সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
পাশে দাঁড়ালেন উপজেলা প্রশাসন

আগুনে বাড়ি পুড়ে যাওয়া কৃষকের খোলা আকাশের নিচে জীবন যাপন

আগুনে বাড়ি পুড়ে যাওয়া কৃষকের খোলা আকাশের নিচে জীবন যাপন। ছবি: সংগৃহীত

নওগাঁয় কৃষক আব্দুল হাই (৬৫) নামে এক কৃষকের বাড়িতে আগুন লেগে ৪টি ঘর ভষ্মিভুত হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ওই পরিবারের ৮ সদস্য খোলা আকাশের নিচে জীবন যাপন করছে।
বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে নওগাঁ সদর উপজেলা দূর্যোগ ও ত্রান শাখা থেকে শুকনা খাবার ও ৭টি কম্বল দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার (৭জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের ভুতগাড়ী গ্রামে কৃষক আব্দুল হাই এর বাড়িতে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ৬ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী কৃষক।
ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুল হাই বলেন, টিন শেডের বাড়িতে ৪টি কক্ষ। যেখানে দুই ছেলে, দুই মেয়ে ও নাতনী সহ ৮ সদস্য নিয়ে বসবাস করতাম। বুধবার সকাল ৭টার দিকে খাবার খেয়ে যে যার মতো কাজে বেরিয়ে যায়। দুপুর ১টার দিকে প্রতিবেশীরা ফোন করে জানায় বাড়িতে আগুন লেগেছে। এসে দেখি সবকিছু পুড়ে গেছে। মঙ্গলবার বাড়ি থেকে আড়াই লাখ টাকা দিয়ে দুইটি গরু বিক্রি করে টাকা বাড়িতে রাখা ছিল। বাড়ির আসবাবপত্র, লেপ তোষক, জামা কাপড়, ড্রামে থাকা ৯০ কেজি চাল, ৫ বস্তা গরুর খাবার ও ৩ বস্তা সার সহ গরু বিক্রির নগদ টাকা সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে সব মিলিয়ে প্রায় ৬লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
ভুক্তভোগী আব্দুল হাইয়ের বড় ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন- খোলা আকাশের নিচে বসবাস করতে হচ্ছে। পরনে যে পোশাক ছিলো তা ছাড়া অবশিষ্ট আর কিছু নেই। প্রতিবেশীদের দেওয়া খাবার খেতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলা থেকে শুকনা খাবার ও কম্বল দেওয়া হয়েছে যা আমাদের জন্য যথেষ্ট না। সকলের সহযোগিতা কামনা করছেন তিনি।
প্রতিবেশী আনিসুর রহমান বলেন, আগুন লাগার সময় তাদের বাড়িতে কেউ ছিলোনা। দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছিলো। আমরা প্রতিবেশীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছিলাম। প্রায় আধাঘন্টার আগুনে সবকিছু পড়ে শেষ হয়ে গেছে। পরিবারটা নিঃশ্ব হয়ে গেছে। তবে চুলার আগুন থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।
নওগাঁ সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে শুকনো খাবার ও কম্বল দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে। আগামী রোববার ১২ হাজার টাকা ও ৬ বান্ডিল টিন দিয়ে সহযোগিতা করা হবে।
জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইবনুল আবেদীন বলেন, কৃষক আব্দুল হাই এর বাড়ি আগুনে পুড়ে যাওয়ার খবর শোনা মাত্রই তাঁর সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়েছি। এবং আজ তাঁর হাতে কিছু শুকনো খাবার ও কম্বল দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নগদ টাকা ও টিন দেওয়া হবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে কৃষক আব্দুল হাইকে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

পাশে দাঁড়ালেন উপজেলা প্রশাসন

আগুনে বাড়ি পুড়ে যাওয়া কৃষকের খোলা আকাশের নিচে জীবন যাপন

আপডেট টাইম : ০৭:৪৪:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
নওগাঁয় কৃষক আব্দুল হাই (৬৫) নামে এক কৃষকের বাড়িতে আগুন লেগে ৪টি ঘর ভষ্মিভুত হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ওই পরিবারের ৮ সদস্য খোলা আকাশের নিচে জীবন যাপন করছে।
বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে নওগাঁ সদর উপজেলা দূর্যোগ ও ত্রান শাখা থেকে শুকনা খাবার ও ৭টি কম্বল দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার (৭জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের ভুতগাড়ী গ্রামে কৃষক আব্দুল হাই এর বাড়িতে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ৬ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী কৃষক।
ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুল হাই বলেন, টিন শেডের বাড়িতে ৪টি কক্ষ। যেখানে দুই ছেলে, দুই মেয়ে ও নাতনী সহ ৮ সদস্য নিয়ে বসবাস করতাম। বুধবার সকাল ৭টার দিকে খাবার খেয়ে যে যার মতো কাজে বেরিয়ে যায়। দুপুর ১টার দিকে প্রতিবেশীরা ফোন করে জানায় বাড়িতে আগুন লেগেছে। এসে দেখি সবকিছু পুড়ে গেছে। মঙ্গলবার বাড়ি থেকে আড়াই লাখ টাকা দিয়ে দুইটি গরু বিক্রি করে টাকা বাড়িতে রাখা ছিল। বাড়ির আসবাবপত্র, লেপ তোষক, জামা কাপড়, ড্রামে থাকা ৯০ কেজি চাল, ৫ বস্তা গরুর খাবার ও ৩ বস্তা সার সহ গরু বিক্রির নগদ টাকা সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে সব মিলিয়ে প্রায় ৬লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
ভুক্তভোগী আব্দুল হাইয়ের বড় ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন- খোলা আকাশের নিচে বসবাস করতে হচ্ছে। পরনে যে পোশাক ছিলো তা ছাড়া অবশিষ্ট আর কিছু নেই। প্রতিবেশীদের দেওয়া খাবার খেতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলা থেকে শুকনা খাবার ও কম্বল দেওয়া হয়েছে যা আমাদের জন্য যথেষ্ট না। সকলের সহযোগিতা কামনা করছেন তিনি।
প্রতিবেশী আনিসুর রহমান বলেন, আগুন লাগার সময় তাদের বাড়িতে কেউ ছিলোনা। দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছিলো। আমরা প্রতিবেশীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছিলাম। প্রায় আধাঘন্টার আগুনে সবকিছু পড়ে শেষ হয়ে গেছে। পরিবারটা নিঃশ্ব হয়ে গেছে। তবে চুলার আগুন থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।
নওগাঁ সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে শুকনো খাবার ও কম্বল দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে। আগামী রোববার ১২ হাজার টাকা ও ৬ বান্ডিল টিন দিয়ে সহযোগিতা করা হবে।
জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইবনুল আবেদীন বলেন, কৃষক আব্দুল হাই এর বাড়ি আগুনে পুড়ে যাওয়ার খবর শোনা মাত্রই তাঁর সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়েছি। এবং আজ তাঁর হাতে কিছু শুকনো খাবার ও কম্বল দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নগদ টাকা ও টিন দেওয়া হবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে কৃষক আব্দুল হাইকে।