটি নির্মম ঘটনা সামনে আসছে। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, অনেক ঘটনায় প্রথমদিকে তীব্র আলোচনা হলেও পরে সেগুলো ধীরে ধীরে চাপা পড়ে যায়। এই সংস্কৃতিই অপরাধীদের মনে ভয়হীনতা তৈরি করছে।’

তিনি বলেন, ‘মাগুরায় শিশু আছিয়া হত্যা, সিলেটে শিশু ফাহিমা হত্যা, ঠাকুরগাঁওয়ে লামিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যা কিংবা মুন্সীগঞ্জে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার মতো ঘটনাগুলো জাতিকে নাড়া দিয়েছে। জনগণ এখন দেখতে চায়, এসব ঘটনায় জড়িতদের বিচার কত দ্রুত ও দৃশ্যমানভাবে নিশ্চিত করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিশুরা আজ শুধু বাইরে নয়, অনেক সময় নিজেদের পরিচিত পরিবেশেও নিরাপদ নয়। এটি সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের ভয়াবহ চিত্র। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে শিশু সুরক্ষায় আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’

ছাত্র জমিয়তের এই নেতা বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানানোই যথেষ্ট নয়। শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। কোনো অপরাধী যেন রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাব বা অর্থের কারণে পার পেয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’

 

 

তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘শিশু নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধীদের প্রতি নরম অবস্থান ভবিষ্যৎ সমাজকে আরও অনিরাপদ করে তুলবে।’

 

 

বক্তব্যের শেষে তিনি অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সন্তানদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ রাখলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। তাদের নৈতিক শিক্ষা, মানসিক বিকাশ ও নিরাপত্তার বিষয়েও পরিবারকে গুরুত্ব দিতে হবে।’

 

 

রায়গঞ্জে বিটুমিনবাহী ট্যাংকলরি উল্টে প্রাণ গেল নারীর

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে বিটুমিনবাহী ট্যাংকলরি উল্টে তার নীচে চাপা পড়ে ফুয়ারা খাতুন নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের উপজেলার দাদপুর সাহেবগঞ্জ আন্ডারপাস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

 

 

নিহত ফুয়ারা খাতুন উপজেলার দাদপুর সাহেবগঞ্জ (মহ্যৎপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা ও কোবাদ আলীর স্ত্রী।

 

 

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের দাদপুর সাহেবগঞ্জ আন্ডারপাস এলাকায় হেঁটে যাচ্ছিলেন ফুয়ারা খাতুন। এ সময় উত্তপ্ত তরল বিটুমিনবাহী ট্যাংকলরিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। উল্টে যাওয়া লরির নিচে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান ফুয়ারা।

 

 

 

খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেন।

 

 

 

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানা-র অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। লরিটিকে জব্দ করা হলেও এর চালক পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

 

 

৯১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য ১২টি আইপিপির সঙ্গে সরকারের নতুন চুক্তি

 

জাতীয় গ্রিডে ৯১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ১২টি বেসরকারি ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারের (আইপিপি) সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সরকার। এসব বিদ্যুতের ইউনিট প্রতি (কিলোওয়াট-ঘণ্টা) উৎপাদনের গড় ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৭.৮০ সেন্ট অর্থাৎ প্রায় ৯ টাকা ১২ পয়সা। যা আগের তুলনায় প্রায় আড়াই সেন্ট কম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

 

 

 

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকারের জ্বালানি বহুমুখীকরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এসব চুক্তি করা হয়।

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, এতে বিদ্যুতের উৎপাদন গড় ব্যয় ২ থেকে ৩ সেন্ট কমে গেছে। ফলে সামগ্রিক উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। যেখানে আগে বিদ্যুতের ইউনিট প্রতি গড় উৎপাদন ব্যয় ছিল প্রায় ১০.৫ সেন্ট।

 

বিপিডিবির কর্মকর্তারা জানান, নতুন সরকার পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের বাতিল করা ছয়টি বিদ্যুৎ প্রকল্প পুনর্বহাল করেছে। এছাড়া কম দামে ৯১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার লক্ষ্যে নতুন আরও ছয়টি প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

 

 

 

তারা জানান, ১২টি প্রকল্পের আওতায় নির্মিতব্য ১২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র আগামী দুই বছরের মধ্যে উৎপাদনে যাবে এবং সবগুলো জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

 

 

কর্মকর্তারা আরও জানান, চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সবচেয়ে বড় ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মিত হবে। এছাড়া পাবনার ঈশ্বরদীতে ১৫০ মেগাওয়াটের আরেকটি কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

 

 

 

তারা বলেন, কক্সবাজারে দুটি ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। একইভাবে আরও একটি ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র বাগেরহাটের মোংলায় নির্মাণ করা হবে। পাবনার ঈশ্বরদীতে ৭০ মেগাওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

 

 

 

এছাড়া অবশিষ্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো মৌলভীবাজারের সদর ও বিবিয়ানা, নীলফামারীর জলঢাকা, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী এবং নোয়াখালীর সুধারামে স্থাপন করা হবে। এসব কেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা হবে ১০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত।

 

 

 

 

বিপিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ট্যারিফ নিশ্চিত করে সরকার ১২টি আইপিপির সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেছে।

 

 

 

 

কনফিডেন্স পাওয়ারের চেয়ারম্যান ও আইপিপি উদ্যোক্তা ইমরান করিম জানান, তার তিনটি প্রতিষ্ঠান মোট ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, বাকি দুটি কেন্দ্রের জন্য জমি ক্রয়ের প্রক্রিয়া চলছে। আমাদের তিনটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র ২০২৮ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে।

 

 

 

 

জ্বালানি বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাংলাদেশের আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে।

 

 

 

বিপিডিবির হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে উৎপাদিত এক হাজার ৪৫১ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। যা দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ৫.০১ শতাংশ।

 

 

 

বিপিডিবির কর্মকর্তারা জানান, ২০২৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর অন্তর্বর্তী সরকার ৩১টি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাতিল করেছিল। যার মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প ছিল ২৭টি। এসব প্রকল্প থেকে ২ হাজার ৭২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা ছিল। বাকি চারটি প্রকল্প ছিল বায়ু ও জলবিদ্যুৎভিত্তিক। যেগুলো বিভিন্ন পর্যায়ে বাতিল করা হয়।

 

 

 

বিপিডিবি চেয়ারম্যান বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানো, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে সরকারের সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি।

 

 

 

কর্মকর্তারা জানান, ১২টি প্রকল্প ছাড়াও ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ এবং অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নে আলাদা কর্মসূচি চলছে।

 

 

 

বর্তমানে বাংলাদেশে ১,৪৫০.৬৭ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। এর মধ্যে ১,০৭৩.৫ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে (অন গ্রিড) এবং ৩৭৭.১৭ মেগাওয়াট অফ-গ্রিড ব্যবস্থায় রয়েছে।

 

 

 

টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১,৭৪৩.৭৬ মেগাওয়াট।

 

 

 

সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি ২৩০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ, ৬২ মেগাওয়াট বায়ুশক্তি, ০.৬৯ মেগাওয়াট বায়োগ্যাস এবং ০.৪ মেগাওয়াট বায়োমাস এর মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

 

 

 

জ্বালানি বিশ্লেষক ও ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) কর্মকর্তা শফিকুল আলম বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে এবং নীতিমালার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে সরকারের একটি সমন্বিত জ্বালানি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

 

 

 

কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্কের (ক্লিন) প্রধান নির্বাহী ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ হাসান মেহেদি বাসস’কে বলেন, সরকার যদি মানুষকে নিজ নিজ বাড়িতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে উৎসাহিত করতে পারে, তাহলে সরকারি বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে না।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, আগে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণ করা প্রায় ১৩ হাজার একর জমি এখনো অব্যবহৃত রয়েছে। নতুন করে জমি অধিগ্রহণের পরিবর্তে ওই জমিগুলো সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে ব্যবহার করা গেলে বিদ্যুতের ইউনিট প্রতি খরচ ২৩ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।

 

 

 

বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের ৪০ শতাংশ পরিবেশবান্ধব ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

 

 

 

আন্তর্জাতিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংস্থার (আইআরইএনএ) সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, ১২ লাখ দুই হাজার ১৭৮.৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী চীন বর্তমানে বিশ্বে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র, যার উৎপাদন দুই লাখ ১১ হাজার ৬১০ দশমিক এক মেগাওয়াট এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত, যার উৎপাদন সক্ষমতা এক লাখ ৩৫ হাজার ৫০১ দশমিক পাঁচ মেগাওয়াট।

 

 

 

এছাড়া জাতীয় গ্রিডে সংযুক্তির লক্ষ্যে বর্তমানে ভিয়েতনাম আট হাজার ৭০০ মেগাওয়াট, ফিলিপাইন দুই হাজার ৬০০ মেগাওয়াট, শ্রীলঙ্কা এক হাজার মেগাওয়াট এবং পাকিস্তান ৮০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।

 

 

সূত্র : বাসস

 

 

ঝুলন্ত অবস্থায় মিলল এসএসসি পরীক্ষার্থীর মরদেহ

নীলফামারীর ডিমলায় এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

 

বুধবার (২০ মে) রাত ১০টার দিকে উপজেলার বাবুরহাট মহিলা কলেজপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

 

নিহত নিফতাহুল জান্নাত মাইশা (১৬) দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার তাজনগর গ্রামের ব্র্যাক কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেনের মেয়ে। তিনি পরিবারসহ ডিমলার বাবুরহাট এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। নিহত মাইশা স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

 

 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাওয়াদাওয়া শেষে মাইশা নিজ শয়নকক্ষে চলে যান। পরে দীর্ঘ সময় কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরে প্রবেশ করলে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান তারা। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে ডিমলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে।

প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও এর পেছনের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ডিমলা থানার ওসি শওকত আলী সরকার বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।’

 

তাইওয়ানকে অস্ত্র বিক্রির ইঙ্গিত, প্রতিবাদ চীনের

দীর্ঘ কয়েক দশকের কূটনৈতিক রীতি ভেঙে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের সঙ্গে সম্ভাব্য অস্ত্র বিক্রির বিষয় নিয়ে সরাসরি কথা বলার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্ভাব্য অস্ত্রচুক্তি নিয়ে এই আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। আর এতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ওয়াশিংটন-বেইজিং সম্পর্কে।

 

 

১৯৭৯ সালে তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে চীনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে মার্কিন ও তাইওয়ানের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ কার্যত বন্ধ ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই ঘোষণা বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

 

বুধবার (২০ মে) সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমি লাই চিংয়ের সঙ্গে কথা বলব। আমি সবার সঙ্গেই কথা বলি। তাইওয়ান ইস্যু নিয়েও কাজ করব।

তিনি আরও জানান, তাইওয়ানের কাছে প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আলোচনায় রয়েছে ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি।

ট্রাম্প একইসঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে নিজের সম্পর্ককে অসাধারণ বলে উল্লেখ করেন। সম্প্রতি বেইজিং সফরে দুই নেতার বৈঠকের পরই তাইওয়ান ইস্যু নতুন করে সামনে আসে।

 

অন্যদিকে, ট্রাম্পের সম্ভাব্য এই পদক্ষেপে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের মধ্যে কোনও ধরনের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ এবং অস্ত্র বিক্রির বিরোধিতা করে চীন।

 

 

চীনের দাবি, তাইওয়ান তাদের ভূখণ্ডের অংশ এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করেও দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হতে পারে। তবে তাইওয়ানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে দ্বীপটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে জোর দিচ্ছেন।

 

 

১৯৭৯ সালের তাইওয়ান সম্পর্ক আইন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে আত্মরক্ষামূলক অস্ত্র সরবরাহ করতে পারে। কিন্তু একইসঙ্গে ওয়াশিংটনকে বেইজিংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্যও বজায় রাখতে হয়।

 

 

এদিকে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নীতিবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা এলব্রিজ কোলবির সম্ভাব্য চীন সফর আটকে রেখেছে বেইজিং। ট্রাম্প তাইওয়ানকে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেন, সেটির দিকেই নজর রাখছে চীন।

 

 

এর আগে ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরও ট্রাম্প তৎকালীন তাইওয়ান নেতা সাই ইং-ওয়েনের সঙ্গে কথা বলে কূটনৈতিক রীতিভঙ্গ করেছিলেন। সে সময়ও বেইজিং আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছিল।

 

 

তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে ট্রাম্পের সঙ্গে তাইওয়ান প্রণালির স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক শান্তি নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী।

 

 

১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে আশ্বাস দিয়েছিল যে, তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে তারা বেইজিংয়ের সঙ্গে পরামর্শ করবে না। কিন্তু বেইজিং থেকে ফেরার পথে বিমানে সেই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে ট্রাম্প বলেন, ১৯৮০-এর দশক এখনও অনেক দূরের পথ।

 

 

গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে ১১ বিলিয়ন ডলার (৮.২ বিলিয়ন পাউন্ড) মূল্যের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয়, যা এযাবৎকালের অন্যতম বৃহত্তম এবং এই ঘটনা বেইজিংয়ের ক্ষোভের কারণ হয়।

 

 

প্রেসিডেন্ট লাইয়ের নেতৃত্বে তাইওয়ান চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপ মোকাবেলায় তার প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।

 

 

অনেক তাইওয়ানি নিজেদেরকে একটি পৃথক জাতির অংশ বলে মনে করেন। যদিও বেশিরভাগই স্থিতাবস্থা বজায় রাখার পক্ষে, যেখানে তাইওয়ান চীনের কাছ থেকে স্বাধীনতা ঘোষণাও করবে না বা তার সাথে একীভূতও হবে না।

 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরুরি বার্তা, বন্ধ অষ্টম শ্রেণির অনলাইন রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম

শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক ও আর্থিক চাপ কমানো এবং বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম স্থগিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

 

 

গত বুধবার (২০ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে নির্দেশনাটি দেওয়া হয়।

 

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থী ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির সময় একবার এবং পরবর্তীকালে নবম শ্রেণিতে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবারও রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে। এ অবস্থায় অষ্টম শ্রেণিতে নতুন করে আরও একটি রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি বিষয়টি অভিভাবকদের মধ্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এসব দিক বিবেচনায় নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে চলমান ২০২৬ সালের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ নির্দেশনার অনুলিপি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে। ফলে ২০২৬ সালের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের আপাতত অনলাইনে কোনো রেজিস্ট্রেশন করতে হবে না।

 

 

কাফির প্রশ্ন: বিচার কি শুধুই স্লোগান?

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সম্প্রতি এনসিপিতে যোগ দেওয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি।

 

 

বুধবার (২০ মে) রাত ১১টা ২৯ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

 

 

 

নুরুজ্জামান কাফি লেখেন, ‌‘আমরা ঠিক আর কত মানুষের জন্য, কত বাচ্চার জন্য, কত ভাইয়ের জন্য, কত মায়ের জন্য জাস্টিস চাইবো?’

তিনি লেখেন, ‘কোনো সরকারই এমন কঠোর কোনো বিচার জনসম্মুখে নেওয়ার কি হেডম (ক্ষমতা) নাই, যে একটা কঠোর বিচার জনসম্মুখে করবে!’

এই এনসিপি নেতা আরও লেখেন, ‘জনসম্মুখে একটা কঠোর বিচার হলে এটাই হতো আমাদের শেষ বিচার চাওয়া #JusticeForRamisa বলে।’

সবশেষে তিনি লেখেন, ‘আমরা #JusticeForRamisa বলে আর কারো জন্য জাস্টিস চাইতে চাই না। অর্থাৎ আমরা আর এরকম ঘটনার সম্মুখীন হতে চাই না।’ অর্থাৎ ভবিষ্যতে আর কোন পরিবারকে যেন এমন ঘটনার সম্মুখীন হতে না হয়।

 

ঈদযাত্রায় যানজট নিরসনে ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতা

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর এলাকায় বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ। যানজট নিরসন ও সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবার হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি এপিবিএন সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।
ঈদকে সামনে রেখে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ভবেরচর অংশে যানবাহনের চাপ বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় আগে থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ পার্কিং রোধ এবং সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিতে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।
ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শাহ কামাল আকন্দ বলেন,আসন্ন ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি এপিবিএন সদস্যরাও আমাদের সহায়তা করছেন। মহাসড়কে কোথাও যেন অযথা যানজট সৃষ্টি না হয়, সে জন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন,চালক ও যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। কেউ যেন সড়কের পাশে অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং না করেন এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলেন এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি।

 

আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়ও ব্যাপক ভাইরাল বাংলাদেশের ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো সোনালি চুলের অ্যালবিনো (জন্মগত জেনেটিক ত্রুটি) জাতের একটি মহিষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কোরবানির ঈদের আগে এই ব্যতিক্রমী মহিষটি এখন নারায়ণগঞ্জে এক অপ্রত্যাশিত আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। মহিষটিকে একনজর দেখার জন্য প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় করছেন ।

 

 

 

 

জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মিল থাকায় মহিষটির নাম রাখা হয়েছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়া এলাকার রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে রাখা প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এই মহিষ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও জায়গা করে নিয়েছে।

 

 

 

 

বার্তা সংস্থা এএফপি, রয়টার্স থেকে শুরু করে ভারতীয় এনডিটিভি, পাকিস্তানি ও থাই গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছে।

 

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, সোনালি চুল ও হালকা গোলাপি বর্ণের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহিষটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে। খামারের মালিক ৩৮ বছর বয়সী জিয়া উদ্দিন মৃধা জানান, তার ছোট ভাই মজা করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে চুলের মিল দেখে নামটি রাখেন, যা পরে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

 

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নয়, একই খামারে থাকা আরেকটি মহিষকে ‘বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু’ নামেও ডাকা হচ্ছে, যা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন কৌতূহল তৈরি করেছে।

 

 

থাই ও পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এই অ্যালবিনো মহিষটি বাংলাদেশে এক ধরনের ‘সেলিব্রিটি প্রাণী’তে পরিণত হয়েছে। ঢাকার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই খামারে প্রতিদিনই শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষ ভিড় করছেন ছবি তুলতে ও কাছ থেকে দেখতে।

 

 

 

খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, বিশেষ যত্নে রাখা এই মহিষটিকে দিনে চারবার গোসল করানো হয় এবং সোনালি লোম পরিচ্ছন্ন রাখতে আলাদা পরিচর্যা করা হয়। খামারের কর্মীরা এটিকে শান্ত ও নমনীয় প্রকৃতির প্রাণী হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

 

 

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে কোরবানির পশুর ভিড়ের মধ্যেই এই ব্যতিক্রমী মহিষটি দর্শনার্থীদের বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবির কারণে এর জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে।

 

 

 

জানা গেছে, প্রাণীটির নামকরণ কেবল কৌতুক নয়; বরং এর চুল ও রঙের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাহ্যিক মিলই এই নামের অনুপ্রেরণা। প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি অ্যালবিনো বা বিরল জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের কারণে সাদা-গোলাপি বর্ণের হয়ে থাকে।

 

 

 

তবে দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত ভিড়ে মহিষটির শারীরিক অবস্থায় প্রভাব পড়ায় এখন খামারে প্রবেশে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। এরপরও দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন এই ‘বাংলার ডোনাল্ড ট্রাম্প’-কে একনজর দেখার জন্য।

 

 

 

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এই ঘটনা যেমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও বাংলাদেশে প্রাণী সংস্কৃতি, নামকরণ ও জনপ্রিয়তার নতুন এক ব্যতিক্রমী চিত্র তুলে ধরেছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচন করতে চান ট্রাম্প!

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মজা করে বলেছেন, ইসরায়েলে আমি অত্যন্ত জনপ্রিয়। ভবিষ্যতে আমি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী পদেও নির্বাচন করতে পারি।

 

 

 

বুধবার যুক্তরাষ্ট্র কোস্টগার্ড একাডেমির সমাবর্তনের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলে আমি অত্যন্ত জনপ্রিয়।

 

 

 

তিনি বলেন, হয়তো এটা শেষ করার পর আমি ইসরায়েলে যাব, প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচন করব। আজ সকালে একটি জরিপ দেখেছি, সেখানে আমি ৯৯ শতাংশ সমর্থন পেয়েছি।

তবে তিনি কোন জরিপের কথা বলেছেন, তা স্পষ্ট করেননি। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

ইসরায়েলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ১৯৯৬ সাল থেকে বিভিন্ন মেয়াদে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনায় ট্রাম্প বরাবরই নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত।

 

 

নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাম্প্রতিক যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, তিনি ভালো আছেন, খুব ভালো মানুষ। আমি যা চাইব, তিনি তাই করবেন।

 

 

 

এ সময় নেতানিয়াহুকে যুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলে নেতানিয়াহুকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। সূত্র : ইউএসএ টুডে।

 

 

মাদ্রাসার শিক্ষক শিহাবের বিরুদ্ধে আরও ৪ শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগ

 

রাজধানীর রামপুরায় বলাৎকার ও আত্মহত্যায় প্ররোচণার চাঞ্চল্যকর মামলার আসামি মো. শিহাব হোসেন (১৯)-কে গ্রেপ্তার করেছে রামপুরা থানা পুলিশ। 

 

 

 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। 

 

 

পুলিশ জানায়, গত ১৯ মে রাতে রামপুরা থানাধীন বনশ্রী সি-ব্লকে অবস্থিত আলোকিত কুরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসায় মো. আব্দুল্লাহ (১০) নামে এক শিক্ষার্থীর গলায় গামছা পেঁচানো ঝুলন্ত মরদেহের খবর পেয়ে রামপুরা থানার একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

 

 

সুরতহাল প্রস্তুতের সময় শিশুটির পায়ুপথে অস্বাভাবিক যৌনাচারের আলামত দেখতে পান তদন্ত কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, মো. শিহাব হোসেন (১৯)-এর বিরুদ্ধে আরও চার শিক্ষার্থীর সঙ্গে অস্বাভাবিক যৌনাচারে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

 

 

 

এর মধ্যে পরবর্তীতে আব্দুল্লাহর মা মোছা. টুকু আরা খাতুন রামপুরা থানায় এসে শিহাব হোসেন ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

 

 

 

মামলার এজাহারে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী/২০০৩) এর ৯(১) ধারা এবং পেনাল কোডের ৩০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। 

 

 

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আব্দুল্লাহ আত্মহত্যার আগেই শিহাব হোসেন মাদ্রাসা ত্যাগ করে গ্রামের বাড়িতে চলে যান। পরে রামপুরা থানার একটি আভিযানিক দল পাবনা জেলার বেড়া থানাধীন খাকছাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

 

 

সরকারের কাছে ‘জাস্টিস কার্ড’ চাই : হাসনাত আব্দুল্লাহ

 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ নানা ধরনের কার্ড দেওয়া হচ্ছে; কিন্তু জনগণ ন্যায়বিচার পাচ্ছে না। আমরা সরকারের কাছে ‘জাস্টিস কার্ড’ চাই।’

 

 

 

 

বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যায় কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

 

 

 

 

হাসনাত আব্দুল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালে আইসিইউর অভাব, ঘুষ ছাড়া চাকরি না পাওয়া, থানায় দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য-এসব সমস্যা এখনো বহাল রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য সেবা থেকে প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হচ্ছে।’

জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে তিনি অভিযোগ করেন, দেশে এখনো বিচারহীনতা, দুর্নীতি ও দমন-পীড়নের সংস্কৃতি বিদ্যমান। মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। গুম ও হত্যার ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, বরং বিচার না পাওয়ার আশঙ্কায় ভুক্তভোগীরা অনেক সময় আইনি আশ্রয় নেওয়া থেকেও বিরত থাকছে।

 

 

সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে এনসিপির নেতা বলেন, ‘যত দিন পর্যন্ত সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হবে, তত দিন সরকারের সব উন্নয়নমূলক উদ্যোগই প্রশ্নবিদ্ধ থাকবে। জনগণ একদিন ব্যালটের মাধ্যমে বা গণপ্রতিরোধের মুখে এর উপযুক্ত জবাব দেবে।’

 

 

 

অবিলম্বে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন এবং বিচারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান হাসনাত আব্দুল্লাহ।

 

 

সুত্র: দৈনিক কালবেলা

 

ভোল পাল্টানো মাহামুদুল এক মহাপ্রতারক

জামায়াত আমিরের জালিয়াত উপদেষ্টা

 

ক্ষমতার পালাবদলের প্রতিটি বাঁকে গিরগিটির মতো রং পাল্টে দেশের নীতিনির্ধারণী মহলকে ধোঁকা দেওয়া এক মহাপ্রতারকের নাম মাহামুদুল হাসান। শিক্ষা বলতে ঢাকা ইমপেরিয়াল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস। অথচ নামের আগে লাগিয়েছেন ‘প্রফেসর’। যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ আমেরিকান ইউনিভার্সিটি (এনএইউ) থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন—এমন দাবিতে লাগান ‘ড.’ তকমাও। আর এ মিথ্যা পরিচয়ে দেশের নর্থ সাউথ ও আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটি, বাংলাদেশের (এআইইউবি) মতো নামি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন দীর্ঘদিন।

 

 

 

প্রতারণাকে পেশা বানানো এ ব্যক্তি ক্ষমতার শীর্ষ স্তরে জায়গা পেতে কখনো বনে গেছেন রাজনৈতিক শীর্ষ নেতাদের উপদেষ্টা, আবার ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর বাগিয়ে নিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের পররাষ্ট্র উপদেষ্টার পদও। কিন্তু আভিজাত্যের এ চটকদার মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক বিকৃত ও নৃশংস অপরাধীর চেহারা। কালবেলার অনুসন্ধানে উন্মোচিত হয়েছে তার একাধিক বিয়ে এবং অনেক নিরীহ নারীর জীবন ধ্বংসের রোমহর্ষক অধ্যায়। শ্বশুরবাড়ির ১৫ বছরের এক কিশোরী গৃহপরিচারিকাকে ধর্ষণের দায়ে জেল খাটার অকাট্য প্রমাণও মিলেছে তার বিরুদ্ধে। ওই মামলায় পরবর্তী সময়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সাক্ষীদের আদালতে না যেতে বাধ্য করা হয়। একই সঙ্গে নিজের বিকৃত মানসিকতার পরিচয় দিয়ে ১৬ বছরের প্রথম সন্তান, সাবেক স্ত্রী এবং তার পরিবারের সদস্যদের ‘জঙ্গি’ তকমা দিয়ে নানাভাবে হয়রানি করেন।

 

 

 

 

এই মহাপ্রতারক মাহামুদুল হাসান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভুয়া সংস্কারক সেজে প্রতারণার জাল বিছিয়ে ছিলেন সারা দেশে। ক্ষমতার দম্ভে আইন, সমাজ ও পরিবারকে জিম্মি করা এ কাল্পনিক ‘ভিআইপি’ দুই যুগের বেশি সময় ধরে ছিলেন মুখোশের আড়ালে।

ছাত্রজীবনেই প্রতারণার হাতেখড়ি: কালবেলার অনুসন্ধানে জানা যায়, মাহামুদুল হাসানের প্রতারণার জাল বিছানো শুরু হয়েছিল তার ছাত্রজীবন থেকেই। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান এম এ আওয়াল সম্পর্কে মাহামুদুলের মায়ের মামা। এ সুবাদে ১৯৯৯ সালের ফল সেমিস্টারে বিবিএতে ভর্তি হন তিনি। কিন্তু পড়াশোনা না করে সেখানে শুরু করেন ভর্তি বাণিজ্য। এরপর এক প্রভাবশালী ব্যক্তির ছেলেকে নর্থ সাউথে ভর্তিতে সহায়তার সূত্রে তৎকালীন বিএনপি মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের পরিবারে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন। ওই পরিবারের সহায়তায় পাড়ি জমান লন্ডনে।

 

যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পরই তার জালিয়াতির পরিধি আন্তর্জাতিক রূপ নেয়। লন্ডনে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুয়া সনদ বিক্রি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেন। যার ফলে অসংখ্য শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ বিপন্ন হয়। একই সঙ্গে ‘ই-ফাইভ-কাউন্সিল’ নামে একটি নামসর্বস্ব সংগঠন খুলে নিজেকে সেটির চেয়ারম্যান দাবি করেন। দেশের মন্ত্রী, এমপি ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে ‘বিদেশি ডেলিগেট’ আনার লোভ দেখিয়ে শিডিউল চাইতেন। এ ছাড়া লন্ডনপ্রবাসী বাংলাদেশিদের জাতীয় নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করতেন। ২০০৯ সালের দিকে এ ভয়াবহ জালিয়াতি হাতেনাতে ধরা পড়ায় মাহামুদুলের ওপর যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন নিষেধাজ্ঞা বা ‘ব্যান’ জারি করা হয় বলে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

 

 

ভোল পাল্টে আওয়ামী লীগার ও শেখ হাসিনার ‘উপদেষ্টা’: ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর জালিয়াতির দায়ে যুক্তরাজ্য থেকে বিতাড়িত মাহামুদুল কিছুদিন গা ঢাকা দিয়ে থাকেন। তবে চতুর এই বাজিকর দ্রুতই নিজের রাজনৈতিক রং বদলে ফেলেন। একপর্যায়ে হয়ে ওঠেন কট্টর আওয়ামী লীগার। নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘উপদেষ্টা’ পরিচয় দিয়ে দেশে এক নতুন প্রতারণার জাল পাতেন।

 

 

 

প্রতারণাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে মাহামুদুল ‘প্রিমিয়াম পাস লিমিটেড’ ও ‘পিএপি ইন্টারন্যাশনাল’ নামে দুটি নামসর্বস্ব এনজিও খোলেন। এই ভুঁইফোঁড় সংগঠনের প্যাড ব্যবহার করে তিনি সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও বিদেশি প্রতিনিধিদের মেইল পাঠিয়ে বৈঠকের সময় (শিডিউল) বের করতেন। পরবর্তী সময়ে গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এবং বিভিন্ন স্থানে র্যাব মহাপরিচালকের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ভুয়া লোকেশন ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে নিজেকে একজন অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা ভিআইপি হিসেবে জাহির করতেন। ফেসবুক ও এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্টের এ সাজানো আভিজাত্যকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, মন্ত্রী এবং নর্থ সাউথ ও এআইইউবির মতো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ মহলের সঙ্গে লবিং করে বড় অঙ্কের অর্থবাণিজ্যের ফাঁদ পাততেন।

 

 

 

দেশে-বিদেশে সব প্রতারণায় মাহামুদুল ব্যবহার করেন তার স্ত্রীদের ঠিকানা। তিনি কখনো নিজের বাসায় থাকতেন না। থাকতেন শ্বশুরালয় বা অন্য স্ত্রীদের বাসায়। এ কারণে মাহামুদুল হাসানের প্রতারণার দায়ভার বর্তায় স্ত্রী ও তার পরিবারের ওপরে। অনুসন্ধানে স্ত্রীদের বিরুদ্ধে মাহামুদুলের দায়ের করা একাধিক মামলা এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার কপি এসেছে কালবেলার হাতে।

 

 

 

মাহামুদুল হাসানের ফেসবুক আইডি বিশ্লেষণ করে কালবেলা দেখতে পায়, ২০১৮ সালের ২৬ মার্চ মাহামুদুল হাসান নিজের ফেসবুকে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের লোকেশন অ্যাটাচ করে লিখেছেন ‘উইথ হার এক্সেলেন্সি শেখ হাসিনা, প্রাইম মিনিস্টার, গভর্নমেন্ট অব দ্য পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ।’ এর কিছুদিন আগে ১৫ মার্চ গণভবনের লোকেশন শেয়ার করে লিখেছেন ‘উইথ অনারেবল প্রাইম মিনিস্টার’। ২০২১ সালের ১৪ মার্চ লিখেছেন ‘মিটিং উইথ ডিরেক্টর জেনারেল র্যাব’ এবং ‘ফরমার হোম স্টেট মিনিস্টার অ্যাট বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্লামেন্ট’।

 

 

 

 

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের পর মাহামুদুল হাসানের আনাগোনা বাড়ে বিভিন্ন দূতাবাসে। এ সময় তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে ছবি তোলেন। এখনো মাহামুদুল সেসব ছবি ফেসবুক ও এক্স অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে তার প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

 

 

 

শ্বশুরবাড়ি গিয়ে গৃহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ: আদালতে খোঁজ নিয়ে মাহামুদুল হাসানের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি ধর্ষণ মামলা ও তার দায়ের করা আরও বেশকিছু মামলার তথ্য পায় কালবেলা। ধর্ষণ মামলার এজাহারে বলা হয়েছে—শ্বশুরবাড়ি গিয়ে গৃহকর্মীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ান মাহামুদুল। এ ঘটনায় তার বিকৃত যৌনাচার এবং নানা সময় প্রতারণার বিষয়টি জানতে পেরে ওই স্ত্রী তাকে তালাক দেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তিনি ছিলেন মাহামুদুলের দ্বিতীয় স্ত্রী।

 

 

 

ধর্ষণের ওই মামলার তদন্তে মাহামুদুলের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পায় মিরপুর থানা পুলিশ। পরে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেওয়া হয় আদালতে। যার অভিযোগপত্র নং-৩১৬, তারিখ: ২৭/৮/২০২০। মেডিকেল রিপোর্টেও গৃহপরিচারিকা ১৫ বছরের ওই কিশোরীর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার প্রমাণ মিলেছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বেশ কয়েক মাস জেলও খাটেন। পরে জামিনে বের হয়ে সাক্ষীদের নানাভাবে হুমকি দেন। সে সময় তিনি নিজেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা হিসেবে পরিচয় দেন। তার হুমকি-ধমকির কারণে সাক্ষীরা আদালতে সাক্ষ্য দিতে না যাওয়ায় বিচারক মাহামুদুলকে খালাস দেন। যদিও সে মামলায় পুলিশের কাছে ১৬১ ধারায় দেওয়া অন্তত চারটি জবানবন্দি সংগ্রহ করেছে কালবেলা।

 

 

 

ওই সাক্ষীদের একজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। তার নাম মো. নুর মোহাম্মদ। তিনি সম্পর্কে মাহামুদুল হাসানের সাবেক স্ত্রীর মামা। কালবেলাকে তিনি বলেন, ‘মাহামুদুল আমাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। আমার পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিল। আমার ভাগনিটা খুবই ভালো ছাত্রী ছিল। জীবনে কোনো পরীক্ষায় দ্বিতীয় হয়নি। ভাগনির ঘরে দুটি সন্তান রয়েছে। একটি ছেলে, একটি মেয়ে; তারা হাফেজ। আমার ভাগনি তার সন্তানদের কথা ভেবে আর দ্বিতীয় বিয়ে করেনি। ও (মাহামুদুল) আমার ভাগনির জীবনটা ধ্বংস করে দিল।’

 

 

 

মামলায় সাক্ষী দিতে কেন গেলেন না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওই সময় যাওয়ার সুযোগ কই! সে তখন শেখ হাসিনার লোক। জীবন না বাঁচলে বিচার দিয়া কী করমু!’

 

 

 

 

২০টি সংস্কার কমিশনে কাজ করার দাবি: মাহামুদুল তার অন্য এক স্ত্রীর বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকার একটি মানহানির মামলা দায়ের করেছেন আদালতে। সে মামলায় তিনি নিজেকে ভিআইপি প্রমাণ করতে দাবি করেছেন—তিনি দেশি-বিদেশি কয়েকডজন কোম্পানির সঙ্গে কাজ করছেন। সরকারে উচ্চপর্যায়ে এবং বিদেশি হাই অফিসিয়ালদের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। মামলার অভিযোগের এক জায়গায় লিখেছেন, ‘বাদী বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত ও মূল্যায়নাধীন একাধিক সংস্কার নির্দেশিকা প্রণয়ন ও দাখিলে অংশগ্রহণ করেছেন। ওই সংস্কারগুলো হলো—আন্তর্জাতিক ঋণ নীতিমালা (বৈদেশিক ঋণ ও এখতিয়ার) পুনর্বিবেচনা ও সংস্কার, পররাষ্ট্র প্রশাসনের সংস্কার, দীর্ঘমেয়াদি সরকারি রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংস্কার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংস্কার, নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কার, জনপ্রশাসনের সংস্কার, সংবিধানের সংস্কার, পুলিশ ব্যবস্থার সংস্কার, দুর্নীতি দমন কমিশনের সংস্কার, সাইবার প্রযুক্তির সংস্কার, ব্যবসায়িক প্রযুক্তির সংস্কার, বুদ্ধিমান পরিবহন ব্যবস্থার (ইনটেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্টেশন সিস্টেম) সংস্কার, বিচার বিভাগের সংস্কার, শিক্ষা খাতের সংস্কার, সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোর সংস্কার, তৃণমূল পর্যায় থেকে উৎপাদন ও বিতরণ নীতিমালার সংস্কার, দেশীয় ও প্রবাসী জনশক্তি ব্যবস্থাপনার সংস্কার, প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার-সংক্রান্ত আইনের সংস্কার, বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) অনুদান নীতিমালার সংস্কার এবং ব্যাংকিং, নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও পুঁজিবাজারের সংস্কার।’

 

 

 

মাহামুদুল হাসান এমন ২০টি সংস্কার কমিশনে কাজ করার দাবি করলেও বাস্তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছিল ১১টি। সেই ১১ কমিশনের সদস্যদের তালিকা খুঁজে কোনোটিতেই মাহামুদুল হাসানের নাম পাওয়া যায়নি। বিষয়টি আরও নিশ্চিত হতে যোগাযোগ করা হয় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলমের সঙ্গে। তিনি মাহামুদুল হাসানের সঙ্গে কাজ করার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি উনাকে চিনি না। পারসোনাল ক্যাপাসিটিতে বলতে পারি—আমি উনাকে চিনি না।’

 

 

 

বিবিএতে ভর্তি হলেও কোর্স শেষ করেননি: ১৯৯৯ সালে মাহামুদুল হাসান নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএতে ভর্তি হন। সেখানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভর্তি হলেও কোর্স শেষ করেননি তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত হতে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. আহমেদ তাজমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে কালবেলা। মাহামদুল হাসানের বাবা-মায়ের নাম, জন্ম তারিখ ও জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রার দপ্তরে তথ্য অধিকার আইনে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রেজিস্ট্রার আহমেদ তাজমিন স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে গত ৭ এপ্রিল কালবেলাকে দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, ‘এম মাহামুদুল হাসান ১৯৯৯ সালের ফল সেমিস্টার থেকে ২০০৩ সালের সামার সেমিস্টার পর্যন্ত নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। আমাদের নথি অনুযায়ী, তিনি এনএসইউ থেকে তার পড়াশোনা সম্পন্ন করেননি।’

 

 

 

 

সাবেক স্ত্রীর বয়ানে প্রতারণা-জালিয়াতি-নির্যাতনের রোমহর্ষক তথ্য: আরও বিস্তারিত জানতে কালবেলা খুঁজে বের করে মাহামুদুলের সাবেক স্ত্রীকে, যার সঙ্গে এক যুগ আগে বিচ্ছেদ হয়েছে। প্রথমে তিনি ভয়ে কথা বলতে চাননি। নিজের ও একমাত্র সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তিনি। কারণ দীর্ঘদিন ধরে তিনি ও তার পরিবার মাহামুদুলের একের পর এক ভুয়া মামলায় জর্জরিত।

 

 

 

অনেক চাপাচাপির পর তিনি বলতে শুরু করেন, মাহামুদুল তিন দিনের সরকারি সফরের কথা বলে হঠাৎ বিয়ে করেন। পরে জানা যায়, তিনি লন্ডনে ভুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট তৈরি ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত। এসব অভিযোগে তার ‘ইউকে ইমিগ্রেশন ব্যান’ হয়। পরে মাহামুদুল অন্য পাসপোর্ট ও ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে আবার বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করেন। তার এমন একের পর এক প্রতারণার প্রতিবাদ করলে মাহামুদুল তাকে শারীরিক নির্যাতন করেন। একদিন শারীরিক নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। তখনই জানতে পারেন তিনি অন্তঃসত্ত্বা। বিষয়টি স্বামীকে জানালে তিনি সন্তান নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেন। তখনই তার প্রকৃত চেহারা বেরিয়ে আসে। সিদ্ধান্ত নেন এ প্রতারকের সঙ্গে আর সংসার করবেন না। অনাগত সন্তানকে পৃথিবীতে এনে একাই তাকে লালন-পালন করবেন।

 

 

 

অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তালাক দেওয়া যায় না, সেই চিন্তা থেকে তখনো মাহামুদুলের সঙ্গে সংসার চালিয়ে যান ওই নারী। কিন্তু দিন দিন মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের মাত্রা বেড়েই চলছিল। ওই নারী বলেন, ‘মাহামুদুলের করা একের পর এক ভুয়া মামলায় আমি ও আমার পরিবার জর্জরিত। আত্মীয়স্বজন, এমনকি বৃদ্ধ মা-বাবার নামেও জঙ্গি মামলার অভিযোগ দেওয়া হয়। র্যাব বা পুলিশ বলত, এসব অভিযোগ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এসেছে। পরে থানায় গিয়ে প্রমাণ দিতে হতো মাহামুদুল আসলে একজন প্রতারক।’

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘সন্তান জন্মের পর মাহামুদুল ও তার পরিবার যৌতুকের জন্য আমার পরিবারকে চাপ দিতে থাকে। টাকা না পেয়ে আমার বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধে মামলা করে এবং টাকার জন্য অপহরণের চেষ্টাও করে। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ গণমাধ্যমগুলোকে বিভ্রান্ত করেছেন। আমার বাবার অফিসে গিয়ে তাকে দুর্নীতিবাজ বলে শাসাতেন। পুরো গর্ভাবস্থায় আমি একা ছিলাম। তার অত্যাচারে পরিবারও আমার ওপর বিরক্ত হয়ে পড়ে। শুধু অপেক্ষায় ছিলাম গর্ভের সন্তান কবে পৃথিবীতে আসবে। শেষে সন্তান জন্মের পরপরই আমি তাকে ডিভোর্স দিই।’

 

 

 

 

ওই নারী জানান, তার ছেলের বয়স এখন ১৬ বছর। এই ১৬ বছর একাই লড়াই করে সন্তানকে লালন-পালন করেছেন, ভালো স্কুলে পড়িয়েছেন এবং ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে সুস্থ পরিবেশে বড় করে তুলেছেন। প্রতিদিন তার একটাই চিন্তা ছিল—সন্তান ঠিকমতো খাচ্ছে কি না, নিরাপদ ও সুস্থ আছে কি না। সন্তানের জন্য তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলটাইম চাকরি ছেড়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পার্টটাইম ক্লাস নিয়েছেন অতিরিক্ত খরচ জোগাতে।

 

 

 

ওই নারী আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘৫ আগস্টের পর মাহামুদুল পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) থেকে আমার ঠিকানা ও সন্তানের পাসপোর্ট নম্বর সংগ্রহ করেন। কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে তাকে আবার আমাদের পেছনে লাগিয়ে দেন। মাহামুদুল সন্তানের মানসিক অবস্থার কথাও ভাবেননি এবং শুধুই হয়রানির উদ্দেশ্যে একের পর এক মামলা করে ছেলের ইমিগ্রেশন আটকে রেখেছেন। ফলে আমি ছেলেকে রেখে ওমরা, উচ্চশিক্ষা, চিকিৎসা বা ভ্রমণের জন্য বিদেশেও যেতে পারছি না।’

 

 

সাবেক এক সেনা কর্মকর্তার বর্ণনায় মাহামুদুল হাসান: এআইইউবিতে গেস্ট টিচার হিসেবে চাকরি করেছেন মাহামুদুল হাসান। সেখানে মাহামুদুল হাসানের ছাত্র ছিলেন— এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়েছে কালবেলার। তাদের একজন সাবেক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলাম। তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘২০১২-২০১৩ সালের দিকে আমি তখন মেজর পদবির একজন অফিসার হিসেবে ডিজিএফআইতে কর্মরত ছিলাম। একই সময়ে কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে আমি এআইইউবিতে এমবিএ প্রোগ্রামে ভর্তি হই। সেখানে এইচআর কোর্সের প্রথম ক্লাসে একজন ফ্যাকাল্টি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় মাহামুদুল হাসানের সঙ্গে। প্রথম দিন তিনি কোনো একাডেমিক ক্লাস না নিয়ে মূলত উচ্চারণ নিয়ে আলোচনা করেন এবং ইউকেতে থাকার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের পরিচয় ও পেশাগত ব্যাকগ্রাউন্ড নেন। তিনি ক্লাসে না পড়িয়ে নিজেকে শো-অফ করতেন। যেমন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তিনি সারা দিন কাজ করেন। তিনি এত ব্যস্ত যে সেনাপ্রধান, পুলিশ প্রধানসহ বিভিন্ন হাই অফিসিয়াল তার কাছে সহায়তা চান, কিন্তু তিনি যেতে পারেন না।’

 

 

সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘কয়েকদিন পর মাহামুদুল হাসান আমাকে ব্যক্তিগতভাবে তার অফিসে ডাকেন। সেখানে আলোচনার একপর্যায়ে তিনি আমার কাছে ডিজিএফআই মহাপরিচালকের সঙ্গে একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট করিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। কারণ জানতে চাইলে বলেন—একজনের কাছে তিনি ৫ লাখ টাকা পাবেন, ওই ব্যক্তি টাকাটা দিচ্ছেন না। পরে আমি তাকে বলি—এ বিষয়ের জন্য আপনি ডিজিএফআইয়ের ডিজির কাছে যাবেন! আপনি তো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বললেই পারেন। পুলিশ প্রধানের সঙ্গেও তো শুনেছি আপনার ভালো সম্পর্ক, তাকে বললেও পারেন। তখন তিনি বলেন, এত ছোট বিষয়ে তাদের বলা যায় না। আমার কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। একজন ফ্যাকাল্টি সদস্য হয়ে এমন অনুরোধ এবং তার আচরণ আমাকে অস্বস্তিতে ফেলে। ফলে আমি বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যাই।’

 

 

 

খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে জানতে পারি সেখানে আমার অন্য ক্লাসমেট ছিল এসএসএফে—তাকে অনুরোধ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শিডিউল নিয়ে দেওয়ার জন। আরও অন্য যারা সহপাঠী ছিল সবাইকে উনি বিভিন্ন জায়গায় লিংক-লবিং করিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাতে থাকেন। পরে আমার নিজেরা কথা বলে সিদ্ধান্ত নিই উনাকে আমরা কোথাও লিংক করিয়ে দেব না। এরপর উনি ক্লাসে আমাদের থ্রেড দিতে থাকেন যে— কোর্সে নম্বর কম দেবেন! পরে আমরা এআইইউবি কর্তৃপক্ষকে তার বিষয়ে বলি, কিন্তু তারা জানায়—উনার রেফারেন্স (উচ্চপর্যায় থেকে সুপারিশ) আছে। রেফারেন্সের জন্যই নেওয়া (চাকরিতে) হয়েছে।’

 

 

 

জামায়াত আমিরের উপদেষ্টার পদ পান যেভাবে: ৫ আগস্টের পর কিছুদিন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে লিংক-লবিং করার চেষ্টা করেন মাহামুদুল। এ সময় তিনি তার সঙ্গে থাকা পুরোনো ছবি ব্যবহার করেন। পরে বিষয়টি তার পূর্বপরিচিত এক সাংবাদিকের নজরে এলে তিনি বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে জানান। এরপর তার সেখানে ঢোকা বন্ধ হয়ে যায়। কোথাও জায়গা না পেয়ে সর্বশেষ আশ্রয় নেন জামায়াতে ইসলামীতে। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের অনেক উপদেষ্টার সঙ্গে জামায়াতের সুসম্পর্ক রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি যাতে আবারও প্রতারণা চালিয়ে যেতে পারেন, সেজন্য জামায়াতকে সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করেন। সুচতুর মাহামুদুল একপর্যায়ে গত বছরের ডিসেম্বরে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ বাগিয়ে নেন। কিন্তু জামায়াত আমিরের অনুমতি না নিয়ে নিজেকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করে দলীয় প্যাডে চিঠি পাঠান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে জামায়াত আমিরের উপদেষ্টার পদসহ জামায়াত ইসলামী থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

 

 

 

জামায়াতে ইসলামীর বক্তব্য: জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের কালবেলাকে বলেন, ‘২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২৬-এর জানুয়ারি পর্যন্ত উনি (মাহামুদুল হাসান) আমাদের সঙ্গে কাজ করেছেন। উনার সঙ্গে আমাদের রাজনৈতিক কোনো সম্পর্ক নেই। ২৪-পরবর্তী সময়ে আমাদের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস থেকে যোগাযোগ শুরু হয়। তখন যোগাযোগ রক্ষার্থে হাইকমিশন বা দূতাবাসে যে চিঠি দেওয়া লাগে, সেজন্য তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। উনার একটা ফার্ম আছে, উনি এসব কাজ করেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে উনাকে আমিরে জামায়াতের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।’

 

 

 

অভিযোগের বিষয়ে কালবেলাকে কোনো সাড়া দেননি মাহামুদুল: অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাহামুদুল হাসানের সঙ্গে সব ধরনের মাধ্যমে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে পরিচয় দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে বিস্তারিত বার্তা পাঠানো হয়। তারও কোনো জবাব দেননি তিনি। তবে একবার মোবাইল ফোন রিসিভ করে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর আর কোনো কথা বলেননি। প্রায় ৪৪ সেকেন্ড ফোন লাইনে নীরব থাকার পর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

 

 

 

পরবর্তী সময়ে তার ওয়েবসাইটে উল্লেখ থাকা তিনটি টিঅ্যান্ডটি নম্বরে যোগাযোগ করা হয়। এর মধ্যে একটি নম্বরে ফোন রিসিভ করা হলেও ওপাশ থেকে কোনো কথা বলা হয়নি। একই নম্বরে তিনবার ফোন দিলে দুইবার রিসিভ করা হয়—একবার ১২ সেকেন্ড এবং আরেকবার ৪১ সেকেন্ড সংযোগ চালু থাকলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। এ সময় ফোনের এপাশ থেকে বারবার পরিচয় দিয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। নম্বরটির ট্রুকলার তথ্যেও তার নাম প্রদর্শিত হয়।

 

 

 

সবশেষে তার বক্তব্য জানার জন্য হোয়াটসঅ্যাপে সুনির্দিষ্ট ১২টি প্রশ্ন পাঠানো হয়। বার্তাগুলো ডেলিভার হলেও তিনি কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি এবং এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো সাড়া দেননি।

 

 

সুত্র: দৈনিক কালবেলা

 

 

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকপণ্যে কার্যকর কর আরোপের আহ্বান পানিসম্পদ মন্ত্রীর

 

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যের কার্যকরভাবে করারোপ করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

 

 

 

বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী তামাক ব্যবহারজনিত অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকার বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, তামাকপণ্যের কর ও মূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি সুস্থ, নিরাপদ ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে জাতীয় সংসদসহ সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিষটি তুলে ধরার হবে।

 

 

 

বুধবার (২০ মে) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ঢাকা আহছানিয়া মিশন আয়োজিত ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক ব্যবহারজনিত অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকরভাবে তামাক পণ্যের কর ও মূল্য বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান এবং স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি।

 

 

সেমিনারে মূল প্রবন্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইন্সটিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে চার স্তরের সিগারেট বিদ্যমান; এর মধ্যে বাজারে বিক্রিত সিগারেটের প্রায় ৯০ শতাংশই নিম্ন ও মধ্যম স্তরের, যা সহজলভ্য হওয়ায় তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষকে দ্রুত আসক্ত করে তুলছে। কারণ নিম্ন এবং মধ্যম স্তরের সিগারেটের দাম কাছাকাছি হওয়ায় ভোক্তা যে কোন একটি স্তরের সিগারেট বেছে নেয়ার সুযোগ পায়। পাশাপাশি জর্দা, গুল ও বিড়ি সহজলভ্য হওয়ায় তামাক ব্যবহার আরও বাড়ছে।

 

 

 

তাই আসন্ন অর্থবছরে তামাকপণ্যে কার্যকর করারোপের মাধ্যমে দাম বৃদ্ধি করে নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একত্র করে প্রতি ১০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেটের সর্বনিম্ন দাম ১০০ টাকা, উচ্চ স্তরে ১৫০ টাকা, ও অতি উচ্চ স্তরে ২০০ টাকা নির্ধারণ এবং সকল স্তরে ৬৭% সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করতে হবে।

 

 

 

তামাকপণ্যে প্রস্তাবিত এই কর ও মূল্য প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা গেলে ৩ লক্ষ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ১ লক্ষ ৮৫ হাজারের বেশি তরুণ জনগোষ্ঠীর অকালমৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে। এবং তামাক খাত থেকে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় সম্ভব হবে, যা বর্তমান অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বেশি।

শেখ মোমেনা মনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি (৩৫.৩ শতাংশ)। ফলে তামাকজনিত রোগে দেশে প্রতিবছর প্রায় ২ লক্ষ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে। ২০২৪ সালে তামাকের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা এই খাত থেকে প্রাপ্ত রাজস্বের দ্বিগুণেরও বেশি।

আসন্ন বাজেটে তামাকজাত দ্রব্যে কর ও মূল্য বৃদ্ধি করে সে লক্ষ্যে আরও এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। প্রস্তাবিত তামাক কর বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্জিত রাজস্ব আয় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত শক্তিশালীকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। মূল্যস্ফীতি ও আয় বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে তামাকপণ্যে কার্যকর করারোপের মাধ্যমে সরকার একদিকে, তামাকজনিত রোগের বোঝা কমাতে এবং অন্যদিকে, স্বাস্থ্য খাত সংস্কারে টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।

ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সভাপতি প্রফেসর ড. গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, স্বাস্থ্য সেক্টরের উপ-পরিচালক মোখলেছুর রহমান। আরও বক্তব্য রাখেন মিশনের ভাইস সহ-সভাপতি এস এম ড. খলিলুর রহমান, তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর শরিফুল ইসলাম, আহছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরামের কো-অর্ডিনেটর মারজানা মুনতাহা ও তাসনিম হাসান আবির।

 

 

পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজের কাজ করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের উত্তর অঞ্চল, দক্ষিণ অঞ্চলে বিশেষ করে রাজশাহীতে পদ্মা নদীতে পদ্মা ব্যারেজ তৈরি করব। সীমান্তের ওপারে ব্যারেজ তৈরি করে বিভিন্নভাবে পানি সরিয়ে নিচ্ছে কিন্তু খরা মৌসুমে আমরা পানি কম পাচ্ছি। এই ব্যারেজটি এই জন্য করতে চাচ্ছি, যাতে বর্ষায় বলুন বা খরা মৌসুম বলুন, আমাদের দেশের মানুষ বা কৃষক যেন ঠিক সময়ে পানি পায়।

 

 

 

বুধবার (২০ মে) দুপুরে গাজীপুরে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

 

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করেছি, আমরা খাল খনন কর্মসূচি শুরু করবো। আমরা সরকার গঠন করেছি আলহামদুলিল্লাহ এবং আমরা আমাদের সেই খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছি। এই খাল খনন কর্মসূচির সাথে মানুষের জীবন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই খাল খননের সাথে কৃষি জড়িত। তাই যেভাবেই হোক আমাদের খাল খনন কর্মসূচি শুরু করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারে সমুদ্রের তীর ধরে একটি রাস্তা নির্মাণ হচ্ছে। সেখানে দেখলাম ৩ শতাধিক গাছ কেটে ফেলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালাম। যাতে ডিজাইনটা পরিবর্তন করা হয়। গাছ যাতে রক্ষা পায়।’

 

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুপুর ২টায় গাজীপুরের টঙ্গী সাতাইশ এলাকায় নবনির্মিত জাতীয় দুর্যোগ ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধন করেন। পরে তিনি তালগাছ রোপণ ও একটি পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।

সুত্র: কালবেলা

 

 

তাড়াশে কোরবানির ঈদে গরু-ছাগল চুরি প্রতিরোধে গ্রামে গ্রামে পাহারা

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু-ছাগল চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় সিরাজগঞ্জের তাড়াশে নিজেদের সম্পদ রক্ষায় মাঠে নেমেছেন গ্রামবাসী। পুলিশের পাশাপাশি বাসিন্দাদের সমন্বয়ে গ্রামে গ্রামে রাতজাগা পাহার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের সাকোদিঘি, বিনোদপুর, খালকুলা, নওগাঁ বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় রাতে দলবদ্ধভাবে পাহারা দিচ্ছেন গ্রামবাসী। এতে সহযোগিতা করছে পুলিশ। গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয়দের নিয়ে গঠিত দল বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে শতাধিক অস্থায়ী বাঁশের চেকপোস্ট বসিয়েছে। সন্দেহজনক যানবাহন ও ব্যক্তিদের সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তাড়াশ উপজেলায় কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গরু-ছাগল চুরি ঠেকাতে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে টহল জোরদার করা হয়েছে। থানা পুলিশ ও স্থানীয় গ্রাম পুলিশের সমন্বয়ে ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ৯টি টিম গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি টিমে ৩ থেকে ৮ জন সদস্য রয়েছেন। তারা জনপদ ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রাতদিন পালা করে টহল দিচ্ছেন।
পাশাপাশি সন্দেহজনক যানবাহন ও ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি খামারিদের পশু নিরাপদে রাখার বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণাও চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাবিবুর রহমান বলেন, বিগত বছরগুলোতে কোরবানির আগে বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু-ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। তাই সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবার পুলিশের পাশাপাশি গ্রামবাসীর সমন্বয়ে পাহার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশের টহল ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
গ্রামবাসীর এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, পুলিশ-জনতার যৌথ উদ্যোগে এবার কোরবানির পশু নিরাপদ থাকবে বলে আশা করছি।

আগৈলঝাড়ায় শিশু সুরক্ষা ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ‘শিখা প্রকল্প’র অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিশু সুরক্ষা এবং যৌন হয়রানি প্রতিরোধ বিষয়ক কর্মসূচির উপজেলা পর্যায়ে ব্র্যাক সোশ্যাল কমপ্লায়েন্সের অধীনে ‘শিখা প্রকল্প’র অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ব্র্যাক সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স কর্মসূচির আওতায় এই অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, কার্যকর প্রতিকার ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়ন।

 

 

 

বুধবার (২০ মে) বিকেলে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বনিক।

 

 

 

এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, আগৈলঝাড়া থানার ওসি (তদন্ত) সুশংকর মল্লিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা তপন বিশ্বাস, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, ভেগাই হালদার পাবলিক একাডেমীর প্রধান শিক্ষক যতিন্দ্রনাথ মিস্ত্রী, রাংতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান, শিখা প্রকল্পের প্রোজেক্ট অফিসার অনিক বিশ্বাস, উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, অভিভাবক, ইয়ুথ ক্লাবের সদস্যরা, কমিউনিটি ভলান্টিয়ারসহ ব্র্যাক ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ। ।

 

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে ব্র্যাক বরিশাল জেলার টেকনিক্যাল ম্যানেজার মো. তৌহিদুর রহমান শুভেচ্ছা বক্তব্যে প্রকল্পের উদ্দেশ্য, কার্যপরিধি এবং উপজেলা পর্যায়ে কর্মসূচির লক্ষ্য তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক বলেন, ব্র্যাক সোশ্যাল কমপ্লায়েন্সের এই সময়োপযোগী উদ্যোগ, বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম, বাংলাদেশে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা ও যৌন হয়রানি হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান বলেন, যৌন হয়রানি একটি ভয়াবহ অপরাধ, যার প্রভাব একজন ভুক্তভোগীর পুরো জীবনজুড়ে থেকে যায়। এটি শিশু ও নারীদের মানসিক বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ জীবনকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কর্মক্ষেত্র পর্যন্ত সর্বত্র নারীদের নিরাপদ ও সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

 

 

আগৈলঝাড়া থানার ওসি (তদন্ত) সুশংকর মল্লিক বলেন, যৌন হয়রানির মতো অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। যেকোনো অভিযোগ আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করি এবং দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করি। সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে ভুক্তভোগীরা নির্ভয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন।

 

 

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তপন বিশ্বাস বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলার স্থান। ‘শিখা প্রকল্প’ এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ায় ধন্যবাদ জানাই।

 

 

 

রাংতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগীরা যেন নির্ভয়ে অভিযোগ জানাতে পারে, শিখা প্রকল্প’ যেন এমন সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি তাদের মানসিক ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্ব।

 

 

 

ব্র্যাক বরিশাল জেলার টেকনিক্যাল ম্যানেজার মো. তৌহিদুর রহমান বলেন, শিখা প্রকল্প মূলত উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পাবলিক স্পেস এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কাজ করবে। জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা মোকাবিলা এবং নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সামাজিক সচেতনতা ও জনসম্পৃক্ততা অত্যন্ত জরুরি। এধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক আচরণগত পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে।

 

 

 

আয়োজিত এ সভায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা, যৌন হয়রানি, বাল্য বিবাহ, বুলিং ও র‌্যাগিং প্রতিরোধ জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে কর্মপরিকল্পনা করা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

 

 

গজারিয়ায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬ উদ্বোধন

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার গজারিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কম্পাউন্ডে এ অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।

“অগ্নিযোদ্ধাদের একটাই পণ, নিরাপদ রাখবো সম্পদ ও জীবন”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ কামরুজ্জামান রতন। তিনি অনুষ্ঠানের আগে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ও এর বিভিন্ন সরঞ্জাম পরিদর্শন করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গজারিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার মোঃ ফিরোজ মিয়া।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসান এবং গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাসান আলী

আলোচনা সভা শেষে একটি শোভাযাত্রার মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, গণমাধ্যমকর্মী, গজারিয়া থানা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

রাণীনগরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার-৭

 

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে চুরি, মাদক ও আদালতের পরোয়ানাভুক্ত মামলায় মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছেন দোকান ও গরু চুরির ঘটনায় সন্দেহভাজন দুইজন, নিষিদ্ধ ট্যাপেন্টাডলসহ দুইজন এবং আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত তিনজন।

চুরির ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে কালীগ্রাম এলাকার শরিফুল ইসলাম এবং গরু চুরির মামলায় পূর্ব বালুভরা গ্রামের এনামুল হককে আটক করা হয়। এছাড়া পারইল গ্রামের শফিকুল ইসলাম ও ভবানীপুর গ্রামের জহুরুল ইসলামকে ৪৫ পিস নিষিদ্ধ ট্যাপেন্টাডলসহ গ্রেফতার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, আদালতের পরোয়ানার ভিত্তিতে চকবলরাম গ্রামের আজাহার আলী ও তার স্ত্রী রহিমা বিবি এবং পশ্চিম বালুভরা গ্রামের লিটনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

রাণীনগর থানা-র ওসি মো. জাকারিয়া মন্ডল জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার গ্রেফতার ৭ জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

‎হোসেনপুরে সিদলা ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন

‎পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নে দুস্থ ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ভিজিএফ (VGF) চাল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
‎বুধবার (২০ মে)  সকালে সিদলা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
‎এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ফরিদ আহমেদ,ইউপি সচিব মো. আবু বকর সিদ্দিক, বিএনপি নেতা বিল্লাল হোসেন, ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মমিন মিয়াসহ ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
‎এ সময় দুস্থ ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে সরকারি বরাদ্দের ১০ কেজি করে ভিজিএফ চাল বিতরণ শুরু করা হয়।
‎সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঈদকে সামনে রেখে এ ইউনিয়নের ৬৩৪৭  টি  নিম্নআয়ের ও অসচ্ছল পরিবারের খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিতরণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

হিলিতে ঈদ উপলক্ষে ৩ হাজার ৮৫ পরিবারে বিনামূল্যে চাল বিতরণ

আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে দিনাজপুরের হাকিমপুর পৌরসভায় অতিদরিদ্র, অসহায়, দুঃস্থ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে বিনামূল্যে ১০ কেজি হারে ভিজিএফ-এর চাল বিতরণ করা হয়েছে।
আজ বুধবার ২০ মে সকাল থেকে হাকিমপুর পৌরসভা চত্বরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এই চাল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এর অধীনে হাকিমপুর পৌরসভায় ৩,০৮৫টি অতিদরিদ্র ও দুস্থ পরিবারের মাঝে মাথাপিছু ১০ (দশ) কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে।
​হাকিমপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, আসন্ন ঈদে যেন কোনো দরিদ্র পরিবার খাদ্যকষ্টে না ভোগে, সেই লক্ষ্যে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই চাল বিতরণ করা হচ্ছে। চাল নিতে আসা সাধারণ মানুষ সরকারের এই মানবিক সহায়তায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং এতে তাদের ঈদের আনন্দ আরও সার্থক হবে বলে জানিয়েছেন।
চাল নিতে আসা মোছাঃ ছকিনা বেওয়া বলেন, প্রতিবছর এই সময়ে সরকারের কাছ থেকে আমরা ১০ কেজি চাল পাই এবং পেয়ে অনেক খুশি হই। আমরা গরিব মানুষ, দিন এনে দিন খাই। এই চাল আমাদের ঈদে অনেক উপকারে আসবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাকিমপুর পৌরসভা, উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে কর্মকর্তারা বলেন, বর্তমান সরকার সবসময় অসহায় ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে আছে। পবিত্র ঈদ-উল-আযহার আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতেই সরকারের এই মানবিক উদ্যোগ।

ঈদকে ঘিরে রায়গঞ্জে ঠুং-ঠাং শব্দে মুখর কামারপল্লী ,বেড়েছে বাড়তি ব্যস্ততা

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার কামারপল্লীগুলোতে এখন চলছে বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের জন্য প্রয়োজনীয় দা, ছুরি, চাপাতি ও বঁটির বাড়তি চাহিদায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিরামহীন কাজ করছেন কামারশিল্পীরা।
কামারশালার ছোট ছোট চুল্লিতে জ্বলছে কয়লার আগুন, হাপরের বাতাসে লাল হয়ে ওঠা লোহা দক্ষ হাতুড়ির আঘাতে রূপ নিচ্ছে ধারালো দা, ছুরি ও বঁটিতে। চারদিকে ঠুং-ঠাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে উপজেলার বিভিন্ন কামারপল্লী।
সরেজমিনে উপজেলার নিমগাছী, চান্দাইকোনা ও বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পুরোনো দা-ছুরি শান দেওয়া এবং নতুন সরঞ্জাম তৈরির ধুম পড়েছে। অনেকেই আগে থেকেই ব্যবহৃত সরঞ্জাম ধার করাতে নিয়ে আসছেন। দোকানের সামনে সারি সারি সাজিয়ে রাখা হয়েছে নানা আকারের দা, ছুরি, চাপাতি ও বঁটি।
কারিগররা জানান, মান ও আকারভেদে ছুরি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায়, দা ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকায় এবং বঁটি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। পশু জবাইয়ের বিশেষ ছুরির দাম রাখা হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। অনেক কারিগর কাস্টম অর্ডারেও সরঞ্জাম তৈরি করছেন।
নিমগাছী বাজারের কামারশিল্পী শ্রী সাধন কর্মকার বলেন,“ঈদের আগে কাজের চাপ অনেক বেড়ে গেছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করেও সব অর্ডার সময়মতো দিতে কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু কয়লা ও লোহার দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভ খুব বেশি থাকে না।”
কারিগর গনেশ কর্মকার বলেন,
“সারাদিন আগুনের পাশে বসে কাজ করতে হয়। পরিশ্রমের তুলনায় আয় কম। সরকারি সহায়তার অভাবে অনেকেই পৈত্রিক এই পেশা ছেড়ে অন্য কাজে চলে যাচ্ছেন।”
আরেক কারিগর প্রানেশ কর্মকারের ভাষায়,“আমাদের পূর্বপুরুষরাও এই পেশায় ছিলেন। আমরাও ধরে রেখেছি। কিন্তু এখনকার তরুণদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। কারণ কষ্ট বেশি, আয় তুলনামূলক কম।”
কারিগরদের দাবি, লোহার পাত, কয়লা, কাঠের হাতলসহ বিভিন্ন কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। এতে লাভের পরিমাণ কমে গেছে।
চান্দাইকোনা হাটে দা-ছুরি কিনতে আসা জহুরুল ইসলাম বলেন,“কোরবানির ঈদ সামনে, তাই প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে এসেছি। তবে আগের তুলনায় দা-ছুরির দাম অনেক বেশি।”
অপর ক্রেতা মজিদ হোসেন বলেন,
“ঈদ উপলক্ষে দা, চাপাতি ও ছুরির দাম বাড়ানো হয়েছে। আবার পুরোনো ছুরি শান দিতেও ৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।”
রায়গঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য কামার পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ঐতিহ্যবাহী এই লোহাশিল্প টিকিয়ে রেখেছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, প্রশিক্ষণ ও স্বল্পসুদের ঋণের ব্যবস্থা করা হলে এ শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
আসন্ন কোরবানির ঈদ যেমন কামারদের ব্যস্ততা বাড়িয়েছে, তেমনি তাদের মুখে এনে দিয়েছে সাময়িক স্বস্তির হাসি। তবে এই হাসিকে দীর্ঘস্থায়ী করতে প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা।

পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে শিশু হত্যা: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

নরসিংদীর পলাশে পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে রামিম নামে এক ৯ বছরের শিশু হত্যা মামলার প্রধান আসামী সবুজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার (২০ মে) ভোরে জেলা শহরের আরশীনগর ও রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

 

গ্রেপ্তারকৃত সবুজ মিয়া (২৭) গজারিয়া ইউনিয়নের চরকারারদী গ্রামের লোকমান হোসেনের ছেলে।

 

 

পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত সবুজ হত্যা মামলার পর থেকে পলাতক ছিল। গোপনে অন্যস্থানে পালিয়ে যাওয়ার সময় তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

 

পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন জানান, গ্রেপ্তারকৃত সবুজকে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামীদেরও গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ।

 

 

 

এর আগে, গত ৬ মে পলাশের গজারিয়া বাজারে রামিম নামে ৯ বছরের এক শিশুকে জোরপূর্বক একটি রিকশার গ্যারেজে নিয়ে হাওয়ার মেশিন দিয়ে তার পায়ুপথ ও মুখে বাতাস ঢুকায় অভিযুক্ত সবুজ, ফয়সাল, শিশির ও বাবু নামে চার যুবক। পরে শিশুটি গুরত্বর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে তার মৃত্যু হয়।

 

 

এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা রিপন মিয়া বাদী হয়ে অভিযুক্ত চার যুবকের নামে পলাশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এদিকে শিশুটিকে হত্যার পর থেকে পলাতক ছিল অভিযুক্তরা।

 

 

রায়গঞ্জে কোরবানির জন্য প্রস্তুত প্রায় ৭১ হাজার পশু, বাড়তি ৪৪ হাজার যাবে দেশের বিভিন্ন জেলায়

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা-এ প্রস্তুত রাখা হয়েছে প্রায় ৭১ হাজার কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু। দিনরাত পরিশ্রম করে লাভের আশায় দেশীয় পদ্ধতিতে ষাঁড় মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা।
উপজেলার বিভিন্ন বিল ও নদীকূল এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে ঘাস উৎপাদন বেশি হওয়ায় এখানে গরু-ছাগল পালন তুলনামূলক সহজ ও কম ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে প্রতি বছরই স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিপুল সংখ্যক কোরবানির পশু সরবরাহ করা হয়।
তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর গো-খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়েছে। এতে কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন খামারিরা। তারপরও ভালো দামের আশায় পশু লালন-পালনে কোনো কমতি রাখছেন না তারা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ঈদুল আজহায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত গবাদিপশুর মধ্যে রয়েছে ১৮ হাজার ৫৪৬টি ষাঁড়-বলদ, ৭৯৮টি মহিষ, ৪২ হাজার ৬২৮টি ছাগল এবং ৯ হাজার ১০০টি ভেড়া। সব মিলিয়ে প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ৭১ হাজার ৭২টি পশু।
তিনি আরও জানান, উপজেলায় কোরবানির চাহিদা রয়েছে প্রায় ২৬ হাজার ৩২৮টি পশু। চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত ৪৪ হাজার ৭৪৮টি পশু দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে।
তিনি বলেন, বিল ও নদীকূল এলাকায় প্রচুর প্রাকৃতিক ঘাস থাকায় রায়গঞ্জে স্বাস্থ্যসম্মত ও দেশীয় পদ্ধতিতে পশু পালন করা হয়। এ কারণে এ অঞ্চলের কোরবানির পশুর চাহিদা অন্যান্য উপজেলার তুলনায় বেশি।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে স্পষ্ট অবস্থান প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে এবং এ বিষয়ে কোনো বিভ্রান্তি ছড়ানোর সুযোগ নেই।

 

 

তিনি বলেন, জুলাই সনদের সঙ্গে বিএনপি যুক্ত ছিল এবং দলটি সনদে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করবে। তবে জুলাই আদেশ নিয়ে বিএনপির কিছু মতপার্থক্য রয়েছে, যা নির্বাচনের আগেই দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।

 

 

 

বুধবার (২০ মে) রাজধানীর সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের বার্ষিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা-২০২৬ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। ওই শিক্ষার্থীদের স্মরণে কলেজের সামনে বা মূল সড়কে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে। জুলাইয়ের স্মৃতি ও আন্দোলনের কারণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, কলেজটি একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেও বিগত ১৭ বছরে অবহেলার শিকার হয়েছে। তিনি কলেজ ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা তুলে ধরে বলেন, কোথাও ফাটল বা ক্ষতি হওয়ায় অস্থায়ী পিলার বসাতে হয়েছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করেছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট, শ্রেণিকক্ষের ঘাটতি ও আধুনিক বিজ্ঞানাগারের অভাবের বিষয়টি আমার জানা আছে। এ সমস্যাগুলো সমাধানে শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে কলেজ পরিদর্শনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি নতুন উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।

 

 

কলেজের আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা নিশ্চিত করতে জ্ঞান ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে কলেজটিকে আরও উন্নত করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

 

এ সময় তিনি ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকার পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিগত সাড়ে ১৫ বছরের ‘জঞ্জাল’ একদিনে দূর করা সম্ভব নয়। ধাপে ধাপে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাদক, কিশোর গ্যাং ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 

ইশরাক বলেন, যেকোনো অপকর্ম প্রতিরোধে ছাত্রসংগঠনগুলোকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রয়োজনে তাদেরও জবাবদিহির মধ্যে আনা হবে।

 

 

অনুষ্ঠানে কলেজের জন্য একটি প্রজেক্টর দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। এ বিষয়ে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্যের সঙ্গে যৌথভাবে অর্থায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান।

কলেজের শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাজেটসহ মূল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে লিখিতভাবে তুলে ধরতে। ঈদের ছুটির পর শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে কলেজসহ আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সরকার গঠনের ৯২ দিনের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় উল্লেখ করে ইশরাক হোসেন বলেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সে কারণে অনেক উদ্যোগ বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা দিচ্ছে।

 

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডক্টর খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কাকলী মুখোপাধ্যায়, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ফরিদা ইয়াসমিন, অফিসার্স কাউন্সিলের সম্পাদক, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অনন্যা সংগঠনের নেতৃত্ববৃন্দরা।

 

 

রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা, ১৯ দিনেই এলো ২৪৮ কোটি ডলার

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি মে মাসের প্রথম ১৯ দিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৪৮ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

 

 

বুধবার (২০ মে) এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

 

 

তিনি জানান, মে মাসের প্রথম ১৯ দিনে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১৩ কোটি ৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১৭৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে বড় ধরনের বৃদ্ধি পেয়েছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৯ মে পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ১৮১ কোটি ৬০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ৩৮ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদুল আজহাকে ঘিরে প্রবাসীরা দেশে থাকা পরিবার-স্বজনদের জন্য বাড়তি অর্থ পাঠাচ্ছেন। এর ফলে রেমিট্যান্সের প্রবাহ আরও শক্তিশালী হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসে দেশে আসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রাপ্তির রেকর্ড। এপ্রিল মাসে আসে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার।

 

 

হামের টিকা সংকট নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ৫ চিঠি পাঠিয়েছিল ইউনিসেফ

দেশে হামের টিকা সংকট নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে একাধিকবার সতর্ক করেছিল জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। সংস্থাটির বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স জানিয়েছেন, ২০২৪ সাল থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তত পাঁচ থেকে ৬টি চিঠি পাঠানো হয়েছিল এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে অন্তত ১০ বার বৈঠকও করা হয়।

 

 

 

বুধবার (২০ মে) এক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স এ তথ্য জানান।

 

 

 

কোনো মহামারি হঠাৎ করে তৈরি হয় না উল্লেখ করে রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, কিছু বিশেষ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ রকম পরিস্থিতি দেখা দেয়। বিশেষ করে, টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য রোগের ক্ষেত্রে।

টিকা সংকটের বিষয়ে আগাম সতর্ক করেছেন বলেও দাবি করেন বাংলাদেশের ইউনিসেফ প্রধান। তিনি বলেন, একেবারে সুনির্দিষ্ট দিন-তারিখের তথ্য এখন জানা নেই। তবে তদন্তে বিষয়টি নিশ্চিত হবে।

‘২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৫-৬টি চিঠি পাঠিয়েছি, যার মধ্যে শেষ চিঠিটি নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক আগে পৌঁছেছিল। আমরা আশা করেছিলাম যিনি নতুন করে এ দায়িত্ব পাবেন তার ডেস্কে চিঠিটি থাকবে,’ যোগ করেন ফ্লাওয়ার্স।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর টিকা ক্রয় প্রক্রিয়ায় বিলম্বের অন্যতম কারণ ছিল উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা কেনার বিষয়ে মন্ত্রিসভার একটি সিদ্ধান্ত। গত বছর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।

 

 

 

রানা ফ্লাওয়ার্স জানান, টিকা কেনা সাধারণ ওষুধ কেনার মতো নয়। এটি অত্যন্ত বিশেষায়িত একটি প্রক্রিয়া। এখানে শুধু কম দামের বিষয়টি বিবেচ্য নয়, বরং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত নিরাপদ ও কার্যকর টিকা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

 

 

 

এছাড়া উন্মুক্ত টেন্ডার পদ্ধতিতে টিকা সংগ্রহ করতে এক বছরের মতো সময় লেগে যায়। ইউনিসেফের মাধ্যমে দ্রুত টিকা সংগ্রহ করা যায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 

 

 

ইউনিসেফ ২০২৪ সালেই টিকার সংকটের পূর্বাভাস ও পরবর্তী দুই বছরে বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছিল বলে জানান তিনি। রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, তাই আমরা আগেভাগেই সতর্ক করছিলাম এবং ক্রমাগত মনে করিয়ে দিচ্ছিলাম যে তারা সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে। এটা স্পষ্ট ছিল, দেশে টিকা আনতে না পারলে সমস্যা তৈরি হবে।

 

 

 

তবে এখন কাউকে দোষারোপ করার কিছু নেই বলে মনে করেন তিনি। বাংলাদেশের ইউনিসেফ প্রধান বলেন, এখন এমনভাবে টিকাদান প্রক্রিয়া কাজ করাতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এই দেশের কোনো শিশু প্রতিরোধযোগ্য রোগে আর মারা না যায়।

 

 

 

এছাড়া দেশে এখন ১ কোটি ৮০ লাখের বেশি শিশু হামের টিকা পেয়েছে বলেও জানান ইউনিসেফের এ প্রতিনিধি।

 

গোপনে নারী ফুটবলারদের ভিডিও ধারণের অভিযোগে কোচ আজীবনের জন্য বহিষ্কার

গোপনে নারী ফুটবলারদের ভিডিও ধারণ করার অভিযোগ উঠেছিল চেক প্রজাতন্ত্র জাতীয় দলের কোচ পিটার ভ্লাচোভস্কির বিরুদ্ধে। যে কারণে তাকে ফুটবল-সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম থেকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা উয়েফা। চেক গণমাধ্যম বলছে, ২০২৫ সালের মে মাসে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন।

 

 

এর আগে এফসি স্লোভাচকো ক্লাবের নারী ফুটবলারদের ড্রেসিংরুমে গোপনে ভিডিও ধারণের দায়ে পিটারকে এক বছরের স্থগিত কারাদণ্ড এবং দেশীয় পর্যায়ে পাঁচ বছরের কোচিং নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। যেসব খেলোয়াড়ের ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী ছিলেন ১৭ বছর বয়সী এক ফুটবলার। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত কোচ অপরাধ স্বীকার করে অনুশোচনা প্রকাশ করেন বলে চেক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

 

 

নতুন করে তাকে শাস্তি দেওয়ার বিষয়ে এক বিবৃতিতে উয়েফার কন্ট্রোল, এথিকস অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারি বডি (সিইডিবি) জানিয়েছে, ‘সম্ভাব্য অসদাচরণের অভিযোগ তদন্তে একজন এথিকস ও ডিসিপ্লিনারি ইন্সপেক্টর নিয়োগের পর ভ্লাখোভস্কিকে আজীবনের জন্য ফুটবল-সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিইডিবি ফিফার কাছে এই নিষেধাজ্ঞা বিশ্বব্যাপী কার্যকর করার অনুরোধ এবং চেক প্রজাতন্ত্রের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে পিটার ভ্লাখোভস্কির কোচিং লাইসেন্স বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছে।’

চেক প্রজাতন্ত্র জাতীয় নারী দলের কোচ হওয়ার আগে ভ্লাখোভস্কি নারী অনূর্ধ্ব-১৯ দলেরও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এফসি স্লোভাচকোর এক মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেন, ‘এটি অত্যন্ত গুরুতর এবং উদ্বেগজনক একটি ঘটনা। ২০২৩ সালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং এটি আমাদের ক্লাবের ওপর, বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত খেলোয়াড়দের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।’

 

২১ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে বিদ্যুতের দাম

পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এতে বর্তমান দরের তুলনায় প্রায় ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে।

 

 

 

বুধবার (২০ মে) রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আয়োজিত গণশুনানিতে এই প্রস্তাব উপস্থাপন করে পিডিবি।

 

 

 

শুনানিতে পিডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, চলতি অর্থবছরে সংস্থাটির ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকা এবং আগামী অর্থবছরে তা বেড়ে ৬৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের দাম না বাড়ালে খাতটি বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকিতে পড়বে বলে দাবি করেন সংস্থাটির প্রধান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম।

তবে পিডিবির এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর প্রতিনিধিরা। তাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ খাতে অনিয়ম ও লুটপাটের দায় গ্রাহকের ওপর চাপানো হচ্ছে।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়লে শিল্প উৎপাদন খরচ বাড়বে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তার মতে, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পরিবর্তে বরং কমানোর উদ্যোগ নেওয়া উচিত এবং এ বিষয়ে আইনগত কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

 

 

গণশুনানিতে অংশীজনরা আরও বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের মধ্যে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করবে এবং শিল্প ও উৎপাদন খাতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 

 

এর আগে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের বিষয়ে বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুই দিনের গণশুনানির আয়োজন করে বিইআরসি। বৃহস্পতিবার গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের ওপর পৃথক শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

 

 

লেফটেন্যান্ট তানজিম হত্যায় চারজনের ফাঁসির আদেশ

কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারায় অভিযান চলাকালে ডাকাত দলের ছুরিকাঘাতে নিহত সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার হত্যা মামলায় চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে পাঁচজনকে যাবজ্জীবন, চারজনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

বুধবার (২০ মে) দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খুরশেদ আলম চৌধুরী এ তথ্য জানান।

 

 

 

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের ৫২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হয়। সাক্ষীরা নির্ভয়ে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আজ রায় ঘোষণা করেন।

বিগত ২০২৪ সালে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া গ্রামে ডাকাতির খবর পেয়ে যৌথবাহিনী অভিযান চালায়। অভিযানের সময় ডাকাত দলের সদস্যরা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ারকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে।

এ ঘটনায় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, ২৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১২টার দিকে চকরিয়ার ডুলাহাজারা এলাকায় একটি সন্দেহভাজন বাড়ি ঘিরে ফেলে যৌথ বাহিনী। এ সময় লেফটেন্যান্ট তানজিম দুই সন্ত্রাসীকে চ্যালেঞ্জ করলে তারা তাকে ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে চকরিয়া খ্রিস্টান হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার হত্যা ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলায় মোট ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে ইতোপূর্বে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

 

সেনবাগে ইয়াবাসহ ৩ আসামি আটক

নোয়াখালীর সেনবাগে থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ বিভিন্ন মামলার ৩ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার (২০ মে ২০২৬) সেনবাগ থানা পুলিশের পরিচালিত বিশেষ অভিযানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৩টি মাদক মামলার এজাহারভুক্ত এক পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটক করা হয়েছে। এছাড়া, একটি জিআর গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত এক বছর তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামি এবং নিয়মিত মামলার আরও এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
সেনবাগ থানা পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

 

রায়গঞ্জে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার, সাজাপ্রাপ্ত আসামিও আটক

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। একই অভিযানে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আরও এক আসামিকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত (২০ মে ) রাত আনুমানিক ৩টা ৪৫ মিনিটে রায়গঞ্জ থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে রায়গঞ্জ থানার পাঙ্গাশি বাজার এলাকা থেকে ফয়সাল (৩৬) নামের এক ব্যক্তিকে ১০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে। গ্রেফতার ফয়সাল সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার দেওভাঙ্গা এলাকার আকতারের ছেলে।
পুলিশ জানায়, ফয়সালের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় পূর্বে ৭টি মাদক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে একই অভিযানে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মাদক ব্যবসায়ী মোঃ আমিনুল মন্ডল (৪৫) কে গ্রেফতার করা হয়। তিনি রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা পূর্বপাড়া এলাকার আয়নাল মন্ডলের ছেলে। গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

বেলকুচিতে কৃষকদের নিয়ে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে ২০২৫- ২০২৬ অর্থ বছরে প্রস্তাবিত প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের নিয়ে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

বুধবার সকালে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে কৃষকপ্রশিক্ষণ হলরুমে কৃষকদের নিয়ে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বগুড়া জেলার কৃষি সম্প্রসারণের অধিদপ্তরের উপপরিচালক ইসমাইল হোসেন। এ সময় তিনি বলেন, আমাদের দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে। এখন প্রয়োজন নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন। মেধাবী জাতি গঠনে উৎপাদিত খাদ্যের পুষ্টিমান অক্ষুণ্ণ রাখা এবং বাণিজ্যিকিকরণের মাধ্যমে বাজারজাতকরণের সম্ভাবনাকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছি আমরা। এই লক্ষ্যে কৃষাণ-কৃষাণী পর্যায়ে দল গঠন করে তাদেরকে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে সংগঠিত করা হচ্ছে।

 

এ ছাড়াও উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইশরাত জাহান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুকান্ত ধর, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোছাব্বিরুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাব্বির আহাম্মেদ শুভ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব বনি আমিনসহ বিভিন্ন ব্লকের কৃষক-কৃষাণী উপস্থিত ছিলেন।

নিজ দোকানে গলাকাটা অবস্থায় পড়েছিল ব্যবসায়ী

সিরাজগঞ্জে নিজ দোকান থেকে আজিমুল ইসলাম আজিম (৪০) নামে এক ব্যবসায়ীকে গলা কাটা অবস্থা উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে মুমুর্ষ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

 

বুধভার (২০ মে) সকালে সিরাজগঞ্জ শহরের পৌর সুপার মার্কেটের মেসার্স শীতল ফ্যাশন নামে দোকানের ভেতের থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। ব্যবসায়ী আজিম শহরের হোসেনপুর মহল্লার মো. রবিউল আলমের ছেলে।

 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সকালে আজিম তার দোকান খোলেন। তখন মার্কেটের অধিকাংশ দোকানই বন্ধ ছিল। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আজিমের দোকানের বন্ধ সাটারের নীচ দিয়ে রক্ত বের হয়ে আসছিল। এটা দেখে স্থানীয়রা সাটার খুলে দোকানে ঢুকে আজিমকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। তার গলা কাটা ছিল।

 

তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

 

সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিজ দোকানের ভেতর থেকে ব্যবসায়ী আজিমকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার গলা কাটা রয়েছে। ঘটনাটি সম্পর্কে বিভিন্ন কথা শোনা যাচ্ছে। শোনা যাচ্ছে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। বারা কেউ বলছেন ঋণের দায়ে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করে থাকতে পারেন। বিষয়টি তদন্ত ছাড়া বলা যাচ্ছে না।

 

অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচিত হবে না : ডিএমপি কমিশনার

 

রাজধানীতে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক, কিশোর গ্যাং, অনলাইন জুয়া ও সাইবার প্রতারণার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নতুন কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, অপরাধে জড়িতদের রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না।

 

 

 

বুধবার (২০ মে) রাজধানীতে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম সংবাদ সম্মেলন।

 

 

 

ডিএমপি কমিশনার বলেন, নিরাপদ, অপরাধমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ রাজধানী গড়ে তুলতে কাজ করছে পুলিশ। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের সহযোগিতাকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

তিনি বলেন, প্রায় তিন কোটি মানুষের এই নগরীতে ছিনতাই, মাদক, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং, অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা ও হ্যাকিং বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অপরাধ দমনে গত ১ মে থেকে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে ডিএমপি।

 

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় ডিএমপির সাইবার ইউনিটকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে বলেও জানান মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ডিবি কার্যালয়ে স্থাপিত ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব সম্প্রতি তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) মন্ত্রণালয়ের স্বীকৃতি পেয়েছে। এটি সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

 

রাজধানীর যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার। তার ভাষ্য, গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এআইভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে ই-প্রসিকিউশন চালু করা হয়েছে।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, নাগরিকদের অনলাইনে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার সুবিধা চালু রয়েছে। পাশাপাশি ‘হ্যালো ডিএমপি’ ও হোটেল বর্ডার ইনফরমেশন সিস্টেমও চালু করা হয়েছে।

 

 

 

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, পশুর হাট, ঈদের জামাত, শপিং মল ও আবাসিক এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও অতিরিক্ত যাত্রী বহনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনে পুলিশের সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, ছিনতাইকারী ও জাল নোট চক্র ঠেকাতে ডিবি ও থানা পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

 

 

 

মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে যেকোনো অপরাধের তথ্য দ্রুত পুলিশকে জানাতে এবং প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করার অনুরোধ করেন।

 

 

 

 

গণমাধ্যমের উদ্দেশে ডিএমপি কমিশনার বলেন, পুলিশের গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি ইতিবাচক কাজগুলোও তুলে ধরা উচিত, যাতে নগরবাসী আরও সচেতন হয়।

 

 

আওয়ামী লীগ ফিরে আসেনি, তারা ছিলই: আসিফ নজরুল

 

জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ আবারও রাজনীতিতে ‘ফিরে এসেছে’ বলে মনে করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগের অধ্যাপক ও অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল মনে করেন, ‘আওয়ামী লীগ ফেরেনি, তারা ছিল।’

 

 

 

বুধবার (২০ মে) দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া স্ট্যাটাসে এমন দাবি করেন ঢাবির এ শিক্ষক।

 

 

 

স্ট্যাটাসে আসিফ নজরুল লেখেন, ‘আওয়ামী লীগ ব্যাক করেনি। তারা ছিলই। ব্যাক করেছে তাদের দম্ভ, মিথ্যাচার আর মানুষকে বিভ্রান্ত করার দুঃসাহস।’

এর আগে মঙ্গলবার কিছু সময়ের ব্যবধানে ‘আওয়ামী লীগের ফেরা’ নিয়ে ফেসবুকে দুটি পোস্ট দেন। এর প্রথমটিতে তিনি লেখেন, ‘লীগ রাজনৈতিক দলের আগে একটা ধর্মতত্ত্ব, সে ধর্মতত্ত্বে ইমান আবার ফেরত এসেছে।’ কীভাবে ফিরল, সে ‘গল্পই’ তুলে ধরার কথা বলেন তিনি।

এ স্ট্যাটাসের পর ফেসবুকে আলোচনা শুরু হলে আরেকটি পাল্টা স্ট্যাটাসে মাহফুজ লেখেন, ‘যারা আগের পোস্টকে পর্যালোচনা হিসাবে পাঠ করেছেন, তাদের জন্য বলছি। আমাদের এখনকার কাজ হল- সকল নিপীড়নের বিরুদ্ধে, নিপীড়িতের পক্ষে থাকা। দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে বাংলাদেশের সকল নাগরিকের মানবাধিকারের পক্ষে থাকা।’

 

 

চুরির ঘটনায় গণপিটুনিতে যুবক নিহত

 

‎বগুড়ার শেরপুরে সেচ পাম্পের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার (২০ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি নিহত হন।

 

 

 

‎‎নিহত যুবকের নাম রাফি মন্ডল। তিনি ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ী ইউনিয়নের বুলু মন্ডলের ছেলে। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর হোসেন (৩২) নামে আরও এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি একই উপজেলার বড়বিলা গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে।

 

 

 

‎স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শেরপুরের কুসুম্বি ইউনিয়নের বাসিন্দা রমজান আলী ও আব্দুল জলিল যৌথভাবে একটি সেচ পাম্প পরিচালনা করেন। চুরির হাত থেকে রক্ষা পেতে তারা পাম্পের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের সঙ্গে বিশেষ সতর্কবার্তা ডিভাইস (অ্যালার্ম) সংযুক্ত করেছিলেন।

 

 

‎‎গভীর রাতে রাফি ও জাহাঙ্গীর ট্রান্সফরমার চুরির চেষ্টা করলে ডিভাইস থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মালিকপক্ষের মোবাইল ফোনে কল চলে যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে রমজান আলী ও আব্দুল জলিল চোর চোর বলে চিৎকার শুরু করেন। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে দুই যুবককে আটক করে। এ সময় উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে তারা গুরুতর আহত হন।

 

‎‎স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাদের শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাফি মন্ডলের মৃত্যু হয়। আহত জাহাঙ্গীর হোসেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

 

 

‎‎শেরপুর থানার উপপুলিশ পরিদর্শক তোফাজ্জল হোসেন জানান, ট্রান্সফরমার চুরির সময় গণপিটুনিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থার প্রক্রিয়া চলছে।

 

 

নদীভাঙনে সব হারিয়ে জিওব্যাগই এখন ভরসা নিঃস্ব দম্পতির

  • রিপোর্টার:
  •  আপডেট টাইম : ১২:১৪:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
 

সন্ধ্যা নদীর পাড়ে বিকেলের শেষ আলো যখন পানির ঢেউয়ে ঝিকমিক করে ওঠে, তখন নদীর দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন নুরজাহান বেগম। যেন নদীর বুকের ভেতরেই খুঁজে ফেরেন হারিয়ে যাওয়া জীবনের গল্প। যে নদী একসময় ছিল তাদের জীবিকা ও স্বপ্নের সঙ্গী, সেই নদীই আজ কেড়ে নিয়েছে সহায়-সম্বল, বসতভিটা আর স্বাভাবিক জীবন।

 

 

 

বরিশালের বাবুগঞ্জে বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের রমজানকাঠী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নদীভাঙনের শিকার হাবিবুর রহমান ফকির ও তার স্ত্রী নুরজাহান বেগম এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। চার দফা ভাঙনে তাদের প্রায় ৬৫ শতক জমি, বাড়িঘর, গাছপালা ও দীর্ঘদিনের সাজানো সংসার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে নদী রক্ষায় ফেলা সরকারি জিওব্যাগের ওপর অস্থায়ীভাবে নির্মিত একটি ছোট টিনের ঘরেই বসবাস করছেন তারা।

 

 

 

স্থানীয়রা জানান, প্রায় পাঁচ বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ওই ঘরেই দিন কাটছে বৃদ্ধ দম্পতির। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বেড়ে গেলে অনেক সময় ঘরের নিচ দিয়ে স্রোত বয়ে যায়। কখনও পানি ঢুকে পড়ে ঘরের ভেতরেও। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা জলোচ্ছ্বাস দেখা দিলে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটতে হয় আশপাশের লোকজনের বাড়িতে। তারপরও জন্মভূমির মায়া ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে পারেননি তারা।

 

নুরজাহান বেগম বলেন, ‘এই জায়গার সঙ্গে আমাদের পুরো জীবন জড়ানো। আগে জমিতে ফসল হতো, সেই ফসল বিক্রি করে সংসার চলত। বাড়িঘর, জমিজমা— সব নদী গিলে খাইছে। এখন শুধু স্মৃতিগুলোই আছে। নদীর দিকে তাকাইয়া সেগুলাই মনে করি।’

 

 

কথা বলতে বলতে বারবার দীর্ঘশ্বাস ফেলছিলেন তিনি। চোখেমুখে স্পষ্ট ছিল দীর্ঘদিনের কষ্ট আর অনিশ্চয়তার ছাপ। তিনি বলেন, ‘অনেক কষ্টে দিন চলে। তবুও মানুষের কাছে হাত পাততে লজ্জা লাগে। আল্লাহ যেভাবে রাখছে, সেভাবেই আছি।’

 

 

স্বামী হাবিবুর রহমান ফকির জানান, একসময় তিনি এলাকায় সচ্ছল মানুষ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। রাজমিস্ত্রির কাজের পাশাপাশি কৃষিজমির আয়েও ভালোভাবেই চলত সংসার। কিন্তু নদীভাঙনের আঘাতে সবকিছু হারিয়ে আজ তিনি প্রায় নিঃস্ব।

 

 

 

তিনি বলেন, ‘বাপ-দাদার ভিটায় জন্ম হইছে, বড় হইছি। চারবার ঘর নদীতে গেছে। সব শেষ হওয়ার পরে সরকার জিওব্যাগ ফেলছে। এখন সেই জিওব্যাগের ওপরেই ঘর কইরা থাকি।’

 

 

 

নদীভাঙনের দুশ্চিন্তা ও আর্থিক সংকটের চাপ সহ্য করতে না পেরে তিনবার ব্রেইন স্ট্রোক করেছেন বলেও জানান তিনি। বর্তমানে কানে কম শোনেন এবং আগের মতো ভারী কাজ করতে পারেন না। বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে আয়ও অনেক কমে গেছে। তাদের দুই ছেলে আলাদা পরিবার নিয়ে অন্যত্র ভাড়া বাসায় থাকেন। তারাও আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় বৃদ্ধ বাবা-মায়ের পাশে তেমনভাবে দাঁড়াতে পারছেন না।

 

 

 

এলাকাবাসী জানান, সন্ধ্যা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে এই অঞ্চলের বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কেউ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেলেও অনেকেই স্মৃতির টানে এখনও নদীপাড় আঁকড়ে পড়ে আছেন।

 

 

 

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল আহসান খান হিমু বলেন, বিষয়টি জেনে খুব খারাপ লেগেছে। আমি পরিবারটির খোঁজখবর নিয়েছি। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে সহযোগিতার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করব।

 

 

 

বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমা উল হুসনা বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এই পরিবারের বিষয়টি অত্যন্ত মানবিক। আমরা তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে সরকারি সহায়তার আওতায় আনার চেষ্টা করব। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত অন্য পরিবারগুলোর বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

 

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্তিতে হাইকোর্টের বিস্ময়

আপিল বিভাগে মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। বুধবার (২০ মে) সকালে এ তথ্য জানান আইনজীবী শিশির মনির।

 

 

 

 

তিনি বলেন, আপিল বিভাগে মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই সচিবালয় বিলুপ্ত করায় হাইকোর্ট বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। সকালে বিচারপতি আহমেদ সোহেলের বেঞ্চে বিলুপ্তির প্রজ্ঞাপন উপস্থাপন করা হলে আদালত রাষ্ট্রপক্ষকে বলেন, ‘এটি কীভাবে সম্ভব?’

 

 

 

 

পরে পৃথক সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে রিটকারী আইনজীবী শিশির মনির বলেন, চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই কার্যক্রম বিলুপ্ত করে সরকার আদালত অবমাননা করেছে।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করা হবে এবং আবেদনটি তিনি নিজেই করবেন।

এ আইনজীবী আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করায় বিদেশিদের কাছেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

 

 

এর আগে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করে সেখানে কর্মরত ১৫ জন বিচারককে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়। এরও আগে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক করে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। পরে অধ্যাদেশটি বাতিল করে বিএনপি সরকার।

 

 

 

তবে বিচার বিভাগ পৃথককরণ সংক্রান্ত রায়ে হাইকোর্ট তিন মাসের মধ্যে সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেন। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্ত নেয় রাষ্ট্রপক্ষ। যদিও এখনো আপিল করা হয়নি। একই সঙ্গে হাইকোর্ট রাষ্ট্রপক্ষের কাছে আশা প্রকাশ করেন, চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগে যেন সচিবালয়ের কার্যক্রম বন্ধ না করা হয়।

 

 

ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর ‘মাথার দাম’ ৫৮ মিলিয়ন ডলার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হত্যার জন্য তাদের ‘মাথার দাম’ প্রায় ৫৮ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছে ইরান।

 

 

 

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি জানিয়েছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা ব্যবস্থা শীর্ষক একটি বিল প্রস্তুত করা হচ্ছে। এতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে হত্যাকারী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে ৫ কোটি ইউরো (প্রায় ৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) পুরস্কার দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। খবর এনডিটিভির।

 

 

 

আগামী দিনে এ বিলটি ইরানি পার্লামেন্টে ভোটে তোলা হতে পারে বলে জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে হামলায় তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনার জবাব হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্টরা।

ইব্রাহিম আজিজি অভিযোগ করেন, খামেনি হত্যাকাণ্ডে ট্রাম্প, নেতানিয়াহু এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের ভূমিকা রয়েছে। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের আরেক সদস্য মাহমুদ নাবাভিয়ানও জানিয়েছেন, যে ব্যক্তি ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে জাহান্নামে পাঠাবে, তাকে পুরস্কৃত করার বিষয়ে পার্লামেন্ট শিগগিরই ভোট দেবে।

 

 

এর আগে ইরানি সংবাদমাধ্যম মাসাফ দাবি করেছিল, ‘কিল ট্রাম্প’ নামে একটি অভিযানের জন্য ৫ কোটি ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া ‘হানদালা’ নামে ইরান-সমর্থিত একটি সাইবার গোষ্ঠীও ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে নির্মূলের জন্য ৫ কোটি ডলার বরাদ্দের দাবি করে।

 

 

 

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। একই সময়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন শান্তি প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানের নতুন প্রস্তাবে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি।

 

২-০ ব্যবধানে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ

মিরপুর টেস্টের পর সিলেটেও দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে ৭৮ রানের জয় তুলে নিয়ে ইতিহাস গড়েছে টাইগাররা। ঘরের মাঠে টেস্ট ক্রিকেটে এবারই প্রথম পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করল বাংলাদেশ।

 

 

 

৪৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চতুর্থ দিন শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৭ উইকেটে ৩১৭ রান। শেষ দিনে জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন ছিল আরও ১২০ রান, আর বাংলাদেশের দরকার ছিল মাত্র তিন উইকেট।

 

 

 

পঞ্চম দিনের শুরুতে ব্যাট করতে নামেন আগের দিনের অপরাজিত দুই ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাজিদ খান। শুরুতেই রিজওয়ানকে ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। নাহিদ রানার বলে স্লিপে ক্যাচ তুললেও সেটি তালুবন্দি করতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজ।

 

জীবন পেয়ে রিজওয়ান ও সাজিদ খান অষ্টম উইকেটে গড়ে তোলেন অর্ধশতাধিক রানের জুটি। এতে ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে পাকিস্তান। তবে সেই জুটি ভেঙে দেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। সাজিদ খানকে ফিরিয়ে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। আউট হওয়ার আগে ৩৬ বলে ২৮ রান করেন সাজিদ।

 

এরপর দ্রুত বাকি উইকেট তুলে নিয়ে দারুণ এক জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। এই জয়ে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করল টাইগাররা।

 

 

 

বিলুপ্ত হলো সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়: আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত কর্মকর্তারা

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করে এই সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবসহ ১৫ জন কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত নেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (১৯ মে) এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির আদেশে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ।

 

এছাড়া আরেকটি পৃথক আদেশে এই কর্মকর্তাদের আইন মন্ত্রণালয়ে যোগদানের তারিখ দেখানো হয়েছে ১০ এপ্রিল। যার আগের দিন ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছিল।

 

মন্ত্রণালয়ে ফেরতে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ অনুযায়ী বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের নিম্ন বর্ণিত সদস্যদের পরবর্তী উপযুক্ত পদে পদায়নের নিমিত্ত পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করা হলো।

 

প্রজ্ঞাপনে ছক করে কর্মকর্তাদের নাম, বিলুপ্ত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সাবেক পদ এবং সংযুক্ত পদ উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯ মে এটি জারি হলেও এর ভুতাপেক্ষ কার্যকারিতা দেখানো হয়েছে ১০ এপ্রিল থেকে।

 

অপরদিকে অফিস আদেশে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে প্রজ্ঞাপনমূলে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের নিম্ন বর্ণিত সদস্যদের পরবর্তী উপযুক্ত পদে পদায়নের নিমিত্ত আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করা হলো। তদানুসারে তাদের দাখিল করা যোগদানপত্র ১০ এপ্রিল থেকে ভূতাপেক্ষভাবে গ্রহণ করা হলো।

 

 

ভারত সফরে যাচ্ছেন ভ্লাদিমির পুতিন

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফরে যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মঙ্গলবার (১৯ মে) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ক্রেমলিন।

 

ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রেক্ষাপটে এই সফর বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এক বছরের মধ্যে এটি হবে পুতিনের দ্বিতীয় ভারত সফর, যা দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ২৩তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিতে ভারত সফর করেছিলেন পুতিন। সে সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।

ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বার্ষিক শীর্ষ বৈঠকের একটি ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এর আওতায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্ক পর্যালোচনা করেন। এখন পর্যন্ত এমন ২৩টি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা পালাক্রমে দুই দেশে আয়োজন করা হয়।

 

যদিও ২০২৫ সালের বৈঠকটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল, কারণ ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর সেটিই ছিল পুতিনের প্রথম ভারত সফর। এর আগে তিনি সর্বশেষ ২০২১ সালে নয়াদিল্লি সফর করেছিলেন।

পুতিনের এবারের সফরের আগে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভও নয়াদিল্লি সফর করেন। তিনি ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন। ১৪ ও ১৫ মে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

 

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য এবারের ব্রিকস সম্মেলনে বৈশ্বিক নিরাপত্তা সংকট এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আগৈলঝাড়ায় অবৈধ ভাবে তেল বিক্রির দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন এক তেল ব্যবসায়ীকে। সোমবার সন্ধ্যায় এই অভিযান পরিচালনা করেন ভ্র্যাম্যমান আদালতের বিচারক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের মঠবাজারে ঝালকাঠীর জুয়েল হাওলাদার নামে এক ব্যক্তি গাড়ী নিয়ে অবৈধভাবে তেল বিক্রি করতে আসেন। তার তেল বিক্রির কথা ছিল ঝালকাঠী সদরে। এ-সংবাদ পুলিশ জানতে পেরে থানার এসআই সেলিম মিয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে তেলের গাড়ী জব্দসহ ঝালকাঠী জেলার সদর উপজেলার ইফাতনগর গ্রামের ইয়াসিন হাওলাদারের ছেলে মো. জুয়েল হাওলাদারকে আটক করে।

 

পরে তাকে তেলের গাড়ীসহ ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক এর আদালতে উপস্থিত করা হলে আদালতের বিচারক জুয়েল হাওলাদারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস সহকারী অশোক মিস্ত্রী ও থানার এসআই সেলিম মিয়াসহ প্রমুখ।

 

রাণীনগরে ছাত্রলীগ কর্মী গ্রেফতার

নওগাঁর রাণীনগরে যৌথ অভিযান চালিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য এসকে নাহিদকে (২৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত সোমবার সন্ধ্যায় রাণীনগর রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে রাণীনগর ও আত্রাই থানা পুলিশ যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে।
গ্রেফতারকৃত এসকে নাহিদ রাণীনগর উপজেলার পূর্ববালুভরা গ্রামের এসকে হাবিবুর রহমানের ছেলে।
নাহিদের ছোট ভাই মারুফ জানান, তার ভাই দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি স্ত্রীর অসুস্থতার খবর পেয়ে তিনি গ্রামের বাড়িতে আসেন। সোমবার বিকেলে পারিবারিক বাজার-সদাই করতে বেরিয়ে রাণীনগর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালেই পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে পরিবার জানতে পারে, পার্শ্ববর্তী আত্রাই থানার একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
রাণীনগর থানার ডিউটি অফিসার এএসআই মজিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে নাহিদকে আত্রাই থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আত্রাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওবায়দুর রহমান জানান, এসকে নাহিদের বিরুদ্ধে আত্রাই থানায় ‘সন্ত্রাস দমন আইনে’ একটি মামলা রয়েছে। সেই মামলাতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

ভোলাহাটে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলা ভূমি অফিসের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী “দেশব্যাপী ভূমিসেবা মেলা-২০২৬” এর জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার ১৯ মে ২০২৬ সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ভোলাহাট উপজেলা ভূমি অফিস প্রাঙ্গনে এ মেলার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রজেক্টর স্ক্রিনের মাধ্যমে ঢাকা থেকে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ সানাউল মোর্শেদ এবং প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা কর্মকর্তা নাসিম উদ্দিন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম কবিরাজ, সমবায় অফিসার (ভার) আব্দুল জলিল এবং আরডিও সবুজ আলী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও ছাত্র-ছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। ভূমি সেবা মেলায় ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা, তথ্য প্রদান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে।

আগৈলঝাড়ায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও সুসংহত ও কার্যকর করতে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

মঙ্গলবার সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বনিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, আগৈলঝাড়া থানার ওসি (তদন্ত) সুশংকর মল্লিক, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক শিকদার হাফিজুল ইসলাম, সদস্য সচিব মোল্লা বশির আহম্মেদ পান্না, যুগ্ম-আহবায়ক শাহ মো. বক্তিয়ার, আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাব সভাপতি মো. শামীমুল ইসলাম শামীম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুনিত কুমার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. সেকেন্দার মৃধা, গৈলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা রফিকুল ইসলাম নেছারী, ডা. মিরন হালদার, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পলাশ হালদার।

 

সভায় উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা কমিটির পাশাপাশি মাদক প্রতিরোধ, ঈদুল আযহা উপলক্ষে চারটি পশুর হাটে মনিটারিং, প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এসময় বক্তারা সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, নিয়মিত মনিটরিং জোরদারের দাবি জানান।

 

আগৈলঝাড়ায় ভূমিসেবা মেলা উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা

“জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা: সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ” এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

মঙ্গলবার সকালে উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে র‌্যালি শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন শেষে উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

 

পরে উপজেলা ভূমি অফিসের হলরুমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বনিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন, আগৈলঝাড়া থানার ওসি (তদন্ত) সুশংকর মল্লিক, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক শিকদার হাফিজুল ইসলাম, সদস্য সচিব মোল্লা বশির আহম্মেদ পান্না, যুগ্ম-আহবায়ক শামচুল হক খোকন, আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাব সভাপতি মো. শামীমুল ইসলাম শামীম, সহ-সভাপতি মাসুম হাওলাদার প্রমুখ। এছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

সেমিনারে বক্তারা বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় ভূমিসেবা পৌঁছে দিতে সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনায় আধুনিক ও ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করেছে। অনলাইনে নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধসহ বিভিন্ন সেবা সহজলভ্য হওয়ায় সাধারণ মানুষ এখন উপকৃত হচ্ছে। ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

 

তিন দিনব্যাপী এ মেলায় ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও পরামর্শ সেবা প্রদান করা হবে। তাই সকলকে এই মেলায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

 

ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন ড. আতিক মুজাহিদ এমপি

কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল থেকে প্রতি মাসে ১৪ লাখ টাকা উত্তোলনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন।
আজ ১৯ মে মঙ্গলবার কুড়িগ্রাম আলিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে ব্রিফিং করেন তিনি। ব্রিফিংয়ে তিনি কুড়িগ্রাম জেলার অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়েও কথা বলেন। এ সময় তিনি কুড়িগ্রাম জেলার উন্নয়ন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীদের জনবিরোধী বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী উপজেলার দপ্তরিক কর্মচারীরা মূলত একটি গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করেন। তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য জনগণের কাজের গতিকে বাধাগ্রস্ত করতে দ্বিধাবোধ করেন না।
এমপি হওয়ার পর থেকে আমি কুড়িগ্রামবাসীকে হৃদয়ে ধারণ করে সংসদে কথা বলেছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে কয়েকজন মন্ত্রীর সাথেও কথা বলেছি। কুড়িগ্রাম জেলায় কাজ করার জন্য বিভিন্ন মাধ্যম অবলম্বন করছি। কিন্তু তার পরেও আমার নামে মিথ্যা রটানো হচ্ছে।
আমি নাকি কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল থেকে প্রতি মাসে ১৪ লাখ টাকা উঠাই, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার নামে মিথ্যা খবর প্রচার করে আমাকে কুড়িগ্রাম জেলার উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করতে চাচ্ছে।
আমি সাংবাদিকদের চ্যালেঞ্জ করে বলছি, যারা আমার নামে এমন মিথ্যা প্রচার করছে তাদের আমার কাছে নিয়ে আসুন। সঠিক তথ্য যাচাই-বাছাই করুন। প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব বক্তব্য রাখেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মোঃ মুকুল মিয়া, সদস্য সচিব মাসুম রানা, যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুলজ্জামান তাওহীদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হক, শ্রমিক শক্তির জেলা আহ্বায়ক মজনু মিয়া, ছাত্র শক্তির জেলা আহ্বায়ক জাহিদ হাসানসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

 

 

জলঢাকায় ভুমিসেবা মেলা উপলক্ষে র‍্যালী সচেতনতামূলক সভা

সারাদেশের ন্যায় নীলফামারীর জলঢাকায় ভুমিসেবা মেলা উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালী ও জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা: সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ, ভূমি সেবা মেলা ও জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
 ১৯ শে মে ২০২৬ ইং রোজ মঙ্গলবার  সকালে   উপজেলা ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে এ মেলা ৩ দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।
উদ্বোধনী মেলা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনের সংসদ সদস্য  মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফি। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকার ভূমি সেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ডিজিটাল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা চালু করেছে। জনগণকে ভূমি সংক্রান্ত সেবায় সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
এসয়ম সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি, থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল আলম, উপজেলা জামায়াতের আমির মোখলেসুর রহমান মাস্টার , উপজেলা কৃষি অফিসার মিজানুর রহমান, প্রেসক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব কামারুজ্জামান,উপজেলা জামাতের সহকারী সেক্রেটারি প্রভাষক মুজাহিদ মাসুম,  উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা,মৎস কর্মকর্তা,  সমাজসেবা কর্মকর্তা, পৌরসভা ও উপজেলার  সকল ইউনিয়নের  ভূমি কর্মকর্তাবৃন্দসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ শিক্ষার্থীগন উপস্থিত ছিলেন,  অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত কৃষি অফিসার খোরশেদ আলম।
সভায় বক্তারা ভূমি সংক্রান্ত অনলাইন সেবা, নামজারি, খাজনা প্রদান ও ভূমি জটিলতা নিরসনে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করেন।

 

ভূমিসেবাকে জনবান্ধব করতে ইসলামপুরে ‘ভূমিসেবা মেলা

ভূমি সেবাকে আরও সহজ, দ্রুত ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে জামালপুরের ইসলামপুরে উদযাপিত হয়েছে ‘ভূমি সেবা মেলা-২০২৬’। “জনবান্ধব স্বয়ংক্রিয় ভূমি ব্যবস্থাপনা, সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মেলায় একটি বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও জনসচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা হয়।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় এবং ইসলামপুর উপজেলা ভূমি অফিসের উদ্যোগে মঙ্গলবার সকালে উপজেলা ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন মো. রেজুয়ান ইফতেকার, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হোসেন, ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. গাজী আব্দুল কাইয়ুম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল ইসলাম (নবাব), সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নবী নেওয়াজ খান লোহানী বিপুল এবং সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন। এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, অন্যান্য কর্মকর্তা এবং বিপুল সংখ্যক আগ্রহী সাধারণ মানুষ মেলায় অংশগ্রহণ করেন।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, মেলায় নাগরিকদের জন্য আধুনিক ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনার নানা দিক তুলে ধরা হয়। মেলায় যে সকল সেবা ও তথ্য প্রদান করা হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: অনলাইনে নাম নিবন্ধন বা নামজারি, সহজে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, খতিয়ান ও মানচিত্র সম্পর্কিত তথ্য ও সেবা এবং ভূমি সংক্রান্ত আইনি ও সাধারণ পরামর্শ। এছাড়া ভূমি সংক্রান্ত কার্যক্রমে নাগরিকদের হয়রানি কমাতে এবং সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মেলা থেকে জানানো হয়, ভূমি সেবা সম্পর্কে যেকোনো তথ্য, অভিযোগ ও পরামর্শের জন্য নাগরিকরা দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা হটলাইন সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। পাশাপাশি, ঘরে বসে সহজেই ভূমি সংক্রান্ত তথ্য ও সেবা পেতে সরকারি ফেসবুক পেজ এবং বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের জন্য নাগরিকদের প্রতি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

শিক্ষকের মৃত্যুর খবর শুনে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

নওগাঁর বদলগাছীতে সিএনজি ও ধান মাড়াই মেশিনের মুখোমুখি সংঘর্ষে উম্মে কুলছুম নামের এক শিক্ষক নিহত হয়েছে। এঘটনায় আরও এক শিক্ষক আহত হয়েছেন। এদিকে প্রিয় শিক্ষকের মৃত্যুর খবর শুনে একই স্কুলের তাসনিম নামের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (১৯মে) দুপুরে উপজেলার চাকরাইল বটতলি মোড় এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সিনএনজি যাত্রী ও শিক্ষক কুলছুম হলেন উপজেলার সদর দর্গাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি বদলগাছী লাবণ্য প্রভা ও কমিউনিটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। আহত ব্যক্তি সদর উপজেলার গোড়শাহী গ্রামের বাসিন্দা মমতাজ জাহান। তিনিও একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
অপরদিকে নিহত তাসনিম একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেনীর শিক্ষার্থী। ঘটনার দিন তাসনিম তার শিক্ষকের মৃত্যুর খবর শুনে অসুস্থ হঠাৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখে অসুস্থ  হয়ে পরে। পরে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই শিক্ষার্থীকে মৃত ঘোষণা করে।
শিক্ষার্থীর বাবা আবুল কালাম বলেন,“ আমার মেয়েটি ফেসবুকে তার শিক্ষক কুলছুমের মৃত্যুর খবর দেখে সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে বদলগাছী হাসপাতালে নিয়ে আসলে ডাক্তার পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে মৃত ঘোষণা করে।
বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আসাদুজ্জামান নাহিদ বলেন,“ শিক্ষার্থী কোনো আকর্ষিক ঘটনা দেখে হয়তো জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। তবে এখনি মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু বলা যাচ্ছে না। পোষ্ট মেটাম রিপোর্ট আসলে মৃত্যুর সঠিক কারন জানা যাবে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যাত্রীবাহী সিএনজি উপজেলার গোড়শাহী এলাকা থেকে দুই জন যাত্রী নিয়ে রাজশাহীর উদ্দেশ্য রওনা হয়। চাকরাইল বটতলী মোড় এলাকায় পৌছালে মাতাজিহাট থেকে আসা ধান মাড়াই মেশিনের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলে সংঘর্ষের তীব্রতায় সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই সহকারী শিক্ষক কুলছুম মারা যায়। এ সময় গুরুতর আহত হন আরও এক শিক্ষক মমতাজ জাহান।
পরে স্থানীয়রা আহত শিক্ষককে উদ্ধার করে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
তাজা দুটি প্রাণের মৃত্যুর খবর পেয়ে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত যান দুটি জব্দ করে।
বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। আর শিক্ষকের মৃত্যুর খবর দেখে একই বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর পেয়েছি। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

সেনবাগে  ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে সেনবাগ থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের বৈশার বাপের পুল সংলগ্ন এলাকায় সেনবাগ থানার উদ্যোগে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তার মো. নিজাম উদ্দিন (২৭)। তিনি ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের আম্বর আলী চৌকিদার বাড়ির বাসিন্দা এবং আমির হোসেনের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে নিজাম উদ্দিনের কাছ থেকে ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে আটক করে সেনবাগ থানায় নিয়ে আসা হয়।
সেনবাগ থানা পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে পূর্বে ৯টি মাদক মামলার এজাহার রয়েছে। উদ্ধারকৃত মাদকের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে চলমান বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

গজারিয়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে হামলা-পাল্টা হামলা, আহত ২

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যসহ দুইজন আহত হয়েছেন।
সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামের মিয়া বাড়ির সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
​আহতরা হলেন, গজারিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল বারেক বেপারীর ছেলে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য নাসির উদ্দিন (৬৫) এবং একই গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে তালহা (১৬)। তাদের মধ্যে সাবেক সেনাসদস্য নাসির উদ্দিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
​ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাবেক সেনাসদস্য নাসির উদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় সোহেল ও মিলন পক্ষের বিরোধ চলছিল। পূর্ব শত্রুতার জেরে সোমবার সন্ধ্যায় উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে নাসির উদ্দিন ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন এবং অপর পক্ষের কিশোর তালহা আহত হয়।
​আহত নাসির উদ্দিনের অভিযোগ, এলাকায় মাদক ব্যবসা ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় প্রভাবশালী সোহেল মিঝি, মনির ও মিলনের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়। তারা বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁর ওপর হামলার পরিকল্পনা করছিল। সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ির পাশের একটি মেসে বসে থাকার সময় সোহেল মিঝি, মনির ও মিলনের নেতৃত্বে ২০-২২ জনের একটি সশস্ত্র দল লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়। তাঁর চিৎকার শুনে ছেলে জেম বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করে হামলাকারীরা। পরে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। ঘটনার পর থেকে তাঁর ছেলে জেম নিখোঁজ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
​এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত সোহেল মিঝি ও মিলনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
​গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আবেদ আহমেদ জানান, নাসির উদ্দিনের মাথা ও গালে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন অংশে জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাঁর মাথার দুই জায়গায় ও গালে সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
​গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান আলী বলেন, “বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

রায়গঞ্জে ভূমি সেবা মেলার উদ্বোধন

“জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা, সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ” — এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ভূমি সেবা মেলার শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। দেশব্যাপী আয়োজিত ভূমি সেবা মেলার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় চত্বরে এ মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল খালেক পাটোয়ারী।
অনুষ্ঠানে মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শামসুল ইসলাম, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস মন্ডল, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বেলাল হোসেন, নির্বাচন কর্মকর্তা ফেরদৌস আলম, শিক্ষক হাফিজুর রহমান এবং নাজির কাম-ক্যাশিয়ার ছরোয়ার হোসেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি উপজেলা চত্বর প্রদক্ষিণ করে। পরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া মেলায় কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হলে রায়গঞ্জ সদর বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা এতে অংশগ্রহণ করে।
উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিএনপির নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

 

বেলকুচিতে ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লার অত্যাচারে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা (৪০) ও তার সহযোগী নুরুল ইসলাম, তোফাজ্জল, আল- আমিন মাল এর বিরুদ্ধে  এলাকায় বেপরোয়া চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে ডাকাতি, অবৈধ মাদক সাম্রাজ্য গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও প্রভাবখাটিয়ে গোপালপুর বটতলার স্লুইসগেট খুলে দেওয়ায় মাছের ঘের তলিয়ে গিয়ে প্রায় ৫ লাখ টাকার মত ক্ষতিসাধিত হয়েছে মৎস্যচাষীরা।

 

 

তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন গোপরেখী গ্রামের মানুষ।

 

মৎস্যচাষীরা জানান, রোববার দপুরে উপজেলায় বড়তলা গরুরহাটের ইজারাদার নেওয়াকে কেন্দ্র করে আমরা শুনেছি ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা মার খেয়েছেন। তবে মারধরের ঘটনার বিষয়ে আমরা বিস্তারিত কিছু জানি না। কিন্তু সেট ঘটনার জেরে রোববার রাতে প্রচন্ড বৃষ্টির সময় স্লুইসগেট খুলে দেওয়ায় আমাদের মাছের ঘের তলিয়ে গিয়ে মাছ বের হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৫ লাখ টাকার মত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমরা চাই প্রশাসন সঠিক তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক।

 

 

জানা যায়, গোপালপুর বটতলা বাজারের হাশেম আলীর দোকানের  সামনে সুতার গাড়ি দাঁড়ানোকে অজুহাত বানিয়ে ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা প্রকাশ্যে চাঁদা দাবি করেছেন। আমরা বৈধভাবে ব্যবসা করি, কোনো অপরাধ করিনি। তারপরও প্রভাব খাটিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। জনপ্রতিনিধির পরিচয়ে এ ধরনের চাঁদাবাজি ব্যবসায়ীদের জন্য অপমানজনক ও আতঙ্কের বিষয়।

 

 

এছাড়াও গত ২ বছর আগে জমির মাপকে কেন্দ্র করে  সোহেল মোল্লার নেতৃত্বে স্থানীয় রিয়াজ (২২) নামের এক যুবককে ছুরি দিয়ে মারাক্তক ভাবে আহত করে। ৬ মাস চিকিৎসা করার পর ওই যুবক সুস্থ হোন। গত ২০১৩ ও ২০১৪ সালে মাদক বিক্রির দায়ে জেল খেঠেছেন এমন অভিযোগ পাওয়া যায়।

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লার সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

 

দৌলতপুর  ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বলেন, স্লুইসগেট চাবি তার কাছে আছে কি না জানি না। তবে মাদক বিক্রি করে এমন অভিযোগ শুনেছি। এ বিষয়ে নিয়ে পরিষদে অন্য সকল সদস্যের নিয়ে মিটিং করা হয়েছে। তার বিষয়ে পরিষদ থেকে কোন ব্যবস্থা নেওয়া যাবে কি না সেটা যেনে জানাতে পারবো।

 

রাণীনগরে ভূমি সেবা মেলা ২০২৬ অনুষ্ঠিত

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় মঙ্গলবার (১৮ মে) “ভূমি সেবা মেলা ২০২৬” সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভূমি সেবাকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য ও স্বচ্ছ করে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত হয় এই মেলা।
সকাল ১১টায় উপজেলা চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য পদযাত্রার মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। পদযাত্রায় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পদযাত্রা শেষে অংশগ্রহণকারীরা মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।
পরবর্তীতে উপজেলা অডিটোরিয়াম পরিষদে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিলা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, আজকের এই ভূমি সেবা মেলা একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ। ভূমি সংক্রান্ত সেবা গ্রহণ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। সেই ভোগান্তি দূর করে জনগণের দোরগোড়ায় ভূমি সেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। আজকের এই মেলায় নামজারি, পর্চা, খতিয়ান, ডিজিটাল সেবাসহ ভূমি-সংক্রান্ত সেবা প্রদানের সকল বিষয়ে  আলোচনা করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  রাকিবুল হাসান তাঁর বক্তব্যে বলেন,”ভূমি সেবা মেলা শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি সরকারের জনবান্ধব প্রশাসনের একটি বাস্তব প্রতিফলন। আমরা চাই উপজেলার প্রতিটি নাগরিক যেন ঘরে বসেই অথবা সহজে ভূমি সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যার সমাধান পেতে পারেন।  আজকের এই মেলায় সরাসরি সেবা প্রদানের পাশাপাশি মানুষকে অনলাইনে ভূমি সেবা গ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কেও সচেতন করা।  আমি আশা করি এই ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন  উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাকিমা খাতুন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোসারব হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাউলহক লিটন প্রমুখ সহ এলাকার অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ গণ।

 

র‍্যাবে আসতে পারে বড় পরিবর্তন, বদলাতে পারে নাম

র‍্যাবকে আগের কাঠামোয় রাখা হচ্ছে না; বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ও সুনির্দিষ্ট আইনের আওতায় এনে বাহিনীটিকে সংস্কার করা হচ্ছে এবং এর নামও পরিবর্তন হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

 

 

মঙ্গলবার (১৯ মে) সচিবালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

জাহেদ উর রহমান জানান, র‍্যাব এতদিন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের একটি অপশনের অধীনে পরিচালিত হয়েছে। তবে নতুন আইনের মাধ্যমে বাহিনীটির কাঠামো, দায়িত্ব ও কার্যক্রম আরও সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হবে।

তিনি বলেন, এক অর্থে র‍্যাব আগের মতো থাকছে না। এমনকি এর নামও পরিবর্তন হতে পারে।

র‍্যাব বিলুপ্তির দাবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাহিনীটির বিরুদ্ধে অতীতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকলেও একটি রাষ্ট্রে বিশেষায়িত এলিট ফোর্সের প্রয়োজন রয়েছে। উন্নত প্রশিক্ষণ ও আধুনিক সরঞ্জামের কারণে র‍্যাব সন্ত্রাস ও বিভিন্ন জটিল অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে, যেখানে প্রচলিত পুলিশ বাহিনী অনেক সময় সীমাবদ্ধতায় পড়েছে।

অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সমালোচনা করে বলেন, আইন কীভাবে প্রয়োগ হবে তা নির্ভর করে সরকারের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর। তার দাবি, র‍্যাবকে বিতর্কিতভাবে ব্যবহারের দায় তৎকালীন সরকারের ওপরই বর্তায়।

 

 

তিনি আরও বলেন, নতুন আইন কার্যকর হলে এলিট ফোর্সটি র‍্যাব নামে থাকুক বা অন্য কোনো নামে পরিচালিত হোক, অতীতের ঝুঁকি ও অনিয়ম কমে আসবে বলে সরকার আশা করছে।

 

 

সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রকাশ

সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেট চূড়ান্ত করতে চাহিদাপত্র চেয়েছে সরকার। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আওতাধীন সব অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ সংক্রান্ত জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 

সোমবার (১৮ মে) এক অফিস আদেশে এ নির্দেশ দেয় মাউশি।

 

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট (www.dshe.gov.bd) থেকে দেওয়া ‘ছক’ (১১ পাতা) সংগ্রহ করে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের চাহিদা প্রস্তুত করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন অফিস, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বাজেট সংক্রান্ত তথ্য ৪ জুন মধ্যে সংশ্লিষ্ট গুগল ফরম পূরণ করে সাবমিট করার জন্য বলা হলো।

এতে আরও বলা হয়, প্রয়োজনীয় তথ্য নির্ধারিত তারিখের মধ্যে সাবমিট করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাজেট বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হতে পারে এবং সেক্ষেত্রে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য এ অধিদপ্তর কোনো দায়-দায়িত্ব বহন করবে না।

 

বাংলাদেশিদের জন্য নাগরিকত্ব নীতিতে পরিবর্তন আনল ভারত সরকার

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় নাগরিকত্ব আবেদনের নিয়মে নতুন পরিবর্তন এনেছে ভারত সরকার। এখন থেকে আবেদনকারীদের নিজ দেশের পাসপোর্টের অবস্থা সম্পর্কে বিশেষ ঘোষণা দিতে হবে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের নাগরিকদের জন্যও একই নিয়ম চালু করেছে দেশটি।

 

 

মঙ্গলবার (১৯ মে) টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নাগরিকত্ব বিধিমালা সংশোধন করে নতুন একটি শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীর কাছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা আফগানিস্তান সরকারের ইস্যু করা বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ কোনো পাসপোর্ট থাকা যাবে না।

তবে কারও কাছে সক্রিয় পাসপোর্ট থাকলে তাকে পাসপোর্ট নম্বর, কোথায় ও কবে ইস্যু হয়েছে এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখসহ বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে হবে।

এছাড়া নাগরিকত্ব আবেদন অনুমোদনের ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ডাক বিভাগের জ্যেষ্ঠ সুপারিনটেনডেন্ট বা সুপারিনটেনডেন্টের কাছে বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট জমা দেওয়ার ঘোষণাও দিতে হবে আবেদনকারীদের।

ভারতের নাগরিকত্ব বিধিমালা, ২০০৯-এ এই সংশোধন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

 

মেসির দল কবে জানাবে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড?

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য এরইমধ্যে ব্রাজিল ও ফ্রান্সসহ বেশ কয়েকটি দল তাদের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। তবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এখনো ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল প্রকাশ করেনি।

 

 

বিশ্বকাপ সামনে রেখে আলাদা পরিকল্পনা সাজিয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। চূড়ান্ত দল ঘোষণার আগে বাড়তি কয়েকজন ফুটবলারকে নিয়ে বিশেষ অনুশীলন ক্যাম্প করতে চান তিনি।

 

 

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের শেষ সপ্তাহে বুয়েনস এইরেসের এজেইজায় অনুশীলন শুরু করবে আলবিসেলেস্তেরা। এরপর বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ক্যাম্পের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাবে দলটি। এর আগে ৩০ মে চূড়ান্ত স্কোয়াড জমা দেবে আর্জেন্টিনা।

জানা যায়, চূড়ান্ত ২৬ জনের বাইরে অতিরিক্ত কয়েকজন ফুটবলারকে প্রস্তুত রাখতে চান স্কালোনি। বিশেষ করে উইঙ্গার পজিশনে বাড়তি খেলোয়াড় রাখার চিন্তা রয়েছে তার। সম্ভাব্য চমক হিসেবে আলোচনায় আছেন এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া ও মাতিয়াস সুলে।

বিশ্বকাপের আগে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। ৬ জুন টেক্সাসে হন্ডুরাসের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। এরপর ৯ জুন আলাবামায় আইসল্যান্ডের মুখোমুখি হবে লিওনেল মেসিরা।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘জে’তে রয়েছে আর্জেন্টিনা। একই গ্রুপে আছে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হবে ১৬ জুন, আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে।

 

 

তরুণদের চলচ্চিত্র শিক্ষায় বিসিটিআই–জবির উদ্যোগ

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চলচ্চিত্র শিক্ষার গুরুত্ব এবং বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে চলচ্চিত্র প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে এক যৌথ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (বিসিটিআই) এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সাজিদ একাডেমিক ভবনে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

 

 

‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চলচ্চিত্র শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা এবং বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে বিসিটিআইয়ের প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের গুরুত্ব’ শীর্ষক কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এস এম ইমরান হোসেন।

 

 

মূল প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের দীর্ঘ ঐতিহ্য থাকা সত্ত্বেও দক্ষ মানবসম্পদের ঘাটতি, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অভাবে শিল্পটি এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বায়ন ও ডিজিটাল যুগে চলচ্চিত্র শিক্ষা কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; বরং শিক্ষা, সংস্কৃতি, সামাজিক সচেতনতা এবং জাতীয় পরিচয় নির্মাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।’

তিনি আরও বলেন, ‘চলচ্চিত্র শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ এখনো অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঢাকা-কেন্দ্রিক হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগের মেধাবী ও সম্ভাবনাময় তরুণরা পর্যাপ্ত সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জেলা শিল্পকলা একাডেমির অবকাঠামো ব্যবহার করে স্থানীয় পর্যায়ে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ এবং বিভাগীয় পর্যায়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে নতুন প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’ পাশাপাশি আঞ্চলিক চলচ্চিত্র শিল্প এবং ফিল্ম কমিশন গঠনের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ‘লোকালাইজড ফিল্ম ইকোসিস্টেম’ গড়ে তোলা সম্ভব বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।

আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিসিটিআইয়ের প্রধান নির্বাহী আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিন। তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস, চলচ্চিত্র অঙ্গনে বিসিটিআইয়ের অবদান এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এ ধরনের কর্মশালার গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের মাধ্যমে যৌথ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সভাপতির বক্তব্যে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. শাহ মো. নিসতার জাহান কবীর বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তবমুখী শিক্ষা এবং শিল্প-সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিসিটিআই ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগ ভবিষ্যতে চলচ্চিত্র শিক্ষা ও গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

 

 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক জুনায়েদ আহমেদ হালিম বলেন, ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট নীরবে চলচ্চিত্র শিক্ষার্থী তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, যার ইতিবাচক প্রভাব ভবিষ্যতে আরও সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হবে।’

 

 

চলচ্চিত্র গবেষক মীর শামছুল আলম বাবু বলেন, ‘দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের টেকসই বিকাশ এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে বিসিটিআইয়ের একটি স্থায়ী ও আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হলে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, গবেষণা কার্যক্রম, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং ব্যবহারিক দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।’

 

 

চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লাবিব নাজমুছ ছাকিব কর্মশালার সঞ্চালনা করেন। সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন বিসিটিআইয়ের উপপরিচালক মো. মোকছেদ হোসেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে চলচ্চিত্র শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে প্রাণবন্ত মতবিনিময় হয়।

 

ডোবায় জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

মাগুরা সদরের বজ্রুক শ্রীকুন্ঠি বালিয়াডাঙ্গা এলাকায় ডোবায় জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে ডুবে একই পরিবারের দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

 

 

 

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

 

 

নিহত দুই শিশু বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের মো. লিটন মিয়ার মেয়ে নূসরাত (৭) এবং একই এলাকার মো. জামাল উদ্দিনের ছেলে নাঈম (৬)। নিহতরা সম্পর্কে ফুপু-ভাতিজা।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল থেকে বাড়ির উঠানে খেলাধুলা করছিল দুই শিশু। সকাল ১০টার দিকে তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের ডোবার ধারে শিশু দুটির স্যান্ডেল দেখতে পেয়ে স্বজনদের সন্দেহ হয়। পরে তারা ডোবায় নেমে খোঁজ করতে থাকেন। কিছুক্ষণ পর ডোবার পানির ভেতর থেকে দুই শিশুকে উদ্ধার করে দ্রুত মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হয়।

মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ইমরান বলেন, দুটি শিশুকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসার পর তারা মারা যান।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বালিয়াডাঙ্গায় পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

অবশেষে চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছে নেইমার

গোটা ফুটবল দুনিয়ার ভক্ত-অনুরাগীদের বাড়তি নজর ছিল এবারের ব্রাজিলের দল ঘোষণায়। মন্টেভিডিওর সেই অভিশপ্ত রাতের পর দীর্ঘ আড়াই বছরের যন্ত্রণা, মাঠের বাইরের সমালোচনা আর অন্তহীন অপেক্ষায় ছিলেন নেইমার। অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে, সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে ২০২৬ হেক্সা মিশনের চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছেন নেইমার জুনিয়র।

 

 

 

সোমবার বাংলাদেশ সময় গভীর রাতে যখন আনচেলত্তি নেইমারের নাম উচ্চারণ করেন, তখন রিও ডি জেনিরোর ‘মিউজিয়াম অব টুমরো’র পুরো মিলনায়তন উল্লাসে ফেটে পড়ে। স্বস্তি ফিরে গোটা বিশ্বের নেইমার ভক্তদের হৃদয়ে।

 

 

 

ছেলের এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন নেইমারের বাবাও। ছেলের দীর্ঘ লড়াইকে স্মরণ করে নেইমারের বাবা লিখেছেন, ‘বাবা, ইনজুরির পর থেকে যে ব্যথা ও সংশয় আমাদের তাড়া করে বেরিয়েছে, সেটা নিয়ে আমি লিখতে পারতাম। এই পুরোটা সময়ে নীরব থেকে আমাদের যা পড়তে ও শুনতে হয়েছে, সেটাও স্মরণ করতে পারতাম। কিন্তু আজ খুশির দিন।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমার মনের মধ্যে কেবল একটি ব্যাপারই খেলা করছে, সেটা হলো তুমি যেখানেই গিয়েছ, সেখানেই তোমার নাম ধরে শিশুরা আনন্দে চিৎকার করেছে। এই মুহূর্তটার জন্য কত দীর্ঘ অপেক্ষা আর কঠোর পরিশ্রম করেছ, আমরা সেটা জানি। এই যাত্রায় সব যন্ত্রণা, সংশয় ও নীরবতা সঙ্গে ছিল। কিন্তু ঈশ্বর আমাদের সাহায্য করেছেন। অভিনন্দন বাবা, আরেকটি বিশ্বকাপের জন্য আমি তোমার সঙ্গে থাকব।’

ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৭৯টি আন্তর্জাতিক গোল করা নেইমার শেষবার দেশের জার্সিতে মাঠে নেমেছিলেন ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর। উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের সেই ম্যাচে ২-০ গোলে হেরেছিল ব্রাজিল। সেদিনই বাঁ হাঁটুর এসিএল ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন নেইমার। এরপর দীর্ঘ আড়াই বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে। আনচেলত্তি সেলেসাওদের দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম দলে ডাক পেলেন তিনি।

 

 

 

আর ফুটবল বিশ্লেষকদের ধারণা, নেইমারের ডাক পাওয়াতে যেন পূর্ণতা পেল ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডও। তবে এখন অপেক্ষা ব্রাজিলের হ্ক্সো জয়ের। আনচেলত্তির দল কী পারবেন দীর্ঘ দুই যুগের অপেক্ষা ঘুচাতে? তার উত্তর বলতে পারে কেবলই সময়।

 

হারুনের ভাইকে ঘিরে নতুন তদন্ত, জব্দের নির্দেশ আয়কর নথি

সাবেক ডিবি প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন্স) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের ভাই এ বি এম শাহারিয়ারের আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

 

 

 

মঙ্গলবার (১৯ মে) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

 

 

 

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। দুদকের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন তার আয়কর নথি জব্দের আদেশ দেন।

আবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট অ্যান্ড এগ্রো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ বি এম শাহারিয়ার ১২ কোটি ৯৬ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৪ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনপূর্বক ভোগ দখলে রাখেন। সাবেক ডিবি প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে আসামি শাহরিয়ারকে অপরাধে সহায়তা করেন।

মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সকল আয়কর রিটার্নসহ সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র জব্দ করে পর্যালোচনা করা একান্ত প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন।

 

 

২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর দুদক বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলার বিবরণে সাবেক ডিবি প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে ১৭ কোটি ৫১ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ, তার স্ত্রী শিরিন আক্তারের বিরুদ্ধে ১০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা এবং হারুনের ভাই এ বি এম শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে ১২ কোটি ৯৬ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

টেস্টে জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ

পাকিস্তানের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ। চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশনে ইতোমধ্যেই তুলে নিয়েছে সফরকারীদের মূল্যবান ৫ উইকেট। দ্বিতীয় সেশন শেষে ৫৩ ওভারে ২০০/৫ রান সংগ্রহ করেছে পাকিস্তান। জয়ের জন্য ২৩৭ রান চাই পাকিস্তানের। অন্যদিকে বাংলাদেশের দরকার প্রয়োজন ৫ উইকেট। তবে আজ পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ যখন বিদায় নেন তখন তার রান ছিল ৭১। টাইগারদের অভিজ্ঞ বোলার তাইজুল ইসলামের বলে ডিফেন্ড করতে গিয়েছিলেন তিনি। তার ব্যাটে লেগে বল সরাসরি চলে যায় ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে থাকা মাহমুদুল হাসান জয়ের হাতে। আর তাতেই ৭১-এ আটকে যান পাক অধিনায়ক।

 

 

 

শুধু রান নয়? শান মাসুদ এদিন আরও এক ৭১-এ আটকে যান। এই ৭১ আরও বেশি আক্ষরিক। ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে তার ক্যাচ নেওয়া মাহমুদুল হাসান জয়ের জার্সি নম্বরও যে ৭১!

 

 

 

তার আগে এই সেশনে প্রথম বিদায় নেন বাবর আজম। শান মাসুদের সঙ্গে তার ৯৩ রানের জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। উইকেটের পেছনে দারুণ ক্যাচ নেন অধিনায়ক লিটন দাস।

এরপর সৌদ শাকিলের ক্যাচটাও নিয়েছেন লিটন দাসই। নাহিদ রানার করা অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে তিনি ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে।

এক পাশ আগলে রেখে শান মাসুদ স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন পাকিস্তানকে। তবে তার বিদায়ে বড় এক ধাক্কাই খেয়েছে সফরকারীরা। বাংলাদেশ চলে গেছে জয়ের অনেক কাছে।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণা: বাড়ছে অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার স্টেশন

অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহের কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সক্ষমতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে ২০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলমান। এবং ডুবুরিদের সক্ষমতা বাড়াতে ৭২টি পদ সৃজনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

 

 

 

 

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর পূর্বাচল মাল্টিপারপাস ট্রেনিং গ্রাউন্ডে আয়োজিত ‘ফায়ার সার্ভিস সপ্তাহ, পদক বিতরণ ও পাসিং আউট প্যারেড’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

 

 

 

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সারা দেশে ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশনের মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সেবা প্রদান করছে, যা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়। এ কারণে জনগুরুত্ব বিবেচনায় নতুন স্টেশন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। গতি, সেবা ও ত্যাগের মন্ত্রে উজ্জীবিত এ বাহিনীর সদস্যরা দুর্যোগ-দুর্ঘটনা ও সংকটময় মুহূর্তে জনগণের জানমাল রক্ষায় নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। বিভিন্ন অগ্নিকাণ্ড ও দুর্যোগে তাদের পেশাদারি মনোভাব, সাহস ও সেবামূলক কার্যক্রম মানুষের আস্থা অর্জন করেছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জনবল নিয়োগ সম্পন্ন হলে নৌ-যান দুর্ঘটনা মোকাবিলায় এ বাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়বে। এছাড়া ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী সদস্য সংখ্যা ৩০ হাজারের বেশি করতে ফায়ার সার্ভিসের অর্গানোগ্রাম পুনর্গঠনের প্রস্তাবও বিবেচনাধীন রয়েছে। প্রশিক্ষণের মান উন্নয়নে গজারিয়া এলাকায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স একাডেমি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ফায়ার সার্ভিসের সেবা সহজীকরণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গত ১ মে থেকে অনলাইনভিত্তিক ই-ফায়ার লাইসেন্স কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সব উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতেও সরকার কাজ করছে। সদস্যদের আবাসন সমস্যা সমাধানে ঢাকার মিরপুর ও সদরঘাট এলাকায় দুটি বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া মিরপুরে সদর দপ্তর ভবনের নির্মাণকাজও চলমান। অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকাজে অংশ নিয়ে বিভিন্ন সময় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা জীবন উৎসর্গ করেছেন। সর্বশেষ টঙ্গী এলাকার কেমিক্যাল অগ্নিকাণ্ডে তিনজন কর্মী নিহত হয়েছেন।

 

 

 

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০২৫ সালে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ২৭ হাজার ৫৯টি অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম পরিচালনা করে ৩ হাজার ২৬৩ কোটি টাকার সম্পদ রক্ষা করেছে। এছাড়া ৭ হাজার ৮১৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ২৬৬ জন আহত ও ১ হাজার ৩৮ জন নিহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। একই বছরে অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে ১০ হাজার ৪৮০ জন রোগী পরিবহন, ১৪ হাজার ৯৮৭টি গণসংযোগ কার্যক্রম, ২ হাজার ৭৮টি ভবন সার্ভে এবং ১০ হাজার ৫৩৩টি ভবন পরিদর্শন করা হয়েছে। পাশাপাশি ১ হাজার ৩৯ জন নতুন কমিউনিটি ভলান্টিয়ার তৈরি এবং ২ লাখ ৫৬ হাজার ১৬৫ জনকে অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

২০২৫ সালে অপারেশনাল দায়িত্ব পালনকালে এ বাহিনীর তিনজন সদস্য নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়েছেন বলেও অনুষ্ঠানে জানানো হয়। তাদের বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ অনুষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদক প্রদান করা হয়েছে।

 

 

 

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মুহাম্মদ জাহেদ কামাল।

 

বেলকুচিতে ভূমি মেলা উদ্বোধন

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে ভূমি মেলা উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা চত্বরে  পরে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়।

 

র‍্যালিটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে উপজেলা অডিটোরিয়ামে ভূমি মেলা উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহান।

 

মঙ্গলবার ১৯ মে থেকে আগামী ২২ মে পর্যন্ত চলবে এ মেলা।

এসময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইশরাত জাহান, উপজেলার উচ্চ মাধ্যমিক কর্মকর্তা এস. এম গোলাম রেজা, উপজেলা প্রানিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ নাজমুল হক, বেলকুচি থানার তদন্ত কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য গোলাম আজম, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব বনি আমিন, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম শফি, বেলকুচি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রেজাউলসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

১৮ বিএনপি নেতাকে হত্যার হুমকি দিয়ে চিঠি ও বোমা পাঠালো দূবৃত্তরা

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জোড়পুকুরিয়া গ্রামে এবার বিএনপির ১৮ নেতাকর্মীকে হত্যার হুমকি দিয়ে চিরকুট ও দুটি হাতবোমা রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা।

 

রোববার (১৭ মে) দিবাগত রাতের কোনো একসময় জোড়পুকুরিয়া গ্রামের মধ্যপাড়া এলাকার বাবলুর বাড়ির সামনে, তিন রাস্তার মোড়ে লাল স্কসটেপ দিয়ে মোড়ানো বোমা ও চিরকুট দুটি কে বা কারা রেখে যায়।

 

 

স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস ও তদন্ত অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন ফোর্সসহ ঘটনাস্থল থেকে বোমা দুটি ও চিরকুট উদ্ধার করেন। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে বোমা দুটি পানিভর্তি বালতিতে রাখা হয়।

 

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফেলে যাওয়া চিরকুটে অশালীন ভাষা ব্যবহার করে হুমকি দিয়ে লেখা হয়েছে, ‘জয় বাংলা, ঘণ্টা সময় পাইলে তোদের বিএনপিদের যে কি হাল করব… লাবলুর মতো তোদের জবাই করব। পুলিশ আমাদের হয়ে কাজ করবে, আমরা টাকা দিই ওদের।

 


আরেকটি চিরকুটে ওই গ্রামের ১৮ জন বিএনপি নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে লেখা হয়েছে, ‘শেখ হাসিনা আসবে ৬ মাস সময়, জয় বাংলা, জোড়পুকুরের বিএনপিদের কি হাল যে করব… আমরা গ্রামে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত সবাই এক, দালালদের বাজারে পাইলে খবর আছে।’

 

চিরকুটে নাম থাকা জোড়পুকুরিয়া গ্রামের বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছেন, জেটিএস মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম হেলু মাস্টার, খলিল, মুজাম, হাপি, বেলু, মহিবুল ইসলাম, জিয়া, সেন্টু, মিঠুন, জিকো, সোহেল, সাহেব আলী, ইব্রাহিম, বাপ্পী, ইউসুফ, রফিকুল, জয়নাল ও সাজ্জাদ হোসেন।

 

 

বোমা ও হত্যার হুমকিসম্বলিত চিরকুট উদ্ধারের পর থেকে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও গ্রামবাসীর মাঝে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।

 

 

এদিকে এই স্পর্শকাতর ঘটনায় গাংনী থানার ওসি উত্তম কুমার দাস উদ্ধার অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করলেও ক্যামেরার সামনে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

 

ঘটনার তদন্ত ও জড়িতদের শনাক্তে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে। এর আগে জোড়পুকুরিয়া গ্রাম বিএনপির সভাপতি লাবলু হোসেনকে প্রকাশ্যে দিবালোকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছিল দূর্বৃত্তরা।

 

 

তাড়াশে তিন দিন ব্যাপি ভূমিসেবা মেলা শুরু

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সাধারণ মানুষকে দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত ভূমি সেবা দিতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ভূমি সেবা মেলা। মঙ্গলবার( ১৯’শে মে) সকালে উপজেলা ভূমি অফিস চত্বরে ফিতা কেটে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান।
উপজেলা ভূমি অফিসের আয়োজনে ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ জেড এম নাহিদ হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইউএনও নুসরাত জাহান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও নুসরাত জাহান বলেন, “ভূমি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এই আধুনিক ও ডিজিটালাইজড সেবার উদ্যোগ নিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় তাড়াশে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ভূমির সাথে মানুষের সম্পর্ক জন্ম-জন্মান্তরের। তাই ভূমি সেবায় শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে, যেন কোনো নাগরিক হয়রানির শিকার না হন। তাড়াশ উপজেলা ভূমি অফিস সাধারণ মানুষকে দ্রুত ও স্বচ্ছ সেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
মেলায় নামজারি, জমা-খারিজ, খতিয়ান যাচাই, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধসহ ডিজিটাল ভূমি সেবা এক ছাদের নিচে দেওয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষকে আর বারবার অফিসে দৌড়াতে হবে না।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি খন্দকার সেলিম জাহাঙ্গীর, স. ম আফছার আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম টুটুল, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক তপন গোস্বামী, আব্দুল বারিক খন্দকার,উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব  খন্দকার শাহাদত হোসেন সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
অনুষ্ঠান শেষে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি পৌরসভার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মেলা চলবে আগামী ৩ দিন।

 

 

সুইজারল্যান্ড যাওয়ার পথে গ্রেপ্তার হলেন ইউপি চেয়ারম্যান

সুইজারল্যান্ডে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পথে চেক প্রতারণা মামলায় গ্রেপ্তার হলেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লিটন মিয়া। তিনি চেক প্রতারণা মামলায় আদালত থেকে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।

 

সোমবার (১৮ মে) সকালে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করেছে পুলিশ প্রশাসন।

 

‎কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশ আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
‎জানা গেছে, চেক ডিজঅনার (এনআই অ্যাক্ট) সংক্রান্ত দুটি মামলায় চেয়ারম্যান লিটন মিয়াকে পৃথকভাবে এক বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে দুই মামলায় মোট ১১ লাখ টাকা অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়। আদালতের দেওয়া সেই গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
‎পরিবার সূত্রে জানা যায়, শারীরিক চিকিৎসার উদ্দেশ্যে সুইজারল্যান্ড যাওয়ার জন্য ঢাকা বিমানবন্দরে পৌঁছালে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে।
‎লিটন মিয়ার বড় ভাই এরশাদুল হক বলেন, “চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরই পুলিশ তাকে আটক করে।”ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

 

আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা: ব্যাক্তিগত সম্পত্তিতে খাল খনন!

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে জোরপূর্বক ব্যাক্তিগত জায়গার উপর দিয়ে খাল খননের অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের মাকড়কোলা গ্রামের মৃত মাজেদ আলীর স্ত্রী মোছাঃ সুফিয়া খাতুন এবং সন্তান মোঃ রায়হান সরকার, মোঃ আব্দুল মান্নান সরকার, মোঃ তৌফিক সরকার ও মোছাঃ মুসলিমা খাতুনের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১৪ মে শাহজাদপুর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের বিচারক মোঃ সানু আকন্দ জায়গার উপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেন। আদালতের নিষেধাজ্ঞার আদেশ পাওয়ার পরেও কোনকিছুর তোয়াক্কা না করে সম্পূর্ণ ব্যাক্তি মালিকানাধীন জায়গা খনন করে ক্যানেল করা হয়েছে।
জানা গেছে- চলতি অর্থ বছরে কৃষি সেচ উন্নয়ন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বর্তমান সরকারের খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আওয়াতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে শাহজাদপুরে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যায়ে ২ কিলো. ১৫০ মিটার খাল পুনঃখনন করা হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে ভেকু মেশিন দিয়ে খননকাজ চলমান থাকলেও বিপত্তি বাধে মাকড়কোলা লেবুতলা মৃত মাজেদ আলীর বাড়ির কাছে এসে। খাল খননের জন্য লাল নিশান টানানোর পরেই ঐ জায়গাকে নিজেদের ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি দাবি করে মৃত মাজেদ আলীর স্ত্রী মোছাঃ সুফিয়া খাতুন এবং সন্তান মোঃ রায়হান সরকার, মোঃ আব্দুল মান্নান সরকার, মোঃ তৌফিক সরকার ও মোছাঃ মুসলিমা খাতুন বাদী হয়ে হত ১৩ মে শাহজাদপুর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মামলায় বিবাদী করা হয় সিরাজগঞ্জ ডেপুটি কমিশনার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে। বিজ্ঞ আদালত নথিপত্র পর্যালোচনা করে ১৪ মে জায়গার উপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেন। তবে এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জোরপূর্বক গাছ উপরে ফেলে ক্যানেলের জন্য মাটি কাটা হয়েছে।
বাদী পক্ষের আইনজীবী মোঃ রাশিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিজ্ঞ আদালত নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পরেও জোরপূর্বক গাছ কেটে বাদীর জায়গার উপর দিয়ে খাল খনন করেছে।

 

ক্যামেরা জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন সিরাজগঞ্জের অভিষেক অনুষ্ঠান শুরু

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হলো ক্যামেরা জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন সিরাজগঞ্জের দিনব্যাপী অভিষেক অনুষ্ঠান। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন, বৃক্ষরোপন ও বর্নাঢ্য র‌্যালির মধ্যে দিয়ে অভিষেক অনুষ্ঠান শুরু হয়।

 

দিনের প্রথম প্রহরে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সংগঠনটির সদস্যরা। এরপর শহরের বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষরোপন শেষে বর্নাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের বাজার স্টেশন থেকে শুরু হয়ে চৌরাস্তায় গিয়ে শেষ হয়।

 

‎র‌্যালি উদ্বোধন করেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু।

‎কর্মসূচিগুলোতে ক্যামেরা জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশন সিরাজগঞ্জের নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন টেলিভিশনে সিরাজগঞ্জে কর্মরত রিপোর্টারেরা অংশগ্রহণ করেন।

 

সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবনে উৎসব কমিউনিটি সেন্টারে নব নির্বাচিত কমিটির অভিষেক ও পরিচিতি অনুষ্ঠিত হবে।

 

 

 

 

সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু

আগামি সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাজন শুরুর কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এক বছরের মধ্যে জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে বলে জানান তিনি।

 

মঙ্গলবার (১৯ মে) প্রতিমন্ত্রীর নিজ দপ্তরে আয়োজিত বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের আনুষ্ঠানিক যোগদান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

 

সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা কী, এমন প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে সংসদে সিটি কর্পোরেশন সংশোধন আইন-২০২৬ পাস হয়েছে।

 

নতুন আইনে দলীয় প্রতীক ছাড়া সাধারণ প্রতীকে মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় নিয়ে এক প্রশ্নে মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন সাধারণত উৎসবমুখর পরিবেশে হয়।

 

তাই বর্ষা শেষে শুষ্ক মৌসুমে নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনাই বেশি। আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে নির্বাচন শুরু হতে পারে।

 

সেপ্টেম্বরে কোন নির্বাচনটা শুরু হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটা এখনো ও রকম সিদ্ধান্ত হয়নি। আগে বাজেট দেখা হবে, কোন নির্বাচনে কত টাকা লাগবে। নির্বাচন আয়োজনের ব্যয়, নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি এবং অর্থ বিভাগের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

 

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন কবে থেকে শুরু হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সবচেয়ে বড় পরিসরের হওয়ায় এতে ব্যয়ও বেশি হবে। প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন করতে বিপুলসংখ্যক ব্যালট পেপার ছাপানোসহ নানা প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে। শুধু ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেই কমপক্ষে ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

 

তিনি আরও বলেন, আগামী বাজেটে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কমিশন ব্যয়ের হিসাব পাঠানোর পর অর্থ বিভাগ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন যৌথভাবে নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত করবে।

 

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম জানান, বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের তফসিল এবং অন্য ১২টি সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে একযোগে ঘোষণা করা হবে।

 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন সিটি কর্পোরেশনগুলোর কার্যক্রম গতিশীল করতে চলতি অর্থবছরেই প্রাথমিকভাবে ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের জন্যও দ্রুত বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

 

স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপি প্রস্তুতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্য দলগুলো নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলীয়ভাবে, আর যেহেতু নির্বাচনটা দলীয়ভাবে হবে না, তাই আমাদের দলের লোকজন তো নির্বাচন করবে নিরপেক্ষভাবে। বিএনপি বৃহৎ একটি রাজনৈতিক দল; যেকোনো সময় আন্দোলনের প্রস্তুতি যেমন থাকে, তেমনি আমাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি, ভোটের প্রস্তুতিও থাকে।

 

 

ঠাকুরগাঁওয়ে নানা আয়োজনে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা উদ্বোধন

“জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা: সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা ভূমি অফিস চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
পরে বেলুন উড়িয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক। এসময়  উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার খাইরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশাদুল হকসহ অন্যান্যরা।
উদ্বোধন শেষে উপজেলা ভূমি অফিস চত্বরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে ডিজিটাল সেবার পরিধি বৃদ্ধি করেছে। অনলাইনের মাধ্যমে নামজারি, খতিয়ান ও ভূমি উন্নয়ন করসহ বিভিন্ন সেবা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষ এখন দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা পাচ্ছেন।
তারা আরও বলেন, ভূমিসেবা মেলার মাধ্যমে জনগণকে ভূমি সংক্রান্ত আধুনিক ও ডিজিটাল সেবা সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি সরাসরি সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে এবং ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। পরে জমি অধিগ্রহণ বিক্রেতা ও ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে চেক বিতরন করা হয়।
এ সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও সেবাগ্রহীতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

আজ থেকে বাজারে মিলবে নতুন ডিজাইনের ৫ টাকার নোট

নতুন ডিজাইন ও বৈশিষ্ট্যের ৫ টাকার নোট বাজারে এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) থেকেই পাওয়া যাবে অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার স্বাক্ষরিত এই নোট।

 

প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস হতে এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য অফিস থেকে ইস্যু করা হবে।

‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শীর্ষক নতুন নতুন এই নোটের ডিজাইন ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য হলো-

নোটটির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৭ মি.মি × ৬০ মি.মি।

 

নোটের সম্মুখভাগের বামপাশে তারা মসজিদ, ঢাকার ছবি ও মাঝখানে ব্যাকগ্রাউন্ডে পাতা ও কলিসহ প্রস্ফুটিত জাতীয় ফুল শাপলার ছবি এবং নোটের পিছনভাগে গ্রাফিতি-২০২৪ এর ছবি আছে।

 

নোটে জলছাপ হিসেবে ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ’ এর নিচে উজ্জ্বল ইলেকট্রোটাইপ জলছাপ ‘5’ এবং ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মনোগ্রাম’ রয়েছে।

নোটটিতে হালকা গোলাপী রঙের আধিক্য রয়েছে। নোটের বামদিকে বিদ্যমান ২ মি.মি. চওড়া নিরাপত্তা সুতাটি নোটের কাগজের ভিতরে প্রবিষ্ট যা আলোর বিপরীতে ধরলে উভয় দিক হতে দেখা যায়।

 

এ ছাড়া, নোটের সামনের দিকে নীচের গ্লিউইশ প্যাটার্নের উপরের অংশে মাইক্রোপ্রিন্ট হিসেবে আনুভূমিকভাবে অসংখ্য ‘BANGLADESH’ লেখা আছে।

 

নতুন ডিজাইন ও বৈশিষ্ট্যের ৫ টাকা মূল্যমান নোটের পাশাপাশি বর্তমানে প্রচলিত সকল কাগুজে নোট এবং ধাতব মুদ্রাও যথারীতি চালু থাকবে।

 

এ ছাড়া, মুদ্রা সংগ্রাহকদের চাহিদার বিষয়টি বিবেচনা করে নিয়মিত নোটের পাশাপাশি ৫ টাকা মূল্যমান নমুনা নোট (যা বিনিময়যোগ্য নয়) মুদ্রণ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংক কারেন্সি মিউজিয়াম, মিরপুর থেকে নির্ধারিত মূল্যে সংগ্রহ করা যাবে।

 

 

উল্লাপাড়ায় তিন দিনব্যাপী ভূমি মেলার উদ্ধোধন করলেন হুইপ

  • রিপোর্টার:
  •  আপডেট টাইম : ১২:১৩:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় তিন দিনব্যাপী ভূমি মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে উপজেলা চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য র‍্যালি  বের হয়ে ভুমি অফিসে  গিয়ে শেষ হয়।
ভূমি সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে উপজেলা ভূমি অফিসের উদ্যোগে এ মেলার আয়োজন করা হয়।
মেলায় বিভিন্ন সরকারি সেবা, নামজারি, খতিয়ান, ভূমি উন্নয়ন কর ও অনলাইন সেবা বিষয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন আক্তার রিমা এবং ওসি তদন্ত রুপকর,উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক শাহজাহান আলী,উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজাদ হোসেন সহ অনেকে।

 

সব জল্পনার অবসান, বিশ্বকাপে যাচ্ছেন নেইমার

অনেক দিন ধরেই গুঞ্জন ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপে হয়তো দর্শক হয়ে থাকতে হতে পারে নেইমারকে।
কেননা ফিটনেসের সমস্যায় ভুগছেন ৩৪ বছর বয়সী তারকা। তাতে মৌসুমের বেশিরভাগ সময়ই চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে।
কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাই ব্রাজিলিয়ান তারকাকে শর্ত জুড়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপে সুযোগ পেতে হলে ফিটনেস পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হতে হবে। সুযোগ পাওয়ায় বলা যায় সেই পরীক্ষায় পাস করেছেন নেইমার। 
সান্তোসের হয়ে এবারের মৌসুমে ১৫ ম্যাচ খেলে ৬ গোল করেছেন। সঙ্গে ৪ গোলে সহায়তাও করেছেন সাবেক বার্সেলোনা ও পিএসজির ফরোয়ার্ড।নিশ্চয়ই ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে আরও দারুণ কিছু করার প্রত্যয় নিয়েই মাঠে নামবেন তিনি। কার্লো আনচেলত্তি নেইমারের নাম ঘোষণা করতেই রিও ডি জেনেইরোর মিউজিয়াম অব টুমরোতে করতালির ঝড় ওঠে।দল ঘোষণার আগে সিবিএফ টিভিকে আনচেলত্তি বলেছেন, ‘যোগ্যতা, প্যাশন এবং অজ্ঞিতার সমন্বয়ে দলটি সাজানো হয়েছে। দলটি দারুণ হয়েছে। এটি কোনো নিখুঁত তালিকা না, তবে এমন একটি দল দেওয়া হয়েছে যেখানে ভুলের সংখ্যা সামান্য।আমাদের মূল লক্ষ্য বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপকে জাঁকজমকপূর্ণ করে তোলা।’ 

 

এর আগে রিও ডি জেনেইরোর মিউজিয়াম অব টুমরোতে দল ঘোষণায় দেশি-বিদেশি প্রায় ৭০০ সংবাদকর্মীকে আমন্ত্রণ জানায় সিবিএফ। বিশেষ অতিথিরা তো ছিলেনই। উপস্থিত বিশেষ দর্শকদের বিমোহিত করতে গান, নাচ ও অভিনয়ের ব্যবস্থা করা হয় সিবিএফের পক্ষ থেকে। মাঝে মাঝে দেখানো হয় ফুটবল বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ইতিহাস। অন্যদিকে অনুষ্ঠান চলাকালীন সময় সামনের সারিতে বিশ্বকাপের ফাইল হাতে বসে থাকতে দেখা যায় আনচেলত্তিকে। পারফরমারদের পারফরম্যান্স দেখে কখনো হাসতেছেন আবার কখনো করতালি দিয়ে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি।

 

বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপে পড়েছে ব্রাজিল। আগামী ১৪ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এরপর ২০ জুন প্রতিপক্ষ হাইতি এবং ২৫ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে স্কটল্যান্ডের। আগামী ১১ জুন শুরু হবে ২০২৬ বিশ্বকাপ। এবারের আসরের যৌথ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা।

 

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াড:
গোলরক্ষক: অ্যালিসন, এদারসন ও ওয়েভারটন।
ডিফেন্ডার: ব্রেমার, গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস, ইবানেজ, লিও পেরেইরা, মার্কিনিওস অ্যালেক্স সান্দ্রো, দানিলো, ডগলাস সান্তোস ও ওয়েসলি।
মিডফিল্ডার: ব্রুনো গুইমারেস, কাসেমিরো, দানিলো দস সান্তোস, ফাবিনহো ও লুকাস পাকেতা।
ফরোয়ার্ড: নেইমার জুনিয়র, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া, গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি, ম্যাথিউস কুনিয়া, লুইজ হেনরিকে, এন্ড্রিক, ইগর থিয়াগো ও রায়ান।

 

৫০ লাখ টাকার হেরোইনসহ র‌্যাবের হাতে আটক নারী

সিরাজগঞ্জে অভিযান চালিয়ে ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ৫০০ গ্রাম হেরোইনসহ মোছা. রেহেনা (৩৫) নামে এক নারীকে আটক করেছে র‌্যাব-১২ সদস্যরা।

 

সোমবার (১৮ মে) ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

 

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১২ সিরাজগঞ্জ সদর কোম্পানির কমান্ডার কাপ্টের তাবরীজ তাজওয়ার শরীফ। আটক রেহেনা রাজশাহী জেলার বাসিন্দা মো. মোস্তফার স্ত্রী।

 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব কমান্ডার উল্লেখ করেন, গোপন সংবাদ ও তথ্য প্রযুক্তির ভিত্তিতে হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৫০০ গ্রাম হেরোইন জব্দ করা হয়েছে।

 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে আটক নারী দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহীর সীমান্ত এলাকা থেকে হেরোইন সংগ্রহ করে নিজে পরিবহন করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মাদক ব্যাবসায়ীদের নিকট সরবরাহ করে আসছে।

 

এ ঘটনায় সলঙ্গা থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।

 

 

ইউনূসের বিত্তবৈভব প্রতারণা ও জালিয়াতি

  • অদিতি করিম
  •  আপডেট টাইম : ০৯:১২:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

ড. ইউনূস শান্তিতে নোবেলজয়ী। দেড় বছর অন্তর্র্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সবকিছু ছাপিয়ে তিনি একজন আত্মকেন্দ্রিক, স্বার্থপর এবং লোভাতুর মানুষ হিসেবেই বিবেচিত হবেন। ড. ইউনূস অন্তর্র্বর্তী সরকারের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় দেশের জন্য কিছু করুন আর না-ই করুন নিজের জন্য দুহাত ভরে বিভিন্ন সুযোগসুবিধা গ্রহণ করেছেন।

 

তবে ইউনূসের জীবন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেড় বছর প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনকালে তিনি যেভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজে নানা ধরনের আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন, তেমনি সারা জীবন সরকারি অর্থ দিয়ে ব্যবসা করে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। দারিদ্র্য বিমোচনের নামে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান গড়ে তিনি রাষ্ট্রের সম্পদ দিয়েই নিজে বিত্তবান হয়েছেন।
মুহাম্মদ ইউনূস। দেশের সমস্যা নিয়ে তিনি নীরব।

 

দেশের কোনো সংকটে, উৎসবে তিনি থাকেন না। ব্যক্তিস্বার্থে বিদেশে তিনি সরব। হামে শিশুমৃত্যু নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই। কিন্তু ট্রেড টার্নারের মৃত্যুতে তিনি মর্মাহত হয়ে শোকবার্তা দেন। ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে দারিদ্র্যকে জাদুঘরে পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। দারিদ্র্য জাদুঘরে যায়নি বটে, তবে তিনি অর্থ, বিত্তবৈভবের জাদু দেখিয়েছেন। এখন ‘সামাজিক ব্যবসার’ আওয়াজ তুলে বিশ্বে বক্তৃতা দিচ্ছেন। সামাজিক ব্যবসা প্রবর্তন হোক না-হোক তার বিত্তের প্রসার ঘটেছে। শিক্ষক থেকে তিনি হয়ে উঠেছেন বিলিয়নিয়ার। কিন্তু তার এই বিত্ত বেড়ে ওঠেছে গরিবের সম্পদ লুটে; সরকারকে ঠকিয়ে; রাষ্ট্রীয় সম্পদকে আত্মসাৎ করে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পেশাগত জীবনে অর্থনীতিবিদ হলেও নোবেল পেয়েছেন শান্তিতে।

 

জোবরা গ্রামে গবেষণা শুরু করেছিলেন ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম নিয়ে। একসময় এই দরিদ্র, হতদরিদ্র মানুষদের স্বাবলম্বী করে তোলার কথা বলে দারস্থ হয়েছিলেন বাংলাদেশ সরকারের কাছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রস্তাবেই এরশাদ সরকার গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে। ড. ইউনূস সেখানে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের চাকরি নেন। ১৯৮৩ সালে এটি একটি বৈধ ও স্বতন্ত্র ব্যাংক হিসেবে যাত্রা শুরু করে। সরকার গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে একটি আইনের মাধ্যমে ও সেখানে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে।

 

১৯৮৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সরকার গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ নামে একটি অধ্যাদেশ (অধ্যাদেশ নম্বর-৪৬) জারি করে। সে সময়ে গ্রামীণ ব্যাংক শুরু হয় মাত্র ৩ কোটি টাকা মূলধন দিয়ে। এর মধ্যে বেশির ভাগ টাকা অর্থাৎ ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ছিল সরকারের এবং ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ছিল ঋণগ্রহীতাদের। অর্থাৎ গ্রামীণ ব্যাংকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যক্তিগত কোনো টাকা ছিল না। অথচ গ্রামীণ ব্যাংককে ব্যবহার করেই ড. ইউনূস পেয়েছেন সবকিছু। কাগজকলমে গ্রামীণ ব্যাংকের মালিক সরকার এবং ঋণগ্রহীতা জনগণ। কিন্তু ‘অসাধারণ’ মেধায় রাষ্ট্র এবং জনগণের অর্থ ড. ইউনূস পুরে ফেলেন তার পকেটে। গ্রামীণ ব্যাংকের টাকায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস গড়ে তুলেছেন তার নিয়ন্ত্রণাধীন ২৮টি প্রতিষ্ঠান ও গ্রামীণ ব্যাংক তথা সরকারের টাকা আত্মসাৎ করে তিনি এখন হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।

 

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দাতা গোষ্ঠী অনুদান ও ঋণ দেয় গ্রামীণ ব্যাংককে। অনুদানের সব অর্থ যদি রাষ্ট্র এবং জনগণের কাছে যায় তাহলে ড. ইউনূসের লাভ কি? তাই দাতাদের অনুদানের অর্থ দিয়ে গঠন করলেন সোশ্যাল ভেনচার ক্যাপিটাল ফান্ড (এসভিসিএফ)। ১৯৯২ সালের ৭ অক্টোরব ওই ফান্ড দিয়ে আলাদা একটি প্রতিষ্ঠান গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৯৪ সালে ‘গ্রামীণ ফান্ড’ নামের একটি লিমিটেড কোম্পানি গঠন করা হয়। তাতে ওই ফান্ডের ৪৯ দশমিক ১০ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়। গ্রামীণ ব্যাংক দেখিয়ে বিদেশ থেকে টাকা এনে তা সরিয়ে ফেলার চেষ্টা ছিল শুরু থেকেই। গ্রামীণ ব্যাংক সরকারি প্রতিষ্ঠান হলেও ড. ইউনূস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে সব সিদ্ধান্ত একাই নিতেন। পরিচালনা পর্ষদ এমনভাবে গঠন করা হয়েছিল, যাতে কেউ ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে কথা না বলেন। ড. ইউনূস এই সুযোগটি কাজে লাগান। ১৯৯৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর গ্রামীণ ব্যাংকের ৩৪তম বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয় দাতা গোষ্ঠীর অনুদানের অর্থ ও ঋণ দিয়ে সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট ফান্ড (এসএএফ) গঠন করা হয়। কিন্তু দাতারা গ্রামীণ ব্যাংক থেকে এভাবে অর্থ সরিয়ে ফেলার আপত্তি জানান। তারা সাফ জানিয়ে দেন, এভাবে অর্থ স্থানান্তর জালিয়াতি। এবার ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করেন ড. ইউনূস। আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে তিনি জানান এটি একটি ভুল সিদ্ধান্ত। ভবিষ্যতে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন বলে অঙ্গীকার করেন তিনি। পরে ২৫ এপ্রিল, ১৯৯৬ সালে তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ড সভায় ‘গ্রামীণ কল্যাণ’ গঠনের প্রস্তাব আনেন।

 

প্রস্তাবে বলা হয়, গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্য এবং কর্মীদের কল্যাণে ‘কোম্পানি আইন ১৯৯৪’-এর আওতায় ‘গ্রামীণ কল্যাণ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করা হলো। গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ড সভা এই প্রস্তাব অনুমোদন করে। এটি গ্রামীণ ব্যাংকেরই অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। গ্রামীণ কল্যাণ যে গ্রামীণ ব্যাংকেরই শাখা প্রতিষ্ঠান, তা আরও স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় এর মূলধন গঠন প্রক্রিয়ায়। গ্রামীণ কল্যাণে গ্রামীণ ব্যাংকের সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট ফান্ড (এসএএফ) থেকে ৬৯ কোটি টাকা প্রদান করা হয়। গ্রামীণ কল্যাণের মেমোরেন্ডাম অব আর্টিকেলেও গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে এর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলে। মেমোরেন্ডাম অব আর্টিকেল অনুযায়ী গ্রামীণ কল্যাণের ৯ সদস্যের পরিচালনা পরিষদের ২ জন সদস্য হবেন গ্রামীণ ব্যাংকের মনোনীত প্রতিনিধি। এ ছাড়াও গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান হবেন গ্রামীণ ব্যাংকের মনোনীত প্রতিনিধি। গ্রামীণ ব্যাংকের মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে ড. ইউনূস গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান হন। এরপরে গ্রামীণ কল্যাণ হয়ে ওঠে ড. ইউনূসের ‘সোনার ডিম পাড়া রাজহাঁস’।

 

গ্রামীণ কল্যাণের মাধ্যমে তিনি গড়ে তোলেন একাধিক প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-১. গ্রামীণ টেলিকম লি., ২. গ্রামীণ ডিস্ট্রিবিউশন লি., ৩. গ্রামীণ শিক্ষা, ৪. গ্রামীণ নিটওয়্যার লি., ৫. গ্রামীণ ব্যবস্থা বিকাশ, ৬. গ্রামীণ আইটি পার্ক, ৭. গ্রামীণ ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট, ৮. গ্রামীণ সল্যুশন লি., ৯. গ্রামীণ ডানোন ফুডস লি., ১০. গ্রামীণ হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস লি., ১১. গ্রামীণ স্টার এডুকেশন লি., ১২. গ্রামীণ ফেব্রিক্স অ্যান্ড ফ্যাশন লি., ১৩. গ্রামীণ কৃষি ফাউন্ডেশন।

 

অন্যদিকে গ্রামীণ কল্যাণের আদলে প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ফান্ডের মাধ্যমে গঠন করা হয় আরও কিছু প্রতিষ্ঠন। এগুলো হলো-১. গ্রামীণ ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লি., ২. গ্রামীণ সল্যুশন লি., ৩. গ্রামীণ উদ্যোগ ৪. গ্রামীণ আইটেক লি., ৫. গ্রামীণ সাইবারনেট লি., ৬. গ্রামীণ নিটওয়্যার লি., ৭. গ্রামীণ আইটি পার্ক ৮. টিউলিপ ডেইরি অ্যান্ড প্রোডাক্ট লি., ৯. গ্লোব কিডস ডিজিটাল লি., ১০. গ্রামীণ বাইটেক লি., ১১. গ্রামীণ সাইবার নেট লি., ১২. গ্রামীণ স্টার এডুকেশন লি., ১২. রফিক অটোভ্যান মানুফ্যাকচারার লি., ১৩. গ্রামীণ ইনফরমেশন হাইওয়ে লি., ১৪. গ্রামীণ ব্যবস্থা সেবা লি., ১৫. গ্রামীণ সামগ্রী।

 

মজার ব্যাপার হলো, গ্রামীণ ব্যাংকের অর্থে ও বোর্ড সভার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ‘গ্রামীণ কল্যাণ’ ও ‘গ্রামীণ ফান্ড’ গঠিত হয়। এই দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যে প্রতিষ্ঠানগুলো গঠিত হয়েছে- তা সবই আইনত গ্রামীণ ব্যাংকের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু ২০২০ সাল পর্যন্ত গ্রামীণ ফান্ড এবং গ্রামীণ কল্যাণের পরিচালনা পর্ষদে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিনিধি থাকলেও ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠান দুটিতে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিনিধি নেই। গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই দুইটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হবেন গ্রামীণ ব্যাংকের মনোনীত ব্যক্তি। কিন্তু ড. মুহাম্মদ ইউনূস এখনো গ্রামীণ কল্যাণ ও গ্রামীণ ফান্ডের চেয়ারম্যান পদে বহাল আছেন। রাষ্ট্রের অর্থ দিয়ে ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার এই এক অদ্ভুত জালিয়াতি।

 

গ্রামীণ কল্যাণ ও গ্রামীণ ফান্ডের মাধ্যমে গঠিত ২৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একমাত্র গ্রামীণ টেলিকম ছাড়া আর সব প্রতিষ্ঠানই লোকসানি। গ্রামীণ টেলিকম দেশের সর্ববৃহৎ মোবাইল নেটওয়ার্ক গ্রামীণফোনের ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ শেয়ারের মালিক। ২০২২ সালে গ্রামীণফোন ট্যাক্স, ভ্যাট দেওয়ার পর নিট মুনাফা করেছে ৩ হাজার ৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ গ্রামীণফোন থেকে গ্রামীণ টেলিকম প্রতিবছর নিট মুনাফা পায় ১ হাজার কোটি টাকার বেশি। গ্রামীণফোনের লভ্যাংশ নয়ছয় করা ছাড়া গ্রামীণ টেলিকমের আর কোনো কাজ নেই। একটু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, গ্রামীণ ব্যাংক থেকে টাকা সরিয়ে গ্রামীণ কল্যাণের মাধ্যমে যে প্রতিষ্ঠানগুলো গঠন করা হয়েছে; তার সবগুলোর চেয়ারম্যান ড. ইউনূস। আর এই প্রতিষ্ঠানগুলোর এমডি পদে নিয়োগ দেওয়া হয় ড. ইউনূসের একান্ত অনুগত ও বিশ্বস্তদের। এই প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিষ্ঠার এক বড় কার্যক্রম হলো গ্রামীণ টেলিকমের লাভের টাকা আত্মসাৎ করা ও আয়কর ফাঁকি।

গ্রামীণ টেলিকম কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ধারা ২৮ এবং ২৯-এর বিধান লঙ্ঘন করে গ্রামীণফোন লিমিটেড থেকে গ্রামীণ কল্যাণকে তার লভ্যাংশ আয়ের ৪২.৬% বিতরণ করে আসছে। যদিও গ্রামীণ কল্যাণ গ্রামীণফোন লিমিটেডের শেয়ারহোল্ডার নয়। আইন অনুযায়ী গ্রামীণ টেলিকমের সমগ্র লভ্যাংশ আয়কে এর আয় হিসেবে ভোগ করতে হবে ও সেই অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট আর্থিক বছরের জন্য প্রযোজ্য করপোরেট হারে কর দিতে হবে।

 

কিন্তু তাদের নিরীক্ষিত হিসাব পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তারা গ্রামীণ টেলিকম থেকে গ্রামীণ কল্যাণকে তাদের লভ্যাংশ আয়ের প্রায় অর্ধেক প্রদান করেছে শুধু অগ্রিম আয়কর (এআইটি) ১০-২০% হারে। অথচ আইন অনুযায়ী তাদের জন্য প্রযোজ্য করপোরেট করের হার ছিল ৩৫% থেকে ৩৭.৫% পর্যন্ত। এই করপোরেট রেট ও ডিভিডেন্ট ট্যাক্সের পার্থক্য কর ফাঁকি। কারণ গ্রামীণ কল্যাণ প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোনোভাবেই গ্রামীণ টেলিকমের লভ্যাংশ আয়ের অধিকারী নয়। গ্রামীণ টেলিকম শুরু থেকে যেসব কর ফাঁকি দিয়েছে সেগুলো যোগ করলে এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। এই কর ফাঁকির হিসাব শুধু গ্রামীণ টেলিকমের। ড. ইউনূসের নিয়ন্ত্রিত অন্যান্য কোম্পানি এবং প্রতিষ্ঠান ও তার ব্যক্তিগত আয়করের ক্ষেত্রেও ব্যাপকভাবে কর ফাাঁকির ঘটনা অনেকটা স্বাভাবিক নিয়মের মতোই বহু বছর ধরে ঘটেছে। ড. ইউনূসনিয়ন্ত্রিত অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কর ফাঁকির ঘটনাগুলো হিসাব করলে এই পরিমাণ দাঁড়াবে বিশাল অঙ্কের। এ নিয়ে মামলা হয়েছিল। হাই কোর্ট ইউনূসকে অতিরিক্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার অনাদায়ি কর পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছিল। ইউনূস সে সময় বলেছিলেন আদালত বলেছে কর দিতে আমি দেব। তিনি দাবি করেন, তিনি কর ফাঁকি দেননি, আদালতের নির্দেশনা চেয়েছেন। কিন্তু ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর ক্ষমতার অপব্যবহার করে ওই কর ফাঁকির মামলা প্রত্যাহার করান ড. ইউনূস।

 

গ্রামীণ টেলিকমের ২৮ বছরের কার্যক্রম চলাকালীন প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার কর ফাঁকি দেওয়া হয়। এই দীর্ঘ সময়ে ড. ইউনূস প্রতি বছর শতকরা ১৫ থেকে ২৫ ভাগ পর্যন্ত কর ফাঁকি দিয়ে আসছেন। ১৯৯৭ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর গ্রামীণ টেলিকমে ড. ইউনূস ২৫% কর ফাঁকি দিয়েছেন। ওই সময়ে কর ছিল ৩৫%, প্রদান করেছিলেন মাত্র ১০%। ২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানে ড. ইউনূস কর ফাঁকি দিয়েছেন বছরে ২০%। ওই সময়ে কর ছিল ৩৫%, প্রদান করেছিলেন মাত্র ১৫%। ২০০৯ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ড. ইউনূস নিয়ন্ত্রিত গ্রামীণ টেলিকমে প্রতি বছর ১৫% কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে কর ছিল ৩৫%, আর প্রদান করেছিলেন মাত্র ২০%।

এটি লক্ষণীয় ড. ইউনূস তার কর ফাঁকির বিষয়গুলো ধামাচাপা দিতে দেশের আদালতে বেশ কিছু মামলা এবং রিট পিটিশন দায়ের করেন। এসব মামলা এবং রিটের উদ্দেশ্য হচ্ছে কর ফাঁকিসংক্রান্ত বিষয়ে ড. ইউনূসকে যেন আইনের মুখোমুখি হতে না হয়। ড. ইউনূসের করসংক্রান্ত প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার কর ফাঁকির বিষয়গুলো দালিলিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ড. ইউনূসের কর ফাঁকির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় এবং নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের দ্বারা পরিচালিত তদন্তে এটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে ড. ইউনূস নিজে ও তার নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলো তার নির্দেশনাতেই কর ফাঁকির অপরাধে জড়িত। ইউনূস তার দেড় বছরের শাসনকালে তার বিরুদ্ধে চলমান এনবিআরের সব মামলা এবং তদন্ত কার্যক্রম বন্ধ করে দেন।

 

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে তিনটি। এই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তিনটি হলো যথাক্রমে- ১. সাউথইস্ট ব্যাংক, (অ্যাকাউন্ট নম্বর-০২১২১০০০২০০৬১), ২. স্ট্যান্ডার্ড চার্টাড ব্যাংক, (অ্যাকাউন্ট নম্বর-১৮১২১২৭৪৭০১) এবং ৩. রূপালী ব্যাংক, (অ্যাকাউন্ট নম্বর-০৪৮৯০১০০০৮০৯৬)। এই তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মধ্যে ২০০০ সালে খোলা সাউথইস্ট ব্যাংকের অ্যাকাউন্টটি (অ্যাকাউন্ট নম্বর-০২১২১০০০২০০৬১) তার মূল ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হিসেবেই প্রতীয়মান হয়েছে। এই অ্যাকাউন্টে ২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১১৮ কোটি ২৭ লাখ ৭৬ হাজার ৩৬৮ টাকা রেমিট্যান্স এসেছে। এই রেমিট্যান্সের বেশির ভাগ ৪৭ কোটি ৮৯ লাখ ৯৬ হাজার ৬৫২ টাকা এসেছে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে। সেই সময়েই একটি রাজনৈতিক দল গঠনেরও প্রয়াস করেছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কি এক-এগারোর বিরাজনীতিকরণের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে ইউনূসের কাছে বিদেশ থেকে টাকা এসেছিল?

 

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ট্যাক্স ফাইল বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ২০০৩ সালের পরে নোবেল বিজয়ীর তকমাধারী ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার ট্যাক্স ফাইলে ২০০৫-০৬ করবছরে তিনি সর্বমোট ৯৭ কোটি ৪ লাখ ৬১ হাজার ১৯১ টাকা রেমিট্যান্স প্রাপ্তির কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু ওই সময়ে তার ব্যক্তিগত সাউথইস্ট ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে রেমিট্যান্স প্রাপ্তির পরিমাণ ১১৫ কোটি ৯৮ লাখ ৯৬ হাজার ২৪ টাকা। অর্থাৎ ওই সময়ে তিনি ১৮ কোটি ৯৪ লাখ ৩৪ হাজার ৮৩৫ টাকার রেমিট্যান্স প্রাপ্তির তথ্য সরকারকে কর ফাঁকি দেওয়ার লক্ষ্যে তার ব্যক্তিগত ট্যাক্স ফাইলে গোপন করেছেন। এটি স্পষ্ট অর্থ পাচারের দোষে দুষ্ট।

 

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের ডেবিট অ্যানালাইসিসে উঠে এসেছে অপ্রদর্শিত অর্থসমূহের মূল অংশ তিনি সাউথইস্ট ব্যাংকের অন্য দুটি অ্যাকাউন্ট, সাউথইস্ট ব্যাংকের ১৫ নম্বর ব্রাঞ্চের ট্রাভেল ইন্টারন্যাশনাল লি. নামের (অ্যাকাউন্ট নম্বর- ৭৩৩০০০০০৩৩৩৯) ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১১ কোটি ১৪ লাখ ৩১ হাজার ৭৬৭ টাকা এবং ০০৩৫ নম্বর ব্রাঞ্চের (অ্যাকাউন্ট নম্বর-৯০৩০৩১৬০৯১০) ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা স্থানান্তর করেছেন। অর্থ পাচারের জন্যই এভাবে টাকা এক ব্যাংক থেকে আরেক ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়।

 

সরকারকে কর ফাঁকি দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর বছরে তিনি তার ব্যক্তিগত ট্যাক্স ফাইলে নিজস্ব সাউথইস্ট ব্যাংকে প্রাপ্ত বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্সের তথ্য গোপন করেছেন। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে তিনি রেমিট্যান্স প্রাপ্ত হয়েছেন ১৫ কেটি ১১ লাখ ৩১ হাজার ৪৭ টাকা। কিন্তু তিনি তার ট্যাক্স ফাইলে প্রদর্শন করেছেন ৯ কোটি ১৪ লাখ ৫৮ হাজার ৪৮৯ টাকা। ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট এবং ট্যাক্স বা কর ফাইলের সঙ্গে এখানে পার্থক্য রয়েছে ৫ কোটি ৯৬ লাখ ৭২ হাজার ৫৫৯ টাকা। ২০০৮-০৯ কর বছরে তিনি রেমিট্যান্স প্রাপ্ত হয়েছেন ১১ কোটি ৮৩ লাখ ১৪ হাজার ৪১০ টাকা। অথচ তিনি তার ট্যাক্স ফাইলে উল্লেখ করেছেন ১০ কোটি ৪০ লাখ ২৪ হাজার ৮৩২ টাকা। এখানে তিনি ১ কোটি ৪২ লাখ ৮৯ হাজার ৫৭৮ টাকার তথ্য গোপন করেছেন। ২০০৯-১০ কর বছরে তিনি রেমিট্যান্স প্রাপ্ত হয়েছেন ২০ কোটি ৯৫ লাখ ৫১ হাজার ১৯৫ টাকা। তিনি তার ট্যাক্স ফাইলে উল্লেখ করেছেন ১৮ কোটি ৯৯ লাখ ২৮ হাজার ৭৩১ টাকা। এখানে তিনি ১ কোটি ৯৬ লাখ ২২ হাজার ৪৬৫ টাকার তথ্য গোপন করেছেন। ২০১০-১১ কর বছরে তিনি রেমিট্যান্স প্রাপ্ত হয়েছেন ৮ কোটি ১৮ লাখ ৬৫ হাজার ২০৪ টাকা। অথচ তার ট্যাক্স ফাইলে উল্লেখ করেছেন ৬ কোটি ৬০ লাখ ৪৪ হাজার ৯২ টাকা। এখানে তিনি ১ কোটি ৫৮ লাখ ২১ হাজার ১১২ টাকার তথ্য গোপন করেছেন। ২০১১-১২ কর বছরে তিনি রেমিট্যান্স প্রাপ্ত হয়েছেন ৫ কোটি ৯১ লাখ ৫ হাজার ৫৮৬ টাকা। আর ট্যাক্স ফাইলে উল্লেখ করেছেন ৪ কোটি ৬৫ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭২ টাকা। এখানে তিনি ১ কোটি ২৫ লাখ ৬৯ হাজার ১৪ টাকার তথ্য গোপন করেছেন। ২০১২-১৩ কর বছরে তিনি রেমিট্যান্স প্রাপ্ত হয়েছেন ৮ কোটি ৩৭ লাখ ২ হাজার ৭৭ টাকা। তিনি তার ট্যাক্স ফাইলে উল্লেখ করেছেন ৬ কোটি ৫০ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৫ টাকা। এখানে তিনি ১ কোটি ৮৬ লাখ ৩৫ হাজার ৪১২ টাকার তথ্য গোপন করেছেন। ২০১৩-১৪ কর বছরে তিনি রেমিট্যান্স প্রাপ্ত হয়েছেন ১০ কোটি ৫৫ লাখ ৪২ হাজার ৩৩৬ টাকা। তিনি তার ট্যাক্স ফাইলে উল্লেখ করেছেন ৭ কোটি ৯৮ লাখ ৫৯ হাজার ৫৪৪ টাকা। এখানে তিনি ২ কোটি ৫৬ লাখ ৮২ হাজার ৭৯৩ টাকার তথ্য গোপন করেছেন। ২০১৪-১৫ কর বছরে তিনি রেমিট্যান্স প্রাপ্ত হয়েছেন ৭ কোটি ১৪ লাখ ৫৭ হাজার ২০৭ টাকা। অথচ ট্যাক্স ফাইলে উল্লেখ করেছেন ৫ কোটি ১৬ লাখ ৬১ হাজার ৫৯৮ টাকা। এখানেও তিনি ১ কোটি ৯৭ লাখ ৯৫ হাজার ৬০৯ টাকার তথ্য গোপন করেছেন।

 

২০০০ সালের পর থেকে এমন প্রতিটি কর বছরে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স প্রাপ্ত হয়ে কোটি কোটি টাকার তথ্য গোপন করে সরকারের কর ফাঁকি দিয়েছেন। ২০০৫-০৬ কর বছর থেকে শুরু করে চলতি কর বছর পর্যন্ত সরকারকে কর ফাঁকি দেওয়ার লক্ষ্যে তিনি ১৮ কোটি ৯৪ লাখ ৩৪ হাজার ৮৩৫ টাকা রেমিট্যান্সের তথ্য গোপন রেখেছেন। মজার ব্যাপার হলো, ২০২০-২১ অর্থবছরে ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় সব টাকা তুলে ‘ইউনূস ট্রাস্ট’ গঠন করেন। ট্রাস্টের টাকা আয়করমুক্ত। সেই হিসাব থেকেই এমন কাণ্ড করেন তিনি। কিন্তু এরকম ফান্ডের জন্য ১৫ শতাংশ কর দিতে হয়, এটি তিনি দেননি। এই ট্যাক্স ফাঁকির কারণেই তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এই মামলায় তিনি হেরে যান।

 

ড. ইউনূস ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার জন্য যে ট্রাস্ট গঠন করেন তার একটি মাত্র কার্যক্রম দেখা যায়। তা হলো ড. ইউনূস ও তার পরিবারের সব ব্যয় বহন করা হয় এই ট্রাস্টের টাকায়। এটাও এক ধরনের জালিয়াতি। এই ট্রাস্ট যেই ধরনের সমাজসেবামূলক কার্যক্রম করবে বলে আঙ্গীকার করা হয়েছে, তার কিছুই করে না। তাহলে কি কর ফাঁকি দিয়ে বিলাসী জীবন যাপনের জন্যই এই ট্রাস্ট? একজন নোবেলজয়ী ব্যক্তি, কীভাবে রাষ্ট্র ও জনগণের সঙ্গে এই রকম প্রতারণা করতে পারেন?

 

সারা জীবন ইউনূস যেভাবে নিজের স্বার্থে রাষ্ট্রের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন ক্ষমতায় গিয়েও তিনি একই কাজ করেছেন। তিনি ১৮ মাস দেশের জন্য কিছুই করেননি। সবকিছু করেছেন নিজের জন্য। ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে গ্রামীণসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সরকারি অনুমোদন ও সুবিধা পেতে শুরু করে। অন্তর্র্বর্তী সরকারের আমলে নিবন্ধন, অনুমোদন, করছাড়সহ বেশ কিছু সুবিধা পেয়েছে গ্রামীণসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ঢাকায় গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি নামে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন পেয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে গ্রামীণ অ্যামপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেসের জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স, গ্রামীণ টেলিকমের ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর অনুমতি। এ ছাড়া গ্রামীণ ব্যাংকের কর মওকুফ ও সরকারিভাবে ব্যাংকে শেয়ারের পরিমাণ ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে।

 

ড. ইউনূস ও তার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে থাকা শ্রম আইন লঙ্ঘন ও অর্থ পাচারের মামলা দ্রুত খারিজ হয়ে যাওয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি নামে বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি গ্রামীণ ট্রাস্টের অধীনে চলবে। ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর আবেদন জমা দেওয়ার তিন মাসের মধ্যেই এটি অনুমোদন পায়। অন্তর্র্বর্তী সরকারের আমলে অনুমোদিত প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এটি। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ অ্যামপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড (জিইএসএল) বিএমইটি থেকে একটি লাভজনক জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স (জখ ঘড়. ২৮০৬) পায় এবং এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) সদস্যপদ লাভ করে। ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই গ্রামীণ টেলিকমের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ‘সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেড’ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডর (পিএসপি) হিসেবে কাজ করার জন্য অনুমোদন পায়। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ‘অনাপত্তি সনদ’ (এনওসি) পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি পিএসপি লাইসেন্স পায়। ২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল অন্তর্র্বর্তী সরকার একটি বৈঠকে গ্রামীণ ব্যাংকের জন্য নতুন অধ্যাদেশ জারির সিদ্ধান্ত নেয়, যেখানে সরকারের মালিকানা ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়।

 

বৈঠকটি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। নতুন অধ্যাদেশে শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানা ৭৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করা হয় এবং বোর্ডে নির্বাচিত ৯ জন সদস্যের মধ্য থেকে ৩ জন পরিচালক মনোনীত হবেন, যাদের মধ্য থেকে একজনকে বোর্ড চেয়ার হিসেবে নির্বাচন করা হবে। এতে সরকারের চেয়ার নিয়োগের ভূমিকা বাতিল হয়। ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার দুই মাস পর ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গ্রামীণ ব্যাংককে ২০২৯ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য কর অব্যাহতি দেয়। অন্যদিকে ড. ইউনূস গত বছরের ৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার তিন দিন পরই অর্থ পাচার মামলায় ঢাকার একটি আদালত তাকে খালাস দেয়। এ ছাড়া শপথ নেওয়ার আগের দিনই শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় ইউনূসসহ গ্রামীণ টেলিকমের পরিচালকদের যে ছয় মাসের কারাদণ্ড হয়েছিল, সেই মামলাতেও আদালত তাদের খালাস দেন।

 

এভাবেই ইউনূস যখনই সুযোগ পেয়েছেন তখনই জালিয়াতি এবং প্রতারণার মাধ্যমে তার বিত্তবৈভব বাড়িয়ে নিয়েছেন। ২০০৬ সালে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার সময় ইউনূস বলেছিলেন দারিদ্র্য জাদুঘরে যাবে। কিন্তু দারিদ্র্যের হার গত ২৬ বছরে আরও বেড়েছে। বিশেষ করে ইউনূসের শাসনকালে বাংলাদেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। কিন্তু তাতে কী? ইউনূস এ সময় হয়েছেন আরও বিত্তবান। আর তার এই বিত্তবৈভব কষ্ট করে অর্জিত নয়, স্রেফ প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত তার সম্পদের পাহাড়।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

 

 

দুপুরের মধ্যে ঝড়-বজ্রবৃষ্টি হতে পারে যে ৫ অঞ্চলে

দেশের পাঁচ অঞ্চলের ওপর দিয়ে দুপুরের মধ্যে দমকা কিংবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর পুনঃ সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১৯ মে) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এজন্য এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

 

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল হয়ে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু স্থানে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।

 

অন্যদিকে পটুয়াখালীসহ খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

 

পরবর্তী কয়েক দিনেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বর্ধিত পাঁচ দিনের শেষদিকে সারা দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

 

এছাড়া আজ রাজধানী ঢাকায় দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। তবে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়ার সময় এর গতি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে।

 

মসজিদে ৩ জনকে গুলি করে হত্যার পর দুই কিশোরের আত্মহত্যা

সান ডিয়েগোর একটি মসজিদে দুই কিশোর বন্দুকধারী গুলি চালিয়ে তিনজনকে হত্যা করে এবং এরপর কয়েক ব্লক দূরে আত্মহত্যা করেছে। পুলিশ এই হামলাটিকে একটি বিদ্বেষমূলক অপরাধ হিসেবে তদন্ত করছে। সোমবার (১৮ মে)  সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।

খবর বার্তা সংস্থা এপির

সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারের  বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট হুমকি দেওয়া হয়নি, তবে কর্তৃপক্ষ এমন প্রমাণ পেয়েছে যে সন্দেহভাজনরা “সাধারণ বিদ্বেষমূলক বক্তব্য” দিয়েছে, বলেছেন সান ডিয়েগো পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াল। তিনি আরও বিস্তারিত জানাতে অস্বীকার করলেও বলেছেন, “যে পরিস্থিতি এই ঘটনার দিকে নিয়ে গেছে” তা আগামী দিনগুলোতে সামনে আসবে।

 

ওয়াল বলেন, হামলার আগে থেকেই কর্মকর্তারা একজন কিশোরের সন্ধান করছিলেন, কারণ তার মা উদ্বিগ্ন হয়ে পুলিশকে ফোন করে জানান যে তার ছেলে আত্মহত্যাপ্রবণ এবং পালিয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, বাড়ি থেকে অস্ত্রশস্ত্র এবং মায়ের গাড়িটিও পাওয়া যায়নি।

 

তিনি বলেন, পুলিশ যখন জানতে পারে যে ছেলেটি ছদ্মবেশে ছিল এবং একজন পরিচিতের সাথে ছিল, তখন অনুসন্ধান আরও জরুরি হয়ে ওঠে — এই বিবরণগুলো এমন কারো জন্য অপ্রত্যাশিত ছিল যে আত্মহত্যা করতে চলেছে।

 

১৭ ও ১৮ বছর বয়সীদের খুঁজে বের করতে পুলিশ স্বয়ংক্রিয় লাইসেন্স প্লেট রিডারসহ সম্ভাব্য সব প্রযুক্তি ব্যবহার করতে শুরু করে। পুলিশ যেখানে গাড়িটির অবস্থান শনাক্ত করেছিল, তার কাছাকাছি একটি শপিং মলে কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয় এবং কর্মকর্তারা এমন একটি স্কুলকে সতর্ক করেন যেখানে সন্দেহভাজনদের মধ্যে অন্তত একজন পড়ত, বলেন ওয়াল।

 

কিশোর-কিশোরীরা কোথায় থাকতে পারে সে বিষয়ে কর্মকর্তারা যখন মা-কে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তারা মসজিদে গোলাগুলির খবর পান।

 

ওয়াহল বলেন, নিহতদের মধ্যে মসজিদের একজন নিরাপত্তাকর্মীও ছিলেন, যিনি হামলাটিকে “আরও ভয়াবহ” হওয়া থেকে বিরত রাখতে “একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন” বলে পুলিশ মনে করে।

 

পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান বলেন, “এটা বলাই যায় যে তার কাজ ছিল বীরত্বপূর্ণ। নিঃসন্দেহে তিনি আজ প্রাণ বাঁচিয়েছেন।”

 

এর ওয়েবসাইট অনুসারে, এই কেন্দ্রটি সান ডিয়েগো কাউন্টির বৃহত্তম মসজিদ এবং এর মধ্যে আল রশিদ স্কুলও রয়েছে, যেখানে ৫ বছর বা তার বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য আরবি ভাষা, ইসলাম শিক্ষা এবং কোরআনের কোর্স করানো হয়।

 

ওয়াল বলেন, ফোন পাওয়ার চার মিনিটের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা পৌঁছানোর সাথে সাথেই কয়েক ব্লক দূরে গুলির শব্দ শোনা যায়, যেখানে একজন ল্যান্ডস্কেপারকে গুলি করা হলেও তিনি অক্ষত ছিলেন। তিনি জানান, কাছাকাছি একটি রাস্তার মাঝখানে থেমে থাকা একটি গাড়ির ভেতর থেকে হামলাকারীদের মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

 

আকাশ থেকে ধারণ করা টিভি ফুটেজে দেখা যায়, কেন্দ্রটির পার্কিং লটটি অসংখ্য পুলিশের গাড়ি দিয়ে ঘেরা ছিল এবং সেখান থেকে এক ডজনেরও বেশি শিশুকে হাত ধরে বের করে আনা হচ্ছিল। মসজিদটি বাড়িঘর, অ্যাপার্টমেন্ট এবং শপিং মলের একটি এলাকায় অবস্থিত, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের রেস্তোরাঁ ও বাজার রয়েছে।

 

অভিভাবকদের তাদের সন্তানদের নিয়ে যাওয়ার জন্য কাছাকাছি একটি এলাকায় যেতে বলা হয়।

 

মসজিদটির পরিচালক ইমাম তাহা হাসানে এটিকে “একটি উপাসনালয়কে লক্ষ্যবস্তু করা অত্যন্ত জঘন্য কাজ” বলে অভিহিত করেছেন।

 

তিনি বলেন, “আমাদের এই সুন্দর শহরের সমস্ত উপাসনালয় সর্বদা সুরক্ষিত থাকা উচিত।”

 

তিনি আরও বলেন যে, কেন্দ্রটি আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ক এবং সম্প্রদায় গঠনের উপর গুরুত্ব দিত এবং সোমবার সকালে একদল অমুসলিম ইসলাম সম্পর্কে জানতে মসজিদটি পরিদর্শন করছিলেন।

 

ইসলামিক সেন্টারের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে যে, এর লক্ষ্য শুধু মুসলিম জনগোষ্ঠীর সেবা করাই নয়, বরং “বৃহত্তর সম্প্রদায়ের সাথে মিলে সুবিধাবঞ্চিতদের সেবা করা, শিক্ষা প্রদান করা এবং আমাদের দেশকে আরও উন্নত করা।” সেখানে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ অনুষ্ঠিত হয় এবং মসজিদটি অন্যান্য সংস্থা ও সকল ধর্মের মানুষের সাথে সামাজিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহত্তম মুসলিম নাগরিক অধিকার ও অধিকার রক্ষা গোষ্ঠী ‘কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস’ এই গুলির ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে।

 

সিএআইআর-সান ডিয়েগোর নির্বাহী পরিচালক তাজিন নিজাম এক বিবৃতিতে বলেন, “প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রার্থনা বা পড়াশোনা করার সময় কারও নিরাপত্তা নিয়ে ভয় পাওয়া উচিত নয়। আমরা এই ঘটনা সম্পর্কে আরও জানতে কাজ করছি এবং সবাইকে এই সম্প্রদায়ের জন্য প্রার্থনা করতে উৎসাহিত করছি।”