সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

নদীভাঙনে ভিটেমাটি বিলীন, অসহায় হয়ে পড়েছে নদীপাড়ের মানুষ

নদীভাঙন। ছবি : সংগৃহীত

উত্তরের জনপদ কুড়িগ্রামে নদ-নদীর ভয়াল ভাঙনে আবারও হুমকিতে পড়েছে শত শত পরিবার। তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের অব্যাহত ভাঙনে প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি ও বসতভিটা। ফলে নদীতীরবর্তী হাজারো মানুষ চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।

 

 

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে চার নদীর তীরবর্তী এলাকার কৃষকরা প্রতিদিনই হারাচ্ছেন আবাদি জমি। ভুট্টা, ধানসহ বিভিন্ন ফসল নদীতে বিলীন হওয়ায় তারা পড়েছেন চরম সংকটে। অনেক বসতবাড়িও এখন সরাসরি ঝুঁকির মুখে।

 

 

 

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা নদীর প্রায় ৪৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙনপ্রবণতা রয়েছে। এর মধ্যে রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের রামহরি এলাকায় ৪০০ মিটার, নাজিমখান ইউনিয়নে ৫০০ মিটার, উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের চাপড়ারপাড়ে এক হাজার মিটার, সাদুয়ারদামারহাটে ৫০০ মিটার এবং বজরায় ৭০০ মিটার এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

উলিপুরের চর জলংকার কুঠির বাসিন্দা আবু বক্কর বলেন, নদী ভাঙতে ভাঙতে বাড়ির কাছে চলে এসেছে। এবার বাড়ি ভাঙলে আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা থাকবে না। চরের একমাত্র শুভসংঘ স্কুলটিও এখন ভাঙনের মুখে।

এদিকে দলদলিয়া ইউনিয়নের চাপড়ারপাড় থেকে গোড়াইপিয়ার পর্যন্ত প্রায় ২ থেকে ৩ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু স্থানে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও গোড়াইপিয়ার গ্রামে কার্যকর কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিনই জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা কাওছার আহমেদ জানান, গোড়াইপিয়ার গ্রামের মূল ভূখণ্ডের দুই-তৃতীয়াংশ আগের বছরগুলোতেই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এ বছর বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই তিস্তা আবারও আগ্রাসী হয়ে উঠেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে গ্রামের অবশিষ্ট অংশও হারিয়ে যাবে।

 

 

কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়ন জরুরি। এতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।

 

 

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এক লাখ জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ দ্রুত শুরু করা হবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নদীভাঙনে ভিটেমাটি বিলীন, অসহায় হয়ে পড়েছে নদীপাড়ের মানুষ

আপডেট টাইম : ০৫:৩৪:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

উত্তরের জনপদ কুড়িগ্রামে নদ-নদীর ভয়াল ভাঙনে আবারও হুমকিতে পড়েছে শত শত পরিবার। তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের অব্যাহত ভাঙনে প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি ও বসতভিটা। ফলে নদীতীরবর্তী হাজারো মানুষ চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।

 

 

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে চার নদীর তীরবর্তী এলাকার কৃষকরা প্রতিদিনই হারাচ্ছেন আবাদি জমি। ভুট্টা, ধানসহ বিভিন্ন ফসল নদীতে বিলীন হওয়ায় তারা পড়েছেন চরম সংকটে। অনেক বসতবাড়িও এখন সরাসরি ঝুঁকির মুখে।

 

 

 

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা নদীর প্রায় ৪৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙনপ্রবণতা রয়েছে। এর মধ্যে রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের রামহরি এলাকায় ৪০০ মিটার, নাজিমখান ইউনিয়নে ৫০০ মিটার, উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের চাপড়ারপাড়ে এক হাজার মিটার, সাদুয়ারদামারহাটে ৫০০ মিটার এবং বজরায় ৭০০ মিটার এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

উলিপুরের চর জলংকার কুঠির বাসিন্দা আবু বক্কর বলেন, নদী ভাঙতে ভাঙতে বাড়ির কাছে চলে এসেছে। এবার বাড়ি ভাঙলে আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা থাকবে না। চরের একমাত্র শুভসংঘ স্কুলটিও এখন ভাঙনের মুখে।

এদিকে দলদলিয়া ইউনিয়নের চাপড়ারপাড় থেকে গোড়াইপিয়ার পর্যন্ত প্রায় ২ থেকে ৩ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু স্থানে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও গোড়াইপিয়ার গ্রামে কার্যকর কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিনই জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা কাওছার আহমেদ জানান, গোড়াইপিয়ার গ্রামের মূল ভূখণ্ডের দুই-তৃতীয়াংশ আগের বছরগুলোতেই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এ বছর বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই তিস্তা আবারও আগ্রাসী হয়ে উঠেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে গ্রামের অবশিষ্ট অংশও হারিয়ে যাবে।

 

 

কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়ন জরুরি। এতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।

 

 

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এক লাখ জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ দ্রুত শুরু করা হবে।