সিরাজগঞ্জ , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বন্যার অবনতি হতে পারে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে Logo সিরাজগঞ্জে এক সপ্তাহে ৪ শিশু ধর্ষণ-বলাৎকারের শিকার Logo ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৫৭ দিন পর ফ্লাইট চালু হলো Logo রায়গঞ্জে ভ্যানচালক জাহের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার দাবি Logo ব্রহ্মপুত্র নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু Logo কারণ দর্শানোর নোটিশ পেলেন বেলকুচি পৌরসভার সেই প্রকৌশলী Logo কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ট্রাক–মাইক্রোবাস সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ৩, আহত ১১ Logo যুদ্ধবিরতি ভেঙে লেবাননে হামলা চালাল ইসরায়েল, ৮ জন নিহত Logo যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশিদের বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দ: সারাহ কুক Logo চার নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে, পাঁচ জেলায় বন্যার শঙ্কা

সরকারি পুকুরে বিএনপি নেতার মাটি বিক্রির মহোৎসব

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার উত্তর হাট শহর গ্রামের মাঝিনা নামের একটি সরকারি পুকুর থেকে দীর্ঘ তিন মাস ধরে প্রকাশ্যে মাটি ও বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিকের নেতৃত্বে দিনের বেলায় মাটি এবং রাতের বেলায় বালু উত্তোলন করে তা বিক্রি করা হচ্ছে।

 

বুধবার (১লা এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে মাটি ও বালু উত্তোলন করে বিক্রির বিষয়টির সত্যতা মেলে।

 

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, সরকারি এই পুকুরটি থেকে গত ৩ মাস ধরে দিনরাত ট্রাক্টর ট্রলির মাধ্যমে মাটি ও বালু তুলে বিভিন্ন গ্রামে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে করে পুকুরটির স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের জমি ও বসতবাড়ি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। মাটি পরিবহনের সময় গ্রামীণ সড়কগুলোও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

 

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনের নীরব ভূমিকার সুযোগ নিয়েই এই অবৈধ কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলমান রয়েছে।

 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, উত্তর হাটশহর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক মুকুল হোসেন ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিকের নেতৃত্বে মাটি ব্যবসায়ী নুর নবী দিন-রাত মাটি ও বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। এর কারণে এলাকায় শব্দদূষণ বাড়ছে, রাস্তা নষ্ট হচ্ছে। কিন্তু প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে পারছে না। এর আগে এসিল্যান্ড এসেছিল কিন্তু কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েই চলে গেছে।

 

 

সরকারি সম্পদ এভাবে লুটপাট হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মাটি ব্যবসায়ী নুর নবী ও সাবেক ইউপি সদস্য মুকুলকে কল করা হলেও তারা রিসিভ করেনি।

 

 

এবিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা চৌধুরীর বক্তব্যের জন্য ফোন দেওয়া হলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, আমি বিষয়টি দেখছি। অনেকদিন আগে একবার স্টপ করা হয়েছিল, আবার কাটলে আবার স্টপ করা হবে। সরেজমিনে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

ইউএনওর সাথে কথোপকথনের কিছুক্ষণ পরই অভিযুক্ত উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক নিজেই ফোন দিয়ে প্রতিবেদককে বলেন, এটি তার লিজ নেওয়া পুকুর এবং তিনি পুকুরটি চাষের উপযোগী করতে সংস্কার কাজ করছেন। তার দাবি, পুকুরের মাঝখানে উঁচু জায়গা থাকায় পানি ব্যবস্থাপনা ও চাষাবাদে সমস্যা হচ্ছিল। এজন্য জায়গাটি সমান করা হচ্ছে এবং উপরের নরম মাটির কারণে যানবাহন চলাচলে অসুবিধা হওয়ায় কিছুটা গভীর করা হয়েছে।

বালু উত্তোলনের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানান, শুধুমাত্র একদিন পাশের একটি স্থানে প্রায় ৪০ গাড়ি বালু নেওয়া হয়েছিল, এর বাইরে আর কোনো বালু উত্তোলন করা হয়নি।

এসময় তিনি প্রতিবেদককে আরও বলেন, তুমি ইউএনওকে ফোন দিয়েছিলে, তিনি আবার আমাকে ফোন দিয়ে বলতেছে যে, ঘটনা দেখেন তো আপনার পুকুরের জন্য তো আমরাও কিছু বলতেছিনা, এই জিনিসগুলো তো আমাদের একটা চাকরির ব্যাপার। তো একটু দেখেন। আমি বললাম, আমার ছোট ভাই আমি কথা বলতেছি সমস্যা নাই।

 

দলীয় প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের এইরকম কার্যকলাপ করার সুযোগ আছে কিনা জানতে চাইলে জেলা বিএনপির আহবায়ক গোলজার হোসেন বলেন, আমি যেহেতু বিষয়টি অবগত নয়,সেহেতু আমি এখন কোনো বক্তব্য দিতে পারবো না। আগে বিষয়টি জানি।

 

এবিষয়ে জানতে চাইলে জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া বলেন, এইরকম কোনো অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

বন্যার অবনতি হতে পারে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে

সরকারি পুকুরে বিএনপি নেতার মাটি বিক্রির মহোৎসব

আপডেট টাইম : ০৮:৪১:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার উত্তর হাট শহর গ্রামের মাঝিনা নামের একটি সরকারি পুকুর থেকে দীর্ঘ তিন মাস ধরে প্রকাশ্যে মাটি ও বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিকের নেতৃত্বে দিনের বেলায় মাটি এবং রাতের বেলায় বালু উত্তোলন করে তা বিক্রি করা হচ্ছে।

 

বুধবার (১লা এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে মাটি ও বালু উত্তোলন করে বিক্রির বিষয়টির সত্যতা মেলে।

 

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, সরকারি এই পুকুরটি থেকে গত ৩ মাস ধরে দিনরাত ট্রাক্টর ট্রলির মাধ্যমে মাটি ও বালু তুলে বিভিন্ন গ্রামে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে করে পুকুরটির স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের জমি ও বসতবাড়ি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। মাটি পরিবহনের সময় গ্রামীণ সড়কগুলোও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

 

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনের নীরব ভূমিকার সুযোগ নিয়েই এই অবৈধ কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলমান রয়েছে।

 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, উত্তর হাটশহর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক মুকুল হোসেন ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিকের নেতৃত্বে মাটি ব্যবসায়ী নুর নবী দিন-রাত মাটি ও বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। এর কারণে এলাকায় শব্দদূষণ বাড়ছে, রাস্তা নষ্ট হচ্ছে। কিন্তু প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে পারছে না। এর আগে এসিল্যান্ড এসেছিল কিন্তু কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েই চলে গেছে।

 

 

সরকারি সম্পদ এভাবে লুটপাট হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মাটি ব্যবসায়ী নুর নবী ও সাবেক ইউপি সদস্য মুকুলকে কল করা হলেও তারা রিসিভ করেনি।

 

 

এবিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা চৌধুরীর বক্তব্যের জন্য ফোন দেওয়া হলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, আমি বিষয়টি দেখছি। অনেকদিন আগে একবার স্টপ করা হয়েছিল, আবার কাটলে আবার স্টপ করা হবে। সরেজমিনে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

ইউএনওর সাথে কথোপকথনের কিছুক্ষণ পরই অভিযুক্ত উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক নিজেই ফোন দিয়ে প্রতিবেদককে বলেন, এটি তার লিজ নেওয়া পুকুর এবং তিনি পুকুরটি চাষের উপযোগী করতে সংস্কার কাজ করছেন। তার দাবি, পুকুরের মাঝখানে উঁচু জায়গা থাকায় পানি ব্যবস্থাপনা ও চাষাবাদে সমস্যা হচ্ছিল। এজন্য জায়গাটি সমান করা হচ্ছে এবং উপরের নরম মাটির কারণে যানবাহন চলাচলে অসুবিধা হওয়ায় কিছুটা গভীর করা হয়েছে।

বালু উত্তোলনের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানান, শুধুমাত্র একদিন পাশের একটি স্থানে প্রায় ৪০ গাড়ি বালু নেওয়া হয়েছিল, এর বাইরে আর কোনো বালু উত্তোলন করা হয়নি।

এসময় তিনি প্রতিবেদককে আরও বলেন, তুমি ইউএনওকে ফোন দিয়েছিলে, তিনি আবার আমাকে ফোন দিয়ে বলতেছে যে, ঘটনা দেখেন তো আপনার পুকুরের জন্য তো আমরাও কিছু বলতেছিনা, এই জিনিসগুলো তো আমাদের একটা চাকরির ব্যাপার। তো একটু দেখেন। আমি বললাম, আমার ছোট ভাই আমি কথা বলতেছি সমস্যা নাই।

 

দলীয় প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের এইরকম কার্যকলাপ করার সুযোগ আছে কিনা জানতে চাইলে জেলা বিএনপির আহবায়ক গোলজার হোসেন বলেন, আমি যেহেতু বিষয়টি অবগত নয়,সেহেতু আমি এখন কোনো বক্তব্য দিতে পারবো না। আগে বিষয়টি জানি।

 

এবিষয়ে জানতে চাইলে জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া বলেন, এইরকম কোনো অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।