ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের কয়েলগাঁতী গ্রামে জন্ম নেওয়া ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বাবা মরহুম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ছিলেন মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যদের একজন। তিনি ১৯৪২ সালে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ সম্মেলনের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৬২ ও ১৯৬৫ সালে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের শিল্প ও প্রাকৃতিক সম্পদমন্ত্রী নিযুক্ত হয়ে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর বড় ভগ্নিপতি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চক্ষু বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. এম এ মতিন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে রাজনীতিতে আসেন। তিনি জিয়াউর রহমানের সরকারে আমলে মন্ত্রী ও পরবর্তীতে এরশাদ সরকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং উপ-প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
বাবার পথ ও ভগ্নিপতির হাত ধরেই রাজনীতিতে অভিষেক হয় ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিষ্ঠার পর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে সিরাজগঞ্জ-২ (সদর) আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে মনোনয়ন পান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। ধানের শীষ প্রতিকে আওয়ামী লীগের তৎকালীন প্রভাবশালী প্রার্থী মোহাম্মদ নাসিমকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের প্রথমে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী পরবর্তী কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারে তাঁকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জেলা বিএনপির সভাপতি, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
সর্বশেষ বিএনপির সম্মেলনে তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মনোনীত হয়ে অদ্যাবধি দায়িত্ব পালন করছেন।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ছোট ভাই মনজুর হাসান মাহমুদ খুশী সিরাজগঞ্জ পৌরসভার দুইবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলের নীতি নির্ধারণী ফোরামের সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করার পর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া শ্রেষ্ঠ অর্জন বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম 

















