সিরাজগঞ্জ , রবিবার, ১০ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

সন্ধ্যার মধ্যে ৫ জেলায় কালবৈশাখীর শঙ্কা

সন্ধ্যার মধ্যে ৫ জেলায় কালবৈশাখীর শঙ্কা

দেশের পাঁচ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এছাড়া সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলেছে সংস্থাটি।

 

 

শুক্রবার (৮ মে) সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

 

 

অল্প বৃষ্টিতেই কাদায় পরিণত সড়ক, ভোগান্তিতে স্কুলের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী

রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম। আপডেট টাইম : ০১:৩৪:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা-এর নিমগাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সংলগ্ন নিমগাছি হাই স্কুল এলাকার প্রধান যাতায়াত সড়কটি সামান্য বৃষ্টিতেই কর্দমাক্ত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ সমস্যার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা জানান, সড়কটি কাঁচা ও নিচু হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানি জমে গভীর কাদায় পরিণত হয়। এতে পায়ে হেঁটে চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থীকে জুতা হাতে নিয়ে কাদা ভেঙে স্কুলে যেতে হয়। আবার কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বৃষ্টির দিনে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। ফলে শিক্ষা কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রতিদিন শিশুদের স্কুলে পাঠানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ছোট শিক্ষার্থীরা কাদা ও পানি পার হতে গিয়ে প্রায়ই পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, সড়কের এই দুরবস্থার কারণে জরুরি রোগী পরিবহন ও কৃষিপণ্য আনা-নেওয়াতেও বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও ব্যাহত হচ্ছে। 

নিমগাছি এলাকার বাসিন্দারা জানান, বছরের পর বছর ধরে সড়কটির কোনো টেকসই সংস্কার না হওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। বর্ষা মৌসুম এলেই পুরো এলাকা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তাই দ্রুত স্থায়ীভাবে সড়কটি পাকা করার দাবি জানিয়েছেন তারা। 

এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, “নিমগাছি স্কুলসংলগ্ন সড়কটির বিষয়ে আমরা অবগত আছি। বর্ষা মৌসুমের কারণে সাময়িকভাবে সমস্যা বেড়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল খালেক পাটোয়ারী জানান, “এলাকাবাসীর ভোগান্তির বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের চলাচলে সমস্যা হওয়াটা অত্যন্ত গুরুত্বের বিষয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” 

স্থানীয়দের মতে, এই সড়কটি শুধু একটি যোগাযোগ মাধ্যম নয়, বরং শত শত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট। তাই বর্ষা মৌসুমের আগেই স্থায়ী সমাধান না হলে প্রতি বছর একই দুর্ভোগের শিকার হতে হবে এলাকাবাসীকে।
এলাকাবাসীর একটাই দাবি—দ্রুত টেকসই উন্নয়ন ও পাকা সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির অবসান ঘটানো হোক, যাতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত থাকে।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক নজরুল ইসলাম খানের

আবিদ হাসান, ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি । জনতার কন্ঠ.কম। আপডেট টাইম : ০৫:৩৯:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার মলমগঞ্জ বাজারে এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেলে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান।
পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম খান বর্তমান দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি দলীয় ঐক্যের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন: “দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সাধারণ জনগণ ও নেতাকর্মীদের ইস্পাতকঠিন ঐক্য প্রয়োজন। আমরা দেশের মানুষের কল্যাণে এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যেতে বদ্ধপরিকর।” 

ওরা ১১ জন স্মৃতি পরিষদ-এর সভাপতি শরিফুল ইসলাম খান ফরহাদ এর সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এবং আয়োজনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিউল্লাহ্ বুলবুল। 

সভায় বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য রাখেন, জামালপুর জেলা বিএনপির, সহ-সভাপতি, শামীম আহম্মেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক, জিএস ফিরোজ মিয়া । ইসলামপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান নবী নেওয়াজ খান লোহানী বিপুল, এ কে এম সহিদুর রহমান, সহ-সভাপতি,  ইসলামপুর উপজেলা বিএনপি ও সোহেল রানা খান, সদস্য সচিব, জেলা যুবদল। 

পথসভাটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়। মলমগঞ্জ বাজার ও এর আশপাশের এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ স্বতস্ফূর্তভাবে এই সভায় অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী সভায় উপস্থিত ছিলেন।

কোম্পানীগঞ্জে ৫০ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক

মো. ইসমাইল হোসেন নোয়াখালী ব্যুরো প্রধান। জনতার কণ্ঠ.কম। আপডেট টাইম : ০৫:৫৪:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক যুবককে আটক করেছে থানা পুলিশ।

বুধবার (৬ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার বসুরহাট উত্তর বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) বিমল কর্মকার।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে বসুরহাট উত্তর বাজারের “মায়ের দোয়া” নামের একটি দোকানের সামনে অভিযান চালানো হয়। এ সময় সন্দেহভাজন হিসেবে শাকিল হোসেন (৩২) নামে এক যুবককে আটক করা হয়।

পরে তার দেহ তল্লাশি করে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকৃত মাদকসহ তাকে কোম্পানীগঞ্জ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য

ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ.কম। আপডেট টাইম : ০৯:১৭:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

ঘটনাটি ফেনীর সীমান্তবর্তী উপজেলা পরশুরামের। এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে স্থানীয় এক ইমাম ও মক্তবের শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এক মাসেরও বেশি সময় জেল খাটতে হয় তাকে। এতে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিকভাবে চরম অপমানের মুখোমুখি হতে হয় তাকে। হারাতে হয় চাকরিও।

 

 

 

কিন্তু দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর সামনে আসে ভয়ংকর এক সত্য। কিশোরীর গর্ভের সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষায় জানা যায়, শিশুটির বাবা ওই মক্তবের শিক্ষক নন; বরং মেয়েটিরই বড় ভাই। পরে পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে ভাই নিজেও বোনকে জোরপূর্বক ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন।

 

 

 

ফরেনসিক পরীক্ষায় পরশুরামের বক্স মাহমুদে ধর্ষণের শিকার সেই কিশোরীর ভূমিষ্ঠ সন্তানের সঙ্গে তার আপন বড় ভাইয়ের ডিএনএ’র মিল পাওয়া গেছে। আর এই অপরাধের দায় থেকে ভাইকে বাঁচাতে ফাঁসানো হয়েছিল স্থানীয় এক মসজিদের ইমামকে।

এক মাস দুইদিন কারাভোগের পর ধর্ষণ মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর ওই গ্রামের চান মিয়ার স্ত্রী হনুফা খাতুন তার কিশোরী কন্যা রুবি আক্তারকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগে একই গ্রামের স্থানীয় জামে মসজিদের ইমাম ও মক্তবের শিক্ষক মোজাফফরের বিরুদ্ধে পরশুরাম মডেল থানায় মামলা করেন। নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও ছাড় পাননি মোজাফফর। অভিযোগ মিথ্যা উল্লেখ করে ওই পরিবারের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর ফেনীর আদালতে মামলা করতে যান মোজাফফর।

এ সময় আদালত প্রাঙ্গণ থেকে গ্রামের মাতব্বর ও হনুফা খাতুন তাকে জোরপূর্বক পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এরপর একমাস দুইদিন কারাভোগ করেন তিনি।

 

 

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায় ২০১৯ সালে মক্তবের পাঠ শেষ করে পরশুরামের বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের কিশোরী রুবি আক্তার (১৪)। এর পাঁচ বছর পর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে সন্তানও প্রসব করে সে। আর এর দায় চাপানো হয় ওই মক্তবের শিক্ষক মোজাফফর আহমদের (২৫) কাঁধে।

 

 

 

একই বছরের ২২ ডিসেম্বর অভিযুক্ত মোজাফফরকে ঢাকার মালিবাগে পুলিশের সিআইডি বিভাগের ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্ব-শরীরে ও রুবি আক্তারের সংরক্ষিত ভ্যাজাইনাল সোয়াব পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ঢাকার মালিবাগের ফরেনসিক ল্যাবরেটরি থেকে থেকে ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি ডিএনএ প্রতিবেদন পান পরশুরাম মডেল থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম।

 

 

 

ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে, পরীক্ষায় ভ্যাজাইনাল সোয়াবে পুরুষের বীর্যের উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত হয়নি। ভ্যাজাইনাল সোয়াবে বীর্যের উপস্থিতি শনাক্ত না হওয়ায় মোজাফফরের ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে তুলনা করে মতামত প্রদান করা সম্ভব নয়। এরপর ওই কিশোরী ও তার সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশু কন্যা সন্তানের জৈবিক পিতা নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য তাদের পরীক্ষাগারে উপস্থিত হয়ে ডিএনএর নমুনা প্রদানের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়।

 

 

 

এর মধ্যে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে বিস্ময়কর তথ্য। ডিএনএ রিপোর্টে কিশোরীর সন্তানের সঙ্গে মোজাফফরের ডিএনএ’র মিল না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। কিশোরী রুবি আক্তারকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে ওই কিশোরী তার আপন বড় ভাই মোরশেদ তাকে গণহারে ধর্ষণ করেছে বলে স্বীকারোক্তি দেয়। ঘটনা আড়াল করে ভাইকে বাঁচাতে শিক্ষক মোজাফফরকে ফাঁসানো হয়।

 

 

 

পরবর্তীকালে ২০২৫ সালের ১৯ মে বড় ভাই মোরশেদকে (২২) গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। আদালতে আপন বোনকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে ২০ মে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে মোরশেদ।

 

 

 

আদালতে আবেদনের প্রেক্ষিতে রুবি আক্তার ও তার ভূমিষ্ঠ সন্তান জান্নাতুল ফেরদাউস ও বড় ভাই মোরশেদের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য একই বছরের ৪ আগস্ট ঢাকায় পুলিশের ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। ৯ আগস্ট ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ভিকটিমের সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়ার শিশু কন্যা জান্নাতুল ফেরদাউসের সাথে মোরশেদের ডিএনএ নমুনা মিলে যাওয়ায় তিনি তার জৈবিক পিতা।

 

 

 

ডিএনএ পরীক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ডিএনএ পরীক্ষায় মোরশেদের সাথে জান্নাতুল ফেরদৌসের পিতা হিসেবে ৯৯.৯৯ শতাংশ মিল রয়েছে। মোজাফফর আহমেদ রুবি আক্তারের গর্ভজাত সন্তানের জৈবিক পিতা নন।

 

 

 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক শরীফ হোসেন অভিযোগপত্রে মোজাফফর আহমেদের বিরুদ্ধে আনীত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০০) এর ৯(১) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় ধর্ষণ মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আর মোরশেদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমনের একই ধারায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর থেকে মোরশেদ ফেনী জেলা কারাগারে রয়েছেন। আদালতে ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট উপস্থাপনের পর এক মাস দুইদিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান মোজাফফর।

 

 

 

পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ গভীরভাবে তদন্ত করে। ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর চার্জশীট থেকে তার নাম প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, নিরপরাধ একজনকে ফাঁসানোর জন্য চেষ্টা করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

 

 

 

পরশুরামের বক্স মাহমুদ ইউনিয়নের উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের ইমাম ও মক্তবের শিক্ষক ছিলেন মোজাফফর আহমেদ। এ ঘটনার পর মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারান তিনি। মামলার খরচ যোগাতে বিক্রি করেছেন ৫ শতক জমি। প্রতিনিয়ত সামাজিকভাবে হেয় হয়েছেন। এসব কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ওই গ্রামের আবুল বশরের ছেলে মোজাফফর আহমেদ।

 

 

 

মোজাফফর আহমদ বলেন, অবশেষে সত্যের জয় হয়েছে। এ ঘটনায় আমি সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেনস্থার শিকার হয়েছি। মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারিয়েছি। মামলার খরচ চালাতে বাড়ির পাশে মূল্যবান জায়গা বিক্রি করে দিয়েছি, অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। কারাভোগ, সামাজিক মর্যাদাহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তিনি।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সময় প্রায় মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে ফাঁসানো হয়। প্রকৃত সত্য তুলে ধরা হলে এভাবে আমার মত অনেক নিরপরাধ মানুষ বেঁচে যাবে। ইমামের সামাজিক মর্যাদাহানি ও এক মাস কারা ক্ষতিপূরণের দাবি করেছেন।

 

 

 

মোজাফফর আহমেদের আইনজীবী আবদুল আলিম মাকসুদ বলেন, এ ধরনের ঘটনা বিরল। তাকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। ডিএনএ পরীক্ষায় সত্য উদঘাটন হয়েছে।

 

 

 

জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের পরশুরাম উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মুফতি আমিনুল ইসলাম জানান, সুন্নী, কওমী বা সরকারি বুঝি না, সে একজন মজলুম ইমাম ও তালেবে ইলম। ক্ষতিগ্রস্ত ইমামের ক্ষতিপূরণ কে দেবে? তাকে মানসিকভাবে সাহস দেয়ার পাশাপাশি, আর্থিক ও আইনিভাবে সহযোগিতা করা উচিত।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাকরি দিচ্ছে আরএফএল গ্রুপ, থাকছে বাড়তি সুবিধা

সন্ধ্যার মধ্যে ৫ জেলায় কালবৈশাখীর শঙ্কা

আপডেট টাইম : ১১:৫৩:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

দেশের পাঁচ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এছাড়া সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলেছে সংস্থাটি।

 

 

শুক্রবার (৮ মে) সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

 

 

অল্প বৃষ্টিতেই কাদায় পরিণত সড়ক, ভোগান্তিতে স্কুলের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী

রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম। আপডেট টাইম : ০১:৩৪:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা-এর নিমগাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সংলগ্ন নিমগাছি হাই স্কুল এলাকার প্রধান যাতায়াত সড়কটি সামান্য বৃষ্টিতেই কর্দমাক্ত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ সমস্যার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা জানান, সড়কটি কাঁচা ও নিচু হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানি জমে গভীর কাদায় পরিণত হয়। এতে পায়ে হেঁটে চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থীকে জুতা হাতে নিয়ে কাদা ভেঙে স্কুলে যেতে হয়। আবার কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বৃষ্টির দিনে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। ফলে শিক্ষা কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রতিদিন শিশুদের স্কুলে পাঠানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ছোট শিক্ষার্থীরা কাদা ও পানি পার হতে গিয়ে প্রায়ই পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, সড়কের এই দুরবস্থার কারণে জরুরি রোগী পরিবহন ও কৃষিপণ্য আনা-নেওয়াতেও বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও ব্যাহত হচ্ছে। 

নিমগাছি এলাকার বাসিন্দারা জানান, বছরের পর বছর ধরে সড়কটির কোনো টেকসই সংস্কার না হওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। বর্ষা মৌসুম এলেই পুরো এলাকা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তাই দ্রুত স্থায়ীভাবে সড়কটি পাকা করার দাবি জানিয়েছেন তারা। 

এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, “নিমগাছি স্কুলসংলগ্ন সড়কটির বিষয়ে আমরা অবগত আছি। বর্ষা মৌসুমের কারণে সাময়িকভাবে সমস্যা বেড়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল খালেক পাটোয়ারী জানান, “এলাকাবাসীর ভোগান্তির বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের চলাচলে সমস্যা হওয়াটা অত্যন্ত গুরুত্বের বিষয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” 

স্থানীয়দের মতে, এই সড়কটি শুধু একটি যোগাযোগ মাধ্যম নয়, বরং শত শত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট। তাই বর্ষা মৌসুমের আগেই স্থায়ী সমাধান না হলে প্রতি বছর একই দুর্ভোগের শিকার হতে হবে এলাকাবাসীকে।
এলাকাবাসীর একটাই দাবি—দ্রুত টেকসই উন্নয়ন ও পাকা সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির অবসান ঘটানো হোক, যাতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত থাকে।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক নজরুল ইসলাম খানের

আবিদ হাসান, ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি । জনতার কন্ঠ.কম। আপডেট টাইম : ০৫:৩৯:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার মলমগঞ্জ বাজারে এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেলে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান।
পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম খান বর্তমান দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি দলীয় ঐক্যের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন: “দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সাধারণ জনগণ ও নেতাকর্মীদের ইস্পাতকঠিন ঐক্য প্রয়োজন। আমরা দেশের মানুষের কল্যাণে এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যেতে বদ্ধপরিকর।” 

ওরা ১১ জন স্মৃতি পরিষদ-এর সভাপতি শরিফুল ইসলাম খান ফরহাদ এর সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এবং আয়োজনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিউল্লাহ্ বুলবুল। 

সভায় বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য রাখেন, জামালপুর জেলা বিএনপির, সহ-সভাপতি, শামীম আহম্মেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক, জিএস ফিরোজ মিয়া । ইসলামপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান নবী নেওয়াজ খান লোহানী বিপুল, এ কে এম সহিদুর রহমান, সহ-সভাপতি,  ইসলামপুর উপজেলা বিএনপি ও সোহেল রানা খান, সদস্য সচিব, জেলা যুবদল। 

পথসভাটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়। মলমগঞ্জ বাজার ও এর আশপাশের এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ স্বতস্ফূর্তভাবে এই সভায় অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী সভায় উপস্থিত ছিলেন।

কোম্পানীগঞ্জে ৫০ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক

মো. ইসমাইল হোসেন নোয়াখালী ব্যুরো প্রধান। জনতার কণ্ঠ.কম। আপডেট টাইম : ০৫:৫৪:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক যুবককে আটক করেছে থানা পুলিশ।

বুধবার (৬ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার বসুরহাট উত্তর বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) বিমল কর্মকার।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে বসুরহাট উত্তর বাজারের “মায়ের দোয়া” নামের একটি দোকানের সামনে অভিযান চালানো হয়। এ সময় সন্দেহভাজন হিসেবে শাকিল হোসেন (৩২) নামে এক যুবককে আটক করা হয়।

পরে তার দেহ তল্লাশি করে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকৃত মাদকসহ তাকে কোম্পানীগঞ্জ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য

ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ.কম। আপডেট টাইম : ০৯:১৭:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

ঘটনাটি ফেনীর সীমান্তবর্তী উপজেলা পরশুরামের। এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে স্থানীয় এক ইমাম ও মক্তবের শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এক মাসেরও বেশি সময় জেল খাটতে হয় তাকে। এতে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিকভাবে চরম অপমানের মুখোমুখি হতে হয় তাকে। হারাতে হয় চাকরিও।

 

 

 

কিন্তু দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর সামনে আসে ভয়ংকর এক সত্য। কিশোরীর গর্ভের সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষায় জানা যায়, শিশুটির বাবা ওই মক্তবের শিক্ষক নন; বরং মেয়েটিরই বড় ভাই। পরে পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে ভাই নিজেও বোনকে জোরপূর্বক ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন।

 

 

 

ফরেনসিক পরীক্ষায় পরশুরামের বক্স মাহমুদে ধর্ষণের শিকার সেই কিশোরীর ভূমিষ্ঠ সন্তানের সঙ্গে তার আপন বড় ভাইয়ের ডিএনএ’র মিল পাওয়া গেছে। আর এই অপরাধের দায় থেকে ভাইকে বাঁচাতে ফাঁসানো হয়েছিল স্থানীয় এক মসজিদের ইমামকে।

এক মাস দুইদিন কারাভোগের পর ধর্ষণ মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর ওই গ্রামের চান মিয়ার স্ত্রী হনুফা খাতুন তার কিশোরী কন্যা রুবি আক্তারকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগে একই গ্রামের স্থানীয় জামে মসজিদের ইমাম ও মক্তবের শিক্ষক মোজাফফরের বিরুদ্ধে পরশুরাম মডেল থানায় মামলা করেন। নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও ছাড় পাননি মোজাফফর। অভিযোগ মিথ্যা উল্লেখ করে ওই পরিবারের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর ফেনীর আদালতে মামলা করতে যান মোজাফফর।

এ সময় আদালত প্রাঙ্গণ থেকে গ্রামের মাতব্বর ও হনুফা খাতুন তাকে জোরপূর্বক পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এরপর একমাস দুইদিন কারাভোগ করেন তিনি।

 

 

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায় ২০১৯ সালে মক্তবের পাঠ শেষ করে পরশুরামের বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের কিশোরী রুবি আক্তার (১৪)। এর পাঁচ বছর পর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে সন্তানও প্রসব করে সে। আর এর দায় চাপানো হয় ওই মক্তবের শিক্ষক মোজাফফর আহমদের (২৫) কাঁধে।

 

 

 

একই বছরের ২২ ডিসেম্বর অভিযুক্ত মোজাফফরকে ঢাকার মালিবাগে পুলিশের সিআইডি বিভাগের ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্ব-শরীরে ও রুবি আক্তারের সংরক্ষিত ভ্যাজাইনাল সোয়াব পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ঢাকার মালিবাগের ফরেনসিক ল্যাবরেটরি থেকে থেকে ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি ডিএনএ প্রতিবেদন পান পরশুরাম মডেল থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম।

 

 

 

ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে, পরীক্ষায় ভ্যাজাইনাল সোয়াবে পুরুষের বীর্যের উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত হয়নি। ভ্যাজাইনাল সোয়াবে বীর্যের উপস্থিতি শনাক্ত না হওয়ায় মোজাফফরের ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে তুলনা করে মতামত প্রদান করা সম্ভব নয়। এরপর ওই কিশোরী ও তার সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশু কন্যা সন্তানের জৈবিক পিতা নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য তাদের পরীক্ষাগারে উপস্থিত হয়ে ডিএনএর নমুনা প্রদানের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়।

 

 

 

এর মধ্যে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে বিস্ময়কর তথ্য। ডিএনএ রিপোর্টে কিশোরীর সন্তানের সঙ্গে মোজাফফরের ডিএনএ’র মিল না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। কিশোরী রুবি আক্তারকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে ওই কিশোরী তার আপন বড় ভাই মোরশেদ তাকে গণহারে ধর্ষণ করেছে বলে স্বীকারোক্তি দেয়। ঘটনা আড়াল করে ভাইকে বাঁচাতে শিক্ষক মোজাফফরকে ফাঁসানো হয়।

 

 

 

পরবর্তীকালে ২০২৫ সালের ১৯ মে বড় ভাই মোরশেদকে (২২) গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। আদালতে আপন বোনকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে ২০ মে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে মোরশেদ।

 

 

 

আদালতে আবেদনের প্রেক্ষিতে রুবি আক্তার ও তার ভূমিষ্ঠ সন্তান জান্নাতুল ফেরদাউস ও বড় ভাই মোরশেদের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য একই বছরের ৪ আগস্ট ঢাকায় পুলিশের ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। ৯ আগস্ট ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ভিকটিমের সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়ার শিশু কন্যা জান্নাতুল ফেরদাউসের সাথে মোরশেদের ডিএনএ নমুনা মিলে যাওয়ায় তিনি তার জৈবিক পিতা।

 

 

 

ডিএনএ পরীক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ডিএনএ পরীক্ষায় মোরশেদের সাথে জান্নাতুল ফেরদৌসের পিতা হিসেবে ৯৯.৯৯ শতাংশ মিল রয়েছে। মোজাফফর আহমেদ রুবি আক্তারের গর্ভজাত সন্তানের জৈবিক পিতা নন।

 

 

 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক শরীফ হোসেন অভিযোগপত্রে মোজাফফর আহমেদের বিরুদ্ধে আনীত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০০) এর ৯(১) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় ধর্ষণ মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আর মোরশেদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমনের একই ধারায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর থেকে মোরশেদ ফেনী জেলা কারাগারে রয়েছেন। আদালতে ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট উপস্থাপনের পর এক মাস দুইদিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান মোজাফফর।

 

 

 

পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ গভীরভাবে তদন্ত করে। ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর চার্জশীট থেকে তার নাম প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, নিরপরাধ একজনকে ফাঁসানোর জন্য চেষ্টা করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

 

 

 

পরশুরামের বক্স মাহমুদ ইউনিয়নের উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের ইমাম ও মক্তবের শিক্ষক ছিলেন মোজাফফর আহমেদ। এ ঘটনার পর মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারান তিনি। মামলার খরচ যোগাতে বিক্রি করেছেন ৫ শতক জমি। প্রতিনিয়ত সামাজিকভাবে হেয় হয়েছেন। এসব কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ওই গ্রামের আবুল বশরের ছেলে মোজাফফর আহমেদ।

 

 

 

মোজাফফর আহমদ বলেন, অবশেষে সত্যের জয় হয়েছে। এ ঘটনায় আমি সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেনস্থার শিকার হয়েছি। মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারিয়েছি। মামলার খরচ চালাতে বাড়ির পাশে মূল্যবান জায়গা বিক্রি করে দিয়েছি, অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। কারাভোগ, সামাজিক মর্যাদাহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তিনি।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সময় প্রায় মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে ফাঁসানো হয়। প্রকৃত সত্য তুলে ধরা হলে এভাবে আমার মত অনেক নিরপরাধ মানুষ বেঁচে যাবে। ইমামের সামাজিক মর্যাদাহানি ও এক মাস কারা ক্ষতিপূরণের দাবি করেছেন।

 

 

 

মোজাফফর আহমেদের আইনজীবী আবদুল আলিম মাকসুদ বলেন, এ ধরনের ঘটনা বিরল। তাকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। ডিএনএ পরীক্ষায় সত্য উদঘাটন হয়েছে।

 

 

 

জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের পরশুরাম উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মুফতি আমিনুল ইসলাম জানান, সুন্নী, কওমী বা সরকারি বুঝি না, সে একজন মজলুম ইমাম ও তালেবে ইলম। ক্ষতিগ্রস্ত ইমামের ক্ষতিপূরণ কে দেবে? তাকে মানসিকভাবে সাহস দেয়ার পাশাপাশি, আর্থিক ও আইনিভাবে সহযোগিতা করা উচিত।