সারা দেশে আজ যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। এক মাস সিয়াম সাধনার পর শহর থেকে গ্রাম— সর্বত্রই এখন বইছে আনন্দের জোয়ার। উৎসবের এই দিনে নাজাতের শুকরিয়া ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে রাজধানীর মসজিদ ও ঈদগাহগুলোতে মুসল্লিদের ঢল নেমেছে।
রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদেও শনিবার (২১ মার্চ) সকাল থেকেই উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, এরই মধ্যে সকাল ৭টা, ৮টা এবং ৯টায় যথাক্রমে তিনটি জামাত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম জামাত শুরুর আগেই মসজিদ প্রাঙ্গণ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় এবং বিপুল সংখ্যক মুসল্লিকে মসজিদের বাইরে রাস্তায় কাতারবদ্ধ হয়ে নামাজ আদায় করতে দেখা যায়।
সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত প্রথম জামাতে ইমামতি করেন সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান। এরপর সকাল ৮টায় দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করেন পেশ ইমাম মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী। সকাল ৯টায় সম্পন্ন হয়েছে তৃতীয় জামাত, যেখানে ইমামতি করেছেন মাওলানা মো. জাকির হোসেন। পরবর্তী জামাতগুলো যথাক্রমে সকাল ১০টা এবং ১০টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে।
প্রতিটি জামাত শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। নামাজ শেষে মোনাজাতে আল্লাহর দরবারে নিজেদের গুনাহ থেকে মাফ চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেক মুসল্লি। মোনাজাতে রমজানের রোজা ও ইবাদত কবুলের আর্তি জানানোর পাশাপাশি দেশের ওপর থেকে সব ধরনের বালা-মুসিবত দূর করতে মহান আল্লাহর রহমত প্রার্থনা করা হয়।
এছাড়াও মোনাজাতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নিপীড়িত মুসলমানদের হেফাজত এবং মৃত আত্মীয়-স্বজনদের জান্নাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।
এদিকে রাজধানীর হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে আজ এক ঐতিহাসিক পরিবেশে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত এই জামাতে দীর্ঘ ৩৬ বছর পর প্রথমবারের মতো একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক।
রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের উপস্থিতিতে এই জামাতকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঈদগাহ এলাকায় উৎসবের আমেজের পাশাপাশি নজিরবিহীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছিল।
নামাজ ও মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হন।

ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ 

















